ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | 6 প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা | Nyaya Philosophy
লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা |
ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা | Nyaya Philosophy : ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ (Pratyakṣa Pramāṇa)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষোপযোগী বিষয় হলো লৌকিক সন্নিকর্ষ (Laukika Sannikarsha)। ন্যায় দর্শনের মতে, প্রত্যক্ষ জ্ঞান তখনই উৎপন্ন হয় যখন ইন্দ্রিয় ও বস্তুর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক বা সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের স্বাভাবিক সম্পর্ককেই বলা হয় লৌকিক সন্নিকর্ষ। ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ জ্ঞানতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে লৌকিক সন্নিকর্ষের ধারণা এবং এর ছয়টি প্রকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এই বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম এবং NET, SET, PSC, School Service, College Service-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই লৌকিক সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা, ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের নাম, প্রতিটির সংজ্ঞা, উদাহরণ এবং প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপত্তিতে এদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন আসে। তাই দর্শনের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিষয়টি ভালোভাবে আয়ত্ত করা অপরিহার্য।
ন্যায় দর্শনে লৌকিক সন্নিকর্ষ বলতে বোঝায় ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে এমন স্বাভাবিক বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক, যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ, ইন্দ্রিয় যখন কোনো বস্তুর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে, তখন সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই বস্তুর জ্ঞান লাভ করা যায়। এই স্বাভাবিক সম্পর্কই লৌকিক সন্নিকর্ষ নামে পরিচিত।
ন্যায় দর্শনের মতে, লৌকিক সন্নিকর্ষ ছয় প্রকার। এগুলি হলো—সংযোগ (সংযোগ সন্নিকর্ষ), সংযুক্ত-সমবায়, সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়, সমবায়, সমবেত-সমবায় এবং বিশেষণ-বিশেষ্যভাব। প্রত্যেকটি সন্নিকর্ষের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা রয়েছে এবং প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপত্তিতে প্রত্যেকটির ভূমিকা পৃথক।
এই প্রবন্ধে ন্যায় দর্শনের লৌকিক সন্নিকর্ষ সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে লৌকিক সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণে এর গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের প্রতিটির সংজ্ঞা, সহজ উদাহরণ, বৈশিষ্ট্য এবং পরীক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই আলোচনায় আরও দেখানো হয়েছে যে, কীভাবে ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের বিভিন্ন ধরনের সম্পর্কের মাধ্যমে রূপ, রং, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ, গুণ, ক্রিয়া এবং সামান্য (জাতি) সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করা যায়। এছাড়াও লৌকিক সন্নিকর্ষ এবং অলৌকিক সন্নিকর্ষের পার্থক্য, ন্যায় দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বে লৌকিক সন্নিকর্ষের গুরুত্ব এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণে এর বিশেষ ভূমিকা সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আপনি যদি ন্যায় দর্শনের লৌকিক সন্নিকর্ষ, ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ, ন্যায় দর্শনে প্রত্যক্ষ প্রমাণ, ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সম্পর্ক, Nyaya Philosophy, Pratyaksha Pramana, Indian Philosophy অথবা ভারতীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাভিত্তিক বিষয় সম্পর্কে নির্ভুল, সহজ ও পূর্ণাঙ্গ নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।
ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ
ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা | Nyaya Philosophy
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ (Pratyakṣa Pramāṇa) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। ন্যায় দর্শনের জ্ঞানতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে লৌকিক সন্নিকর্ষ (Laukika Sannikarsha) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী লৌকিক সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা, এর বৈশিষ্ট্য, ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সম্পর্ক, এবং ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। অথচ XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই ন্যায় দর্শনের লৌকিক সন্নিকর্ষ সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ন্যায় দর্শনে লৌকিক সন্নিকর্ষ বলতে ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে স্বাভাবিক বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ককে বোঝায়, যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ, কোনো ইন্দ্রিয় যখন কোনো বস্তুর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সেই সম্পর্কের ফলে জ্ঞান জন্মায়, তখন সেই সম্পর্ককে লৌকিক সন্নিকর্ষ বলা হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভের জন্য ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের এই সম্পর্ক অপরিহার্য।
ন্যায় দর্শনের মতে লৌকিক সন্নিকর্ষ ছয় প্রকার। এগুলি হলো—সংযোগ (Saṃyoga), সংযুক্ত-সমবায় (Saṃyukta-Samavāya), সংযুক্ত-সমবেত-সমবায় (Saṃyukta-Samaveta-Samavāya), সমবায় (Samavāya), সমবেত-সমবায় (Samaveta-Samavāya) এবং বিশেষণ-বিশেষ্যভাব (Viśeṣaṇa-Viśeṣya Bhāva)। প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি সন্নিকর্ষের ভূমিকা ভিন্ন এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
সংযোগ (Saṃyoga) হলো লৌকিক সন্নিকর্ষের প্রথম প্রকার। যখন কোনো ইন্দ্রিয় কোনো দ্রব্যের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হয় এবং সেই সংযোগের মাধ্যমে দ্রব্য সম্পর্কে জ্ঞান জন্মায়, তখন তাকে সংযোগ সন্নিকর্ষ বলা হয়। যেমন—চোখের মাধ্যমে একটি ঘট (কলস) দেখা।
সংযুক্ত-সমবায় (Saṃyukta-Samavāya) হলো দ্বিতীয় প্রকার। যখন ইন্দ্রিয় যে দ্রব্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, সেই দ্রব্যে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থিত গুণ বা ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়, তখন তাকে সংযুক্ত-সমবায় সন্নিকর্ষ বলা হয়। যেমন—ঘটের রং দেখা।
সংযুক্ত-সমবেত-সমবায় (Saṃyukta-Samaveta-Samavāya) হলো তৃতীয় প্রকার। যখন সংযুক্ত দ্রব্যে অবস্থিত গুণের মধ্যে যে সাধারণ ধর্ম (জাতি) বিদ্যমান, তার জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তখন তাকে সংযুক্ত-সমবেত-সমবায় সন্নিকর্ষ বলা হয়। যেমন—ঘটের রঙে “রূপত্ব” জাতির জ্ঞান লাভ।
সমবায় (Samavāya) হলো চতুর্থ প্রকার। যখন ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে সমবায় সম্পর্ক থাকে এবং সেই সম্পর্কের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ জ্ঞান জন্মায়, তখন তাকে সমবায় সন্নিকর্ষ বলা হয়। এর প্রধান উদাহরণ হলো—কানের মাধ্যমে শব্দের জ্ঞান লাভ।
সমবেত-সমবায় (Samaveta-Samavāya) হলো পঞ্চম প্রকার। যখন সমবায় সম্পর্কযুক্ত গুণের মধ্যে অবস্থিত সাধারণ ধর্মের জ্ঞান লাভ হয়, তখন তাকে সমবেত-সমবায় সন্নিকর্ষ বলা হয়। যেমন—শব্দের মধ্যে “শব্দত্ব” জাতির জ্ঞান।
বিশেষণ-বিশেষ্যভাব (Viśeṣaṇa-Viśeṣya Bhāva) হলো লৌকিক সন্নিকর্ষের ষষ্ঠ ও শেষ প্রকার। কোনো বস্তুর বিশেষণ ও বিশেষ্যের সম্পর্কের মাধ্যমে যখন প্রত্যক্ষ জ্ঞান জন্মায়, তখন তাকে বিশেষণ-বিশেষ্যভাব সন্নিকর্ষ বলা হয়। যেমন—”মাটিতে ঘট নেই”—এখানে ঘটের অনুপস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান বিশেষণ-বিশেষ্যভাব সম্পর্কের মাধ্যমে লাভ হয়।
ন্যায় দর্শনের ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলির মাধ্যমে ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয় এবং কীভাবে প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তার একটি সুসংবদ্ধ বিশ্লেষণ প্রদান করা হয়। দ্রব্য, গুণ, ক্রিয়া, সামান্য (জাতি), শব্দ এবং অভাব—প্রত্যেকটির প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভে ভিন্ন ভিন্ন সন্নিকর্ষ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
অতএব বলা যায়, লৌকিক সন্নিকর্ষ ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ তত্ত্বের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ছয় প্রকার সম্পর্কের মাধ্যমেই প্রত্যক্ষ জ্ঞান সম্ভব হয়। ভারতীয় জ্ঞানতত্ত্ব ও যুক্তিবিদ্যায় লৌকিক সন্নিকর্ষের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ন্যায় দর্শনের লৌকিক সন্নিকর্ষ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রশ্ন: সন্নিকর্ষ কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ আলোচনা কর।
উত্তর : ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিষয়ের সংযোগকে সন্নিকর্ষ বলা হয়। ‘সন্নিকর্ষ’ শব্দের অর্থ হলো সম্বন্ধ। আবার বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের যে সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই সম্বন্ধকেও সন্নিকর্ষ বলা হয়। সন্নিকর্ষ লৌকিক ও অলৌকিক—এই দুই প্রকার। অলৌকিক সন্নিকর্ষ তিন প্রকার এবং লৌকিক সন্নিকর্ষ ছয় প্রকার। লৌকিক সন্নিকর্ষ ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের স্বাভাবিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, পক্ষান্তরে অলৌকিক সন্নিকর্ষ বিশেষ পরিস্থিতিতে বা অসাধারণ উপায়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞানের জন্ম দেয়। ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ তত্ত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে এই দুই প্রকার সন্নিকর্ষ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

⬛ ন্যায়মতে, লৌকিক সন্নিকর্ষ ছয় প্রকার। যথা—
১. সংযোগ-সন্নিকর্ষ
২. সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৩. সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৪. সমবায়-সন্নিকর্ষ
৫. সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৬. বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
এই ছয় প্রকার সন্নিকর্ষ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো—
১. সংযোগ-সন্নিকর্ষ : দুটি দ্রব্যের মধ্যে যে সংযোগ বা সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সংযোগ-সন্নিকর্ষ বলে। আমাদের চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে যখন ঘটের প্রত্যক্ষ হয়, তখন যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সংযোগ-সন্নিকর্ষ বলা হয়। এখানে চক্ষু-ইন্দ্রিয় এবং ঘট উভয়ই দ্রব্য পদার্থ হওয়ায় তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয় এবং সেই সংযোগের মাধ্যমেই ঘটের প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ, ইন্দ্রিয় যখন কোনো বাহ্যিক বস্তুর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হয়, তখন সেই সম্পর্ককে সংযোগ-সন্নিকর্ষ বলা হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, দ্রব্যের প্রত্যক্ষ জ্ঞানের ক্ষেত্রে এই সন্নিকর্ষ প্রধান ভূমিকা পালন করে। সংক্ষেপে : চক্ষু + ঘট (দ্রব্য) = সংযোগ-সন্নিকর্ষ
২. সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ : চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে যখন দ্রব্যের গুণ, ক্রিয়া বা জাতির প্রত্যক্ষ হয়, তখন যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে। যেমন—চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে ঘটের রূপ (রং) প্রত্যক্ষ করার ক্ষেত্রে এই সন্নিকর্ষ ঘটে। এখানে চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে ঘটের সংযোগ (সংযোগ-সম্বন্ধ) স্থাপিত হয় এবং ঘটের মধ্যে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থিত রূপ বা গুণ প্রত্যক্ষ হয়। অর্থাৎ, ইন্দ্রিয় সরাসরি গুণের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে, গুণযুক্ত দ্রব্যের মাধ্যমে সেই গুণকে উপলব্ধি করে। এই কারণেই এই সন্নিকর্ষের নাম ‘সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ’। ন্যায় দর্শনের মতে, রূপ, বর্ণ, স্পর্শ, স্বাদ, গন্ধ, ক্রিয়া প্রভৃতি গুণের প্রত্যক্ষ জ্ঞান সাধারণত এই সন্নিকর্ষের মাধ্যমেই লাভ করা যায়।সংক্ষেপে : চক্ষু + ঘটের রূপ = সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৩. সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ : চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যখন দ্রব্যের গুণে অবস্থিত জাতি (সামান্য)-এর প্রত্যক্ষ হয়, তখন যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে। যেমন—চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে ঘটের রূপত্ব জাতির প্রত্যক্ষ। এখানে চক্ষু-ইন্দ্রিয় প্রথমে ঘট (দ্রব্য)-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়, ঘটে সমবায় সম্বন্ধে রূপ (গুণ) অবস্থান করে এবং সেই রূপে আবার সমবায় সম্বন্ধে রূপত্ব (জাতি বা সামান্য) অবস্থান করে। অর্থাৎ, ইন্দ্রিয় সরাসরি রূপত্ব জাতির সঙ্গে সংযুক্ত হয় না; বরং দ্রব্য ও গুণের মাধ্যমে রূপত্ব জাতিকে প্রত্যক্ষ করে। এই কারণে এই সন্নিকর্ষকে সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলা হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, গুণে অবস্থিত সামান্য বা জাতির প্রত্যক্ষ জ্ঞান এই সন্নিকর্ষের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। সংক্ষেপে : চক্ষু + ঘটের রূপত্ব = সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৪. সমবায়-সন্নিকর্ষ : কর্ণ-ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে যখন শব্দের প্রত্যক্ষ হয়, তখন যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে। এই সন্নিকর্ষ আকাশে ঘটে। এখানে আকাশ দ্রব্য এবং শব্দ তার বিশেষ গুণ। গুণ ও দ্রব্যের সম্বন্ধ সমবায় হওয়ায় একে সমবায়-সন্নিকর্ষ বলা হয়। এখানে কর্ণ-ইন্দ্রিয়ের উপাদান হলো আকাশ এবং শব্দও আকাশের গুণ। ফলে কর্ণ-ইন্দ্রিয় ও শব্দের মধ্যে সম্পর্ক সংযোগের মাধ্যমে নয়, বরং সমবায় সম্বন্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কারণেই শব্দের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে সংযোগ-সন্নিকর্ষ নয়, সমবায়-সন্নিকর্ষ কার্যকর হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, শব্দের প্রত্যক্ষ জ্ঞান একমাত্র এই সমবায়-সন্নিকর্ষের মাধ্যমেই সম্ভব এবং এটি লৌকিক সন্নিকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার। সংক্ষেপে :কর্ণ + আকাশস্থিত শব্দ = সমবায়-সন্নিকর্ষ
৫. সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ : কর্ণ-ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যখন শব্দত্ব জাতির প্রত্যক্ষ হয়, তখন যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে। এখানে শব্দত্ব সমবায় সম্বন্ধে শব্দে অবস্থিত এবং শব্দের সঙ্গে কর্ণ-ইন্দ্রিয়ের সমবায়-সন্নিকর্ষ থাকায় এই সন্নিকর্ষের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, কর্ণ-ইন্দ্রিয় সরাসরি শব্দত্ব জাতিকে উপলব্ধি করে না; বরং প্রথমে শব্দকে প্রত্যক্ষ করে এবং সেই শব্দে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থিত শব্দত্ব (জাতি)-এর জ্ঞান লাভ করে। তাই শব্দত্বের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে সমবায়ের উপর আবার সমবায় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় বলে একে ‘সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ’ বলা হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, শব্দের সাধারণ ধর্ম বা শব্দত্ব জাতির প্রত্যক্ষ জ্ঞান এই সন্নিকর্ষের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। সংক্ষেপে :কর্ণ + শব্দত্ব = সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৬. বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ : অভাবের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ বলে। যেমন—ভূতলে ঘটের অভাব প্রত্যক্ষ করার ক্ষেত্রে এই সন্নিকর্ষ ঘটে। এখানে ভূতল হলো বিশেষ্য এবং ঘটের অভাব হলো তার বিশেষণ। অর্থাৎ, কোনো স্থানে কোনো বস্তুর অনুপস্থিতি বা অভাবকে প্রত্যক্ষ করার জন্য ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সেই স্থানের সম্পর্কের মাধ্যমে অভাবের জ্ঞান উৎপন্ন হয়। এই ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় সরাসরি অভাবের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে, অভাবযুক্ত স্থান বা অধিকরণের মাধ্যমে অভাবকে উপলব্ধি করে। তাই এই সন্নিকর্ষকে বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ বলা হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, অভাব পদার্থের প্রত্যক্ষ জ্ঞান শুধুমাত্র এই সন্নিকর্ষের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। সংক্ষেপে : ভূতল + ঘটের অভাব = বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
🍂 উপসংহার : এই ছয় প্রকার সন্নিকর্ষের মধ্যে প্রথম পাঁচ প্রকার কেবল ভাব-পদার্থের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ঘটে এবং ষষ্ঠ প্রকার, অর্থাৎ বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ, কেবল অভাব-পদার্থের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ঘটে। অর্থাৎ, সংযোগ, সংযুক্ত-সমবায়, সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়, সমবায় এবং সমবেত-সমবায়—এই পাঁচ প্রকার সন্নিকর্ষের মাধ্যমে দ্রব্য, গুণ, ক্রিয়া, জাতি প্রভৃতি অস্তিত্বশীল বা ভাব পদার্থের জ্ঞান লাভ করা যায়। পক্ষান্তরে, কোনো বস্তুর অনুপস্থিতি বা অভাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষের প্রয়োজন হয়। তাই ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ তত্ত্বে লৌকিক সন্নিকর্ষের এই ছয়টি প্রকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | 6 প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা
১. ‘সন্নিকর্ষ’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) জ্ঞান
(খ) সম্বন্ধ
(গ) অনুমান
(ঘ) প্রত্যক্ষ
উত্তর: (খ) সম্বন্ধ ✅
২. ন্যায় দর্শনে সন্নিকর্ষ কত প্রকার?
(ক) দুই প্রকার
(খ) তিন প্রকার
(গ) চার প্রকার
(ঘ) ছয় প্রকার
উত্তর: (ক) দুই প্রকার ✅
৩. সন্নিকর্ষ প্রধানত কোন দুই প্রকার?
(ক) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ
(খ) লৌকিক ও অলৌকিক
(গ) ভাব ও অভাব
(ঘ) দ্রব্য ও গুণ
উত্তর: (খ) লৌকিক ও অলৌকিক ✅
৪. লৌকিক সন্নিকর্ষ কত প্রকার?
(ক) তিন প্রকার
(খ) চার প্রকার
(গ) পাঁচ প্রকার
(ঘ) ছয় প্রকার
উত্তর: (ঘ) ছয় প্রকার ✅
৫. অলৌকিক সন্নিকর্ষ কত প্রকার?
(ক) দুই প্রকার
(খ) তিন প্রকার
(গ) ছয় প্রকার
(ঘ) সাত প্রকার
উত্তর: (খ) তিন প্রকার ✅
৬. দুটি দ্রব্যের মধ্যে যে সংযোগ ঘটে তাকে কী বলে?
(ক) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(খ) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(ঘ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (গ) সংযোগ-সন্নিকর্ষ ✅
৭. চক্ষু + ঘট (দ্রব্য) কোন সন্নিকর্ষের উদাহরণ?
(ক) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(খ) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(ঘ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (ক) সংযোগ-সন্নিকর্ষ ✅
৮. ঘটের রূপের প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
(ক) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(খ) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(ঘ) সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (খ) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ ✅
৯. গুণ, ক্রিয়া বা জাতির প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে কোন সন্নিকর্ষ ঘটে?
(ক) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(খ) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(গ) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(ঘ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (ক) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ ✅
১০. ঘটের রূপত্ব জাতির প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
(ক) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(খ) সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(ঘ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (খ) সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ ✅
১১. শব্দের প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
(ক) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(খ) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(ঘ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (খ) সমবায়-সন্নিকর্ষ ✅
১২. শব্দ কোন দ্রব্যের গুণ?
(ক) পৃথিবী
(খ) জল
(গ) আকাশ
(ঘ) বায়ু
উত্তর: (গ) আকাশ ✅
১৩. কর্ণ-ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে শব্দের প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের উদাহরণ?
(ক) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(খ) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(গ) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(ঘ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (ক) সমবায়-সন্নিকর্ষ ✅
১৪. শব্দত্ব জাতির প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
(ক) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(খ) সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(ঘ) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (খ) সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ ✅
১৫. অভাবের প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
(ক) সংযোগ-সন্নিকর্ষ
(খ) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
(ঘ) সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (গ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ ✅
১৬. ভূতলে ঘটের অভাব কোন সন্নিকর্ষের উদাহরণ?
(ক) সংযুক্ত-সমবায়
(খ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব
(গ) সমবায়
(ঘ) সংযোগ
উত্তর: (খ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব ✅
১৭. প্রথম পাঁচ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ কোন পদার্থের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ঘটে?
(ক) অভাব-পদার্থ
(খ) ভাব-পদার্থ
(গ) অলৌকিক পদার্থ
(ঘ) আত্মা
উত্তর: (খ) ভাব-পদার্থ ✅
১৮. ষষ্ঠ লৌকিক সন্নিকর্ষ কোন পদার্থের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ঘটে?
(ক) দ্রব্য
(খ) গুণ
(গ) অভাব
(ঘ) ক্রিয়া
উত্তর: (গ) অভাব ✅
১৯. ন্যায় দর্শনের কোন প্রমাণের সঙ্গে সন্নিকর্ষ বিশেষভাবে সম্পর্কিত?
(ক) অনুমান প্রমাণ
(খ) শব্দ প্রমাণ
(গ) প্রত্যক্ষ প্রমাণ
(ঘ) উপমান প্রমাণ
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষ প্রমাণ ✅
২০. লৌকিক সন্নিকর্ষের শেষ প্রকার কোনটি?
(ক) সমবায়-সন্নিকর্ষ
(খ) সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
(গ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ
(ঘ) সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
উত্তর: (গ) বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ ✅
SAQ প্রশ্নাবলি :ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | 6 প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা
ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | ২০টি SAQ (MCQ থেকে আলাদা)
১. সন্নিকর্ষ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিষয়ের যে সম্পর্ক বা সংযোগ স্থাপিত হয়, তাকে সন্নিকর্ষ বলা হয়। ন্যায় দর্শনের মতে, প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হওয়ার জন্য ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে সন্নিকর্ষ থাকা অপরিহার্য।
২. সন্নিকর্ষ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘সন্নিকর্ষ’ শব্দের অর্থ হলো সম্বন্ধ বা সম্পর্ক। ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, তাকেই সন্নিকর্ষ বলা হয়।
৩. ন্যায় দর্শনে সন্নিকর্ষ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ন্যায় দর্শনে সন্নিকর্ষ দুই প্রকার— (১) লৌকিক সন্নিকর্ষ এবং (২) অলৌকিক সন্নিকর্ষ।
৪. লৌকিক সন্নিকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক বা প্রত্যক্ষ সম্পর্কের মাধ্যমে জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাকে লৌকিক সন্নিকর্ষ বলে।
৫. অলৌকিক সন্নিকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: যে সন্নিকর্ষ সাধারণ ইন্দ্রিয়-বিষয় সম্পর্কের বাইরে বিশেষ উপায়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন করে, তাকে অলৌকিক সন্নিকর্ষ বলে।
৬. লৌকিক সন্নিকর্ষ কত প্রকার? নাম লেখ।
উত্তর: লৌকিক সন্নিকর্ষ ছয় প্রকার। যথা—
১. সংযোগ-সন্নিকর্ষ
২. সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৩. সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৪. সমবায়-সন্নিকর্ষ
৫. সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ
৬. বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ।
৭. সংযোগ-সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: দুটি দ্রব্যের মধ্যে যে সংযোগ বা সম্পর্কের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাকে সংযোগ-সন্নিকর্ষ বলে।
৮. সংযোগ-সন্নিকর্ষের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: চক্ষু-ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে ঘটের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে সংযোগ-সন্নিকর্ষ ঘটে।
৯. সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সংযুক্ত দ্রব্যের মধ্যে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থিত গুণ, ক্রিয়া বা জাতির প্রত্যক্ষ হলে তাকে সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে।
১০. ঘটের রূপ প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে কোন সন্নিকর্ষ কাজ করে?
উত্তর: ঘটের রূপ প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ কাজ করে। কারণ রূপ ঘটের মধ্যে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থান করে।
১১. সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: দ্রব্যের গুণে অবস্থিত জাতি বা সামান্যের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে।
১২. রূপত্ব জাতির প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
উত্তর: রূপত্ব জাতির প্রত্যক্ষ সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়।
১৩. সমবায়-সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: যখন ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে কোনো বিষয়ের সম্পর্ক সমবায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার ফলে প্রত্যক্ষ জ্ঞান জন্মায়, তখন তাকে সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে।
১৪. শব্দের প্রত্যক্ষ কোন সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়?
উত্তর: শব্দের প্রত্যক্ষ সমবায়-সন্নিকর্ষের মাধ্যমে হয়।
১৫. সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কোনো গুণে অবস্থিত জাতির প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ বলে।
১৬. শব্দত্ব জাতির প্রত্যক্ষ কীভাবে হয়?
উত্তর: শব্দত্ব জাতি শব্দে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থান করে এবং শব্দের সঙ্গে কর্ণ-ইন্দ্রিয়ের সমবায় সম্পর্ক থাকায় শব্দত্বের প্রত্যক্ষ হয়।
১৭. বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তুর অভাব বা অনুপস্থিতির প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে যে সন্নিকর্ষ ঘটে, তাকে বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ বলে।
১৮. অভাবের প্রত্যক্ষের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ভূতলে ঘটের অভাব প্রত্যক্ষ করার ক্ষেত্রে বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ ঘটে।
১৯. প্রথম পাঁচ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ কোন পদার্থের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ঘটে?
উত্তর: প্রথম পাঁচ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ ভাব-পদার্থের প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ঘটে।
২০. ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণে সন্নিকর্ষের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ তত্ত্বে সন্নিকর্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক স্থাপিত না হলে প্রত্যক্ষ জ্ঞান উৎপন্ন হয় না। সন্নিকর্ষই প্রত্যক্ষ জ্ঞানের প্রধান ভিত্তি।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে ন্যায় দর্শনের লৌকিক সন্নিকর্ষ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। ন্যায় দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ (Pratyaksha Pramana) ও জ্ঞানতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে “লৌকিক সন্নিকর্ষ” সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী লৌকিক সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা, ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সম্পর্ক, ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের প্রকৃতি, সংযোগ, সংযুক্ত-সমবায়, সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়, সমবায়, সমবেত-সমবায় এবং বিশেষণ-বিশেষ্যভাব সন্নিকর্ষের ব্যাখ্যা বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়। সেই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)**-এ “ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
এখানে ন্যায় দর্শনে প্রত্যক্ষ প্রমাণের ধারণা, সন্নিকর্ষের অর্থ, লৌকিক ও অলৌকিক সন্নিকর্ষের পার্থক্য, লৌকিক সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা, ছয় প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের শ্রেণিবিভাগ এবং প্রতিটি সন্নিকর্ষ—সংযোগ-সন্নিকর্ষ, সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ, সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ, সমবায়-সন্নিকর্ষ, সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ এবং বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ-এর অর্থ ও ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সম্পর্ক, দ্রব্য, গুণ, ক্রিয়া, জাতি এবং অভাবের প্রত্যক্ষ জ্ঞানে বিভিন্ন সন্নিকর্ষের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র লিখিত আলোচনা পড়ে অনেক সময় ন্যায় দর্শনের এই জটিল প্রত্যক্ষ জ্ঞানতত্ত্ব সম্পূর্ণভাবে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত যারা সহজ, সাবলীল এবং উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে লৌকিক সন্নিকর্ষ বিষয়টি আয়ত্ত করতে চায়, তাদের জন্য দৃশ্য ও শ্রবণনির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি অধিক কার্যকর। এই বিষয়টি মাথায় রেখে “ন্যায় দর্শন – লৌকিক সন্নিকর্ষ | ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের সহজ ব্যাখ্যা | Nyaya Philosophy” শীর্ষক একটি বিস্তারিত YouTube Video প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে ন্যায় মতে প্রত্যক্ষ প্রমাণের প্রকৃতি, সন্নিকর্ষের প্রয়োজনীয়তা, লৌকিক সন্নিকর্ষের অর্থ, ছয় প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষের বৈশিষ্ট্য, উদাহরণসহ সংযোগ-সন্নিকর্ষ, সংযুক্ত-সমবায়-সন্নিকর্ষ, সংযুক্ত-সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ, সমবায়-সন্নিকর্ষ, সমবেত-সমবায়-সন্নিকর্ষ এবং বিশেষণ-বিশেষ্যভাব-সন্নিকর্ষ অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লৌকিক সন্নিকর্ষের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে এর গভীর দার্শনিক তাৎপর্য পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হবে।
যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই Video বিশেষভাবে সহায়ক হবে। কারণ এখানে শুধু লৌকিক সন্নিকর্ষের সংজ্ঞা বা তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং প্রতিটি সন্নিকর্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, উদাহরণ এবং পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলিও সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি নিচে দেওয়া Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে ন্যায় দর্শনের লৌকিক সন্নিকর্ষ, ৬ প্রকার লৌকিক সন্নিকর্ষ, প্রত্যক্ষ প্রমাণ, ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সম্পর্ক, ভাব-পদার্থ ও অভাব-পদার্থের প্রত্যক্ষ এবং ন্যায় দর্শনের জ্ঞানতত্ত্ব সম্পর্কে যথার্থ, নির্ভুল ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই Video আপনাদের অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।
