বার্কলের আত্মগত ভাববাদ 🔥 | 5টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে Berkeley’s Idealism সহজ ব্যাখ্যা | B.A Philosophy Notes 2026
বার্কলের আত্মগত ভাববাদ
বার্কলের আত্মগত ভাববাদ পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক বিষয়। অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক জর্জ বার্কলে তাঁর আত্মগত ভাববাদের মাধ্যমে বস্তুজগতের অস্তিত্ব, জ্ঞান লাভের প্রকৃতি এবং মন ও ধারণার সম্পর্ক সম্পর্কে একটি বিশেষ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। বার্কলের মতে, আমরা যে জগতকে উপলব্ধি করি তা মূলত আমাদের মনের ধারণার সমষ্টি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ধারণার বাইরে কোনো স্বাধীন জড়বস্তুর অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না।
বার্কলের আত্মগত ভাববাদ বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম, NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষায় প্রায়ই বার্কলের ভাববাদ, আত্মগত ভাববাদের সংজ্ঞা, “Esse est Percipi” মতবাদ, জড়বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে বার্কলের মত, আত্মা ও ঈশ্বরের ধারণা এবং তাঁর মতবাদের সমালোচনা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
জর্জ বার্কলে ছিলেন একজন বিশিষ্ট অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। তিনি জন লকের অভিজ্ঞতাবাদকে গ্রহণ করলেও লকের জড়দ্রব্য ও বিমূর্ত ধারণার মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করেন। বার্কলের মতে, মানুষের সমস্ত জ্ঞান ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা কোনো বস্তু সম্পর্কে যা জানি, তা হলো তার রং, আকার, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ ইত্যাদি অনুভূতি বা ধারণা।
বার্কলের বিখ্যাত মতবাদ হলো— “Esse est Percipi” অর্থাৎ “অস্তিত্ব মানেই প্রত্যক্ষিত হওয়া”। তাঁর মতে, কোনো বস্তুর অস্তিত্ব তার প্রত্যক্ষ হওয়ার মধ্যেই নিহিত। কোনো বস্তু যদি কোনো মন দ্বারা উপলব্ধ না হয়, তাহলে তার স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করার কোনো কারণ নেই।
এই আলোচনায় বার্কলের আত্মগত ভাববাদ কী, তাঁর ভাববাদের মূল বক্তব্য, “অস্তিত্ব মানেই প্রত্যক্ষিত হওয়া” মতবাদ, জড়বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা, মন বা আত্মার ভূমিকা, ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং তাঁর মতবাদের গুরুত্ব সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
বার্কলের মতে, আমাদের জ্ঞান সরাসরি ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমরা কোনো বস্তু বা জড়পদার্থকে ধারণার বাইরে আলাদাভাবে জানতে পারি না। তাই তিনি লকের মতো কোনো অজ্ঞাত জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব স্বীকার করেননি। তাঁর মতে, জড়বস্তুর অস্তিত্ব বলতে বোঝায় বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ধারণার সমষ্টি।
তবে বার্কলে সম্পূর্ণ নাস্তিক বা বস্তুজগতের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী ছিলেন না। তিনি মনে করেন, বস্তুজগতের ধারণাগুলি আমাদের মন ইচ্ছামতো সৃষ্টি করে না; এগুলি ঈশ্বরের দ্বারা আমাদের মনে উৎপন্ন হয়। তাই ঈশ্বর হলেন সমস্ত ধারণার চূড়ান্ত কারণ এবং বস্তুজগতের স্থায়িত্বের ভিত্তি।
এই কারণে বার্কলের আত্মগত ভাববাদ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মনের উপর নির্ভরশীল নয়; বরং তিনি আত্মা ও ঈশ্বরের অস্তিত্বকে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, আত্মা হলো সক্রিয় সত্তা, যা ধারণাকে গ্রহণ করে এবং ঈশ্বর হলেন সর্বোচ্চ আত্মা, যিনি সমগ্র জগতের ধারণাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
যদিও বার্কলের আত্মগত ভাববাদ পরবর্তী দার্শনিকদের দ্বারা বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়েছে, বিশেষ করে তাঁর জড়বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কিত মতবাদ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, তবুও জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যার ক্ষেত্রে তাঁর এই মতবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
এই লেখায় George Berkeley’s Subjective Idealism, Berkeley Philosophy, Esse est Percipi, Immaterialism, Subjective Idealism, Western Philosophy এবং B.A. Philosophy-এর পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
যারা XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য বার্কলের আত্মগত ভাববাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ পরীক্ষায় বারবার “ভাববাদ কী?”, “বার্কলের আত্মগত ভাববাদ আলোচনা কর”, “Esse est Percipi মতবাদ ব্যাখ্যা কর”—এই ধরনের প্রশ্ন আসে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দর্শন প্রস্তুতিকে আরও সহজ, কার্যকর এবং পরীক্ষামুখী করে তুলবে।
5টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে Berkeley’s Idealism সহজ ব্যাখ্যা
5টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে Berkeley’s Idealism সহজ ব্যাখ্যা বিষয়টি পাশ্চাত্য দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনার অংশ। দার্শনিক জর্জ বার্কলে তাঁর ভাববাদী দর্শনের মাধ্যমে জ্ঞান, বস্তুজগৎ, মন ও ঈশ্বরের সম্পর্ক সম্পর্কে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেন। বার্কলের মতে, মানুষের সমস্ত জ্ঞান ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ধারণার উপর নির্ভরশীল এবং ধারণার বাইরে কোনো স্বাধীন জড়বস্তুর অস্তিত্ব স্বীকার করা যায় না।

Berkeley’s Idealism বা বার্কলের ভাববাদ XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই বার্কলের ভাববাদের মূল বক্তব্য, আত্মগত ভাববাদ, “Esse est Percipi” মতবাদ, জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাঁর মত এবং ঈশ্বরের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
জর্জ বার্কলে ছিলেন একজন বিশিষ্ট অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। তিনি জন লকের অভিজ্ঞতাবাদকে গ্রহণ করলেও লকের জড়দ্রব্য ও বিমূর্ত সামান্য ধারণার মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, আমরা কোনো বস্তুকে সরাসরি জানতে পারি না; আমরা কেবল সেই বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারণা বা অনুভূতিকে জানতে পারি।
বার্কলের ভাববাদকে সহজে বোঝার জন্য তাঁর দর্শনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ধারণার গুরুত্ব, জড়বস্তুর অস্বীকার, “Esse est Percipi” মতবাদ, আত্মার অস্তিত্ব এবং ঈশ্বরের ভূমিকা।
প্রথমত, ধারণাই জ্ঞানের মূল ভিত্তি।
বার্কলের মতে, মানুষের সমস্ত জ্ঞান ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত ধারণার উপর নির্ভর করে। আমরা রং, গন্ধ, স্বাদ, আকার, স্পর্শ ইত্যাদি অনুভূতির মাধ্যমে বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি। ধারণার বাইরে কোনো বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানতে পারি না।
দ্বিতীয়ত, জড়দ্রব্যের স্বাধীন অস্তিত্ব অস্বীকার।
বার্কলের মতে, লকের মতো কোনো অজ্ঞাত জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব স্বীকার করার প্রয়োজন নেই। কারণ আমরা কোনো বস্তুর জড় সত্তাকে প্রত্যক্ষ করি না, আমরা কেবল তার গুণ বা ধারণাকেই উপলব্ধি করি। তাই ধারণার বাইরে স্বাধীন জড়বস্তুর অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না।
তৃতীয়ত, “Esse est Percipi” মতবাদ।
বার্কলের দর্শনের প্রধান ভিত্তি হলো— “Esse est Percipi” অর্থাৎ “অস্তিত্ব মানেই প্রত্যক্ষিত হওয়া।” তাঁর মতে, কোনো বস্তুর অস্তিত্ব তার কোনো মন দ্বারা উপলব্ধ হওয়ার মধ্যেই নিহিত। যা প্রত্যক্ষ করা যায় না, তার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
চতুর্থত, আত্মা বা মনের অস্তিত্ব।
বার্কলের মতে, ধারণাগুলি নিজেরা সক্রিয় নয়; এগুলিকে গ্রহণ করার জন্য একটি সক্রিয় সত্তার প্রয়োজন। সেই সক্রিয় সত্তাই হলো আত্মা বা মন। আত্মা ধারণাগুলিকে উপলব্ধি করে এবং চিন্তা, ইচ্ছা ও অনুভূতির অধিকারী হয়।
পঞ্চমত, ঈশ্বরের ভূমিকা।
বার্কলে মনে করেন, বস্তুজগতের ধারণাগুলি মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী সৃষ্টি হয় না। এই ধারণাগুলির প্রকৃত উৎস হলেন ঈশ্বর। ঈশ্বর সর্বোচ্চ আত্মা হিসেবে সমস্ত ধারণাকে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং জগতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
এই আলোচনায় Berkeley’s Idealism বা বার্কলের ভাববাদের মূল বৈশিষ্ট্য, আত্মগত ভাববাদের ধারণা, জড়জগত সম্পর্কে তাঁর মত, “Esse est Percipi” তত্ত্ব, আত্মা ও ঈশ্বরের ভূমিকা সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বার্কলের ভাববাদ শুধুমাত্র একটি তাত্ত্বিক মতবাদ নয়; এটি অভিজ্ঞতাবাদী দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ। তাঁর দর্শনের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, মানুষের জ্ঞান মূলত মনের ধারণার উপর নির্ভরশীল এবং বস্তুজগতকে বোঝার জন্য মন ও ঈশ্বরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি Berkeley’s Idealism, George Berkeley Philosophy, Subjective Idealism, Esse est Percipi, Western Philosophy অথবা B.A. Philosophy-এর পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই আলোচনা আপনার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
ভাববাদ কী? বার্কলের আত্মগত ভাববাদ সবিচার আলোচনা কর।
অথবা, “অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর” বলতে বার্কলে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ বস্তুর স্বরূপকে কেন্দ্র করে আমাদের সামনে দুটি প্রশ্ন হাজির হয় তা হল— বস্তুর জ্ঞান মন সাপেক্ষ না মন নিরপেক্ষ? অর্থাৎ বস্তু আছে বলে কী আমরা তাদের জানছি? অথবা আমরা জানছি বলেই কি বস্তুর অস্তিত্ব আছে?
যারা বলেন বস্তুর সত্তা জ্ঞাতার মনের উপর নির্ভরশীল, তাদের মতবাদকে বলা হয় ভাববাদ। অন্যদিকে, যারা মনে করেন বস্তু আছে বলে আমরা তাদের জানছি অর্থাৎ বস্তুর সত্তা জ্ঞাতার মন নিরপেক্ষ, তাদের মতবাদকে বলা হয় বস্তুবাদ।
🟥 বার্কলের আত্মগত ভাববাদ সংক্ষেপে আলোচনা করা হল— বার্কলে আত্মগত ভাববাদের প্রবর্তক। তিনি বলেন জগতে মন নিরপেক্ষ বস্তুর স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। তাঁর মতে, আমরা যা কিছু দেখছি বা শুনছি তা আমাদের মন এবং মনের ধারণার অতিরিক্ত নয়। তিনি জড়দ্রব্যের অস্তিত্বকে খণ্ডন করেছেন। তাঁর মতে, দ্রব্য হল কতকগুলি গুণের সমষ্টি। তাই গুণ ছাড়া দ্রব্যকে জানা যায় না। এই গুণগুলি সম্পূর্ণ মনের ধারণা মাত্র। সেজন্য বার্কলে বলেছেন মনের ধারণার বাইরে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই।
বার্কলে ছিলেন ইংরেজ ভাববাদী দার্শনিক। তিনি অভিজ্ঞতাবাদী ধারার মধ্যে থেকেও বস্তুবাদী মতবাদের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, মানুষের জ্ঞান সরাসরি কোনো বস্তু সম্পর্কে নয়, বরং বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত আমাদের মনের ধারণা সম্পর্কে। তাই বাহ্যিক জগতের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে হলে মন ও মনের ধারণাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বার্কলের দর্শনের মূল ভিত্তি হল— “Esse est percipi” অর্থাৎ “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর”। তাঁর মতে, কোনো বস্তুর অস্তিত্ব থাকা মানেই হল সেটি কোনো না কোনো মনের দ্বারা প্রত্যক্ষ হওয়া। যে বস্তুকে কোনো মন প্রত্যক্ষ করে না, তার স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করার কোনো কারণ নেই।
এইভাবে বার্কলে তাঁর দর্শনে একটি বিখ্যাত সূত্র আবিষ্কার করেছেন সেটি হল— “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর” অর্থাৎ কোনো কিছুর অস্তিত্ব নির্ভর করে সেটি প্রত্যক্ষ হবার উপর। এখানে বার্কলে বলেছেন যাকে প্রত্যক্ষ করা যায় না তার কোনো অস্তিত্ব নেই।
বার্কলের মতে, আমরা যখন কোনো বস্তুকে দেখি, তখন আমরা বস্তুর নিজস্ব কোনো স্বাধীন সত্তাকে প্রত্যক্ষ করি না; বরং আমরা প্রত্যক্ষ করি রং, আকার, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ ইত্যাদি গুণ। এই সমস্ত গুণ আমাদের মনে ধারণা হিসেবে উপস্থিত হয়। তাই গুণের বাইরে কোনো অজ্ঞাত জড়পদার্থের অস্তিত্ব কল্পনা করা অপ্রয়োজনীয়।
এই বক্তব্য স্থাপন করার পর বার্কলে বলেন— জড়দ্রব্য যেহেতু প্রত্যক্ষ বহির্ভূত সেহেতু জড়দ্রব্যের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও বলেন, কেবল জড়দ্রব্য যদি মুখ্যগুণের আধার হত তাহলে তাকে প্রত্যক্ষ করা যেত। কিন্তু জড়দ্রব্য যেহেতু কেবল মুখ্যগুণ নিয়েই নয়, মুখ্য ও গৌণ গুণের সমন্বয়েই গঠিত সেহেতু জড়দ্রব্যের কোনো অস্তিত্ব নেই।
বার্কলে লকের মুখ্যগুণ ও গৌণগুণের পার্থক্যকেও অস্বীকার করেন। লক মনে করেছিলেন, আকার, বিস্তৃতি, সংখ্যা, গতি ইত্যাদি মুখ্যগুণ বস্তুতে বাস্তবভাবে থাকে এবং রং, গন্ধ, স্বাদ ইত্যাদি গৌণগুণ মনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বার্কলের মতে, মুখ্যগুণও গৌণগুণের মতোই মনের ধারণা। কারণ আকার, বিস্তৃতি বা গতি সম্পর্কেও আমরা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধারণা লাভ করি।
সুতরাং বার্কলের মতে, মুখ্যগুণ ও গৌণগুণ উভয়ই মনের ধারণা এবং এগুলির বাইরে কোনো স্বাধীন জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব নেই।
বার্কলে বলেন জড়দ্রব্য প্রত্যক্ষের বিষয় না হওয়ায় জড়দ্রব্যের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন কেবল সেই গুণেরই অস্তিত্ব আছে যে গুণগুলিকে প্রত্যক্ষ করা যায়। বার্কলের এই মতবাদ মেনে নিলে আমাদের দুইটি অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় সেগুলি হল—
প্রথমত:- আমার পড়ার ঘরের টেবিলের ওপর কতকগুলি বই আছে। আমি যতক্ষণ ঘরে বসে প্রত্যক্ষ করি ততক্ষণই বইগুলির অস্তিত্ব থাকে এবং যে মুহূর্তে ঘর ছেড়ে বাইরে এলাম সেই মুহূর্তে বইগুলির অস্তিত্ব লোপ পেল— অর্থাৎ বইগুলি একইসঙ্গে অস্তিত্বশীল এবং অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। সুতরাং বলা যায় বার্কলের এই মতবাদ মেনে নিলে একই বস্তু কখনো অস্তিত্বশীল এবং কখনো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। যা বাস্তবে এক দুরূহ ব্যাপার।
অবশ্য বার্কলে এই আপত্তির উত্তর দিতে ঈশ্বরের ধারণা গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ কোনো বস্তুকে প্রত্যক্ষ না করলেও ঈশ্বর সর্বদা সেই বস্তুকে প্রত্যক্ষ করেন। তাই কোনো বস্তু মানুষের প্রত্যক্ষের বাইরে গেলেও তার অস্তিত্ব নষ্ট হয় না।
বার্কলের এই সমস্যার সমাধানের জন্য ঈশ্বরকেও শেষ পর্যন্ত টেনে এনেছেন এবং বলেছেন যে মুহূর্তে বইগুলি আমি প্রত্যক্ষ করিনি ঠিক সেই মুহূর্তে একজন অর্থাৎ সর্বশক্তিমান সত্তা বইগুলিকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এখানে বার্কলের অভিমত হল আমরা কোন কিছুকে প্রত্যক্ষ না করলেও সর্বশক্তিমান সত্তা রূপে ঈশ্বর সমস্ত কিছুকে প্রত্যক্ষ করেন।
দ্বিতীয় অংশ:
দ্বিতীয়ত:- দ্বিতীয় অসুবিধাটি হল— বার্কলের মতবাদকে যদি আমরা মেনে নিই তাহলে বাস্তব জগত ও কল্পনার জগতের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। কেননা কল্পনা জগতে আমরা অনেক কিছু দেখি যেগুলির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। অবশ্য বার্কলে এই উত্তরে বলেছেন স্বপ্ন বা কল্পনার জগতে কোনো না কোনো নিয়ম শৃঙ্খলা আছে। তিনি আরও বলেন স্বপ্নের জগত, বাস্তব জগতের মতো পরিষ্কার ও স্পষ্ট নয়। সুতরাং বার্কলের অভিমত হল অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর অর্থাৎ কোনো কিছুর অস্তিত্ব নির্ভর করে সেটির প্রত্যক্ষ হওয়ার উপর। এইভাবে তিনি তাঁর দর্শনে আত্মগত ভাববাদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।
বার্কলের মতে, বাস্তব জগত ও কল্পনার জগতের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের প্রধান ভিত্তি হল অভিজ্ঞতার স্থায়িত্ব ও নিয়মবদ্ধতা। বাস্তব জগতের ধারণাগুলি আমাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না এবং এগুলির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধারাবাহিকতা দেখা যায়। কিন্তু কল্পনার জগত সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত মানসিক ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল এবং এতে কোনো স্থায়ী নিয়ম দেখা যায় না।
বার্কলে মনে করেন, বাহ্যিক জগত বলতে আমরা যা বুঝি তা আসলে আমাদের মনে উৎপন্ন ধারণার সমষ্টি। কিন্তু এই ধারণাগুলি মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। আমরা ইচ্ছা করলেই কোনো বস্তু দেখতে বা অনুভব করতে পারি না। তাই এই ধারণাগুলির পিছনে একটি সক্রিয় ও সর্বশক্তিমান সত্তার অস্তিত্ব স্বীকার করতে হয়, আর সেই সত্তাই হল ঈশ্বর।
বার্কলের আত্মগত ভাববাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল— তিনি জড়জগতকে অস্বীকার করলেও মন বা আত্মার অস্তিত্বকে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, ধারণা নিষ্ক্রিয় এবং ধারণার গ্রাহক হিসেবে আত্মা বা মন সক্রিয়। অর্থাৎ ধারণাগুলি মনের মধ্যে অবস্থান করে এবং মন সেই ধারণাগুলিকে উপলব্ধি করে।
সমালোচনা:-
দ্রব্য সম্পর্কে জন বার্কলে যে সকল অভিমত প্রকাশ করেছেন সেগুলি সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। তাই দার্শনিকরা তাঁর আত্মগত ভাববাদের বিভিন্ন দিক থেকে সমালোচনা করেছেন।
(ক) দার্শনিক মুর বার্কলের আত্মগত ভাববাদের সমালোচনায় বলেছেন— বস্তুর অস্তিত্ব কখনোই প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল নয়। কেননা আমাদের প্রত্যক্ষ হোক বা না হোক, বস্তুর অস্তিত্ব থাকবেই।
মুরের মতে, আমরা কোনো বস্তুকে প্রত্যক্ষ না করলেও সেই বস্তুর অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না। যেমন— কোনো মানুষ ঘরে না থাকলেও ঘরের টেবিল, চেয়ার ইত্যাদির অস্তিত্ব বজায় থাকে। তাই বস্তুর অস্তিত্বকে শুধুমাত্র প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল বলা যুক্তিসঙ্গত নয়।
(খ) বার্কলের মতবাদ পদার্থবিদ্যার বিরোধী। কারণ একজন পদার্থবিদ মনে করেন বাহ্যিক জগতে জড়পদার্থের অস্তিত্ব নির্ভর করে পদার্থবিদ্যার সূত্র অনুযায়ী। কাজেই বার্কলের মতবাদ মেনে নিলে পদার্থবিদ্যাকে অস্বীকার করতে হবে।
পদার্থবিদ্যার সমস্ত গবেষণা বাহ্যিক জগতের বাস্তব অস্তিত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি জড়পদার্থের কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে পদার্থবিদ্যার নিয়ম, বস্তুজগতের কার্যকারণ সম্পর্ক এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

(গ) বার্কলে বলেন যখন আমরা কোনো কিছুকে প্রত্যক্ষ করি না তখন ঈশ্বর সেটিকে প্রত্যক্ষ করেন। এর কোনো সঠিক উত্তর বার্কলে দিতে পারেননি।
সমালোচকদের মতে, ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ করার ধারণা বার্কলের সমস্যার সমাধান করলেও ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে তিনি পর্যাপ্ত যুক্তি দিতে পারেননি। তাই তাঁর মতবাদে একটি অতিরিক্ত অনুমানের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
(ঘ) বার্কলের আত্মগত ভাববাদে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জ্ঞান কেবল ব্যক্তিগত মনের উপর নির্ভরশীল নয়; জ্ঞানের ক্ষেত্রে সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
(ঙ) বার্কলে জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও মানুষের সাধারণ অভিজ্ঞতায় আমরা বস্তুগুলিকে মনের বাইরে স্বাধীনভাবে অস্তিত্বশীল বলে মনে করি। তাই তাঁর মতবাদ সাধারণ বুদ্ধির বিরোধী বলে অনেক দার্শনিক মনে করেন।
বার্কলের আত্মগত ভাববাদের গুরুত্ব
বার্কলের আত্মগত ভাববাদ পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ। তিনি দেখিয়েছেন যে, বস্তু সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সরাসরি বস্তুর জ্ঞান নয়, বরং বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত আমাদের মানসিক ধারণার জ্ঞান।
তিনি জড়বাদের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে মনের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর মতবাদ পরবর্তী ভাববাদী দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
যদিও তাঁর মতবাদ বিভিন্ন সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, তবুও জ্ঞান, প্রত্যক্ষণ ও বাস্তবতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে বার্কলের অবদান দর্শনের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
পরিশেষে বলা যায়, বার্কলের আত্মগত ভাববাদের মূল বক্তব্য হল— জগতের অস্তিত্ব মন ও প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল। তাঁর বিখ্যাত সূত্র “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর”-এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রত্যক্ষের বাইরে কোনো স্বাধীন জড়সত্তার অস্তিত্ব গ্রহণ করা যায় না। যদিও এই মতবাদে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও ভাববাদী দর্শনের ক্ষেত্রে বার্কলের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : বার্কলের আত্মগত ভাববাদ 🔥 | 5টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে Berkeley’s Idealism সহজ ব্যাখ্যা | B.A Philosophy Notes 2026
১. ভাববাদের মতে বস্তুর সত্তা কিসের উপর নির্ভরশীল?
(ক) জড়পদার্থের উপর
(খ) জ্ঞাতার মনের উপর
(গ) পদার্থবিদ্যার নিয়মের উপর
(ঘ) বাহ্যিক শক্তির উপর
উত্তর: খ) জ্ঞাতার মনের উপর
২. বার্কলে কোন ধরনের ভাববাদের প্রবর্তক?
(ক) বস্তুনিষ্ঠ ভাববাদ
(খ) পরম ভাববাদ
(গ) আত্মগত ভাববাদ
(ঘ) নৈতিক ভাববাদ
উত্তর: গ) আত্মগত ভাববাদ
৩. বার্কলের বিখ্যাত সূত্র “Esse est percipi”-এর অর্থ কী?
(ক) জ্ঞানই শক্তি
(খ) অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর
(গ) বস্তুই একমাত্র সত্য
(ঘ) মনই জড় পদার্থ
উত্তর: খ) অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর
৪. বার্কলের মতে জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব কেমন?
(ক) স্বাধীন ও মন নিরপেক্ষ
(খ) ঈশ্বর নির্ভর
(গ) অস্বীকারযোগ্য
(ঘ) চিরন্তন
উত্তর: গ) অস্বীকারযোগ্য
৫. বার্কলের মতে দ্রব্য কী?
(ক) গুণের সমষ্টি
(খ) স্বাধীন পদার্থ
(গ) পরমাণুর সমষ্টি
(ঘ) শক্তির রূপ
উত্তর: ক) গুণের সমষ্টি
৬. বার্কলের মতে গুণগুলি কী?
(ক) জড়পদার্থের স্বাধীন ধর্ম
(খ) মনের ধারণা
(গ) ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়
(ঘ) পদার্থের বাইরে অবস্থিত
উত্তর: খ) মনের ধারণা
৭. বার্কলে কোন দার্শনিকের মুখ্য ও গৌণ গুণের পার্থক্য অস্বীকার করেন?
(ক) ডেকার্ট
(খ) স্পিনোজা
(গ) লক
(ঘ) কান্ট
উত্তর: গ) লক
৮. লকের মতে কোনগুলি মুখ্যগুণ?
(ক) রং, গন্ধ, স্বাদ
(খ) আকার, বিস্তৃতি, গতি
(গ) সুখ, দুঃখ
(ঘ) চিন্তা, অনুভূতি
উত্তর: খ) আকার, বিস্তৃতি, গতি
৯. বার্কলের মতে মুখ্যগুণ ও গৌণগুণ উভয়ই কী?
(ক) বস্তুর স্বাধীন ধর্ম
(খ) মনের ধারণা
(গ) ঈশ্বরের গুণ
(ঘ) কল্পনার বিষয়
উত্তর: খ) মনের ধারণা
১০. বার্কলের মতে যাকে প্রত্যক্ষ করা যায় না তার কী নেই?
(ক) গুণ
(খ) ধারণা
(গ) অস্তিত্ব
(ঘ) নাম
উত্তর: গ) অস্তিত্ব
১১. বার্কলের মতে মানুষ কোনো বস্তুকে প্রত্যক্ষ না করলেও তার অস্তিত্ব বজায় থাকে কেন?
(ক) মানুষের স্মৃতির কারণে
(খ) প্রকৃতির কারণে
(গ) ঈশ্বর প্রত্যক্ষ করেন বলে
(ঘ) বস্তু নিজেই থাকে বলে
উত্তর: গ) ঈশ্বর প্রত্যক্ষ করেন বলে
১২. বার্কলের মতে বাহ্যিক জগত কীসের সমষ্টি?
(ক) পরমাণুর সমষ্টি
(খ) মনের ধারণার সমষ্টি
(গ) শক্তির সমষ্টি
(ঘ) পদার্থের সমষ্টি
উত্তর: খ) মনের ধারণার সমষ্টি
১৩. বার্কলে কোন মতবাদের বিরোধিতা করেছিলেন?
(ক) ভাববাদ
(খ) বস্তুবাদ
(গ) অভিজ্ঞতাবাদ
(ঘ) নামবাদ
উত্তর: খ) বস্তুবাদ
১৪. বার্কলের মতবাদকে আর কী বলা হয়?
(ক) আত্মগত ভাববাদ
(খ) বাস্তববাদ
(গ) দ্বৈতবাদ
(ঘ) বস্তুবাদ
উত্তর: ক) আত্মগত ভাববাদ
১৫. বার্কলের মতে ধারণা কেমন এবং আত্মা কেমন?
(ক) ধারণা সক্রিয়, আত্মা নিষ্ক্রিয়
(খ) ধারণা নিষ্ক্রিয়, আত্মা সক্রিয়
(গ) উভয়ই নিষ্ক্রিয়
(ঘ) উভয়ই সক্রিয়
উত্তর: খ) ধারণা নিষ্ক্রিয়, আত্মা সক্রিয়
১৬. বার্কলের আত্মগত ভাববাদের প্রধান সমালোচক কে ছিলেন?
(ক) মুর
(খ) হিউম
(গ) কান্ট
(ঘ) হেগেল
উত্তর: ক) মুর
১৭. মুরের মতে বস্তুর অস্তিত্ব কীসের উপর নির্ভর করে না?
(ক) অভিজ্ঞতার উপর
(খ) প্রত্যক্ষের উপর
(গ) জ্ঞানের উপর
(ঘ) চিন্তার উপর
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষের উপর
১৮. বার্কলের মতে বাস্তব জগত ও কল্পনার জগতের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি কী?
(ক) রং
(খ) আকার
(গ) নিয়ম ও ধারাবাহিকতা
(ঘ) নাম
উত্তর: গ) নিয়ম ও ধারাবাহিকতা
১৯. বার্কলের দর্শনে জড়জগতের পরিবর্তে কোনটির গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
(ক) পরমাণুর
(খ) মনের
(গ) শক্তির
(ঘ) শরীরের
উত্তর: খ) মনের
২০. বার্কলের আত্মগত ভাববাদের মূল বক্তব্য কী?
(ক) জড়ই একমাত্র সত্য
(খ) ঈশ্বরই একমাত্র সত্য
(গ) জগতের অস্তিত্ব মন ও প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল
(ঘ) জ্ঞান অসম্ভব
উত্তর: গ) জগতের অস্তিত্ব মন ও প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল
SAQ প্রশ্নাবলি : বার্কলের আত্মগত ভাববাদ 🔥 | 5টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে Berkeley’s Idealism সহজ ব্যাখ্যা | B.A Philosophy Notes 2026
🔹 ১. ভাববাদ কাকে বলে?
উত্তরঃ বস্তুর সত্তা জ্ঞাতার মনের উপর নির্ভরশীল— এই মতবাদকে ভাববাদ বলে।
🔹 ২. বার্কলে কোন ধরনের ভাববাদের প্রবর্তক?
উত্তরঃ বার্কলে আত্মগত ভাববাদের প্রবর্তক।
🔹 ৩. বার্কলের বিখ্যাত সূত্রটি কী?
উত্তরঃ বার্কলের বিখ্যাত সূত্র হল— “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর” (Esse est percipi)।
🔹 ৪. “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর” বলতে বার্কলে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে সেটি কোনো মন দ্বারা প্রত্যক্ষ হওয়ার উপর।
🔹 ৫. বার্কলের মতে জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব নেই কেন?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, জড়দ্রব্য প্রত্যক্ষের বিষয় নয়, তাই এর কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব নেই।
🔹 ৬. বার্কলের মতে দ্রব্য কী?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, দ্রব্য হল কতকগুলি গুণের সমষ্টি।
🔹 ৭. বার্কলের মতে গুণের প্রকৃতি কী?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, গুণগুলি মনের ধারণা মাত্র।
🔹 ৮. বার্কলে লকের কোন মতবাদ অস্বীকার করেছিলেন?
উত্তরঃ বার্কলে লকের মুখ্যগুণ ও গৌণগুণের পার্থক্য অস্বীকার করেছিলেন।
🔹 ৯. বার্কলের মতে মুখ্যগুণ ও গৌণগুণের মধ্যে পার্থক্য নেই কেন?
উত্তরঃ কারণ উভয় গুণই মনের ধারণার উপর নির্ভরশীল।
🔹 ১০. বার্কলের মতে বাহ্যিক জগৎ কী?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, বাহ্যিক জগৎ হল মনের মধ্যে উৎপন্ন ধারণার সমষ্টি।
🔹 ১১. বার্কলে কেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন?
উত্তরঃ মানুষের প্রত্যক্ষের বাইরে থাকা বস্তুর অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য বার্কলে ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন।
🔹 ১২. বার্কলের মতে বাস্তব জগত ও কল্পনার জগতের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ বাস্তব জগত নিয়মবদ্ধ ও স্থায়ী, কিন্তু কল্পনার জগৎ ব্যক্তিগত মানসিক ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।
🔹 ১৩. বার্কলের আত্মগত ভাববাদের মূল বক্তব্য কী?
উত্তরঃ মন ও মনের ধারণার বাইরে কোনো স্বাধীন জড়বস্তুর অস্তিত্ব নেই— এটিই বার্কলের আত্মগত ভাববাদের মূল বক্তব্য।
🔹 ১৪. বার্কলের মতে ধারণার প্রকৃতি কী?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, ধারণা নিষ্ক্রিয় এবং আত্মা বা মন ধারণার গ্রাহক।
🔹 ১৫. বার্কলের আত্মগত ভাববাদের সমালোচনা কে করেছিলেন?
উত্তরঃ দার্শনিক মুর বার্কলের আত্মগত ভাববাদের সমালোচনা করেছিলেন।
🔹 ১৬. মুরের মতে বস্তুর অস্তিত্ব কিসের উপর নির্ভর করে না?
উত্তরঃ মুরের মতে, বস্তুর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষের উপর নির্ভর করে না।
🔹 ১৭. বার্কলের মতবাদ কেন পদার্থবিদ্যার বিরোধী বলা হয়?
উত্তরঃ কারণ পদার্থবিদ্যা বাহ্যিক জগতের স্বাধীন অস্তিত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
🔹 ১৮. বার্কলের মতে আমরা কী প্রত্যক্ষ করি?
উত্তরঃ বার্কলের মতে, আমরা বস্তুর গুণ বা ধারণাগুলিকে প্রত্যক্ষ করি।
🔹 ১৯. বার্কলের আত্মগত ভাববাদের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তরঃ জড়জগতকে অস্বীকার করলেও মন বা আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করা তাঁর মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
🔹 ২০. বার্কলের আত্মগত ভাববাদের গুরুত্ব কী?
উত্তরঃ বার্কলের আত্মগত ভাববাদ জ্ঞান, প্রত্যক্ষণ ও বাস্তবতার সম্পর্ক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
ভাববাদের ইতিহাসে জর্জ বার্কলের আত্মগত ভাববাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত দার্শনিক মতবাদ। বিশেষ করে জ্ঞান, প্রত্যক্ষণ এবং বস্তুর অস্তিত্বের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে বার্কলের দর্শনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বার্কলে তাঁর দর্শনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, জগতের অস্তিত্বকে মন ও মনের ধারণা থেকে পৃথক করে চিন্তা করা যায় না।
বার্কলের আত্মগত ভাববাদ বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম, NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষায় প্রায়ই বার্কলের আত্মগত ভাববাদ, “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর” (Esse est percipi), জড়দ্রব্যের খণ্ডন, ঈশ্বরের ভূমিকা এবং তাঁর মতবাদের সমালোচনা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে।
এই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)**-এ “বার্কলের আত্মগত ভাববাদ 🔥 | 5টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে Berkeley’s Idealism সহজ ব্যাখ্যা | B.A Philosophy Notes 2026” বিষয়টি সহজ ভাষায়, যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষার উপযোগী পদ্ধতিতে আলোচনা করা হয়েছে।
জর্জ বার্কলে ছিলেন একজন বিশিষ্ট অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক এবং আত্মগত ভাববাদের প্রবর্তক। তাঁর মতে, জগতের কোনো মন নিরপেক্ষ স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। আমরা যা কিছু জানি, তা প্রত্যক্ষের মাধ্যমে মনের মধ্যে উপস্থিত ধারণা হিসেবেই জানি। তাই বস্তুর অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে হলে মন ও মনের ধারণাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বার্কলের আত্মগত ভাববাদের মূল বক্তব্যকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের মাধ্যমে সহজে বোঝা যায়—
১. অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর (Esse est percipi):
বার্কলের মতে, কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে সেটি কোনো মন দ্বারা প্রত্যক্ষ হওয়ার উপর। যা প্রত্যক্ষ করা যায় না, তার স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করার কোনো যুক্তি নেই।
২. জড়দ্রব্যের স্বাধীন অস্তিত্বের খণ্ডন:
বার্কলে বলেন, আমরা কোনো জড়দ্রব্যকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করি না; আমরা শুধু তার গুণ যেমন— রং, আকার, গন্ধ, স্বাদ ইত্যাদি প্রত্যক্ষ করি। তাই গুণের বাইরে কোনো স্বাধীন জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব স্বীকার করা অপ্রয়োজনীয়।
৩. মুখ্য ও গৌণ গুণের পার্থক্য অস্বীকার:
জন লক মুখ্যগুণ ও গৌণগুণের মধ্যে পার্থক্য স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু বার্কলের মতে, আকার, বিস্তৃতি, গতি ইত্যাদি মুখ্যগুণও মনের ধারণা মাত্র। তাই মুখ্য ও গৌণ উভয় গুণই মনের উপর নির্ভরশীল।
৪. ঈশ্বরের ভূমিকা:
বার্কলের মতে, মানুষ কোনো বস্তুকে প্রত্যক্ষ না করলেও তার অস্তিত্ব নষ্ট হয় না। কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সর্বদা সমস্ত বস্তুকে প্রত্যক্ষ করেন। তাই ঈশ্বরের প্রত্যক্ষণের মাধ্যমে জগতের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
৫. বাস্তব জগত ও কল্পনার জগতের পার্থক্য:
বার্কলের মতে, বাস্তব জগতের ধারণাগুলি নিয়মবদ্ধ, স্থায়ী এবং মানুষের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু কল্পনার জগত ব্যক্তিগত মানসিক ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল এবং এতে স্থায়িত্ব ও নিয়মের অভাব রয়েছে।
এই আলোচনায় বার্কলের আত্মগত ভাববাদ, “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর” মতবাদ, জড়দ্রব্যের অস্তিত্ব খণ্ডন, ঈশ্বরের ধারণা এবং তাঁর দর্শনের গুরুত্ব সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বার্কলের মতে, বাহ্যিক জগত বলতে আমরা যা বুঝি তা আসলে মনের মধ্যে উৎপন্ন ধারণার সমষ্টি। তবে এই ধারণাগুলি মানুষের ইচ্ছাধীন নয়, তাই এর পিছনে একটি সর্বশক্তিমান সত্তার অস্তিত্ব স্বীকার করতে হয়। এই সত্তাই হল ঈশ্বর।
যদিও বার্কলের আত্মগত ভাববাদ বিভিন্ন দার্শনিকের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে বস্তুর স্বাধীন অস্তিত্ব ও বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার প্রশ্নে, তবুও জ্ঞান ও বাস্তবতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাঁর মতবাদ দর্শনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
এই লেখায় Berkeley’s Idealism, Subjective Idealism, Esse est Percipi, George Berkeley Philosophy, Western Philosophy এবং B.A. Philosophy-এর পরীক্ষাভিত্তিক বিষয়গুলি সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
যারা XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য বার্কলের আত্মগত ভাববাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ পরীক্ষায় বারবার “ভাববাদ কী?”, “বার্কলের আত্মগত ভাববাদ আলোচনা কর”, “অস্তিত্বই প্রত্যক্ষ নির্ভর বলতে কী বোঝায়”— এই ধরনের প্রশ্ন আসে।
তাই উপরোক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে জর্জ বার্কলের দর্শন, আত্মগত ভাববাদের মূল বক্তব্য, জড়দ্রব্যের খণ্ডন এবং তাঁর দার্শনিক গুরুত্ব সম্পর্কে সহজ, স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা অর্জন করা সম্ভব হবে।
আশা করা যায়, এই Video শিক্ষার্থীদের পাশ্চাত্য দর্শন অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং পরীক্ষামুখী করে তুলবে। এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।
