বচন ও বাক্য
| | | | | |

বচন ও বাক্য কী? | যুক্তিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর, সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ philosophy 2026

Table of Contents

বচন

যুক্তিবিদ্যার আলোচনায় ‘বচন’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয়। যুক্তির বিভিন্ন অংশকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে প্রথমেই বচনের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। কারণ, কোনো যুক্তিতে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলির গঠন, অর্থ, সত্যতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে বচনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যুক্তিবিদ্যা শেখার ক্ষেত্রে ‘বচন’ অধ্যায়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বচন কী, বচনের বৈশিষ্ট্য কী, বচন কত প্রকার এবং কীভাবে বিভিন্ন বচনকে চিহ্নিত করা যায়—এই বিষয়গুলি ভালোভাবে জানা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বচনের গুণ ও পরিমাণ, উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ, সদর্থক ও নঞর্থক বচন, সার্বিক ও বিশেষ বচন ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বচনের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ করা হয়। এছাড়াও A, E, I ও O বচন সম্পর্কে সঠিক ধারণা যুক্তিবিদ্যার পরবর্তী বিষয়গুলি বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

এই অধ্যায়ে বচন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সহজ, সরল ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। কঠিন যুক্তিবিদ্যার বিষয়গুলিকে সহজে বোঝানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ, নিয়ম, দৃষ্টান্ত এবং ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে বিষয়টির মূল ধারণা বুঝে পরীক্ষার খাতায় নিজের ভাষায় উত্তর লেখার প্রস্তুতি নিতে পারবে।

বিশেষভাবে পদের ব্যাপ্যতা বচন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোন বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য, কোন বচনে বিধেয় পদ ব্যাপ্য এবং কোন বচনে উভয় পদই ব্যাপ্য বা অব্যাপ্য—এই বিষয়গুলি উদাহরণের মাধ্যমে এখানে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। A, E, I ও O বচনের ক্ষেত্রে পদের ব্যাপ্যতার নিয়মগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করলে যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

এই পেজে ‘বচন’ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর একসঙ্গে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মান–১-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, সংজ্ঞাভিত্তিক প্রশ্ন, দৃষ্টান্তসহ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন এবং পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নগুলি নিয়মিত অনুশীলন করলে বচন অধ্যায় সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে পারবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরামর্শ:
বচন অধ্যায় পড়ার সময় প্রথমে প্রতিটি সংজ্ঞা ও মূল ধারণা ভালোভাবে বুঝে নিন। এরপর A, E, I ও O বচনের পার্থক্য, গুণ ও পরিমাণ এবং পদের ব্যাপ্যতার নিয়মগুলি উদাহরণসহ অনুশীলন করুন। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর বারবার পড়ার পাশাপাশি নিজে খাতায় লিখে অনুশীলন করলে পরীক্ষায় উত্তর লেখার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়ের মূল লক্ষ্য হলো—বচনকে শুধু মুখস্থ করা নয়, বরং বচনের প্রকৃতি, প্রকারভেদ ও যুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বুঝে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে শেখা। তাই পরীক্ষার আগে এই পেজের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ভালোভাবে পড়ে এবং অনুশীলন করে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করুন।

1.বচন ও বাক্য কী? | যুক্তিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর, সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ

ভূমিকা : যুক্তিবিদ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বচন (Proposition)। যুক্তির অবয়ব গঠনের ক্ষেত্রে বচনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে আমরা বিভিন্ন ধরনের বাক্যের মাধ্যমে আমাদের চিন্তা ও বক্তব্য প্রকাশ করি। কিন্তু প্রত্যেকটি বাক্য বচন প্রকাশ করে না। যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে এমন একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়, যা সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে, তাকে বচন বলা হয়।

অন্যদিকে, যে শব্দসমষ্টি ব্যাকরণসম্মতভাবে একটি সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাক্য বলা হয়। তাই বচন ও বাক্যকে একই বিষয় মনে করা ঠিক নয়।

1.বচন কাকে বলে?

যে ঘোষক বাক্যের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে এমন একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়, যা সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে, তাকে বচন (Proposition) বলে।

সহজভাবে বলা যায়—

“যে বাক্যের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ণয় করা যায়, তাকে বচন বলে।”

উদাহরণ: “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

এই বক্তব্যটি সত্য বা মিথ্যা—দুইয়ের যেকোনো একটি হতে পারে। তাই এটি একটি বচন।

আরও একটি উদাহরণ—

“কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী।”

এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। তাই এটিও একটি বচন।

2.বাক্য কাকে বলে?

যে শব্দসমষ্টি ব্যাকরণসম্মতভাবে একটি সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাক্য (Sentence) বলে।

উদাহরণ: “রাহুল বই পড়ে।”

এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে, তাই এটি একটি বাক্য।

তবে প্রত্যেক বাক্য বচন নয়। কারণ সব বাক্যের সত্য বা মিথ্যা হওয়ার প্রশ্ন থাকে না।

বচন ও বাক্যের সম্পর্ক : বচন ও বাক্য পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও তারা এক নয়।

বাক্যের মাধ্যমে বচন প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ বচন হল বাক্যের অর্থগত দিক।

একই বচন বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে।

বাংলায়: “আমি চিন্তা করি, অতএব আমি অস্তিত্বশীল।”

ইংরেজিতে: “I think, therefore I am.”

লাতিন ভাষায়: “Cogito ergo sum.”

তিনটি বাক্য আলাদা হলেও এগুলির মাধ্যমে একই বক্তব্য বা বচন প্রকাশিত হয়েছে।

তাই বলা যায়—

“বচন মাত্রই বাক্য, কিন্তু বাক্য মাত্রই বচন নয়।”

3.বচন ও বাক্যের পার্থক্য

১. প্রকৃতিগত পার্থক্য

বাক্য হল ভাষায় প্রকাশিত শব্দসমষ্টি, কিন্তু বচন হল সেই বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশিত অর্থ বা বক্তব্য।

২. সত্য-মিথ্যার পার্থক্য

বচন সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে। কিন্তু বাক্যকে সাধারণত সত্য বা মিথ্যা বলা হয় না; বাক্য শুদ্ধ, অশুদ্ধ বা অর্থহীন হতে পারে।

৩. ঘোষক বাক্যের ভূমিকা

একমাত্র ঘোষক বাক্যই বচন প্রকাশ করতে পারে। প্রশ্নসূচক, অনুজ্ঞাসূচক, বিস্ময়সূচক বা ইচ্ছামূলক বাক্য সাধারণত বচন প্রকাশ করে না।

উদাহরণ:

“তুমি কি আজ স্কুলে যাবে?” — প্রশ্নসূচক বাক্য, তাই এটি বচন নয়।

“দরজাটি বন্ধ করো।” — অনুজ্ঞাসূচক বাক্য, তাই এটি বচন নয়।

“আহা! কী সুন্দর ফুল!” — বিস্ময়সূচক বাক্য, তাই এটি বচন নয়।

৪. গুণ ও পরিমাণের পার্থক্য

বচনে গুণ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু প্রত্যেক বাক্যে গুণ ও পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না।

যেমন—

“আম মিষ্ট।”

এখানে বচনের আকারে বলা যায়—

“কোনো কোনো আম হয় মিষ্ট।”

এখানে “কোনো কোনো” দ্বারা পরিমাণ এবং “হয়” দ্বারা গুণগত সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে।

৫. সত্যতা ও মিথ্যাত্ব

সত্যতা ও মিথ্যাত্ব বচনের ধর্ম।

যেমন—

“ফুলটি হয় লাল।”

ফুলটি বাস্তবে লাল হলে বচনটি সত্য এবং লাল না হলে বচনটি মিথ্যা হবে।

৬. যুক্তির অবয়ব

শুধুমাত্র বচনই যুক্তির অবয়ব গঠন করে। সাধারণ বাক্য সরাসরি যুক্তির অবয়ব গঠন করে না।

কোন বাক্য বচন প্রকাশ করে?

যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশিত হয় এবং যেটিকে সত্য অথবা মিথ্যা হিসেবে বিচার করা যায়, সেই বাক্য বচন প্রকাশ করে।

অতএব, একমাত্র ঘোষক বাক্য বচন প্রকাশ করে।

কোন বাক্য বচন প্রকাশ করে না?

নিম্নলিখিত ধরনের বাক্য সাধারণত বচন প্রকাশ করে না……………….

প্রশ্নসূচক বাক্য: “তুমি কোথায় যাচ্ছ?”

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: “দরজাটি বন্ধ করো।”

ইচ্ছামূলক বাক্য: “তুমি সুখী হও।”

বিস্ময়সূচক বাক্য: “আহা! কী সুন্দর দৃশ্য!”

এই বাক্যগুলির ক্ষেত্রে সত্য বা মিথ্যা নির্ণয়ের প্রশ্ন ওঠে না।

বচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

১. বচন একটি ঘোষক বক্তব্য।

২. বচন সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে।

৩. বচনের গুণ ও পরিমাণ থাকে।

৪. বচন যুক্তির অবয়ব গঠন করে।

৫. বচন সাধারণত উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।

৬. বচনের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি প্রকাশ করা হয়।

পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের বিভিন্ন প্রকার

2.প্রশ্ন: পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের বিভিন্ন প্রকারগুলি কী কী? অথবা, সামান্য বচন কাকে বলে?

পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন প্রধানত দুই প্রকার—

১. সামান্য বা সার্বিক বচন (Universal Proposition)

২. বিশেষ বচন (Particular Proposition)

সামান্য বা সার্বিক বচন কাকে বলে?

যে বচনে উদ্দেশ্যপদ দ্বারা নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে বিধেয়পদকে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে সামান্য বা সার্বিক বচন বলে।

সামান্য বচন দুই প্রকার—

সদর্থক সামান্য বচন — A

উদাহরণ: “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

এখানে সকল মানুষ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা মরণশীল। তাই এটি সদর্থক সামান্য বচন।

নঞর্থক সামান্য বচন — E

উদাহরণ: “কোনো মানুষ নয় অমর।”

এখানে সকল মানুষকে অমর শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এটি নঞর্থক সামান্য বচন।

বিশেষ বচন কাকে বলে?

যে বচনে উদ্দেশ্যপদ দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণির কেবল একটি অংশের সম্পর্কে বিধেয়পদকে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে বিশেষ বচন (Particular Proposition) বলে।

বিশেষ বচন দুই প্রকার—

সদর্থক বিশেষ বচন — I

উদাহরণ: “কোনো কোনো মানুষ হয় সুখী ব্যক্তি।”

এখানে সকল মানুষ সম্পর্কে বলা হয়নি; মানুষের একটি অংশ সম্পর্কে বলা হয়েছে। তাই এটি সদর্থক বিশেষ বচন।

নঞর্থক বিশেষ বচন — O

উদাহরণ: “কোনো কোনো মানুষ নয় সুখী ব্যক্তি।”

এখানে মানুষের একটি অংশকে সুখী ব্যক্তির শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এটি নঞর্থক বিশেষ বচন।

গুণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের বিভিন্ন প্রকার

3.প্রশ্ন: সদর্থক ও নঞর্থক বচন কাকে বলে? অথবা, সহজাত গুণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের বিভিন্ন প্রকার কী?

গুণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচন প্রধানত দুই প্রকার—

১. সদর্থক বচন (Affirmative Proposition)

২. নঞর্থক বচন (Negative Proposition)

সদর্থক বচন কাকে বলে?

যে বচনে উদ্দেশ্যপদের সমগ্র বা আংশিক শ্রেণিকে বিধেয়পদের সমগ্র বা আংশিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে স্বীকার করা হয়, তাকে সদর্থক বচন বলে।

উদাহরণ: “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

এটি সদর্থক সামান্য বচন।

“কোনো কোনো ফুল হয় লাল বস্তু।”

এটি সদর্থক বিশেষ বচন।

নঞর্থক বচন কাকে বলে?

যে বচনে উদ্দেশ্যপদের সমগ্র বা আংশিক শ্রেণিকে বিধেয়পদের শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়া হয়, তাকে নঞর্থক বচন বলে।

উদাহরণ: “কোনো মানুষ নয় পূর্ণ সত্তা।”

এটি নঞর্থক সামান্য বচন।

“কোনো কোনো ফুল নয় লাল বস্তু।”

এটি নঞর্থক বিশেষ বচন।

পদ ও সংযোজক

পদ কাকে বলে?

যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো নিরপেক্ষ বচনে স্বাধীনভাবে উদ্দেশ্যপদ অথবা বিধেয়পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে পদ (Term) বলে।

একটি পদ একটি শব্দ নিয়ে গঠিত হতে পারে, আবার একাধিক শব্দ নিয়েও গঠিত হতে পারে।

মনে রাখতে হবে—

“প্রত্যেক পদই শব্দ, কিন্তু প্রত্যেক শব্দ পদ নয়।”

যেমন, “মানুষ”, “মরণশীল জীব”, “সৎ ব্যক্তি”—এগুলি পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

কিন্তু “এবং”, “হয়”, “নয়”—এই ধরনের শব্দ সাধারণত পদ নয়।

নিরপেক্ষ বচনের দুটি পদ

একটি নিরপেক্ষ বচনে সাধারণত দুটি পদ থাকে—

১. উদ্দেশ্যপদ (Subject Term)

২. বিধেয়পদ (Predicate Term)

উদাহরণ: “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

এখানে—

উদ্দেশ্যপদ: মানুষ

বিধেয়পদ: মরণশীল জীব

৪. সংযোজক বা Copula কাকে বলে?

যে শব্দ উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সেই সম্পর্কটি সদর্থক না নঞর্থক তা প্রকাশ করে, তাকে সংযোজক (Copula) বলে।

উদাহরণ: “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

এখানে “হয়” হল সংযোজক।

আবার—

“কোনো মানুষ নয় সৎ ব্যক্তি।”

এখানে “নয়” হল সংযোজক।

সংযোজক একটি শব্দ হলেও এটি পদ নয়। কারণ এটি স্বাধীনভাবে উদ্দেশ্যপদ বা বিধেয়পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না।

সংযোজকের প্রকৃতি

সংযোজক সাধারণত ইংরেজি “to be” ক্রিয়ার বর্তমানকালের রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন—

am, is, are

বাংলায় এর রূপ হতে পারে—

হই, হয়, হন ইত্যাদি।

বচনের গুণ অর্থাৎ সদর্থক বা নঞর্থক সম্পর্ক প্রকাশ করার জন্য সংযোজক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতীত বা ভবিষ্যৎকালের বাক্যকে বচনে রূপান্তর

কোনো বাক্য যদি অতীত বা ভবিষ্যৎকালে থাকে, তাহলে বচনের কাঠামো তৈরি করার সময় তার কালগত অর্থ বিধেয়পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

উদাহরণ: “সক্রেটিস দার্শনিক ছিলেন।”

এটিকে বচনের রূপে বলা যায়—

“সক্রেটিস হন এমন ব্যক্তি, যিনি দার্শনিক ছিলেন।”

এখানে মূল বক্তব্যটি বজায় রেখে উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদের মধ্যে সংযোজকের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে।

বচনের চারটি প্রচলিত রূপ

A — সদর্থক সামান্য বচন
উদাহরণ: “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

E — নঞর্থক সামান্য বচন
উদাহরণ: “কোনো মানুষ নয় অমর।”

I — সদর্থক বিশেষ বচন
উদাহরণ: “কোনো কোনো মানুষ হয় সুখী ব্যক্তি।”

O — নঞর্থক বিশেষ বচন
উদাহরণ: “কোনো কোনো মানুষ নয় সুখী ব্যক্তি।”

সহজে মনে রাখার কৌশল:

A = সদর্থক সামান্য

E = নঞর্থক সামান্য

I = সদর্থক বিশেষ

O = নঞর্থক বিশেষ

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. বচন কাকে বলে?

যে ঘোষক বাক্যের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ণয় করা যায়, তাকে বচন বলে।

২. বাক্য কাকে বলে?

যে শব্দসমষ্টি ব্যাকরণসম্মতভাবে একটি সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাক্য বলে।

৩. বচন ও বাক্য কি এক?

না। বাক্যের মাধ্যমে বচন প্রকাশিত হয়। বচন হল বাক্যের অর্থগত দিক।

৪. বচন মাত্রই কী?

বচন মাত্রই বাক্য, কিন্তু বাক্য মাত্রই বচন নয়।

৫. কোন ধরনের বাক্য বচন প্রকাশ করে?

একমাত্র ঘোষক বাক্য বচন প্রকাশ করে।

৬. প্রশ্নসূচক বাক্য কি বচন?

না। কারণ প্রশ্নসূচক বাক্য সত্য বা মিথ্যা হতে পারে না।

৭. বচনের প্রধান ধর্ম কী?

বচনের প্রধান ধর্ম হল সত্যতা ও মিথ্যাত্ব।

৮. পরিমাণ অনুসারে বচন কত প্রকার?

দুই প্রকার—সামান্য বা সার্বিক এবং বিশেষ।

৯. সামান্য বচন কাকে বলে?

যে বচনে উদ্দেশ্যপদ দ্বারা নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে বিধেয়পদকে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে সামান্য বচন বলে।

১০. বিশেষ বচন কাকে বলে?

যে বচনে উদ্দেশ্যপদ দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণির একটি অংশ সম্পর্কে বিধেয়পদকে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে বিশেষ বচন বলে।

১১. গুণ অনুসারে বচন কত প্রকার?

দুই প্রকার—সদর্থক ও নঞর্থক।

১২. পদ কাকে বলে?

যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি বচনে স্বাধীনভাবে উদ্দেশ্যপদ বা বিধেয়পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে পদ বলে।

১৩. সংযোজক কাকে বলে?

যে শব্দ উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সেই সম্পর্কের গুণ প্রকাশ করে, তাকে সংযোজক বলে।

১৪. “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব”—এখানে উদ্দেশ্যপদ কোনটি?

“মানুষ” হল উদ্দেশ্যপদ।

১৫. “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব”—এখানে বিধেয়পদ কোনটি?

“মরণশীল জীব” হল বিধেয়পদ।

১৬. “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব”—এখানে সংযোজক কোনটি?

“হয়” হল সংযোজক।

দ্রুত রিভিশন

বচন = সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে এমন ঘোষক বক্তব্য।

বাক্য = সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশকারী শব্দসমষ্টি।

বচন মাত্রই বাক্য, কিন্তু বাক্য মাত্রই বচন নয়।

পরিমাণ অনুসারে বচন = সামান্য + বিশেষ।

গুণ অনুসারে বচন = সদর্থক + নঞর্থক।

A = সদর্থক সামান্য।

E = নঞর্থক সামান্য।

I = সদর্থক বিশেষ।

O = নঞর্থক বিশেষ।

নিরপেক্ষ বচনের দুটি পদ = উদ্দেশ্যপদ + বিধেয়পদ।

উদ্দেশ্যপদ ও বিধেয়পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে = সংযোজক।

বচনের প্রধান ধর্ম = সত্যতা ও মিথ্যাত্ব।

যুক্তির অবয়ব গঠন করে = বচন।

উপসংহার : যুক্তিবিদ্যার আলোচনায় বচন ও বাক্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাক্যের মাধ্যমে আমাদের বক্তব্য প্রকাশ পেলেও প্রত্যেক বাক্য বচন নয়। যে ঘোষক বাক্যের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ণয় করা যায়, সেটিই বচন। আবার বচনের গুণ ও পরিমাণের ভিত্তিতে তার বিভিন্ন প্রকার নির্ণয় করা হয়। নিরপেক্ষ বচনের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপদ, বিধেয়পদ এবং সংযোজকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই যুক্তিবিদ্যার পরবর্তী বিষয়গুলি ভালোভাবে বুঝতে হলে বচন ও বাক্যের মৌলিক ধারণা পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত জরুরি

5.প্রশ্ন: দৃষ্টান্তসহ পদের ব্যাপ্যতা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যুক্তিবিদ্যায় কোনো বচনে কোনো পদ তার দ্বারা নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণিকে বোঝালে সেই পদকে ব্যাপ্য পদ বলে এবং পদটি যদি তার নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণিকে না বোঝায়, তাহলে তাকে অব্যাপ্য পদ বলে। কোনো বচনে পদটি তার সমগ্র জাতিকে নির্দেশ করছে কি না, তার উপরই পদের ব্যাপ্যতা নির্ভর করে।

১. সদর্থক সার্বিক বচন (A):
উদাহরণ— “সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।”

এখানে ‘মানুষ’ পদটি ব্যাপ্য, কারণ ‘সকল মানুষ’-এর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘মরণশীল জীব’ পদটি অব্যাপ্য, কারণ সকল মরণশীল জীবকে বোঝানো হয়নি।
অতএব, A বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ অব্যাপ্য।

২. নঞর্থক সার্বিক বচন (E):
উদাহরণ— “কোনো মানুষ নয় পূর্ণ সত্তা।”

এখানে ‘মানুষ’ এবং ‘পূর্ণ সত্তা’—উভয় পদই ব্যাপ্য। কারণ কোনো মানুষকেই পূর্ণ সত্তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং কোনো পূর্ণ সত্তাকেই মানুষের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অতএব, E বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয়—উভয় পদই ব্যাপ্য।

৩. সদর্থক বিশেষ বচন (I):
উদাহরণ— “কোনো কোনো ফুল হয় লাল বস্তু।”

এখানে ‘কোনো কোনো ফুল’ বলা হয়েছে, তাই সমগ্র ফুলের শ্রেণিকে বোঝানো হয়নি। আবার ‘লাল বস্তু’ বলেও সমগ্র লাল বস্তুকে বোঝানো হয়নি।
অতএব, I বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয়—কোনো পদই ব্যাপ্য নয়।

৪. নঞর্থক বিশেষ বচন (O):
উদাহরণ— “কোনো কোনো মানুষ নয় সুখী ব্যক্তি।”
এখানে ‘কোনো কোনো মানুষ’ বলা হয়েছে বলে উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য। কিন্তু ‘সুখী ব্যক্তি’ পদটি ব্যাপ্য, কারণ ওই বিশেষ মানুষদের সমগ্র সুখী ব্যক্তির শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অতএব, O বচনে উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ ব্যাপ্য।

পদের ব্যাপ্যতার সংক্ষিপ্ত সূত্র:
A — উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য, বিধেয় পদ অব্যাপ্য।
E — উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য।
I — কোনো পদই ব্যাপ্য নয়।
O — উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য, বিধেয় পদ ব্যাপ্য।

সহজে মনে রাখার উপায়:
A = উদ্দেশ্য
E = উভয়
I = কোনোটিই নয়
O = বিধেয়

অতিরিক্ত নিয়ম:
১. সকল সার্বিক বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হয়।
২. সকল নঞর্থক বচনে বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয়।

LOGIC – এর কিছু সূত্র এক নজরে

যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন বচনকে সহজে চিহ্নিত ও প্রতীকী রূপে প্রকাশ করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও সূত্র জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে A, E, I ও O বচন নির্ণয় করার সময় বাক্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ, বাক্যের গঠন এবং বাক্যটি হ্যাঁ-বাচক না না-বাচক—এসব বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হয়।

এই পেজে Class XII Logic-এর শিক্ষার্থীদের জন্য A, E, I ও O বচন চেনার এবং Logical Form (L.F.) নির্ণয় করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলি এক জায়গায় সহজভাবে সাজানো হয়েছে। সব, সকল, প্রত্যেক, সর্বদা, অবশ্যই, কেবল, একমাত্র, কোনো—নয়, হতে পারে না, অসম্ভব, অধিকাংশ, প্রায়, কোনো কোনো, সাধারণত, কদাচিৎ, খুব কম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বাক্যে থাকলে কোন ক্ষেত্রে A, E, I অথবা O বচন হবে—তা দৃষ্টান্তসহ দেখানো হয়েছে।

প্রতিটি নিয়মের সঙ্গে সহজ উদাহরণ এবং তার Logical Form (L.F.) দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু নিয়ম মুখস্থ না করে বাস্তব বাক্য দেখে দ্রুত বচনের ধরন নির্ণয় করতে পারে। পরীক্ষার আগে অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলি এক নজরে দেখে পুনরাবৃত্তি করার জন্য এই পেজটি বিশেষভাবে উপযোগী।

Class XII Logic পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে A, E, I ও O বচন নির্ণয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই সূত্রগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করুন, প্রতিটি উদাহরণ বুঝে নিন এবং বিভিন্ন বাক্য থেকে নিজে Logical Form নির্ণয়ের চেষ্টা করুন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বচন নির্ণয়ের ভুল কমবে এবং পরীক্ষায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে উত্তর লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

A – বচন করিবার নিয়ম

১ নং নিয়ম:
যদি কোনো বাক্যের সাথে সব, সকল, প্রত্যেক, সবসময়, সর্বদা, অনিবার্যভাবে, নিশ্চয়, অবশ্যই, মাত্রই, শতকরা ১০০ ভাগ, চিরকাল প্রভৃতি শব্দগুলি থাকে এবং বাক্যটি হ্যাঁ-বাচক হয়, তাহলে ‘A’ – বচন হবে। আর বাক্যটি যদি না-বাচক হয়, তাহলে ‘O’ – বচন হবে।

যেমন:

১) সব আম টক।
L.F – A – বচন – সকল আম হয় টক।

২) সব আম টক নয়।
L.F – O – বচন – কোনো কোনো আম নয় টক।

২ নং নিয়ম:
যদি কোনো বাক্যের উদ্দেশ্যপদ বিশিষ্ট পদ বা নামবাচক পদ হয় এবং বাক্যটি যদি হ্যাঁ-বাচক হয়, তাহলে ‘A’ – বচন হবে। আর বাক্যটি যদি না-বাচক হয়, তাহলে ‘E’ – বচন হবে। এক্ষেত্রে ‘সকল’ এবং ‘কোনো’ শব্দ দুটি লেখা যাবে না।

যেমন:

১) প্লেটো একজন দার্শনিক।
L.F – A – বচন – প্লেটো হন একজন দার্শনিক।

২) প্লেটো একজন দার্শনিক নন।
L.F – E – বচন – প্লেটো নন একজন দার্শনিক।

৩ নং নিয়ম:
যদি কোনো বাক্যের শুরুতে কেবল, কেবলমাত্র, একমাত্র, শুধু, শুধুমাত্র, ব্যতিরেকে, আর কেউ নয় প্রভৃতি শব্দগুলি থাকে, তাহলে সকল ক্ষেত্রেই ‘A’ – বচন হবে। এক্ষেত্রে বাক্যের উদ্দেশ্যপদ বচনের বিধেয় স্থানে এবং বাক্যের বিধেয়পদ বচনের উদ্দেশ্য স্থানে অবস্থান করবে। তবে উক্ত শব্দগুলি যদি বাক্যের মাঝে থাকে, তাহলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের কোনো পরিবর্তন হবে না।

যেমন:

১) কেবল মানুষ বুদ্ধিমান। ২) মানুষ কেবল বুদ্ধিমান।
L.F – A – বচন – সকল বুদ্ধিমান হয় মানুষ। L.F – A – বচন – সকল মানুষ হয় বুদ্ধিমান।

৩) সীতা ছাড়া আর কেউ রামের স্ত্রী নয়।
L.F – A – বচন – সকল ক্ষেত্রে রামের স্ত্রী হয় সীতা।

E– বচন করিবার নিয়ম

যদি কোনো বাক্যে কোনো—নয়, কোনো—দিন নয়, কোনো—ভাবে নয়, কোনো—মতে নয়, কখনই—নয়, হতে পারে না, হবেই না, অসম্ভব প্রভৃতি শব্দগুলি থাকে, তাহলে সকল ক্ষেত্রেই ‘E’ – বচন হবে।

যেমন:

১) মানুষ ঈশ্বর হতে পারে না। ২) পরির ডানা নেই।
L.F – E – বচন – কোনো মানুষ নয় ঈশ্বর। L.F – E – বচন – কোনো পরি নয় ডানা যুক্ত।

I & O– বচন করিবার নিয়ম

১ নং নিয়ম:
যদি কোনো বাক্যের সাথে অধিকাংশ, প্রায়, কোনো কোনো, দু-একটি বাদে, হতে পারে, হবে, সাধারণত, প্রধানত, মুষ্টিমেয় প্রভৃতি শব্দগুলি থাকে এবং বাক্যটি হ্যাঁ-বাচক হয়, তাহলে ‘I’ – বচন হবে। আর বাক্যটি যদি না-বাচক হয়, তাহলে ‘O’ – বচন হবে।

যেমন:

১) প্রায় ফুল সুগন্ধি। ২) প্রায় ফুল সুগন্ধি নয়।
L.F – I – বচন – কোনো কোনো ফুল হয় সুগন্ধি। L.F – O – বচন – কোনো কোনো ফুল নয় সুগন্ধি।

২ নং নিয়ম:
যদি কোনো বাক্যের সাথে কিঞ্চিত, কদাচিৎ, ক্বচিৎ, নেই বললেই চলে, দু-একটি, কালভদ্রে, খুব কম প্রভৃতি শব্দগুলি থাকে এবং বাক্যটি যদি হ্যাঁ-বাচক হয়, তাহলে ‘O’ – বচন হবে। আর বাক্যটি যদি না-বাচক হয়, তাহলে ‘I’ – বচন হবে।

যেমন:

১) খুব কম ফুল সুগন্ধি। ২) খুব কম ফুল সুগন্ধি নয়।
L.F – O – বচন – কোনো কোনো ফুল নয় সুগন্ধি। L.F – I – বচন – কোনো কোনো ফুল হয় সুগন্ধি।

( সাধারণ জ্ঞান অনুশীলন )


PART – 1

1. সব পাখি সুখী।

L.F – A – সকল পাখি হয় সুখী।

2. প্রত্যেক কবি ভাবুক।

L.F – A – সকল কবি হয় ভাবুক।

3. সব আম টক নয়।

L.F – O – কোনো কোনো আম নয় টক।

4. পরিদের ডানা নেই।

L.F – E – কোনো পরি নয় ডানা যুক্ত।

5. প্রায় ফুল সুগন্ধি।

L.F – I – কোনো কোনো ফুল হয় সুগন্ধি।

6. দু-একটি মানুষ সৎ।

L.F – I – কোনো কোনো মানুষ হয় সৎ।

7. বিজ্ঞানীরা সাধারণত উদার।

L.F – I – কোনো কোনো বিজ্ঞানী হয় উদার।

8. প্লেটো দার্শনিক।

L.F – A – প্লেটো হয় দার্শনিক।

9. বচন মাত্রই বাক্য।

L.F – A – সকল বচন হয় বাক্য।

10. M.A ছাত্ররাই B.A পাশ।

L.F – A – সকল M.A ছাত্র হয় B.A পাশ।

11. বরফ মাত্রই ঠান্ডা।

L.F – A – সকল বরফ হয় ঠান্ডা।

12. বিড়াল কখনই তৃণভোজী নয়।

L.F – E – কোনো বিড়াল নয় তৃণভোজী।

13. গরুর চারটি পা আছে।

L.F – A – সকল গরু হয় চারপা বিশিষ্ট।

14. সাদা বাঘ আছে।

L.F – I – কোনো কোনো বাঘ হয় সাদা।

15. অধিকাংশ ফুল সুগন্ধি নয়।

L.F – O – কোনো কোনো ফুল নয় সুগন্ধি।

16. সব তৃণমূল নেতা মিথ্যাবাদী নয়।

L.F – O – কোনো কোনো তৃণমূল নয় মিথ্যাবাদী।

17. কালো কাক আছে।

L.F – I – কোনো কোনো কাক হয় কালো।

18. কিছু কিছু মানুষ স্বার্থপর।

L.F – I – কোনো কোনো মানুষ হয় স্বার্থপর।

19. গোলাপি ইন্দুর নেই।

L.F – E – কোনো ইন্দুর নয় গোলাপি।

20. বৃত্ত কখনই আয়তক্ষেত্র হতে পারে না।

L.F – E – কোনো বৃত্ত নয় আয়তক্ষেত্র।

21. বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথ নন।

L.F – E – বিদ্যাসাগর নয় রবীন্দ্রনাথ।

22. ঘোড়ার শিং নেই।

L.F – E – কোনো ঘোড়া নয় শিংযুক্ত।

23. মা মাত্রই জননী।

L.F – A – সকল মা হয় জননী।

24. বাবাই একমাত্র অভিভাবক হতে পারেন।

L.F – A – সকল বাবা হয় অভিভাবক।

25. সূর্যই একমাত্র সকল শক্তির উৎস।

L.F – A – সূর্য হয় সকল শক্তির উৎস।

1. প্রত্যেক শিশু সরল।
L.F – A – সকল শিশু হয় সরল।

2. সব ফল পুষ্টিকর।
L.F – A – সকল ফল হয় পুষ্টিকর।

3. সব ফুল সুন্দর নয়।
L.F – O – কোনো কোনো ফুল নয় সুন্দর।

4. কোনো পরি পাখি নয়।
L.F – E – কোনো পরি নয় পাখি।

5. মানুষেরা ঈশ্বর হতে পারে না।
L.F – E – কোনো মানুষ নয় ঈশ্বর।

6. কেবলমাত্র পশুরাই নিরীহ প্রাণী।
L.F – A – সকল নিরীহ প্রাণী হয় পশু।

7. পাথর কেবলমাত্র মার্বেল।
L.F – A – সকল পাথর হয় মার্বেল।

8. বরফ মাত্রই অনিবার্যভাবে আইসক্রিম হয়।
L.F – A – সকল বরফ হয় আইসক্রিম।

9. সকল লোহা কাস্তে নয়।
L.F – O – কোনো কোনো লোহা নয় কাস্তে।

10. কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই ভোটাধিকার।
L.F – A – সকল ভোটাধিকার হয় প্রাপ্তবয়স্ক।

11. সব বাঘ মাংসাশী।
L.F – A – সকল বাঘ হয় মাংসাশী।

12. রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলির কবি।
L.F – A – রবীন্দ্রনাথ হয় গীতাঞ্জলির কবি।

13. চাঁদ হল পৃথিবীর উপগ্রহ।
L.F – A – চাঁদ হয় পৃথিবীর উপগ্রহ।

14. পাগল মাত্রই সাহসী নয়।
L.F – O – কোনো কোনো পাগল নয় সাহসী।

15. বৃত্ত কখনই সামান্তরিক নয়।
L.F – E – কোনো বৃত্ত নয় সামান্তরিক।

16. সীতার নাম জানকী।
L.F – A – সীতার নাম হয় জানকী।

17. সময় কখনই কোনো ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করে না।
L.F – E – কোনো সময় নয় কোনো ব্যক্তির জন্য অপেক্ষাকারী।

18. ফড়িং-এর হাঁটুটেতে কান।
L.F – A – সকল ফড়িং হয় হাঁটুটেতে কান বিশিষ্ট।

19. কলা মাত্রই পুষ্টিকর।
L.F – A – সকল কলা হয় পুষ্টিকর।

20. দৃশ্যটি সুন্দর।
L.F – A – দৃশ্যটি হয় সুন্দর।

1. অধিকাংশ বাবা স্বার্থপর।
L.F – I – কোনো কোনো বাবা হয় স্বার্থপর।

2. কদাচিৎ পেয়ারা মিষ্টি।
L.F – O – কোনো কোনো পেয়ারা নয় মিষ্টি।

3. কালো মোরগ আছে।
L.F – I – কোনো কোনো মোরগ হয় কালো।

4. প্রায় সব পাখি আকাশে ওড়ে।
L.F – I – কোনো কোনো পাখি হয় আকাশে উড্ডয়নশীল।

5. আবহাওয়া সর্বদা ভালো হয় না।
L.F – O – কোনো কোনো আবহাওয়া নয় ভালো।

6. অতিথিরা আসছে।
L.F – I – কোনো কোনো অতিথি হয় আগমন ব্যক্তি।

7. একটি চোর পালিয়েছে।
L.F – I – কোনো কোনো চোর হয় পলাতক।

8. কালভদ্রে মানুষ হিংস্র হয় না।
L.F – I – কোনো কোনো মানুষ হয় হিংস্র।

9. প্রতিবেশীরা সাধারণত দয়ালু হন।
L.F – I – কোনো কোনো প্রতিবেশী হয় দয়ালু।

10. অশান্তি খুব কম ব্যক্তি কামনা করে।
L.F – O – কোনো কোনো ব্যক্তি নয় অশান্তি কামনাকারী।

11. কবিরা সাধারণত দয়ালু হন।
L.F – I – কোনো কোনো কবি হয় দয়ালু।

12. মরিচা সচরাচর দেখা যায়।
L.F – I – কোনো কোনো মরিচা হয় দৃশ্যযোগ্য।

13. সাদা রং সর্বদা শান্তির প্রতীক নয়।
L.F – O – কোনো কোনো সাদা রং নয় শান্তির প্রতীক।

14. খুব কম খাতা লেখার যোগ্য।
L.F – O – কোনো কোনো খাতা নয় লেখার যোগ্য।

15. যাদের বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় তারা সবাই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
L.F – O – কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি নয় বিশ্বাসী।

16. প্রায় মানুষ ভুল করে।
L.F – I – কোনো কোনো মানুষ হয় ভুলকারী।

17. কিঞ্চিৎ বাড়ি মাটির তৈরি।
L.F – O – কোনো কোনো বাড়ি নয় মাটির তৈরি।

18. ফুল সুগন্ধি।
L.F – I – কোনো কোনো ফুল হয় সুগন্ধি।

19. শিশুদের সবাই সত্যবাদী নয়।
L.F – O – কোনো কোনো শিশু নয় সত্যবাদী।

20. প্রত্যেক অভিজ্ঞ ডাক্তার উচ্চপদে আসীন নাও হতে পারেন।
L.F – O – কোনো কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার নয় উচ্চপদে আসীন ব্যক্তি।

1. প্রত্যেক শিশু তার মাকে ভালোবাসে।
L.F – A – সকল শিশু হয় তার মাকে ভালোবাসা ব্যক্তি।

2. কেবল পিতাই বাবা হতে পারে।
L.F – A – সকল বাবা হয় পিতা।

3. গুরুজন ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা উচিত।
L.F – A – সকল ক্ষেত্রে গুরুজন ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা হয় আমাদের কর্তব্য।

4. তুমি একজন মানুষ।
L.F – A – তুমি হয় একজন মানুষ।

5. মাংসে ভিটামিন থাকে।
L.F – A – সকল মাংস হয় ভিটামিনযুক্ত।

6. তুমি ভালো ছাত্র।
L.F – A – তুমি হয় ভালো ছাত্র।

7. এমন নয় যে, সে সন্ধি খায় না।
L.F – A – সে হয় সন্ধি খাওয়া ব্যক্তি।

8. সব বাড়ি ইটের তৈরি নয়।
L.F – O – কোনো কোনো বাড়ি নয় ইটের তৈরি।

9. মানুষ মরণশীল।
L.F – A – সকল মানুষ হয় মরণশীল।

10. মিথ্যা কথা বলবেন না।
L.F – E – তুমি নও এমন, যা মিথ্যা কথা বলবে।

11. ধোনি ভারতের অধিনায়ক।
L.F – A – ধোনি হয় ভারতের অধিনায়ক।

12. পাখিরাই কেবল উড়তে সক্ষম।
L.F – A – সকল পাখি হয় উড্ডয়নশীল।

13. কদাচিৎ কবি দার্শনিক।
L.F – O – কোনো কোনো কবি নয় দার্শনিক।

14. প্রায় সব জল পান করার যোগ্য নয়।
L.F – O – কোনো কোনো জল নয় পানযোগ্য।

15. গঙ্গাই ভারতের প্রধান নদী।
L.F – A – গঙ্গা হয় ভারতের প্রধান নদী।

16. ইলিশ মাছ পদ্মায় পাওয়া যায়।
L.F – I – কোনো কোনো ইলিশ হয় পদ্মায় পাওয়া মাছ।

17. অসৎ কোনো লোকই ভালো হয় না।
L.F – E – কোনো অসৎ লোক নয় ভালো।

18. খুব কম কলা রাণীগঞ্জ থেকে আসে।
L.F – O – কোনো কোনো কলা নয় রাণীগঞ্জ থেকে আসা দ্রব্য।

19. কালভদ্রে বিজ্ঞানী ভুল করে।
L.F – I – কোনো কোনো বিজ্ঞানী হয় ভুলকারী ব্যক্তি।

20. কালভদ্রে পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ড দেখা দেয়।
L.F – O – কোনো কোনো পাহাড় নয় অগ্নিকাণ্ডযুক্ত।

  1. বাক্য মাত্রই বচন নয়।
    L.F – O – কোনো কোনো বাক্য নয় বচন।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- নঞর্থক
  2. যা লাল তা, নীল নয়।
    L.F – E – কোনো লাল নয় নীল।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- নঞর্থক
  3. কোনো বস্তু একই সঙ্গে বৃত্তাকার ও বর্গাকার হতে পারে না।
    L.F – E – কোনো বৃত্তাকার নয় বর্গাকার।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- নঞর্থক
  4. স্বার্থপর নয়, এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।
    L.F – I – কোনো কোনো লোক হয় স্বার্থপর।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- সদর্থক
  5. কেবল শিক্ষিত ব্যক্তিরাই প্রতিবাদী।
    L.F – A – সকল প্রতিবাদী হয় শিক্ষিত ব্যক্তি।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  6. একজন ছাড়া সবাই উপস্থিত ছিল।
    L.F – I – কোনো কোনো ব্যক্তি হয় উপস্থিত।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- সদর্থক
  7. যুক্তিবাদীরা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না।
    L.F – E – কোনো যুক্তিবাদী নয় কুসংস্কারে বিশ্বাসী।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- নঞর্থক
  8. নির্বোধ লোকেরা সাধারণত প্রতারিত হয়।
    L.F – I – কোনো কোনো লোক হয় প্রতারিত।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- সদর্থক
  9. সব গল্প বিশ্বাসযোগ্য নয়।
    L.F – O – কোনো কোনো গল্প নয় বিশ্বাসযোগ্য।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- নঞর্থক
  10. শুধুমাত্র সাহসীরাই এই সম্মানের অধিকারী।
    L.F – A – সকল এই সম্মানের অধিকারী হয় সাহসী।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  11. অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার ভুল চিকিৎসা করেন।
    L.F – I – কোনো কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার হয় ভুল চিকিৎসাকারী।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- সদর্থক
  12. জড়বাদী ছাড়া আর কেউই চার্বাকপন্থী নয়।
    L.F – A – সকল চার্বাক হয় জড়বাদী।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  13. যা ধাতু, তাই শব্দ উৎপন্ন করে।
    L.F – A – সকল ধাতু হয় শব্দ উৎপাদক।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  14. একটি ছাড়া সব ধাতুই কঠিন।
    L.F – I – কোনো কোনো ধাতু হয় কঠিন।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- সদর্থক
  15. যাঁরা বুদ্ধিবাদী, তাঁরা সহজাত ধারণায় বিশ্বাস করেন।
    L.F – A – সকল বুদ্ধিবাদী হয় সহজাত ধারণায় বিশ্বাসী।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  16. কোনো কোনো সৎ ব্যক্তি নয় সুখী।
    L.F – O – কোনো কোনো সৎ ব্যক্তি নয় সুখী।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- নঞর্থক
  17. সকল সদস্য হয় ছাত্র।
    L.F – A – সকল সদস্য হয় ছাত্র।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  18. ভারতবাসী হয় অদৃষ্টবাদী।
    L.F – A – সকল ভারতবাসী হয় অদৃষ্টবাদী।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  19. কলা একটি পুষ্টিকর ফল।
    L.F – A – সকল কলা হয় পুষ্টিকর।
    * পরিমাণ :- সার্বিক বা সামান্য
    * গুণ :- সদর্থক
  20. বিজ্ঞানীদের অনেকেই অদৃষ্টবাদী।
    L.F – I – কোনো কোনো বিজ্ঞানী হয় অদৃষ্টবাদী।
    * পরিমাণ :- বিশেষ
    * গুণ :- সদর্থক

21) জড়বস্তুর বিস্তার আছে।
L.F – A – সকল জড়বস্তু হয় বিস্তারযুক্ত।
* উদ্দেশ্য পদ :- (জড়বস্তু) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (বিস্তারযুক্ত) অব্যাপ্য

22) সেই হল প্রকৃত মানুষ যার বিবেক আছে।
L.F – A – সকল প্রকৃত মানুষ হয় বিবেককারী।
* উদ্দেশ্য পদ :- (প্রকৃত মানুষ) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (বিবেককারী) অব্যাপ্য

23) যদি কোনো ব্যক্তি স্বৈরাচারী হয় তাহলে, সে কখনই সুশাসক হতে পারে না।
L.F – E – কোনো স্বৈরাচারী নয় সুশাসক।
* উদ্দেশ্য পদ :- (স্বৈরাচারী) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (সুশাসক) ব্যাপ্য

24) অর্থবান ব্যক্তিমাত্রই ধনী।
L.F – A – সকল অর্থবান হয় ধনী।
* উদ্দেশ্য পদ :- (অর্থবান) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (ধনী) অব্যাপ্য

25) প্রতিবন্ধীরা কখনই স্বাবলম্বী হতে পারে না।
L.F – E – কোনো প্রতিবন্ধী নয় স্বাবলম্বী।
* উদ্দেশ্য পদ :- (প্রতিবন্ধী) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (স্বাবলম্বী) ব্যাপ্য

26) খুব কম নাস্তিক কর্মবাদে বিশ্বাসী।
L.F – O – কোনো কোনো নাস্তিক নয় কর্মবাদে বিশ্বাসী।
* উদ্দেশ্য পদ :- (নাস্তিক) অব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (কর্মবাদে বিশ্বাসী) ব্যাপ্য

27) যা জড়, তাই অচেতন।
L.F – A – সকল জড় হয় অচেতন।
* উদ্দেশ্য পদ :- (জড়) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (অচেতন) অব্যাপ্য

28) খরগোশের শিং নেই।
L.F – E – কোনো খরগোশ নয় শিংযুক্ত।
* উদ্দেশ্য পদ :- (খরগোশ) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (শিংযুক্ত) ব্যাপ্য

29) যারা উচ্চপদে আসীন তাদের অনেকেই যোগ্য ব্যক্তি নয়।
L.F – O – কোনো কোনো উচ্চপদে আসীন ব্যক্তি নয় যোগ্য ব্যক্তি।
* উদ্দেশ্য পদ :- (উচ্চপদে আসীন ব্যক্তি) অব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (যোগ্য ব্যক্তি) ব্যাপ্য

30) ত্রিভুজ হল তিনটি বাহু বিশিষ্ট সমতল ক্ষেত্র।
L.F – A – সকল ত্রিভুজ হয় তিনটি বাহু বিশিষ্ট সমতল ক্ষেত্র।
* উদ্দেশ্য পদ :- (ত্রিভুজ) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (তিনটি বাহু বিশিষ্ট সমতল ক্ষেত্র) অব্যাপ্য

31) যে-কোনো বিতর্কিত বিষয়ই দৃশ্য আকর্ষক।
L.F – A – সকল বিতর্কিত বিষয় হয় আকর্ষক।
* উদ্দেশ্য পদ :- (বিতর্কিত বিষয়) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (আকর্ষক) অব্যাপ্য

32) রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলির কবি।
L.F – A – রবীন্দ্রনাথ হন গীতাঞ্জলির কবি।
* উদ্দেশ্য পদ :- (রবীন্দ্রনাথ) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (গীতাঞ্জলির কবি) অব্যাপ্য

33) মানুষ মাত্রই সুযোগ সন্ধানী।
L.F – A – সকল মানুষ হয় সুযোগ সন্ধানী।
* উদ্দেশ্য পদ :- (মানুষ) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (সুযোগ সন্ধানী) অব্যাপ্য

34) যা স্থান পরিবর্তন করে তা গতিশীল বস্তু।
L.F – A – সকল স্থান পরিবর্তনশীল বস্তু হয় গতিশীল বস্তু।
* উদ্দেশ্য পদ :- (স্থান পরিবর্তনশীল বস্তু) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (গতিশীল বস্তু) অব্যাপ্য

35) স্বার্থপর নয়, এমন লোকের সংখ্যা খুবই অল্প।
L.F – I – কোনো কোনো লোক হয় স্বার্থপর।
* উদ্দেশ্য পদ :- (লোক) অব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (স্বার্থপর) অব্যাপ্য

36) স্বল্প সংখ্যক লোক স্বার্থপর।
L.F – I – কোনো কোনো লোক হয় স্বার্থপর।
* উদ্দেশ্য পদ :- (লোক) অব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (স্বার্থপর) অব্যাপ্য

37) কবিরা সর্বদাই আবেগপ্রবণ হয়।
L.F – A – সকল কবি হয় আবেগপ্রবণ।
* উদ্দেশ্য পদ :- (কবি) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (আবেগপ্রবণ) অব্যাপ্য

38) রাজনীতিবিদরা সব সময় মিথ্যা কথা বলেন না।
L.F – E – কোনো রাজনীতিবিদ নয় সর্বদা মিথ্যা কথা বলা ব্যক্তি।
* উদ্দেশ্য পদ :- (রাজনীতিবিদ) ব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (সর্বদা মিথ্যা কথা বলা ব্যক্তি) ব্যাপ্য

39) অসাধু ব্যক্তি সাধু হতে পারে।
L.F – I – কোনো কোনো অসাধু ব্যক্তি হয় সাধু।
* উদ্দেশ্য পদ :- (অসাধু ব্যক্তি) অব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (সাধু) অব্যাপ্য

40) স্বার্থপর নয়, এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।
L.F – I – কোনো কোনো লোক হয় স্বার্থপর।
* উদ্দেশ্য পদ :- (লোক) অব্যাপ্য
* বিধেয় পদ :- (স্বার্থপর) অব্যাপ্য

যুক্তিবিদ্যা — বচন বিষয়ক MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

1. বিশেষ বচনের উদ্দেশ্য পদ কেমন হয়?
A) ব্যাপ্য
B) অব্যাপ্য
C) কখনও ব্যাপ্য, কখনও অব্যাপ্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) ব্যাপ্য

2. নিরর্থক বচনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে স্বীকার করা হয়—
A) সত্য বা মিথ্যা
B) কেবল সত্য
C) কেবল মিথ্যা
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য বা মিথ্যা

3. সংযোজক কোনো পদ নয়। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

4. নিরপেক্ষ বচনের দুটি অংশ হল—
A) পূর্বগ ও অনুগ
B) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
C) হেতু ও সাধ্য
D) আশ্রয় ও আশ্রিত
উত্তর: A) পূর্বগ ও অনুগ

5. I বচনে কোন পদ ব্যাপ্য?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদই নয়
উত্তর: D) কোনো পদই নয়

6. কেবলমাত্র বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয় কোন বচনে?
A) A
B) E
C) I
D) O
উত্তর: D) O

7. গুণ ও পরিমাণ অনুসারে বচন কত প্রকার?
A) দুই প্রকার
B) তিন প্রকার
C) চার প্রকার
D) পাঁচ প্রকার
উত্তর: C) চার প্রকার

8. বিশেষ নঞর্থক বচনের কোন পদ ব্যাপ্য?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: B) বিধেয় পদ

9. সামান্য সদর্থক বচনের কোন পদ ব্যাপ্য?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: A) উদ্দেশ্য পদ

10. সম্বন্ধ অনুসারে বচন কত প্রকার?
A) এক প্রকার
B) দুই প্রকার
C) তিন প্রকার
D) চার প্রকার
উত্তর: B) দুই প্রকার

11. কোন বচনের বিধেয় পদ সর্বদাই ব্যাপ্য হয়?
A) A
B) E
C) I
D) O
উত্তর: B) E

12. ঘোষক বাক্যকে কী বলে?
A) প্রশ্নবাক্য
B) নির্দেশবাক্য
C) ঘোষণাবাক্য
D) বিস্ময়বাক্য
উত্তর: C) ঘোষণাবাক্য

13. সংযোজক বচনের কী নির্দেশ করে?
A) উদ্দেশ্য
B) বিধেয়
C) সংযোজক
D) পরিমাণ
উত্তর: C) সংযোজক

14. উদ্দেশ্য বচনের কী নির্দেশ করে?
A) বিধেয়
B) উদ্দেশ্য
C) সংযোজক
D) গুণ
উত্তর: B) উদ্দেশ্য

15. যে-বাক্য সত্য ও মিথ্যা হতে পারে, তাই হল—
A) প্রশ্নবাক্য
B) আদেশবাক্য
C) বচন
D) অনুরোধবাক্য
উত্তর: C) বচন

16. ______ হল যুক্তির অঙ্গবাক্য।
A) পদ
B) বচন
C) বাক্যাংশ
D) শব্দ
উত্তর: B) বচন

17. যে-বচনে একবাচক পদ উদ্দেশ্য হিসেবে থাকে, তাকে কী বচন বলে?
A) সামান্য বচন
B) বিশেষ বচন
C) নিরপেক্ষ বচন
D) যৌগিক বচন
উত্তর: B) বিশেষ বচন

18. O বচনে কোন পদ ব্যাপ্য হয়?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: B) বিধেয় পদ

19. কোন বচনে কোনো পদ ব্যাপ্য হয় না?
A) A
B) E
C) I
D) O
উত্তর: C) I

20. O বচনের পরিমাণ—
A) সামান্য
B) বিশেষ
C) সার্বিক
D) অনির্দিষ্ট
উত্তর: B) বিশেষ

21. E বচনের গুণ—
A) সদর্থক
B) নঞর্থক
C) উভয়ই
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: B) নঞর্থক

22. A বচনের পরিমাণ—
A) বিশেষ
B) সামান্য
C) সার্বিক
D) অনির্দিষ্ট
উত্তর: C) সার্বিক

23. সার্বিক বচনে কোন পদ ব্যাপ্য হয়?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: A) উদ্দেশ্য পদ

24. বিশেষ বচনের কোন পদ ব্যাপ্য?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: B) বিধেয় পদ

25. নঞর্থক বচনের কোন পদ ব্যাপ্য?
A) উদ্দেশ্য পদ
B) বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: B) বিধেয় পদ

26. কোনো বচনের দুটি পদই যদি ব্যাপ্য হয়, তাহলে সেটি কোন বচন?
A) A বচন
B) E বচন
C) I বচন
D) O বচন
উত্তর: B) E বচন

27. কোনো বচনের দুটি পদই যদি অব্যাপ্য হয়, তাহলে সেটি কোন বচন?
A) A বচন
B) E বচন
C) I বচন
D) O বচন
উত্তর: C) I বচন

28. বাক্য মাত্রই বচন নয়। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

29. যুক্তিবাক্যকে বচনে প্রকাশ করতে হয়। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

30. উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে কী বলে?
A) উদ্দেশ্য
B) বিধেয়
C) সংযোজক
D) পরিমাণ
উত্তর: B) বিধেয়

31. সংযোজক হল—
A) পদ
B) বচন
C) বাক্য
D) শব্দ
উত্তর: A) পদ

32. A বচনে দুটি পদই ব্যাপ্য। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: B) মিথ্যা

33. I বচনে দুটি পদই অব্যাপ্য। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

34. E বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

35. O বচনে বিধেয় পদ ব্যাপ্য। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

36. নঞর্থক বচনের বিধেয় পদ ব্যাপ্য। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: A) সত্য

37. A বচনে কোন পদ ব্যাপ্য?
A) কেবল উদ্দেশ্য পদ
B) কেবল বিধেয় পদ
C) উভয় পদ
D) কোনো পদ নয়
উত্তর: A) কেবল উদ্দেশ্য পদ

38. কোনো বচনে দুটি পদ ব্যাপ্য হলে সেটি কোন বচন হবে?
A) A
B) E
C) I
D) O
উত্তর: B) E

39. কোনো বচনে দুটি পদ অব্যাপ্য হলে সেটি কোন বচন হবে?
A) A
B) E
C) I
D) O
উত্তর: C) I

40. সার্বিক বচনের বিধেয় পদ ব্যাপ্য। উক্তিটি—
A) সর্বদা সত্য
B) সর্বদা মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: C) আংশিক সত্য

41. হ্যাঁ-বাচক বচনের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয়। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: B) মিথ্যা

42. বিশেষ বচনের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হয়। উক্তিটি—
A) সত্য
B) মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: B) মিথ্যা

43. কোনো বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হলে সেটি সার্বিক বচন হবে। উক্তিটি—
A) সর্বদা সত্য
B) সর্বদা মিথ্যা
C) আংশিক সত্য
D) কোনোটিই নয়
উত্তর: C) আংশিক সত্য

44. নিরপেক্ষ বচনের প্রধানত কয়টি অংশ?
A) দুটি
B) তিনটি
C) চারটি
D) পাঁচটি
উত্তর: C) চারটি

১. বচনের গুণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বচনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে স্বীকার বা অস্বীকার করার ধরনকে বচনের গুণ বলে। গুণ দুই প্রকার— সদর্থক ও নঞর্থক।

২. সংযোজকের কাজ কী?
উত্তর: সংযোজক উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করে এবং বচনের গুণ নির্দেশ করে।

৩. সংযোজক কাকে বলে?
উত্তর: যে অংশ উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করে, তাকে সংযোজক বলে। যেমন— ‘হয়’, ‘নয়’ ইত্যাদি।

৪. বাক্য ও বচনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ক) বাক্য হলো অর্থপূর্ণ শব্দসমষ্টি, কিন্তু বচন হলো এমন বাক্য যা সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।
খ) সব বাক্য বচন নয়, কিন্তু প্রত্যেক বচন একটি বাক্য।

৫. বচন ও বচনাকারীর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ক) বচন হলো সত্য বা মিথ্যা হতে পারে এমন বাক্য; বচনাকারী হলো বচন প্রকাশকারী ব্যক্তি।
খ) বচন একটি উক্তি, আর বচনকারী হলেন সেই উক্তির বক্তা।

৬. পদের ব্যাপ্যতা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বচনে কোনো পদ তার শ্রেণির সমস্ত সদস্যকে নির্দেশ করলে সেই পদকে ব্যাপ্য এবং এই ধর্মকে পদের ব্যাপ্যতা বলে।

৭. বিশিষ্ট বা একবাচক বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে বচনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে বিশিষ্ট বা একবাচক বচন বলে। যেমন— “রবীন্দ্রনাথ একজন কবি।”

৮. নিরপেক্ষ ও সাপেক্ষ বচনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ক) নিরপেক্ষ বচনে একটি মাত্র উক্তি থাকে; সাপেক্ষ বচনে দুই বা ততোধিক উক্তির মধ্যে শর্ত বা সম্পর্ক থাকে।
খ) নিরপেক্ষ বচনে সত্যতা কোনো শর্তের উপর নির্ভর করে না; সাপেক্ষ বচনে সত্যতা শর্তের উপর নির্ভর করতে পারে।

৯. প্রাকল্পিক বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে সাপেক্ষ বচনে একটি শর্তের সঙ্গে অপর একটি উক্তির সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়, তাকে প্রাকল্পিক বচন বলে। যেমন— “যদি বৃষ্টি হয়, তবে রাস্তা ভিজবে।”

১০. প্রাকল্পিক বচনের গুণ ও পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
উত্তর: প্রাকল্পিক বচনের গুণ ও পরিমাণ তার পূর্বগ ও অনুগ উভয় অঙ্গের গুণ ও পরিমাণের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

১১. বৈকল্পিক বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে সাপেক্ষ বচনে দুই বা ততোধিক বিকল্পের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়, তাকে বৈকল্পিক বচন বলে। যেমন— “হয় রাম আসবে, নয় শ্যাম আসবে।”

১২. বৈকল্পিক বচনের গুণ ও পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
উত্তর: বৈকল্পিক বচনের গুণ ও পরিমাণ তার অন্তর্ভুক্ত বিকল্প বচনগুলির গুণ ও পরিমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

১৩. বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে বাক্য সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে, তাকে বচন বলে। যেমন— “কলকাতা ভারতের একটি শহর।”

১৪. যুক্তিবিজ্ঞানে ব্যবহৃত ‘সকল’ ও ‘কোনো কোনো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘সকল’ শব্দ দ্বারা কোনো শ্রেণির সমস্ত সদস্যকে বোঝায়। ‘কোনো কোনো’ শব্দ দ্বারা কোনো শ্রেণির কিছু সদস্যকে বোঝায়।

১৫. বর্জনমূলক বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে বচনে কোনো একটি বা একাধিক সম্ভাবনাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো সম্ভাবনাকে গ্রহণ করা হয়, তাকে বর্জনমূলক বচন বলে।

১৬. সরল বচন ও যৌগিক বচনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ক) সরল বচনে একটি মাত্র বচন থাকে; যৌগিক বচনে দুই বা ততোধিক সরল বচন থাকে।
খ) সরল বচনকে আর সরল বচনে বিশ্লেষণ করা যায় না; যৌগিক বচনকে একাধিক বচনে বিশ্লেষণ করা যায়।

১৭. সম্বন্ধ অনুসারে বচন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: সম্বন্ধ অনুসারে বচন দুই প্রকার—
ক) নিরপেক্ষ বচন
খ) সাপেক্ষ বচন।

১৮. তাৎপর্য অনুসারে বচন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: তাৎপর্য অনুসারে বচন দুই প্রকার—
ক) প্রাকল্পিক বচন
খ) বৈকল্পিক বচন।

১৯. নিরপেক্ষ বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে বচনে একটি বিষয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো বিধেয়কে শর্তহীনভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে নিরপেক্ষ বচন বলে। যেমন— “মানুষ মরণশীল।”

২০. নিরপেক্ষ বচন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: নিরপেক্ষ বচন প্রধানত চার প্রকার—
ক) A — সার্বিক সদর্থক
খ) E — সার্বিক নঞর্থক
গ) I — বিশেষ সদর্থক
ঘ) O — বিশেষ নঞর্থক।

২১. সাপেক্ষ বচন কাকে বলে?
উত্তর: যে বচনে দুই বা ততোধিক বচনের মধ্যে কোনো শর্ত বা পারস্পরিক সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়, তাকে সাপেক্ষ বচন বলে।

২২. সাপেক্ষ বচন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: সাপেক্ষ বচন প্রধানত দুই প্রকার—
ক) প্রাকল্পিক বচন
খ) বৈকল্পিক বচন।

২৩. একটি প্রাকল্পিক ও একটি বৈকল্পিক বচনের উদাহরণ দাও।
উত্তর:
প্রাকল্পিক: “যদি বৃষ্টি হয়, তবে রাস্তা ভিজবে।”
বৈকল্পিক: “হয় রাম আসবে, নয় শ্যাম আসবে।”

২৪. নিরপেক্ষ বচনের অংশগুলি কী কী? উদাহরণসহ দেখাও।
উত্তর: নিরপেক্ষ বচনের প্রধান চারটি অংশ হলো— পরিমাণবাচক, উদ্দেশ্য পদ, সংযোজক ও বিধেয় পদ।
উদাহরণ: “সকল মানুষ মরণশীল।”
এখানে—
পরিমাণবাচক = সকল
উদ্দেশ্য পদ = মানুষ
সংযোজক = হয়
বিধেয় পদ = মরণশীল।

২৫. পরিমাণ অনুসারে বচন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: পরিমাণ অনুসারে বচন দুই প্রকার—
ক) সার্বিক বচন
খ) বিশেষ বচন।

২৬. গুণ অনুসারে বচন কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: গুণ অনুসারে বচন দুই প্রকার—
ক) সদর্থক বচন
খ) নঞর্থক বচন।

২৭. নঞর্থক বচনের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয় কেন?
উত্তর: নঞর্থক বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে অস্বীকৃতির সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়। ফলে বিধেয় পদ যে শ্রেণিকে উদ্দেশ্য থেকে পৃথক করছে, সেই শ্রেণির সমগ্র অংশকে নির্দেশ করে। তাই নঞর্থক বচনের বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয়।

২৮. প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক বচনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
ক) প্রাকল্পিক বচনে শর্ত ও ফলের সম্পর্ক থাকে; বৈকল্পিক বচনে বিকল্পের সম্পর্ক থাকে।
খ) প্রাকল্পিক বচনে সাধারণত ‘যদি—তবে’ ব্যবহৃত হয়; বৈকল্পিক বচনে ‘হয়—নয়’ বা অনুরূপ বিকল্পসূচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

১. গুণ ও পরিমাণ অনুসারে নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিন্যাস কর।

উত্তর: নিরপেক্ষ বচনে কোনো একটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো বিধেয়কে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়। নিরপেক্ষ বচনের শ্রেণীবিন্যাস প্রধানত গুণ (Quality) ও পরিমাণ (Quantity) অনুসারে করা হয়।

গুণ: বচনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে স্বীকার বা অস্বীকার করার ধরনকে বচনের গুণ বলে। গুণ অনুসারে বচন দুই প্রকার— (১) সদর্থক বচন (Affirmative), (২) নঞর্থক বচন (Negative)।

পরিমাণ: বচনে উদ্দেশ্য পদের দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণির কতজন সদস্য সম্পর্কে কিছু বলা হচ্ছে, তাকে বচনের পরিমাণ বলে। পরিমাণ অনুসারে বচন দুই প্রকার— (১) সার্বিক বচন (Universal), (২) বিশেষ বচন (Particular)।

গুণ ও পরিমাণের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ বচন চার প্রকার। যথা—

A — সার্বিক সদর্থক: সকল মানুষ মরণশীল।

E — সার্বিক নঞর্থক: কোনো মানুষ অমর নয়।

I — বিশেষ সদর্থক: কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী।

O — বিশেষ নঞর্থক: কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী নয়।

সুতরাং A = সার্বিক সদর্থক, E = সার্বিক নঞর্থক, I = বিশেষ সদর্থক এবং O = বিশেষ নঞর্থক।

২. ব্যাপ্যতা কাকে বলে? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: কোনো বচনে একটি পদ তার দ্বারা নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণি বা শ্রেণির সকল সদস্যকে বোঝালে সেই পদকে ব্যাপ্য পদ এবং এই ধর্মকে পদের ব্যাপ্যতা (Distribution) বলে।

উদাহরণ: “সকল মানুষ মরণশীল।” এখানে ‘মানুষ’ বলতে সকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে। তাই ‘মানুষ’ উদ্দেশ্য পদটি ব্যাপ্য। কিন্তু ‘মরণশীল’ বলতে সমস্ত মরণশীল প্রাণীকে বোঝানো হয়নি। তাই ‘মরণশীল’ বিধেয় পদটি অব্যাপ্য।

ব্যাপ্যতার নিয়মগুলি হল—

A বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ অব্যাপ্য।

E বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য।

I বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য।

O বচনে উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ ব্যাপ্য।

৩. বচন কাকে বলে? বচনের কয়টি অঙ্গ ও কী কী? A, E, I, O বচনের একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে বাক্য সত্য অথবা মিথ্যা হতে পারে, তাকে বচন (Proposition) বলে। যেমন— “কলকাতা ভারতের একটি শহর।”

বচনের প্রধান চারটি অঙ্গ হল— (১) পরিমাণবাচক, (২) উদ্দেশ্য পদ, (৩) সংযোজক এবং (৪) বিধেয় পদ।

উদাহরণ: “সকল মানুষ মরণশীল।”

এখানে ‘সকল’ = পরিমাণবাচক, ‘মানুষ’ = উদ্দেশ্য পদ, ‘হয়’ = সংযোজক এবং ‘মরণশীল’ = বিধেয় পদ।

A বচন — সার্বিক সদর্থক: “সকল মানুষ মরণশীল।”

E বচন — সার্বিক নঞর্থক: “কোনো মানুষ অমর নয়।”

I বচন — বিশেষ সদর্থক: “কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী।”

O বচন — বিশেষ নঞর্থক: “কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী নয়।”

৪. বচনের গুণ ও পরিমাণ বলতে কী বোঝো? গুণ ও পরিমাণের ভিত্তিতে চতুর্বর্গীয় পরিকল্পনা আলোচনা কর।

উত্তর: বচনের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে স্বীকার বা অস্বীকার করার ধরনকে বচনের গুণ বলে। আর উদ্দেশ্য পদের দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণির সকল সদস্য না কিছু সদস্য সম্পর্কে বলা হচ্ছে, তা দ্বারা বচনের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

গুণ অনুসারে বচন দুই প্রকার— (১) সদর্থক, (২) নঞর্থক।

পরিমাণ অনুসারে বচন দুই প্রকার— (১) সার্বিক, (২) বিশেষ।

গুণ ও পরিমাণের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ বচন চার প্রকার। এগুলি হল—

A — সার্বিক সদর্থক: “সকল মানুষ মরণশীল।”

E — সার্বিক নঞর্থক: “কোনো মানুষ অমর নয়।”

I — বিশেষ সদর্থক: “কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী।”

O — বিশেষ নঞর্থক: “কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী নয়।”

সুতরাং A ও E হল সার্বিক বচন এবং I ও O হল বিশেষ বচন। আবার A ও I হল সদর্থক বচন এবং E ও O হল নঞর্থক বচন।

৫. নিরপেক্ষ ও সাপেক্ষ বচনের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তর: নিরপেক্ষ ও সাপেক্ষ বচনের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল—

(১) নিরপেক্ষ বচনে একটি মাত্র উক্তি বা বক্তব্য থাকে। সাপেক্ষ বচনে দুই বা ততোধিক উক্তির মধ্যে সম্পর্ক থাকে।

(২) নিরপেক্ষ বচনের সত্যতা কোনো শর্তের উপর নির্ভর করে না। সাপেক্ষ বচনে একটি বক্তব্য অন্য বক্তব্য বা শর্তের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে।

(৩) নিরপেক্ষ বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রকাশিত হয়। সাপেক্ষ বচনে পূর্বগ ও অনুগ অথবা বিকল্প অংশের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশিত হয়।

(৪) নিরপেক্ষ বচনের উদাহরণ— “সকল মানুষ মরণশীল।”

সাপেক্ষ বচনের উদাহরণ— “যদি বৃষ্টি হয়, তবে রাস্তা ভিজবে।”

(৫) নিরপেক্ষ বচন A, E, I, O—এই চারটি রূপে প্রকাশিত হয়। সাপেক্ষ বচন প্রধানত প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক।

৬. পদের ব্যাপ্যতা কাকে বলে? ব্যাপ্যতার নিয়মগুলি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: বচনে কোনো পদ তার দ্বারা নির্দেশিত সমগ্র শ্রেণি বা শ্রেণির সকল সদস্যকে বোঝালে সেই পদকে ব্যাপ্য পদ এবং তার এই ধর্মকে পদের ব্যাপ্যতা বলে।

ব্যাপ্যতার নিয়মগুলি হল—

(১) A বচনে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ অব্যাপ্য।

উদাহরণ: “সকল মানুষ মরণশীল।” এখানে ‘মানুষ’ ব্যাপ্য এবং ‘মরণশীল’ অব্যাপ্য।

(২) E বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য।

উদাহরণ: “কোনো মানুষ অমর নয়।” এখানে ‘মানুষ’ এবং ‘অমর’ উভয়ই ব্যাপ্য।

(৩) I বচনে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য।

উদাহরণ: “কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী।” এখানে ‘মানুষ’ এবং ‘জ্ঞানী’ উভয়ই অব্যাপ্য।

(৪) O বচনে উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ ব্যাপ্য।

উদাহরণ: “কোনো কোনো মানুষ জ্ঞানী নয়।” এখানে ‘মানুষ’ অব্যাপ্য এবং ‘জ্ঞানী’ ব্যাপ্য।

সংক্ষেপে— A = উদ্দেশ্য ব্যাপ্য, বিধেয় অব্যাপ্য; E = উদ্দেশ্য ব্যাপ্য, বিধেয় ব্যাপ্য; I = উদ্দেশ্য অব্যাপ্য, বিধেয় অব্যাপ্য; O = উদ্দেশ্য অব্যাপ্য, বিধেয় ব্যাপ্য।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *