হিউমের সংশয়বাদ 🔥 | সংশয়বাদ কাকে বলে? | David Hume Skepticism | B.A Philosophy Notes 2026
হিউমের সংশয়বাদ
হিউমের সংশয়বাদ (Hume’s Skepticism) পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে অভিজ্ঞতাবাদী দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক আলোচনা। জ্ঞান কীভাবে অর্জিত হয়, কার্য-কারণ সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি কী, বাহ্যজগত ও আত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা কতটুকু নিশ্চিত হতে পারি এবং মানুষের জ্ঞানের সীমা কোথায়—এই প্রশ্নগুলির উত্তর অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডেভিড হিউম তাঁর সংশয়বাদের তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
হিউমের সংশয়বাদ B.A. Philosophy (Major/Minor), XI শ্রেণির দর্শন, NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষায় প্রায়ই “হিউমের সংশয়বাদ আলোচনা কর”, “হিউম কেন কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে সংশয়বাদী ছিলেন?”, “হিউমের সংশয়বাদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর”, “হিউমের জ্ঞানতত্ত্ব ব্যাখ্যা কর”—এই ধরনের প্রশ্ন আসে।
এই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)**-এ “হিউমের সংশয়বাদ 🔥 | David Hume Skepticism | কার্য-কারণ সম্পর্ক ও জ্ঞানের সীমা | B.A Philosophy Notes 2026” বিষয়টি সহজ ভাষায়, যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষার উপযোগী পদ্ধতিতে আলোচনা করা হয়েছে।
ডেভিড হিউম ছিলেন আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতাবাদী (Empiricist) দার্শনিক। তিনি জন লক ও জর্জ বার্কলের অভিজ্ঞতাবাদকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যান, যেখানে মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই বিশ্লেষণের ফলস্বরূপ তিনি সংশয়বাদের দিকে অগ্রসর হন এবং যুক্তি দেন যে মানুষের অনেক প্রচলিত বিশ্বাসের পক্ষে নিশ্চিত জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
হিউমের মতে, মানুষের সমস্ত জ্ঞানের উৎস হলো অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা ব্যতীত কোনো ধারণা বা জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। তিনি মানবমনের সমস্ত বিষয়বস্তুকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন— Impressions (প্রত্যক্ষ ও জীবন্ত অনুভূতি) এবং Ideas (অনুভূতির স্মৃতি বা ধারণা)। তাঁর মতে, প্রত্যেকটি ধারণার মূলেই কোনো না কোনো প্রত্যক্ষ অনুভূতি বিদ্যমান থাকে।
হিউমের সংশয়বাদের মূল আলোচ্য বিষয় হলো কার্য-কারণ (Cause and Effect) সম্পর্ক। মানুষের সাধারণ বিশ্বাস হলো একটি ঘটনা অন্য ঘটনার কারণ। কিন্তু হিউম বলেন, আমরা কখনোই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো অপরিহার্য বা আবশ্যিক সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করি না। আমরা শুধু একটি ঘটনার পর আরেকটি ঘটনা বারবার সংঘটিত হতে দেখি। এই পুনরাবৃত্ত অভিজ্ঞতার ফলেই আমাদের মনে কার্য-কারণ সম্পর্কের ধারণা জন্মায়।
হিউমের মতে, যদি আগুনে হাত দিলে বারবার হাত পুড়ে যায়, তাহলে আমরা অভ্যাসবশত মনে করি যে আগুনই পোড়ানোর কারণ। কিন্তু বাস্তবে আমরা আগুন ও পোড়ার মধ্যে কোনো আবশ্যিক শক্তি বা সংযোগ প্রত্যক্ষ করি না। অর্থাৎ কার্য-কারণ সম্পর্ক যুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং অভ্যাস (Custom or Habit)-এর মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
হিউম বাহ্যজগতের অস্তিত্ব সম্পর্কেও সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আমরা কেবল অনুভূতি ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকেই জানতে পারি। বাহ্যিক বস্তু বা জগতের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, কারণ আমরা বস্তুটিকে নয়, বরং তার অনুভূতিকেই প্রত্যক্ষ করি।
একইভাবে আত্মা বা Self সম্পর্কেও হিউম সংশয়বাদী ছিলেন। তিনি বলেন, আত্মা নামে কোনো স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় সত্তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। যখন আমরা নিজের মনকে পর্যবেক্ষণ করি, তখন কেবল বিভিন্ন অনুভূতি, চিন্তা, আবেগ ও অভিজ্ঞতার ধারাবাহিক প্রবাহ দেখতে পাই। এই কারণেই তিনি আত্মাকে Bundle of Perceptions (অনুভূতির সমষ্টি) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
হিউমের মতে, মানুষের জ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। অভিজ্ঞতার বাইরে অবস্থিত ঈশ্বর, আত্মা, জগতের চূড়ান্ত কারণ কিংবা অধিবিদ্যাগত বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। ফলে এসব বিষয়ে মানুষের উচিত সতর্ক ও সংযত অবস্থান গ্রহণ করা।
হিউমের সংশয়বাদ পাশ্চাত্য দর্শনে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করে। তিনি দেখিয়েছেন যে, মানুষের যুক্তি সর্বশক্তিমান নয় এবং অভিজ্ঞতার সীমা অতিক্রম করলে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায় না। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীকালে ইমানুয়েল কান্টসহ বহু দার্শনিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। কান্ট নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, হিউমের সংশয়বাদ তাঁকে তাঁর “দার্শনিক নিদ্রা” থেকে জাগিয়ে তুলেছিল।
তবে হিউমের সংশয়বাদ বিভিন্ন দার্শনিকের সমালোচনারও সম্মুখীন হয়েছে। অনেকের মতে, যদি কার্য-কারণ সম্পর্ককে শুধুমাত্র অভ্যাসের ফল বলা হয়, তাহলে বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা এবং প্রাকৃতিক নিয়মের নিশ্চিত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার আত্মার স্থায়ী অস্তিত্ব অস্বীকার করলে ব্যক্তিগত পরিচয়, নৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধের ব্যাখ্যাও জটিল হয়ে যায়।
এছাড়াও সমালোচকরা মনে করেন, অতিরিক্ত সংশয়বাদ মানুষের জ্ঞানচর্চাকে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে। কারণ যদি কোনো বিষয়েই নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিজ্ঞান, দর্শন এবং দৈনন্দিন জীবনের বহু বিশ্বাসের ভিত্তি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।
এই আলোচনায় হিউমের সংশয়বাদের ধারণা, জ্ঞানতত্ত্ব, Impressions ও Ideas-এর পার্থক্য, কার্য-কারণ সম্পর্কের ব্যাখ্যা, আত্মা সম্পর্কে মতবাদ, বাহ্যজগত সম্পর্কিত সংশয় এবং তাঁর দর্শনের সমালোচনা সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক ভাষায় বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
হিউমের সংশয়বাদ শুধুমাত্র একটি সংশয়মূলক মতবাদ নয়; এটি আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব, অভিজ্ঞতাবাদ এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অবদান। মানুষের জ্ঞানের সীমা নির্ধারণ এবং অভিজ্ঞতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই তত্ত্বের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
আপনি যদি Hume’s Skepticism, David Hume Theory of Skepticism, Hume Theory of Causation, Empiricism, Bundle Theory of Self, Western Philosophy অথবা B.A. Philosophy Notes খুঁজে থাকেন, তাহলে এই আলোচনা আপনার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন, সাজেশন, Previous Year Questions (PYQ) এবং পরীক্ষামুখী নোট সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ, কার্যকর এবং সফল করে তুলবে।
সংশয়বাদ কাকে বলে ? | David Hume Skepticism
পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে সংশয়বাদ (Skepticism) এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক মতবাদ, যা মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং নিশ্চিত জ্ঞানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই মতবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা হলেন ডেভিড হিউম (David Hume)। তিনি দেখিয়েছেন যে, মানুষ যা কিছু জানে তার ভিত্তি হলো অভিজ্ঞতা; কিন্তু অভিজ্ঞতার বাইরের কোনো বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান দাবি করা যায় না। তাই হিউমের সংশয়বাদ আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology)-এর ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
“সংশয়বাদ কাকে বলে?”, “হিউমের সংশয়বাদ আলোচনা কর”, “হিউম কেন সংশয়বাদী?”, “হিউমের সংশয়বাদের বৈশিষ্ট্য লেখ”—এই প্রশ্নগুলি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নিয়মিত আসে। তাই পরীক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টির স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ডেভিড হিউম একজন বিখ্যাত অভিজ্ঞতাবাদী (Empiricist) দার্শনিক। তিনি মনে করেন, মানুষের সমস্ত জ্ঞানের মূল উৎস হলো ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা (Sense Experience)। মানুষের মনের সমস্ত ধারণা প্রত্যক্ষ অনুভূতি থেকে সৃষ্টি হয়। যে বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, সেই বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞানও সম্ভব নয়। এই যুক্তির উপর ভিত্তি করেই তিনি সংশয়বাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন।
হিউম বিশেষভাবে কার্য-কারণ সম্পর্ক (Cause and Effect), আত্মার অস্তিত্ব (Self), বাহ্যজগত (External World) এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব (God) সম্পর্কে মানুষের নিশ্চিত জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁর মতে, আমরা কেবল ঘটনাগুলির ধারাবাহিকতা দেখি; কিন্তু একটি ঘটনা অন্যটির আবশ্যিক কারণ—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। তাই কার্য-কারণ সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস মূলত অভ্যাস (Habit) বা পুনরাবৃত্ত অভিজ্ঞতার ফল, যুক্তির ফল নয়।

হিউমের সংশয়বাদ কেবল জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং পাশ্চাত্য দর্শনের গতিপথও পরিবর্তন করেছে। তাঁর চিন্তাধারা ইমানুয়েল কান্টকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। কান্ট নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, হিউমের দর্শন তাঁকে নতুনভাবে দর্শনচিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
এই আলোচনায় সংশয়বাদের সংজ্ঞা, হিউমের সংশয়বাদের মূল বক্তব্য, সংশয়বাদের বৈশিষ্ট্য, কার্য-কারণ তত্ত্ব, Impressions ও Ideas, আত্মা সম্পর্কে হিউমের মতবাদ, বাহ্যজগত সম্পর্কে ধারণা, সংশয়বাদের সমালোচনা এবং পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অত্যন্ত সহজ ভাষায় ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আপনি যদি Hume Skepticism, David Hume Philosophy, Skepticism in Western Philosophy, Hume Theory of Causation, Empiricism, BA Philosophy Notes, Hume Epistemology অথবা সংশয়বাদ কাকে বলে—এই বিষয়গুলির নির্ভুল ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই আলোচনা আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
এই নোটের শেষে MCQ, SAQ, বড় প্রশ্নের উত্তর, Previous Year Questions (PYQ), গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন, পরীক্ষার টিপস এবং দ্রুত রিভিশন নোট সংযোজন করা হয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ, কার্যকর এবং সফল করে তুলবে।
সংশয়বাদ কাকে বলে? হিউমের সংশয়বাদ আলোচনা কর।
মানুষ সাধারণত জগৎ সম্পর্কে যে জ্ঞান অর্জন করেছে বলে দাবি করে সেই জ্ঞানের ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ও অভ্রান্তের সন্দেহ পোষণ করার প্রবণতাকেই সংশয়বাদ বলে। সংশয়বাদীরা অপরের উক্তির ওপর নির্ভর করে কোন কিছু বিশ্বাস করতে রাজি হয় না। সমগ্র জগত এবং জগতের অংশ বিশেষ সম্বন্ধে শক্তিশালী যুক্তির সমর্থন থাকলেও সংশয়বাদীরা তাকে সংশয় মুক্ত মনে করেন না। যৌক্তিকভাবে যা কিছুকে সংশয় করা যায় এমন সমস্ত বিষয়কে সংশয়বাদীরা সংশয় করে থাকেন।
সংশয়বাদ (Skepticism) হলো পাশ্চাত্য দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক মতবাদ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জ্ঞানের প্রকৃতি, সীমা এবং নির্ভরযোগ্যতা বিচার করা। সংশয়বাদীরা মনে করেন যে, মানুষ যে সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছে বলে মনে করে, সেগুলির সবকিছুই সমানভাবে নিশ্চিত নয়। তাই কোনো বিষয়কে সত্য বলে গ্রহণ করার আগে তার যথাযথ প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।
সংশয়বাদ শব্দটি গ্রিক ‘Skepsis’ শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে, যার অর্থ হলো অনুসন্ধান, বিচার বা পরীক্ষা। অর্থাৎ সংশয়বাদ অন্ধ অবিশ্বাস নয়; বরং সত্য অনুসন্ধানের একটি বিশেষ পদ্ধতি। কোনো বক্তব্য বা মতবাদকে গ্রহণ করার আগে তার যথার্থতা বিচার করাই সংশয়বাদের মূল বৈশিষ্ট্য।
সংশয়বাদীদের মতে, মানুষের ইন্দ্রিয় সীমাবদ্ধ এবং মানুষের যুক্তিশক্তিও সবসময় নির্ভুল নয়। তাই মানুষের অর্জিত জ্ঞানের মধ্যে ভুল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে সংশয়বাদীরা জ্ঞানের দাবিগুলিকে পরীক্ষা করে দেখতে চান এবং যে বিষয়ের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই, সেটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
পাশ্চাত্য দর্শনে সর্বপ্রথম ডেকার্তই সংশয় দিয়ে দর্শন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীকালে হিউমও মনে করেন যে সংশয়বাদ হলো সকল দার্শনিক আলোচনার অনিবার্য সূত্রপাত। যদিও হিউম একজন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক তবুও তিনি জড়, মন বা আত্মাকে যুক্তি দ্বারা মেনে নেন। তিনি লকের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে অবশেষে সংশয়বাদে উপনীত হয়েছেন।
পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে সংশয়বাদের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক দর্শনে পাইরো (Pyrrho)-এর মাধ্যমে সংশয়বাদ বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। পরবর্তীকালে আধুনিক দর্শনে ডেকার্ত সংশয়কে একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি মনে করেছিলেন যে, সমস্ত সন্দেহজনক বিষয়কে বাদ দিয়ে এমন একটি সত্য খুঁজে বের করতে হবে যা কোনোভাবেই সন্দেহ করা যায় না। তাঁর বিখ্যাত উক্তি— “আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি” (Cogito Ergo Sum)—এই পদ্ধতিগত সংশয়ের ফল।
কিন্তু হিউমের সংশয়বাদ ডেকার্তের সংশয়বাদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ডেকার্ত সংশয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞানের সন্ধান করেছিলেন, কিন্তু হিউম মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা দেখানোর জন্য সংশয়বাদ ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, মানুষের জ্ঞান মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর এবং অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
হিউম ছিলেন অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। তিনি লকের অভিজ্ঞতাবাদকে আরও কঠোরভাবে বিশ্লেষণ করেন। লক বলেছিলেন, মানুষের মন জন্মের সময় শূন্য থাকে এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে। হিউম এই ধারণাকে গ্রহণ করে বলেন যে, মানুষের সমস্ত জ্ঞান অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে যেসব বিষয়ের কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই, সেসব বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান দাবি করা যায় না।
হিউম মানুষের মনের বিষয়বস্তুকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন— Impressions (প্রত্যক্ষ অনুভূতি) এবং Ideas (ধারণা)। তাঁর মতে, Impressions হলো প্রত্যক্ষ, জীবন্ত ও শক্তিশালী অনুভূতি, যেমন—দেখা, শোনা, স্পর্শ করা ইত্যাদি। আর Ideas হলো সেই অনুভূতিগুলির দুর্বল প্রতিচ্ছবি বা স্মৃতি।
হিউমের মতে, প্রত্যেকটি ধারণার উৎস কোনো না কোনো প্রত্যক্ষ অনুভূতি। অর্থাৎ যে ধারণার পিছনে কোনো Impression নেই, সেই ধারণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। এই নীতির ভিত্তিতে তিনি বহু প্রচলিত দার্শনিক ধারণার সমালোচনা করেন।
উদাহরণস্বরূপ, আমরা ‘ঈশ্বর’, ‘আত্মা’ বা ‘অপরিবর্তনীয় সত্তা’ সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা রাখি। কিন্তু এই ধারণাগুলির পেছনে কোনো প্রত্যক্ষ অনুভূতি আছে কিনা, তা হিউম প্রশ্ন করেন। তাঁর মতে, যেসব বিষয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায় না, সেগুলির সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান দাবি করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
হিউমের মতে মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হল বাহ্যজগতকে সত্য বলে মনে করা। হিউম বলেন বাহ্য বস্তুর অস্তিত্ব মনের ধারণা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই বাহ্যবস্তুর অস্তিত্ব সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
হিউমের মতে, মানুষ সাধারণত বিশ্বাস করে যে আমাদের মনের বাইরে একটি স্বাধীন বাহ্যজগৎ রয়েছে। আমরা মনে করি যে, টেবিল, চেয়ার, গাছ, পাহাড় ইত্যাদি বস্তু আমাদের মনের বাইরে স্বাধীনভাবে অস্তিত্বশীল। কিন্তু হিউম বলেন, আমরা সরাসরি কোনো বাহ্যবস্তুকে জানতে পারি না; আমরা কেবল আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুভূতিগুলিকেই জানতে পারি।

যখন আমরা কোনো বস্তুকে দেখি, তখন আমরা তার রং, আকৃতি, গন্ধ বা স্পর্শ অনুভব করি। কিন্তু এই অনুভূতিগুলির বাইরে বস্তুটির স্বাধীন অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ পাই না। তাই বাহ্যজগতের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস থাকলেও তা দার্শনিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।
তবে হিউম বাস্তব জীবনে বাহ্যজগতের অস্তিত্ব অস্বীকার করেননি। তিনি স্বীকার করেন যে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য বাহ্যজগতের প্রতি বিশ্বাস অপরিহার্য। কিন্তু দার্শনিক বিচারের ক্ষেত্রে তিনি বলেন যে, এই বিশ্বাসের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে মনের ধারণা থাকলেও বাহ্যবস্তু বলে কিছু থাকে না। আবার কোন বস্তুর প্রমাণের সময় ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করা যায় না কারণ ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণযোগ্য নয়। সুতরাং হিউম বলেন ইন্দ্রিয় লগ্ধ জ্ঞানে সংশয়বাদ অনিবার্য।
হিউমের মতে, মানুষের মন বিভিন্ন ধারণা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সেই ধারণার সঙ্গে বাস্তব বস্তুর অস্তিত্ব সবসময় যুক্ত থাকে না। যেমন—মানুষ কল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন কাল্পনিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই শুধুমাত্র মনের মধ্যে কোনো ধারণা থাকার অর্থ এই নয় যে তার বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে।
ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কেও হিউম সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঈশ্বরের অস্তিত্ব ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যায় না। তাই ঈশ্বরের অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার ক্ষেত্রে মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। তবে তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে সরাসরি অস্বীকার করেননি; বরং বলেছেন যে, এটি বিশ্বাসের বিষয়, নিশ্চিত জ্ঞানের বিষয় নয়।
হিউমের সংশয়বাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কার্য-কারণ সম্পর্কের সমালোচনা। মানুষের সাধারণ ধারণা হলো, প্রত্যেক ঘটনার পেছনে একটি কারণ থাকে। কিন্তু হিউম বলেন, আমরা কখনোই কারণের কোনো বিশেষ শক্তিকে প্রত্যক্ষ করি না। আমরা শুধু দেখি যে একটি ঘটনার পরে আরেকটি ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটে।
যেমন, আগুনের সংস্পর্শে এলে কাপড় পুড়ে যায়। আমরা বারবার এই ঘটনা দেখতে দেখতে মনে করি যে আগুনই পোড়ার কারণ। কিন্তু আগুনের মধ্যে ‘পোড়ানোর শক্তি’ নামক কোনো বিষয়কে আমরা প্রত্যক্ষ করি না। তাই কার্য-কারণ সম্পর্ক যুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং অভ্যাস বা পুনরাবৃত্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এইভাবে হিউম দেখিয়েছেন যে মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ এবং অনেক প্রচলিত বিশ্বাসের ভিত্তি যুক্তিগত নিশ্চয়তা নয়, বরং অভ্যাস ও অভিজ্ঞতা। তাঁর সংশয়বাদ মানুষের জ্ঞানের সীমা নির্ধারণে এবং আধুনিক দর্শনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সংশয়বাদের প্রকারভেদ:- পাশ্চাত্য দর্শনের সংশয়বাদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথা- চরম সংশয়বাদ ও লঘু সংশয়বাদ। অর্থাৎ হিউম চরম সংশয়বাদ সমর্থন করেন না। তার মতে চরম সংশয়বাদ আমাদের সমাজে ও দৈনন্দিন জীবনে কোন উপকার করে না বরং বিলুপ্তি ঘটায়। অন্যদিকে লঘু সংশয়বাদ হলো এমন এক বিচক্ষণ দার্শনিকদের মতবাদ যেখানে সমাজের উন্নতি ঘটে। লঘু সংশয়বাদে এমন কতকগুলি গুন আছে যেগুলি যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত লাভে সাহায্য করে। গুনগুলি হল স্বাধীনতা, সংশয় এবং বিনয় দান। হিউমের মতে এই লঘু ও সংযত সংশয়বাদ আমাদের নির্দেশ দেয় যে মানুষের জ্ঞান সীমিত এবং সেই সীমা নির্ধারণ করা আমাদের উচিত।
সংশয়বাদের প্রকৃতি ও মাত্রার উপর ভিত্তি করে একে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়— চরম সংশয়বাদ (Extreme Skepticism) এবং লঘু বা সংযত সংশয়বাদ (Moderate Skepticism)। এই দুই ধরনের সংশয়বাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো মানুষের জ্ঞানের সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।
চরম সংশয়বাদীরা মনে করেন যে মানুষের পক্ষে কোনো বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। তারা সমস্ত ধরনের জ্ঞান, বিশ্বাস এবং সিদ্ধান্তের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, মানুষের ইন্দ্রিয় যেমন সীমাবদ্ধ, তেমনি যুক্তিশক্তিও সীমাবদ্ধ; তাই কোনো জ্ঞানকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।
চরম সংশয়বাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের অহংকারপূর্ণ জ্ঞান-দাবিকে প্রশ্ন করা। মানুষ অনেক সময় মনে করে যে সে কোনো বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ সত্য জানে, কিন্তু চরম সংশয়বাদীরা দেখান যে সেই জ্ঞানের মধ্যেও ভুলের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
তবে চরম সংশয়বাদের একটি বড় সমস্যা হলো—যদি সব জ্ঞানকেই অস্বীকার করা হয়, তাহলে সংশয়বাদের নিজস্ব বক্তব্যও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কারণ “কোনো জ্ঞান নিশ্চিত নয়”—এই বক্তব্যটিও যদি নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করা না যায়, তাহলে চরম সংশয়বাদ নিজের ভিত্তিকেই দুর্বল করে ফেলে।
এই কারণেই হিউম চরম সংশয়বাদ গ্রহণ করেননি। তিনি মনে করেন, সম্পূর্ণ সংশয়বাদ মানুষের বাস্তব জীবন ও সামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মানুষকে দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, বিজ্ঞানচর্চা করতে হয় এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাজ করতে হয়। চরম সংশয়বাদ গ্রহণ করলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
হিউমের মতে, মানুষের উচিত এমন একটি সংশয়বাদ গ্রহণ করা যা যুক্তিসঙ্গত, সংযত এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সংশয়বাদকে বলা হয় লঘু সংশয়বাদ বা সংযত সংশয়বাদ।
লঘু সংশয়বাদ হলো এমন এক বিচক্ষণ দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে মানুষ কোনো বিষয়কে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে যুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিচার করে। এই সংশয়বাদ মানুষের চিন্তাকে স্বাধীন করে এবং তাকে কুসংস্কার ও অযৌক্তিক বিশ্বাস থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে।
হিউমের মতে, লঘু সংশয়বাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে—
১. স্বাধীন চিন্তা (Freedom of Thought) : লঘু সংশয়বাদ মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায়। কোনো ব্যক্তি, ধর্মীয় মতবাদ বা প্রচলিত বিশ্বাসকে শুধুমাত্র প্রথার কারণে গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রত্যেকটি বিষয়কে যুক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিচার করা উচিত।
২. যুক্তিসঙ্গত সংশয় (Reasonable Doubt) : লঘু সংশয়বাদ অযথা সন্দেহ করতে শেখায় না। বরং যেখানে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই, সেখানে সতর্ক থাকতে শেখায়। অর্থাৎ এটি ধ্বংসাত্মক সংশয় নয়; বরং সত্য অনুসন্ধানের একটি মাধ্যম।
৩. বিনয় (Humility) : হিউমের মতে, লঘু সংশয়বাদ মানুষের মধ্যে বৌদ্ধিক বিনয় সৃষ্টি করে। মানুষ বুঝতে শেখে যে তার জ্ঞান সীমিত এবং সবকিছু সম্পর্কে তার সম্পূর্ণ ধারণা নাও থাকতে পারে। এই বিনয় মানুষকে আরও অনুসন্ধিৎসু করে তোলে।
৪. অভিজ্ঞতার গুরুত্ব স্বীকার : লঘু সংশয়বাদ অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। হিউমের মতে, মানুষের জ্ঞান অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
হিউমের সংযত সংশয়বাদ মূলত মানুষের জ্ঞানের সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করে। তিনি বলতে চান না যে মানুষ কোনো জ্ঞানই লাভ করতে পারে না। বরং তিনি দেখাতে চান যে মানুষের জ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট পরিসর রয়েছে এবং সেই সীমার মধ্যেই আমাদের চিন্তা করা উচিত।
এই কারণে হিউমের সংশয়বাদকে অনেক দার্শনিক সমালোচনামূলক অভিজ্ঞতাবাদ (Critical Empiricism) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ তিনি একদিকে যেমন অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, অন্যদিকে তেমনি অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতাও দেখিয়েছেন।
হিউমের সংশয়বাদ বিশেষভাবে কার্য-কারণ সম্পর্ক, আত্মার ধারণা এবং অধিবিদ্যাগত জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষের উচিত এমন কোনো দাবি গ্রহণ না করা, যার পেছনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতালব্ধ প্রমাণ নেই।
উদাহরণস্বরূপ, মানুষ মনে করে ভবিষ্যৎ অতীতের মতোই হবে। কারণ আমরা অতীতে কোনো ঘটনা যেভাবে ঘটতে দেখেছি, ভবিষ্যতেও তা একইভাবে ঘটবে বলে আশা করি। কিন্তু হিউম বলেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এই বিশ্বাসের কোনো যৌক্তিক নিশ্চয়তা নেই; এটি কেবল অতীত অভিজ্ঞতার অভ্যাস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
এইভাবে হিউমের সংযত সংশয়বাদ মানুষের চিন্তাকে আরও যুক্তিনির্ভর ও সতর্ক করে তোলে। এটি মানুষকে অন্ধ বিশ্বাস থেকে দূরে রাখে এবং প্রতিটি জ্ঞানকে প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করতে শেখায়।
হিউমের মতে এই লঘু ও সংযত সংশয়বাদ আমাদের নির্দেশ দেয় যে মানুষের জ্ঞান সীমিত এবং সেই সীমা নির্ধারণ করা আমাদের উচিত।
অর্থাৎ হিউমের সংশয়বাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জ্ঞানকে ধ্বংস করা নয়, বরং জ্ঞানের প্রকৃত সীমা নির্ধারণ করা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে মানুষ তার অভিজ্ঞতার সীমার মধ্যে থেকেই জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে চূড়ান্ত সত্য দাবি করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
এই কারণে হিউমের সংশয়বাদ আধুনিক দর্শনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এটি একদিকে যেমন মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে, অন্যদিকে তেমনি যুক্তি, অভিজ্ঞতা ও স্বাধীন চিন্তার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
হিউমের সংশয়বাদের সমালোচনা:- হিউম একজন সংশয়বাদী দার্শনিক তাই তিনি সুনিশ্চিত জ্ঞানে বিশ্বাসী নন। তার মতে সব জ্ঞানই সম্ভাব্য। কিন্তু অনেকে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন সংশয়বাদকে কোনমতেই সমর্থন করা যায় না। কারণ শুনিশ্চিত জ্ঞান যদি সম্ভব না হয় তাহলে হিউমের মতবাদ ও সুনিশ্চিত না হয়ে সম্ভাব্য হয়ে পড়বে।
হিউমের সংশয়বাদ পাশ্চাত্য দর্শনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করলেও এটি বিভিন্ন দার্শনিকের কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। সমালোচকদের মতে, হিউম মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, ততটা জ্ঞানের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেননি। ফলে তাঁর সংশয়বাদ অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ বলে মনে হয়েছে।
প্রথমত, হিউমের সংশয়বাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো—এটি জ্ঞানের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। যদি মানুষের কোনো জ্ঞানই নিশ্চিত না হয় এবং সমস্ত জ্ঞান শুধুমাত্র সম্ভাব্য হয়, তাহলে বিজ্ঞান, দর্শন এবং সাধারণ জীবনের বহু বিশ্বাসের ভিত্তি নষ্ট হয়ে যায়। কারণ বিজ্ঞান বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, হিউমের সংশয়বাদ অনুযায়ী সেগুলিও সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।
দ্বিতীয়ত, সমালোচকরা বলেন, হিউম কার্য-কারণ সম্পর্ককে শুধুমাত্র অভ্যাসের ফল বলেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বিজ্ঞানের মূল ভিত্তিই হলো কার্য-কারণ সম্পর্ক। যদি কোনো ঘটনার সঙ্গে অন্য ঘটনার প্রকৃত সম্পর্ক না থাকে, তাহলে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
যেমন—সূর্যের উদয় এবং পৃথিবীর আবর্তনের মধ্যে আমরা নিয়মিত সম্পর্ক দেখতে পাই। বিজ্ঞান এই ধরনের নিয়মিত সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিভিন্ন ভবিষ্যৎ ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। তাই কার্য-কারণ সম্পর্ককে শুধুমাত্র মানসিক অভ্যাস বলে ব্যাখ্যা করলে বিজ্ঞানের বাস্তব ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তৃতীয়ত, হিউম আত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে যে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তারও সমালোচনা করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আত্মাকে ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রত্যক্ষ করা যায় না বলেই তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলি সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যায় না, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব আমরা যুক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করি।
চতুর্থত, ঈশ্বর সম্পর্কে হিউমের সংশয়বাদ নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। অনেক দার্শনিকের মতে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব কেবল ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার বিষয় নয়; এটি যুক্তি, নৈতিকতা এবং অধিবিদ্যার বিষয়। তাই শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিচার করা সঠিক নয়।
রাসেল হিউমের সংশয়বাদ সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে হিউমকে আন্তরিক সংশয়বাদ নয় বলে উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে রাসেল বলেন সংশয়বাদের অনুশীলন করতে এগিয়ে হুম আন্তরিকতা বজায় রাখতে পারেননি। কেননা তিনি সমস্ত কিছুকে সংশয় করেছেন।
দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল হিউমের সংশয়বাদ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, হিউম প্রকৃত অর্থে একজন সম্পূর্ণ সংশয়বাদী ছিলেন না। কারণ বাস্তব জীবনে হিউম নিজেও বিভিন্ন বিশ্বাস ও অভ্যাসের উপর নির্ভর করতেন।
রাসেলের মতে, যদি হিউম তাঁর সংশয়বাদকে সম্পূর্ণভাবে জীবনে প্রয়োগ করতেন, তাহলে কোনো কাজ করাই সম্ভব হতো না। কারণ দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে বিভিন্ন বিষয় বিশ্বাস করেই চলতে হয়। যেমন—আগামীকাল সূর্য উঠবে, অন্য মানুষদের অস্তিত্ব আছে, প্রকৃতির নিয়ম একই থাকবে—এই ধরনের বহু বিশ্বাসের উপর নির্ভর করেই মানুষ জীবন পরিচালনা করে।
তবে রাসেলের এই সমালোচনা সত্ত্বেও হিউমের সংশয়বাদের গুরুত্ব কমে যায় না। কারণ হিউমের উদ্দেশ্য মানুষের সমস্ত বিশ্বাস ধ্বংস করা ছিল না; বরং তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে মানুষের জ্ঞানের ভিত্তি ও সীমা সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকা উচিত।
হিউমের সংশয়বাদের মূল্যায়ন:- হিউমের সংশয়বাদকে শুধুমাত্র নেতিবাচক মতবাদ হিসেবে বিচার করা সঠিক নয়। তাঁর সংশয়বাদ আধুনিক দর্শনের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি দেখিয়েছেন যে মানুষের জ্ঞান সীমাহীন নয় এবং প্রতিটি জ্ঞানের দাবিকে যুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিচার করা প্রয়োজন।
হিউমের সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে মানুষের চিন্তা ও ধারণার মূল উৎস হলো অভিজ্ঞতা। এর ফলে আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়।
হিউমের কার্য-কারণ সম্পর্কের বিশ্লেষণও দর্শনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তাঁর ব্যাখ্যার সমালোচনা করা হয়েছে, তবুও তিনি প্রথম দেখিয়েছেন যে কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তি কীভাবে গঠিত হয়। এই বিশ্লেষণ পরবর্তীকালে ইমানুয়েল কান্টের দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
কান্ট স্বীকার করেছিলেন যে হিউমের সংশয়বাদ তাঁকে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। হিউমের প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার জন্যই কান্ট তাঁর সমালোচনামূলক দর্শন (Critical Philosophy) প্রতিষ্ঠা করেন।
হিউমের সংশয়বাদ মানুষের মধ্যে বৌদ্ধিক সতর্কতা সৃষ্টি করে। এটি শেখায় যে কোনো বিষয়কে শুধুমাত্র প্রচলিত বিশ্বাসের কারণে গ্রহণ করা উচিত নয়; বরং তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা দরকার।
উপসংহার:- সবশেষে বলা যায়, হিউমের সংশয়বাদ পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী মতবাদ। তিনি মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে দেখিয়েছেন যে অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে কোনো নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়।
যদিও তাঁর সংশয়বাদ বিভিন্ন সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, তবুও জ্ঞানতত্ত্ব, অভিজ্ঞতাবাদ এবং আধুনিক দর্শনের বিকাশে তাঁর অবদান অপরিসীম। হিউম মানুষের চিন্তাকে অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত করে যুক্তি, অভিজ্ঞতা এবং সতর্ক বিচারের পথে পরিচালিত করেছেন।
তাই বলা যায়, হিউমের সংশয়বাদ কোনো ধ্বংসাত্মক সন্দেহের মতবাদ নয়; বরং এটি মানুষের জ্ঞানের সীমা নির্ধারণ এবং সত্য অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক প্রচেষ্টা।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : হিউমের সংশয়বাদ 🔥 | সংশয়বাদ কাকে বলে? | David Hume Skepticism | B.A Philosophy Notes 2026
১. সংশয়বাদ শব্দটি কোন গ্রিক শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
(A) Logos
(B) Skepsis
(C) Ethos
(D) Sophia
উত্তর: 🟩 (B) Skepsis
২. পাশ্চাত্য দর্শনে সংশয় দিয়ে দর্শন শুরু করেন কে?
(A) প্লেটো
(B) এরিস্টটল
(C) ডেকার্ত
(D) হিউম
উত্তর: 🟩 (C) ডেকার্ত
৩. হিউম কোন ধরনের দার্শনিক ছিলেন?
(A) ভাববাদী
(B) অভিজ্ঞতাবাদী
(C) বস্তুবাদী
(D) বাস্তববাদী
উত্তর: 🟩 (B) অভিজ্ঞতাবাদী
৪. হিউমের মতে মানুষের জ্ঞানের প্রধান উৎস কী?
(A) বুদ্ধি
(B) ঈশ্বর
(C) অভিজ্ঞতা
(D) আত্মা
উত্তর: 🟩 (C) অভিজ্ঞতা
৫. হিউম মানুষের মনের বিষয়বস্তুকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন?
(A) দুই ভাগে
(B) তিন ভাগে
(C) চার ভাগে
(D) পাঁচ ভাগে
উত্তর: 🟩 (A) দুই ভাগে
৬. হিউমের মতে প্রত্যক্ষ ও জীবন্ত অনুভূতিকে কী বলা হয়?
(A) Ideas
(B) Concepts
(C) Impressions
(D) Beliefs
উত্তর: 🟩 (C) Impressions
৭. হিউমের মতে Impressions-এর দুর্বল প্রতিচ্ছবিকে কী বলা হয়?
(A) Ideas
(B) Substance
(C) Cause
(D) Perception
উত্তর: 🟩 (A) Ideas
৮. হিউমের মতে কার্য-কারণ সম্পর্কের ভিত্তি কী?
(A) যুক্তি
(B) অভ্যাস
(C) ঈশ্বর
(D) আত্মা
উত্তর: 🟩 (B) অভ্যাস
৯. হিউম কার্য-কারণ সম্পর্কের মধ্যে কোন বিষয় অস্বীকার করেন?
(A) ঘটনার ধারাবাহিকতা
(B) অভিজ্ঞতা
(C) আবশ্যিক সম্পর্ক
(D) পরিবর্তন
উত্তর: 🟩 (C) আবশ্যিক সম্পর্ক
১০. হিউমের মতে আত্মা কী?
(A) চিরস্থায়ী দ্রব্য
(B) ঈশ্বরের অংশ
(C) অনুভূতির সমষ্টি
(D) জড় পদার্থ
উত্তর: 🟩 (C) অনুভূতির সমষ্টি
১১. হিউম আত্মাকে কোন নামে অভিহিত করেছেন?
(A) Absolute Self
(B) Bundle of Perceptions
(C) Pure Soul
(D) Spiritual Substance
উত্তর: 🟩 (B) Bundle of Perceptions
১২. হিউম কোন সংশয়বাদ সমর্থন করেননি?
(A) লঘু সংশয়বাদ
(B) সংযত সংশয়বাদ
(C) চরম সংশয়বাদ
(D) যুক্তিসঙ্গত সংশয়বাদ
উত্তর: 🟩 (C) চরম সংশয়বাদ
১৩. লঘু সংশয়বাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
(A) অন্ধ বিশ্বাস
(B) স্বাধীন চিন্তা
(C) কুসংস্কার
(D) যুক্তিহীনতা
উত্তর: 🟩 (B) স্বাধীন চিন্তা
১৪. হিউমের সংশয়বাদ কোন দর্শনের অন্তর্গত?
(A) জ্ঞানতত্ত্ব
(B) নীতিশাস্ত্র
(C) রাষ্ট্রদর্শন
(D) সৌন্দর্যতত্ত্ব
উত্তর: 🟩 (A) জ্ঞানতত্ত্ব
১৫. “আমি চিন্তা করি, তাই আমি আছি” (Cogito Ergo Sum) কার উক্তি?
(A) হিউম
(B) কান্ট
(C) ডেকার্ত
(D) রাসেল
উত্তর: 🟩 (C) ডেকার্ত
১৬. হিউমের সংশয়বাদ প্রধানত কোন বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত?
(A) যুক্তিবাদ
(B) অভিজ্ঞতাবাদ
(C) ভাববাদ
(D) বস্তুবাদ
উত্তর: 🟩 (B) অভিজ্ঞতাবাদ
১৭. হিউমের সংশয়বাদ দ্বারা কে বিশেষভাবে প্রভাবিত হন?
(A) প্লেটো
(B) কান্ট
(C) স্পিনোজা
(D) লাইবনিজ
উত্তর: 🟩 (B) কান্ট
১৮. হিউমের মতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি কী?
(A) ঈশ্বরের ইচ্ছা
(B) যুক্তির নিশ্চয়তা
(C) অতীত অভিজ্ঞতার অভ্যাস
(D) আত্মার জ্ঞান
উত্তর: 🟩 (C) অতীত অভিজ্ঞতার অভ্যাস
১৯. হিউমের সংশয়বাদের সমালোচনা করেন কোন দার্শনিক?
(A) বার্ট্রান্ড রাসেল
(B) এরিস্টটল
(C) হেগেল
(D) শঙ্করাচার্য
উত্তর: 🟩 (A) বার্ট্রান্ড রাসেল
২০. হিউমের মতে মানুষের জ্ঞান কোথায় সীমাবদ্ধ?
(A) কল্পনার মধ্যে
(B) অভিজ্ঞতার মধ্যে
(C) ঈশ্বরের মধ্যে
(D) আত্মার মধ্যে
উত্তর: 🟩 (B) অভিজ্ঞতার মধ্যে
SAQ প্রশ্নাবলি : হিউমের সংশয়বাদ 🔥 | সংশয়বাদ কাকে বলে? | David Hume Skepticism | B.A Philosophy Notes 2026
১. সংশয়বাদ কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের অর্জিত জ্ঞানের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করার প্রবণতাকে সংশয়বাদ বলে। সংশয়বাদীরা কোনো বিষয়কে প্রমাণ ও যুক্তি ছাড়া নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন না।
২. Skepticism শব্দটি কোন শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
উত্তর: Skepticism শব্দটি গ্রিক ‘Skepsis’ শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে, যার অর্থ হলো অনুসন্ধান, বিচার বা পরীক্ষা।
৩. সংশয়বাদের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: সংশয়বাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জ্ঞানের প্রকৃতি, সীমা এবং নির্ভরযোগ্যতা বিচার করা।
৪. পাশ্চাত্য দর্শনে সংশয় দিয়ে দর্শন শুরু করেন কে?
উত্তর: পাশ্চাত্য দর্শনে সর্বপ্রথম ডেকার্ত সংশয় দিয়ে দর্শন শুরু করেন।
৫. হিউম কোন ধরনের দার্শনিক ছিলেন?
উত্তর: হিউম একজন অভিজ্ঞতাবাদী (Empiricist) দার্শনিক ছিলেন।
৬. হিউমের মতে জ্ঞানের প্রধান উৎস কী?
উত্তর: হিউমের মতে মানুষের জ্ঞানের প্রধান উৎস হলো অভিজ্ঞতা (Experience)।
৭. হিউম মানুষের মনের বিষয়বস্তুকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন?
উত্তর: হিউম মানুষের মনের বিষয়বস্তুকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন—Impressions এবং Ideas।
৮. Impressions বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: Impressions বলতে প্রত্যক্ষ, জীবন্ত ও শক্তিশালী অনুভূতিকে বোঝায়।
৯. Ideas বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: Ideas হলো Impressions-এর দুর্বল প্রতিচ্ছবি বা স্মৃতি।
১০. হিউমের মতে কার্য-কারণ সম্পর্কের ভিত্তি কী?
উত্তর: হিউমের মতে কার্য-কারণ সম্পর্কের ভিত্তি হলো অভ্যাস (Habit) বা পুনরাবৃত্ত অভিজ্ঞতা।
১১. হিউম কার্য-কারণ সম্পর্কে কী অস্বীকার করেছেন?
উত্তর: হিউম কার্য ও কারণের মধ্যে কোনো আবশ্যিক বা অপরিহার্য সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন।
১২. হিউমের মতে বাহ্যজগত সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কেমন?
উত্তর: হিউমের মতে বাহ্যজগতের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস থাকলেও তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত জ্ঞান নয়।
১৩. হিউম আত্মা সম্পর্কে কী মত প্রকাশ করেছেন?
উত্তর: হিউমের মতে আত্মা কোনো স্থায়ী সত্তা নয়; আত্মা হলো বিভিন্ন অনুভূতির সমষ্টি (Bundle of Perceptions)।
১৪. হিউমের মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান সম্ভব কি?
উত্তর: হিউমের মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
১৫. সংশয়বাদের প্রকারভেদ কী কী?
উত্তর: সংশয়বাদের প্রধান দুটি প্রকার হলো—চরম সংশয়বাদ (Extreme Skepticism) এবং লঘু বা সংযত সংশয়বাদ (Moderate Skepticism)।
১৬. হিউম কোন সংশয়বাদ সমর্থন করেন?
উত্তর: হিউম লঘু বা সংযত সংশয়বাদ সমর্থন করেন।
১৭. চরম সংশয়বাদের প্রধান ত্রুটি কী?
উত্তর: চরম সংশয়বাদ সমস্ত জ্ঞানকে অস্বীকার করে, ফলে বাস্তব জীবন ও জ্ঞানচর্চা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৮. লঘু সংশয়বাদের বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: লঘু সংশয়বাদের বৈশিষ্ট্য হলো—স্বাধীন চিন্তা, যুক্তিসঙ্গত সংশয় এবং বৌদ্ধিক বিনয়।
১৯. রাসেল হিউমের সংশয়বাদ সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: রাসেলের মতে, হিউম প্রকৃত অর্থে আন্তরিক সংশয়বাদী ছিলেন না, কারণ বাস্তব জীবনে তিনি বিভিন্ন বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করতেন।
২০. হিউমের সংশয়বাদের গুরুত্ব কী?
উত্তর: হিউমের সংশয়বাদ মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে এবং আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব ও অভিজ্ঞতাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।**
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে ডেভিড হিউমের (David Hume) সংশয়বাদ (Skepticism) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক মতবাদ। মানুষের জ্ঞান কতটা নির্ভরযোগ্য, অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কতটুকু নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায় এবং বাহ্যজগৎ, আত্মা ও কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে আমাদের ধারণার ভিত্তি কী—এই প্রশ্নগুলির উত্তর অনুসন্ধান করতে গিয়ে হিউম তাঁর সংশয়বাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন।
হিউমের সংশয়বাদ XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষায় প্রায়ই “সংশয়বাদ কাকে বলে?”, “হিউমের সংশয়বাদ আলোচনা কর”, “কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে হিউমের মতবাদ ব্যাখ্যা কর”— এই ধরনের প্রশ্ন আসে।
এই কারণে ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)-এ “হিউমের সংশয়বাদ 🔥 | সংশয়বাদ কাকে বলে? | David Hume Skepticism | B.A Philosophy Notes 2026” বিষয়টি সহজ ভাষায় ও পরীক্ষাভিত্তিক পদ্ধতিতে আলোচনা করা হয়েছে।
সংশয়বাদ হলো এমন একটি দার্শনিক মতবাদ যেখানে মানুষের জ্ঞানের সত্যতা, সীমা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে বিচার করা হয়। সংশয়বাদীরা মনে করেন, কোনো বিষয়কে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে তার যথাযথ প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।
হিউম ছিলেন একজন বিশিষ্ট অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিক। তিনি লকের অভিজ্ঞতাবাদকে আরও বিশ্লেষণ করে বলেন যে মানুষের সমস্ত জ্ঞান অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল। তাঁর মতে, যে ধারণার পিছনে কোনো প্রত্যক্ষ অনুভূতি নেই, সেই ধারণার সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যায়।
হিউম মানুষের মনের বিষয়বস্তুকে Impressions এবং Ideas—এই দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। তাঁর মতে, Impressions হলো প্রত্যক্ষ ও জীবন্ত অনুভূতি এবং Ideas হলো সেই অনুভূতির দুর্বল প্রতিচ্ছবি।
হিউম বাহ্যজগত, আত্মা, ঈশ্বর এবং কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আমরা সরাসরি বাহ্যবস্তুকে জানতে পারি না; আমরা কেবল ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতিগুলিকেই জানতে পারি।
কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পর্কে হিউম বলেন, আমরা কোনো ঘটনার মধ্যে কারণের শক্তিকে প্রত্যক্ষ করি না। বারবার একই ঘটনা ঘটতে দেখে আমাদের মনে একটি অভ্যাস তৈরি হয় এবং সেই অভ্যাসের ভিত্তিতেই আমরা কারণ ও কার্যের সম্পর্ক স্থাপন করি।
হিউম চরম সংশয়বাদ গ্রহণ করেননি। তিনি লঘু বা সংযত সংশয়বাদকে সমর্থন করেন, যেখানে যুক্তি, অভিজ্ঞতা ও স্বাধীন চিন্তার মাধ্যমে জ্ঞান বিচার করা হয়।
যদিও হিউমের সংশয়বাদ বিভিন্ন দার্শনিকের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, তবুও আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব ও অভিজ্ঞতাবাদের বিকাশে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সংশয়বাদ মানুষের জ্ঞানের সীমা নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছে।
এই আলোচনায় David Hume Skepticism, Hume Empiricism, Causation Theory, Western Philosophy এবং B.A. Philosophy Notes-এর পরীক্ষাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আপনি যদি হিউমের সংশয়বাদ, David Hume Philosophy, Empiricism অথবা B.A Philosophy Notes খুঁজে থাকেন, তাহলে এই আলোচনা আপনার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং পরীক্ষার সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করবে।
