বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী, বৈশেষিক মতে নয় প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ
বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শন (Vaiśeṣika Philosophy) একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তববাদী দর্শন, যেখানে সমগ্র জগতের মৌলিক উপাদান ও পদার্থের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৈশেষিক দর্শনের সপ্তপদার্থের মধ্যে দ্রব্য (Dravya) সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গুণ (গুণ), কর্ম (কর্ম), সামান্য, বিশেষ, সমবায় এবং অভাব—সবই দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল। তাই বৈশেষিক মতে দ্রব্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন না করলে বৈশেষিক দর্শনের মূল তত্ত্ব বোঝা সম্ভব নয়।
বৈশেষিক মতে দ্রব্য (Dravya according to Vaiśeṣika Philosophy) ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। এই বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), Burdwan University সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও NET, SET, PSC, স্কুল সার্ভিস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্যতত্ত্ব থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।
বৈশেষিক দর্শন এর প্রবর্তক মহর্ষি কণাদ (Kaṇāda) জগতের সমস্ত বস্তুকে সাতটি পদার্থে বিভক্ত করেছেন, যার মধ্যে দ্রব্য হলো প্রধান ও আশ্রয়স্বরূপ পদার্থ। বৈশেষিক মতে, যে পদার্থ গুণ ও কর্মের আশ্রয় এবং যা কার্যসৃষ্টির সমবায়ী কারণ, তাকে দ্রব্য বলা হয়। এই দর্শন অনুসারে মোট ৯ প্রকার দ্রব্য স্বীকৃত হয়েছে—পৃথিবী (ক্ষিতি), জল (অপ), তেজ, বায়ু (মরুৎ), আকাশ, কাল, দিক, আত্মা এবং মন। এই নয়টি দ্রব্যের প্রত্যেকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ধর্ম এবং কার্য রয়েছে, যা বৈশেষিক দর্শনের জগততত্ত্ব ও বাস্তববাদী চিন্তাধারাকে সুসংগঠিতভাবে ব্যাখ্যা করে।

বৈশেষিক আচার্যদের মতে, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সমগ্র বিশ্ব এই নয়টি দ্রব্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবী, জল, তেজ ও বায়ু পরমাণু দ্বারা গঠিত হলেও আকাশ, কাল, দিক, আত্মা এবং মন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নিত্য দ্রব্য। দ্রব্যের মাধ্যমেই গুণের অস্তিত্ব প্রকাশ পায় এবং কর্ম সংঘটিত হয়। তাই বৈশেষিক দর্শনের সমগ্র পদার্থতত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে দ্রব্যকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হয়েছে।
এই প্রবন্ধে বৈশেষিক মতে দ্রব্য সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশেষিক মতে দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য, ৯ প্রকার দ্রব্যের পরিচয়, প্রতিটি দ্রব্যের ধর্ম, নিত্য ও অনিত্য দ্রব্য, পরমাণুবাদে দ্রব্যের ভূমিকা, বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্যের গুরুত্ব এবং দার্শনিক তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যেই বৈশেষিক মতে দ্রব্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারে। বিশেষ করে যারা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy Major/Minor, দর্শন অনার্স, NET, SET এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই আলোচনা অত্যন্ত সহায়ক হবে।
আপনি যদি বৈশেষিক মতে দ্রব্য, বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য, দ্রব্য কী, ৯ প্রকার দ্রব্য, সপ্তপদার্থ, Vaiśeṣika Dravya, Vaiśeṣika Philosophy, ভারতীয় দর্শনের দ্রব্যতত্ত্ব সম্পর্কে নির্ভুল ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য উপযোগী। আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ এবং পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্নোত্তর সংযোজিত থাকবে, যা আপনার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সমৃদ্ধ করবে।
বৈশেষিক মতে নয় প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা
বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে ৯ প্রকার দ্রব্য (Nine Dravyas according to Vaiśeṣika Philosophy) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী ৯ প্রকার দ্রব্যের নাম, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং শ্রেণীবিভাগ নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। অথচ XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্যতত্ত্ব থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা সহজ ও সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি।
বৈশেষিক মতে দ্রব্য (Dravya) বলতে সেই পদার্থকে বোঝায়, যা গুণ (গুণ) ও কর্ম (কর্ম)-এর আশ্রয় এবং কার্যসৃষ্টির সমবায়ী কারণ। বৈশেষিক দর্শনের প্রবর্তক মহর্ষি কণাদের মতে, সমগ্র জগতের সমস্ত বস্তু ও সত্তার ভিত্তি হলো দ্রব্য। গুণ ও কর্ম কখনোই দ্রব্য ছাড়া স্বাধীনভাবে অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। তাই বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্যকে সর্বাধিক মৌলিক পদার্থ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বৈশেষিক দর্শন অনুযায়ী দ্রব্য মোট ৯ প্রকার। এগুলি হলো—পৃথিবী (ক্ষিতি), জল (অপ), তেজ, বায়ু (মরুৎ), আকাশ, কাল, দিক, আত্মা এবং মন। এই নয়টি দ্রব্যের প্রত্যেকটির নিজস্ব স্বরূপ, ধর্ম ও কার্য রয়েছে। প্রথম চারটি দৃশ্যমান বা পরমাণুবিশিষ্ট ভৌত দ্রব্য, আর আকাশ, কাল, দিক, আত্মা ও মন অদৃশ্য হলেও স্বতন্ত্র অস্তিত্বসম্পন্ন দ্রব্য হিসেবে স্বীকৃত।
বৈশেষিক আচার্যদের মতে, এই নয়টি দ্রব্যের মাধ্যমেই সমগ্র বিশ্বজগতের গঠন, পরিবর্তন এবং বিভিন্ন গুণ ও কর্মের প্রকাশ ঘটে। পৃথিবী, জল, তেজ ও বায়ু পরমাণু দ্বারা গঠিত হলেও আকাশ, কাল, দিক, আত্মা এবং মন নিত্য ও অবিভাজ্য দ্রব্য। এই কারণে বৈশেষিক দর্শনের সমগ্র পদার্থতত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে ৯ প্রকার দ্রব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রবন্ধে বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা সহজ ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম, উদাহরণ এবং দার্শনিক গুরুত্ব ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি কোন দ্রব্য নিত্য, কোনটি অনিত্য, কোনটি পরমাণুবিশিষ্ট এবং কোনটি সর্বব্যাপী—এসব বিষয়ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত করতে পারে।
পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যেই বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারে। বিশেষ করে যারা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy Major/Minor, দর্শন অনার্স, NET, SET এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই আলোচনা অত্যন্ত সহায়ক হবে।
বৈশেষিক মতে দ্রব্য-এর পরিচয় দাও
উত্তর : বৈশেষিক-সম্মত সপ্ত পদার্থের মধ্যে দ্রব্য অন্যতম পদার্থ। দ্রব্যের লক্ষণ প্রসঙ্গে কণাদ বলেছেন— “ক্রিয়াগুণবৎ সমবায়িকারণম্”, অর্থাৎ দ্রব্য হচ্ছে গুণ ও ক্রিয়ার আশ্রয় এবং সমস্ত দ্রব্যজাত কার্যের সমবায়ী কারণ। দ্রব্য ও গুণের, দ্রব্য ও কর্মের সম্পর্ক সমবায়-সম্বন্ধ। দ্রব্য ছাড়া গুণ অথবা ক্রিয়া থাকতে পারে না, যদিও গুণ ও কর্ম ছাড়া দ্রব্য থাকতে পারে। অর্থাৎ, গুণ ও ক্রিয়ার আশ্রয় হলেও দ্রব্য, গুণ ও ক্রিয়া থেকে স্বতন্ত্র। বৈশেষিক মতে দ্রব্য নয় প্রকার। যথা— (১) ক্ষিতি, (২) অপ্, (৩) তেজ, (৪) মরুৎ, (৫) আকাশ, (৬) দিক্, (৭) কাল, (৮) আত্মা এবং (৯) মন। বৈশেষিকরা এই নয়টি দ্রব্যের সাহায্যে সমগ্র জগতের ব্যাখ্যা করেছেন।
বৈশেষিক দর্শনের মতে, জগতের সকল বস্তু, পরিবর্তন এবং কার্য-কারণ সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করার জন্য দ্রব্যের ধারণা অপরিহার্য। কারণ, গুণ ও কর্ম কখনোই স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না; এগুলি সর্বদা কোনো না কোনো দ্রব্যে অবস্থিত থাকে। তাই দ্রব্যকে বৈশেষিক দর্শনের সমগ্র পদার্থতত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই নয়টি দ্রব্যের মধ্যে প্রথম পাঁচটি—ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ এবং আকাশ—পঞ্চভূত নামে পরিচিত। এগুলির মধ্যে ক্ষিতি, অপ্, তেজ ও মরুৎ পরমাণু দ্বারা গঠিত হলেও আকাশ সর্বব্যাপী এবং নিরবয়ব। অপরদিকে দিক্, কাল, আত্মা ও মন ভৌতিক পদার্থ নয়; এদের প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও দার্শনিক গুরুত্ব রয়েছে।
বৈশেষিক আচার্যদের মতে, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সমস্ত জাগতিক সত্তার অস্তিত্ব এই নয়টি দ্রব্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিটি দ্রব্যের নিজস্ব গুণ, ধর্ম ও কার্য রয়েছে এবং সেই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই তাদের পার্থক্য নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্ষিতির বিশেষ গুণ গন্ধ, জলের বিশেষ গুণ রস, তেজের বিশেষ গুণ রূপ, মরুতের বিশেষ গুণ স্পর্শ এবং আকাশের বিশেষ গুণ শব্দ।
এছাড়া দিক্ স্থানগত সম্পর্কের, কাল সময়গত সম্পর্কের, আত্মা চৈতন্য ও জ্ঞানের এবং মন অভ্যন্তরীণ মানসিক অভিজ্ঞতার ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। এইভাবে বৈশেষিক দর্শন জগতের ভৌতিক ও অভৌতিক উভয় দিকের একটি সুসংহত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
অতএব বলা যায়, বৈশেষিক মতে দ্রব্য শুধু একটি পদার্থ নয়; বরং সমগ্র বিশ্বজগতের অস্তিত্ব, গঠন, পরিবর্তন এবং জ্ঞানলাভের মৌলিক ভিত্তি। তাই ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের নয় প্রকার দ্রব্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক দার্শনিক তত্ত্ব হিসেবে বিবেচিত।
ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ ও আকাশ : নয়টি দ্রব্যের সবকটি জড়দ্রব্য নয়। প্রথম পাঁচটি অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ ও আকাশ জড়দ্রব্য। এই পাঁচটি জড়দ্রব্য বা ভৌতিক দ্রব্যকে পঞ্চভূত বলা হয়। পঞ্চভূতের প্রত্যেকটির নিজস্ব বিশেষ গুণ রয়েছে। ক্ষিতির বিশেষ গুণ গন্ধ, অপ্ বা জলের বিশেষ গুণ রস (স্বাদ), তেজের বিশেষ গুণ রূপ (বর্ণ), মরুতের বিশেষ গুণ স্পর্শ এবং আকাশের বিশেষ গুণ শব্দ। আমাদের পাঁচটি বাহ্য ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আমরা এই পাঁচটি গুণ—গন্ধ, রস, রূপ, স্পর্শ ও শব্দ—প্রত্যক্ষ করি। বৈশেষিক দর্শনের মতে, এই পাঁচটি ভৌতিক দ্রব্যের সাহায্যেই দৃশ্যমান জগতের সকল বস্তু গঠিত হয়েছে। প্রতিটি ভৌতিক দ্রব্য তার নিজস্ব বিশেষ গুণের মাধ্যমে অন্য দ্রব্য থেকে পৃথকভাবে চিহ্নিত হয়। তাই পঞ্চভূতের স্বরূপ ও বিশেষ গুণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্যতত্ত্ব বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশ : আকাশ পঞ্চম ভৌতিক দ্রব্য এবং শব্দ গুণের আশ্রয়। আকাশ বিভু-পরিমাণ হওয়ায় নিরবয়ব। আকাশ প্রত্যক্ষগ্রাহ্য নয়; এটি অনুমানসিদ্ধ। শব্দের প্রত্যক্ষের মাধ্যমে আকাশের অস্তিত্ব অনুমান করা হয়। প্রত্যক্ষগ্রাহ্য শব্দগুণটি চতুর্ভূত (ক্ষিতি, অপ্, তেজ ও মরুৎ)-এর কোনোটিরই বিশেষ গুণ নয়। কাজেই শব্দগুণের আশ্রয়দ্রব্য হিসেবে পঞ্চম এক ভূতদ্রব্যের অনুমান করতে হয় এবং সেই দ্রব্যই আকাশ। বৈশেষিক দর্শনের মতে, আকাশ সর্বব্যাপী (বিভু), নিত্য এবং অবিভাজ্য দ্রব্য। যেহেতু আকাশ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায় না, তাই এর অস্তিত্ব শব্দের মাধ্যমেই অনুমান করা হয়। এই কারণে শব্দের একমাত্র আশ্রয় হিসেবে আকাশকে বৈশেষিক দর্শনে একটি স্বতন্ত্র ও অপরিহার্য দ্রব্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
দিক্ : দিক্ আকাশের মতোই নিত্য, বিভু ও নিরবয়ব। দিক্ এক, অনেক নয়। দিক্ অখণ্ড, সখণ্ড নয়। আমরা আমাদের সুবিধার জন্য এক, অখণ্ড ও অনন্ত দিককে বিভিন্ন খণ্ডাংশে বিভক্ত করি। দিক্ বা দেশ অতীন্দ্রিয় দ্রব্য, তাই তা প্রত্যক্ষগোচর নয়। বিভিন্ন বস্তুর পারস্পরিক অবস্থান প্রত্যক্ষ করে আমরা দিকের অস্তিত্ব অনুমান করি। জাগতিক বস্তুসমূহ বিভিন্ন দৈশিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে অবস্থান করে। বৈশেষিক দর্শনের মতে, দিক্ কোনো দৃশ্যমান বস্তু নয়; বরং এটি স্থানগত সম্পর্ক নির্ধারণের একটি মৌলিক দ্রব্য। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ ইত্যাদি বিভাজন প্রকৃতপক্ষে মানুষের ব্যবহারিক সুবিধার জন্য করা হয়েছে। তাই বিভিন্ন বস্তুর অবস্থান ও পারস্পরিক দূরত্ব নির্ণয়ে দিকের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

কাল : কালও দিকের ন্যায় নিত্য, বিভু ও নিরবয়ব। কালও এক, একাধিক নয়। দিকের মতো কালও অখণ্ড, সখণ্ড নয়। আমরা আমাদের সুবিধার জন্য এক, অখণ্ড ও অনন্ত কালকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করি। কাল অতীন্দ্রিয় দ্রব্য; কালের প্রত্যক্ষ হয় না। বিভিন্ন ঘটনার পূর্বাপর সম্পর্ক বা সমকালীন অবস্থান প্রত্যক্ষ করে আমরা কালের অস্তিত্ব অনুমান করি। কাল এক নিরবচ্ছিন্ন গতির প্রবাহ। বৈশেষিক দর্শনের মতে, কাল সকল পরিবর্তন, সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের ভিত্তি। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—এই বিভাজনও মানুষের ব্যবহারিক প্রয়োজনের জন্য করা হয়েছে। তাই ঘটনাসমূহের সময়গত সম্পর্ক নির্ধারণ এবং তাদের ক্রম বোঝার ক্ষেত্রে কালের গুরুত্ব অপরিসীম।
আত্মা : আত্মা দুই প্রকার— জীবাত্মা ও পরমাত্মা। উভয়ই নিত্য, বিভু এবং জ্ঞান প্রভৃতি গুণের আশ্রয়। জীবাত্মার জ্ঞান অনিত্য, কিন্তু পরমাত্মার জ্ঞান নিত্য। জীবাত্মা অনেক, অথচ পরমাত্মা এক। বৈশেষিক দর্শনের মতে, আত্মা একটি চৈতন্যস্বরূপ দ্রব্য, যার মাধ্যমেই জ্ঞান, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ ও প্রয়াসের মতো মানসিক গুণের প্রকাশ ঘটে। জীবাত্মা প্রত্যেক জীবদেহে পৃথকভাবে অবস্থান করে, আর পরমাত্মা এক ও সর্বব্যাপী। তাই বৈশেষিক দর্শনে আত্মাকে জ্ঞান ও চেতনার প্রধান আশ্রয় হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন : মন নিত্য ও অণু-পরিমাণ দ্রব্য। মন হলো অন্তরিন্দ্রিয়। জীবাত্মার সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ প্রভৃতি অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রত্যক্ষ করার জন্য মনের প্রয়োজন হয়। আত্মার জ্ঞানলাভে মনের সহযোগিতা অপরিহার্য। মন ভৌতিক (ভূত) দ্রব্য নয়; এটি একটি অভৌতিক দ্রব্য। বৈশেষিক দর্শনের মতে, মন অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং অণু-পরিমাণ হওয়ায় একই সময়ে একাধিক ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে না। মনের সংযোগের মাধ্যমেই আত্মা বিভিন্ন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা লাভ করে। তাই বাহ্য ইন্দ্রিয়ের মতো মনও জ্ঞানলাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বৈশেষিক মতে, মন নিত্য হলেও এটি সর্বব্যাপী নয়; বরং অণু-পরিমাণ হওয়ায় এটি প্রত্যেক জীবাত্মার সঙ্গে পৃথকভাবে যুক্ত থাকে।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, বৈশেষিক মতে দ্রব্য সমগ্র জগতের অস্তিত্ব ও ব্যাখ্যার মূল ভিত্তি। বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্যকে গুণ ও কর্মের আশ্রয় এবং সমস্ত কার্যসৃষ্টির সমবায়ী কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ, আকাশ, দিক্, কাল, আত্মা ও মন—এই নয়টি দ্রব্যের মাধ্যমে বৈশেষিক আচার্যরা জগতের ভৌতিক ও অভৌতিক উভয় দিকের ব্যাখ্যা করেছেন।
এই নয়টি দ্রব্যের মধ্যে পঞ্চভূত জাগতিক বস্তুর গঠন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তি, আর দিক্, কাল, আত্মা ও মন জগতের স্থান, সময়, চেতনা এবং মানসিক অভিজ্ঞতাকে ব্যাখ্যা করে। তাই বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্যতত্ত্ব শুধু পদার্থের শ্রেণীবিভাগ নয়, বরং সমগ্র বিশ্বজগতের একটি সুসংবদ্ধ দার্শনিক ব্যাখ্যা।
সুতরাং, ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক মতে নয় প্রকার দ্রব্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব, যা বৈশেষিক দর্শনের বাস্তববাদী চিন্তাধারা ও জ্ঞানতত্ত্বকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী, বৈশেষিক মতে 9 প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ সহজ ভাষায় আলোচনা
১. বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কোনটি অন্যতম?
(ক) সামান্য
(খ) দ্রব্য
(গ) বিশেষ
(ঘ) অভাব
উত্তর: (খ) দ্রব্য ✅
২. দ্রব্যের লক্ষণ প্রসঙ্গে কে বলেছেন— “ক্রিয়াগুণবৎ সমবায়িকারণম্”?
(ক) গৌতম
(খ) কণাদ
(গ) কপিল
(ঘ) পতঞ্জলি
উত্তর: (খ) কণাদ ✅
৩. বৈশেষিক মতে দ্রব্য কীসের আশ্রয়?
(ক) শুধু কর্মের
(খ) শুধু গুণের
(গ) গুণ ও ক্রিয়ার
(ঘ) অভাবের
উত্তর: (গ) গুণ ও ক্রিয়ার ✅
৪. বৈশেষিক মতে দ্রব্যের সংখ্যা কত?
(ক) পাঁচটি
(খ) সাতটি
(গ) নয়টি
(ঘ) দশটি
উত্তর: (গ) নয়টি ✅
৫. নিচের কোনটি বৈশেষিক মতে দ্রব্য নয়?
(ক) ক্ষিতি
(খ) তেজ
(গ) সামান্য
(ঘ) আত্মা
উত্তর: (গ) সামান্য ✅
৬. বৈশেষিক মতে প্রথম পাঁচটি দ্রব্যকে কী বলা হয়?
(ক) ত্রিগুণ
(খ) পঞ্চভূত
(গ) পঞ্চকর্ম
(ঘ) পঞ্চজ্ঞান
উত্তর: (খ) পঞ্চভূত ✅
৭. ক্ষিতির বিশেষ গুণ কোনটি?
(ক) রূপ
(খ) শব্দ
(গ) গন্ধ
(ঘ) স্পর্শ
উত্তর: (গ) গন্ধ ✅
৮. অপ্ বা জলের বিশেষ গুণ হলো—
(ক) রস
(খ) গন্ধ
(গ) শব্দ
(ঘ) স্পর্শ
উত্তর: (ক) রস ✅
৯. তেজের বিশেষ গুণ কোনটি?
(ক) স্পর্শ
(খ) রূপ
(গ) গন্ধ
(ঘ) শব্দ
উত্তর: (খ) রূপ ✅
১০. মরুতের বিশেষ গুণ হলো—
(ক) শব্দ
(খ) রস
(গ) স্পর্শ
(ঘ) রূপ
উত্তর: (গ) স্পর্শ ✅
১১. আকাশের বিশেষ গুণ কোনটি?
(ক) রূপ
(খ) শব্দ
(গ) গন্ধ
(ঘ) রস
উত্তর: (খ) শব্দ ✅
১২. বৈশেষিক মতে আকাশ কীভাবে সিদ্ধ হয়?
(ক) প্রত্যক্ষ দ্বারা
(খ) অনুমান দ্বারা
(গ) উপমান দ্বারা
(ঘ) শব্দ দ্বারা
উত্তর: (খ) অনুমান দ্বারা ✅
১৩. আকাশের অস্তিত্ব কোন গুণের মাধ্যমে অনুমান করা হয়?
(ক) রূপ
(খ) স্পর্শ
(গ) শব্দ
(ঘ) গন্ধ
উত্তর: (গ) শব্দ ✅
১৪. দিক্-এর স্বরূপ কী?
(ক) অনিত্য ও সখণ্ড
(খ) নিত্য, বিভু ও নিরবয়ব
(গ) ক্ষণিক
(ঘ) পরমাণু
উত্তর: (খ) নিত্য, বিভু ও নিরবয়ব ✅
১৫. বৈশেষিক মতে কাল কেমন দ্রব্য?
(ক) অনিত্য ও সখণ্ড
(খ) নিত্য, বিভু ও নিরবয়ব
(গ) জড় ও সীমিত
(ঘ) পরমাণুবিশিষ্ট
উত্তর: (খ) নিত্য, বিভু ও নিরবয়ব ✅
১৬. বৈশেষিক মতে আত্মা কত প্রকার?
(ক) এক প্রকার
(খ) দুই প্রকার
(গ) তিন প্রকার
(ঘ) চার প্রকার
উত্তর: (খ) দুই প্রকার ✅
১৭. জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে কোনটি সঠিক?
(ক) জীবাত্মা এক এবং পরমাত্মা বহু
(খ) জীবাত্মা বহু এবং পরমাত্মা এক
(গ) উভয়ই অনিত্য
(ঘ) উভয়ই জড়
উত্তর: (খ) জীবাত্মা বহু এবং পরমাত্মা এক ✅
১৮. বৈশেষিক মতে মন কেমন দ্রব্য?
(ক) বিভু-পরিমাণ
(খ) অণু-পরিমাণ
(গ) পরমাণুহীন
(ঘ) জড়দ্রব্য
উত্তর: (খ) অণু-পরিমাণ ✅
১৯. মনকে বৈশেষিক দর্শনে কী বলা হয়?
(ক) বাহ্য ইন্দ্রিয়
(খ) অন্তরিন্দ্রিয়
(গ) কর্মেন্দ্রিয়
(ঘ) জ্ঞানেন্দ্রিয় নয়
উত্তর: (খ) অন্তরিন্দ্রিয় ✅
২০. বৈশেষিক মতে মন কোন ধরনের দ্রব্য?
(ক) ভৌতিক দ্রব্য
(খ) অভৌতিক দ্রব্য
(গ) জড় দ্রব্য
(ঘ) পঞ্চভূত দ্রব্য
উত্তর: (খ) অভৌতিক দ্রব্য ✅
SAQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী, বৈশেষিক মতে 9 প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ সহজ ভাষায় আলোচনা
১. বৈশেষিক মতে দ্রব্য কাকে বলে?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, যে পদার্থ গুণ ও কর্মের আশ্রয় এবং কার্যসৃষ্টির সমবায়ী কারণ, তাকে দ্রব্য বলে।
২. কণাদের মতে দ্রব্যের লক্ষণ কী?
উত্তর: কণাদের মতে, “ক্রিয়াগুণবৎ সমবায়িকারণম্” অর্থাৎ দ্রব্য হলো গুণ ও ক্রিয়ার আশ্রয় এবং দ্রব্যজাত কার্যের সমবায়ী কারণ।
৩. দ্রব্য ও গুণের মধ্যে কী সম্পর্ক?
উত্তর: দ্রব্য ও গুণের মধ্যে সমবায়-সম্বন্ধ রয়েছে। গুণ সর্বদা দ্রব্যে অবস্থান করে।
৪. দ্রব্য ও কর্মের সম্পর্ক কী?
উত্তর: দ্রব্য ও কর্মের মধ্যেও সমবায়-সম্বন্ধ রয়েছে। কর্ম দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল।
৫. বৈশেষিক মতে দ্রব্যের গুরুত্ব কী?
উত্তর: দ্রব্য হলো বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বের ভিত্তি, কারণ গুণ ও কর্ম দ্রব্যের আশ্রয়েই অবস্থান করে।
৬. বৈশেষিক মতে নয়টি দ্রব্যের নাম লেখ।
উত্তর: ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ, আকাশ, দিক্, কাল, আত্মা ও মন।
৭. পঞ্চভূত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ ও আকাশ—এই পাঁচটি ভৌতিক দ্রব্যকে পঞ্চভূত বলা হয়।
৮. ক্ষিতির বিশেষ গুণ কী?
উত্তর: ক্ষিতির বিশেষ গুণ হলো গন্ধ।
৯. অপ্ বা জলের বিশেষ গুণ কী?
উত্তর: অপ্ বা জলের বিশেষ গুণ হলো রস বা স্বাদ।
১০. তেজের বিশেষ গুণ কী?
উত্তর: তেজের বিশেষ গুণ হলো রূপ বা বর্ণ।
১১. মরুতের বিশেষ গুণ কী?
উত্তর: মরুতের বিশেষ গুণ হলো স্পর্শ।
১২. আকাশকে অনুমানসিদ্ধ বলা হয় কেন?
উত্তর: আকাশ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায় না। শব্দ গুণের আশ্রয় হিসেবে আকাশের অস্তিত্ব অনুমান করা হয়, তাই একে অনুমানসিদ্ধ বলা হয়।
১৩. বৈশেষিক মতে আকাশের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী?
উত্তর: আকাশ নিত্য, বিভু, নিরবয়ব এবং শব্দ গুণের আশ্রয়।
১৪. দিক্ কেন অতীন্দ্রিয় দ্রব্য?
উত্তর: দিক্ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায় না; বিভিন্ন বস্তুর অবস্থানগত সম্পর্ক থেকে এর অস্তিত্ব অনুমান করা হয়।
১৫. বৈশেষিক মতে কালের প্রয়োজন কী?
উত্তর: বিভিন্ন ঘটনার পূর্বাপর সম্পর্ক, পরিবর্তন ও সময়গত ক্রম বোঝার জন্য কালের প্রয়োজন হয়।
১৬. বৈশেষিক মতে আত্মার প্রকারভেদ কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে আত্মা দুই প্রকার—জীবাত্মা ও পরমাত্মা।
১৭. জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: জীবাত্মা বহু এবং তার জ্ঞান অনিত্য; কিন্তু পরমাত্মা এক এবং তার জ্ঞান নিত্য।
১৮. বৈশেষিক মতে আত্মাকে দ্রব্য বলা হয় কেন?
উত্তর: আত্মা জ্ঞান, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ প্রভৃতি গুণের আশ্রয়, তাই তাকে দ্রব্য বলা হয়।
১৯. মনকে অন্তরিন্দ্রিয় বলা হয় কেন?
উত্তর: মন আত্মার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ প্রভৃতি অভ্যন্তরীণ বিষয়ের জ্ঞান প্রদান করে, তাই একে অন্তরিন্দ্রিয় বলা হয়।
২০. বৈশেষিক মতে মন ভৌতিক দ্রব্য নয় কেন?
উত্তর: মন পঞ্চভূতের মতো কোনো ভৌতিক উপাদানে গঠিত নয় এবং এটি অণু-পরিমাণ অভৌতিক দ্রব্য, তাই মনকে ভৌতিক দ্রব্য বলা হয় না।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য (Dravya) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশেষিক মতে দ্রব্যের সংখ্যা, নয়টি দ্রব্যের নাম, তাদের বৈশিষ্ট্য এবং পারস্পরিক পার্থক্য বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সেই কারণে ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)-এ “বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী? বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে বৈশেষিক মতে দ্রব্যের ধারণা, দ্রব্যের লক্ষণ, ৯ প্রকার দ্রব্যের পরিচয়, প্রতিটি দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ এবং বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্যতত্ত্বে এর গুরুত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তবে শুধুমাত্র লিখিত আলোচনা পড়ে অনেক সময় বৈশেষিক মতে দ্রব্যের প্রকৃতি এবং নয়টি দ্রব্যের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণরূপে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা উদাহরণসহ সহজ ও সাবলীল ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে চায়, তাদের জন্য দৃশ্য ও শ্রবণনির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি অধিক কার্যকর। এই বিষয়টি মাথায় রেখে “বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী? বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ” শীর্ষক একটি বিস্তারিত YouTube Video প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের ধারণা, দ্রব্যের সংজ্ঞা, কণাদের প্রদত্ত দ্রব্যের লক্ষণ—“ক্রিয়াগুণবৎ সমবায়িকারণম্”-এর ব্যাখ্যা, বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের নাম, ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ, আকাশ, দিক্, কাল, আত্মা ও মনের স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য এবং উদাহরণ অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বৈশেষিক দ্রব্যতত্ত্বের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে এর দার্শনিক তাৎপর্য পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম হবে।
যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই Video বিশেষভাবে সহায়ক হবে। কারণ এখানে শুধু বৈশেষিক মতে দ্রব্যের সংজ্ঞা নয়, বরং ৯ প্রকার দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ, পঞ্চভূতের ধারণা, আত্মা ও মনের দার্শনিক ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি নিচে দেওয়া Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্য কী, বৈশেষিক মতে ৯ প্রকার দ্রব্যের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ, বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সম্পর্কে যথার্থ, নির্ভুল ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই Video আপনাদের অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।
