জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত | 5 টি মহাব্রত ও অনুব্রতের সহজ ব্যাখ্যা
জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত
জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত | ৫টি মহাব্রত ও ১২টি ব্রতের সহজ ব্যাখ্যা – ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষোপযোগী বিষয়, যা XI শ্রেণির, B.A. 1st Semester-এর পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত এবং বিভিন্ন স্কুল সার্ভিস, কলেজ সার্ভিস, NET, SET, PSC ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে প্রশ্ন আসে। জৈন দর্শনে নৈতিক জীবন, আত্মসংযম এবং মোক্ষলাভের জন্য ব্রতপালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সন্ন্যাসীদের জন্য নির্ধারিত ৫টি মহাব্রত (Mahavrata) এবং গৃহস্থদের জন্য নির্ধারিত ৫টি অনুব্রত, ৩টি গুণব্রত ও ৪টি শিক্ষাব্রত—এই মোট ১২টি ব্রত জৈন নীতিশাস্ত্রের মূল ভিত্তি। মহাব্রতের অন্তর্ভুক্ত হলো—অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ। অপরদিকে, গৃহস্থদের জন্য একই আদর্শকে সীমিত ও ব্যবহারিক রূপে পালন করার নির্দেশই অনুব্রত নামে পরিচিত। এই ব্রতগুলি অনুসরণের মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি, পাপক্ষয় এবং মোক্ষলাভের পথে অগ্রসর হয়। (www.ispgurukul.com)
এই প্রবন্ধে জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত সম্পর্কে সহজ ও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। এখানে ৫টি মহাব্রতের সংজ্ঞা, প্রতিটি মহাব্রতের অর্থ ও ব্যাখ্যা, ৫টি অনুব্রতের পরিচয়, ৩টি গুণব্রত ও ৪টি শিক্ষাব্রতের আলোচনা, মহাব্রত ও অনুব্রতের পার্থক্য, জৈন দর্শনে ব্রতগুলির নৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং মোক্ষলাভে এই ব্রতগুলির ভূমিকা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে প্রতিটি বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ে সম্পূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারে।
আপনি যদি জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত, ৫টি মহাব্রত, ৫টি অনুব্রত, ১২টি ব্রত, মহাব্রত ও অনুব্রতের পার্থক্য, জৈন দর্শনের নৈতিক আদর্শ, জৈন দর্শনে মোক্ষলাভের উপায় অথবা জৈন দর্শনের ব্রতসমূহের সহজ ব্যাখ্যা সম্পর্কে নির্ভুল ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে। আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ এবং পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্নোত্তর সংযোজিত রয়েছে, যা আপনার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
মহাব্রত ও অনুব্রত কী ?
ভারতীয় দর্শনে মানুষের দুঃখ, তার কারণ এবং দুঃখ থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিভিন্ন দর্শন বিভিন্ন মতবাদ উপস্থাপন করেছে। বৌদ্ধ দর্শনে মহর্ষি গৌতম বুদ্ধ মানুষের দুঃখমুক্তির জন্য চারটি আর্যসত্যের কথা বলেছেন। এই চারটি আর্যসত্যের মধ্যে চতুর্থ আর্যসত্য হলো—দুঃখ নিবৃত্তির উপায় আছে। এই দুঃখ নিবৃত্তির উপায়ই হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা আটটি সম্যক পথ। বৌদ্ধ দর্শনের মতে, এই আটটি মার্গ যথাযথভাবে অনুসরণ করলে মানুষ তৃষ্ণা, অবিদ্যা ও আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে নির্বাণ লাভ করতে পারে। তাই অষ্টাঙ্গিক মার্গ বৌদ্ধ দর্শনের নৈতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের মূল ভিত্তি।
অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলতে আটটি সৎ ও কল্যাণকর অনুশীলনের সমষ্টিকে বোঝায়। এই আটটি মার্গ হলো—সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক, সম্যক কর্মান্ত, সম্যক আজীবিকা, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি। এই প্রতিটি মার্গ মানুষের চরিত্র গঠন, মনকে পরিশুদ্ধ করা এবং সঠিক জীবনযাপন করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
সম্যক দৃষ্টি বলতে চারটি আর্যসত্য সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান ও সঠিক উপলব্ধিকে বোঝায়। অবিদ্যা বা অজ্ঞতাই মানুষের দুঃখের মূল কারণ। তাই সত্যকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারলেই মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। সম্যক সংকল্প হলো সকল প্রকার লোভ, হিংসা, ক্রোধ ও কুচিন্তা ত্যাগ করে কল্যাণকর চিন্তা ও দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। এটি মানুষের মানসিক শুদ্ধি ও আত্মসংযমের ভিত্তি।
সম্যক বাক বলতে সর্বদা সত্য, প্রিয় ও কল্যাণকর কথা বলা, মিথ্যা, পরনিন্দা, কটু বাক্য ও অর্থহীন কথাবার্তা পরিহার করাকে বোঝায়। সম্যক কর্মান্ত হলো অহিংসা, সততা, দয়া ও ন্যায়ের আদর্শ অনুসরণ করে সৎ কর্ম সম্পাদন করা। আবার সম্যক আজীবিকা বলতে এমন জীবিকা অর্জনকে বোঝায়, যা অন্যের ক্ষতি, প্রতারণা বা অন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং ন্যায়সঙ্গত ও সৎ উপায়ে উপার্জিত।
সম্যক ব্যায়াম হলো মনের অশুভ প্রবৃত্তিগুলো দূর করে শুভ চিন্তা ও সৎ গুণাবলির বিকাশ ঘটানোর আন্তরিক প্রচেষ্টা। সম্যক স্মৃতি বলতে সর্বদা নিজের চিন্তা, আচরণ ও কর্ম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করাকে বোঝায়। আর সম্যক সমাধি হলো মনকে একাগ্র করে ধ্যানের মাধ্যমে আত্মিক শান্তি ও চিত্তের স্থিরতা অর্জন করা, যা নির্বাণ লাভের অন্যতম প্রধান উপায়।

বৌদ্ধ দর্শনে অষ্টাঙ্গিক মার্গকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়—প্রজ্ঞা (সম্যক দৃষ্টি ও সম্যক সংকল্প), শীল (সম্যক বাক, সম্যক কর্মান্ত ও সম্যক আজীবিকা) এবং সমাধি (সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি)। এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয়ে মানুষের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানসিক একাগ্রতার পূর্ণ বিকাশ ঘটে এবং দুঃখমুক্তির পথ সুগম হয়।
অতএব বলা যায়, অষ্টাঙ্গিক মার্গ বৌদ্ধ দর্শনের অন্যতম মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এটি শুধু ধর্মীয় সাধনার পথ নয়, বরং আদর্শ জীবনযাপনের একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক নির্দেশিকা। এই আটটি মার্গ অনুসরণ করলে ব্যক্তি নৈতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করে এবং নির্বাণ বা দুঃখের চিরনিবৃত্তি অর্জনের পথে অগ্রসর হয়। এই কারণে বৌদ্ধ দর্শনের অষ্টাঙ্গিক মার্গ XI শ্রেণি, B.A. 1st Semester, NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই রকম লেখায় থাকবে শুধু টপিক হবে – জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত | ৫টি মহাব্রত ও ১২টি ব্রতের সহজ ব্যাখ্যা
জৈন মতে, মহাব্রতের একটি সুদীর্য বর্ণনা দাও?
উত্তর -> জৈন মতে, স্বরূপ জীব বা আত্মা নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ ও মুক্ত। অনন্ত জ্ঞান, অনন্ত দৃষ্টি ও অনন্ত শক্তি এবং অপার আনন্দের অধিকারী। জৈন মতে, এই আত্মার মুক্তি সহজলভ্য নয়। মুক্তির পথ দুর্গম। এর জন্য কঠোর কৃচ্ছ্র সাধনার প্রয়োজন হয়, যা কেবল মঠ বাসীর সন্ন্যাসীর পক্ষেই সম্ভাবপর হয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে জৈন সন্ন্যাসীগন পঞ্চমহাব্রত পালনের নির্দেশ দিয়ে থাকে। ( অহিংসাসত্যাস্তেয়ব্রহ্মচর্য্যাপরিগ্রহাঃ ) এককথায় পঞ্চমহাব্রত বলতে বোঝায় অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ এই পাঁচটি পালনীয় কর্তব্যকে। এই কর্তব্য যখন মঠবাসী কঠোরভাবে পালন করে থাকেন তখন তাকে পঞ্চমমহাব্রত বলা হয় এবং এই পাঁচটি ব্রত যখন সংসারী মানুষরা সিথিল ভাবে পালন করে থাকে তখন তাকে অনুব্রত বলে। এখন আমাদের বিষয় হলো পঞ্চমহাব্রতের।
পঞ্চমহাব্রত ।
- অহিংসা :- পঞ্চমহাব্রতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত হল অহিংসা। অহিংসা পরমঃ ও ধর্ম অর্থাৎ অহিংসা হল পরম ধর্ম। এই অহিংসা অপর চারটি ব্রতের প্রধান বা কর্তা। কয়িক, বাচিক এবং মানসিকভাবে অপরের অনিষ্ঠ বা ক্ষতি না করাই হল অহিংসা ব্রত। এই তিন প্রকার অহিংসাকে একত্রে ত্রিগুপ্তি বলা হয়। মঠবাসী এই অহিংসা ব্রত পালনের জন্য বর্ষাকালে নাকের উপর রুমাল দিয়ে ঘুমাতেন। যাতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র জীবাণু নাকে মুখে প্রবেশ করে নিহিত না হয়। কেবল ক্ষতি না করাই অহিংসা নয়। সর্বজীবে প্রেম বিতরণ এবং হিতকর কর্ম অনুষ্ঠানও অহিংসার অন্তর্গত।
- সত্য বা সুনীত :- ‘সুনীত’ বলতে বোঝায় উপাদেয় ও উপকারী। এই অর্থে যা উপকারী তাই হল ‘সত্য’। এই সত্য অহিংসা ব্রতরই অন্তর্গত। ‘সত্য’ বলতে বোঝায় মিথ্যা কথা পরিহারকে। অর্থাৎ সদা সত্য কথা বলাই হল সত্যব্রত। সত্যব্রতকে কঠোর ভাবে পালন করতে হলে নিন্দাসূচক, অহিতকর ও অপ্রিয় চিন্তা থেকে, কর্ম থেকে ও বাক্য থেকে সম্পূর্ণভাবে নিবৃত্ত থাকতে হবে। জৈন মতে, অপ্রিয় এবং অহিতকর বাক্য সর্বদা বর্জনীয়। যদি কোনো বাক্য কোনো জীবের অনিষ্ঠ বা জীবনহানি ঘটায় তাহলে সেই বাক্য সত্য বলা যাবে না।
- অস্তেয় :- ‘অস্তেয়’ বলতে বোঝায় দান ব্যাতিত অন্যভাবে পরোদ্রব্য গ্রহণ না করা। এককথায় চুরি থেকে বিরত থাকায় হল ‘অস্তেয়’। ছলে বলে কৌশলে অপরের সম্পদ গ্রহণ না করায় হল ‘অস্তেয়’।
- ব্রহ্মচর্য :- ‘ব্রহ্মচর্য’ বলতে যৌন সম্ভব থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়। কিন্তু জৈন শাস্রে ‘ব্রহ্মচর্য’ শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। এককথায় কাম দমন ব্রতই হল ‘ব্রহ্মচর্য’। ‘ব্রহ্মচর্য’ বলতে জৈনগন জ্ঞানেন্দ্রিয়কে স়ংযত রাখার কথা বলেছেন। ‘ব্রহ্মচর্য’ কথাটিকে ব্যাপক অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন – কায়িক, বাচিক ও মানসিক সব ব্যাপারেই কাম দমন করার কথা বলা হয়েছে। বস্তুত এই ব্রহ্মচর্য ব্রতও অহিংসা ব্রতের অন্তর্গত।

- অপরিগ্রহ :- প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় না করাই হল ‘অপরিগ্রহ’ ব্রত। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় করলে দরিদ্রকে তার সম্পদ থেকে এবং ক্ষুদার্থকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা হয় যা হিংসারe নামান্তর। কাজেই অহিংসা ব্রত হতে গেলে ‘ অপরিগ্রহ ব্রত ‘ পালন একান্ত প্রয়োজনীয়। বিষয়ের প্রতি আসক্তি থেকে জীবের দেহ ধারণ বা বন্ধন হয়। সুতরাং মোক্ষকামী ব্যাক্তিকে সকল প্রকার আসক্তি পরিত্যাগ করতে হবে।
উপরিউক্ত এই পাঁচটি মহাব্রত পালনের সাথে সাথে জৈনগণ পাঁচটি ভাবনা ও পাঁচটি সমিতির কথা উল্লেখ করেছেন। যথা – ঈর্ষা সমিতি, ভাষা সমিতি, এষনা সমিতি, আদান সমিতি এবং উক্কার সমিতি। জৈন মতে, এই পাঁচটি ব্রত পালনের সাথে সাথে পাঁচটি সমিতি বা ভাবনাকেও পালন করতে হবে। তবেই মোক্ষ বা মুক্তি পাওয়া যাবে।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি :জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত
১. জৈন মতে স্বরূপ জীব বা আত্মা কেমন?
ক) অনিত্য, অশুদ্ধ ও দুঃখময়
খ) নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ ও মুক্ত
গ) জড় ও পরিবর্তনশীল
ঘ) সীমাবদ্ধ ও অজ্ঞ
উত্তর: নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ ও মুক্ত
২. জৈন মতে আত্মা কোন কোন গুণের অধিকারী?
ক) সীমিত জ্ঞান ও শক্তি
খ) অনন্ত জ্ঞান, অনন্ত দৃষ্টি ও অনন্ত শক্তি
গ) কেবল আনন্দ
ঘ) কেবল দুঃখ
উত্তর: অনন্ত জ্ঞান, অনন্ত দৃষ্টি ও অনন্ত শক্তি
৩. জৈন মতে আত্মার মুক্তির পথ কেমন?
ক) সহজ
খ) দুর্গম
গ) অপ্রয়োজনীয়
ঘ) অসম্ভব
উত্তর: দুর্গম
৪. জৈন সন্ন্যাসীগণ মুক্তির জন্য কী পালনের নির্দেশ দেন?
ক) চার পুরুষার্থ
খ) পঞ্চমহাব্রত
গ) অষ্টাঙ্গিক মার্গ
ঘ) ত্রিরত্ন
উত্তর: পঞ্চমহাব্রত
৫. পঞ্চমহাব্রতের সংখ্যা কত?
ক) তিনটি
খ) চারটি
গ) পাঁচটি
ঘ) ছয়টি
উত্তর: পাঁচটি
৬. পঞ্চমহাব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত কোনটি?
ক) সত্য
খ) অহিংসা
গ) অপরিগ্রহ
ঘ) অস্তেয়
উত্তর: অহিংসা
৭. “অহিংসা পরম ধর্ম”—এই ধারণাটি কোন দর্শনের সঙ্গে যুক্ত?
ক) বৌদ্ধ দর্শন
খ) জৈন দর্শন
গ) ন্যায় দর্শন
ঘ) সাংখ্য দর্শন
উত্তর: জৈন দর্শন
৮. কায়িক, বাচিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি না করাকে কী বলা হয়?
ক) সত্য
খ) অহিংসা
গ) ব্রহ্মচর্য
ঘ) অপরিগ্রহ
উত্তর: অহিংসা
৯. কায়িক, বাচিক ও মানসিক অহিংসাকে একত্রে কী বলা হয়?
ক) ত্রিরত্ন
খ) ত্রিগুপ্তি
গ) পঞ্চশীল
ঘ) সমিতি
উত্তর: ত্রিগুপ্তি
১০. সত্য বা সুনীত বলতে কী বোঝায়?
ক) মিথ্যা বলা
খ) উপকারী ও সত্য কথা বলা
গ) সম্পদ গ্রহণ করা
ঘ) কাম দমন করা
উত্তর: উপকারী ও সত্য কথা বলা
১১. জৈন মতে কোন বাক্য সত্য বলা যাবে না?
ক) উপকারী বাক্য
খ) অহিতকর ও অনিষ্টকারী বাক্য
গ) মিষ্টি বাক্য
ঘ) জ্ঞানমূলক বাক্য
উত্তর: অহিতকর ও অনিষ্টকারী বাক্য
১২. ‘অস্তেয়’ বলতে কী বোঝায়?
ক) মিথ্যা বলা
খ) চুরি থেকে বিরত থাকা
গ) কাম দমন করা
ঘ) সম্পদ ত্যাগ করা
উত্তর: চুরি থেকে বিরত থাকা
১৩. দান ব্যতীত অন্যভাবে পরের দ্রব্য গ্রহণ না করাকে কী বলা হয়?
ক) অপরিগ্রহ
খ) অস্তেয়
গ) ব্রহ্মচর্য
ঘ) সত্য
উত্তর: অস্তেয়
১৪. জৈন মতে ব্রহ্মচর্য বলতে কী বোঝায়?
ক) সম্পদ সঞ্চয়
খ) কাম দমন
গ) সত্য কথা বলা
ঘ) জীব হত্যা করা
উত্তর: কাম দমন
১৫. ব্রহ্মচর্য ব্রত কোন ব্রতের অন্তর্গত?
ক) সত্য ব্রত
খ) অহিংসা ব্রত
গ) অস্তেয় ব্রত
ঘ) অপরিগ্রহ ব্রত
উত্তর: অহিংসা ব্রত
১৬. প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় না করাকে কী বলা হয়?
ক) অপরিগ্রহ
খ) অস্তেয়
গ) সত্য
ঘ) ব্রহ্মচর্য
উত্তর: অপরিগ্রহ
১৭. জৈন মতে অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় করা কোনটির নামান্তর?
ক) জ্ঞান
খ) অহিংসা
গ) হিংসা
ঘ) মুক্তি
উত্তর: হিংসা
১৮. সংসারী মানুষ পঞ্চমহাব্রতকে শিথিলভাবে পালন করলে তাকে কী বলা হয়?
ক) মহাব্রত
খ) অনুব্রত
গ) সমিতি
ঘ) ভাবনা
উত্তর: অনুব্রত
১৯. জৈন মতে পঞ্চমহাব্রতের সঙ্গে আর কী পালন করতে হয়?
ক) চার আর্যসত্য
খ) পাঁচটি সমিতি বা ভাবনা
গ) অষ্টাঙ্গিক মার্গ
ঘ) ষড়দর্শন
উত্তর: পাঁচটি সমিতি বা ভাবনা
২০. নিচের কোনটি জৈনদের পাঁচটি সমিতির অন্তর্গত?
ক) ভাষা সমিতি
খ) ত্রিরত্ন
গ) অষ্টাঙ্গিক মার্গ
ঘ) চার আর্যসত্য
উত্তর: ভাষা সমিতি
SAQ প্রশ্নাবলি :জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত
১. জৈন মতে জীব বা আত্মার স্বরূপ কী?
উত্তর: জৈন মতে, স্বরূপ জীব বা আত্মা নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ ও মুক্ত। এটি অনন্ত জ্ঞান, অনন্ত দৃষ্টি, অনন্ত শক্তি ও অপার আনন্দের অধিকারী।
২. জৈন মতে আত্মার মুক্তি সহজলভ্য নয় কেন?
উত্তর: জৈন মতে, আত্মার মুক্তির জন্য কঠোর কৃচ্ছ্র সাধনার প্রয়োজন হয়, তাই মুক্তি সহজলভ্য নয়।
৩. কারা কঠোর কৃচ্ছ্র সাধনা করতে সক্ষম বলে জৈনরা মনে করেন?
উত্তর: জৈনদের মতে, মঠবাসী সন্ন্যাসীরাই কঠোর কৃচ্ছ্র সাধনা করতে সক্ষম।
৪. পঞ্চমহাব্রত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ—এই পাঁচটি পালনীয় কর্তব্যকে পঞ্চমহাব্রত বলা হয়।
৫. মহাব্রত ও অনুব্রতের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মঠবাসী সন্ন্যাসীরা যখন পাঁচটি ব্রত কঠোরভাবে পালন করেন, তখন তা মহাব্রত। আর সংসারী মানুষ যখন এই ব্রতগুলি শিথিলভাবে পালন করেন, তখন তাকে অনুব্রত বলা হয়।
৬. অহিংসা ব্রত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কায়িক, বাচিক ও মানসিকভাবে কোনো জীবের অনিষ্ট বা ক্ষতি না করাই হলো অহিংসা ব্রত।
৭. অহিংসাকে পঞ্চমহাব্রতের শ্রেষ্ঠ ব্রত বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ অহিংসা অপর চারটি ব্রতের প্রধান ভিত্তি এবং অন্যান্য ব্রতও অহিংসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
৮. ত্রিগুপ্তি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কায়িক, বাচিক ও মানসিক—এই তিন প্রকার অহিংসাকে একত্রে ত্রিগুপ্তি বলা হয়।
৯. জৈন সন্ন্যাসীরা অহিংসা পালনে কী সতর্কতা অবলম্বন করতেন?
উত্তর: তাঁরা ক্ষুদ্র জীবের ক্ষতি এড়ানোর জন্য বর্ষাকালে নাকের উপর রুমাল দিয়ে ঘুমাতেন।
১০. জৈন মতে সত্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জৈন মতে, মিথ্যা কথা পরিহার করে সদা সত্য ও উপকারী কথা বলাই হলো সত্য ব্রত।
১১. জৈন মতে কোন ধরনের বাক্য বর্জনীয়?
উত্তর: যে বাক্য কোনো জীবের অনিষ্ট বা জীবনহানি ঘটায়, সেই অপ্রিয় ও অহিতকর বাক্য বর্জনীয়।
১২. অস্তেয় ব্রত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দান ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে অপরের দ্রব্য গ্রহণ না করাকে অস্তেয় ব্রত বলা হয়।
১৩. ছলে, বলে বা কৌশলে অপরের সম্পদ গ্রহণ করা কেন অস্তেয় বিরোধী?
উত্তর: কারণ এটি অন্যের সম্পদের প্রতি অন্যায় অধিকার স্থাপন করে এবং চুরির সমতুল্য।
১৪. জৈন শাস্ত্রে ব্রহ্মচর্যের ব্যাপক অর্থ কী?
উত্তর: জৈন শাস্ত্রে ব্রহ্মচর্য বলতে কেবল যৌন সংযম নয়, বরং সকল প্রকার কামনা ও ইন্দ্রিয়ের সংযমকে বোঝানো হয়েছে।
১৫. ব্রহ্মচর্য ব্রত কীভাবে পালন করা হয়?
উত্তর: কায়িক, বাচিক ও মানসিক সকল ক্ষেত্রে কামনা দমন ও ইন্দ্রিয় সংযমের মাধ্যমে ব্রহ্মচর্য পালন করা হয়।
১৬. অপরিগ্রহ ব্রত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় না করা এবং বিষয়ের প্রতি আসক্তি ত্যাগ করাই অপরিগ্রহ ব্রত।
১৭. অপরিগ্রহ পালন করা কেন প্রয়োজন?
উত্তর: কারণ অতিরিক্ত সম্পদ সঞ্চয় করলে অন্যের প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা হিংসার কারণ হতে পারে।
১৮. জৈন মতে মোক্ষকামী ব্যক্তির কী ত্যাগ করা উচিত?
উত্তর: মোক্ষকামী ব্যক্তিকে সকল প্রকার বিষয়াসক্তি ত্যাগ করতে হবে।
১৯. পাঁচটি সমিতির নাম লেখ।
উত্তর: ঈর্ষা সমিতি, ভাষা সমিতি, এষণা সমিতি, আদান সমিতি ও উক্কার সমিতি।
২০. জৈন মতে মুক্তি লাভের জন্য কী কী পালন করা প্রয়োজন?
উত্তর: জৈন মতে, পঞ্চমহাব্রতের সঙ্গে পাঁচটি সমিতি বা ভাবনাও পালন করতে হবে। তবেই মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করা সম্ভব।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে জৈন দর্শনের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সাধনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মহাব্রত ও অনুব্রত। জৈন দর্শনের মুক্তি বা মোক্ষ লাভের পথে আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক আচরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই নৈতিক সাধনার প্রধান ভিত্তি হলো পঞ্চমহাব্রত—অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ। জৈন দর্শনের এই ব্রতগুলির প্রকৃত অর্থ, বৈশিষ্ট্য, পালন পদ্ধতি এবং সন্ন্যাসী ও গৃহস্থ জীবনে এর প্রয়োগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহের প্রকৃত তাৎপর্য, মহাব্রত ও অনুব্রতের পার্থক্য এবং ১২টি ব্রতের ধারণা বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সেই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)**-এ “জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত | ৫টি মহাব্রত ও ১২টি ব্রতের সহজ ব্যাখ্যা” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে পঞ্চমহাব্রতের সংজ্ঞা, পাঁচটি ব্রতের পৃথক ব্যাখ্যা, মহাব্রত ও অনুব্রতের পার্থক্য, গৃহস্থদের জন্য অনুব্রতের গুরুত্ব এবং জৈন নৈতিক দর্শনে এর ভূমিকা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র লিখিত আলোচনা পড়ে অনেক সময় জৈন দর্শনের ব্রতগুলির গভীর তাৎপর্য সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত যারা সহজ, সাবলীল এবং উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি বুঝতে চায়, তাদের জন্য দৃশ্য ও শ্রবণনির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি অধিক কার্যকর। এই বিষয়টি মাথায় রেখে “জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত | ৫টি মহাব্রত ও ১২টি ব্রতের সহজ ব্যাখ্যা” শীর্ষক একটি বিস্তারিত YouTube Video প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে জৈন দর্শনের পঞ্চমহাব্রতের প্রকৃত অর্থ, অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, মহাব্রত ও অনুব্রতের পার্থক্য, ১২টি ব্রতের ধারণা এবং মোক্ষ লাভের পথে ব্রত পালনের গুরুত্ব অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টির মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে এর গভীর দার্শনিক তাৎপর্য পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হবে।
যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই Video বিশেষভাবে সহায়ক হবে। কারণ এখানে শুধু মহাব্রত ও অনুব্রতের সংজ্ঞা বা তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং প্রতিটি ব্রতের বাস্তব ব্যাখ্যা, নৈতিক শিক্ষা এবং পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলিও সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি নিচে দেওয়া Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে জৈন দর্শনের মহাব্রত ও অনুব্রত, পাঁচটি মহাব্রতের ব্যাখ্যা, ১২টি ব্রতের ধারণা এবং মোক্ষ লাভের নৈতিক ভিত্তি সম্পর্কে যথার্থ, নির্ভুল ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই Video আপনাদের অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।
