চার্বাক দর্শন
| | | |

চার্বাক দর্শন — সম্পূর্ণ অধ্যায় PDF 📚 | Complete Chapter Notes 2026| সংজ্ঞা, মতবাদ, প্রমাণতত্ত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন | ISP Gurukul

Table of Contents

চার্বাক দর্শন

চার্বাক দর্শন — সম্পূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি

“চার্বাক দর্শন” ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত অধ্যায়। চার্বাক দর্শনের জড়বাদ, প্রত্যক্ষ প্রমাণবাদ, স্বভাববাদ, যদৃচ্ছবাদ, সুখবাদ, আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক, কর্মবাদ, পুনর্জন্ম এবং অন্যান্য ভারতীয় দার্শনিক মতবাদের সমালোচনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের জন্য এই অধ্যায়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের বড়, ছোট ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন দেখা যায়।

এই অধ্যায়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজ, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষামুখী করে তুলতে **ISP Gurukul (www.ispgurukul.com)**-এ এক জায়গায় সাজানো হয়েছে “চার্বাক দর্শন” অধ্যায়ের সম্পূর্ণ Study Materials

এই অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা পাবে—

বড় প্রশ্ন — মান ১০ ও ৫: চার্বাক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ, জ্ঞানতত্ত্ব, অধিবিদ্যা, নীতিতত্ত্ব এবং অন্যান্য দর্শনের সমালোচনামূলক আলোচনার উপর রচনাধর্মী ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর। পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

ছোট প্রশ্ন — মান ২: চার্বাক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, মতবাদ, ধারণা ও সংক্ষিপ্ত বিষয়ের উপর নির্বাচিত প্রশ্ন এবং সহজ ভাষায় উপযুক্ত উত্তর, যা দ্রুত Revision-এর জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।

M.C.Q — Multiple Choice Questions: চার্বাক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, যা বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।

S.A.Q — Short Answer Questions: চার্বাক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, মতবাদ ও দার্শনিক বক্তব্য যাচাই করার জন্য নির্বাচিত Short Answer Questions, যা বিষয়ের ধারণাগত জ্ঞান আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

বিষয়ভিত্তিক সহযোগী Video: শুধু বই পড়ে নয়, সহজ ও সাবলীল ব্যাখ্যার মাধ্যমে চার্বাক দর্শনের বিভিন্ন বিষয় বুঝতে সংশ্লিষ্ট সহযোগী YouTube Video দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ার পাশাপাশি ভিডিও দেখে বিষয়টি আরও সহজে বুঝতে পারবে।

সম্পূর্ণ PDF Study Material: চার্বাক দর্শনের পুরো অধ্যায়টি একসঙ্গে সাজানো PDF আকারে পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা অধ্যায়টি সুসংগঠিতভাবে পড়াশোনা, Revision এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য PDF ব্যবহার করতে পারবে।

সম্পূর্ণ চার্বাক দর্শন অধ্যায়ের Study Materials পেতে ভিজিট করুন — ISP Gurukul: www.ispgurukul.com

কারা উপকৃত হবে ?

এই অধ্যায়ের Study Materials বিশেষভাবে উপকারী হবে উচ্চ মাধ্যমিক (HS) শিক্ষার্থী, B.A শিক্ষার্থী, M.A শিক্ষার্থী, B.Ed শিক্ষার্থী এবং SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য। এছাড়াও যারা চার্বাক দর্শনের মৌলিক ধারণা তৈরি করতে চান, দর্শন বিষয়ের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অথবা দ্রুত Revision করতে চান, তারাও এই অধ্যায়ের উপকরণ থেকে উপকৃত হতে পারবেন।

ISP Gurukul-এর লক্ষ্য হলো জটিল দার্শনিক বিষয়গুলিকে সহজ ভাষায়, পরীক্ষার উপযোগীভাবে এবং একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সমস্ত প্রয়োজনীয় Study Materials এক জায়গায় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাই “চার্বাক দর্শন” অধ্যায়ের বড় প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, MCQ, SAQ, সম্পূর্ণ PDF এবং বিষয়ভিত্তিক সহযোগী Video—সবকিছু একসঙ্গে পেতে এই অধ্যায়টি সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করুন।

পড়ুন → বুঝুন → অনুশীলন করুন → Video দেখুন → PDF পড়ুন → পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করুন।

ISP Gurukul — একদিনে হবে না, একদিন হবেই।

চার্বাক দর্শন বড় প্রশ্ন ও উত্তর (মান – 10 & 5)

1.প্রশ্ন : চার্বাক দর্শনকে অনুসরণ করে অনুমান প্রমাণ ব্যাখ্যা কর ?


উত্তর ⟩ প্রত্যক্ষ্লব্ধ বিষয় থেকে যখন অপ্রত্যক্ষ্লব্ধ বিষয়ের নতুন জ্ঞান হয়, তখন তাকে অনুমান বলে। অন্যভাবে বলা যায় প্রত্যক্ষ্ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্য পৌঁছানোর যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া তাকে অনুমান বলে। এই অনুমান ব্যাপ্তি নির্ভর। ব্যাপ্য ও ব্যাপকের যে সম্বন্ধ তাকেই ব্যাপ্তি বলা হয়। যেমন—

১. পর্বতে ধূম আছে (এখানে ধূমের অস্তিত্ব জানা যায়)।

২. অতএব পর্বতে বহ্নি আছে (অজ্ঞাত অগ্নির জ্ঞান হয়)।

 **অনুমান বিষয়ে ন্যায় দর্শন বলেছে — "তস্মাত্ পূর্বকম্ অনুমানম্"। অর্থাৎ অনুমিতির জন্য পূর্বজ্ঞান হল অনুমান। এককথায় অনুমান শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পশ্চাৎ জ্ঞান। চার্বাকরা এই অনুমান প্রমাণকে স্বতন্ত্র প্রমাণ রূপে স্বীকার করেননি। চার্বাকগণ যে সকল যুক্তিজাল দ্বারা অনুমান প্রমাণ খণ্ডন করেছেন সেগুলি হল —

প্রথমত :—
অনুমান হল প্রত্যক্ষ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের জ্ঞান। কিন্তু চার্বাকগণরা বলেন যা অপ্রত্যক্ষ অর্থাৎ যে বিষয়ে বস্তুর সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সরাসরি সংযোগ হয় না তা হল ভ্রমাত্মক জ্ঞান। কারণ অযথার্থ জ্ঞান। কাজেই অনুমান প্রমাণ হতে পারে না।অতিরিক্তভাবে চার্বাকরা মনে করেন, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কোনো জ্ঞান গ্রহণ করা হলে সেখানে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা থেকেই যায়। কারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতাই একমাত্র সরাসরি ও নিশ্চিত জ্ঞানের উৎস। তাই যেহেতু অনুমানে ইন্দ্রিয়ের সরাসরি সংযোগ থাকে না, সেহেতু তা সন্দেহযুক্ত এবং অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকরও হতে পারে। এই কারণে চার্বাক দর্শনে অনুমানকে স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

দ্বিতীয়ত :—
অনুমান হল পরোক্ষ বা অন্য নির্ভর জ্ঞান। অর্থাৎ চার্বাক মতে, এই অনুমান প্রমাণের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিষয়ের সরাসরি সংযোগের অনুপস্থিতি থাকায় সেখানে তাকে অনুমানের দ্বারা পাওয়া জ্ঞান সর্বদাই যথার্থ জ্ঞান হতে পারে না।তদুপরি চার্বাকদের মতে, যেহেতু অনুমান প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে অদৃষ্ট বা অপ্রত্যক্ষ বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেয়, তাই সেখানে ভ্রান্তি ও সংশয়ের সম্ভাবনা থেকেই যায়। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রত্যক্ষ জ্ঞানই একমাত্র নিশ্চিত ও নির্ভুল জ্ঞানের ভিত্তি হতে পারে, কিন্তু অনুমান সেই মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম নয়। ফলে চার্বাক দর্শনে অনুমানকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

তৃতীয়ত :—
অনুমানের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিষয়ের উপর নির্ভর করে অপ্রত্যক্ষ বিষয় তখনই আমরা জানতে পারি, যখন আমরা ব্যাপ্তি জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল হই। কাজেই ব্যাপ্তি জ্ঞান অনুমানের ভিত্তি। কিন্তু চার্বাক মতে, ব্যাপ্তিজ্ঞান সর্বদাই সম্ভব নয়। কারণ ব্যাপ্তি জ্ঞান হল নিয়ত সহচার সম্বন্ধ এবং এই সম্বন্ধ প্রত্যক্ষ যোগ্য নয়। তাই অনুমান স্বতন্ত্র প্রমাণ হতে পারে না।অতিরিক্তভাবে চার্বাকরা মনে করেন, নিয়ত সহচার সম্বন্ধ বা ব্যাপ্তি সম্পর্ককে সম্পূর্ণভাবে সর্বত্র ও সর্বকালে যাচাই করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা কেবল সীমিত কিছু ক্ষেত্রে দুই বস্তুর সহাবস্থান দেখতে পাই, কিন্তু সেই সম্পর্ক সর্বত্র একইভাবে প্রযোজ্য কিনা তা নিশ্চিত করা যায় না। ফলে এই অনিশ্চিত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা অনুমান কখনোই অব্যর্থ জ্ঞান দিতে পারে না। এজন্যই চার্বাক দর্শনে প্রত্যক্ষকেই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

চতুর্থত :—
চার্বাক মতে, ব্যাপ্তি জ্ঞান অনুমানের দ্বারাও সম্ভব নয়। কারণ ব্যাপ্তি জ্ঞান যদি অনুমানের উপর নির্ভর করে তাহলে এই অনুমান আবার ব্যাপ্তি জ্ঞানের উপর নির্ভর করবে অর্থাৎ ব্যাপ্তি জ্ঞান → অনুমান জ্ঞান → ব্যাপ্তি জ্ঞান → অনুমান জ্ঞান—এইভাবে চলতে থাকবে। যদি এইভাবে চলতে থাকে তাহলে শেষ পর্যন্ত অনবস্থা দোষ দেখা দেবে অর্থাৎ কোনো অবস্থাতেই তাহার প্রমাণ সিদ্ধান্ত নির্ণয় করা যাবে না। তাই চার্বাক মতে, অনুমান প্রমাণ নয়।অতিরিক্তভাবে চার্বাকরা আরও বলেন যে, অনুমানের ক্ষেত্রে যে ব্যাপ্তি সম্পর্ক গ্রহণ করা হয় তা কখনোই সর্বজনীন ও সর্বকালীনভাবে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কারণ আমরা অতীত ও ভবিষ্যতের সকল ক্ষেত্রে কোনো সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করতে পারি না, কেবল সীমিত কিছু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সাধারণ নিয়ম তৈরি করি। এই সীমিত অভিজ্ঞতা থেকে সর্বজনীন নিয়ম তৈরি করা যুক্তিগতভাবে দুর্বল এবং এতে ভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে। তাই অনুমানের ভিত্তি স্বয়ং সন্দেহযুক্ত হওয়ায় তা নিশ্চিত জ্ঞান দিতে সক্ষম নয়।

ফলে চার্বাক দর্শনের মতে, যেহেতু ব্যাপ্তি জ্ঞান অনিশ্চিত এবং অনুমান পরস্পর নির্ভরতার কারণে অনবস্থা দোষে পতিত হয়, তাই অনুমানকে স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। এ কারণেই চার্বাকরা কেবলমাত্র প্রত্যক্ষকেই একমাত্র নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেছেন।

পঞ্চমত :—
চার্বাক মতে, তর্কের মাধ্যমে ব্যাপ্তিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করা যায় না কারণ তর্কের গতি সর্বদাই অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের দিকে থাকে। তর্কের ক্ষেত্রে অপ্রত্যক্ষ বিষয়কেই সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। তাই চার্বাকগণ বলেন, ব্যাপ্তি জ্ঞানের জন্য অনুমানের উপর নির্ভরশীল হতে হয় এবং এরূপ অনুমান প্রমাণ কখনই সমর্থ প্রমাণ নয়। অতিরিক্তভাবে চার্বাকদের মতে, তর্ক মূলত ধারণা ও যুক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মতো নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করতে পারে না। যেহেতু তর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যক্ষ বিষয়ে গিয়ে দাঁড়ায়, তাই সেখানে সন্দেহ ও ভ্রান্তির সম্ভাবনা থেকেই যায়। ফলে চার্বাক দর্শনের দৃষ্টিতে তর্ক বা অনুমান-নির্ভর যেকোনো পদ্ধতি নিশ্চিত প্রমাণের মর্যাদা লাভ করতে পারে না।

চার্বাক দর্শন - চার্বাকদের অনুমান প্রমাণ খন্ডন
ঐ পাহাড়ে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে

সমালোচনা :—
চার্বাকগণ অনুমান প্রমাণ খণ্ডনের জন্য যে-সকল যুক্তিগুলি দিয়েছেন তা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। এখানে ভারতীয় দার্শনিক সম্প্রদায় চার্বাকদের এই যুক্তিগুলির বিরুদ্ধে যেভাবে সমালোচনা করেছেন সেগুলি হল —

‘যা অতীত তাই অসৎ’ — চার্বাকদের এই যুক্তিটি গ্রহণ যোগ্য নয়। কারণ আমাদের মৃত পূর্বপুষদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হলে অপ্রত্যক্ষ বিষয় রূপে একমাত্র অনুমান প্রমাণের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।

অপ্রত্যক্ষ ব্যাখ্যা সর্বদাই অপ্রত্যক্ষ দ্বারাই হওয়া সম্ভব নয় না। কেননা অপ্রতক্ষের কোনো কিছু প্রমাণের জন্য শেষ পর্যন্ত অনুমানের উপর নির্ভর করতে হয়। যেমন – ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ — এই চারটি মহাভূতের প্রত্যক্ষ সম্ভব হলেও চতুর্ভূতের পরমাণুগুলি কীভাবে একত্রিত হয়ে কীভাবে যাবতীয় বস্তুর উৎপন্ন হয় তা প্রত্যক্ষ করা যায় না।

2.প্রশ্ন : শব্দ প্রমাণ কী? চার্বাক মতে শব্দ প্রমাণ আলোচনা করো।

অথবা,  শব্দ প্রমাণ খণ্ডনে চার্বাকগণ যে সকল যুক্তিগুলি দিয়েছেন সেগুলি আলোচনা কর। 

উত্তর:    মহর্ষি গৌতম শব্দের লক্ষণে বলেছেন— “আপ্তোপদেশঃ শব্দঃ” অর্থাৎ আপ্ত ব্যক্তির উপদেশ বাক্যই হলো শব্দ প্রমাণ। এইরূপ উপদেশ থেকে পাওয়া জ্ঞানই হলো শব্দ জ্ঞান। আপ্ত ব্যক্তি বলতে বোঝায় যিনি যথার্থ ব্যক্তি অর্থাৎ যিনি নিজেকে যেরূপ সাক্ষাৎ করেছেন, অপরকে জানানোর অভিপ্রায়ে ঠিক সেইরূপই উপদেশ দেন। এই আপ্ত ব্যক্তির উপদেশ বাক্যই হলো শব্দ প্রমাণ। 

🔷শব্দ প্রমাণের বিরুদ্ধে বা শব্দ প্রমাণ খণ্ডনের জন্য চার্বাকদের যুক্তি:   চার্বাকেরা শব্দ প্রমাণের বিরুদ্ধে বা শব্দ প্রমাণ খণ্ডনের জন্য যে সকল যুক্তিগুলি দিয়েছেন সেগুলি হলো— 

1️⃣প্রথমত:- 

 শব্দ প্রমাণ হলো আপ্ত ব্যক্তির উপদেশ। কোনো বক্তা আপ্ত বা যথার্থ কিনা তা জানার একমাত্র উপায় হলো অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতার দ্বারা জানতে হয় তিনি কতটা যথার্থ ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে পুনরায় আমাদের (চার্বাকদের মতে) অনুমানের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। সুতরাং চার্বাক মতে, শব্দ প্রমাণ নয়।  চার্বাক দর্শন অনুযায়ী, শব্দ কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়। ন্যায়দর্শন মতে, আপ্ত বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির উপদেশই শব্দ প্রমাণ। কিন্তু চার্বাকরা বলেন, কোনো ব্যক্তি সত্যিই আপ্ত কিনা তা কেবল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। আবার অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও তিনি সত্য কথা বলবেন—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অনুমানের আশ্রয় নিতে হয়। যেহেতু চার্বাক দর্শন অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করে না, তাই আপ্ত ব্যক্তির উপদেশও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ হতে পারে না। অতএব, চার্বাক মতে শব্দ কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়।

2️⃣দ্বিতীয়ত:- 

       চার্বাকগণ বেদকে ভণ্ড পুরোহিতদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বলে মনে করেন। বেদ যে অপৌরুষেয় অর্থাৎ পুরুষের দ্বারা সৃষ্ট নয়, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বেদ যেহেতু শব্দ প্রমাণের একটি অংশ, সেহেতু বেদের প্রামাণ্য বিষয়ে চার্বাকগণ অস্বীকার করেছেন। চার্বাকগণ বেদকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না। তাদের মতে, বেদ মানুষেরই রচনা; বেদ অপৌরুষেয়—এ কথা প্রমাণিত নয়। এছাড়া বেদে অনেক অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের আলোচনা রয়েছে, যা প্রত্যক্ষ দ্বারা যাচাই করা যায় না। যেহেতু চার্বাকরা শব্দ প্রমাণই মানেন না, তাই শব্দ প্রমাণের অন্তর্গত বেদকেও তারা প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করেছেন।

3️⃣তৃতীয়ত:- 

চার্বাক দর্শন -চার্বাক মতে শব্দ প্রমাণ / শব্দ প্রমাণ খণ্ডনে চার্বাকদের যুক্তি

শব্দ যেহেতু কর্ণ ইন্দ্রিয়ের (শ্রবণেন্দ্রিয়) সাহায্যে প্রত্যক্ষ করা হয়, সেহেতু শব্দের অস্তিত্বে কোনো সংশয় নেই। এই যুক্তিটির বিপক্ষে চার্বাকগণ বলেন, শব্দ প্রমাণ শব্দের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়। কেননা শব্দের দ্বারা অর্থের অস্তিত্বের প্রমাণ হয়, কিন্তু ওই অর্থের কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। কাজেই শব্দ ও অর্থের মধ্যে ব্যাপ্য-ব্যাপক সম্বন্ধ থাকতে পারে না। কাজেই চার্বাক মতে, শব্দ প্রমাণ নয়।  চার্বাকগণ বলেন, শব্দ কর্ণেন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ হওয়ায় শব্দের অস্তিত্বে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু শব্দ শুনলেই তার দ্বারা যে অর্থ বোঝানো হয়, সেই অর্থের সত্যতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না। কারণ একই শব্দ ভিন্ন প্রসঙ্গে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে এবং বক্তাও ভুল বা মিথ্যা কথা বলতে পারেন। তাই শব্দ ও অর্থের মধ্যে কোনো অব্যর্থ বা সর্বজনীন সম্পর্ক (ব্যাপ্য-ব্যাপক সম্বন্ধ) প্রতিষ্ঠা করা যায় না। অতএব, চার্বাক মতে শব্দ স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়।

4️⃣চতুর্থত:- 

         শব্দ প্রমাণ যেহেতু অনুমান প্রমাণের উপর নির্ভরশীল, সেহেতু শব্দ শুনে অর্থকে আমরা অনুমান করি। কিন্তু এই অনুমানের দ্বারা লব্ধ জ্ঞান কখনোই যথার্থ হতে পারে না। তাই চার্বাক মতে, শব্দ প্রমাণ যথার্থ প্রমাণ নয়। চার্বাকগণের মতে, শব্দ প্রমাণ অনুমানের উপর নির্ভরশীল। কোনো শব্দ শুনে আমরা তার অর্থ অনুমান করি। কিন্তু চার্বাক দর্শন অনুমানকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করে না। তাই শব্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞানও নিশ্চিত বা যথার্থ হতে পারে না। অতএব, চার্বাক মতে শব্দ কোনো স্বতন্ত্র ও যথার্থ প্রমাণ নয়।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, চার্বাক দর্শনে শব্দ কোনো স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়। চার্বাকগণের মতে, শব্দের মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ হয়, তার সত্যতা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কারণ কোনো বক্তা সত্যবাদী বা আপ্ত ব্যক্তি কিনা, তা নির্ধারণ করতে অনুমানের আশ্রয় নিতে হয়। অথচ চার্বাকরা অনুমানকে স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না। ফলে আপ্ত ব্যক্তির উপদেশ বা শব্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞানও তাদের মতে প্রামাণ্য হতে পারে না।

এছাড়া চার্বাকদের মতে, মানুষ ভুল, অজ্ঞতা, পক্ষপাত বা স্বার্থের বশবর্তী হয়ে অসত্য কথাও বলতে পারে। তাই কেবল কারও কথার উপর নির্ভর করে কোনো বিষয়কে সত্য বলে গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই কারণেই তারা বেদকেও প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেননি, কারণ বেদও শব্দ প্রমাণের অন্তর্গত এবং এর প্রামাণ্যতা প্রত্যক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

অতএব, চার্বাক দর্শনের মূল সিদ্ধান্ত হলো—প্রত্যক্ষই একমাত্র যথার্থ ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। শব্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান অনুমাননির্ভর এবং অনিশ্চিত হওয়ায় শব্দকে তারা কখনোই স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেননি।

3 . প্রশ্ন : চার্বাকদের দেহাত্মবাদ আলোচনা কর ।

উত্তর :চার্বাক মতে চৈতন্য বিশিষ্ট দেহই হলো আত্মা,চার্বাকরা দেহাতিরিক্ত আত্মায় বিশ্বাস করেন না, কারণ দেহ প্রত্যক্ষ যোগ্য হলেও আত্মা প্রত্যক্ষ যোগ্য নয়। চার্বাক মতে , ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল),তেজ(আগুন) এবং মরুৎ (বায়ু)  এই চারটি মহাভূতের সমন্বয়ের ফলে জীবদেহে চৈতন্য নামক গুনের আবির্ভাব হয়েছে। এই চৈতন্য বিশিষ্ট দেহই হল আত্মা। 

এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ – এই চারটি মহাভূত বা চতুর্ভূতের (জড়) কোনোটির মধ্যে চৈতন্য বা চৈতন্য থাকে না, তাহলে কিভাবে চতুর্ভুজ থেকে চেতনা বা চৈতন্যের উৎপত্তি হয়? – এর উত্তরে চার্বাক গন বলেন যে পান ,সুপারি ,চুন এবং খয়ের এদের কোনোটির মধ্যে পৃথকভাবে লাল রঙ থাকে না, তবুও এদের এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংমিশ্রন করলে এবং তারপর চর্বণ করলে লাল রংটি উৎপন্ন হবে। অনুরূপভাবে ভূত চতুষ্টয়ের মধ্যে পৃথক পৃথক ভাবে চৈতন্য ধর্ম বিশিষ্ট সত্ত্বা না থাকলেও এই চারটি ভূত দ্রব্যকে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংমিশ্রণ করলে জীবদেহে চৈতন্য নামক গুনের উৎপত্তি হয়। চার্বাক মতে, এই চৈতন্যবিশিষ্ট দেহকে আত্মা বলা হয়। অর্থাৎ চার্বাক মতে , আত্মা হলো চৈতন্যবিশিষ্ট দেহ। 

চৈতন্য বিশিষ্ট দেহ যে আত্মা অর্থাৎ দেহ ও আত্মা যে অভিন্ন সেই বিষয়ে চার্বাকদের যুক্তি হলো- অনেক সময় আমরা বলে থাকি আমি মোটা, আমি রোগা, আমি কালো ইত্যাদি। এইরূপ উপলব্ধির মধ্য দিয়ে দেহ ও আত্মা যে অভিন্ন তা খুব সহজেই বোঝায় যদি দেহ ও আত্মা অভিন্ন না হয়ে ভিন্ন হত তাহলে আমি মোটা, আমি রোগা, আমি কালো এই কথাগুলির কোন অর্থ থাকতো না- উক্ত সকল ক্ষেত্রেই আমি বলতে আমার দেহকেই বোঝানো হয়েছে। কেননা রোগা ,মোটা ,কালো এগুলি দেহের গুণ বা ধর্ম। সুতরাং চৈতন্য বিশিষ্ট দেহ যে আত্মা এ কথা অস্বীকার করা যায় না। 

চার্বাকদের এই মতের আপত্তি জানিয়ে অনেকে বলেছেন- ‘আমার ছাতা’ এই বাক্যে আমি ও আমার ছাতা দুটি ভিন্ন বিষয়। অনুরূপভাবে ‘আমার দেহ’ এই বাক্য আমি ও আমার দেহ দুটি পৃথক পৃথক বিষয়। এর উত্তরে চার্বাকরা বলেন, ‘আমার দেহ’ কথাটি এখানে ‘আমার ছাতা’এই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। এখানে ‘আমার দেহ’ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে ‘রাহুর মস্তক’ অর্থে। রাহুর মস্তক বলতে বোঝায় রাহু ও মস্তক অ-ভিন্ন। ঠিক তেমনি ‘আমার দেহ’ বলতে আমি ও দেহ দুটি অ-ভিন্ন সত্ত্বাকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং চার্বাক মতে, দেহ ও আত্মা অ-ভিন্ন। তারা আরো বলেন দেহের অতিরিক্ত আত্মা বলে কিছু নেই। 

সমালোচনা- ভারতীয় অন্যান্য সম্প্রদায় চার্বাকদের দেহাত্ববাদের তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেছেন- 

প্রথমত – চৈতন্য দেহের আবশ্যিক ধর্ম হতে পারে না। কারণ চৈতন্য দেহের আবশ্যিক ধর্ম হলে যতক্ষণ দেহ থাকে ততক্ষণ চৈতন্য বা চেতনা থাকে। এ কথা স্বীকার করতে হয়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির দেহ থাকলেও চৈতন্য থাকেনা। চৈতন্য দেহের আবশ্যিক ধর্ম হতে পারে না—এই যুক্তির মাধ্যমে চার্বাকদের দেহাত্মবাদের সমালোচনা করা হয়। যদি চৈতন্য দেহের অপরিহার্য ধর্ম হতো, তাহলে দেহ যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ চৈতন্যও অবশ্যই থাকত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মৃত্যুর পর দেহ বিদ্যমান থাকলেও কোনো চেতনা থাকে না। মৃতদেহে অনুভূতি, জ্ঞান বা চিন্তার প্রকাশ ঘটে না। তাই চৈতন্যকে দেহের আবশ্যিক ধর্ম বলা যুক্তিসঙ্গত নয়, এবং এই কারণে চার্বাকদের দেহাত্মবাদ সমালোচনার সম্মুখীন হয়।

দ্বিতীয়ত – চার্বাক দেহাত্ববাদ স্বীকার করলে স্মৃতি ও প্রত্যাভিক্ষার ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে না। কারণ দেহ পরিবর্তনশীল। কাজেই দেহাত্ববাদ স্বীকার করলে পূর্ব দিনের অভিজ্ঞতার বিষয় বর্তমান স্মরণে আসতে পারে না। চার্বাক দেহাত্ববাদ স্বীকার করলে স্মৃতি ও প্রত্যভিজ্ঞার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না—এই যুক্তির মাধ্যমে চার্বাক মতের সমালোচনা করা হয়। কারণ চার্বাকদের মতে দেহই আত্মা এবং দেহ পরিবর্তনশীল। কিন্তু স্মৃতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, পূর্বের অভিজ্ঞতা বর্তমান সময়ে স্মরণ করা সম্ভব হয় এবং “আমি সেই একই ব্যক্তি” এই প্রত্যভিজ্ঞার অনুভূতি থাকে।

চার্বাক দেহাত্মবাদ | চৈতন্যবিশিষ্ট দেহই হল আত্মা | চার্বাক দর্শন

সমালোচকদের মতে, যদি দেহই আত্মা হয় এবং দেহ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, তাহলে পূর্বদিনের অভিজ্ঞতা বর্তমান সময়ে স্মরণে আসা সম্ভব নয়। কারণ পরিবর্তিত দেহে পূর্ব অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকা কঠিন। তাই দেহাত্মবাদ স্বীকার করলে স্মৃতি ও প্রত্যভিজ্ঞার সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না বলে তারা মনে করেন। এই কারণে চার্বাক দেহাত্মবাদকে অনেক দার্শনিক অসংগত ও অসম্পূর্ণ বলে সমালোচনা করেছেন।

তৃতীয়ত – চার্বাকগণ প্রত্যক্ষকে একমাত্র প্রমাণ বলেছেন তাই তাদের মতে, যাকে প্রত্যক্ষ করা যায় একমাত্র তারই অস্তিত্ব আছে। কিন্তু চতুর্ভুতের সংমিশ্রনের ফলে কিভাবে চৈতন্যের উৎপত্তি হয় তা প্রত্যক্ষ করা যায় না। চার্বাকগণ প্রত্যক্ষকেই একমাত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁদের মতে, যে বস্তু প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করা যায়, কেবল তারই অস্তিত্ব স্বীকার করা উচিত। কিন্তু চৈতন্যের উৎপত্তির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে চারটি ভূত (পৃথিবী, জল, অগ্নি ও বায়ু) কীভাবে সংমিশ্রিত হয়ে চৈতন্য সৃষ্টি করে, সেই প্রক্রিয়া কখনোই প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায় না।

সমালোচকদের মতে, এই চতুর্ভূতের সংমিশ্রণের মাধ্যমে চৈতন্যের উৎপত্তি কীভাবে ঘটে তা প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করা যায় না। ফলে চার্বাকদের চৈতন্য উৎপত্তির ব্যাখ্যা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যক্ষনির্ভর দাবি পূরণ করতে পারে না। এই কারণে তাঁদের মতবাদকে অনেক দার্শনিক অসংগত বলে সমালোচনা করেছেন।

4. প্রমাণ বলতে কী বোঝো? চার্বাক মতে, “প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ”—এটি আলোচনা করো।

অথবা “প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ”—এই বিষয়ে চার্বাকরা যে যে যুক্তিগুলো দিয়েছেন সেগুলি আলোচনা করো।

উত্তর : ‘প্রমাকরণং প্রমাণম্’ — অর্থাৎ প্রমার করণ হলো প্রমাণ। এককথায় যথার্থ অনুভবকেই প্রমা বলা হয়। আর এই প্রমার করণই হলো প্রমাণ।

ভারতীয় দর্শনে প্রমাণের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। একমাত্র চার্বাক দর্শন একটিমাত্র প্রমাণ স্বীকার করে, যথা— ‘প্রত্যক্ষ’ প্রমাণ। বৌদ্ধ ও বৈশেষিক দর্শন দুটি প্রমাণ স্বীকার করে, যথা— প্রত্যক্ষ ও অনুমান প্রমাণ। সাংখ্য, যোগ ও রামানুজের বেদান্ত দর্শন তিনটি প্রমাণ স্বীকার করেন, যথা— প্রত্যক্ষ, অনুমান ও শব্দ প্রমাণ। ন্যায় দর্শন চারটি প্রমাণ স্বীকার করেন, যথা— প্রত্যক্ষ, অনুমান, শব্দ ও উপমান। প্রাভাকর মীমাংসা দর্শনে প্রমাণের সংখ্যা পাঁচটি, যথা— প্রত্যক্ষ, অনুমান, শব্দ, উপমান ও অর্থাপত্তি প্রমাণ। অদ্বৈত বেদান্ত ও ভট্ট মীমাংসা দর্শন ছয়টি প্রমাণ স্বীকার করেন, যথা— প্রত্যক্ষ, অনুমান, শব্দ, উপমান, অর্থাপত্তি ও অনুপলব্ধি প্রমাণ। সুতরাং দেখা গেল যে, একমাত্র চার্বাকই একটিমাত্র প্রমাণরূপে প্রত্যক্ষকে স্বীকার করেছেন। কিন্তু অন্যান্য ভারতীয় দর্শনে ‘প্রত্যক্ষ’ প্রমাণের অতিরিক্ত আরও প্রমাণ স্বীকৃত হয়েছে।

যে সকল যুক্তির সাহায্যে চার্বাকগণ প্রত্যক্ষকেই একমাত্র প্রমাণ বলেছেন, সেগুলি হলো—

প্রথমত :- চার্বাক মতে ‘প্রত্যক্ষ’ হলো পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে পাওয়া সম্যক ও অপরোক্ষ অনুভব। ‘সম্যক’ কথার অর্থ হলো ‘যথার্থ’ এবং ‘অপরোক্ষ’ কথার অর্থ হলো ‘যা কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়’। যেহেতু প্রত্যক্ষ সম্যক ও অপরোক্ষ অনুভব, সেহেতু প্রত্যক্ষের দ্বারা পাওয়া জ্ঞান অভ্রান্ত ও সংশয়মুক্ত। চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষের মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ হয়, তা অন্য কোনো প্রমাণের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। এই জ্ঞান সরাসরি ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এতে কল্পনা, অনুমান বা সন্দেহের অবকাশ খুবই কম থাকে। তাই প্রত্যক্ষ দ্বারা প্রাপ্ত জ্ঞানকে তাঁরা সবচেয়ে নিশ্চিত ও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন। চার্বাকদের মতে, যে জ্ঞান বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং যা সরাসরি যাচাই করা যায়, একমাত্র সেই জ্ঞানই যথার্থ। এই কারণেই তাঁরা প্রত্যক্ষকে সকল প্রমাণের মধ্যে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য এবং একমাত্র গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেছেন।

দ্বিতীয়ত :- চার্বাক মতে প্রত্যক্ষের মাধ্যমে ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সরাসরি সংযোগ হয়ে থাকে। তাই যার অস্তিত্ব আছে, কেবলমাত্র তারই প্রত্যক্ষ সম্ভব। কাজেই প্রত্যক্ষ হলো অস্তিত্বের সূচক। চার্বাকদের মতে, কোনো বস্তুর অস্তিত্বকে সত্য বলে গ্রহণ করতে হলে সেটি অবশ্যই প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ হতে হবে। অর্থাৎ যে বিষয়টি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে জানা বা অনুভব করা যায়, কেবলমাত্র সেটিকেই বাস্তব বলে স্বীকার করা উচিত। যে সকল বিষয় কখনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আওতায় আসে না, সেগুলির অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তাই চার্বাকরা মনে করেন, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই কোনো বস্তুর বাস্তবতা নির্ধারণ করা উচিত এবং এই কারণেই তাঁরা প্রত্যক্ষকেই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয়ত :- সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল। অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে পাওয়া জ্ঞানের উপর ততটা নির্ভরশীল নয়। কারণ প্রত্যক্ষের লৌকিক ব্যবহার অত্যন্ত সহজ ও সরল। চার্বাকদের মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রত্যক্ষ জ্ঞানের উপরই নির্ভরশীল। মানুষ প্রতিদিন দেখা, শোনা, স্পর্শ, স্বাদ ও গন্ধের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সেই জ্ঞানের ভিত্তিতেই তার সকল ব্যবহারিক কাজ সম্পন্ন করে। অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞানের তুলনায় প্রত্যক্ষ জ্ঞানই মানুষের কাছে অধিক সহজ, স্বাভাবিক ও নির্ভরযোগ্য। তাই চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষের লৌকিক ব্যবহার অত্যন্ত সহজ ও ব্যাপক হওয়ায় এটিকেই একমাত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

চতুর্থত :- প্রত্যক্ষ জ্ঞান হলো স্পষ্ট জ্ঞান, কারণ প্রত্যক্ষের বিষয়ের সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সরাসরি সংযোগ হয়ে থাকে। চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষ জ্ঞান হলো সর্বাধিক স্পষ্ট ও প্রত্যয়যোগ্য জ্ঞান। কারণ প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভের সময় ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়, ফলে বস্তুকে তার প্রকৃত রূপেই জানা যায়। এই জ্ঞানে কোনো মধ্যস্থতা, কল্পনা বা অনুমানের স্থান নেই। তাই প্রত্যক্ষের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান অন্য যেকোনো জ্ঞানের তুলনায় অধিক সুস্পষ্ট, নিশ্চিত এবং বিশ্বাসযোগ্য বলে চার্বাকরা মনে করেন।

পঞ্চমত :- প্রত্যক্ষ হলো অনুমান, শব্দ, উপমান প্রভৃতি অন্যান্য সমস্ত প্রমাণের মূল প্রমাণ। কেননা প্রত্যক্ষের উপর নির্ভর করেই অন্যান্য প্রমাণগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সমালোচনা :- অন্যান্য সমস্ত ভারতীয় দর্শনসম্প্রদায় চার্বাকদের এই জ্ঞানতত্ত্ব বা ‘প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ’—এর যুক্তিগুলির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন—চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষই অনুমান, শব্দ, উপমান প্রভৃতি অন্যান্য সকল প্রমাণের ভিত্তি বা মূল প্রমাণ। কারণ প্রত্যক্ষ জ্ঞান ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণের সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অনুমানের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, শব্দ প্রমাণের সত্যতাও শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষের দ্বারা যাচাই করা যায় এবং উপমানের ক্ষেত্রেও পূর্বপরিচিত প্রত্যক্ষ জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই চার্বাকরা মনে করেন, অন্যান্য সমস্ত প্রমাণ প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরশীল; সুতরাং প্রত্যক্ষই একমাত্র মৌলিক ও স্বাধীন প্রমাণ।

প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ

ক. প্রত্যক্ষকে একমাত্র প্রমাণরূপে স্বীকার করে নিলে জ্ঞানের পরিসর অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়বে। কারণ জগতে এমন কিছু বিষয় আছে, সেগুলি আমাদের ইন্দ্রিয়-সংযোগের বাইরে।

খ. যা প্রত্যক্ষবহির্ভূত, তার কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না— চার্বাকদের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আমাদের মৃত পূর্বপুরুষদের প্রত্যক্ষ হয় না বা সম্ভব নয়, তাই বলে এই নয় যে তাঁদের অস্তিত্ব ছিল না।

গ. প্রত্যক্ষের জ্ঞান হলো সম্যক ও অপরোক্ষ জ্ঞান। কেননা প্রত্যক্ষের মাধ্যমে পাওয়া জ্ঞান অভ্রান্ত ও সংশয়মুক্ত— চার্বাকদের এই মতটিও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আলোর অভাবে দড়িকে সাপরূপে প্রত্যক্ষ হওয়া ভ্রান্ত জ্ঞান। তাই চার্বাকদের এই সকল যুক্তিকে সবক্ষেত্রে সমানভাবে গ্রহণ করা যায় না।

5.প্রশ্ন : চার্বাকরা ব্যোমকে স্বীকার করেন না কেন? চার্বাকদের স্বভাববাদ ও যদৃচ্ছবাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর : চার্বাকদের মতে, যা প্রত্যক্ষযোগ্য, কেবল তারই অস্তিত্ব স্বীকার করা যায়। ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (জল), তেজ (অগ্নি) ও মরুৎ (বায়ু)—এই চারটি মহাভূত প্রত্যক্ষযোগ্য। তাই চার্বাকগণ এগুলিকে মহাভূত হিসেবে স্বীকার করেছেন। কিন্তু ব্যোম (আকাশ) প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপলব্ধ নয়। তাই চার্বাকরা ব্যোমকে মহাভূত হিসেবে স্বীকার করেন না।

চার্বাক সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোনো কোনো শাখা স্বভাববাদ এবং যদৃচ্ছবাদ-এর মাধ্যমে জগতের সৃষ্টি ও বিকাশের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। নিচে এই দুটি মতবাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

স্বভাববাদ : চার্বাকদের মতে, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি মহাভূতের প্রত্যেকটির নিজস্ব স্বভাব বা ধর্ম রয়েছে। এই স্বভাবের কারণেই তারা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জগতের বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করে। এই উপাদানগুলির সংযোগের জন্য কোনো ঈশ্বর, অদৃষ্ট বা অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি বস্তুই এই চারটি মহাভূতের সমন্বয়ে গঠিত এবং তাদের স্বাভাবিক ধর্ম বা গুণের ফলেই জগতের সৃষ্টি ও পরিবর্তন ঘটে। এই কারণেই চার্বাকদের এই মতবাদ স্বভাববাদ নামে পরিচিত। স্বভাববাদ অনুসারে, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান তার নিজস্ব ধর্ম বা স্বভাব অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করে। যেমন—অগ্নির স্বভাব দহন করা, জলের স্বভাব শীতলতা প্রদান করা, বায়ুর স্বভাব প্রবাহিত হওয়া এবং পৃথিবীর স্বভাব স্থিতিশীলতা প্রদান করা। এই স্বাভাবিক ধর্মগুলিই জগতের সমস্ত পরিবর্তন ও কার্যকলাপের মূল কারণ। তাই কোনো বস্তুর সৃষ্টি, পরিবর্তন বা বিনাশ ব্যাখ্যা করার জন্য আলাদা করে ঈশ্বর, ভাগ্য, অদৃষ্ট কিংবা অন্য কোনো অলৌকিক শক্তির আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

চার্বাকদের মতে, জগতের সকল বস্তু ও জীবের উৎপত্তি এই চারটি মহাভূতের স্বাভাবিক সংযোগ ও পারস্পরিক ক্রিয়ার ফল। তাদের নিজস্ব স্বভাব থেকেই বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় বস্তু, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং জীবজগতের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃতি নিজস্ব নিয়মেই পরিচালিত হয় এবং তার কার্যকলাপের জন্য কোনো অতিপ্রাকৃত নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন হয় না। এইভাবে প্রকৃতির স্বাভাবিক ধর্ম বা স্বভাবের মাধ্যমেই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করাই চার্বাকদের স্বভাববাদ-এর মূল বক্তব্য।

এই প্রসঙ্গে চার্বাকদের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো—

“অগ্নিরুষ্ণো জলং শীতং শীতস্পর্শস্তথানিলঃ।
কেনেদং চিত্রিতং তস্মাৎ স্বভাবাৎ তদব্যবস্থিতিঃ॥”

অর্থ : অগ্নির স্বভাব উষ্ণতা, জলের স্বভাব শীতলতা এবং বায়ুর স্বভাব অনুষ্ণ ও অশীতল হওয়া। এই স্বভাবগুলির কারণেই জগতের বিভিন্ন বস্তুর সৃষ্টি ও কার্যসম্পাদন ঘটে। তাই জগৎ সৃষ্টির জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই; মহাভূতগুলির স্বভাবই যথেষ্ট।

সমালোচনা : চার্বাক দর্শনের অন্তর্গত কোনো কোনো শাখা স্বভাববাদকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেননি। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র স্বভাবের মাধ্যমে জগতের সবকিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা যদৃচ্ছবাদ-এর কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, জগতের সকল সৃষ্টি ও পরিবর্তনের পেছনে কেবল বস্তুর স্বভাবই একমাত্র কারণ নয়; অনেক ঘটনা আকস্মিকভাবেও সংঘটিত হতে পারে। অর্থাৎ চারটি মহাভূতের সংযোগ সর্বদা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা স্বভাবের অধীন নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা যদৃচ্ছাভাবে বা আকস্মিকভাবে ঘটে। এই কারণেই স্বভাববাদের পরিবর্তে তাঁরা যদৃচ্ছবাদকে জগতের সৃষ্টি ও পরিবর্তনের একটি বিকল্প ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

যদৃচ্ছবাদ : যদৃচ্ছবাদের মূল বক্তব্য হলো—ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি মহাভূত আকস্মিক বা উদ্দেশ্যহীনভাবে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে জগতের বিভিন্ন বস্তুর সৃষ্টি করেছে। আবার একইভাবে আকস্মিকভাবেই বিভিন্ন বস্তুর ধ্বংসও ঘটে। এই মিলনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, পরিকল্পনা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির ভূমিকা নেই। যেহেতু জগতের সৃষ্টি আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে এই মতবাদে বলা হয়, তাই একে যদৃচ্ছবাদ বলা হয়। যদৃচ্ছবাদ অনুসারে, জগতের সৃষ্টি কোনো সচেতন সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা বা পরিকল্পনার ফল নয়; বরং চারটি মহাভূতের আকস্মিক সংযোগ থেকেই বিভিন্ন বস্তু, উদ্ভিদ, প্রাণী এবং জীবজগতের উদ্ভব হয়েছে। একইভাবে, এই উপাদানগুলির বিচ্ছেদ বা পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন বস্তুর বিনাশ ঘটে। অর্থাৎ সৃষ্টি ও ধ্বংস—উভয়ই স্বাভাবিক ও আকস্মিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

এই মতবাদে জগতের ঘটনাবলিকে ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বর, অদৃষ্ট, কর্মফল বা কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রয়োজন স্বীকার করা হয় না। যদৃচ্ছবাদীরা মনে করেন, প্রকৃতির উপাদানগুলির আকস্মিক মিলন ও বিচ্ছেদের ফলেই জগতের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই জগতের প্রতিটি ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা রয়েছে—এমন ধারণাকে তারা গ্রহণ করেন না। এই কারণেই চার্বাক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে যদৃচ্ছবাদ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

চার্বাক দর্শনে স্বভাববাদ ও যদৃচ্ছবাদ | সম্পূর্ণ আলোচনা

সমালোচনা : যদৃচ্ছবাদকে অনেক দার্শনিক গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। কারণ এই মতবাদের পক্ষে সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়নি। দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো যুক্তির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু যদৃচ্ছবাদে “আকস্মিকতা” কীভাবে কার্যকর হয়, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তাই এই মতবাদ সমালোচিত হয়েছে। এছাড়া, যদি জগতের সমস্ত সৃষ্টি ও পরিবর্তন সম্পূর্ণরূপে আকস্মিক বলে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে প্রকৃতিতে যে নিয়ম-শৃঙ্খলা, কার্য-কারণ সম্পর্ক এবং ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে যদৃচ্ছবাদ জগতের সৃষ্টি ও বিকাশ সম্পর্কে একটি সুসংহত ও যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেক দার্শনিক মনে করেন। এই কারণেই ভারতীয় দর্শনের অধিকাংশ আচার্য যদৃচ্ছবাদকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য দার্শনিক মতবাদ হিসেবে স্বীকার করেননি।

6.প্রশ্ন : চার্বাক কীভাবে উপমান প্রমাণ খণ্ডন করেছেন? | উপমান প্রমাণের খণ্ডন | B.A. Philosophy 2026

উত্তর: ভারতীয় দর্শনে জ্ঞানলাভের বিভিন্ন উপায়কে প্রমাণ বলা হয়। ন্যায় দর্শন প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান ও শব্দ—এই চারটি প্রমাণ স্বীকার করে। ন্যায় মতে, অপরিচিত কোনো বস্তুকে পরিচিত বস্তুর সঙ্গে সাদৃশ্যের মাধ্যমে চিনতে পারার যে জ্ঞান, তার কারণ হলো উপমান প্রমাণ। কিন্তু চার্বাক দর্শন উপমানকে কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না। চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। তাই উপমানের মাধ্যমে যে জ্ঞান লাভ হয়, তা প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির সাহায্যেই ব্যাখ্যা করা যায়।

উপমান প্রমাণের সংজ্ঞা : ‘উপমান’ শব্দের অর্থ হলো সাদৃশ্যের মাধ্যমে জ্ঞান। ন্যায় দর্শনের মতে, কোনো ব্যক্তি আগে কোনো অজানা বস্তুর সঙ্গে পরিচিত না থাকলেও তার সঙ্গে পরিচিত কোনো বস্তুর সাদৃশ্যের কথা শুনে পরে সেই অজানা বস্তুকে দেখে তাকে চিনতে পারলে যে জ্ঞান জন্মায়, তাকে উপমিতি বলা হয় এবং সেই জ্ঞানের কারণকে উপমান প্রমাণ বলা হয়।
যেমন—একজন ব্যক্তি আগে কখনও গবয় দেখেনি। তাকে বলা হলো—“গবয় গোরুর মতো দেখতে।” পরে সে বনে গিয়ে গোরুর মতো দেখতে একটি প্রাণী দেখে এবং বুঝতে পারে—“এটিই গবয়।” ন্যায় দর্শনের মতে, এই ‘এটি গবয়’ জ্ঞানটি উপমান প্রমাণজাত জ্ঞান। কিন্তু চার্বাকরা এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন না।

চার্বাকদের মতে উপমান প্রমাণের খণ্ডন : চার্বাকদের উপমান প্রমাণের খণ্ডনের মূল বক্তব্য হলো—উপমান কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়; উপমানজাত জ্ঞান প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা যায়।
১. উপমানের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষের ভূমিকা: উপরের গবয়ের উদাহরণে ব্যক্তি যখন বনে গিয়ে গবয়কে নিজের চোখে দেখে, তখন গবয়ের আকৃতি ও গোরুর আকৃতির মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে, তা সে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করে। অর্থাৎ সাদৃশ্যটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ হয়। তাই এখানে নতুন কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
২. পূর্বশ্রুত বাক্যের স্মৃতি: ব্যক্তিটি আগে শুনেছিল—“গবয় গোরুর মতো দেখতে।” পরে গবয়কে দেখার সময় সেই কথাটি তার মনে পড়ে। অর্থাৎ এখানে পূর্বে শোনা কথার স্মৃতি কাজ করছে। নতুন কোনো উপমান প্রমাণের সাহায্যে জ্ঞান উৎপন্ন হচ্ছে না।
৩. সাদৃশ্য প্রত্যক্ষযোগ্য: চার্বাকদের মতে, দুটি বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য বা মিল ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে উপলব্ধি করা যায়। গোরুর মতো দেখতে গবয়কে প্রত্যক্ষ করার সময় তার সঙ্গে গোরুর সাদৃশ্যও প্রত্যক্ষ হয়। অতএব সাদৃশ্যের জ্ঞানকে একটি পৃথক প্রমাণের ফল বলা অপ্রয়োজনীয়।
৪. উপমিতি আসলে প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির সমন্বয়: চার্বাকদের যুক্তি অনুসারে, গবয় সম্পর্কে জ্ঞানলাভের ঘটনায় দুটি বিষয় কাজ করে—প্রথমত, গবয়ের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি এবং দ্বিতীয়ত, পূর্বে শোনা ‘গবয় গোরুর মতো’ কথাটির স্মৃতি। এই দুটির সমন্বয়েই ব্যক্তির মনে গবয় সম্পর্কে জ্ঞান জন্মায়। তাই একে পৃথকভাবে ‘উপমান প্রমাণজাত জ্ঞান’ বলা যায় না।
৫. স্বতন্ত্র প্রমাণের প্রয়োজন নেই: চার্বাক দর্শনের মূল নীতি হলো—যে জ্ঞান প্রত্যক্ষের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়, তার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণ স্বীকার করার প্রয়োজন নেই। উপমানের ক্ষেত্রেও যেহেতু প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির সাহায্যে জ্ঞানটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব, তাই উপমানকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

চার্বাকদের মূল যুক্তি : চার্বাকদের বক্তব্যকে সংক্ষেপে এভাবে প্রকাশ করা যায়—পূর্বে শোনা জ্ঞান → তার স্মৃতি → নতুন বস্তুর প্রত্যক্ষ জ্ঞান → সাদৃশ্যের প্রত্যক্ষ উপলব্ধি → বস্তুর পরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান। এখানে প্রত্যক্ষ ও স্মৃতিই যথেষ্ট। অতএব উপমান নামে কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণের অস্তিত্ব স্বীকার করার দরকার নেই।

 উপমান প্রমাণ

ন্যায় দর্শন ও চার্বাক দর্শনের পার্থক্য : ন্যায় দর্শন উপমানকে স্বতন্ত্র প্রমাণ স্বীকার করে, কিন্তু চার্বাক দর্শন তা স্বীকার করে না। ন্যায় মতে সাদৃশ্যের মাধ্যমে উপমিতি জন্মায়, পক্ষান্তরে চার্বাক মতে উপমানজাত জ্ঞান প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির মাধ্যমে ব্যাখ্যাযোগ্য। ন্যায় দর্শনে উপমানের নিজস্ব প্রামাণ্যতা রয়েছে, কিন্তু চার্বাক দর্শনে উপমানের কোনো স্বতন্ত্র প্রামাণ্যতা নেই।

উপসংহার : অতএব বলা যায়, চার্বাক দর্শনে উপমান প্রমাণের খণ্ডনের মূল ভিত্তি হলো প্রত্যক্ষবাদ। চার্বাকরা মনে করেন, উপমানের ক্ষেত্রে যে জ্ঞান উৎপন্ন হয় তা কোনো নতুন বা স্বতন্ত্র প্রমাণের দ্বারা উৎপন্ন হয় না; বরং পূর্বশ্রুত জ্ঞানের স্মৃতি এবং নতুন বস্তুর প্রত্যক্ষ উপলব্ধির ফলেই সেই জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। তাই উপমানকে পৃথক প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করা অপ্রয়োজনীয়। এইভাবে চার্বাকরা উপমানের স্বতন্ত্র প্রামাণ্যতা অস্বীকার করে প্রত্যক্ষকেই জ্ঞানের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

7.প্রশ্ন: চার্বাক মতে ঈশ্বর কি ? চার্বাক দর্শনের বৈদিক মতবাদ-বিরোধিতা আলোচনা করো। [মান – ১০]

উত্তর : ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ জড়বাদী, নাস্তিক ও প্রত্যক্ষবাদী দর্শন। ভারতীয় দর্শনের অধিকাংশ সম্প্রদায় যেখানে বেদ, ঈশ্বর, আত্মা, পরলোক, জন্মান্তর, কর্মফল প্রভৃতি ধারণাকে কোনো না কোনোভাবে স্বীকার করেছে, সেখানে চার্বাক দর্শন এই সমস্ত অতীন্দ্রিয় ও বৈদিক ধারণার বিরোধিতা করেছে। চার্বাকদের মতে, মানুষের জ্ঞানের ভিত্তি হলো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং প্রত্যক্ষের মাধ্যমে যার অস্তিত্ব জানা যায় না, তাকে কেবল অনুমান বা বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গ্রহণ করা উচিত নয়। এই জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তাঁরা বৈদিক ধর্ম ও দর্শনের বিভিন্ন মতবাদকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন।

১. ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার : বৈদিক ভারতীয় দার্শনিক সম্প্রদায়গুলির অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেছে। বিশেষত ন্যায়-বৈশেষিক দর্শনের মতে, ঈশ্বর হলেন জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণেই জীবের কর্মফল এবং অদৃষ্টের কার্যকারিতা ঘটে বলে তারা মনে করে।

কিন্তু চার্বাকরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, জগতের সৃষ্টি ও পরিচালনার জন্য কোনো অতিপ্রাকৃত ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানই জগতের গঠনের জন্য যথেষ্ট। তাই জগতের সৃষ্টির জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুমান করা অপ্রয়োজনীয়।

চার্বাকদের মতে, ঈশ্বরের ধারণা মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই ঈশ্বরের অস্তিত্বকে সত্য বলে গ্রহণ করা যায় না। তাঁরা মনে করতেন, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভণ্ড ও স্বার্থান্ধ পুরোহিত শ্রেণি ঈশ্বরের ধারণাকে মানুষের মধ্যে প্রচার করেছে।

২. পরলোকের অস্তিত্ব অস্বীকার : বৈদিক দর্শনে পরলোকের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের বর্তমান জীবনের কর্মের ফল মৃত্যুর পর অন্য জগতে ভোগ করতে হয়—এমন ধারণা বহু বৈদিক দর্শনে পাওয়া যায়। কিন্তু চার্বাকরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

চার্বাকদের মতে, মৃত্যুতেই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। দেহের বিনাশের পর কোনো পৃথক আত্মা পরলোকে গিয়ে সুখ বা দুঃখ ভোগ করে না। পরলোকের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করা যায় না। তাই পরলোক সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য জ্ঞানও সম্ভব নয়।

তাঁদের মতে, পরলোকে সুখভোগের আশায় মানুষকে বর্তমান জীবনে কৃচ্ছ্রসাধন করতে বলা হয়। কিন্তু যেহেতু পরলোকের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই, তাই এই ধরনের বিশ্বাস অমূলক।

৩. জন্মান্তরবাদ অস্বীকার : বৈদিক দর্শনের বহু সম্প্রদায়ের মতে, আত্মা একটি দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহে জন্মগ্রহণ করে এবং পূর্বজন্মের কর্ম অনুযায়ী সুখ-দুঃখ ভোগ করে। অর্থাৎ কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

কিন্তু চার্বাকরা জন্মান্তরবাদ স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, দেহের বিনাশের সঙ্গে জীবনেরও বিনাশ ঘটে। কোনো অমর আত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে গমন করে না। তাই জন্মান্তর ও কর্মফল ভোগের ধারণা চার্বাকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

৪. আত্মার অমরত্ব অস্বীকার : বৈদিক দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায় আত্মাকে নিত্য, অমর ও অবিনাশী বলে মনে করে। তাঁদের মতে, দেহের মৃত্যু হলেও আত্মার মৃত্যু হয় না। আত্মা নতুন দেহ গ্রহণ করে এবং কর্মফল ভোগ করতে থাকে।

চার্বাকরা এই মতের বিরোধিতা করেন। তাঁরা দেহের বাইরে কোনো স্বতন্ত্র ও অমর আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, দেহের অস্তিত্বের সঙ্গেই জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কিত এবং দেহের বিনাশের সঙ্গে জীবনেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। তাই আত্মার অমরত্বের ধারণা তাঁদের কাছে ভিত্তিহীন।

৫. বেদের প্রামাণ্য অস্বীকার : বৈদিক সম্প্রদায়গুলির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করা। বেদ পৌরুষেয় না অপৌরুষেয়—এই বিষয়ে বিভিন্ন দর্শনের মধ্যে মতভেদ থাকলেও বৈদিক সম্প্রদায়গুলি সাধারণভাবে বেদকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

কিন্তু চার্বাকরা শব্দপ্রমাণের প্রামাণ্যই স্বীকার করেন না। ফলে বেদের প্রামাণ্যও তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, কোনো বক্তব্যকে শুধু বেদে বলা হয়েছে বলে সত্য বলে গ্রহণ করা যায় না। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার দ্বারা যার সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয় না, তাকে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

চার্বাকদের মতে, বেদ মানুষেরই রচনা এবং বেদের মধ্যে স্বর্গ, নরক, পাপ, পুণ্য, ঈশ্বর, পরলোক প্রভৃতি বহু অলৌকিক বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু এসব বিষয় প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করা যায় না, তাই বেদের বক্তব্যকে তাঁরা সত্য বলে গ্রহণ করেননি।

৬. বেদের রচয়িতাদের সমালোচনা : চার্বাকরা শুধু বেদের প্রামাণ্য অস্বীকার করেননি, তাঁরা বেদের রচয়িতাদেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, কিছু স্বার্থান্ধ ও প্রতারক ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে বেদে স্বর্গ, নরক, পাপ, পুণ্য, ঈশ্বর ও পরলোকের মতো অলৌকিক বিষয়ের সমাবেশ ঘটিয়েছেন।

তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ভয় ও আশার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যাগ-যজ্ঞ ও অন্যান্য ধর্মীয় ক্রিয়াকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করা। তাই চার্বাকদের মতে, বেদের নির্দেশকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়।

৭. যাগ-যজ্ঞের বিরোধিতা : চার্বাক দর্শনের বৈদিক-বিরোধিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেদোক্ত যাগ-যজ্ঞের সমালোচনা। বৈদিক ধর্মে যাগ-যজ্ঞের মাধ্যমে পুণ্য অর্জন, স্বর্গলাভ এবং বিভিন্ন কামনা পূরণের কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু চার্বাকদের মতে, যাগ-যজ্ঞের মাধ্যমে স্বর্গলাভ বা অদৃশ্য পুণ্য অর্জনের ধারণার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। ফলে এই সমস্ত ক্রিয়াকাণ্ডকে তাঁরা অর্থহীন বলে মনে করেছেন।

তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন যাগ-যজ্ঞ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং এর ফলে পুরোহিত শ্রেণিই প্রধানত লাভবান হয়েছে। তাই চার্বাকদের দৃষ্টিতে এই সমস্ত ক্রিয়াকাণ্ড মানুষের প্রকৃত কল্যাণ সাধন করে না।

৮. পশুবলির তীব্র সমালোচনা : চার্বাকরা বৈদিক যজ্ঞে পশুবলির প্রথারও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁদের একটি বিখ্যাত যুক্তি হলো—যদি জ্যোতিষ্টোম যজ্ঞে বলিপ্রদত্ত পশু স্বর্গে যায়, তাহলে পুরোহিতরা তাঁদের নিজেদের পিতা-মাতাকে বলি দিয়ে স্বর্গে পাঠান না কেন?

এই প্রশ্নের মাধ্যমে চার্বাকরা দেখাতে চেয়েছেন যে, পশুবলি দিয়ে স্বর্গলাভের ধারণা অত্যন্ত অযৌক্তিক। তাঁদের মতে, এই ধরনের বিশ্বাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা হয়েছে।

৯. পুরোহিত শ্রেণির সমালোচনা : চার্বাকরা বিশেষভাবে পুরোহিত শ্রেণির স্বার্থপরতার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, পুরোহিতরা নিজেরা অনেক সময় যাগ-যজ্ঞের অনুষ্ঠান না করলেও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং স্বর্গলাভের প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজ করতে বাধ্য করেন।

চার্বাক মতে ঈশ্বর

যাগ-যজ্ঞ, পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় ক্রিয়াকাণ্ডকে পুরোহিত শ্রেণি নিজেদের জীবিকা বা উপজীবিকার মাধ্যম করে তুলেছে বলে চার্বাকরা মনে করেন। ফলে এসব ক্রিয়াকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রকৃত কোনো কল্যাণ না হয়ে পুরোহিতদের স্বার্থই পূরণ হয়েছে।

১০. পাপ-পুণ্যের ধারণার বিরোধিতা : বৈদিক ধর্মে পাপ ও পুণ্যের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কাজের ফলে পুণ্য এবং খারাপ কাজের ফলে পাপ সঞ্চিত হয় এবং তার ফল ভবিষ্যতে বা পরলোকে ভোগ করতে হয়—এমন ধারণা বৈদিক দর্শনে প্রচলিত।

চার্বাকরা এই ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁদের মতে, পাপ-পুণ্যের কোনো অদৃশ্য সঞ্চয় প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করা যায় না। তাই এর উপর ভিত্তি করে মানুষের বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

১১. স্বর্গ-নরকের ধারণার বিরোধিতা : চার্বাকদের মতে, স্বর্গ ও নরক মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিষয় নয়। স্বর্গে গিয়ে সুখভোগ বা নরকে গিয়ে দুঃখভোগের ধারণা পুরোহিত শ্রেণির প্রচারিত কল্পনা মাত্র। মানুষকে স্বর্গের লোভ এবং নরকের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ক্রিয়াকাণ্ডে নিয়োজিত করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

তাই চার্বাকরা স্বর্গ-নরকের পরিবর্তে বর্তমান ইহজীবনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

১২. ইহজীবনের সুখকে গুরুত্ব : চার্বাকদের দর্শনে ইহজীবনের সুখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তাঁরা পরলোক, জন্মান্তর ও অমর আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না, তাই তাঁদের মতে মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত বর্তমান জীবনকে সুখী ও আনন্দময় করে তোলা।

চার্বাকদের মতে, কাম ও অর্থই পরম পুরুষার্থ। অর্থাৎ ইহজীবনে অর্থ উপার্জন এবং কাম বা সুখভোগের মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করাই মানুষের প্রধান উদ্দেশ্য। পরলোকের আশায় বর্তমান জীবনকে কষ্ট ও ত্যাগের মধ্যে কাটানো তাঁদের কাছে যুক্তিসঙ্গত নয়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, চার্বাক দর্শনের বৈদিক মতবাদ-বিরোধিতা ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী অধ্যায়। চার্বাকরা ঈশ্বর, আত্মার অমরত্ব, পরলোক, জন্মান্তর, কর্মফল, স্বর্গ-নরক, বেদের প্রামাণ্য এবং যাগ-যজ্ঞের মতো বৈদিক ধারণার বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, প্রত্যক্ষ জগতের বাইরে কোনো অলৌকিক সত্তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। তাঁরা পুরোহিত শ্রেণির স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও বিশ্বাসেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। এইভাবে চার্বাক দর্শন বৈদিক অতীন্দ্রিয়বাদ ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের পরিবর্তে জড়জগত, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং ইহজীবনের সুখকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

8. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনে বিভিন্ন সম্প্রদায় বা মতগুলি আলোচনা করো। [মান – ১০]

ভূমিকা: ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাস্তিক, জড়বাদী, প্রত্যক্ষবাদী ও ইহজীবনমুখী দর্শন। চার্বাক দর্শন বেদের প্রামাণ্য, ঈশ্বরের অস্তিত্ব, আত্মার অমরত্ব, পরলোক, জন্মান্তর ও মোক্ষ প্রভৃতি অতীন্দ্রিয় ধারণাকে স্বীকার করে না। চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই জ্ঞানলাভের প্রধান ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে চার্বাক দর্শনকে সম্পূর্ণ একক ও অভিন্ন মতবাদ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিভিন্ন সময়ে চার্বাক মতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে জড়, চেতনা, দেহ, আত্মা, জ্ঞান ও সুখভোগ সম্পর্কে বিভিন্ন মতের পরিচয় পাওয়া যায়। তাই চার্বাক দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায় বা মতের আলোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

১. ধূর্ত চার্বাক: চার্বাক দর্শনের একটি পরিচিত সম্প্রদায় হলো ধূর্ত চার্বাক। এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে চার্বাকদের প্রচলিত ভোগবাদী ও ইহজীবনমুখী মতের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের মতে, মানুষ বর্তমান জীবনেই সুখ লাভের চেষ্টা করবে। মৃত্যুর পরে পরলোক বা জন্মান্তরের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই পরলোকের সুখের আশায় বর্তমান জীবনের সুখ ত্যাগ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অর্থ ও কামকে তাঁরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পুরুষার্থ হিসেবে গ্রহণ করেন।

২. সুশিক্ষিত চার্বাক: চার্বাকদের মধ্যে সুশিক্ষিত চার্বাক নামে একটি মতের কথাও উল্লেখ করা হয়। এই মতের অনুসারীরা চার্বাক দর্শনের জড়বাদী ও প্রত্যক্ষবাদী অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে যুক্তিনির্ভরভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তাঁদের মতে, কোনো বিষয়কে সত্য বলে গ্রহণ করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ থাকা দরকার এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বাইরে অতীন্দ্রিয় সত্তা সম্পর্কে অকারণে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ফলে ঈশ্বর, আত্মা ও পরলোকের মতো বিষয় তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. ভূতচৈতন্যবাদ: চার্বাক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মত হলো ভূতচৈতন্যবাদ। এই মত অনুসারে, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগের ফলে চেতনার উৎপত্তি হয়। পৃথক অবস্থায় এই জড় উপাদানগুলির মধ্যে চেতনা দেখা যায় না; কিন্তু বিশেষ সংযোগ ও বিন্যাসের ফলে নতুন ধর্ম হিসেবে চেতনার প্রকাশ ঘটে। এইভাবে চার্বাকরা চেতনাকে কোনো স্বতন্ত্র আত্মিক বা অতীন্দ্রিয় সত্তা হিসেবে না দেখে জড়ের উৎপন্ন ধর্ম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

৪. দেহাত্মবাদ: চার্বাকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মত হলো দেহাত্মবাদ। এই মত অনুসারে, দেহই আত্মা। দেহের বাইরে কোনো স্বতন্ত্র, নিত্য ও অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্ব নেই। আমরা দেহের মাধ্যমেই সুখ-দুঃখ, জ্ঞান ও অনুভূতি লাভ করি। তাই দেহের বিনাশের সঙ্গে চেতনারও বিনাশ ঘটে। এই কারণে মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব বা জন্মান্তরের ধারণা চার্বাকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

৫. জড়বাদী মত: চার্বাক দর্শনের মূল ভিত্তিই হলো জড়বাদ। চার্বাকদের মতে, জগতের ব্যাখ্যার জন্য ঈশ্বর বা কোনো অতীন্দ্রিয় সত্তার প্রয়োজন নেই। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানের সমন্বয়েই দৃশ্যমান জগতের গঠন ব্যাখ্যা করা যায়। এমনকি চেতনাকেও তাঁরা জড়ের বিশেষ সংযোগজাত ধর্ম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে ভারতীয় দর্শনের একটি প্রধান জড়বাদী দর্শন বলা হয়।

৬. প্রত্যক্ষবাদী মত: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রত্যক্ষবাদ। চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। অনুমান, উপমান ও শব্দ প্রভৃতি প্রমাণের স্বতন্ত্র প্রামাণ্যতা তাঁরা স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, যেসব জ্ঞান প্রত্যক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়, সেগুলিকে স্বতন্ত্র প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করার যথেষ্ট কারণ নেই। এই প্রত্যক্ষবাদ চার্বাক দর্শনের বিভিন্ন মতের একটি সাধারণ ভিত্তি।

৭. অনুমানবিরোধী মত: চার্বাকরা অনুমানকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন না। তাঁদের মতে, অনুমানের ভিত্তিতে যে ব্যাপ্তিজ্ঞান গড়ে ওঠে, তা সর্বক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। যেমন ধোঁয়া দেখে আগুনের অনুমান করা হয়; কিন্তু ধোঁয়া ও আগুনের সম্পর্ক সব পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই অনুমানকে প্রত্যক্ষের মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বলা যায় না। এই কারণে চার্বাকরা প্রত্যক্ষকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন।

চার্বাক দর্শনে বিভিন্ন সম্প্রদায় 

৮. উপমান ও শব্দের অস্বীকৃতি: চার্বাকরা উপমান ও শব্দকেও স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, উপমানজাত জ্ঞান শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়। আবার শব্দের প্রামাণ্যতাও বক্তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল। ফলে এগুলিকে আলাদা প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করার প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে চার্বাকদের একমাত্র প্রত্যক্ষ-নির্ভর জ্ঞানতত্ত্ব স্পষ্ট হয়।

৯. ইহজীবনবাদী মত: চার্বাক দর্শনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ইহজীবনবাদ। চার্বাকরা পরলোক, স্বর্গ, নরক ও জন্মান্তরকে অস্বীকার করেন। তাঁদের মতে, মানুষ যে বর্তমান জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে লাভ করেছে, সেই জীবনই বাস্তব। মৃত্যুর পরে নতুন জীবন পাওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই বর্তমান জীবনের সুখ ও কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

১০. ভোগবাদী মত: চার্বাক দর্শনের সঙ্গে ভোগবাদ গভীরভাবে সম্পর্কিত। চার্বাকদের মতে, মানুষের জীবনের লক্ষ্য ইহজীবনে সুখ লাভ করা। অর্থ ও কামকে তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পরলোকের অনিশ্চিত সুখের জন্য বর্তমান জীবনে অতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধন বা দুঃখভোগকে তাঁরা সমর্থন করেন না। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে ইহজীবনমুখী ভোগবাদী দর্শন হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়।

১১. নাস্তিক মত: চার্বাক দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো নাস্তিকতা। চার্বাকরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, জগতের সৃষ্টি, পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। জড় উপাদানের সাহায্যেই জগতের ব্যাখ্যা করা সম্ভব। একইভাবে আত্মা, পরলোক ও জন্মান্তরের ধারণাকেও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন।

১২. চার্বাক মতের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য: বিভিন্ন সম্প্রদায় বা মতের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও চার্বাক দর্শনের মূল ভিত্তিগুলি মোটামুটি একই। প্রত্যক্ষবাদ, জড়বাদ, নাস্তিকতা, ইহজীবনবাদ ও ভোগবাদ চার্বাক দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। চেতনার উৎপত্তি, দেহ ও আত্মার সম্পর্ক এবং জ্ঞানের প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও তাঁরা অতীন্দ্রিয় বিষয়ের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ জগত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, চার্বাক দর্শনে বিভিন্ন সম্প্রদায় বা মতের মধ্যে দার্শনিক ব্যাখ্যার কিছু পার্থক্য থাকলেও তাদের মূল ভিত্তি হলো জড়বাদ, প্রত্যক্ষবাদ, নাস্তিকতা ও ইহজীবনবাদ। ধূর্ত চার্বাক ও সুশিক্ষিত চার্বাকের মতো মতের পাশাপাশি ভূতচৈতন্যবাদ ও দেহাত্মবাদের মতো ধারণা চার্বাক দর্শনের বৈচিত্র্যকে প্রকাশ করে। চেতনার উৎপত্তি, আত্মার স্বরূপ এবং জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে তাঁদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও ঈশ্বর, পরলোক, জন্মান্তর ও নিত্য আত্মার মতো অতীন্দ্রিয় ধারণার প্রতি তাঁদের অনাস্থা স্পষ্ট। তাই চার্বাক দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আলোচনা করলে একদিকে যেমন এই দর্শনের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য বোঝা যায়, অন্যদিকে তেমনি এর জড়বাদী, প্রত্যক্ষবাদী ও ইহজীবনমুখী চরিত্রও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

9.প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো। [মান – ১০]

উত্তর: ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাস্তিক, জড়বাদী ও ইহজীবনমুখী দর্শন। চার্বাক দর্শনের নামকরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ‘চার্বাক’ নামটির উৎপত্তি ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। মূলত ‘চারু’ শব্দ এবং ‘চর্ভ’ ধাতুর ব্যুৎপত্তির উপর ভিত্তি করে চার্বাক নামের বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এছাড়া বৃহস্পতি ও লোকায়ত-বৃহস্পতির সঙ্গে চার্বাক মতের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়।

১. ‘চারু’ শব্দ থেকে ‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি: একটি মত অনুসারে, ‘চারু’ শব্দ থেকেই ‘চার্বাক’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। ‘চারু’ শব্দের অর্থ সুন্দর, মনোরম, মধুর বা আকর্ষণীয়। এই ব্যাখ্যা অনুসারে, যে মতবাদ মানুষের কাছে শ্রুতিমধুর, আকর্ষণীয় ও সুখকর, সেই মতবাদকে ‘চার্বাক’ বলা হয়েছে। চার্বাক দর্শনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় ছিল। কারণ এই দর্শন পরলোক, জন্মান্তর, স্বর্গ, নরক ইত্যাদির পরিবর্তে বর্তমান জীবনের সুখ ও আনন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে।

২. বৃহস্পতির বাক বা উপদেশ থেকে ‘চার্বাক’ নাম: ‘চার্বাক’ নামকরণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা হলো বৃহস্পতির সঙ্গে এর সম্পর্ক। ‘চারু’ শব্দের একটি অর্থ ‘বৃহস্পতি’ এবং ‘বাক’ বলতে কথা, বাণী বা উপদেশ বোঝায়। বৃহস্পতির বাক বা উপদেশের উপর ভিত্তি করে যে মতবাদ গড়ে উঠেছে, তাকে ‘চার্বাক’ বলা হয়েছে—এমন একটি মত প্রচলিত আছে। এই মত অনুসারে, বৃহস্পতিই চার্বাক দর্শনের প্রাচীন প্রবক্তা বা এই মতের মূল উৎস। তাঁর বক্তব্য ও উপদেশের ভিত্তিতে যে জড়বাদী মতবাদ গড়ে উঠেছিল, সেটিই পরবর্তীকালে চার্বাক দর্শন নামে পরিচিত হয়।

৩. বৃহস্পতি কে—এই প্রশ্ন: এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই বৃহস্পতি কে? চার্বাক দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বৃহস্পতির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত ও সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তবে ঋগ্বেদে ‘লোকায়বৃহস্পতি’ নামে একজন ঋষির পরিচয় পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। তাঁর মতে, জড় বা ‘অসং’ থেকে চেতনা বা ‘সং’-এর উৎপত্তি ঘটে। চার্বাক দর্শনেও একই ধরনের জড়বাদী ধারণা পাওয়া যায়। চার্বাকদের মতে, ভূতচতুষ্টয়—ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ-এর বিশেষ সংযোগের ফলে চেতনার উৎপত্তি ঘটে।

৪. লোকায়ত-বৃহস্পতির সঙ্গে চার্বাক মতের সম্পর্ক: লোকায়ত-বৃহস্পতির মতের সঙ্গে চার্বাক দর্শনের সাদৃশ্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। উভয় মতেই জড় উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং চেতনাকে জড় থেকে উৎপন্ন বলে মনে করা হয়েছে। চার্বাকদের মতে, জগতের ব্যাখ্যার জন্য কোনো অতিপ্রাকৃত ঈশ্বর বা স্বতন্ত্র আত্মার প্রয়োজন নেই। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানের সমন্বয়েই জগতের সৃষ্টি এবং বিশেষ সংযোগের ফলে চেতনার উৎপত্তি হয়। এই কারণে চার্বাক মতবাদকে কখনও কখনও লোকায়ত-বৃহস্পতির মতবাদ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।

৫. ‘চর্ভ’ ধাতু থেকে ‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি: আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মত হলো—‘চার্বাক’ শব্দটি ‘চর্ভ’ ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ‘চর্ভ’ ধাতুর অর্থ হলো চর্বণ করা, খাওয়া বা ভক্ষণ করা। এই ব্যুৎপত্তির সঙ্গে চার্বাক দর্শনের ভোগবাদী বা ইহজাগতিক সুখভোগের ধারণার সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। চার্বাকরা পরলোক, জন্মান্তর ও মোক্ষের মতো অতীন্দ্রিয় বিষয় স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, মানুষের জীবনের লক্ষ্য বর্তমান ইহজীবনে সুখ লাভ করা।

৬. ঔদরিক সুখভোগের সঙ্গে চার্বাক নামের সম্পর্ক: ‘চর্ভ’ ধাতুর অর্থ যদি ‘খাওয়া বা ভক্ষণ করা’ ধরা হয়, তাহলে এর সঙ্গে চার্বাক দর্শনের ঔদরিক সুখভোগবাদী চরিত্রের সম্পর্ক পাওয়া যায়। চার্বাকরা মনে করেন, মানুষ যে জীবন প্রত্যক্ষভাবে লাভ করেছে, সেই জীবনেই সুখ ও আনন্দ লাভের চেষ্টা করা উচিত। যেহেতু মৃত্যুর পর কোনো পরলোক নেই, জন্মান্তর নেই এবং অমর আত্মার অস্তিত্ব নেই, তাই ভবিষ্যৎ জীবনের সুখের আশায় বর্তমান জীবনকে কষ্টের মধ্যে কাটানো চার্বাকদের মতে যুক্তিসঙ্গত নয়।

৭. ‘চারু’ অর্থ মধুর—এই ব্যাখ্যা: আর একটি ব্যাখ্যা অনুসারে, ‘চারু’ শব্দের অর্থ মধুর বা শ্রুতিমধুর। এই অর্থে যে সম্প্রদায় মানুষের কাছে শ্রুতিমধুর, সুখকর বা আকর্ষণীয় মতবাদ প্রচার করে, তাকেই ‘চার্বাক সম্প্রদায়’ বলা হয়েছে। চার্বাক দর্শন সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো—এটি পরলোকের অনিশ্চিত সুখের পরিবর্তে বর্তমান জীবনের সুখকে গুরুত্ব দেয়। ধর্মীয় কৃচ্ছ্রসাধন, যাগ-যজ্ঞ ও পরলোকের আশার পরিবর্তে ইহজীবনের অর্থ ও সুখকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে এই দর্শনের বক্তব্য অনেকের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।

৮. চার্বাক নাম ও ভোগবাদের সম্পর্ক: চার্বাক দর্শনের নামকরণের সঙ্গে ভোগবাদী প্রবণতার সম্পর্কও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চার্বাকরা মানুষের জীবনের চরম লক্ষ্য হিসেবে ইহজীবনের সুখকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, অর্থ ও কাম মানুষের প্রধান পুরুষার্থ। চার্বাকদের দৃষ্টিতে পরলোকের সুখের আশায় বর্তমান জীবনে কৃচ্ছ্রসাধন করা অর্থহীন। কারণ পরলোকের অস্তিত্বই যখন প্রমাণিত নয়, তখন সেই পরলোকের সুখের জন্য বর্তমান জীবনের সুখ বিসর্জন দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

৯. চার্বাক নাম ও জড়বাদের সম্পর্ক: চার্বাক নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত থাকলেও চার্বাক দর্শনের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিশেষ মতভেদ নেই। চার্বাক দর্শন মূলত স্থূল জড়বাদের সমর্থক। চার্বাকরা মনে করেন, জগতের ব্যাখ্যার জন্য কোনো অতীন্দ্রিয় সত্তা বা ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানই জগতের গঠনের জন্য যথেষ্ট। এই চার জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগ থেকেই চেতনার উৎপত্তি হয়।

১০. চার্বাক ও লোকায়ত নামের সম্পর্ক: চার্বাক দর্শনকে অনেক সময় লোকায়ত দর্শন নামেও অভিহিত করা হয়। ‘লোকায়ত’ বলতে সাধারণভাবে এমন একটি মতকে বোঝানো হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত বা ইহজাগতিক জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত। চার্বাক দর্শন যেহেতু অতীন্দ্রিয় জগতের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ ইহজগতকে গুরুত্ব দেয় এবং মানুষের বর্তমান জীবনের সুখকে প্রধান বলে মনে করে, তাই একে লোকায়ত দর্শন বলা হয়েছে।

১১. নামকরণ সম্পর্কে মতভেদের কারণ: চার্বাক দর্শনের নামকরণ সম্পর্কে এত মতভেদের অন্যতম কারণ হলো, চার্বাকদের নিজস্ব প্রামাণিক গ্রন্থ আজ বিশেষভাবে পাওয়া যায় না। চার্বাক-বিরোধী বিভিন্ন দর্শনের গ্রন্থে চার্বাক মতের যে বক্তব্যগুলি পূর্বপক্ষ হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে, সেগুলির উপর নির্ভর করেই চার্বাক দর্শন সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়। ফলে ‘চার্বাক’ নামের প্রকৃত ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

১২. চার্বাক নামের সামগ্রিক তাৎপর্য: চার্বাক নামের উৎপত্তি ‘চারু’ শব্দ থেকে হোক, বৃহস্পতির বাক বা উপদেশ থেকে হোক কিংবা ‘চর্ভ’ ধাতু থেকে হোক—প্রতিটি ব্যাখ্যার মধ্যেই চার্বাক দর্শনের কোনো না কোনো মৌলিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ‘চারু’ থেকে ব্যাখ্যা করলে এর আকর্ষণীয় ও সুখকর মতবাদ বোঝায়, বৃহস্পতির বাকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে এর প্রাচীন উৎসের ধারণা পাওয়া যায় এবং ‘চর্ভ’ ধাতু থেকে ব্যাখ্যা করলে এর ভোগবাদী ও ইহজীবনমুখী চরিত্র প্রকাশ পায়।

‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, ‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি সম্পর্কে পণ্ডিতদের মধ্যে একক কোনো সর্বসম্মত মত নেই। কেউ ‘চারু’ শব্দ থেকে ‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন, কেউ ‘চারু’ শব্দের সঙ্গে বৃহস্পতির সম্পর্ক স্থাপন করে বৃহস্পতির বাক বা উপদেশ থেকে এই নামের উৎপত্তি দেখিয়েছেন, আবার কেউ ‘চর্ভ’ ধাতু, যার অর্থ চর্বণ করা বা খাওয়া, থেকে ‘চার্বাক’ নামের ব্যাখ্যা করেছেন। লোকায়ত-বৃহস্পতির জড়বাদী মতের সঙ্গেও চার্বাক দর্শনের সাদৃশ্য রয়েছে।

তবে নামের উৎপত্তি যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, চার্বাক দর্শনের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি বিষয় স্পষ্ট—এটি একটি স্থূল জড়বাদী, নাস্তিক, ভোগবাদী ও ইহজীবনমুখী দর্শন। ঈশ্বর, আত্মার অমরত্ব, পরলোক, জন্মান্তর প্রভৃতি অতীন্দ্রিয় বিষয় অস্বীকার করে চার্বাক দর্শন প্রত্যক্ষ জড়জগত ও ইহজীবনের সুখকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই ‘চার্বাক’ নামের বিভিন্ন ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যার মধ্যেও এই দর্শনের জড়বাদী ও ইহজাগতিক চরিত্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে।

10.প্রশ্ন: চার্বাক অধিবিদ্যা আলোচনা কর। অথবা, চার্বাক দর্শনের অধিবিদ্যায় জড়বাদ, চেতনা ও আত্মা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।

ভূমিকা: ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাস্তিক, বস্তুবাদী ও জড়বাদী দর্শন। ভারতীয় অন্যান্য দর্শনসম্প্রদায় যেখানে ঈশ্বর, আত্মা, পরলোক, জন্মান্তর, কর্মফল প্রভৃতি অতীন্দ্রিয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে, সেখানে চার্বাক দর্শন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যমান জগতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। চার্বাকদের মতে, মানুষের জ্ঞান ও জীবনের ব্যাখ্যার জন্য কোনো অতীন্দ্রিয় আত্মা বা ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। তাঁদের অধিবিদ্যার মূল বিষয় হলো জড়জগতের বাস্তবতা, জড় উপাদান থেকে চেতনার উৎপত্তি, দেহাত্মবাদ, আত্মার অমরত্ব অস্বীকার, ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার এবং পরলোক ও জন্মান্তরের প্রত্যাখ্যান। তাই চার্বাক অধিবিদ্যা মূলত একটি সুস্পষ্ট জড়বাদী ও ইহজীবনকেন্দ্রিক দর্শন।

১. চার্বাক দর্শনে জড়বাদের স্বরূপ: চার্বাক অধিবিদ্যার প্রধান ভিত্তি হলো জড়বাদ। জড়বাদ বলতে এমন মতকে বোঝায় যেখানে জড় বা বস্তুগত পদার্থকেই মূল ও মৌলিক বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। চার্বাকদের মতে, এই দৃশ্যমান জগতের সমস্ত বস্তু ও ঘটনা জড় উপাদানের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। জগতের ব্যাখ্যার জন্য কোনো অতীন্দ্রিয় শক্তি, ঈশ্বর বা আত্মার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে ভারতীয় দর্শনের একটি প্রধান জড়বাদী দর্শন বলা হয়।

২. ভূতচতুষ্টয়ই জগতের মূল উপাদান: চার্বাকদের মতে, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানই জগতের মূল উপাদান। ক্ষিতি বলতে পৃথিবী বা কঠিন পদার্থ, অপ বলতে জল বা তরল পদার্থ, তেজ বলতে অগ্নি বা তাপ এবং মরুৎ বলতে বায়ুকে বোঝানো হয়। এই চারটি উপাদানের বিভিন্ন সংযোগ, বিচ্ছেদ ও পরিবর্তনের ফলেই জগতের বিভিন্ন বস্তু ও জীবের সৃষ্টি হয়েছে। তাই জগতের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য চার্বাকরা এই চারটি উপাদানকেই যথেষ্ট মনে করেন।

৩. আকাশের অস্তিত্ব অস্বীকার: চার্বাকরা অন্যান্য অনেক ভারতীয় দর্শনের মতো আকাশকে পঞ্চম মৌলিক উপাদান হিসেবে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, আকাশ প্রত্যক্ষভাবে ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপলব্ধ হয় না। যেহেতু চার্বাক দর্শনে প্রত্যক্ষের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, তাই প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ নয় এমন আকাশকে পৃথক মৌলিক উপাদান হিসেবে গ্রহণ করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। ফলে চার্বাকদের মতে মৌলিক উপাদান হলো চারটি—ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ।

৪. জড় উপাদানের সমন্বয়েই জগতের সৃষ্টি: চার্বাকদের মতে, জগতের বিভিন্ন বস্তু কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তির দ্বারা সৃষ্টি হয়নি। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ-এর বিভিন্ন অনুপাত ও সংমিশ্রণের ফলে বিভিন্ন বস্তু ও জীবের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ জগতের উৎপত্তির জন্য কোনো সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। জড় উপাদানের স্বাভাবিক সমন্বয় ও পরিবর্তনের মাধ্যমেই জগতের বৈচিত্র্যকে ব্যাখ্যা করা যায়।

৫. ভূতচৈতন্যবাদ: চেতনা সম্পর্কে চার্বাকদের মতকে ভূতচৈতন্যবাদ বলা হয়। ‘ভূত’ বলতে এখানে জড় উপাদানকে বোঝানো হয়েছে এবং ‘চৈতন্য’ বলতে সচেতনতা বা জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে। চার্বাকদের মতে, চেতনা কোনো স্বতন্ত্র, নিত্য বা অতীন্দ্রিয় সত্তা নয়। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ-এর বিশেষ সংযোগ ও সমন্বয়ের ফলে চেতনা একটি নতুন ধর্ম হিসেবে উৎপন্ন হয়। তাই চেতনাকে জড়ের উৎপন্ন ধর্ম বলা হয়।

৬. চেতনা জড়ের উৎপন্ন ধর্ম: চার্বাকরা মনে করেন, চেতনা জড় উপাদানের বাইরে স্বাধীনভাবে অস্তিত্বশীল নয়। যেমন কোনো বিশেষ উপাদানের সমন্বয়ে এমন কোনো ধর্ম সৃষ্টি হতে পারে যা পৃথক উপাদানগুলিতে দেখা যায় না, তেমনই জড় উপাদানের বিশেষ সমন্বয়ে চেতনাও উৎপন্ন হয়। তাই চেতনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো পৃথক আত্মা বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করার প্রয়োজন নেই। এই মতই চার্বাকদের বস্তুবাদী চেতনতত্ত্বের মূল কথা।

৭. চেতনা দেহের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত: চার্বাকদের মতে, চেতনার প্রকাশ কেবল জীবিত দেহেই ঘটে। যতক্ষণ দেহ জীবিত ও সুস্থ থাকে, ততক্ষণ জ্ঞান, অনুভূতি, ইচ্ছা, সুখ, দুঃখ প্রভৃতি মানসিক অবস্থা প্রকাশিত হয়। কিন্তু দেহের মৃত্যু ঘটলে এই সমস্ত চৈতন্যগত কার্যকলাপও বন্ধ হয়ে যায়। তাই চেতনাকে দেহ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক কোনো নিত্য সত্তা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

৮. দেহাত্মবাদ: আত্মা সম্পর্কে চার্বাকদের প্রধান মত হলো দেহাত্মবাদ। ‘দেহই আত্মা’—এটাই এই মতের মূল বক্তব্য। চার্বাকরা দেহের বাইরে কোনো স্বাধীন, নিত্য ও অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। মানুষের জ্ঞান, অনুভূতি, ইচ্ছা, সুখ, দুঃখ প্রভৃতি দেহের সঙ্গেই সম্পর্কিত। তাই দেহের অতিরিক্ত কোনো আত্মাকে কল্পনা করা তাঁদের মতে অপ্রয়োজনীয়।

৯. আত্মার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব অস্বীকার: অন্যান্য অনেক ভারতীয় দর্শনে আত্মাকে দেহ থেকে পৃথক একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু চার্বাকরা এই মত গ্রহণ করেন না। তাঁদের মতে, দেহের বাইরে কোনো আত্মাকে প্রত্যক্ষ করা যায় না এবং তার অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণও নেই। তাই দেহ থেকে পৃথক আত্মার ধারণা কেবল কল্পনামাত্র। এই কারণে চার্বাকরা স্বতন্ত্র আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন।

১০. আত্মার অমরত্ব অস্বীকার: চার্বাকরা আত্মাকে নিত্য ও অবিনশ্বর মনে করেন না। তাঁদের মতে, দেহের সঙ্গে চেতনার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং দেহের বিনাশের সঙ্গে চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তির অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে। মৃত্যুর পর কোনো আত্মা পৃথকভাবে অস্তিত্বশীল থাকে—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই আত্মার অমরত্বের ধারণা চার্বাক দর্শনে গ্রহণযোগ্য নয়।

১১. জন্মান্তর অস্বীকার: চার্বাক দর্শন জন্মান্তরের ধারণাকে স্বীকার করে না। অন্যান্য ভারতীয় দর্শনে কর্মফলের কারণে আত্মার এক দেহ থেকে অন্য দেহে গমনকে জন্মান্তর বলা হয়েছে। কিন্তু চার্বাকদের মতে, আত্মার স্বতন্ত্র অস্তিত্বই যখন নেই, তখন এক দেহ থেকে অন্য দেহে আত্মার গমনও সম্ভব নয়। ফলে জন্মান্তরের ধারণা তাঁদের মতে ভিত্তিহীন।

১২. পরলোক অস্বীকার: চার্বাকরা পরলোকের অস্তিত্বও অস্বীকার করেন। তাঁদের মতে, মানুষের মৃত্যুর পরে কোনো পৃথক জগতে আত্মার অবস্থান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই স্বর্গ, নরক বা অন্য কোনো পরলোকের ধারণাকে তাঁরা গ্রহণ করেন না। তাঁদের মতে, মানুষের জীবনের প্রকৃত ক্ষেত্র হলো এই প্রত্যক্ষ ইহজগৎ।

১৩. ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার: চার্বাক দর্শনে ঈশ্বরের অস্তিত্বও স্বীকার করা হয় না। তাঁদের মতে, জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ-এর সমন্বয়েই জগতের বস্তুগত অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করা সম্ভব। যেহেতু ঈশ্বর প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ নন, তাই চার্বাকরা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

১৪. ঈশ্বরকে জগতের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে অস্বীকার: ন্যায়-বৈশেষিক প্রভৃতি দর্শন ঈশ্বরকে জগতের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে স্বীকার করলেও চার্বাকরা তা মানেন না। তাঁদের মতে, জগতের উৎপত্তির জন্য কোনো অতিপ্রাকৃত সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই। জড় উপাদানগুলির স্বাভাবিক সংযোগ ও পরিবর্তনের মাধ্যমেই জগতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তাই ঈশ্বরকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে গ্রহণ করা অপ্রয়োজনীয়।

১৫. দেহ ও চেতনার সম্পর্ক: চার্বাক দর্শনে দেহ ও চেতনার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, চেতনা দেহের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং জীবিত দেহেই চেতনার প্রকাশ ঘটে। দেহের মৃত্যু ঘটলে চেতনারও অবসান ঘটে। তাই চেতনা দেহ থেকে পৃথক কোনো স্বাধীন ও নিত্য সত্তা নয়। এই মত চার্বাকদের জড়বাদ ও দেহাত্মবাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১৬. প্রত্যক্ষের উপর নির্ভরতা: চার্বাকদের অধিবিদ্যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরতা। তাঁরা মনে করেন, ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে জগতকে প্রত্যক্ষ করা যায়, সেই জগতের বাস্তবতাই প্রথমে স্বীকার করা উচিত। আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক বা জন্মান্তরের মতো বিষয় প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ নয় বলে তাঁরা সেগুলির অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। ফলে চার্বাক অধিবিদ্যা মূলত প্রত্যক্ষনির্ভর ও অভিজ্ঞতাবাদী প্রকৃতির।

চার্বাক অধিবিদ্যা

১৭. ইহজীবনবাদ: চার্বাকদের মতে, মানুষের কাছে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ জীবন হলো বর্তমান ইহজীবন। পরলোক বা জন্মান্তর সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ নিশ্চয়তা নেই। তাই মানুষের উচিত বর্তমান জীবনকে কেন্দ্র করেই নিজের জীবনকে পরিচালিত করা। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে ইহজীবনবাদী দর্শন বলা হয়।

১৮. ভোগবাদ: চার্বাক দর্শনের ইহজীবনবাদ থেকে ভোগবাদের ধারণা স্বাভাবিকভাবেই আসে। যেহেতু বর্তমান জীবনই একমাত্র নিশ্চিত জীবন এবং মৃত্যুর পরে কোনো জীবন আছে বলে চার্বাকরা মনে করেন না, তাই বর্তমান জীবনে সুখ ও আনন্দ লাভকে তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থ ও কামকে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পুরুষার্থ হিসেবে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে তাঁদের ভোগবাদী প্রবণতা প্রকাশ পায়।

১৯. চার্বাক অধিবিদ্যার সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য: চার্বাক অধিবিদ্যার মূল বৈশিষ্ট্য হলো জড়বাদ, ভূতচৈতন্যবাদ ও দেহাত্মবাদ। তাঁরা জড়জগতকে বাস্তব বলে গ্রহণ করেছেন, জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগ থেকে চেতনার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন এবং দেহের অতিরিক্ত কোনো নিত্য আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে ঈশ্বর, পরলোক ও জন্মান্তরের ধারণাকেও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০. অন্যান্য দর্শনের সঙ্গে চার্বাক অধিবিদ্যার পার্থক্য: ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, বেদান্ত প্রভৃতি দর্শন আত্মা ও অন্যান্য অতীন্দ্রিয় সত্তার অস্তিত্বকে বিভিন্নভাবে স্বীকার করলেও চার্বাক দর্শন এই বিষয়গুলিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ন্যায়-বৈশেষিক যেখানে ঈশ্বর ও আত্মাকে স্বীকার করে, বেদান্ত যেখানে ব্রহ্ম ও আত্মার চরম বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করে, সেখানে চার্বাক কেবল প্রত্যক্ষযোগ্য জড়জগতকে বাস্তবতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

উপসংহার: অতএব বলা যায়, চার্বাক অধিবিদ্যা ভারতীয় দর্শনে একটি স্বতন্ত্র জড়বাদী চিন্তাধারার পরিচয় বহন করে। চার্বাকদের মতে, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানই জগতের মূল উপাদান; তাদের বিশেষ সংযোগ থেকে চেতনার উৎপত্তি হয় এবং দেহের অতিরিক্ত কোনো স্বাধীন, নিত্য ও অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্ব নেই। তাই তাঁরা আত্মার অমরত্ব, জন্মান্তর, পরলোক ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। জড়বাদ, ভূতচৈতন্যবাদ ও দেহাত্মবাদ—এই তিনটি ধারণার সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই চার্বাক অধিবিদ্যার প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরীক্ষায় মান-১০-এর উত্তরে ভূমিকা, জড়বাদ, ভূতচৈতন্যবাদ, দেহাত্মবাদ, আত্মার অমরত্ব অস্বীকার, ঈশ্বর-পরলোক-বর্ণান্তর অস্বীকার এবং উপসংহার উল্লেখ করলে উত্তরটি পূর্ণাঙ্গ হবে।

11. প্রশ্ন : চার্বাক জড়বাদ | জড়বাদ ও অধ্যাত্মবাদ, চেতনা ও আত্মা, স্বভাববাদ — বিস্তারিত আলোচনা মান – ১০

উত্তর : ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি সুস্পষ্ট ও প্রভাবশালী জড়বাদী দর্শন। চার্বাকদের মতে, এই দৃশ্যমান জগৎই একমাত্র বাস্তব জগৎ এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বাইরে কোনো অতীন্দ্রিয় সত্তাকে গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। তাই তাঁরা ঈশ্বর, আত্মা, পরলোক, পুনর্জন্ম, অদৃষ্ট, পাপ-পুণ্য প্রভৃতি ধারণাকে স্বীকার করেননি। তাঁদের দর্শনের মূল ভিত্তি হলো জড়তত্ত্ব, প্রত্যক্ষবাদ, স্বভাববাদ এবং ইহজাগতিক জীবনদৃষ্টি। চার্বাকদের জড়বাদ বুঝতে হলে জড় ও অধ্যাত্মবাদের পার্থক্য, ভূতচতুষ্টয়, চেতনার উৎপত্তি, আত্মার অস্বীকৃতি এবং স্বভাববাদের ধারণা বিশেষভাবে জানা প্রয়োজন।

১. জড়বাদের সংজ্ঞা : যে মতবাদ জগৎ ও জীবনকে কেবল জড়পদার্থের সাহায্যে ব্যাখ্যা করে অথবা জীবন ও চেতনাকে জড়ের বিশেষ রূপান্তর বা উৎপন্ন ধর্ম বলে মনে করে, তাকে জড়বাদ বলা হয়। জড়বাদী দর্শনের মূল বক্তব্য হলো—জগতের ব্যাখ্যার জন্য জড়ের বাইরে কোনো অতীন্দ্রিয় বা আত্মিক সত্তাকে গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। চার্বাক দর্শন এই অর্থে ভারতীয় দর্শনের প্রধান জড়বাদী সম্প্রদায়।

২. জড়বাদ ও অধ্যাত্মবাদ : জগৎ ও জীবনকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ভারতীয় দর্শনে দুটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়—জড়বাদ এবং অধ্যাত্মবাদ। জড়বাদ জড়পদার্থকে মূল বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করে। অন্যদিকে অধ্যাত্মবাদ জড়ের অতিরিক্ত কোনো চেতন বা আত্মিক সত্তার অস্তিত্ব স্বীকার করে। অধ্যাত্মবাদী দর্শন আত্মা, ঈশ্বর বা কোনো অতীন্দ্রিয় চেতনসত্তাকে জগতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। চার্বাকরা জড়বাদী হলেও ন্যায়, বেদান্ত, সাংখ্য প্রভৃতি দর্শনের বিভিন্ন রূপে জড়ের অতিরিক্ত আত্মা বা চেতনসত্তার আলোচনা দেখা যায়।

৩. চার্বাকদের মতে জড়ই একমাত্র সত্য : চার্বাক দর্শনের মূল বক্তব্য হলো—জড়পদার্থই বাস্তব। মানুষ তার ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে জগৎকে প্রত্যক্ষ করে, সেই জগতের বাইরে কোনো অদৃশ্য ও অতীন্দ্রিয় জগতের অস্তিত্ব স্বীকার করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাই ঈশ্বর, আত্মা, পরলোক বা অদৃষ্টের মতো প্রত্যক্ষাতীত সত্তাকে তাঁরা বাস্তব বলে গ্রহণ করেননি। তাঁদের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রত্যক্ষযোগ্য বস্তু ও ইহজাগতিক জীবন।

৪. চার্বাকদের ভূতচতুষ্টয় : চার্বাকদের মতে জগৎ মূলত চারটি জড়দ্রব্য দ্বারা গঠিত। এগুলি হলো—ক্ষিতি বা মাটি, অপ বা জল, তেজ বা আগুন এবং মরুৎ বা বায়ু। এই চারটি জড় উপাদানের বিভিন্ন সংমিশ্রণ ও পরিবর্তনের মাধ্যমে জগতের বিভিন্ন বস্তু ও জীবদেহের উৎপত্তি ঘটে। চার্বাকরা আকাশকে স্বতন্ত্র জড়দ্রব্য হিসেবে স্বীকার করেন না, কারণ আকাশ প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ হয় না।

৫. ভূতচতুষ্টয়ের সংমিশ্রণে জগতের উৎপত্তি : চার্বাকদের মতে, জগতের সৃষ্টি ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো ঈশ্বর বা অতীন্দ্রিয় শক্তির প্রয়োজন নেই। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুতের বিভিন্ন সংমিশ্রণ, বিচ্ছেদ ও পরিবর্তনের মাধ্যমেই জগতের বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ জগতের বৈচিত্র্যের মূল কারণ হলো জড়পদার্থগুলির বিভিন্ন ধরনের সমন্বয় ও তাদের স্বাভাবিক ধর্ম।

৬. চেতনা সম্পর্কে চার্বাক মত : চার্বাক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো চেতনা সম্পর্কে তাদের জড়বাদী ব্যাখ্যা। চার্বাকদের মতে, চেতনা কোনো স্বাধীন আত্মিক সত্তা নয়। চেতনা হলো জড়দেহেরই একটি উৎপন্ন ধর্ম বা গুণ। অর্থাৎ দেহের বাইরে আলাদা কোনো চেতনসত্তা নেই। নির্দিষ্টভাবে গঠিত জড়দেহের মধ্যেই চেতনার প্রকাশ ঘটে।

৭. চেতনা কীভাবে উৎপন্ন হয় : চার্বাকরা মনে করেন, ভূতচতুষ্টয় যখন বিশেষভাবে সংযুক্ত হয়ে দেহের সৃষ্টি করে, তখন সেই দেহে চেতনার আবির্ভাব ঘটে। এখানে চেতনা আগে থেকে পৃথকভাবে কোনো সত্তা হিসেবে বিদ্যমান থাকে না। বরং জড়পদার্থের বিশেষ সংগঠন ও সংমিশ্রণের ফল হিসেবে চেতনার উৎপত্তি হয়। তাই চেতনার অস্তিত্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য আত্মা বা ঈশ্বরের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

৮. মদশক্তির উপমা : চেতনার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করার জন্য চার্বাকরা মদশক্তির উদাহরণ দিয়েছেন। বিভিন্ন জড় উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিলিত হলে যেমন মদের মধ্যে নেশা বা মদশক্তির সৃষ্টি হয়, তেমনই ভূতচতুষ্টয় বিশেষভাবে দেহরূপে সংগঠিত হলে তার মধ্যে চেতনার উৎপত্তি হয়। উপাদানগুলির পৃথক অবস্থায় যে গুণ দেখা যায় না, তাদের বিশেষ সংমিশ্রণে নতুন গুণের আবির্ভাব ঘটতে পারে। চেতনার ক্ষেত্রেও চার্বাকরা এই ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন।

৯. চেতনা দেহের গুণ : চার্বাকদের মতে, দেহ থেকে চেতনাকে আলাদা করে কোনো স্বাধীন সত্তা হিসেবে চিন্তা করা যায় না। জীবিত দেহে চেতনা থাকে এবং মৃত দেহে চেতনা থাকে না। তাই চেতনা দেহের অতিরিক্ত কোনো নিত্যসত্তা নয়; বরং জীবন্ত দেহের একটি বিশেষ ধর্ম। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে জড়বাদী চেতনাতত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয়।

১০. আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার : অধ্যাত্মবাদী দর্শনগুলির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দেহের অতিরিক্ত নিত্য আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করা। কিন্তু চার্বাকরা এই মতকে অস্বীকার করেন। তাঁদের মতে, দেহের বাইরে পৃথক কোনো আত্মার অস্তিত্ব নেই। জীবিত দেহকেই ‘আমি’ বলে মনে হয়। ‘আমি’ বলতে যে সত্তাকে বোঝানো হয়, তা আসলে দেহ ও দেহজাত চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

জড়বাদ

১১. দেহাত্মবাদ : চার্বাকদের আত্মতত্ত্বকে অনেক সময় দেহাত্মবাদ বলা হয়। এর অর্থ হলো—দেহই আত্মা বা ‘আমি’-এর ভিত্তি। আত্মা নামে দেহের অতিরিক্ত কোনো নিত্য ও অবিনশ্বর সত্তা নেই। মানুষ যখন বলে ‘আমি দেখছি’, ‘আমি হাঁটছি’ বা ‘আমি সুখী’, তখন এই ‘আমি’ কোনো পৃথক আত্মিক সত্তাকে নির্দেশ করে না; জীবিত দেহকেই নির্দেশ করে।

১২. মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব নেই : চার্বাকদের মতে, দেহের বিনাশের সঙ্গে চেতনারও বিনাশ ঘটে। কারণ চেতনা যদি দেহের উৎপন্ন ধর্ম হয়, তবে দেহ নষ্ট হলে সেই ধর্মও নষ্ট হবে। সুতরাং মৃত্যুর পর আত্মা অন্য দেহে প্রবেশ করে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। এই কারণে চার্বাকরা পুনর্জন্ম ও পরলোকের ধারণাকেও অস্বীকার করেন।

১৩. ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার : চার্বাক জড়বাদে জগৎ সৃষ্টির জন্য কোনো ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই। চার্বাকদের মতে, যদি ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুতের স্বাভাবিক ধর্মের মাধ্যমেই জগতের বিভিন্ন ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে একজন অতীন্দ্রিয় সৃষ্টিকর্তাকে গ্রহণ করার প্রয়োজন থাকে না। ঈশ্বর প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ নন—তাই চার্বাকদের প্রত্যক্ষবাদী দৃষ্টিতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠিত নয়।

১৪. অদৃষ্টের অস্বীকৃতি : ভারতীয় অন্যান্য দর্শনে কর্মফল ব্যাখ্যা করার জন্য অদৃষ্ট বা অদৃশ্য শক্তির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চার্বাকরা অদৃষ্টকে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধ নয় এমন কোনো অদৃশ্য শক্তিকে জগতের ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। জগতের ঘটনাগুলি জড়পদার্থের স্বাভাবিক ধর্মের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

১৫. স্বভাববাদ : চার্বাক জড়বাদের সঙ্গে স্বভাববাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুর নিজস্ব স্বভাব আছে এবং সেই স্বভাব অনুযায়ী তার কার্য সংঘটিত হয়—এটাই স্বভাববাদের মূল বক্তব্য। আগুনের স্বভাব উষ্ণতা, জলের স্বভাব শীতলতা এবং বায়ুর নিজস্ব ধর্ম রয়েছে। কোনো বস্তুর আচরণ ব্যাখ্যা করার জন্য সবসময় কোনো বাহ্যিক চেতন নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন নেই।

১৬. স্বভাবের মাধ্যমে জগতের বৈচিত্র্যের ব্যাখ্যা : চার্বাকদের মতে, জগতে বিভিন্ন বস্তুর বিভিন্ন ধর্ম ও কার্য তাদের নিজস্ব স্বভাবের কারণে ঘটে। চারটি জড়দ্রব্য বিভিন্নভাবে সংযুক্ত হয়ে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করে এবং সেই বস্তুগুলির নিজস্ব ধর্ম অনুসারে তারা কার্য সম্পাদন করে। ফলে জগতের বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বর বা অদৃষ্টের সাহায্য গ্রহণ করার দরকার নেই।

১৭. স্বভাববাদ ও ঈশ্বর : চার্বাকদের স্বভাববাদ মূলত ঈশ্বরবাদকে অস্বীকার করে। যদি প্রত্যেক বস্তুর নিজস্ব স্বভাব থাকে এবং সেই স্বভাব অনুযায়ী বস্তু কার্য সম্পাদন করে, তবে একজন ঈশ্বর এসে সেই কার্য পরিচালনা করছেন—এমন ধারণার প্রয়োজন থাকে না। তাই চার্বাক দর্শনে জগতের উৎপত্তি ও কার্যকলাপকে স্বভাবের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

১৮. চার্বাক জড়বাদের সঙ্গে লোকায়ত ভাবধারার সম্পর্ক : চার্বাক দর্শনের জড়বাদ সাধারণ মানুষের ইহজাগতিক অভিজ্ঞতা ও লৌকিক চিন্তাধারার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে লোকায়ত দর্শন বলা হয়। প্রত্যক্ষ জগত, দৃশ্যমান বস্তু এবং ইহজীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এই দর্শনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

১৯. চার্বাক জড়বাদের বিরুদ্ধে আপত্তি : অন্যান্য ভারতীয় দর্শনসম্প্রদায় চার্বাকদের জড়বাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, শুধুমাত্র জড়পদার্থের সাহায্যে চেতনা, জগতের শৃঙ্খলা, উদ্দেশ্য, নিয়ম ও সামঞ্জস্যের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। বিশেষ করে চেতন অভিজ্ঞতা কীভাবে সম্পূর্ণ জড়পদার্থ থেকে উৎপন্ন হতে পারে—এ বিষয়ে চার্বাক ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয় বলে বিরোধীরা মনে করেন।

২০. জগতের নিয়ম ও শৃঙ্খলার সমস্যা : চার্বাকদের সমালোচকদের মতে, জগত কেবল বিচ্ছিন্ন জড়পদার্থের সমষ্টি নয়। জগতের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম, শৃঙ্খলা, সামঞ্জস্য ও সংগঠন দেখা যায়। এই শৃঙ্খলা ও উদ্দেশ্যকে কেবল স্বভাব বা যান্ত্রিক জড়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অধ্যাত্মবাদী দর্শনগুলি এই বিষয়টিকে চার্বাক জড়বাদের একটি দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে।

২১. চার্বাক জড়বাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব : চার্বাক দর্শনের বিশেষ গুরুত্ব হলো—ভারতীয় দর্শনের পরিমণ্ডলে এটি প্রচলিত অধ্যাত্মবাদী ধারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জড়বাদী অবস্থান গ্রহণ করেছিল। আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক, কর্মফল ইত্যাদি অতীন্দ্রিয় ধারণার পরিবর্তে চার্বাকরা প্রত্যক্ষ জগত ও জড়পদার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে ভারতীয় দর্শনে বস্তুবাদী ও ইহজাগতিক চিন্তার বিকাশে চার্বাকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার : সবশেষে বলা যায়, চার্বাক জড়বাদের মূল ভিত্তি হলো—জড়ই বাস্তব এবং জড়ের মাধ্যমেই জগৎ ও জীবনকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুত—এই ভূতচতুষ্টয় থেকে জগতের বিভিন্ন বস্তু এবং জীবদেহের উৎপত্তি। বিশেষভাবে সংগঠিত জড়দেহে চেতনার আবির্ভাব ঘটে; তাই চেতনা কোনো স্বাধীন আত্মিক সত্তা নয়, বরং দেহের উৎপন্ন ধর্ম। দেহের অতিরিক্ত আত্মা, ঈশ্বর, অদৃষ্ট, পরলোক ও পুনর্জন্মের অস্তিত্ব চার্বাকরা অস্বীকার করেছেন। একইভাবে জগতের বিভিন্ন কার্যকলাপকে তাঁরা স্বভাববাদ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও অন্যান্য ভারতীয় দর্শন চার্বাক জড়বাদের বিরুদ্ধে চেতনা, আত্মা, উদ্দেশ্য ও জগতের শৃঙ্খলা নিয়ে নানা আপত্তি উত্থাপন করেছে, তবুও ভারতীয় দর্শনে জড়বাদী চিন্তার একটি সুসংহত রূপ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

12. প্রশ্ন : চার্বাক মতে কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ খণ্ডন আলোচনা কর ।

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি স্বতন্ত্র জড়বাদী ও প্রত্যক্ষবাদী দর্শন। চার্বাকরা প্রত্যক্ষ জগতকেই বাস্তব বলে মনে করেন এবং আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক, কর্মফল ও পুনর্জন্মের মতো অপ্রত্যক্ষ বিষয়কে গ্রহণ করেন না। বিশেষ করে কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ সম্পর্কে চার্বাকদের অবস্থান তাঁদের জড়বাদ, দেহাত্মবাদ এবং প্রত্যক্ষবাদী জ্ঞানতত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। চার্বাকদের মতে, মানুষের বর্তমান জীবনের কর্মের কোনো অদৃশ্য ফল সঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর পরে অন্য জীবনে ভোগ করতে হয়—এমন ধারণার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই তাঁরা কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ উভয়কেই খণ্ডন করেছেন।

কর্মবাদ কী ?

কর্মবাদ: কর্মবাদ বলতে সাধারণভাবে বোঝায়—মানুষ যে কর্ম সম্পাদন করে, তার উপযুক্ত ফল তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হয়। সৎকর্মের ফলে পুণ্য ও সুখ এবং অসৎকর্মের ফলে পাপ ও দুঃখ উৎপন্ন হয়। অনেক ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী, সমস্ত কর্মের ফল বর্তমান জীবনে প্রকাশ পায় না; কিছু কর্মের ফল অদৃশ্যভাবে সঞ্চিত থাকে এবং পরবর্তী জীবনে তার ফল ভোগ করতে হয়। এই অদৃশ্য কর্মফলকে অনেক দর্শনে অদৃষ্ট বলা হয়।

চার্বাকদের অবস্থান: চার্বাকরা এই কর্মবাদ গ্রহণ করেন না। তাঁদের মতে, কর্মের এমন কোনো অদৃশ্য শক্তি নেই যা মৃত্যুর পরেও ব্যক্তির সঙ্গে থেকে ভবিষ্যৎ জীবনে ফল প্রদান করবে।

চার্বাক মতে কর্মবাদ খণ্ডন

১. প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব: চার্বাকদের কর্মবাদ-বিরোধিতার প্রধান ভিত্তি হলো তাঁদের প্রত্যক্ষবাদ। চার্বাকদের মতে, প্রত্যক্ষই জ্ঞানের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। কিন্তু কর্মের অদৃশ্য ফল, পুণ্য, পাপ বা অদৃষ্টকে প্রত্যক্ষ করা যায় না। আমরা কোনো ব্যক্তিকে কর্ম করতে দেখি, কিন্তু সেই কর্মের ফলে একটি অদৃশ্য শক্তি সৃষ্টি হয়ে ভবিষ্যতে তার ফল দেবে—এমন বিষয় প্রত্যক্ষ করা যায় না। তাই কর্মফল ও অদৃষ্টের অস্তিত্ব স্বীকার করা চার্বাকদের মতে যুক্তিসঙ্গত নয়।

২. অদৃষ্টের অস্তিত্ব অস্বীকার: কর্মবাদকে ব্যাখ্যা করার জন্য অনেক দর্শন অদৃষ্ট বা অদৃশ্য কর্মশক্তির ধারণা গ্রহণ করে। মানুষের কর্মের ফলে একটি অদৃশ্য শক্তি সৃষ্টি হয় এবং উপযুক্ত সময়ে সেই শক্তি সুখ বা দুঃখের কারণ হয়—এমন ধারণা কর্মবাদের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু চার্বাকরা প্রশ্ন করেন, এই অদৃষ্টকে কোথায় বা কীভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়? যেহেতু অদৃষ্ট প্রত্যক্ষযোগ্য নয়, তাই তার অস্তিত্বকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

৩. পুণ্য ও পাপের খণ্ডন: কর্মবাদের সঙ্গে পুণ্য ও পাপের ধারণা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রচলিত মত অনুযায়ী, ভালো কাজ করলে পুণ্য এবং খারাপ কাজ করলে পাপ সঞ্চিত হয় এবং পরবর্তীকালে তার ফল ভোগ করতে হয়। কিন্তু চার্বাকদের মতে পুণ্য ও পাপ নামে কোনো অদৃশ্য সত্তা মানুষের মধ্যে সঞ্চিত থাকে—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই পুণ্য-পাপের অদৃশ্য ফলের উপর ভিত্তি করে কর্মবাদ প্রতিষ্ঠা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

৪. কর্মফলের অদৃশ্যতা: মানুষ কোনো কাজ করার পর তার কিছু প্রত্যক্ষ ফল দেখতে পায়। যেমন পরিশ্রম করলে অর্থ উপার্জন হতে পারে বা অসতর্ক হলে ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু একটি কর্মের ফলে অদৃশ্যভাবে কোনো কর্মফল সঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর পরেও তার ফল প্রদান করবে—এমন ধারণার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই চার্বাকরা এই অদৃশ্য কর্মফলকে গ্রহণ করেন না।

৫. বর্তমান জীবনই বাস্তব: চার্বাকদের মতে প্রত্যক্ষভাবে যে জীবন ও জগতকে অনুভব করা যায়, সেটিই মানুষের কাছে নিশ্চিত বাস্তবতা। ভবিষ্যৎ জন্ম বা অদৃশ্য কর্মফলের আশায় বর্তমান জীবনের বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। তাই চার্বাক দর্শনে ইহজীবনের প্রত্যক্ষ সুখ-দুঃখ বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।

পুনর্জন্মবাদ কী?

পুনর্জন্মবাদ: পুনর্জন্মবাদ বা জন্মান্তরবাদ হলো সেই মত, যার মতে মানুষের বর্তমান দেহের মৃত্যু হলেও তার আত্মার মৃত্যু হয় না। আত্মা এক দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহে প্রবেশ করে এবং নতুন জন্ম লাভ করে। সাধারণত এই পুনর্জন্মকে পূর্বজন্মের কর্মের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। অর্থাৎ প্রচলিত ধারণায়—কর্ম কর্মফল মৃত্যু পুনর্জন্ম কর্মফল ভোগ

চার্বাক মতে পুনর্জন্মবাদ খণ্ডন

১. নিত্য আত্মার অস্তিত্ব নেই: পুনর্জন্মের জন্য একটি নিত্য ও অবিনশ্বর আত্মার প্রয়োজন, যে একটি দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহে প্রবেশ করবে। কিন্তু চার্বাকরা দেহের অতিরিক্ত কোনো স্বাধীন, নিত্য ও অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে দেহই ব্যক্তির অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। তাই দেহের বিনাশের পরে একটি পৃথক আত্মা অন্য দেহে জন্মগ্রহণ করবে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

২. দেহের বিনাশের সঙ্গে চেতনার বিনাশ: চার্বাকদের দেহাত্মবাদ অনুযায়ী, চেতনা দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত। চার্বাকরা চেতনাকে কোনো স্বাধীন আত্মার ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেন না। জড় উপাদানের বিশেষ সমন্বয়ের ফলে দেহে চেতনার প্রকাশ ঘটে। তাই দেহের বিনাশ হলে সেই দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত চেতনাও বিলুপ্ত হয়। মৃত্যুর পরে সেই চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তি অন্য দেহে পুনরায় জন্ম নেবে—এমন ধারণা চার্বাকদের মতে গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. পুনর্জন্মের প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই: চার্বাকদের মতে প্রত্যক্ষই জ্ঞানের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। কিন্তু কোনো ব্যক্তি পূর্বজন্মে ছিল এবং মৃত্যুর পরে সেই ব্যক্তিই অন্য দেহে জন্মগ্রহণ করেছে—এই ঘটনাকে সাধারণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যায় না। তাই পুনর্জন্মের ধারণা চার্বাকদের প্রত্যক্ষবাদী জ্ঞানতত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৪. কর্মফল ও পুনর্জন্ম পরস্পর নির্ভরশীল: পুনর্জন্মবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাধারণত কর্মফলের ধারণা গ্রহণ করা হয়। বলা হয়, বর্তমান জীবনের সমস্ত কর্মের ফল বর্তমান জীবনে পাওয়া যায় না; অবশিষ্ট কর্মফল পরবর্তী জন্মে ভোগ করতে হয়। কিন্তু চার্বাকরা অদৃষ্ট, পুণ্য-পাপ এবং অদৃশ্য কর্মফল স্বীকার করেন না। ফলে সেই কর্মফল ভোগ করার জন্য পুনর্জন্মের প্রয়োজনীয়তাও তাঁদের দর্শনে থাকে না।

৫. পূর্বজন্মের স্মৃতির সমস্যা: যদি বর্তমান ব্যক্তি পূর্বজন্মেরই ব্যক্তি হন, তাহলে পূর্বজন্মের স্মৃতি সাধারণত থাকে না কেন—এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। যে আত্মা পূর্বজন্ম থেকে বর্তমান জন্মে এসেছে, তার পরিচয় ও ধারাবাহিকতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই পূর্বজন্মের ধারণাকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

৬. পরলোকের অস্বীকৃতি: পুনর্জন্মের ধারণা সাধারণত মৃত্যুর পরেও আত্মার অস্তিত্ব বজায় থাকার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু চার্বাকদের মতে দেহের বিনাশের সঙ্গে ব্যক্তির চেতনাসম্পন্ন অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে। ফলে মৃত্যুর পরে কোনো আত্মা যদি অস্তিত্বশীল না থাকে, তাহলে তার পরলোকগমন বা পুনরায় জন্মগ্রহণের প্রশ্নও থাকে না।

৭. জড়বাদী দর্শনের সঙ্গে পুনর্জন্মের অসঙ্গতি: চার্বাকদের মতে ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগের মাধ্যমে জীবদেহ ও চেতনার উৎপত্তি হয়। চেতনা কোনো স্বাধীন আত্মিক সত্তার ফল নয়। তাই দেহের বিনাশের পর চেতনা বা আত্মা অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে পুনর্জন্ম লাভ করবে—এমন ধারণা চার্বাকদের জড়বাদী ব্যাখ্যার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদের পারস্পরিক সম্পর্ক

কর্ম ও পুনর্জন্মের সম্পর্ক: প্রচলিত ভারতীয় চিন্তায় কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানুষের বর্তমান জীবনের কর্মের কিছু ফল বর্তমান জীবনে পাওয়া যায় এবং কিছু কর্মফল পরবর্তী জন্মে ভোগ করতে হয়—এই ধারণার উপর পুনর্জন্মবাদ প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু চার্বাকরা অদৃষ্ট, কর্মফল ও নিত্য আত্মা স্বীকার না করায় পুনর্জন্মের ভিত্তিটিও তাঁরা অস্বীকার করেন।

কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ

চার্বাকদের যুক্তির ধারাবাহিকতা: চার্বাকদের দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে অদৃষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়; অদৃষ্ট গ্রহণযোগ্য না হলে অদৃশ্য কর্মফলও গ্রহণযোগ্য নয়; নিত্য আত্মা না থাকলে সেই কর্মফল বহন করার মতো কোনো সত্তাও থাকে না; আর নিত্য আত্মা ও কর্মফলের অস্তিত্ব না থাকলে পুনর্জন্মের ধারণারও কোনো ভিত্তি থাকে না।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, চার্বাক মতে কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ খণ্ডন তাঁদের প্রত্যক্ষবাদ, জড়বাদ ও দেহাত্মবাদের স্বাভাবিক পরিণতি। চার্বাকরা কর্মের অদৃশ্য ফল, পুণ্য-পাপ, অদৃষ্ট এবং পরবর্তী জন্মের ধারণাকে প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে গ্রহণ করেন না। তাঁদের মতে, দেহের অতিরিক্ত কোনো নিত্য আত্মা নেই এবং দেহের বিনাশের সঙ্গে ব্যক্তির চেতনাসম্পন্ন অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে। ফলে মৃত্যুর পরে আত্মার অন্য দেহে জন্মগ্রহণ করার প্রশ্নও থাকে না।

13. প্রশ্ন : চার্বাক মতে মোক্ষ বা মুক্তি কী ?

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি স্বতন্ত্র জড়বাদী, বস্তুবাদী ও প্রত্যক্ষবাদী দর্শন। ভারতীয় দর্শনের অধিকাংশ সম্প্রদায় যেখানে মোক্ষ বা মুক্তিকে মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা পরম পুরুষার্থ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সেখানে চার্বাক দর্শন প্রচলিত অর্থে মোক্ষ বা মুক্তির অস্তিত্ব স্বীকার করে না। চার্বাকদের মতে দেহের অতিরিক্ত কোনো নিত্য আত্মা নেই, পুনর্জন্ম নেই, পরলোক নেই এবং কর্মের কোনো অদৃশ্য ফল নেই। তাই যে আত্মা জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ হয়ে কর্মফল ভোগ করে এবং পরে মোক্ষ লাভ করে—এই প্রচলিত ধারণাটিই চার্বাক দর্শনের কাছে অগ্রহণযোগ্য। চার্বাক মতে মোক্ষের ধারণা বুঝতে হলে তাঁদের জড়বাদ, দেহাত্মবাদ, প্রত্যক্ষবাদ, কর্মবাদ-বিরোধিতা এবং পুনর্জন্ম-বিরোধী মত সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

মোক্ষ বা মুক্তি কী?

মোক্ষ বা মুক্তি: ভারতীয় দর্শনে মোক্ষ বলতে সাধারণত জন্ম-মৃত্যুর চক্র, কর্মবন্ধন, দুঃখ, অজ্ঞানতা ও সংসারবন্ধন থেকে আত্মার চূড়ান্ত মুক্তিকে বোঝানো হয়। মানুষের জীবনকে সংসারবন্ধনে আবদ্ধ বলে মনে করে বিভিন্ন দর্শন সেই বন্ধন থেকে মুক্তির বিভিন্ন পথ নির্দেশ করেছে। কারও মতে জ্ঞান, কারও মতে যোগসাধনা, কারও মতে ঈশ্বরভক্তি বা ঈশ্বরের কৃপা এবং কারও মতে তত্ত্বজ্ঞান মোক্ষ লাভের প্রধান উপায়। কিন্তু চার্বাকরা যেহেতু নিত্য আত্মা, পুনর্জন্ম ও পরলোক স্বীকার করেন না, তাই তাঁদের দর্শনে এই প্রচলিত মোক্ষধারণার কোনো স্থান নেই।

চার্বাক মতে মোক্ষের ধারণা

১. মোক্ষের অস্তিত্ব অস্বীকার: চার্বাকরা প্রচলিত অর্থে কোনো পারলৌকিক মোক্ষকে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, মৃত্যুর পরে আত্মা কোনো চিরস্থায়ী সুখ বা মুক্তির অবস্থায় পৌঁছায়—এমন কোনো বাস্তবতার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। তাই মোক্ষকে একটি বাস্তব ও প্রমাণিত অবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

২. নিত্য আত্মার অস্তিত্ব নেই: মোক্ষের ধারণার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো নিত্য আত্মা। আত্মা জন্ম-মৃত্যুর ঊর্ধ্বে এবং এক দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহে প্রবেশ করে—এই ধারণা গ্রহণ করলেই আত্মার মুক্তির প্রশ্ন আসে। কিন্তু চার্বাকদের মতে দেহের অতিরিক্ত কোনো স্বাধীন, নিত্য ও অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্ব নেই। ফলে আত্মার মোক্ষলাভের ধারণার ভিত্তিই চার্বাক দর্শনে অনুপস্থিত।

৩. দেহাত্মবাদ মোক্ষকে অস্বীকার করে: চার্বাকদের দেহাত্মবাদ অনুযায়ী, দেহের অতিরিক্ত কোনো পৃথক আত্মার অস্তিত্ব নেই। জীবদেহের বিশেষ সংগঠনের সঙ্গে চেতনার প্রকাশ ঘটে। দেহের অস্তিত্ব থাকলেই চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তির অস্তিত্ব থাকে এবং দেহের বিনাশের সঙ্গে সেই অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে। তাই মৃত্যুর পরে আত্মা কোনো মুক্ত অবস্থায় পৌঁছাবে—এই ধারণা চার্বাকদের দেহাত্মবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৪. পুনর্জন্মের অস্বীকৃতি: ভারতীয় দর্শনের বহু সম্প্রদায়ে মোক্ষকে জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি বা সংসারচক্র থেকে মুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু চার্বাকরা পুনর্জন্ম স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, দেহের মৃত্যুর পরে কোনো নিত্য আত্মা অন্য দেহে প্রবেশ করে নতুন জন্ম গ্রহণ করে না। অতএব পুনর্জন্মের চক্রই যদি না থাকে, তাহলে সেই চক্র থেকে মুক্তির অর্থও থাকে না।

৫. পরলোকের অস্বীকৃতি: মোক্ষের ধারণা সাধারণত কোনো পারলৌকিক অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। মৃত্যুর পরে আত্মা স্বর্গ, নরক বা অন্য কোনো জগতে অবস্থান করে এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তি লাভ করে—এমন ধারণা বহু ভারতীয় দর্শনে দেখা যায়। কিন্তু চার্বাকরা মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্বই স্বীকার করেন না। তাই পরলোক ও পারলৌকিক মোক্ষ উভয়ই তাঁদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

৬. কর্মবাদ ও মোক্ষের সম্পর্ক অস্বীকার: প্রচলিত কর্মবাদ অনুযায়ী মানুষের কর্মের ফলে পুণ্য ও পাপ সঞ্চিত হয় এবং সেই কর্মফল মানুষকে বারবার জন্মগ্রহণ করতে বাধ্য করে। কর্মবন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্তিই মোক্ষ। কিন্তু চার্বাকরা অদৃশ্য কর্মফল, পুণ্য, পাপ এবং অদৃষ্ট স্বীকার করেন না। ফলে কর্মবন্ধন থেকে আত্মার মুক্তির ধারণাটিও তাঁদের দর্শনে গ্রহণযোগ্য নয়।

৭. অদৃষ্টের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না: কর্মবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনেক দর্শন অদৃষ্ট বা অদৃশ্য কর্মশক্তির কথা বলে। এই অদৃষ্ট ভবিষ্যতে কর্মের ফল প্রদান করে এবং জন্মান্তরের কারণ হয়। কিন্তু চার্বাকদের মতে অদৃষ্ট প্রত্যক্ষযোগ্য নয়। যেহেতু প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব রয়েছে, তাই অদৃষ্টকে বাস্তব সত্তা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। অদৃষ্ট না থাকলে কর্মবন্ধন ও কর্মজনিত মোক্ষের ধারণাও প্রতিষ্ঠিত হয় না।

৮. প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বে প্রত্যক্ষই প্রধান ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। মোক্ষ যদি এমন একটি অতীন্দ্রিয় অবস্থা হয়, যা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যায় না, তাহলে তার অস্তিত্ব কীভাবে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে—এটাই চার্বাকদের মূল প্রশ্ন। প্রত্যক্ষভাবে মোক্ষকে জানা বা প্রমাণ করা যায় না বলে তাঁরা পারলৌকিক মোক্ষের ধারণা গ্রহণ করেন না।

৯. চেতনা দেহনির্ভর: চার্বাকদের মতে চেতনা কোনো স্বাধীন আত্মার ধর্ম নয়; বরং জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগের ফলে চেতনার উৎপত্তি ঘটে। তাই চেতনা দেহের উপর নির্ভরশীল। দেহের বিনাশের সঙ্গে চেতনাও বিলুপ্ত হয়। ফলে মৃত্যুর পরে চেতনা কোনো আত্মার সঙ্গে থেকে মোক্ষ লাভ করবে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি থাকে না।

১০. বর্তমান ইহজীবনের গুরুত্ব: চার্বাকরা অপ্রমাণিত পরলোক বা ভবিষ্যৎ মোক্ষের পরিবর্তে বর্তমান ইহজীবনের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেন। মানুষ যে সুখ-দুঃখ বর্তমান জীবনে প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করে, সেটিই বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই অপ্রত্যক্ষ পারলৌকিক সুখের আশায় বর্তমান জীবনের বাস্তব সুখকে অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। এই কারণে চার্বাক দর্শনে ইহজীবনের গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রকাশ পায়।

চার্বাক মতে মোক্ষের পরিবর্তে কী গুরুত্ব পায় ?

ইহজাগতিক সুখ: চার্বাক দর্শনে পারলৌকিক মোক্ষের পরিবর্তে বর্তমান জীবনের সুখ ও কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেহেতু চার্বাকরা পরলোক বা পুনর্জন্ম স্বীকার করেন না, তাই মানুষের কাছে এই জীবনই প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত জীবন। ফলে মানুষের জীবনযাত্রা, সুখ ও ইহজাগতিক কল্যাণ তাঁদের দর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

তবে এখানে মনে রাখা দরকার, চার্বাক দর্শনকে কেবল “যা খুশি তাই ভোগ করা”—এই সরল অর্থে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। চার্বাক দর্শনের মূল বক্তব্য হলো প্রত্যক্ষ বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং অপ্রমাণিত পারলৌকিক ধারণার উপর জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠা না করা।

অন্যান্য ভারতীয় দর্শনের সঙ্গে চার্বাকের পার্থক্য

চার্বাক ও সাংখ্য: সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতির পার্থক্যজ্ঞান থেকে কৈবল্য লাভ হয়। কিন্তু চার্বাকরা নিত্য পুরুষ বা আত্মার অস্তিত্বই স্বীকার করেন না।

চার্বাক ও যোগ: যোগ দর্শনে চিত্তবৃত্তির নিরোধ ও বিবেকখ্যাতির মাধ্যমে কৈবল্য লাভের কথা বলা হয়েছে। চার্বাকরা এই ধরনের পারলৌকিক মুক্তির ধারণা গ্রহণ করেন না।

চার্বাক ও ন্যায়: ন্যায় দর্শনে তত্ত্বজ্ঞান ও দোষ-কর্মের নিবৃত্তির মাধ্যমে অপবর্গ লাভের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চার্বাকরা আত্মা, কর্মফল ও পরলোকের ধারণা অস্বীকার করেন।

চার্বাক ও বেদান্ত: বেদান্তে আত্মা-ব্রহ্মের প্রকৃত জ্ঞানকে মোক্ষের প্রধান উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষত অদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্মজ্ঞান অজ্ঞানতার বিনাশ ঘটিয়ে মুক্তি প্রদান করে। কিন্তু চার্বাকরা ব্রহ্ম, নিত্য আত্মা এবং পারলৌকিক মোক্ষের ধারণা গ্রহণ করেন না।

চার্বাক মতে মোক্ষ অস্বীকারের মূল কারণ

১. নিত্য আত্মার অস্বীকৃতি: দেহের বাইরে স্বাধীন ও অবিনশ্বর আত্মা নেই।
২. পুনর্জন্মের অস্বীকৃতি: এক দেহের মৃত্যুর পরে আত্মার অন্য দেহে জন্ম হয় না।
৩. পরলোকের অস্বীকৃতি: মৃত্যুর পরে আত্মার কোনো অস্তিত্ব নেই।
৪. কর্মফলের অস্বীকৃতি: অদৃশ্য কর্মফল বা অদৃষ্টের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই।
৫. প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব: পারলৌকিক মোক্ষকে প্রত্যক্ষভাবে জানা যায় না।
৬. দেহাত্মবাদ: ব্যক্তির অস্তিত্ব দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত; দেহের বিনাশের সঙ্গে ব্যক্তির অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে।
৭. চেতনার জড়নির্ভরতা: চেতনা দেহের বিশেষ জড়-সমন্বয়ের ফল; এটি কোনো স্বাধীন আত্মার ধর্ম নয়।

মোক্ষ বা মুক্তি

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, চার্বাক মতে মোক্ষ বা মুক্তি কোনো স্বতন্ত্র পারলৌকিক অবস্থা নয়। কারণ চার্বাকরা নিত্য আত্মা, পুনর্জন্ম, পরলোক, কর্মফল এবং অদৃষ্ট—কোনোটিই স্বীকার করেন না। তাঁদের জড়বাদ ও দেহাত্মবাদ অনুযায়ী, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ-এর বিশেষ সংযোগের ফলে দেহ ও চেতনার উৎপত্তি হয় এবং দেহের বিনাশের সঙ্গে সেই চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তির অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে। তাই মৃত্যুর পরে কোনো আত্মা সংসারবন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মোক্ষ লাভ করবে—এই ধারণা চার্বাক দর্শনের কাছে অর্থহীন।

সুতরাং, চার্বাক মতে মোক্ষের আলোচনা মূলত মোক্ষের স্বীকৃতি নয়, বরং প্রচলিত মোক্ষতত্ত্বের অস্বীকৃতি ও খণ্ডন। নিত্য আত্মা নেই, পুনর্জন্ম নেই, পরলোক নেই এবং অদৃশ্য কর্মফলেরও কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই—এই যুক্তিগুলির উপর ভিত্তি করেই চার্বাকরা মোক্ষের প্রচলিত ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই কারণে “চার্বাক মতে মোক্ষ বা মুক্তি কী?” ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষায় ১০ নম্বরের জন্য উপযোগী বিষয়।

14. প্রশ্ন : জড়বাদ কাকে বলে? এই প্রসঙ্গে চার্বাক নীতিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করো মান – 10

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে চার্বাক দর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ জড়বাদী ও ইহজীবনবাদী দর্শন। যে মতবাদ অনুযায়ী জগতের মূলতত্ত্ব হলো জড় এবং জড়ের বিশেষ সংমিশ্রণ থেকেই চৈতন্যের উৎপত্তি ঘটে, তাকে জড়বাদ বলা হয়। চার্বাকদের মতে, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুত—এই চারটি জড় ভূতের নির্দিষ্ট অনুপাতে সংমিশ্রণের ফলে জীবদেহের সৃষ্টি হয় এবং সেই জীবদেহে চৈতন্যের প্রকাশ ঘটে। চৈতন্য কোনো স্বতন্ত্র বা অতীন্দ্রিয় আত্মার ধর্ম নয়; এটি জড় উপাদানের বিশেষ সংমিশ্রণ থেকে উৎপন্ন একটি নতুন গুণ। এই কারণে চার্বাক দর্শনকে ভারতীয় দর্শনের একটি বিশিষ্ট জড়বাদী মতবাদ বলা হয়।

চার্বাকদের জড়বাদ ও নীতিতত্ত্বের সম্পর্ক: চার্বাকদের নীতিতত্ত্ব তাঁদের জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা দেহের অতিরিক্ত আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক, অদৃষ্ট, জন্মান্তর প্রভৃতি অতীন্দ্রিয় বিষয় স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, মানুষ যতদিন জীবিত থাকে ততদিনই তার সুখ-দুঃখের অভিজ্ঞতা সম্ভব। দেহের বিনাশের সঙ্গে ব্যক্তির চেতনাসম্পন্ন অস্তিত্বেরও অবসান ঘটে। তাই পরজন্ম বা পরলোকের সুখের আশায় বর্তমান জীবনের সুখ ত্যাগ করার কোনো অর্থ নেই। এই কারণেই চার্বাকরা ইহজীবনের সুখলাভকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

পুরুষার্থ সম্পর্কে চার্বাকদের মত: ভারতীয় দর্শনে সাধারণত ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ—এই চারটি পুরুষার্থের কথা বলা হয়। চার্বাকরা ধর্ম ও মোক্ষকে পুরুষার্থ হিসেবে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে অর্থ ও কাম মানুষের জীবনের গ্রহণযোগ্য পুরুষার্থ। এর মধ্যে কাম বা ইন্দ্রিয়সুখই মুখ্য পুরুষার্থ, আর সেই সুখলাভের সহায়ক হিসেবে অর্থ গৌণ পুরুষার্থ। অর্থাৎ অর্থের মূল্য স্বাধীনভাবে নয়, বরং সুখলাভের উপায় হিসেবে।

আত্মসুখবাদ: চার্বাকদের নৈতিক মতবাদকে আত্মসুখবাদ বলা হয়। তাঁদের মতে, নিজের সুখ লাভ করাই মানুষের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। যে সুখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করতে পারে, সেই সুখই বাস্তব ও কাম্য। পরলোকের অপ্রমাণিত সুখের আশায় বর্তমান জীবনের সুখ বিসর্জন দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। তাই চার্বাক নীতিতত্ত্ব মূলত ইহজাগতিক সুখকেন্দ্রিক।

চৈতন্যের উৎপত্তি: চার্বাকদের জড়বাদে চৈতন্যের উৎপত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁদের মতে, ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুত পৃথক অবস্থায় চৈতন্যসম্পন্ন নয়। কিন্তু এই চারটি ভূত জীবদেহে একটি বিশেষ অনুপাতে সংযুক্ত হলে তাদের সমন্বয় থেকে চৈতন্য নামে একটি নতুন গুণের উদ্ভব হয়। সুতরাং চৈতন্য কোনো স্বাধীন আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ করে না। এই মতকে ভূতচৈতন্যবাদ বলা হয়।

দেহাত্মবাদ ও সুখভোগ: চার্বাকরা দেহের অতিরিক্ত কোনো অতীন্দ্রিয় আত্মা স্বীকার করেন না। তাই তাঁদের মতে দেহ যতদিন জীবিত থাকে, ততদিনই সুখ ভোগ করা উচিত। এই বক্তব্য তাঁদের বিখ্যাত উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে—

“যাবং জীবেৎ সুখং জীবেৎ ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ।
ভস্মীভূতস্য দেহস্য পুনরাগমনং কুতঃ।। ”

অর্থাৎ, যতদিন বেঁচে থাকা যায় সুখে বাঁচতে হবে; প্রয়োজন হলে ঋণ করেও ঘি খেতে হবে। কারণ দেহ একবার ভস্মীভূত হয়ে গেলে তার পুনরায় ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই উক্তির মাধ্যমে চার্বাকদের ইহজীবনবাদ, দেহাত্মবাদ ও আত্মসুখবাদ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

পরলোক ও পুণ্যসঞ্চয়ের বিরোধিতা: চার্বাকরা পরলোক, স্বর্গ-নরক এবং পরজন্মের ধারণা স্বীকার করেন না। তাই এই জীবনে উপবাস, যাগ-যজ্ঞ বা নানা ধরনের ত্যাগ স্বীকার করে পরজীবনের জন্য পুণ্য সঞ্চয় করার ধারণাকেও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁদের মতে, যেসব আচার-অনুষ্ঠান পরজগতের সুখের প্রতিশ্রুতি দেয়, সেগুলির কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। বিশেষ করে যজ্ঞের নামে সাধারণ মানুষের সম্পদ ব্যয় করার প্রবণতাকে চার্বাকরা তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন।

চার্বাকদের নীতিতত্ত্বের সমালোচনা: চার্বাকদের স্থূল আত্মসুখবাদ পরবর্তীকালে বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, যদি ইন্দ্রিয়সুখ ও ব্যক্তিগত সুখকেই মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ধরা হয়, তাহলে মানুষ স্বার্থপর ও ভোগবাদী হয়ে উঠতে পারে। সমাজের প্রতি কর্তব্য, ন্যায়বোধ, ত্যাগ, পরোপকার ও নৈতিক আদর্শ তখন উপেক্ষিত হতে পারে। অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়সুখের আকাঙ্ক্ষা মানুষকে পশুর মতো প্রবৃত্তিনির্ভর করে তুলতে পারে এবং সামাজিক জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

চার্বাকদের নীতিতত্ত্ব

পরবর্তীকালের চার্বাকদের সংশোধিত মত: এই সমালোচনার ফলে পরবর্তীকালে কিছু ব্যাখ্যায় চার্বাক সুখবাদকে আরও পরিমার্জিতভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে শুধু স্থূল ইন্দ্রিয়সুখ নয়, বরং সংস্কৃত বা পরিশীলিত সুখকে মানুষের কাম্য বলে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ এমন সুখ, যা মানুষের জীবনকে উন্নত করে এবং অপ্রয়োজনীয় দুঃখ ও ক্ষতি সৃষ্টি করে না, সেটিকে অধিক মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, চার্বাকদের জড়বাদ ও নীতিতত্ত্ব পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। চার্বাকদের মতে ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুতের বিশেষ সংমিশ্রণ থেকে জীবদেহ এবং চৈতন্যের উৎপত্তি ঘটে। দেহের অতিরিক্ত কোনো নিত্য আত্মা, ঈশ্বর, পরলোক, অদৃষ্ট বা পুনর্জন্ম নেই। তাই মানুষের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হলো বর্তমান ইহজীবনে সুখ লাভ। এই কারণে চার্বাকরা অর্থ ও কামকে পুরুষার্থ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং কাম বা সুখকে মুখ্য বলে মনে করেন। তাঁদের এই মতবাদই আত্মসুখবাদ নামে পরিচিত। যদিও স্থূল আত্মসুখবাদের জন্য চার্বাক মত সমালোচিত হয়েছে, তবুও ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে প্রত্যক্ষ বাস্তবতা, ইহজীবন এবং মানবসুখকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র নৈতিক মতবাদ হিসেবে চার্বাক নীতিতত্ত্বের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

চার্বাক দর্শন — মান–২ প্রশ্ন ও উত্তর

চার্বাক দর্শন — সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কীসের উপর নির্ভর করে স্বাধীন দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিল?
উত্তর: চার্বাক দর্শন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও বিচার-বিশ্লেষণের উপর নির্ভর করে স্বাধীন দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিল।

২. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কোন কোন বিষয়ের বিরোধিতা করে?
উত্তর: চার্বাক দর্শন কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মান্ধতার বিরোধিতা করে।

৩. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনকে কী ধরনের দর্শন বলা হয়?
উত্তর: চার্বাক দর্শনকে জড়বাদী, সংশয়বাদী, স্বভাববাদী ও ভূতচতুষ্টয়বাদী দর্শন বলা হয়।

৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে একমাত্র প্রমাণ কী?
উত্তর: চার্বাক মতে প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সরাসরি যে জ্ঞান লাভ হয়, তাকেই তারা নির্ভরযোগ্য জ্ঞান মনে করেন।

৫. প্রশ্ন: চার্বাকরা অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না কেন?
উত্তর: চার্বাক মতে অনুমান ব্যাপ্তিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল এবং ব্যাপ্তি সর্বত্র নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তাই অনুমান নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।

৬. প্রশ্ন: চার্বাকরা শব্দ বা বেদবাক্যকে প্রমাণ বলেন না কেন?
উত্তর: শব্দের মাধ্যমে অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের জ্ঞান পাওয়া যায় এবং তার সত্যতা প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করা যায় না। তাই চার্বাকরা শব্দ ও বেদবাক্যকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না।

৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে শ্রুতি বা বেদবাক্যের প্রামাণ্য কী?
উত্তর: চার্বাক মতে শ্রুতি বা বেদবাক্য প্রমাণ নয়। কারণ এর সত্যতা প্রত্যক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব নয়।

৮. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ঈশ্বর সম্পর্কে কী ধারণা রয়েছে?
উত্তর: চার্বাক মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই। প্রত্যক্ষের বাইরে কোনো কিছুকে তারা স্বীকার করেন না।

৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে স্বর্গ ও নরকের অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: না। চার্বাক মতে স্বর্গ ও নরকের কোনো অস্তিত্ব নেই।

১০. প্রশ্ন: চার্বাকরা জন্মান্তর সম্পর্কে কী মত পোষণ করেন?
উত্তর: চার্বাকরা জন্মান্তরবাদ অস্বীকার করেন। তাদের মতে মৃত্যুর পর আর কোনো জীবন নেই।

১১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে পাপ-পুণ্য ও কর্মফল আছে কি?
উত্তর: চার্বাক মতে পাপ-পুণ্য ও কর্মফলের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।

১২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আত্মার অস্তিত্ব কী?
উত্তর: চার্বাক মতে দেহই আত্মা। দেহের বাইরে কোনো স্বতন্ত্র আত্মার অস্তিত্ব নেই।

১৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্য কীভাবে উৎপন্ন হয়?
উত্তর: চার্বাক মতে চারটি ভূত—ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ-এর বিশেষ সংমিশ্রণ থেকে চৈতন্য উৎপন্ন হয়।

১৪. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনকে ভূতচতুষ্টয়বাদ বলা হয় কেন?
উত্তর: চার্বাকরা ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চারটি ভূতকে মূল উপাদান হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই তাঁদের মতকে ভূতচতুষ্টয়বাদ বলা হয়।

১৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহ নষ্ট হলে কী হয়?
উত্তর: চার্বাক মতে দেহ নষ্ট হলে চৈতন্যও নষ্ট হয়ে যায়। দেহের বাইরে চৈতন্যের কোনো অস্তিত্ব নেই।

১৬. প্রশ্ন: চার্বাকরা পরলোক ও পুনর্জন্ম স্বীকার করেন কি?
উত্তর: না। চার্বাকরা পরলোক, পুনর্জন্ম ও স্বর্গ-নরকের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন।

১৭. প্রশ্ন: চার্বাক নীতিতত্ত্বের মূল কথা কী?
উত্তর: চার্বাক নীতিতত্ত্বের মূল কথা হলো ইহজীবনে সুখভোগ করা। বর্তমান জীবনের সুখকেই তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।

১৮. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জীবনের পরম লক্ষ্য কী?
উত্তর: চার্বাক মতে ইন্দ্রিয়সুখই জীবনের পরম লক্ষ্য। তারা পার্থিব সুখকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

১৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জীবনের পরম পুরুষার্থ কী?
উত্তর: চার্বাক মতে অর্থ ও কামই জীবনের প্রধান পুরুষার্থ। ধর্ম ও মোক্ষকে তারা স্বীকার করেন না।

২০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে সুখ কী?
উত্তর: চার্বাক মতে ইন্দ্রিয়সুখই জীবনের প্রধান সুখ। তাই মানুষকে বর্তমান জীবনে সুখ উপভোগ করতে হবে।

২১. প্রশ্ন: চার্বাকরা মোক্ষকে অস্বীকার করেন কেন?
উত্তর: চার্বাক মতে আত্মা বলে কোনো স্বতন্ত্র সত্তা নেই, তাই আত্মার বন্ধন বা মুক্তির প্রশ্নও ওঠে না। এজন্য তারা মোক্ষকে অস্বীকার করেন।

২২. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের একটি ইতিবাচক দিক লেখো।
উত্তর: চার্বাক দর্শন অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরোধিতা করে এবং স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেয়।

২৩. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের একটি নেতিবাচক দিক লেখো।
উত্তর: চার্বাক দর্শনের একটি বড় দুর্বলতা হলো অনুমানকে সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করা।

২৪. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের দুটি প্রধান দুর্বলতা কী?
উত্তর: চার্বাক দর্শনের দুটি প্রধান দুর্বলতা হলো—
১. অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করা।
২. ইন্দ্রিয়সুখকেই জীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা।

২৫. প্রশ্ন: চার্বাকরা অনুমানকে অস্বীকার করায় কী অসুবিধা হয়?
উত্তর: অনুমান অস্বীকার করলে প্রত্যক্ষের বাইরে অনেক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় না। ফলে জ্ঞানের পরিসর সীমিত হয়ে যায়।

২৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান দুটি দোষ কী?
উত্তর: চার্বাক দর্শনের প্রধান দুটি দোষ হলো—অনুমানের প্রামাণ্য অস্বীকার করা এবং ইন্দ্রিয়সুখকে জীবনের চরম লক্ষ্য মনে করা।

২৭. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান অবদান কী?
উত্তর: চার্বাক দর্শন স্বাধীন চিন্তা, যুক্তিবাদ ও অন্ধবিশ্বাসের বিরোধিতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় দর্শনে যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশ ঘটেছে।

২৮. প্রশ্ন: ভারতীয় দর্শনে চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: চার্বাক দর্শন ভারতীয় দর্শনে স্বাধীন চিন্তা, যুক্তিবাদ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে।

২৯. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও নৈতিক মতের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: জ্ঞানতত্ত্বে প্রত্যক্ষকে একমাত্র প্রমাণ এবং নীতিতত্ত্বে ইন্দ্রিয়সুখকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা চার্বাক দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৩০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আগুন বা শব্দ কি প্রমাণ?
উত্তর: না। চার্বাক মতে আগুন বা শব্দ নিজে কোনো প্রমাণ নয়। প্রত্যক্ষের মাধ্যমে আগুন বা শব্দ সম্পর্কে যে জ্ঞান পাওয়া যায়, কেবল সেই প্রত্যক্ষ জ্ঞানই প্রমাণযোগ্য।

৩১. প্রশ্ন: চার্বাক জ্ঞানতত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: চার্বাক জ্ঞানতত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো—প্রত্যক্ষই একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ; অনুমান ও শাস্ত্রবাক্য প্রমাণ নয়।

১. চার্বাক দর্শনের SAQ

ঠিক আছে। মান–১ (১ নম্বরের) SAQ হবে। নিচে আপনার দেওয়া বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে ১০০টি মান–১ SAQ তৈরি করা হলো। প্রশ্নগুলো Bold থাকবে এবং উত্তর খুব সংক্ষিপ্ত হবে।

চার্বাক দর্শন — মান–১ SAQ

১. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের মূল ভিত্তি কী?
উত্তর: প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।

২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে একমাত্র প্রমাণ কী?
উত্তর: প্রত্যক্ষ।

৩. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কীসের বিরোধিতা করে?
উত্তর: অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের।

৪. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনকে কী ধরনের দর্শন বলা হয়?
উত্তর: জড়বাদী দর্শন।

৫. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনকে ভূতচতুষ্টয়বাদ বলা হয় কেন?
উত্তর: চারটি ভূতকে মূল উপাদান মানার জন্য।

৬. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: নেই।

৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে স্বর্গের অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: নেই।

৮. প্রশ্ন: চার্বাক মতে নরকের অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: নেই।

৯. প্রশ্ন: চার্বাকরা জন্মান্তর স্বীকার করেন কি?
উত্তর: না।

১০. প্রশ্ন: চার্বাকরা পরলোক স্বীকার করেন কি?
উত্তর: না।

১১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে পাপ-পুণ্যের অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: নেই।

১২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে কর্মফল আছে কি?
উত্তর: নেই।

১৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আত্মা কী?
উত্তর: দেহই আত্মা।

১৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহ নষ্ট হলে কী নষ্ট হয়?
উত্তর: চৈতন্য নষ্ট হয়।

১৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্য কী থেকে উৎপন্ন হয়?
উত্তর: চারটি ভূতের বিশেষ সংমিশ্রণ থেকে।

১৬. প্রশ্ন: চার্বাক স্বীকার্য চারটি ভূত কী কী?
উত্তর: ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ।

১৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্যের আধার কী?
উত্তর: দেহ।

১৮. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহের বাইরে আত্মার অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: নেই।

১৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জীবনের পরম লক্ষ্য কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখ।

২০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে প্রধান পুরুষার্থ কী?
উত্তর: অর্থ ও কাম।

২১. প্রশ্ন: চার্বাকরা ধর্মকে পুরুষার্থ হিসেবে স্বীকার করেন কি?
উত্তর: না।

২২. প্রশ্ন: চার্বাকরা মোক্ষ স্বীকার করেন কি?
উত্তর: না।

২৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে সুখ কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখ।

২৪. প্রশ্ন: চার্বাক নীতিতত্ত্বের মূল কথা কী?
উত্তর: ইহজীবনে সুখভোগ।

২৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে বর্তমান জীবনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: বর্তমান জীবনের সুখই গুরুত্বপূর্ণ।

২৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের একটি ইতিবাচক দিক কী?
উত্তর: স্বাধীন চিন্তার গুরুত্ব।

২৭. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের একটি নেতিবাচক দিক কী?
উত্তর: অনুমানকে অস্বীকার করা।

২৮. প্রশ্ন: চার্বাকরা অনুমানকে প্রমাণ মানেন কি?
উত্তর: না।

২৯. প্রশ্ন: চার্বাকরা শব্দকে প্রমাণ মানেন কি?
উত্তর: না।

৩০. প্রশ্ন: চার্বাকরা বেদকে প্রমাণ মানেন কি?
উত্তর: না।

৩১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে বেদবাক্য কেন প্রমাণ নয়?
উত্তর: প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করা যায় না বলে।

৩২. প্রশ্ন: চার্বাক জ্ঞানতত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ।

৩৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে অনুমান কীসের উপর নির্ভরশীল?
উত্তর: ব্যাপ্তিজ্ঞানের উপর।

৩৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ব্যাপ্তি কী?
উত্তর: সর্বত্র নিশ্চিত সম্পর্কের জ্ঞান।

৩৫. প্রশ্ন: চার্বাকরা অনুমানকে অবিশ্বস্ত মনে করেন কেন?
উত্তর: এতে ভুলের সম্ভাবনা থাকে বলে।

৩৬. প্রশ্ন: চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সরাসরি প্রাপ্ত জ্ঞান।

৩৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান কোনটি?
উত্তর: প্রত্যক্ষ জ্ঞান।

৩৮. প্রশ্ন: চার্বাকরা শাস্ত্রবাক্যকে প্রমাণ মানেন কি?
উত্তর: না।

৩৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের জ্ঞান কি নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: নয়।

৪০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আগুন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান প্রমাণ কি?
উত্তর: হ্যাঁ।

৪১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে শব্দ নিজে প্রমাণ কি?
উত্তর: না।

৪২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জ্ঞানের পরিসর কেন সীমিত?
উত্তর: অনুমান অস্বীকার করার জন্য।

৪৩. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: প্রত্যক্ষকে একমাত্র প্রমাণ মানা।

৪৪. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান নৈতিক বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখকে গুরুত্ব দেওয়া।

৪৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আত্মার মুক্তির প্রশ্ন ওঠে কি?
উত্তর: না।

৪৬. প্রশ্ন: চার্বাকরা মোক্ষ অস্বীকার করেন কেন?
উত্তর: স্বতন্ত্র আত্মা স্বীকার করেন না বলে।

৪৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে বন্ধন ও মোক্ষের ভিত্তি কী?
উত্তর: নেই।

৪৮. প্রশ্ন: চার্বাক মতে পরলোকের অস্তিত্ব আছে কি?
উত্তর: নেই।

৪৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে মৃত্যুর পর কী হয়?
উত্তর: আর কোনো জীবন থাকে না।

৫০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহ ও আত্মার সম্পর্ক কী?
উত্তর: দেহই আত্মা।

৫১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্য কি দেহের বাইরে থাকে?
উত্তর: না।

৫২. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের বস্তুতত্ত্বের ভিত্তি কী?
উত্তর: চারটি ভূত।

৫৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জগতের মূল উপাদান কয়টি?
উত্তর: চারটি।

৫৪. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের চারটি ভূতের প্রথমটি কী?
উত্তর: ক্ষিতি।

৫৫. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের চারটি ভূতের দ্বিতীয়টি কী?
উত্তর: অপ।

৫৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের চারটি ভূতের তৃতীয়টি কী?
উত্তর: তেজ।

৫৭. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের চারটি ভূতের চতুর্থটি কী?
উত্তর: মরুৎ।

৫৮. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের জড়বাদ কী?
উত্তর: জড়কেই মূল বাস্তবতা মনে করা।

৫৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্য কি স্বতন্ত্র সত্তা?
উত্তর: না।

৬০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্যের বিনাশ কখন ঘটে?
উত্তর: দেহের বিনাশের সঙ্গে।

৬১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জীবনের প্রধান সুখ কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখ।

৬২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে অর্থ ও কাম কী?
উত্তর: প্রধান পুরুষার্থ।

৬৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ধর্মের স্থান কী?
উত্তর: স্বীকৃত নয়।

৬৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে মোক্ষের স্থান কী?
উত্তর: স্বীকৃত নয়।

৬৫. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কেমন চিন্তাকে গুরুত্ব দেয়?
উত্তর: স্বাধীন ও যুক্তিবাদী চিন্তাকে।

৬৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কোন ধরনের বিশ্বাসের বিরোধী?
উত্তর: অন্ধবিশ্বাসের।

৬৭. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কোন ধরনের প্রমাণকে গুরুত্ব দেয়?
উত্তর: প্রত্যক্ষ প্রমাণকে।

৬৮. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কোন প্রমাণকে অস্বীকার করে?
উত্তর: অনুমানকে।

৬৯. প্রশ্ন: চার্বাকরা কোন শাস্ত্রের প্রামাণ্য অস্বীকার করেন?
উত্তর: বেদের।

৭০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে বেদের বক্তব্য কীভাবে যাচাই করা যায়?
উত্তর: প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করা যায় না।

৭১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে অনুমানের প্রধান সমস্যা কী?
উত্তর: ব্যাপ্তি নিশ্চিত নয়।

৭২. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের একটি প্রধান দুর্বলতা কী?
উত্তর: অনুমানের প্রামাণ্য অস্বীকার।

৭৩. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের আরেকটি প্রধান দুর্বলতা কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখকে চরম লক্ষ্য মানা।

৭৪. প্রশ্ন: অনুমান অস্বীকারের ফলে কী সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়?
উত্তর: জ্ঞানের পরিসর সীমিত হয়।

৭৫. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন ভারতীয় দর্শনে কী প্রতিষ্ঠা করেছে?
উত্তর: স্বাধীন চিন্তার গুরুত্ব।

৭৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কোন চিন্তার বিকাশে সাহায্য করেছে?
উত্তর: যুক্তিবাদী চিন্তার।

৭৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে পার্থিব সুখের মূল্য কী?
উত্তর: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৭৮. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ইহজীবনের গুরুত্ব কেন?
উত্তর: ইহজীবনেই সুখ উপভোগ করা যায় বলে।

৭৯. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের নৈতিক আদর্শ কী?
উত্তর: ইহজীবনে সুখভোগ।

৮০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে সুখ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: ইহজীবনে।

৮১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আত্মা কি দেহ থেকে পৃথক?
উত্তর: না।

৮২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহ নষ্ট হলে আত্মার কী হয়?
উত্তর: আত্মার অস্তিত্ব থাকে না।

৮৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জন্মান্তরের ভিত্তি কী?
উত্তর: নেই।

৮৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে কর্মফলের ভিত্তি কী?
উত্তর: নেই।

৮৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে স্বর্গ-নরকের ধারণা কী?
উত্তর: অস্বীকৃত।

৮৬. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ঈশ্বরের ধারণা কী?
উত্তর: অস্বীকৃত।

৮৭. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: প্রত্যক্ষবাদ।

৮৮. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: জড়বাদ।

৮৯. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের নীতিতত্ত্ব কীসের উপর প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখের উপর।

৯০. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্ব কীসের উপর প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: প্রত্যক্ষের উপর।

৯১. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের মূল্যায়নে একটি ইতিবাচক দিক কী?
উত্তর: কুসংস্কারের বিরোধিতা।

৯২. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের মূল্যায়নে একটি নেতিবাচক দিক কী?
উত্তর: অনুমান অস্বীকার।

৯৩. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন কোন অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেয়?
উত্তর: প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে।

৯৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে কোন জ্ঞান সরাসরি লাভ হয়?
উত্তর: প্রত্যক্ষ জ্ঞান।

৯৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে শাস্ত্রবাক্যের সত্যতা কীভাবে জানা যায় না?
উত্তর: প্রত্যক্ষভাবে যাচাই করা যায় না।

৯৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের স্বাধীন চিন্তার মূল ভিত্তি কী?
উত্তর: প্রত্যক্ষ ও বিচার-বিশ্লেষণ।

৯৭. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন ধর্মান্ধতার বিরোধিতা করে কি?
উত্তর: হ্যাঁ।

৯৮. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শন যুক্তিকে গুরুত্ব দেয় কি?
উত্তর: হ্যাঁ।

৯৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জীবনের চরম লক্ষ্য কী?
উত্তর: ইন্দ্রিয়সুখ।

১০০. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্ব ও নীতিতত্ত্বের মূল কথা কী?
উত্তর: জ্ঞানতত্ত্বে প্রত্যক্ষ এবং নীতিতত্ত্বে ইন্দ্রিয়সুখ।

পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মান–২ প্রশ্ন

১. প্রশ্ন: চার্বাক মতে একমাত্র প্রমাণ কী? প্রত্যক্ষকে একমাত্র প্রমাণ বলা হয় কেন?

২. প্রশ্ন: চার্বাকরা অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না কেন?

৩. প্রশ্ন: চার্বাকরা শব্দ বা বেদবাক্যকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন না কেন?

৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে আত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে কী মত?

৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চৈতন্য কীভাবে উৎপন্ন হয়?

৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনকে ভূতচতুষ্টয়বাদ বলা হয় কেন?

৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহ নষ্ট হলে চৈতন্যের কী হয়?

৮. প্রশ্ন: চার্বাকরা পরলোক ও পুনর্জন্ম অস্বীকার করেন কেন?

৯. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই—কেন?

১০. প্রশ্ন: চার্বাক মতে স্বর্গ ও নরকের অস্তিত্ব নেই—কেন?

১১. প্রশ্ন: চার্বাক নীতিতত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?

১২. প্রশ্ন: চার্বাক মতে জীবনের পরম পুরুষার্থ কী?

১৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে ইন্দ্রিয়সুখই জীবনের পরম লক্ষ্য—ব্যাখ্যা করো।

১৪. প্রশ্ন: চার্বাকরা ধর্ম ও মোক্ষকে অস্বীকার করেন কেন?

১৫. প্রশ্ন: চার্বাকরা মোক্ষকে অস্বীকার করেন কেন?

১৬. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের দুটি প্রধান দুর্বলতা উল্লেখ করো।

১৭. প্রশ্ন: অনুমান অস্বীকার করলে চার্বাক দর্শনের কী অসুবিধা হয়?

১৮. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের একটি ইতিবাচক দিক ও একটি নেতিবাচক দিক লেখো।

১৯. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান অবদান কী?

২০. প্রশ্ন: ভারতীয় দর্শনে চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব কী?

২১. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

২২. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের নীতিতত্ত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

২৩. প্রশ্ন: চার্বাক মতে পাপ-পুণ্য ও কর্মফল অস্বীকারের কারণ কী?

২৪. প্রশ্ন: চার্বাক মতে দেহই আত্মা—ব্যাখ্যা করো।

২৫. প্রশ্ন: চার্বাক মতে চারটি ভূত কী কী? এগুলির গুরুত্ব কী?

২৬. প্রশ্ন: চার্বাকরা অনুমানকে অবিশ্বস্ত মনে করেন কেন?

২৭. প্রশ্ন: চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলতে কী বোঝায়?

২৮. প্রশ্ন: চার্বাক জ্ঞানতত্ত্বের মূল বক্তব্য সংক্ষেপে লেখো।

২৯. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও নৈতিক মতের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

৩০. প্রশ্ন: চার্বাক দর্শনের প্রধান দুটি দোষ কী?

⭐ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ — আগে পড়বে

১. চার্বাক মতে একমাত্র প্রমাণ কী? প্রত্যক্ষকে একমাত্র প্রমাণ বলা হয় কেন?
২. চার্বাকরা অনুমানকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেন না কেন?
৩. চার্বাকরা শব্দ বা বেদবাক্যকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন না কেন?
৪. চার্বাক মতে আত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে কী মত?
৫. চার্বাক মতে চৈতন্য কীভাবে উৎপন্ন হয়?
৬. চার্বাক দর্শনকে ভূতচতুষ্টয়বাদ বলা হয় কেন?
৭. চার্বাক নীতিতত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?
৮. চার্বাক মতে জীবনের পরম পুরুষার্থ কী?
৯. চার্বাক দর্শনের দুটি প্রধান দুর্বলতা কী?
১০. ভারতীয় দর্শনে চার্বাক দর্শনের গুরুত্ব কী?

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক মতে ,অনুমান প্রমাণ

১. প্রত্যক্ষলব্ধ বিষয় থেকে অপ্রত্যক্ষলব্ধ বিষয়ের নতুন জ্ঞানকে কী বলে?

(A) প্রত্যক্ষ (B) অনুমান (C) উপমান (D) শব্দ
উত্তর: (B) অনুমান

২. জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?

(A) প্রত্যক্ষ (B) স্মৃতি (C) অনুমান (D) সংশয়
উত্তর: (C) অনুমান

৩. অনুমানের ভিত্তি কী?

(A) শব্দ (B) উপমান (C) ব্যাপ্তি (D) অর্থাপত্তি
উত্তর: (C) ব্যাপ্তি

৪. ব্যাপ্য ও ব্যাপকের সম্পর্ককে কী বলা হয়?

(A) প্রত্যক্ষ (B) ব্যাপ্তি (C) সংশয় (D) হেতু
উত্তর: (B) ব্যাপ্তি

৫. “পর্বতে ধূম আছে, অতএব পর্বতে বহ্নি আছে”এটি কোন প্রমাণের উদাহরণ?

(A) প্রত্যক্ষ (B) অনুমান (C) উপমান (D) শব্দ
উত্তর: (B) অনুমান

৬. “তস্মাত্ পূর্বকম্ অনুমানম্”এই উক্তিটি কোন দর্শনের?

(A) সাংখ্য (B) বেদান্ত (C) ন্যায় (D) যোগ
উত্তর: (C) ন্যায়

৭. “তস্মাত্ পূর্বকম্ অনুমানম্”এর অর্থ কী?

(A) প্রত্যক্ষই প্রমাণ (B) অনুমিতির জন্য পূর্বজ্ঞানই অনুমান (C) শব্দই প্রমাণ (D) উপমানই প্রমাণ
উত্তর: (B) অনুমিতির জন্য পূর্বজ্ঞানই অনুমান

৮. ব্যুৎপত্তিগত অর্থে “অনুমান” শব্দের অর্থ কী?

(A) প্রত্যক্ষ জ্ঞান (B) প্রথম জ্ঞান (C) পশ্চাৎ জ্ঞান (D) স্মৃতি
উত্তর: (C) পশ্চাৎ জ্ঞান

৯. চার্বাকরা কোন প্রমাণকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করেননি?

(A) প্রত্যক্ষ (B) অনুমান (C) শব্দ (D) উপমান
উত্তর: (B) অনুমান

১০. চার্বাক মতে, অপ্রত্যক্ষ বিষয়ের জ্ঞান কেমন?

(A) যথার্থ (B) ভ্রমাত্মক (C) প্রত্যক্ষ (D) নির্ভুল
উত্তর: (B) ভ্রমাত্মক

১১. চার্বাক মতে, অনুমান কেমন জ্ঞান?

(A) প্রত্যক্ষ জ্ঞান (B) স্বতন্ত্র জ্ঞান (C) পরোক্ষ বা অন্যনির্ভর জ্ঞান (D) নির্ভুল জ্ঞান
উত্তর: (C) পরোক্ষ বা অন্যনির্ভর জ্ঞান

১২. চার্বাকদের মতে, অনুমান সর্বদা যথার্থ জ্ঞান নয় কেন?

(A) এটি প্রত্যক্ষ নয় (B) এটি শব্দের উপর নির্ভরশীল (C) এটি কেবল স্মৃতি (D) এটি উপমান
উত্তর: (A) এটি প্রত্যক্ষ নয়

১৩. চার্বাকদের মতে, অনুমানের মূল ভিত্তি কী?

(A) প্রত্যক্ষ (B) স্মৃতি (C) ব্যাপ্তিজ্ঞান (D) শব্দ
উত্তর: (C) ব্যাপ্তিজ্ঞান

১৪. চার্বাক মতে, ব্যাপ্তিজ্ঞান সর্বদা সম্ভব নয় কেন?

(A) এটি প্রত্যক্ষযোগ্য নয় (B) এটি শব্দনির্ভর (C) এটি উপমাননির্ভর (D) এটি স্মৃতিনির্ভর
উত্তর: (A) এটি প্রত্যক্ষযোগ্য নয়

১৫. ব্যাপ্তিজ্ঞান অনুমানের দ্বারা প্রমাণ করতে গেলে কোন দোষ দেখা দেয়?

(A) আত্মাশ্রয় দোষ (B) অনবস্থা দোষ (C) অতিব্যাপ্তি (D) অব্যাপ্তি
উত্তর: (B) অনবস্থা দোষ

১৬. চার্বাকদের মতে, তর্কের গতি কোন বিষয়ে?

(A) প্রত্যক্ষ বিষয়ে (B) অপ্রত্যক্ষ বিষয়ে (C) স্মৃতিতে (D) শব্দে
উত্তর: (B) অপ্রত্যক্ষ বিষয়ে

১৭. চার্বাকদের মতে, তর্কের মাধ্যমে কী প্রতিষ্ঠা করা যায় না?

(A) প্রত্যক্ষ (B) ব্যাপ্তিজ্ঞান (C) স্মৃতি (D) উপমান
উত্তর: (B) ব্যাপ্তিজ্ঞান

১৮. চার্বাকদের মতে, একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোনটি?

(A) অনুমান (B) শব্দ (C) প্রত্যক্ষ (D) উপমান
উত্তর: (C) প্রত্যক্ষ

১৯. সমালোচকদের মতে, মৃত পূর্বপুরুষদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কোন প্রমাণের প্রয়োজন হয়?

(A) প্রত্যক্ষ (B) অনুমান (C) উপমান (D) শব্দ
উত্তর: (B) অনুমান

২০. চার্বাকদের মতে, অনুমানকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করার প্রধান কারণ কী?

(A) এটি প্রত্যক্ষ নয় , ব্যাপ্তি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয় (B) এটি শব্দের উপর নির্ভরশীল (C) এটি উপমানের সমান (D) এটি স্মৃতির উপর নির্ভরশীল
উত্তর: (A) এটি প্রত্যক্ষ নয় এবং ব্যাপ্তি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক দর্শন – শব্দ প্রমাণ

১. শব্দ প্রমাণ বলতে কী বোঝায়?
(ক) প্রত্যক্ষ জ্ঞান (খ) অনুমান (গ) আপ্ত ব্যক্তির উপদেশ (ঘ) উপমান
উত্তর: (গ) আপ্ত ব্যক্তির উপদেশ।

২. “আপ্তোপদেশঃ শব্দঃ”—উক্তিটি কার?
(ক) কণাদ (খ) গৌতম (গ) কপিল (ঘ) জৈমিনি
উত্তর: (খ) গৌতম।

৩. আপ্ত ব্যক্তি বলতে কাকে বোঝায়?
(ক) ধনী ব্যক্তিকে (খ) যিনি যথার্থ জ্ঞান প্রদান করেন (গ) পুরোহিতকে (ঘ) রাজাকে
উত্তর: (খ) যিনি যথার্থ জ্ঞান প্রদান করেন।

৪. চার্বাক দর্শন কোন প্রমাণকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করে?
(ক) শব্দ (খ) উপমান (গ) প্রত্যক্ষ (ঘ) অর্থাপত্তি
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষ।

৫. চার্বাক মতে শব্দ কেন প্রমাণ নয়?
(ক) এটি প্রত্যক্ষ নয় (খ) এটি অনুমানের উপর নির্ভরশীল (গ) এটি উপমানের উপর নির্ভরশীল (ঘ) এটি অর্থাপত্তির উপর নির্ভরশীল
উত্তর: (খ) এটি অনুমানের উপর নির্ভরশীল।

৬. চার্বাক মতে কোনো ব্যক্তি আপ্ত কিনা তা জানার উপায় কী?
(ক) কল্পনা (খ) অভিজ্ঞতা (গ) উপমান (ঘ) শাস্ত্র
উত্তর: (খ) অভিজ্ঞতা।

৭. চার্বাকগণ কোন প্রমাণকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না?
(ক) প্রত্যক্ষ (খ) অনুমান (গ) অনুভূতি (ঘ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
উত্তর: (খ) অনুমান।

৮. চার্বাকগণ বেদকে কী মনে করেন?
(ক) ঈশ্বরপ্রদত্ত গ্রন্থ (খ) অপৌরুষেয় গ্রন্থ (গ) ভণ্ড পুরোহিতদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার (ঘ) সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ
উত্তর: (গ) ভণ্ড পুরোহিতদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার।

৯. চার্বাক মতে বেদ কেন প্রমাণ নয়?
(ক) এটি প্রত্যক্ষ নয় (খ) এটি শব্দ প্রমাণের অন্তর্গত (গ) এটি অপৌরুষেয় নয় (ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর: (ঘ) উপরের সবগুলো।

১০. চার্বাক মতে শব্দ কোন ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রত্যক্ষ হয়?
(ক) চক্ষু (খ) কর্ণ (গ) জিহ্বা (ঘ) ত্বক
উত্তর: (খ) কর্ণ।

১১. চার্বাকদের মতে শব্দের দ্বারা কী নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না?
(ক) শব্দের অস্তিত্ব (খ) অর্থের সত্যতা (গ) কর্ণের অস্তিত্ব (ঘ) ভাষার অস্তিত্ব
উত্তর: (খ) অর্থের সত্যতা।

১২. চার্বাক মতে শব্দ ও অর্থের মধ্যে কোন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না?
(ক) কার্য-কারণ (খ) সমবায় (গ) ব্যাপ্য-ব্যাপক (ঘ) সংযোগ
উত্তর: (গ) ব্যাপ্য-ব্যাপক।

১৩. শব্দ শুনে অর্থ বোঝা চার্বাক মতে কোন প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল?
(ক) প্রত্যক্ষ (খ) অনুমান (গ) উপমান (ঘ) অর্থাপত্তি
উত্তর: (খ) অনুমান।

১৪. চার্বাক মতে অনুমানলব্ধ জ্ঞান কেমন?
(ক) সর্বদা যথার্থ (খ) আংশিক সত্য (গ) নিশ্চিত নয় (ঘ) সর্বজনগ্রাহ্য
উত্তর: (গ) নিশ্চিত নয়।

১৫. চার্বাক মতে শব্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান কেন গ্রহণযোগ্য নয়?
(ক) তা প্রত্যক্ষ নয় (খ) তা অনুমাননির্ভর (গ) তা সর্বদা মিথ্যা (ঘ) তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়
উত্তর: (খ) তা অনুমাননির্ভর।

১৬. চার্বাক মতে মানুষ অসত্য কথা বলতে পারে কেন?
(ক) অজ্ঞতা বা স্বার্থের কারণে (খ) শুধুমাত্র অজ্ঞতার কারণে (গ) শুধুমাত্র স্বার্থের কারণে (ঘ) কখনোই নয়
উত্তর: (ক) অজ্ঞতা বা স্বার্থের কারণে।

১৭. চার্বাক দর্শন কোন প্রমাণকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করে?
(ক) প্রত্যক্ষ (খ) শব্দ (গ) অনুভূতি (ঘ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
উত্তর: (খ) শব্দ।

১৮. চার্বাক মতে বেদের অপৌরুষেয়ত্বের পক্ষে কী নেই?
(ক) অভিজ্ঞতা (খ) প্রত্যক্ষ (গ) কোনো প্রমাণ (ঘ) যুক্তি
উত্তর: (গ) কোনো প্রমাণ।

১৯. চার্বাক দর্শনের মূল বক্তব্য কী?
(ক) অনুমানই শ্রেষ্ঠ প্রমাণ (খ) শব্দই একমাত্র প্রমাণ (গ) প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ (ঘ) উপমানই সর্বোত্তম প্রমাণ
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ।

২০. চার্বাক মতে শব্দ প্রমাণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী?
(ক) শব্দ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ (খ) শব্দ আংশিক প্রমাণ (গ) শব্দ স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয় (ঘ) শব্দই প্রত্যক্ষ প্রমাণ
উত্তর: (গ) শব্দ স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়।

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক দর্শন – দেহাত্মবাদ

1. চার্বাকদের মতে আত্মা কী?

A) অমর আত্মা B) চৈতন্যবিশিষ্ট দেহ C) পরলোকগত সত্তা D) শুদ্ধ চেতনা
উত্তর: চৈতন্যবিশিষ্ট দেহ

2. চার্বাক দর্শনে প্রধান প্রমাণ কোনটি?

A) অনুমান B) শব্দ C) প্রত্যক্ষ D) উপমান
উত্তর: প্রত্যক্ষ

3. চার্বাক মতে চেতনা কোথা থেকে উৎপন্ন হয়?

A) আত্মা B) দেহ C) ঈশ্বর D) বেদ
উত্তর: দেহ

4. চার্বাকদের মতে দেহ গঠিত হয় কতটি ভূতে?

A) 2টি B) 3টি C) 4টি D) 5টি
উত্তর: চারটি ভূত

5. চার্বাক দর্শন কোন ধরনের দর্শন?

A) আদর্শবাদী B) বস্তুবাদী C) আধ্যাত্মবাদী D) দ্বৈতবাদী
উত্তর: বস্তুবাদী

6. চার্বাক মতে মৃত্যুর পর কী ঘটে?

A) আত্মা মুক্তি পায় B) পুনর্জন্ম C) চেতনার বিলুপ্তি D) স্বর্গপ্রাপ্তি
উত্তর: চেতনার বিলুপ্তি

7. চার্বাকদের মতে আত্মা ও দেহ সম্পর্ক কেমন?

A) পৃথক B) অভিন্ন C) বিরোধী D) নিরপেক্ষ
উত্তর: অভিন্ন

8. চেতনা সম্পর্কে চার্বাকদের ধারণা কী?

A) আত্মার গুণ B) দেহের গুণ C) ঈশ্বরের দান D) পৃথক সত্তা
উত্তর: দেহের গুণ

9. চার্বাকরা কোন প্রমাণ অস্বীকার করেন?

A) প্রত্যক্ষ B) অনুমান C) অভিজ্ঞতা D) অনুভব
উত্তর: অনুমান

10. চার্বাক মতে আমিবলতে কী বোঝায়?

A) আত্মা B) ঈশ্বর C) দেহ D) মন
উত্তর: দেহ

11. চার্বাক দর্শনের আরেক নাম কী?

A) বেদান্ত B) লোকায়ত C) সাংখ্য D) ন্যায়
উত্তর: লোকায়ত

12. চার্বাক মতে চেতনা কিভাবে সৃষ্টি হয়?

A) আত্মা থেকে B) ভূতের সংমিশ্রণে C) ঈশ্বর থেকে D) শাস্ত্র থেকে
উত্তর: ভূতের সংমিশ্রণ

13. চার্বাক মতে আত্মা স্বীকার করা হয় না কেন?

A) অনুমান ভিত্তিক B) প্রত্যক্ষ নয় C) শাস্ত্রসম্মত D) যুক্তিসঙ্গত
উত্তর: প্রত্যক্ষ নয়

14. চার্বাকরা কোন বিষয় অস্বীকার করেন?

A) দেহ B) চেতনা C) পরলোক D) জীবন
উত্তর: পরলোক

15. চার্বাক মতে চেতনা নির্ভর করে

A) ঈশ্বর B) দেহ C) আত্মা D) বেদ
উত্তর: দেহ

16. চার্বাক দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য কী?

A) আধ্যাত্মবাদ B) বস্তুবাদ C) ধর্মবাদ D) যোগ
উত্তর: বস্তুবাদ

17. চার্বাক মতে আত্মা কেমন?

A) নিত্য B) অদৃশ্য C) দেহই আত্মা D) আলাদা সত্তা
উত্তর: দেহই আত্মা

18. চার্বাকরা কী অস্বীকার করেন?

A) জীবন B) দেহ C) পুনর্জন্ম D) অনুভূতি
উত্তর: পুনর্জন্ম

19. চার্বাক মতে চেতনা কখন থাকে?

A) দেহ না থাকলেও B) দেহ থাকলে C) আত্মা থাকলে D) স্বর্গে
উত্তর: দেহ থাকলে

20. চার্বাক মতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয় কোনটি?

A) প্রত্যক্ষ B) অনুমান C) অনুভব D) অভিজ্ঞতা
উত্তর: অনুমান

১. চার্বাক দর্শন অনুযায়ী একমাত্র প্রমাণ কোনটি?
(ক) অনুমান (খ) শব্দ (গ) প্রত্যক্ষ (ঘ) উপমান
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষ

২. ‘প্রমাকরণং প্রমাণম্’—এর অর্থ কী?
(ক) প্রমাণই প্রমা (খ) প্রমার করণই প্রমাণ (গ) জ্ঞানই প্রমাণ (ঘ) প্রত্যক্ষই জ্ঞান
উত্তর: (খ) প্রমার করণই প্রমাণ

৩. চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ হয় কীসের মাধ্যমে?
(ক) অনুমান (খ) শব্দ (গ) ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে (ঘ) উপমান
উত্তর: (গ) ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে

৪. চার্বাক দর্শনে প্রত্যক্ষ জ্ঞান কেমন?
(ক) সন্দেহযুক্ত (খ) ভ্রান্ত (গ) সম্যক ও অপরোক্ষ (ঘ) কাল্পনিক
উত্তর: (গ) সম্যক ও অপরোক্ষ

৫. চার্বাক মতে প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ, কারণ—
(ক) এটি কল্পনার উপর নির্ভরশীল (খ) এটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ (গ) এটি শাস্ত্রসম্মত (ঘ) এটি অনুমানভিত্তিক
উত্তর: (খ) এটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ

৬. চার্বাকরা কোন প্রমাণকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন না?
(ক) প্রত্যক্ষ (খ) অনুমান (গ) ইন্দ্রিয় (ঘ) অভিজ্ঞতা
উত্তর: (খ) অনুমান

৭. চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ কীসের সূচক?
(ক) আত্মার (খ) কর্মফলের (গ) অস্তিত্বের (ঘ) পুনর্জন্মের
উত্তর: (গ) অস্তিত্বের1

৮. চার্বাক দর্শনে ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের কী ধরনের সম্পর্ক থাকে?
(ক) পরোক্ষ (খ) কাল্পনিক (গ) সরাসরি সংযোগ (ঘ) আধ্যাত্মিক
উত্তর: (গ) সরাসরি সংযোগ

৯. চার্বাক মতে সাধারণ মানুষ প্রধানত কোন প্রমাণের উপর নির্ভরশীল?
(ক) শব্দ (খ) উপমান (গ) প্রত্যক্ষ (ঘ) অর্থাপত্তি
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষ

১০. চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান কেমন?
(ক) অস্পষ্ট (খ) স্পষ্ট (গ) কাল্পনিক (ঘ) অযৌক্তিক
উত্তর: (খ) স্পষ্ট

১১. চার্বাকদের মতে অনুমান কেন নির্ভরযোগ্য নয়?
(ক) তা প্রত্যক্ষ নয় (খ) তা সর্বদা সত্য (গ) তা শাস্ত্রসম্মত (ঘ) তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য
উত্তর: (ক) তা প্রত্যক্ষ নয়

১২. চার্বাক মতে শব্দ প্রমাণ কেন গ্রহণযোগ্য নয়?
(ক) তা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ নয় (খ) তা সর্বদা সত্য (গ) তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (ঘ) তা সহজবোধ্য
উত্তর: (ক) তা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ নয়

১৩. চার্বাক মতে প্রত্যক্ষ জ্ঞান কিসের উপর প্রতিষ্ঠিত?
(ক) কল্পনা (খ) ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সংযোগ (গ) শাস্ত্র (ঘ) বিশ্বাস
উত্তর: (খ) ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সংযোগ

১৪. চার্বাকদের মতে অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তি কী?
(ক) অনুমান (খ) শব্দ (গ) প্রত্যক্ষ (ঘ) উপমান
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষ

১৫. চার্বাক দর্শনে কোনটি গ্রহণযোগ্য নয়?
(ক) প্রত্যক্ষ (খ) প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা (গ) অপ্রত্যক্ষ জ্ঞান (ঘ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
উত্তর: (গ) অপ্রত্যক্ষ জ্ঞান

১৬. চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বের মূল ভিত্তি কী?
(ক) উপমান (খ) অর্থাপত্তি (গ) প্রত্যক্ষবাদ (ঘ) শব্দবাদ
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষবাদ

১৭. চার্বাক মতে প্রত্যক্ষের লৌকিক ব্যবহার কেমন?
(ক) জটিল (খ) কঠিন (গ) সহজ ও সরল (ঘ) অপ্রয়োজনীয়
উত্তর: (গ) সহজ ও সরল

১৮. চার্বাকদের মতে কোন জ্ঞান সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য?
(ক) শব্দজ্ঞান (খ) অনুমানজ্ঞান (গ) প্রত্যক্ষজ্ঞান (ঘ) উপমানজ্ঞান
উত্তর: (গ) প্রত্যক্ষজ্ঞান

১৯. চার্বাক দর্শনে প্রত্যক্ষের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) পরোক্ষতা (খ) কল্পনানির্ভরতা (গ) নিশ্চিত ও স্পষ্ট জ্ঞান (ঘ) শাস্ত্রনির্ভরতা
উত্তর: (গ) নিশ্চিত ও স্পষ্ট জ্ঞান

২০. চার্বাক দর্শনের মতে জ্ঞানলাভের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় কোনটি?
(ক) শব্দ (খ) উপমান (গ) অনুমান (ঘ) প্রত্যক্ষ
উত্তর: (ঘ) প্রত্যক্ষ

MCQ প্রশ্নাবলি :চার্বাক দর্শনে স্বভাববাদ ও যদৃচ্ছবাদ | সম্পূর্ণ আলোচনা

১. চার্বাকদের মতে কোন বিষয়ের অস্তিত্ব স্বীকার করা যায়?
ক) যা কল্পনা করা যায়
খ) যা শাস্ত্রে বলা হয়েছে
গ) যা প্রত্যক্ষযোগ্য
ঘ) যা অনুমান করা যায়
উত্তর : গ) যা প্রত্যক্ষযোগ্য

২. চার্বাকদের মতে কয়টি মহাভূত স্বীকৃত?
ক) ৩টি
খ) ৪টি
গ) ৫টি
ঘ) ৬টি
উত্তর : খ) ৪টি

৩. চার্বাকদের মতে নিচের কোনটি মহাভূত নয়?
ক) ক্ষিতি
খ) অপ
গ) ব্যোম
ঘ) তেজ
উত্তর : গ) ব্যোম

৪. চার্বাকরা ব্যোমকে স্বীকার করেন না কেন?
ক) ব্যোম পরিবর্তনশীল
খ) ব্যোম প্রত্যক্ষযোগ্য নয়
গ) ব্যোম শাস্ত্রে নেই
ঘ) ব্যোম নিত্য নয়
উত্তর : খ) ব্যোম প্রত্যক্ষযোগ্য নয়

৫. চার্বাকদের মতে ক্ষিতি বলতে কী বোঝায়?
ক) জল
খ) পৃথিবী
গ) বায়ু
ঘ) অগ্নি
উত্তর : খ) পৃথিবী

৬. চার্বাকদের মতে অপ বলতে কী বোঝায়?
ক) অগ্নি
খ) জল
গ) আকাশ
ঘ) বায়ু
উত্তর : খ) জল

৭. চার্বাকদের মতে মরুৎ বলতে কী বোঝায়?
ক) পৃথিবী
খ) জল
গ) বায়ু
ঘ) আকাশ
উত্তর : গ) বায়ু

৮. চার্বাকদের মতে স্বভাববাদ কী?
ক) ঈশ্বর জগৎ সৃষ্টি করেন
খ) বস্তুর নিজস্ব স্বভাব থেকেই জগতের সৃষ্টি ও পরিবর্তন ঘটে
গ) কর্মফলের দ্বারা জগৎ পরিচালিত হয়
ঘ) ভাগ্যের দ্বারা সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয়
উত্তর : খ) বস্তুর নিজস্ব স্বভাব থেকেই জগতের সৃষ্টি ও পরিবর্তন ঘটে

৯. স্বভাববাদ অনুসারে মহাভূতগুলির সংযোগের জন্য কী প্রয়োজন হয় না?
ক) পরমাণু
খ) ঈশ্বর বা অতিপ্রাকৃত শক্তি
গ) সময়
ঘ) স্থান
উত্তর : খ) ঈশ্বর বা অতিপ্রাকৃত শক্তি

১০. অগ্নির স্বভাব কী?
ক) শীতলতা
খ) প্রবাহ
গ) উষ্ণতা
ঘ) স্থিরতা
উত্তর : গ) উষ্ণতা

১১. জলের স্বভাব কী?
ক) উষ্ণতা
খ) শীতলতা
গ) গতি
ঘ) দহন
উত্তর : খ) শীতলতা

১২. স্বভাববাদের সমালোচনা কী?
ক) এটি প্রত্যক্ষকে অস্বীকার করে
খ) শুধুমাত্র স্বভাবের দ্বারা জগতের সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না
গ) এটি ঈশ্বরবাদকে সমর্থন করে
ঘ) এটি পাঁচটি মহাভূত স্বীকার করে
উত্তর : খ) শুধুমাত্র স্বভাবের দ্বারা জগতের সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না

১৩. যদৃচ্ছবাদ কারা উত্থাপন করেছিলেন?
ক) সকল চার্বাক
খ) চার্বাক দর্শনের কোনো কোনো শাখা
গ) ন্যায় দার্শনিকরা
ঘ) বেদান্ত দার্শনিকরা
উত্তর : খ) চার্বাক দর্শনের কোনো কোনো শাখা

১৪. যদৃচ্ছবাদ অনুসারে জগতের সৃষ্টি কীভাবে হয়েছে?
ক) ঈশ্বরের ইচ্ছায়
খ) কর্মফলের দ্বারা
গ) মহাভূতগুলির আকস্মিক মিলনের ফলে
ঘ) আত্মার দ্বারা
উত্তর : গ) মহাভূতগুলির আকস্মিক মিলনের ফলে

১৫. যদৃচ্ছবাদে কোন শক্তিকে অস্বীকার করা হয়েছে?
ক) অতিপ্রাকৃত শক্তিকে
খ) মহাভূতকে
গ) ইন্দ্রিয়কে
ঘ) প্রত্যক্ষকে
উত্তর : ক) অতিপ্রাকৃত শক্তিকে

১৬. যদৃচ্ছবাদে কোন বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
ক) কর্মফল
খ) আকস্মিকতা
গ) পুনর্জন্ম
ঘ) মুক্তি
উত্তর : খ) আকস্মিকতা

১৭. যদৃচ্ছবাদের প্রধান সমালোচনা কী?
ক) এটি প্রত্যক্ষবাদকে সমর্থন করে
খ) এটি শাস্ত্রবিরোধী
গ) এর পক্ষে সুস্পষ্ট যুক্তি নেই
ঘ) এটি চারটি মহাভূত অস্বীকার করে
উত্তর : গ) এর পক্ষে সুস্পষ্ট যুক্তি নেই

১৮. দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
ক) অলৌকিকতা
খ) কল্পনা
গ) যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা
ঘ) বিশ্বাস
উত্তর : গ) যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা

১৯. চার্বাকদের মতে জগতের সৃষ্টি কোনটির দ্বারা ঘটে?
ক) ঈশ্বরের ইচ্ছায়
খ) অদৃষ্টের দ্বারা
গ) মহাভূতগুলির স্বভাব ও সংযোগের দ্বারা
ঘ) কর্মফলের দ্বারা
উত্তর : গ) মহাভূতগুলির স্বভাব ও সংযোগের দ্বারা

২০. চার্বাক দর্শনের আলোচ্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ কোনগুলি?
ক) কর্মবাদ ও মুক্তিবাদ
খ) আত্মবাদ ও ঈশ্বরবাদ
গ) স্বভাববাদ ও যদৃচ্ছবাদ
ঘ) শব্দবাদ ও অনুমানবাদ
উত্তর : গ) স্বভাববাদ ও যদৃচ্ছবাদ

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক মতে ঈশ্বর কি | চার্বাক দর্শনে ঈশ্বর | চার্বাক ঈশ্বর অস্বীকার | চার্বাক দর্শন | ঈশ্বরের অস্তিত্ব খণ্ডন | Indian Philosophy 2026

১. চার্বাকরা জগতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ঈশ্বরের পরিবর্তে কোন মত গ্রহণ করেন?
ক) সৃষ্টিকর্তাবাদ
খ) চারভূতবাদ
গ) আত্মবাদ
ঘ) পরমাত্মবাদ
উত্তর: খ) চারভূতবাদ

২. “ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ”—এই চারটি উপাদানকে চার্বাকরা কীসের জন্য যথেষ্ট মনে করেন?
ক) আত্মার সৃষ্টি
খ) পরলোকের সৃষ্টি
গ) জগতের গঠন
ঘ) ঈশ্বরের সৃষ্টি
উত্তর: গ) জগতের গঠন

৩. ন্যায়-বৈশেষিকের ঈশ্বরবাদী মতের বিপরীতে চার্বাকদের অবস্থান কী?
ক) ঈশ্বরকে আংশিক স্বীকার
খ) ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান স্বীকার
গ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার
ঘ) ঈশ্বরকে জড়পদার্থ মনে করা
উত্তর: গ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার

৪. “মৃত্যুতেই জীবের পরিসমাপ্তি”—এই বক্তব্যটি কোন মতের বিরোধিতা করে?
ক) কর্মবাদ
খ) জন্মান্তরবাদ
গ) প্রত্যক্ষবাদ
ঘ) জড়বাদ
উত্তর: খ) জন্মান্তরবাদ

৫. চার্বাকদের মতে দেহের মৃত্যুর পর আত্মার কী হয়?
ক) অন্য দেহে প্রবেশ করে
খ) স্বর্গে যায়
গ) নরকে যায়
ঘ) পৃথক অমর আত্মার অস্তিত্ব নেই
উত্তর: ঘ) পৃথক অমর আত্মার অস্তিত্ব নেই

৬. যদি কোনো জ্ঞান কেবল বেদে উল্লেখিত হওয়ার কারণে সত্য বলে গ্রহণ করা হয়, চার্বাকরা তা কেন প্রত্যাখ্যান করবেন?
ক) বেদ অত্যন্ত কঠিন
খ) বেদের বক্তব্য প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়
গ) বেদ কেবল রাজাদের জন্য
ঘ) বেদে কোনো ধর্মীয় বিষয় নেই
উত্তর: খ) বেদের বক্তব্য প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়

৭. চার্বাকদের বেদ-বিরোধিতার সঙ্গে কোন বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত?
ক) শব্দপ্রমাণের প্রামাণ্য অস্বীকার
খ) প্রত্যক্ষপ্রমাণের অস্বীকার
গ) ইন্দ্রিয়ের অস্বীকার
ঘ) দেহের অস্বীকার
উত্তর: ক) শব্দপ্রমাণের প্রামাণ্য অস্বীকার

৮. বৈদিক সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে চার্বাকদের একটি মৌলিক পার্থক্য কী?
ক) উভয়েই বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করে
খ) বৈদিক সম্প্রদায় বেদকে প্রমাণ মানে, চার্বাক মানে না
গ) চার্বাকরা বেদকে সর্বোচ্চ প্রমাণ মানে
ঘ) উভয়েই ঈশ্বরকে অস্বীকার করে
উত্তর: খ) বৈদিক সম্প্রদায় বেদকে প্রমাণ মানে, চার্বাক মানে না

৯. চার্বাকদের মতে বেদে স্বর্গ, নরক, পাপ-পুণ্য ইত্যাদি ধারণা প্রচারের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল?
ক) বৈজ্ঞানিক গবেষণা
খ) মানুষের বিনোদন
গ) স্বার্থসিদ্ধি
ঘ) কৃষির উন্নতি
উত্তর: গ) স্বার্থসিদ্ধি

১০. চার্বাকদের মতে যাগ-যজ্ঞকে পুরোহিত শ্রেণি কী হিসেবে ব্যবহার করেছে?
ক) শিক্ষার মাধ্যম
খ) জীবিকা বা উপজীবিকার মাধ্যম
গ) চিকিৎসার মাধ্যম
ঘ) রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যম
উত্তর: খ) জীবিকা বা উপজীবিকার মাধ্যম

১১. “বলিপ্রদত্ত জীব স্বর্গে যায়”—এই ধারণাকে খণ্ডন করতে চার্বাকরা কোন যুক্তি দিয়েছেন?
ক) স্বর্গ বলে কিছু নেই
খ) পুরোহিতরা নিজেদের পিতা-মাতাকে বলি দেন না কেন
গ) পশু কথা বলতে পারে না
ঘ) যজ্ঞ খুব ব্যয়বহুল
উত্তর: খ) পুরোহিতরা নিজেদের পিতা-মাতাকে বলি দেন না কেন

১২. পশুবলির সমালোচনায় চার্বাকদের যুক্তির মূল উদ্দেশ্য কী?
ক) যজ্ঞের খরচ কমানো
খ) যজ্ঞের অলৌকিক ফলের অসারতা দেখানো
গ) পশুপালন বৃদ্ধি করা
ঘ) কৃষিকাজ উন্নত করা
উত্তর: খ) যজ্ঞের অলৌকিক ফলের অসারতা দেখানো

১৩. চার্বাকদের মতে পরলোকের সুখের আশায় বর্তমান জীবনে কৃচ্ছ্রসাধন করা—
ক) জ্ঞানীর লক্ষণ
খ) ধর্মীয় কর্তব্য
গ) মূর্খতা
ঘ) মোক্ষের পথ
উত্তর: গ) মূর্খতা

১৪. চার্বাকদের দৃষ্টিতে “পরলোক” ধারণার পরিবর্তে কোন বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ?
ক) বর্তমান ইহজীবন
খ) পূর্বজন্ম
গ) স্বর্গ
ঘ) মোক্ষ
উত্তর: ক) বর্তমান ইহজীবন

১৫. নিচের কোন জোড়াটি চার্বাকদের পরম পুরুষার্থের ধারণার সঙ্গে সঠিকভাবে মেলে?
ক) ধর্ম–মোক্ষ
খ) ধর্ম–অর্থ
গ) কাম–অর্থ
ঘ) মোক্ষ–কাম
উত্তর: গ) কাম–অর্থ

১৬. চার্বাকদের মতে মানুষ কেন পরলোকের পরিবর্তে ইহজীবনকে গুরুত্ব দেবে?
ক) পরলোক প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়
খ) ইহজীবন দীর্ঘস্থায়ী
গ) স্বর্গে যাওয়া নিষিদ্ধ
ঘ) বেদ ইহজীবনকে অস্বীকার করেছে
উত্তর: ক) পরলোক প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়

১৭. নিচের কোন বক্তব্যটি চার্বাক দর্শনের সঙ্গে অসংগত?
ক) ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার
খ) জন্মান্তর অস্বীকার
গ) আত্মার অমরত্ব স্বীকার
ঘ) বেদের প্রামাণ্য অস্বীকার
উত্তর: গ) আত্মার অমরত্ব স্বীকার

১৮. চার্বাকদের বেদ-বিরোধিতা শুধু বেদের প্রামাণ্য অস্বীকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাঁরা আরও কী করেছিলেন?
ক) বেদ অনুবাদ করেছিলেন
খ) বেদের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন
গ) বেদকে আংশিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন
ঘ) বেদের নতুন সংস্করণ তৈরি করেছিলেন
উত্তর: খ) বেদের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন

১৯. চার্বাক দর্শনের কোন বৈশিষ্ট্যটি তার বৈদিক-বিরোধী অবস্থানকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে?
ক) অতীন্দ্রিয়বাদ
খ) জড়বাদ ও প্রত্যক্ষবাদ
গ) ভক্তিবাদ
ঘ) আত্মবাদ
উত্তর: খ) জড়বাদ ও প্রত্যক্ষবাদ

২০. নিচের কোন বক্তব্যটি চার্বাক দর্শনের সামগ্রিক অবস্থানকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে?
ক) বেদ, ঈশ্বর ও পরলোকের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস
খ) কর্মফল ও জন্মান্তরের প্রতি বিশ্বাস
গ) প্রত্যক্ষ জগত ও ইহজীবনের সুখের প্রতি গুরুত্ব
ঘ) যাগ-যজ্ঞের মাধ্যমে মোক্ষলাভ
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষ জগত ও ইহজীবনের সুখের প্রতি গুরুত্ব

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক দর্শনের নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা কর |‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি, চারু শব্দ, বৃহস্পতির বাক, চর্ভ ধাতু ও নামকরণের বিভিন্ন মত সহজ ভাষায় | B.A. Philosophy 2026

১. ‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি নিয়ে কী রয়েছে?
ক) সম্পূর্ণ ঐকমত্য
খ) পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ
গ) কোনো আলোচনা নেই
ঘ) শুধু বৈদিক মত
উত্তর: খ) পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ

২. ‘চার্বাক’ শব্দটি কোন শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে বলে একটি মত রয়েছে?
ক) ধর্ম
খ) চারু
গ) চিত্ত
ঘ) চর্চা
উত্তর: খ) চারু

৩. ‘চারু’ শব্দের একটি অর্থ কী?
ক) আত্মা
খ) বৃহস্পতি
গ) ঈশ্বর
ঘ) জড়
উত্তর: খ) বৃহস্পতি

৪. ‘বৃহস্পতির বাক’ কথাটির অর্থ কী?
ক) বৃহস্পতির জন্ম
খ) বৃহস্পতির উপদেশ বা বাণী
গ) বৃহস্পতির পূজা
ঘ) বৃহস্পতির কর্ম
উত্তর: খ) বৃহস্পতির উপদেশ বা বাণী

৫. কোন ব্যক্তির বাক বা উপদেশের সঙ্গে ‘চার্বাক’ নামের একটি ব্যুৎপত্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করা হয়?
ক) কপিল
খ) বৃহস্পতি
গ) পতঞ্জলি
ঘ) গৌতম
উত্তর: খ) বৃহস্পতি

৬. ঋগ্বেদে কোন নামে এক ঋষির পরিচয় পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
ক) লোকায়বৃহস্পতি
খ) দেববৃহস্পতি
গ) মহাবৃহস্পতি
ঘ) বৈদিকবৃহস্পতি
উত্তর: ক) লোকায়বৃহস্পতি

৭. লোকায়বৃহস্পতির মতে জড় থেকে কীসের উৎপত্তি হয়?
ক) আত্মার
খ) ঈশ্বরের
গ) চেতনার
ঘ) মোক্ষের
উত্তর: গ) চেতনার

৮. চার্বাকদের মতে চেতনার উৎপত্তি কী থেকে হয়?
ক) আত্মা থেকে
খ) ঈশ্বর থেকে
গ) ভূতচতুষ্টয় থেকে
ঘ) বেদ থেকে
উত্তর: গ) ভূতচতুষ্টয় থেকে

৯. নিচের কোনটি চার্বাকদের ভূতচতুষ্টয়ের অন্তর্ভুক্ত?
ক) আকাশ
খ) আত্মা
গ) তেজ
ঘ) ঈশ্বর
উত্তর: গ) তেজ

১০. ‘চার্বাক’ শব্দটি ‘চর্ভ’ ধাতু থেকে উৎপন্ন—এই মত অনুযায়ী ‘চর্ভ’-এর অর্থ কী?
ক) জ্ঞান করা
খ) চর্বণ করা বা খাওয়া
গ) চিন্তা করা
ঘ) ত্যাগ করা
উত্তর: খ) চর্বণ করা বা খাওয়া

১১. ‘চর্ভ’ ধাতুর অর্থের সঙ্গে চার্বাক দর্শনের কোন বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে?
ক) ত্যাগবাদ
খ) ভোগবাদ
গ) আত্মবাদ
ঘ) ঈশ্বরবাদ
উত্তর: খ) ভোগবাদ

১২. ‘চারু’ শব্দের ‘মধুর’ অর্থ গ্রহণ করলে চার্বাক দর্শনের নামকরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়?
ক) এটি কঠিন মতবাদ
খ) এটি শ্রুতিমধুর বা সুখকর মতবাদ
গ) এটি কেবল পুরোহিতদের মতবাদ
ঘ) এটি কেবল আত্মতত্ত্বের মতবাদ
উত্তর: খ) এটি শ্রুতিমধুর বা সুখকর মতবাদ

১৩. ‘চর্ভ’ ধাতু থেকে ‘চার্বাক’ নামের ব্যাখ্যায় কোন ধরনের সুখকে গুরুত্ব দেওয়া হয়?
ক) পরলোকের সুখ
খ) ঔদরিক সুখভোগ
গ) মোক্ষের সুখ
ঘ) আত্মিক সুখ
উত্তর: খ) ঔদরিক সুখভোগ

১৪. চার্বাক দর্শনের প্রকৃতি মূলত কী?
ক) ভাববাদী
খ) স্থূল জড়বাদী
গ) অদ্বৈতবাদী
ঘ) দ্বৈতবাদী
উত্তর: খ) স্থূল জড়বাদী

১৫. চার্বাক দর্শনকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?
ক) বেদান্ত
খ) লোকায়ত
গ) যোগ
ঘ) মীমাংসা
উত্তর: খ) লোকায়ত

১৬. চার্বাক দর্শনের সঙ্গে লোকায়ত-বৃহস্পতির মতের সাদৃশ্য কোন বিষয়ে?
ক) ঈশ্বরবাদ
খ) জড় থেকে চেতনার উৎপত্তি
গ) আত্মার অমরত্ব
ঘ) মোক্ষবাদ
উত্তর: খ) জড় থেকে চেতনার উৎপত্তি

১৭. চার্বাকদের মতে জগতের গঠনের জন্য কোন চারটি জড় উপাদান যথেষ্ট?
ক) ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ
খ) ক্ষিতি, অপ, আকাশ ও আত্মা
গ) তেজ, মরুৎ, আত্মা ও ঈশ্বর
ঘ) অপ, আকাশ, আত্মা ও মন
উত্তর: ক) ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ

১৮. চার্বাক দর্শনের নামকরণের সঙ্গে কোন দুটি বৈশিষ্ট্যের বিশেষ সম্পর্ক দেখা যায়?
ক) জড়বাদ ও ভোগবাদ
খ) আত্মবাদ ও মোক্ষবাদ
গ) ঈশ্বরবাদ ও কর্মবাদ
ঘ) ত্যাগবাদ ও ভক্তিবাদ
উত্তর: ক) জড়বাদ ও ভোগবাদ

১৯. চার্বাক দর্শনকে ‘লোকায়ত’ বলা হয় প্রধানত কেন?
ক) এটি কেবল ঋষিদের মতবাদ
খ) এটি ইহজাগতিক জগতকে গুরুত্ব দেয়
গ) এটি ঈশ্বরকে স্বীকার করে
ঘ) এটি বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করে
উত্তর: খ) এটি ইহজাগতিক জগতকে গুরুত্ব দেয়

২০. ‘চার্বাক’ নামের উৎপত্তি যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক, কোন বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যায়?
ক) চার্বাক দর্শন ঈশ্বরবাদী
খ) চার্বাক দর্শন আত্মবাদী
গ) চার্বাক দর্শন স্থূল জড়বাদের সমর্থক
ঘ) চার্বাক দর্শন মোক্ষবাদী
উত্তর: গ) চার্বাক দর্শন স্থূল জড়বাদের সমর্থক

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক দর্শনে বিভিন্ন সম্প্রদায় 🔥 | চার্বাকের বিভিন্ন মত ও সম্প্রদায় সহজ ভাষায় | B.A. Philosophy 2026

১. চার্বাক দর্শন মূলত কোন ধরনের দর্শন?
ক) ভাববাদী
খ) জড়বাদী
গ) আত্মবাদী
ঘ) ঈশ্বরবাদী
উত্তর: খ) জড়বাদী

২. চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক) অনুমানবাদ
খ) শব্দবাদ
গ) প্রত্যক্ষবাদ
ঘ) উপমানবাদ
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষবাদ

৩. চার্বাকদের মতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোনটি?
ক) অনুমান
খ) প্রত্যক্ষ
গ) উপমান
ঘ) শব্দ
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষ

৪. চার্বাকদের একটি সম্প্রদায়ের নাম কী?
ক) ধূর্ত চার্বাক
খ) ন্যায় চার্বাক
গ) বৈশেষিক চার্বাক
ঘ) যোগ চার্বাক
উত্তর: ক) ধূর্ত চার্বাক

৫. ধূর্ত চার্বাকদের সঙ্গে কোন মতের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে?
ক) মোক্ষবাদ
খ) ভোগবাদ
গ) ঈশ্বরবাদ
ঘ) আত্মবাদ
উত্তর: খ) ভোগবাদ

৬. চার্বাক দর্শনে ‘ভূতচৈতন্যবাদ’ বলতে কী বোঝায়?
ক) ঈশ্বর থেকে চেতনার উৎপত্তি
খ) আত্মা থেকে চেতনার উৎপত্তি
গ) জড় উপাদান থেকে চেতনার উৎপত্তি
ঘ) বেদ থেকে চেতনার উৎপত্তি
উত্তর: গ) জড় উপাদান থেকে চেতনার উৎপত্তি

৭. চার্বাকদের মতে চেতনার উৎপত্তি কীভাবে হয়?
ক) আত্মার মাধ্যমে
খ) ঈশ্বরের ইচ্ছায়
গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগে
ঘ) বেদের মাধ্যমে
উত্তর: গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগে

৮. চার্বাকদের ভূতচতুষ্টয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
ক) ক্ষিতি
খ) অপ
গ) তেজ
ঘ) আকাশ
উত্তর: ঘ) আকাশ

৯. চার্বাকদের মতে দেহ ও আত্মার সম্পর্ক কী?
ক) দেহ আত্মা থেকে পৃথক
খ) দেহই আত্মা
গ) আত্মা দেহের স্রষ্টা
ঘ) আত্মা দেহ নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর: খ) দেহই আত্মা

১০. ‘দেহাত্মবাদ’ কোন দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) বেদান্ত
খ) সাংখ্য
গ) চার্বাক
ঘ) ন্যায়
উত্তর: গ) চার্বাক

১১. চার্বাকরা কোন বিষয়টি স্বীকার করেন না?
ক) প্রত্যক্ষ জ্ঞান
খ) ইহজীবন
গ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
ঘ) জড় পদার্থ
উত্তর: গ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব

১২. চার্বাকদের মতে মৃত্যুর পরে কী ঘটে?
ক) আত্মা অন্য দেহে প্রবেশ করে
খ) স্বর্গলাভ হয়
গ) পুনর্জন্ম হয়
ঘ) জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে
উত্তর: ঘ) জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে

১৩. চার্বাকরা কোন ধারণাকে অস্বীকার করেন?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) জড়জগৎ
গ) জন্মান্তর
ঘ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
উত্তর: গ) জন্মান্তর

১৪. চার্বাকদের মতে মানুষের জীবনের প্রধান লক্ষ্য কী?
ক) মোক্ষলাভ
খ) পরলোকলাভ
গ) ইহজীবনের সুখ
ঘ) ঈশ্বরলাভ
উত্তর: গ) ইহজীবনের সুখ

১৫. চার্বাক দর্শনে কোন দুটি পুরুষার্থকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়?
ক) ধর্ম ও মোক্ষ
খ) অর্থ ও কাম
গ) ধর্ম ও অর্থ
ঘ) মোক্ষ ও কাম
উত্তর: খ) অর্থ ও কাম

১৬. চার্বাকরা কোন প্রমাণের স্বতন্ত্র প্রামাণ্যতা অস্বীকার করেন?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) অনুমান
গ) প্রত্যক্ষ ও অনুমান উভয়ই
ঘ) কোনো প্রমাণই নয়
উত্তর: খ) অনুমান

১৭. চার্বাকরা উপমানকে কী হিসেবে গ্রহণ করেন?
ক) একমাত্র প্রমাণ
খ) স্বতন্ত্র প্রমাণ
গ) স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন +না
ঘ) পরম প্রমাণ
উত্তর: গ) স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন না

১৮. চার্বাক দর্শনের আর একটি প্রচলিত নাম কী?
ক) লোকায়ত
খ) মীমাংসা
গ) বেদান্ত
ঘ) যোগ
উত্তর: ক) লোকায়ত

১৯. চার্বাক দর্শনের কোন বৈশিষ্ট্যটি তাদের নাস্তিকতার পরিচয় দেয়?
ক) প্রত্যক্ষ গ্রহণ
খ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার
গ) জড় পদার্থ গ্রহণ
ঘ) ইহজীবন গ্রহণ
উত্তর: খ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার

২০. চার্বাক দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতভেদ প্রধানত কোন বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে দেখা যায়?
ক) জড়, চেতনা ও আত্মার স্বরূপ
খ) কেবল বেদের ব্যাখ্যা
গ) কেবল যজ্ঞের পদ্ধতি
ঘ) কেবল ঈশ্বরের উপাসনা
উত্তর: ক) জড়, চেতনা ও আত্মার স্বরূপ

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক অধিবিদ্যা | চার্বাক দর্শনের অধিবিদ্যা সম্পূর্ণ আলোচনা | জড়বাদ, চেতনা ও আত্মা | B.A. Philosophy 2026

১. চার্বাক দর্শনের অধিবিদ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ভাববাদ
খ) জড়বাদ
গ) দ্বৈতবাদ
ঘ) অদ্বৈতবাদ
উত্তর: খ) জড়বাদ

২. চার্বাকদের মতে জগতের মূল উপাদান কয়টি?
ক) দুটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) পাঁচটি
উত্তর: গ) চারটি

৩. চার্বাকদের স্বীকৃত চারটি জড় উপাদানকে কী বলা হয়?
ক) পঞ্চভূত
খ) ভূতচতুষ্টয়
গ) ত্রিগুণ
ঘ) তত্ত্বত্রয়
উত্তর: খ) ভূতচতুষ্টয়

৪. নিচের কোনটি চার্বাকদের স্বীকৃত জড় উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়?
ক) ক্ষিতি
খ) অপ
গ) তেজ
ঘ) আকাশ
উত্তর: ঘ) আকাশ

৫. চার্বাকদের মতে চেতনার উৎপত্তি কী থেকে হয়?
ক) আত্মা থেকে
খ) ঈশ্বর থেকে
গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগ থেকে
ঘ) ব্রহ্ম থেকে
উত্তর: গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগ থেকে

৬. চার্বাকদের চেতনা সম্পর্কিত মতকে কী বলা হয়?
ক) আত্মবাদ
খ) ভূতচৈতন্যবাদ
গ) ব্রহ্মবাদ
ঘ) ঈশ্বরবাদ
উত্তর: খ) ভূতচৈতন্যবাদ

৭. চার্বাকদের মতে চেতনা কী?
ক) নিত্য আত্মার ধর্ম
খ) ঈশ্বরের সৃষ্টি
গ) জড়ের উৎপন্ন ধর্ম
ঘ) ব্রহ্মের প্রকাশ
উত্তর: গ) জড়ের উৎপন্ন ধর্ম

৮. চার্বাক দর্শনে দেহাত্মবাদের অর্থ কী?
ক) দেহ আত্মার বাহন
খ) দেহই আত্মা
গ) আত্মা দেহ থেকে পৃথক
ঘ) আত্মা ঈশ্বরের অংশ
উত্তর: খ) দেহই আত্মা

৯. চার্বাকরা কোন ধরনের আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন?
ক) দেহগত আত্মা
খ) ইন্দ্রিয়গত আত্মা
গ) দেহের অতিরিক্ত স্বাধীন ও নিত্য আত্মা
ঘ) জ্ঞানসম্পন্ন আত্মা
উত্তর: গ) দেহের অতিরিক্ত স্বাধীন ও নিত্য আত্মা

১০. চার্বাকদের মতে দেহের বিনাশের সঙ্গে কী বিনষ্ট হয়?
ক) ঈশ্বর
খ) চেতনা
গ) ব্রহ্ম
ঘ) কর্ম
উত্তর: খ) চেতনা

১১. চার্বাকরা আত্মার কোন বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করেন?
ক) পরিবর্তনশীলতা
খ) অমরত্ব
গ) দেহগত অস্তিত্ব
ঘ) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা
উত্তর: খ) অমরত্ব

১২. চার্বাক দর্শন কোন ধারণাকে অস্বীকার করে?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) ইহজীবন
গ) জন্মান্তর
ঘ) জড়জগৎ
উত্তর: গ) জন্মান্তর

১৩. চার্বাকদের মতে পরলোক সম্পর্কে কী বলা যায়?
ক) পরলোক নিশ্চিতভাবে বিদ্যমান
খ) পরলোক প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত
গ) পরলোকের অস্তিত্ব স্বীকার করা যায় না
ঘ) পরলোকই মানুষের প্রকৃত জীবন
উত্তর: গ) পরলোকের অস্তিত্ব স্বীকার করা যায় না

১৪. চার্বাক দর্শনে ঈশ্বরের অবস্থান কী?
ক) ঈশ্বর জগতের সৃষ্টিকর্তা
খ) ঈশ্বর জগতের নিয়ন্ত্রক
গ) ঈশ্বর আত্মার স্রষ্টা
ঘ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়
উত্তর: ঘ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়

১৫. চার্বাকদের মতে জগতের ব্যাখ্যার জন্য কী যথেষ্ট?
ক) ঈশ্বর
খ) ব্রহ্ম
গ) চারটি জড় উপাদান
ঘ) নিত্য আত্মা
উত্তর: গ) চারটি জড় উপাদান+

১৬. চার্বাক দর্শনের মতে মানুষের নিশ্চিত জীবন কোনটি?
ক) পূর্বজন্ম
খ) পরলোকের জীবন
গ) বর্তমান ইহজীবন
ঘ) স্বর্গীয় জীবন
উত্তর: গ) বর্তমান ইহজীবন

১৭. চার্বাক দর্শনের সঙ্গে কোন মতটি বিশেষভাবে সম্পর্কিত?
ক) ইহজীবনবাদ
খ) পরলোকবাদ
গ) আত্মবাদ
ঘ) ঈশ্বরবাদ
উত্তর: ক) ইহজীবনবাদ

১৮. চার্বাক দর্শনে ভোগবাদের ভিত্তি কী?
ক) আত্মার অমরত্ব
খ) পরলোকের বিশ্বাস
গ) বর্তমান ইহজীবনের গুরুত্ব
ঘ) ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস
উত্তর: গ) বর্তমান ইহজীবনের গুরুত্ব

১৯. চার্বাক অধিবিদ্যার প্রধান তিনটি মত কোনগুলি?
ক) জড়বাদ, ভূতচৈতন্যবাদ ও দেহাত্মবাদ
খ) ঈশ্বরবাদ, আত্মবাদ ও ব্রহ্মবাদ
গ) অদ্বৈতবাদ, দ্বৈতবাদ ও বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ
ঘ) কর্মবাদ, পুনর্জন্মবাদ ও মোক্ষবাদ
উত্তর: ক) জড়বাদ, ভূতচৈতন্যবাদ ও দেহাত্মবাদ

২০. চার্বাক অধিবিদ্যার মূল বক্তব্য কোনটি?
ক) আত্মাই একমাত্র বাস্তব
খ) ব্রহ্মই একমাত্র সত্য
গ) জড়ই মূল বাস্তবতা এবং চেতনা জড়ের উৎপন্ন ধর্ম
ঘ) ঈশ্বরই জগতের একমাত্র কারণ
উত্তর: গ) জড়ই মূল বাস্তবতা এবং চেতনা জড়ের উৎপন্ন ধর্ম

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক দর্শনের জড়বাদ | জড়বাদ কী? চার্বাকদের জড়তত্ত্ব সহজ ভাষায় | B.A. Philosophy 2026

১. যে মতবাদ জগৎ ও জীবনকে কেবল জড়ের সাহায্যে ব্যাখ্যা করে তাকে কী বলে?
ক) অধ্যাত্মবাদ
খ) জড়বাদ
গ) ভাববাদ
ঘ) দ্বৈতবাদ
উত্তর: খ) জড়বাদ

২. চার্বাক দর্শন কোন ধরনের দর্শন?
ক) অধ্যাত্মবাদী
খ) ভাববাদী
গ) জড়বাদী
ঘ) ঈশ্বরবাদী
উত্তর: গ) জড়বাদী

৩. চার্বাকদের মতে জগতের মূল উপাদান কয়টি?
ক) দুটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) পাঁচটি
উত্তর: গ) চারটি

৪. চার্বাকদের স্বীকৃত ভূতচতুষ্টয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
ক) ক্ষিতি
খ) অপ
গ) আকাশ
ঘ) তেজ
উত্তর: গ) আকাশ

৫. চার্বাকদের মতে চেতনা কী?
ক) আত্মার ধর্ম
খ) ঈশ্বরের শক্তি
গ) জড়দেহের উৎপন্ন ধর্ম
ঘ) নিত্য সত্তা
উত্তর: গ) জড়দেহের উৎপন্ন ধর্ম

৬. চার্বাকরা চেতনার উৎপত্তি কোন উপমার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন?
ক) দুধ ও ঘি
খ) মদশক্তি
গ) আগুন ও ধোঁয়া
ঘ) মাটি ও জল
উত্তর: খ) মদশক্তি

৭. চার্বাকদের মতে দেহের অতিরিক্ত আত্মা—
ক) নিত্য
খ) অনিত্য
গ) অস্তিত্বহীন
ঘ) সর্বব্যাপী
উত্তর: গ) অস্তিত্বহীন

৮. চার্বাকদের আত্মতত্ত্বকে কী বলা হয়?
ক) জীবাত্মবাদ
খ) দেহাত্মবাদ
গ) পরমাত্মবাদ
ঘ) আত্মবাদ
উত্তর: খ) দেহাত্মবাদ

৯. চার্বাকদের মতে দেহের বিনাশের সঙ্গে কী বিনষ্ট হয়?
ক) ঈশ্বর
খ) অদৃষ্ট
গ) চেতনা
ঘ) কর্ম
উত্তর: গ) চেতনা

১০. চার্বাক দর্শন কোন ধারণাকে স্বীকার করে না?
ক) প্রত্যক্ষ জ্ঞান
খ) জড়পদার্থ
গ) পরলোক
ঘ) ইহজগৎ
উত্তর: গ) পরলোক

১১. চার্বাকদের মতে জগৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনটির প্রয়োজন নেই?
ক) জড়পদার্থ
খ) স্বভাব
গ) ঈশ্বর
ঘ) ভূতচতুষ্টয়
উত্তর: গ) ঈশ্বর

১২. চার্বাকদের জড়বাদের সঙ্গে কোন মতবাদ বিশেষভাবে সম্পর্কিত?
ক) স্বভাববাদ
খ) বিবর্তবাদ
গ) অদ্বৈতবাদ
ঘ) ঈশ্বরবাদ
উত্তর: ক) স্বভাববাদ

১৩. ‘স্বভাববাদ’-এর মূল বক্তব্য কী?
ক) ঈশ্বর সবকিছু সৃষ্টি করেন
খ) প্রত্যেক বস্তু নিজস্ব স্বভাব অনুযায়ী কার্য করে
গ) আত্মা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক
ঘ) কর্মফল সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর: খ) প্রত্যেক বস্তু নিজস্ব স্বভাব অনুযায়ী কার্য করে

১৪. চার্বাকদের মতে আগুনের স্বভাব কী?
ক) শীতলতা
খ) উষ্ণতা
গ) কঠোরতা
ঘ) তরলতা
উত্তর: খ) উষ্ণতা

১৫. চার্বাকদের মতে জলের স্বভাব কী?
ক) উষ্ণতা
খ) শীতলতা
গ) কঠোরতা
ঘ) গতি
উত্তর: খ) শীতলতা

১৬. চার্বাক দর্শনকে ‘লোকায়ত দর্শন’ বলা হয় কেন?
ক) এটি কেবল বেদকে অনুসরণ করে
খ) এটি লৌকিক ও ইহজাগতিক চিন্তাধারাকে গুরুত্ব দেয়
গ) এটি ঈশ্বরকে স্বীকার করে
ঘ) এটি আত্মাকে নিত্য বলে
উত্তর: খ) এটি লৌকিক ও ইহজাগতিক চিন্তাধারাকে গুরুত্ব দেয়

১৭. অধ্যাত্মবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ক) কেবল জড়ের অস্তিত্ব স্বীকার
খ) দেহের অতিরিক্ত নিত্য আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার
গ) ঈশ্বরকে অস্বীকার
ঘ) প্রত্যক্ষকে অস্বীকার
উত্তর: খ) দেহের অতিরিক্ত নিত্য আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার

১৮. চার্বাকদের মতে অদৃষ্টের ভূমিকা কী?
ক) জগৎ পরিচালনা করে
খ) কর্মফল প্রদান করে
গ) কোনো ভূমিকা নেই
ঘ) আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে
উত্তর: গ) কোনো ভূমিকা নেই

১৯. চার্বাক জড়বাদের প্রধান সমালোচনা কী?
ক) এটি প্রত্যক্ষকে গুরুত্ব দেয়
খ) এটি জড়পদার্থকে স্বীকার করে
গ) এটি চেতনা, জগতের শৃঙ্খলা ও উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না
ঘ) এটি ইহজীবনকে স্বীকার করে
উত্তর: গ) এটি চেতনা, জগতের শৃঙ্খলা ও উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না

২০. চার্বাক দর্শনের জড়বাদ মূলত কোন বিষয়কে অস্বীকার করে?
ক) দৃশ্যমান জগত
খ) জড়পদার্থ
গ) অতীন্দ্রিয় আত্মিক সত্তা
ঘ) প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা
উত্তর: গ) অতীন্দ্রিয় আত্মিক সত্তা

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক মতে কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ খণ্ডন 🔥 | 100 % পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন | Indian Philosophy

১. চার্বাক দর্শন মূলত কোন ধরনের দর্শন?
ক) ভাববাদী
খ) জড়বাদী
গ) দ্বৈতবাদী
ঘ) অদ্বৈতবাদী
উত্তর: খ) জড়বাদী

২. চার্বাকদের মতে জ্ঞানের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোনটি?
ক) অনুমান
খ) শব্দ
গ) উপমান
ঘ) প্রত্যক্ষ
উত্তর: ঘ) প্রত্যক্ষ

৩. কর্মবাদের মূল বক্তব্য কী?
ক) কর্মের কোনো ফল নেই
খ) কর্মের উপযুক্ত ফল অবশ্যই ভোগ করতে হয়
গ) শুধু জ্ঞানই ফল দেয়
ঘ) শুধু ইচ্ছাই ফল দেয়
উত্তর: খ) কর্মের উপযুক্ত ফল অবশ্যই ভোগ করতে হয়

৪. চার্বাকরা কর্মফলের কোন দিকটি প্রধানত অস্বীকার করেন?
ক) প্রত্যক্ষ ফল
খ) সামাজিক ফল
গ) অদৃশ্য বা অতীন্দ্রিয় ফল
ঘ) দৈহিক ফল
উত্তর: গ) অদৃশ্য বা অতীন্দ্রিয় ফল

৫. কর্মবাদের সঙ্গে কোন ধারণাটি বিশেষভাবে যুক্ত?
ক) অদৃষ্ট
খ) প্রত্যক্ষ
গ) ভূতচতুষ্টয়
ঘ) দেহাত্মবাদ
উত্তর: ক) অদৃষ্ট

৬. চার্বাকরা অদৃষ্টকে স্বীকার করেন না কেন?
ক) অদৃষ্ট অত্যন্ত ক্ষুদ্র
খ) অদৃষ্ট প্রত্যক্ষযোগ্য নয়
গ) অদৃষ্ট জড় পদার্থ
ঘ) অদৃষ্ট শুধুমাত্র বর্তমান জীবনে থাকে
উত্তর: খ) অদৃষ্ট প্রত্যক্ষযোগ্য নয়

৭. প্রচলিত কর্মবাদ অনুযায়ী সৎকর্মের ফলে কী উৎপন্ন হয়?
ক) অদ্বৈত
খ) পুণ্য
গ) মোক্ষ
ঘ) জ্ঞান
উত্তর: খ) পুণ্য

৮. চার্বাকরা পুণ্য ও পাপকে কী হিসেবে গ্রহণ করেন?
ক) প্রত্যক্ষ বাস্তবতা
খ) অদৃশ্য সত্তা হিসেবে স্বীকার করেন
গ) অপ্রমাণিত ধারণা হিসেবে অস্বীকার করেন
ঘ) আত্মার ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেন
উত্তর: গ) অপ্রমাণিত ধারণা হিসেবে অস্বীকার করেন

৯. পুনর্জন্মবাদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরে কী ঘটে?
ক) সবকিছুর সম্পূর্ণ অবসান
খ) আত্মা অন্য দেহে জন্মগ্রহণ করে
গ) দেহ অমর থাকে
ঘ) কর্মের সম্পূর্ণ বিনাশ হয়
উত্তর: খ) আত্মা অন্য দেহে জন্মগ্রহণ করে

১০. চার্বাকরা পুনর্জন্মবাদ অস্বীকার করার প্রধান কারণ কী?
ক) তাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী
খ) তাঁরা নিত্য আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না
গ) তাঁরা কর্মকে স্বীকার করেন
ঘ) তাঁরা পরলোককে স্বীকার করেন
উত্তর: খ) তাঁরা নিত্য আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না

১১. চার্বাকদের মতে দেহের অতিরিক্ত নিত্য আত্মা—
ক) আছে
খ) নেই
গ) আংশিক আছে
ঘ) কেবল মৃত্যুর পরে থাকে
উত্তর: খ) নেই

১২. চার্বাকদের দেহাত্মবাদ অনুযায়ী ব্যক্তির অস্তিত্বের মূল ভিত্তি কী?
ক) আত্মা
খ) ঈশ্বর
গ) দেহ
ঘ) কর্ম
উত্তর: গ) দেহ

১৩. চার্বাকদের মতে চেতনা কীভাবে উৎপন্ন হয়?
ক) আত্মা থেকে
খ) ঈশ্বরের দ্বারা
গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগ থেকে
ঘ) কর্মফল থেকে
উত্তর: গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগ থেকে

১৪. চার্বাকদের মতে দেহের বিনাশের সঙ্গে কী ঘটে?
ক) আত্মা অন্য দেহে যায়
খ) চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তির অস্তিত্বের অবসান ঘটে
গ) পুনর্জন্ম শুরু হয়
ঘ) অদৃষ্ট বৃদ্ধি পায়
উত্তর: খ) চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তির অস্তিত্বের অবসান ঘটে

১৫. পুনর্জন্মবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য কোন ধারণাটি বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়?
ক) নিত্য আত্মা
খ) ভূতচতুষ্টয়
গ) প্রত্যক্ষ
ঘ) জড়বাদ
উত্তর: ক) নিত্য আত্মা

১৬. চার্বাকদের মতে পূর্বজন্মের কর্ম বর্তমান জীবনে ফল দেয়—এই ধারণার কী অবস্থা?
ক) সম্পূর্ণ প্রমাণিত
খ) প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত
গ) প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে গ্রহণযোগ্য নয়
ঘ) চার্বাকরা সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করেন
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে গ্রহণযোগ্য নয়

১৭. কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদের মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে?
ক) কোনো সম্পর্ক নেই
খ) কর্মফলকে কেন্দ্র করে দুটির সম্পর্ক গড়ে ওঠে
গ) উভয়ই কেবল জড়বাদী মত
ঘ) পুনর্জন্ম কর্মবাদকে অস্বীকার করে
উত্তর: খ) কর্মফলকে কেন্দ্র করে দুটির সম্পর্ক গড়ে ওঠে

১৮. চার্বাক মতে কর্মফল ভোগের জন্য পরবর্তী জন্মের প্রয়োজন—এই ধারণা কেন অগ্রহণযোগ্য?
ক) আত্মা নিত্য নয় এবং অদৃশ্য কর্মফলের প্রমাণ নেই
খ) দেহ চিরস্থায়ী
গ) ঈশ্বর সর্বত্র নেই
ঘ) প্রত্যক্ষ সবসময় ভুল
উত্তর: ক) আত্মা নিত্য নয় এবং অদৃশ্য কর্মফলের প্রমাণ নেই

১৯. চার্বাক মতে কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ খণ্ডনের সঙ্গে কোন মতটি সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত?
ক) দেহাত্মবাদ
খ) অদ্বৈতবাদ
গ) ঈশ্বরবাদ
ঘ) আত্মবাদ
উত্তর: ক) দেহাত্মবাদ

২০. চার্বাক মতে কর্মবাদ ও পুনর্জন্মবাদ খণ্ডনের মূল ভিত্তি কী?
ক) শাস্ত্রের উপর বিশ্বাস
খ) অনুমানের উপর নির্ভরতা
গ) প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি
ঘ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক মতে মোক্ষ বা মুক্তি কী? 🔥 | চার্বাক দর্শনে মোক্ষ | Indian Philosophy 2026

১. চার্বাক দর্শনে মোক্ষের ধারণা সম্পর্কে সঠিক মত কোনটি?
ক) মোক্ষই জীবনের পরম লক্ষ্য
খ) জ্ঞান দ্বারা মোক্ষ লাভ হয়
গ) প্রচলিত অর্থে মোক্ষ স্বীকার করা হয় না
ঘ) ঈশ্বরের কৃপায় মোক্ষ লাভ হয়
উত্তর: গ) প্রচলিত অর্থে মোক্ষ স্বীকার করা হয় না

২. চার্বাকরা মোক্ষ স্বীকার করেন না কেন?
ক) তাঁরা কর্মকে স্বীকার করেন না
খ) তাঁরা নিত্য আত্মা স্বীকার করেন না
গ) তাঁরা জ্ঞানকে স্বীকার করেন না
ঘ) তাঁরা দেহকে স্বীকার করেন না
উত্তর: খ) তাঁরা নিত্য আত্মা স্বীকার করেন না

৩. চার্বাক মতে দেহের অতিরিক্ত আত্মার প্রকৃতি কী?
ক) নিত্য
খ) অবিনশ্বর
গ) স্বাধীন
ঘ) কোনো পৃথক আত্মা নেই
উত্তর: ঘ) কোনো পৃথক আত্মা নেই

৪. চার্বাকদের মতে চেতনা কীসের ফল?
ক) আত্মার
খ) ঈশ্বরের
গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগের
ঘ) কর্মের
উত্তর: গ) জড় উপাদানের বিশেষ সংযোগের

৫. চার্বাক দর্শনের কোন মতটি মোক্ষ অস্বীকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত?
ক) দেহাত্মবাদ
খ) অদ্বৈতবাদ
গ) দ্বৈতবাদ
ঘ) ঈশ্বরবাদ
উত্তর: ক) দেহাত্মবাদ

৬. চার্বাকরা কোন বিষয়টি স্বীকার করেন না?
ক) প্রত্যক্ষ জ্ঞান
খ) ইহজগৎ
গ) পুনর্জন্ম
ঘ) দেহ
উত্তর: গ) পুনর্জন্ম

৭. ভারতীয় দর্শনে সাধারণত মোক্ষ বলতে কী বোঝায়?
ক) ইহজাগতিক সম্পদ লাভ
খ) জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি
গ) জ্ঞান অর্জন
ঘ) কর্ম সম্পাদন
উত্তর: খ) জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি

৮. চার্বাকদের মতে মৃত্যুর পরে কী ঘটে?
ক) আত্মা অন্য দেহে জন্ম নেয়
খ) আত্মা স্বর্গে যায়
গ) আত্মা মোক্ষ লাভ করে
ঘ) দেহের বিনাশের সঙ্গে ব্যক্তির চেতনাসম্পন্ন অস্তিত্বের অবসান ঘটে
উত্তর: ঘ) দেহের বিনাশের সঙ্গে ব্যক্তির চেতনাসম্পন্ন অস্তিত্বের অবসান ঘটে

৯. চার্বাক দর্শনে পুনর্জন্মের ধারণা অস্বীকারের প্রধান কারণ কী?
ক) ঈশ্বরের অনুপস্থিতি
খ) নিত্য আত্মার অস্বীকৃতি
গ) দেহের অস্তিত্ব
ঘ) ইহজীবনের গুরুত্ব
উত্তর: খ) নিত্য আত্মার অস্বীকৃতি

১০. চার্বাকরা কর্মফলের কোন দিকটি অস্বীকার করেন?
ক) প্রত্যক্ষ ফল
খ) অদৃশ্য কর্মফল
গ) বর্তমান জীবনের ফল
ঘ) স্বাভাবিক ফল
উত্তর: খ) অদৃশ্য কর্মফল

১১. চার্বাকদের মতে ‘অদৃষ্ট’ কী?
ক) প্রত্যক্ষ বস্তু
খ) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জ্ঞান
গ) অদৃশ্য কর্মশক্তি
ঘ) জড় উপাদান
উত্তর: গ) অদৃশ্য কর্মশক্তি

১২. চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বে কোন প্রমাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়?
ক) শব্দ
খ) অনুমান
গ) উপমান
ঘ) প্রত্যক্ষ
উত্তর: ঘ) প্রত্যক্ষ

১৩. চার্বাকদের মতে পারলৌকিক মোক্ষ গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ—
ক) তা প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়
খ) তা খুব কঠিন
গ) তা সুখের বিরোধী
ঘ) তা দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত
উত্তর: ক) তা প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণিত নয়

১৪. চার্বাক দর্শনে মোক্ষের পরিবর্তে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়?
ক) পরলোকের সুখ
খ) বর্তমান ইহজীবন
গ) আত্মার অমরত্ব
ঘ) কর্মফল
উত্তর: খ) বর্তমান ইহজীবন

১৫. কোন দর্শনে পুরুষ-প্রকৃতির বিবেকজ্ঞান মোক্ষের কারণ?
ক) চার্বাক
খ) সাংখ্য
গ) ন্যায়
ঘ) বৌদ্ধ
উত্তর: খ) সাংখ্য

১৬. যোগ দর্শনে মুক্তির চূড়ান্ত অবস্থাকে কী বলা হয়?
ক) অপবর্গ
খ) নির্বাণ
গ) কৈবল্য
ঘ) ব্রহ্মসায়ুজ্য
উত্তর: গ) কৈবল্য

১৭. ন্যায় দর্শনে মুক্তির নাম কী?
ক) কৈবল্য
খ) অপবর্গ
গ) নির্বাণ
ঘ) মোক্ষ
উত্তর: খ) অপবর্গ

১৮. বেদান্ত দর্শনে মোক্ষের সঙ্গে কোন বিষয়টি বিশেষভাবে সম্পর্কিত?
ক) ব্রহ্মজ্ঞান
খ) ইন্দ্রিয়সুখ
গ) দেহের বৃদ্ধি
ঘ) কর্মের সঞ্চয়
উত্তর: ক) ব্রহ্মজ্ঞান

১৯. চার্বাক মতে মোক্ষের ধারণা মূলত কীভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়?
ক) আত্মা, পুনর্জন্ম ও পরলোক অস্বীকারের মাধ্যমে
খ) প্রত্যক্ষ জ্ঞান অস্বীকারের মাধ্যমে
গ) জড় জগত অস্বীকারের মাধ্যমে
ঘ) দেহ অস্বীকারের মাধ্যমে
উত্তর: ক) আত্মা, পুনর্জন্ম ও পরলোক অস্বীকারের মাধ্যমে

২০. চার্বাক মতে মোক্ষ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সবচেয়ে সঠিক?
ক) জ্ঞান লাভ করলে আত্মা মোক্ষ লাভ করে
খ) ঈশ্বরের কৃপায় মোক্ষ লাভ হয়
গ) যোগসাধনার মাধ্যমে মোক্ষ লাভ হয়
ঘ) নিত্য আত্মা না থাকায় প্রচলিত মোক্ষের ধারণাই অগ্রহণযোগ্য
উত্তর: ঘ) নিত্য আত্মা না থাকায় প্রচলিত মোক্ষের ধারণাই অগ্রহণযোগ্য

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাকদের নীতিতত্ত্ব কী? 🔥 | চার্বাক নীতিতত্ত্বের সম্পূর্ণ আলোচনা | Indian Philosophy 2026

১. যে মতবাদ অনুযায়ী জগতের মূলতত্ত্ব জড় এবং জড় থেকেই চৈতন্যের উৎপত্তি ঘটে, তাকে কী বলে?
ক) ভাববাদ
খ) জড়বাদ
গ) দ্বৈতবাদ
ঘ) অদ্বৈতবাদ
উত্তর: খ) জড়বাদ

২. ভারতীয় দর্শনে কোন সম্প্রদায় জড়বাদী হিসেবে পরিচিত?
ক) বেদান্ত
খ) সাংখ্য
গ) চার্বাক
ঘ) যোগ
উত্তর: গ) চার্বাক

৩. চার্বাক মতে জগতের মূল উপাদান কয়টি?
ক) দুটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) পাঁচটি
উত্তর: গ) চারটি

৪. চার্বাকদের স্বীকৃত চারটি জড় ভূত হলো—
ক) ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুত
খ) ক্ষিতি, অপ, আকাশ, মরুত
গ) অপ, তেজ, আকাশ, কাল
ঘ) ক্ষিতি, তেজ, আকাশ, দিক
উত্তর: ক) ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুত

৫. চার্বাক মতে চৈতন্য কীভাবে উৎপন্ন হয়?
ক) আত্মা থেকে
খ) ঈশ্বরের দ্বারা
গ) চারটি ভূতের বিশেষ সংমিশ্রণ থেকে
ঘ) কর্মফল থেকে
উত্তর: গ) চারটি ভূতের বিশেষ সংমিশ্রণ থেকে

৬. চার্বাক মতে চৈতন্য কী?
ক) নিত্য আত্মার ধর্ম
খ) ঈশ্বরের শক্তি
গ) জড় উপাদানের সংমিশ্রণে উৎপন্ন নতুন গুণ
ঘ) কর্মের ফল
উত্তর: গ) জড় উপাদানের সংমিশ্রণে উৎপন্ন নতুন গুণ

৭. চার্বাকদের চৈতন্য-উৎপত্তির মতকে কী বলা হয়?
ক) আত্মবাদ
খ) ভূতচৈতন্যবাদ
গ) ব্রহ্মবাদ
ঘ) ঈশ্বরবাদ
উত্তর: খ) ভূতচৈতন্যবাদ

৮. চার্বাকরা কোনটি স্বীকার করেন না?
ক) দেহ
খ) চৈতন্য
গ) দেহাতিরিক্ত আত্মা
ঘ) ইন্দ্রিয়
উত্তর: গ) দেহাতিরিক্ত আত্মা

৯. চার্বাকদের নৈতিক মতবাদ কোন নামে পরিচিত?
ক) পরার্থবাদ
খ) আত্মসুখবাদ
গ) কর্তব্যবাদ
ঘ) পূর্ণতাবাদ
উত্তর: খ) আত্মসুখবাদ

১০. চার্বাক মতে মানুষের প্রধান পুরুষার্থ কোনটি?
ক) ধর্ম
খ) মোক্ষ
গ) কাম
ঘ) তপস্যা
উত্তর: গ) কাম

১১. চার্বাক মতে কাম কী?
ক) ধর্মীয় কর্তব্য
খ) দৈহিক বা ইন্দ্রিয়সুখ
গ) আত্মজ্ঞান
ঘ) মোক্ষলাভের উপায়
উত্তর: খ) দৈহিক বা ইন্দ্রিয়সুখ

১২. চার্বাক মতে অর্থের গুরুত্ব কী?
ক) অর্থই পরম পুরুষার্থ
খ) অর্থ মোক্ষের উপায়
গ) অর্থ সুখলাভের সহায়ক
ঘ) অর্থ সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়
উত্তর: গ) অর্থ সুখলাভের সহায়ক

১৩. চার্বাকরা কোন দুটি বিষয়কে পুরুষার্থ হিসেবে গ্রহণ করেন?
ক) ধর্ম ও মোক্ষ
খ) অর্থ ও কাম
গ) ধর্ম ও অর্থ
ঘ) কাম ও মোক্ষ
উত্তর: খ) অর্থ ও কাম

১৪. চার্বাক মতে কোনটি মুখ্য পুরুষার্থ?
ক) অর্থ
খ) ধর্ম
গ) কাম
ঘ) মোক্ষ
উত্তর: গ) কাম

১৫. চার্বাকদের বিখ্যাত উক্তি “ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ”-এর মূল বক্তব্য কী?
ক) ঋণ করা উচিত নয়
খ) ত্যাগই জীবনের আদর্শ
গ) যতদিন বাঁচা যায় সুখে বাঁচতে হবে
ঘ) যজ্ঞ করা উচিত
উত্তর: গ) যতদিন বাঁচা যায় সুখে বাঁচতে হবে

১৬. “ভস্মীভূতস্য দেহস্য পুনরাগমনং কুতঃ”—এই উক্তিটির মাধ্যমে কী অস্বীকার করা হয়েছে?
ক) জড়বাদ
খ) চৈতন্য
গ) পুনর্জন্ম
ঘ) ইন্দ্রিয়সুখ
উত্তর: গ) পুনর্জন্ম

১৭. চার্বাকরা কেন পরজীবনের জন্য পুণ্যসঞ্চয়ের বিরোধিতা করেন?
ক) তাঁরা দেহকে অস্বীকার করেন
খ) তাঁরা পরলোক ও কর্মফল স্বীকার করেন না
গ) তাঁরা সুখকে অস্বীকার করেন
ঘ) তাঁরা অর্থকে অস্বীকার করেন
উত্তর: খ) তাঁরা পরলোক ও কর্মফল স্বীকার করেন না

১৮. চার্বাকদের মতে যাগ-যজ্ঞের মাধ্যমে পুণ্যসঞ্চয় সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
ক) এটি মোক্ষের নিশ্চিত উপায়
খ) এটি পরজন্মের সুখ নিশ্চিত করে
গ) এটি অপ্রমাণিত পরলোকের ধারণার উপর নির্ভরশীল
ঘ) এটি আত্মজ্ঞান লাভ করায়
উত্তর: গ) এটি অপ্রমাণিত পরলোকের ধারণার উপর নির্ভরশীল

১৯. চার্বাকদের স্থূল আত্মসুখবাদের প্রধান সমালোচনা কী?
ক) এটি মানুষকে জ্ঞানী করে তোলে
খ) এটি মানুষকে পশুবৎ ও স্বার্থপর করে তুলতে পারে
গ) এটি ধর্মকে শক্তিশালী করে
ঘ) এটি ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে
উত্তর: খ) এটি মানুষকে পশুবৎ ও স্বার্থপর করে তুলতে পারে

২০. পরবর্তীকালের সুশিক্ষিত চার্বাকগণ কোন ধরনের সুখকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে?
ক) কেবল ইন্দ্রিয়সুখ
খ) সংস্কৃত বা পরিশীলিত সুখ
গ) পারলৌকিক সুখ
ঘ) আত্মিক সুখ
উত্তর: খ) সংস্কৃত বা পরিশীলিত সুখ

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *