গুণ

বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | 24 টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা

বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ

বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | ২৪টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা : – ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের গুণ (Guṇa) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষোপযোগী আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থের মধ্যে গুণ দ্বিতীয় পদার্থ হিসেবে স্বীকৃত। বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্যতত্ত্ব, পদার্থতত্ত্ব এবং জ্ঞানতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে বৈশেষিক মতে গুণ কী, গুণের লক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রকার গুণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে বৈশেষিক দর্শনে বর্ণিত ২৪টি গুণ ভারতীয় দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় এবং বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। বৈশেষিক দর্শনের গুণ

এই বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম এবং NET, SET, PSC, School Service, College Service সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই বৈশেষিক মতে গুণের সংজ্ঞা, গুণের লক্ষণ, ২৪টি গুণের নাম, গুণের শ্রেণিবিভাগ, বিভিন্ন গুণের উদাহরণ এবং গুণ ও দ্রব্যের পার্থক্য থেকে প্রশ্ন করা হয়। তাই বৈশেষিক দর্শনের গুণ সম্পর্কিত ধারণা প্রত্যেক দর্শনের শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য।

বৈশেষিক দর্শন এর মতে, গুণ এমন একটি পদার্থ যা নিজে কোনো ক্রিয়া সম্পাদন করতে পারে না, কিন্তু সর্বদা কোনো না কোনো দ্রব্যে আশ্রয় করে অবস্থান করে এবং সেই দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। অর্থাৎ গুণ কখনও স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না; এটি সর্বদা দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল। যেমন—রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, সংখ্যা, পরিমাণ, পৃথকত্ব, সংযোগ, বিভাগ, বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, চেষ্টা ইত্যাদি গুণের মাধ্যমে কোনো দ্রব্যকে চিহ্নিত ও জানা যায়। বৈশেষিক মতে এই সকল গুণের মোট সংখ্যা ২৪টি, যা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

এই প্রবন্ধে বৈশেষিক মতে গুণের সংজ্ঞা, লক্ষণ, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য এবং ২৪টি গুণের বিস্তারিত আলোচনা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি গুণের অর্থ, সংজ্ঞা, উদাহরণ, ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুণ কীভাবে দ্রব্যে অবস্থান করে, কেন গুণকে স্বাধীন পদার্থ বলা যায় না এবং বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বে গুণের স্থান কী—সেসব বিষয়ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই আলোচনায় আরও দেখানো হয়েছে যে, বৈশেষিক দার্শনিকগণ কেন ২৪টি গুণ স্বীকার করেছেন এবং এই গুণগুলির মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা যায়। এছাড়াও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অনিন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ, ভৌত ও মানসিক গুণের ধারণা, গুণ ও কর্মের পার্থক্য, গুণ ও দ্রব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বৈশেষিক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বে গুণের ভূমিকা সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এছাড়াও এই লেখায় বৈশেষিক দর্শনে গুণের দার্শনিক গুরুত্ব, ভারতীয় পদার্থতত্ত্বে গুণের অবদান, বিভিন্ন গুণের উদাহরণ, পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সহজে মনে রাখার কৌশল আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই বৈশেষিক মতে ২৪টি গুণ সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা যায়।

আপনি যদি বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ, বৈশেষিক দর্শনের ২৪টি গুণ, গুণের সংজ্ঞা, গুণের লক্ষণ, গুণ ও দ্রব্যের পার্থক্য, Vaisheshika Philosophy, Vaisheshika Gunas, Indian Philosophy, Indian Metaphysics অথবা ভারতীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।

এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, বড় প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষাভিত্তিক নোট, সংক্ষিপ্ত সাজেশন এবং সহজে মনে রাখার বিশেষ টিপস দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাকে বিশেষভাবে সাহায্য করবে।

24 টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের ২৪টি গুণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে “বৈশেষিক মতে গুণ কী এবং 24 টি গুণ কী কী” সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী গুণের সংজ্ঞা, গুণের লক্ষণ, দ্রব্যের সঙ্গে গুণের সম্পর্ক এবং 24 টি গুণের নাম ও উদাহরণ বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। অথচ XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈশেষিক দর্শনের গুণ সম্পর্কিত বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে 24 টি গুণ সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বৈশেষিক দর্শনে গুণ হলো সাতটি পদার্থের মধ্যে দ্বিতীয় পদার্থ। বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, গুণ নিজে কোনো ক্রিয়া সম্পাদন করতে পারে না এবং এটি স্বাধীনভাবে অবস্থান করে না; বরং সর্বদা কোনো না কোনো দ্রব্যে আশ্রিত হয়ে থাকে। কোনো দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে গুণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, সংখ্যা, পরিমাণ, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, বুদ্ধি প্রভৃতি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে বৈশেষিক দর্শনে গুণ বলা হয়েছে।

বৈশেষিক মতে গুণের সংখ্যা মোট 24 টি। এই 24 টি গুণ হলো—রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, সংখ্যা, পরিমাণ, পৃথকত্ব, সংযোগ, বিভাগ, পরত্ব, অপরত্ব, বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, প্রয়ত্ন, গুরুত্ত্ব, দ্রবত্ব, স্নেহ, সংস্কার, ধর্ম, অধর্ম এবং শব্দ। এই গুণগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা সম্ভব হয়।

বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | 24 টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা

এই আলোচনায় বৈশেষিক মতে গুণের সংজ্ঞা, লক্ষণ, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য এবং 24 টি গুণের নাম, অর্থ ও উদাহরণসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি গুণ কীভাবে কোনো দ্রব্যে অবস্থান করে, কোন ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপলব্ধ হয় এবং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ কী—সেগুলি সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বৈশেষিক দর্শনের গুণতত্ত্ব খুব সহজেই বুঝতে পারবে।

রূপ, রস, গন্ধ ও স্পর্শের মতো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ থেকে শুরু করে বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ ও প্রয়ত্নের মতো মানসিক গুণ পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন—ফুলের লাল রং রূপ গুণ, চিনির মিষ্টতা রস গুণ, ফুলের সুগন্ধ গন্ধ গুণ এবং বাতাসের শীতলতা স্পর্শ গুণের উদাহরণ। আবার জ্ঞান, আনন্দ, দুঃখ, আকাঙ্ক্ষা ও চেষ্টা মানুষের মানসিক গুণের উদাহরণ।

বৈশেষিক দর্শনে গুণের গুরুত্ব বোঝার জন্য দ্রব্য ও গুণের সম্পর্ক জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। দ্রব্য হলো গুণের আশ্রয় এবং গুণ হলো দ্রব্যের বিশেষত্ব প্রকাশকারী ধর্ম। যেমন—ফুল একটি দ্রব্য এবং তার সৌন্দর্য, গন্ধ ও রং হলো গুণ। গুণ ছাড়া দ্রব্যকে সম্পূর্ণভাবে জানা সম্ভব নয়। তাই বৈশেষিক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বে গুণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও এই লেখায় বৈশেষিক মতে গুণ ও কর্মের পার্থক্য, গুণের শ্রেণিবিভাগ, বিভিন্ন গুণের বৈশিষ্ট্য, ভারতীয় পদার্থতত্ত্বে গুণের গুরুত্ব এবং পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সহজ ও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বৈশেষিক দর্শনের ২৪টি গুণ সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা যায়।

অতএব বলা যায়, বৈশেষিক দর্শনের ২৪টি গুণ ভারতীয় দর্শনের পদার্থতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গুণের ধারণার মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন কীভাবে জগতের বিভিন্ন বস্তু ও তাদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেছে, তার একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাই XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বৈশেষিক মতে 24 টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ আলোচনা কর

উত্তর:- বৈশেষিক সূত্রের প্রণেতা মহর্ষি কণাদ তাঁর “বৈশেষিক সূত্রে” যে মোট ছয়টি পদার্থের উল্লেখ করেছেন তা হলো— দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় (পরবর্তীকালে অভাবকে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়)। তার মধ্যে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো— বৈশেষিক মতে গুণ। গুণ হলো দ্রব্যে আশ্রিত একটি ভাব পদার্থ।

বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বে গুণের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, জগতের সমস্ত বস্তু বা দ্রব্যকে সঠিকভাবে জানতে হলে তার গুণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কারণ কোনো দ্রব্যকে আমরা তার গুণের মাধ্যমেই চিনতে পারি। যেমন— একটি ফুলকে আমরা তার রং, গন্ধ ও আকৃতির মাধ্যমে জানতে পারি। তাই দ্রব্যের পরিচয় প্রকাশে গুণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

বৈশেষিক সূত্রে গুণের লক্ষণ প্রসঙ্গে কণাদ বলেছেন— “যা দ্রব্য আশ্রিত, নির্গুণ এবং সংযোগ ও বিভাগের নিরপেক্ষ কারণ নয়, তাই হলো গুণ।” অর্থাৎ যা দ্রব্যে অবস্থিত, নির্গুণ এবং সংযোগ ও বিভাগের নিরপেক্ষ কারণ নয় তা হলো গুণ।

অর্থাৎ গুণ কখনো স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না। এটি সর্বদা কোনো না কোনো দ্রব্যের উপর নির্ভর করে থাকে। যেমন— লাল রং নিজে আলাদা কোনো অস্তিত্ব রাখে না, এটি কোনো ফুল, কাপড় বা অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে অবস্থান করে। তাই রং হলো গুণ এবং ফুল বা কাপড় হলো দ্রব্য।

গুণ সম্পর্কে কণাদের উপরোক্ত লক্ষণটিকে পরবর্তী বৈশেষিক দার্শনিকগণ “গৌরব দোষে দুষ্ট” বলেছেন। তাঁদের মতে গুণের লঘু লক্ষণটি হলো— “যাতে গুণত্ব জাতি থাকে তাই গুণ।” কণাদ ১৭টি গুণের উল্লেখ করলেও পরবর্তীকালে প্রশস্তপাদ আরও সাতটি গুণের উল্লেখ করে মোট ২৪টি গুণের উল্লেখ করেছেন। যথা—

(১) রূপ, (২) রস, (৩) গন্ধ, (৪) স্পর্শ, (৫) শব্দ, (৬) সংখ্যা, (৭) পরিমাণ, (৮) পৃথকত্ব, (৯) সংযোগ, (১০) বিভাগ, (১১) পরত্ব, (১২) অপরত্ব, (১৩) বুদ্ধি, (১৪) সুখ, (১৫) দুঃখ, (১৬) ইচ্ছা, (১৭) দ্বেষ, (১৮) প্রযত্ন, (১৯) ধর্ম, (২০) অধর্ম, (২১) সংস্কার, (২২) দ্রবত্ব, (২৩) গুরুত্ব, (২৪) স্নেহ।

বৈশেষিক মতে এই ২৪টি গুণকে প্রধানত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ, মানসিক গুণ এবং বিশেষ ধর্মজাতীয় গুণ হিসেবে আলোচনা করা যায়। এই গুণগুলির মাধ্যমে জড় ও চেতন উভয় ধরনের দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।

রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ ও শব্দ : এই গুণগুলি যথাক্রমে তেজ, জল, পৃথিবী, বায়ু ও আকাশ— এই পঞ্চভূতের বিশেষ গুণ। বিশেষ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা বিশেষ গুণের প্রত্যক্ষ হয়। চক্ষুর দ্বারা রূপ, জিহ্বার দ্বারা রস, নাসিকার দ্বারা গন্ধ, ত্বকের দ্বারা স্পর্শ এবং কর্ণের দ্বারা শব্দ প্রত্যক্ষ হয়।

এই পাঁচটি গুণকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ বলা হয়, কারণ এগুলি সরাসরি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধ হয়। যেমন— লাল ফুলের রূপ, আমের মিষ্টি রস, চন্দনের গন্ধ, বাতাসের স্পর্শ এবং ঘণ্টার শব্দ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে জানা যায়।

সংখ্যা : এক, দুই, তিন প্রভৃতি সংখ্যা হলো দ্রব্যের একটি গুণ, যার দ্বারা আমরা গণনা করি। সংখ্যা একটি সামান্য গুণ, কেননা সব দ্রব্যেই থাকে। সংখ্যা গুণটি বিশেষ কোনো দ্রব্যের বিশিষ্ট গুণ নয়, বরং সব দ্রব্যের সাধারণ গুণ।

সংখ্যার মাধ্যমে আমরা কোনো বস্তুর পরিমাণগত পার্থক্য বুঝতে পারি। যেমন— একটি বই, দুটি বই, তিনটি বই ইত্যাদি। তাই জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

পরিমাণ : যে গুণের জন্য দ্রব্য ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ তা নির্ণয় করা হয়, তাকে পরিমাণ বলে। পরিমাণ বা আয়তন একটি সামান্য গুণ, যা দ্রব্যেই থাকে। পরিমাণ চতুর্বিধ— অণুপরিমাণ, মহৎপরিমাণ, হ্রস্বপরিমাণ ও দীর্ঘপরিমাণ।

পরিমাণের মাধ্যমে কোনো বস্তুর আকার ও বিস্তার বোঝা যায়। যেমন— পরমাণুর অণুপরিমাণ এবং পাহাড়ের বৃহৎ পরিমাণ।

পৃথকত্ব : যে গুণের জন্য একটি দ্রব্যকে অন্য দ্রব্য থেকে পৃথক করা যায় তাকে পৃথকত্ব বলে। ঘট ও পটের ভিন্নতার মূল কারণ হলো তাদের পৃথকত্ব গুণ। পৃথকত্ব গুণের জন্যই আমরা ঘটকে পট থেকে এবং পটকে ঘট থেকে ভিন্ন বলে বুঝতে পারি।

পৃথকত্ব না থাকলে বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হতো না। তাই জ্ঞানতত্ত্বে পৃথকত্ব গুণের গুরুত্ব অপরিসীম।

সংযোগ : অসম্বন্ধ দুটি দ্রব্যের মিলনকে সংযোগ বলে। সংযোগ একটি সামান্য গুণ, কারণ সব দ্রব্যেই থাকতে পারে। তবে সামান্য হলেও গুণটি অনিত্য, কারণ সংযোগের উৎপত্তি ও বিনাশ আছে। বৃক্ষের সঙ্গে বানরের সংযোগ অনিত্য।

সংযোগ একটি পরিবর্তনশীল গুণ। দুটি বস্তুর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হলে সংযোগ হয় এবং সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হলে সংযোগ নষ্ট হয়।

বিভাগ : সংযোগ নাশক গুণ হচ্ছে বিভাগ। বিভাগ সংযোগের বিপরীত গুণ। সংযোগের ন্যায় বিভাগ গুণটিও সামান্য ও অনিত্য।

যখন দুটি সংযুক্ত বস্তুর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে তখন বিভাগের সৃষ্টি হয়। যেমন— টেবিলের উপর রাখা বই সরিয়ে নিলে বই ও টেবিলের পূর্ববর্তী সংযোগের বিভাগ ঘটে।

পরত্ব ও অপরত্ব : এটি দ্রব্যের সামান্য গুণ, যেহেতু তারা সব দ্রব্যেই থাকে। গুণ দুটি দৈশিক হতে পারে আবার কালীন হতে পারে। পরত্ব গুণের দ্বারা দূরত্বের বোধ হয়, আর অপরত্ব গুণের দ্বারা নিকটত্বের বোধ জন্মায়।

পরত্ব ও অপরত্বের মাধ্যমে কোনো বস্তুর অবস্থানগত বা সময়গত দূরত্ব বোঝা যায়। যেমন— কলকাতা থেকে দিল্লি দূরে হওয়ায় সেখানে পরত্বের ধারণা হয়।

বুদ্ধি : ‘বুদ্ধি’ বলতে ‘জ্ঞান’কে বোঝায়। বুদ্ধি বা জ্ঞান আত্মা নামক দ্রব্যের গুণ। বুদ্ধি বা জ্ঞান নিত্য হতে পারে আবার অনিত্য হতে পারে। পরমাত্মার জ্ঞান নিত্য, জীবাত্মার জ্ঞান অনিত্য।

বুদ্ধির মাধ্যমে মানুষ কোনো বিষয়কে জানতে, বিচার করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই এটি আত্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, প্রযত্ন, ধর্ম ও অধর্ম : এসব জীবাত্মা নামক দ্রব্যের আকস্মিক গুণ। দেহসংলগ্ন আত্মাতেই এসব গুণের আবির্ভাব হয়। সুখ-দুঃখ হচ্ছে অন্তর্বেদনা; ইচ্ছা হলো ফলকামনা; দ্বেষ হলো দুঃখের কারণে বিরক্তি; প্রযত্ন হলো প্রচেষ্টা। ধর্ম ও অধর্ম বলতে পুণ্য ও পাপকে বোঝায়।

এই গুণগুলি মানুষের নৈতিক ও মানসিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষের আচরণ, চিন্তা ও কর্মের সঙ্গে এই গুণগুলির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সংস্কার : সংস্কার হচ্ছে প্রবণতা। সংস্কার ত্রিবিধ— বেগ, ভাবনা ও স্থিতিস্থাপকতা। যার জন্য বস্তু গতিশীল হয় তাকে বেগ বলে এবং যার জন্য স্মৃতি ও প্রত্যভিজ্ঞা সম্ভব হয় তাকে ভাবনা বলে।

সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও পূর্ব অবস্থা বর্তমান আচরণকে প্রভাবিত করে।

দ্রবত্ব : ক্ষিতি, জল ও তেজে দ্রবত্ব গুণ থাকে। দ্রবত্ব অর্থ ‘তরলতা’। জলে যেমন তরলতা থাকে, তেমনি পৃথিবী ও তেজেও থাকে।

দ্রবত্বের কারণে কোনো পদার্থ তরল অবস্থায় থাকতে পারে বা তরল রূপ গ্রহণ করতে পারে।

গুরুত্ব : গুরুত্ব হচ্ছে ভার বা ওজন। গুরুত্ব গুণটি বস্তুর পতনের কারণ। এই গুণটি কেবল পৃথিবী ও জলে থাকে।

গুরুত্বের কারণে বস্তু পৃথিবীর দিকে আকৃষ্ট হয়। আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যাকর্ষণ ধারণার সঙ্গে এর কিছুটা সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

স্নেহ : যে গুণের জন্য চূর্ণ বস্তুসমূহ সংযুক্ত হয়ে থাকে তাকে স্নেহ বলে। এই গুণটি কেবল জলেই থাকে।

স্নেহের কারণে জলীয় পদার্থে সংযুক্তির বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তেলজাতীয় পদার্থে যে স্নেহ দেখা যায় তা জলের উপস্থিতির কারণে বলে বৈশেষিকরা মনে করেন।

বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | 24 টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা

পরিশেষে বলা যায়, বৈশেষিক দর্শনের ২৪টি গুণ ভারতীয় পদার্থতত্ত্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ, জ্ঞান লাভ এবং জগতের বিভিন্ন বস্তুর বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুণের ভূমিকা অপরিসীম। বৈশেষিক দার্শনিকগণ গুণের যে বিশদ আলোচনা করেছেন, তা ভারতীয় দর্শনের যুক্তিবিদ্যা ও তত্ত্ববিদ্যাকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

MCQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | ২৪টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা

১. বৈশেষিক দর্শনে গুণ কোন পদার্থ হিসেবে স্বীকৃত?
ক) প্রথম পদার্থ
খ) দ্বিতীয় পদার্থ
গ) তৃতীয় পদার্থ
ঘ) সপ্তম পদার্থ
উত্তর: খ) দ্বিতীয় পদার্থ

২. বৈশেষিক সূত্রের প্রণেতা কে?
ক) গৌতম
খ) কপিল
গ) মহর্ষি কণাদ
ঘ) পতঞ্জলি
উত্তর: গ) মহর্ষি কণাদ

৩. বৈশেষিক মতে গুণ কী?
ক) স্বাধীন পদার্থ
খ) দ্রব্যে আশ্রিত ভাব পদার্থ
গ) কর্মের প্রকার
ঘ) সামান্য পদার্থ
উত্তর: খ) দ্রব্যে আশ্রিত ভাব পদার্থ

৪. কণাদ বৈশেষিক সূত্রে কয়টি গুণের উল্লেখ করেছেন?
ক) ১০টি
খ) ১৭টি
গ) ২৪টি
ঘ) ৩০টি
উত্তর: খ) ১৭টি

৫. পরবর্তীকালে প্রশস্তপাদ মোট কয়টি গুণের উল্লেখ করেন?
ক) ১৭টি
খ) ২০টি
গ) ২৪টি
ঘ) ২৮টি
উত্তর: গ) ২৪টি

৬. গুণের লঘু লক্ষণ কী?
ক) যা দ্রব্যে থাকে
খ) যাতে গুণত্ব জাতি থাকে তাই গুণ
গ) যা কর্ম সৃষ্টি করে
ঘ) যা নিত্য
উত্তর: খ) যাতে গুণত্ব জাতি থাকে তাই গুণ

৭. রূপ কোন ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ হয়?
ক) কর্ণ
খ) নাসিকা
গ) চক্ষু
ঘ) ত্বক
উত্তর: গ) চক্ষু

৮. শব্দ কোন পঞ্চভূতের বিশেষ গুণ?
ক) পৃথিবী
খ) জল
গ) আকাশ
ঘ) বায়ু
উত্তর: গ) আকাশ

৯. রস কোন ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ হয়?
ক) জিহ্বা
খ) চোখ
গ) নাক
ঘ) ত্বক
উত্তর: ক) জিহ্বা

১০. সংখ্যা কোন ধরনের গুণ?
ক) বিশেষ গুণ
খ) সামান্য গুণ
গ) কর্ম গুণ
ঘ) নিত্য গুণ
উত্তর: খ) সামান্য গুণ

১১. পরিমাণ কয় প্রকার?
ক) দুই প্রকার
খ) তিন প্রকার
গ) চার প্রকার
ঘ) পাঁচ প্রকার
উত্তর: গ) চার প্রকার

১২. ঘট ও পটের ভিন্নতার মূল কারণ কোন গুণ?
ক) সংখ্যা
খ) পৃথকত্ব
গ) সংযোগ
ঘ) বিভাগ
উত্তর: খ) পৃথকত্ব

১৩. দুটি দ্রব্যের মিলনকে কী বলা হয়?
ক) বিভাগ
খ) পৃথকত্ব
গ) সংযোগ
ঘ) পরত্ব
উত্তর: গ) সংযোগ

১৪. সংযোগের বিপরীত গুণ কোনটি?
ক) বিভাগ
খ) সংখ্যা
গ) পরিমাণ
ঘ) রূপ
উত্তর: ক) বিভাগ

১৫. পরত্ব গুণের দ্বারা কীসের বোধ হয়?
ক) নিকটত্ব
খ) দূরত্ব
গ) সংখ্যা
ঘ) আকার
উত্তর: খ) দূরত্ব

১৬. বুদ্ধি বা জ্ঞান কোন দ্রব্যের গুণ?
ক) পৃথিবী
খ) জল
গ) আত্মা
ঘ) আকাশ
উত্তর: গ) আত্মা

১৭. সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা ও দ্বেষ কোন দ্রব্যের গুণ?
ক) জড় দ্রব্য
খ) জীবাত্মা
গ) আকাশ
ঘ) বায়ু
উত্তর: খ) জীবাত্মা

১৮. সংস্কার কয় প্রকার?
ক) দুই প্রকার
খ) তিন প্রকার
গ) চার প্রকার
ঘ) পাঁচ প্রকার
উত্তর: খ) তিন প্রকার

১৯. গুরুত্ব গুণটি কোন কোন দ্রব্যে থাকে?
ক) পৃথিবী ও জল
খ) জল ও বায়ু
গ) তেজ ও আকাশ
ঘ) বায়ু ও পৃথিবী
উত্তর: ক) পৃথিবী ও জল

২০. স্নেহ গুণটি কোন দ্রব্যে থাকে?
ক) পৃথিবী
খ) জল
গ) বায়ু
ঘ) তেজ
উত্তর: খ) জল

SAQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | ২৪টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা

১. বৈশেষিক দর্শনে গুণের স্থান ও গুরুত্ব আলোচনা কর।
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনে গুণ হলো দ্রব্যে আশ্রিত একটি ভাব পদার্থ। গুণ নিজে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না, এটি সর্বদা কোনো না কোনো দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল। কোনো দ্রব্যকে সঠিকভাবে জানতে হলে তার গুণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। যেমন— ফুলকে তার রং, গন্ধ ও আকৃতির মাধ্যমে জানা যায়।

২. মহর্ষি কণাদের মতে গুণের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মহর্ষি কণাদের মতে, যা দ্রব্যে আশ্রিত, নির্গুণ এবং সংযোগ ও বিভাগের নিরপেক্ষ কারণ নয়, তাই হলো গুণ। অর্থাৎ গুণ দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং নিজে কোনো স্বাধীন কার্য সম্পাদন করে না।

৩. কণাদ ও পরবর্তী বৈশেষিক দার্শনিকদের গুণ সম্পর্কিত মতের পার্থক্য লেখ।
উত্তর: কণাদ গুণের লক্ষণ হিসেবে বলেছেন— যা দ্রব্যে আশ্রিত, নির্গুণ এবং সংযোগ ও বিভাগের নিরপেক্ষ কারণ নয়, তাই গুণ। কিন্তু পরবর্তী বৈশেষিক দার্শনিকরা এই লক্ষণকে গৌরব দোষে দুষ্ট বলেছেন এবং সহজ লক্ষণ হিসেবে বলেছেন— যাতে গুণত্ব জাতি থাকে তাই গুণ।

৪. বৈশেষিক মতে ২৪টি গুণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে আলোচনা কর।
উত্তর: বৈশেষিক সূত্রের প্রণেতা কণাদ প্রথমে ১৭টি গুণের উল্লেখ করেন। পরবর্তীকালে প্রশস্তপাদ আরও সাতটি গুণ যোগ করেন। ফলে বৈশেষিক দর্শনে মোট ২৪টি গুণ স্বীকৃত হয়। এই গুণগুলি দ্রব্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।

৫. বৈশেষিক মতে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণগুলির পরিচয় দাও।
উত্তর: রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ ও শব্দ হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ। এগুলি যথাক্রমে চক্ষু, জিহ্বা, নাসিকা, ত্বক ও কর্ণের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যায়। এই গুণগুলি পঞ্চভূতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

৬. রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ ও শব্দের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
উত্তর: রূপ তেজের গুণ এবং চোখের দ্বারা প্রত্যক্ষ হয়। রস জলের গুণ এবং জিহ্বার দ্বারা অনুভূত হয়। গন্ধ পৃথিবীর গুণ এবং নাসিকার দ্বারা জানা যায়। স্পর্শ বায়ুর গুণ এবং ত্বকের দ্বারা অনুভূত হয়। শব্দ আকাশের গুণ এবং কর্ণের দ্বারা প্রত্যক্ষ হয়।

৭. বৈশেষিক মতে সংখ্যাকে গুণ বলা হয় কেন?
উত্তর: সংখ্যা দ্রব্যের একটি গুণ, কারণ এর সাহায্যে আমরা কোনো বস্তুর গণনা করতে পারি। এক, দুই, তিন ইত্যাদি সংখ্যার মাধ্যমে দ্রব্যের পরিমাণগত পার্থক্য বোঝা যায়। তাই বৈশেষিকরা সংখ্যাকে গুণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

৮. পরিমাণ গুণের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ লেখ।
উত্তর: যে গুণের দ্বারা কোনো দ্রব্যের ক্ষুদ্রতা বা বৃহত্ত্ব নির্ণয় করা হয় তাকে পরিমাণ বলে। বৈশেষিক মতে পরিমাণ চার প্রকার— অণুপরিমাণ, মহৎপরিমাণ, হ্রস্বপরিমাণ ও দীর্ঘপরিমাণ।

৯. পৃথকত্ব গুণের দার্শনিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পৃথকত্ব হলো সেই গুণ যার মাধ্যমে একটি দ্রব্যকে অন্য দ্রব্য থেকে আলাদা করে বোঝা যায়। যেমন— ঘট ও পটের ভিন্নতার কারণ হলো তাদের পৃথকত্ব। এই গুণ না থাকলে বস্তুর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হতো না।

১০. সংযোগ গুণ বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর: দুটি অসম্বন্ধ দ্রব্যের মিলনকে সংযোগ বলে। এটি একটি অনিত্য গুণ, কারণ সংযোগের উৎপত্তি ও বিনাশ হয়। যেমন— গাছের ডালে বসা বানরের সঙ্গে গাছের সংযোগ সৃষ্টি হয় এবং পরে বিচ্ছিন্ন হলে তা নষ্ট হয়।

১১. বিভাগ গুণের প্রকৃতি আলোচনা কর।
উত্তর: বিভাগ হলো সংযোগের বিপরীত গুণ। দুটি সংযুক্ত বস্তুর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে বিভাগের সৃষ্টি হয়। বিভাগ সংযোগের নাশ করে এবং এটি একটি অনিত্য গুণ।

১২. পরত্ব ও অপরত্ব গুণের অর্থ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পরত্বের মাধ্যমে দূরত্বের জ্ঞান হয় এবং অপরত্বের মাধ্যমে নিকটত্বের জ্ঞান হয়। এই দুটি গুণ দ্রব্যের অবস্থানগত বা কালগত পার্থক্য প্রকাশ করে।

১৩. বৈশেষিক মতে বুদ্ধি গুণের স্বরূপ আলোচনা কর।
উত্তর: বৈশেষিক মতে বুদ্ধি বলতে জ্ঞানকে বোঝায়। বুদ্ধি আত্মার গুণ। জীবাত্মার জ্ঞান অনিত্য হলেও পরমাত্মার জ্ঞান নিত্য বলে বিবেচিত হয়।

১৪. সুখ ও দুঃখকে বৈশেষিক দর্শনে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
উত্তর: সুখ ও দুঃখ জীবাত্মার আকস্মিক গুণ। সুখ হলো আনন্দের অনুভূতি এবং দুঃখ হলো কষ্টের অনুভূতি। এগুলি মানুষের মানসিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

১৫. ইচ্ছা ও দ্বেষ গুণের পরিচয় দাও।
উত্তর: ইচ্ছা হলো কোনো বস্তু লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং দ্বেষ হলো দুঃখের কারণের প্রতি বিরক্তি বা অনাগ্রহ। এই দুটি গুণ জীবাত্মার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

১৬. প্রযত্ন গুণ কী? এর প্রকারভেদ লেখ।
উত্তর: প্রযত্ন বলতে প্রচেষ্টা বা চেষ্টা বোঝায়। বৈশেষিক মতে প্রযত্ন তিন প্রকার— প্রবৃত্তি, নিবৃত্তি এবং জীবনযোনি বা জৈবক্রিয়া।

১৭. সংস্কার গুণের ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সংস্কার হলো পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে সৃষ্ট প্রবণতা। এটি তিন প্রকার— বেগ, ভাবনা ও স্থিতিস্থাপকতা। সংস্কারের কারণে স্মৃতি, গতি ইত্যাদি সম্ভব হয়।

১৮. দ্রবত্ব গুণের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
উত্তর: দ্রবত্ব অর্থ তরলতা। বৈশেষিক মতে ক্ষিতি, জল ও তেজে দ্রবত্ব গুণ থাকে। এই গুণের কারণে কোনো পদার্থ তরল রূপ ধারণ করতে পারে।

১৯. গুরুত্ব গুণের স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গুরুত্ব হলো ভার বা ওজন। এটি বস্তুর পতনের কারণ। বৈশেষিক মতে গুরুত্ব প্রধানত পৃথিবী ও জলে অবস্থান করে।

২০. স্নেহ গুণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে গুণের কারণে চূর্ণ বস্তুসমূহ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাকে স্নেহ বলে। বৈশেষিক মতে স্নেহ গুণ প্রধানত জলে অবস্থান করে।**

সহযোগী কিছু পাঠ্য বই

১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা

২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের বিভিন্ন প্রকার গুণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে গুণের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ এবং ২৪টি গুণের প্রকৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী বৈশেষিক মতে গুণ কী, গুণ ও দ্রব্যের সম্পর্ক, কণাদ ও প্রশস্তপাদের গুণ সম্পর্কিত মত, ২৪টি গুণের নাম এবং প্রতিটি গুণের উদাহরণ বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সেই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)**-এ “বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | ২৪টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানে বৈশেষিক দর্শনে পদার্থের ধারণা, গুণের সংজ্ঞা, গুণের লক্ষণ, দ্রব্যে গুণের অবস্থান, কণাদের ১৭টি গুণ এবং প্রশস্তপাদ কর্তৃক সংযোজিত অতিরিক্ত ৭টি গুণসহ মোট ২৪টি গুণের বিস্তারিত আলোচনা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ, সংখ্যা, পরিমাণ, পৃথকত্ব, সংযোগ, বিভাগ, পরত্ব, অপরত্ব, বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, প্রযত্ন, ধর্ম, অধর্ম, সংস্কার, দ্রবত্ব, গুরুত্ব ও স্নেহ—এই ২৪টি গুণের প্রকৃতি এবং উদাহরণসহ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

তবে শুধুমাত্র লিখিত আলোচনা পড়ে বৈশেষিক দর্শনের গুণতত্ত্বের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পূর্ণভাবে বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত যারা সহজ, সাবলীল এবং উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বৈশেষিক মতে গুণের ধারণা আয়ত্ত করতে চায়, তাদের জন্য দৃশ্য ও শ্রবণনির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি অধিক কার্যকর। এই বিষয়টি মাথায় রেখে “বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ কী? | ২৪টি গুণ উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা” শীর্ষক একটি বিস্তারিত YouTube Video প্রস্তুত করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে বৈশেষিক দর্শনে গুণের অর্থ, গুণের লক্ষণ, গুণ ও দ্রব্যের সম্পর্ক, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ, মানসিক গুণ এবং বিশেষ ধর্মজাতীয় গুণের ধারণা অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ ও শব্দ কীভাবে পঞ্চভূতের সঙ্গে সম্পর্কিত, সংখ্যা ও পরিমাণের গুরুত্ব, পৃথকত্ব, সংযোগ ও বিভাগের বৈশিষ্ট্য, বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, প্রযত্ন, সংস্কার, দ্রবত্ব, গুরুত্ব ও স্নেহের প্রকৃতি উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই আলোচনার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বৈশেষিক দর্শনের গুণতত্ত্বের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে এর গভীর দার্শনিক তাৎপর্য পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বে গুণের অবস্থান, জগতের বিভিন্ন বস্তুর বৈশিষ্ট্য প্রকাশে গুণের ভূমিকা এবং ভারতীয় দর্শনের যুক্তিবিদ্যা ও তত্ত্ববিদ্যায় এর গুরুত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা যাবে।

যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই Video বিশেষভাবে সহায়ক হবে। কারণ এখানে শুধুমাত্র বৈশেষিক মতে গুণের সংজ্ঞা বা তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং ২৪টি গুণের নাম, শ্রেণিবিভাগ, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ এবং পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলিও সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি নিচে দেওয়া Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে বৈশেষিক মতে বিভিন্ন প্রকার গুণ, বৈশেষিক দর্শনের ২৪টি গুণ, গুণের সংজ্ঞা, গুণ ও দ্রব্যের সম্পর্ক, রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ, সংখ্যা, পরিমাণ, বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, সংস্কার, দ্রবত্ব, গুরুত্ব ও স্নেহ সম্পর্কে যথার্থ, নির্ভুল ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই Video আপনাদের দর্শন অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।

সহযোগী Video

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *