সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি | সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য , ব্যাখ্যা ও 5 টি যুক্তি
সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে সাংখ্য দর্শনের পুরুষ ও প্রকৃতি তত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। সাংখ্য দর্শনের জ্ঞানতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং মুক্তিতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে পুরুষ (Purusha) ও প্রকৃতি (Prakriti) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, পুরুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক এবং বিশ্বসৃষ্টিতে প্রকৃতির ভূমিকা বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়। অথচ XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম এবং NET, SET, PSC, School Service, College Service সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই সাংখ্য দর্শনের পুরুষ ও প্রকৃতি তত্ত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা একজন দর্শনের শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংখ্য দর্শনের মতে, সমগ্র বিশ্বজগতের ব্যাখ্যার জন্য দুটি চিরন্তন তত্ত্ব স্বীকার করা হয়—পুরুষ ও প্রকৃতি। পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ, নিষ্ক্রিয়, অপরিবর্তনীয় এবং সাক্ষীস্বরূপ সত্তা। অন্যদিকে প্রকৃতি হলো জড়, সক্রিয় এবং সমস্ত জাগতিক পরিবর্তনের মূল কারণ। সাংখ্য দর্শনের দ্বৈতবাদ এই পুরুষ ও প্রকৃতির স্বতন্ত্র অস্তিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পুরুষের উপস্থিতির কারণে প্রকৃতি সক্রিয় হয়ে বিশ্বসৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করে।
সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি বলতে সেই মূল, অব্যক্ত ও আদিম কারণকে বোঝায়, যার মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণ সাম্যাবস্থায় অবস্থান করে। প্রকৃতিকে প্রধান (Pradhana), অব্যক্ত (Avyakta) এবং মূলপ্রকৃতি নামেও অভিহিত করা হয়। এটি জগতের উপাদান কারণ। প্রকৃতি নিজে জড় হলেও এর মধ্যেই সমগ্র বিশ্বজগতের সম্ভাবনা নিহিত থাকে। যখন প্রকৃতির গুণত্রয়ের সাম্যাবস্থা নষ্ট হয়, তখন প্রকৃতির বিকাশ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে মহৎ (বুদ্ধি), অহংকার, মন, ইন্দ্রিয়, তন্মাত্র এবং পঞ্চমহাভূতের সৃষ্টি হয়।
এই প্রবন্ধে সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি তত্ত্ব সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, প্রকৃতির স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, গুণত্রয়ের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক, বিশ্বসৃষ্টিতে প্রকৃতির ভূমিকা এবং পুরুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও পুরুষ ও প্রকৃতির পার্থক্য, সাংখ্য দর্শনের দ্বৈতবাদের গুরুত্ব এবং মুক্তিলাভের ক্ষেত্রে পুরুষ ও প্রকৃতির জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সাংখ্য দর্শন এর মতে, প্রকৃতি হলো ত্রিগুণাত্মিকা অর্থাৎ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণের সমন্বয়ে গঠিত। প্রকৃতির মধ্যে এই তিনটি গুণ যখন সাম্য অবস্থায় থাকে, তখন কোনো সৃষ্টি বা পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু কোনো কারণে এই সাম্য নষ্ট হলে গুণগুলির পারস্পরিক ক্রিয়া শুরু হয় এবং প্রকৃতির বিবর্তন বা পরিণাম ঘটে। এই পরিণামের মাধ্যমেই জগতের বিভিন্ন পদার্থ ও জীবের উৎপত্তি হয়।
সাংখ্য মতে প্রকৃতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, প্রকৃতি অনাদি ও নিত্য। এর কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই। দ্বিতীয়ত, প্রকৃতি জড়স্বরূপ, অর্থাৎ এর নিজস্ব চেতনা নেই। তৃতীয়ত, প্রকৃতি ত্রিগুণাত্মিকা, কারণ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এর মৌলিক উপাদান। চতুর্থত, প্রকৃতি হলো জগতের উপাদান কারণ, কারণ সমস্ত জাগতিক বস্তু প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন হয়। পঞ্চমত, প্রকৃতি পরিবর্তনশীল, কারণ এর মধ্যেই সমস্ত বিকাশ ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিদ্যমান।
সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ নিজে কোনো কর্ম করে না, কিন্তু তার সান্নিধ্যে প্রকৃতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। যেমন—চুম্বকের উপস্থিতিতে লোহার মধ্যে গতি সৃষ্টি হয়, তেমনই পুরুষের উপস্থিতিতে প্রকৃতির বিকাশ ঘটে। পুরুষ প্রকৃতির পরিবর্তনের সাক্ষী মাত্র। প্রকৃতি জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও পরিবর্তনের কারণ হলেও পুরুষ সেই সমস্ত পরিবর্তনের দ্রষ্টা।
সাংখ্য দর্শনের মতে, মানুষের বন্ধনের মূল কারণ হলো পুরুষ ও প্রকৃতির মধ্যে ভেদজ্ঞান না থাকা। মানুষ যখন নিজেকে প্রকৃতির বিকার—শরীর, মন, বুদ্ধি ও অহংকারের সঙ্গে এক করে দেখে, তখন সে সুখ-দুঃখের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু যখন প্রকৃতি ও পুরুষের পার্থক্য উপলব্ধি করে, তখন তার মধ্যে প্রকৃত জ্ঞান জন্মায় এবং মুক্তিলাভ সম্ভব হয়।
এছাড়াও এই আলোচনায় সাংখ্য দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্বে প্রকৃতির গুরুত্ব, গুণত্রয় তত্ত্বের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক এবং ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে পুরুষ ও প্রকৃতি তত্ত্বের দার্শনিক তাৎপর্য আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে সাংখ্য দর্শনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়।
আপনি যদি সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি, সাংখ্য মতে প্রকৃতি, Prakriti in Sankhya Philosophy, Purusha and Prakriti, সাংখ্য দর্শনের প্রকৃতিতত্ত্ব, সাংখ্য দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্ব, Sankhya Philosophy Notes, Indian Philosophy, B.A. Philosophy Notes অথবা পরীক্ষাভিত্তিক সহজ ব্যাখ্যা খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।
সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও ব্যাখ্যা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে সাংখ্য দর্শনের প্রকৃতিতত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। সাংখ্য দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্ব, পুরুষ-প্রকৃতি তত্ত্ব এবং বিশ্বজগতের উৎপত্তি সঠিকভাবে বুঝতে হলে প্রকৃতির সংজ্ঞা, স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও ভূমিকা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, প্রকৃতির স্বরূপ, গুণত্রয়ের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক এবং বিশ্বসৃষ্টিতে প্রকৃতির ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। অথচ XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই সাংখ্য দর্শনের প্রকৃতিতত্ত্ব সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি (Prakriti) বলতে বোঝায় সেই আদি, অনাদি, অব্যক্ত এবং মূল উপাদানকে, যা সমগ্র জগতের উৎপত্তির কারণ। সাংখ্য দার্শনিকদের মতে, প্রকৃতিই হলো জগতের উপাদান কারণ। অর্থাৎ, বিশ্বজগতের সমস্ত জড় পদার্থ, জীবদেহ এবং প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন হয়েছে। সাংখ্য মতে প্রকৃতি স্বয়ং জড় হলেও এর মধ্যে সৃষ্টির সমস্ত সম্ভাবনা নিহিত থাকে।
সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতিকে প্রধান (Pradhana), অব্যক্ত (Avyakta) এবং মূলপ্রকৃতি নামেও অভিহিত করা হয়। প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণ সাম্যাবস্থায় অবস্থান করে। এই তিনটি গুণের সাম্যাবস্থাই হলো প্রকৃতির স্বাভাবিক অবস্থা। কিন্তু যখন কোনো কারণে এই সাম্যাবস্থা বিনষ্ট হয়, তখন প্রকৃতির পরিবর্তন বা অভিব্যক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়।
সাংখ্য দর্শনের মতে, প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়ই অনাদি ও নিত্য। তবে এদের স্বভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ, নিষ্ক্রিয় ও সাক্ষী, আর প্রকৃতি হলো জড়, সক্রিয় এবং পরিবর্তনশীল। পুরুষের সান্নিধ্যে প্রকৃতি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তার বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমগ্র জগতের প্রকাশ ঘটে।
এই প্রবন্ধে সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, স্বরূপ এবং দার্শনিক গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে প্রকৃতির গুণত্রয়াত্মক স্বভাব, বিশ্বসৃষ্টিতে প্রকৃতির ভূমিকা, পুরুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক এবং সাংখ্য দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্বে প্রকৃতির অবস্থান সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সাংখ্য মতে প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—প্রকৃতি অনাদি ও নিত্য। এর কোনো সৃষ্টি নেই এবং কোনো ধ্বংসও নেই। এটি চিরকাল বিদ্যমান। দ্বিতীয়ত, প্রকৃতি অব্যক্ত। কারণ সৃষ্টির পূর্বে প্রকৃতি কোনো প্রকাশিত রূপে থাকে না; বরং সম্ভাবনা হিসেবে অবস্থান করে। তৃতীয়ত, প্রকৃতি ত্রিগুণাত্মিকা। অর্থাৎ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণ প্রকৃতির মৌলিক উপাদান।
চতুর্থত, প্রকৃতি হলো জগতের উপাদান কারণ। সমস্ত জাগতিক বস্তু প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃতিতেই লয়প্রাপ্ত হয়। পঞ্চমত, প্রকৃতি পরিবর্তনশীল। প্রকৃতির মধ্যেই পরিবর্তনের শক্তি বিদ্যমান থাকার কারণে বিশ্বজগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও পরিবর্তন সম্ভব হয়।

সাংখ্য দর্শনের মতে, প্রকৃতির বিবর্তন একটি নির্দিষ্ট ধারায় সংঘটিত হয়। গুণত্রয়ের সাম্যাবস্থা নষ্ট হলে প্রথমে প্রকৃতি থেকে মহৎ বা বুদ্ধি উৎপন্ন হয়। এরপর মহৎ থেকে অহংকার, অহংকার থেকে মন, ইন্দ্রিয় এবং তন্মাত্র, এবং তন্মাত্র থেকে পঞ্চমহাভূত সৃষ্টি হয়। এই ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমেই সমগ্র দৃশ্যমান জগতের সৃষ্টি হয়।
প্রকৃতির সঙ্গে গুণত্রয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণ কখনও প্রকৃতি থেকে পৃথক হয় না। সত্ত্ব প্রকাশ, জ্ঞান ও সুখের কারণ; রজঃ গতি, কর্ম ও পরিবর্তনের কারণ; তমঃ জড়তা, অজ্ঞান ও স্থিতির কারণ। এই তিনটি গুণের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলেই প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ প্রকাশিত হয়।
সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রকৃতি নিজে জড় হলেও এর মধ্যে একটি উদ্দেশ্যমূলক বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। পুরুষের অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যেই প্রকৃতি বিভিন্ন রূপে নিজেকে প্রকাশ করে। পুরুষ যখন প্রকৃতি ও তার বিকারসমূহ থেকে নিজেকে পৃথক বলে উপলব্ধি করে, তখন তার মধ্যে প্রকৃত জ্ঞান জন্মায় এবং মুক্তি লাভ সম্ভব হয়।
অতএব বলা যায়, সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি হলো সমগ্র বিশ্বজগতের মূল ভিত্তি। প্রকৃতি অনাদি, নিত্য, অব্যক্ত এবং ত্রিগুণাত্মক। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃতির বিকাশ ঘটে এবং বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়। সাংখ্য দর্শনের পুরুষ-প্রকৃতি তত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং মুক্তিতত্ত্ব বুঝতে হলে প্রকৃতির ধারণা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।
তাই XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য “সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও ব্যাখ্যা” বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
সাংখ্য দর্শন মতে প্রকৃতি কী? এর স্বরূপ আলোচনা কর
উত্তর : সাংখ্য দর্শনে প্রধান দুটি তত্ত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে— পুরুষ ও প্রকৃতি। এর মধ্যে প্রকৃতি হল একটি অন্যতম তত্ত্ব। সাংখ্য দর্শনের মতে, প্রকৃতি হলো জগতের মূল কারণ এবং সমস্ত জাগতিক বস্তুর উৎপত্তির উৎস।
সাংখ্য দর্শনে লক্ষণ প্রসঙ্গে ‘ঈশ্বরকৃষ্ণ’ তাঁর ‘সাংখ্যকারিকা’ নামক গ্রন্থে ষোড়শ কারিকাতে বলেছেন—
কারণমস্ত্যব্যক্তং প্রবর্ততে ত্রিগুণতঃ সমুদায়াচ্চ।
পরিণামতঃ সলিলবৎ প্রতিপ্রতিগুণেরাশ্রয়বিশেষাৎ।।
অর্থাৎ প্রকৃতি সমুদিতভাবে ত্রিগুণ স্বভাবে কার্যকারে পরিণত হয়। একই জল যেমন ভিন্ন ভিন্ন আধারে নানা আকার ধারণ করে, সেরূপ এক একটি গুণের প্রাধান্য অনুযায়ী ও সহকারী ভেদের কারণে একই প্রকৃতি নানা পরিণাম প্রাপ্ত হয়।
সাংখ্য দর্শনের মতে, প্রকৃতি হলো অনাদি, অব্যক্ত এবং জড়স্বরূপ একটি মূল তত্ত্ব। এর মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণ সাম্যাবস্থায় অবস্থান করে। এই সাম্যাবস্থা বজায় থাকা অবস্থায় প্রকৃতি কোনো প্রকাশিত রূপ ধারণ করে না। কিন্তু যখন এই তিন গুণের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন প্রকৃতির বিকাশ বা পরিণাম শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়।
প্রকৃতির অস্তিত্ব সাধক যুক্তিগুলিকে ঈশ্বরকৃষ্ণ তাঁর পঞ্চদশ কারিকায় প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন—
ভেদানাং পরিমাণাৎ সমন্বয়াৎ শক্তিতঃ প্রবৃত্তেশ্চ।
কারণকার্যবিভাগাদবিভাগাদ্বৈশ্বরূপ্যস্য।।
অর্থাৎ, ভেদানাং পরিমাণাৎ, সমন্বয়াৎ, শক্তিতঃ প্রবৃত্তেশ্চ, কারণকার্যবিভাগাৎ এবং অবিভাগাদ্বৈশ্বরূপস্য—এই যুক্তিগুলির মাধ্যমে প্রকৃতির অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতির অস্তিত্ব স্বীকার করার পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই যুক্তিগুলির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে দৃশ্যমান জগতের পিছনে অবশ্যই একটি অদৃশ্য ও মূল কারণ থাকা প্রয়োজন, আর সেই মূল কারণই হলো প্রকৃতি।
প্রথম যুক্তি (ভেদানাং পরিমাণাৎ) :- সাংখ্য মতে কার্যবস্তু কারণে বিদ্যমান থাকে, অথচ কারণ থেকে আবির্ভূত হয়ে ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়। কারণ কার্যের তুলনায় সূক্ষ্ম ও ব্যাপক। মহৎ থেকে শুরু করে সকল কার্যবস্তু কম বেশি ব্যক্ত ও স্থূল। সুতরাং মহদাদি কার্যবস্তুর কারণ রূপে সূক্ষ্মতম অব্যক্ত প্রকৃতিকে স্বীকার করতে হয়।
অর্থাৎ, জগতের বিভিন্ন স্থূল বস্তু কোনো না কোনো সূক্ষ্ম কারণের উপর নির্ভরশীল। যেহেতু সমস্ত প্রকাশিত বস্তুর একটি মূল কারণ থাকা প্রয়োজন, তাই সেই মূল কারণ হিসেবে প্রকৃতিকে স্বীকার করতে হয়।
দ্বিতীয় যুক্তি (সমন্বয়াৎ) :- যদিও জগত বৈচিত্র্যপূর্ণ তবুও জগতের বিচিত্র বস্তুর মধ্যে সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। বস্তু মাত্রই আমাদের মধ্যে সুখ, দুঃখ অথবা বিষাদের অনুভূতি উৎপন্ন করে। বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ—এই তিন গুণের সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।
জগতের প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই যদি এই তিন গুণের সমন্বয় ঘটে তাহলে আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই তিন গুণের কোনো একটিমাত্র বিশেষ কারণ থেকে এই জগত সৃষ্টি হয়েছে। জগতের এই বিশেষ কারণই হলো প্রকৃতি।
সাংখ্য মতে, জগতের প্রতিটি বস্তুতে সুখ, দুঃখ ও মোহের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এই অভিজ্ঞতাগুলি সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়। তাই এই তিন গুণের মূল আধার হিসেবে প্রকৃতিকে স্বীকার করতে হয়।
তৃতীয় যুক্তি (শক্তিতঃ প্রবৃত্তেশ্চ) :- সৎকার্যবাদী সাংখ্যমতে উৎপন্ন বস্তু মাত্রই তার উপাদান কারণে অব্যক্ত অবস্থায় থাকে। সুতরাং এই বৈচিত্র্যময় জগৎ সৃষ্টির পূর্বে নিশ্চয়ই কোনো অব্যক্ত কারণে গুপ্ত অবস্থায় ছিল। যে অব্যক্ত শক্তির এই বৈচিত্র্যময় জগতে অধিষ্ঠান হওয়ার যোগ্যতা আছে তাই প্রকৃতি।
সাংখ্য দর্শনের সৎকার্যবাদ অনুসারে, কার্য তার কারণে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকে। যেমন মাটির মধ্যে ঘট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তেমনি সমগ্র জগতের সম্ভাবনা সৃষ্টির পূর্বে প্রকৃতির মধ্যে অব্যক্ত অবস্থায় ছিল।
চতুর্থ যুক্তি (কারণ-কার্য বিভাগাৎ) :- সাংখ্য মতে কারণ ও কার্যের মধ্যে একই সঙ্গে ভেদ ও অভেদ বর্তমান। স্বর্ণ নির্মিত অলংকার যেমন স্বর্ণ থেকে অভিন্ন, আবার অলংকার হিসেবে তা উপাদান স্বর্ণ থেকে ভিন্ন পরিণাম প্রাপ্ত হয়।
জগতের সকল বিষয়ের সঙ্গে যে উপাদান কারণ একই সঙ্গে ভিন্ন ও অভিন্ন রূপে বর্তমান তাই প্রকৃতি।
অর্থাৎ, কার্য কারণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা নয়, আবার সম্পূর্ণ অভিন্নও নয়। জগত প্রকৃতির বিকার হলেও প্রকৃতি থেকে তার স্বতন্ত্র প্রকাশ রয়েছে।
পঞ্চম যুক্তি (অবিভাগাদ্বৈশ্বরূপস্য) :- বিশ্বরূপ যে অধিষ্ঠানে প্রলয়কালে বিলীন হয় এবং যে অধিষ্ঠান থেকে বিশ্বরূপ সৃষ্টি হয়, সেই অধিষ্ঠানই হলো প্রকৃতি। এক কথায় জগতের আদি কারণ স্বরূপ প্রকৃতি থেকে সব বিভাগের উৎপত্তি এবং প্রলয়কালে প্রকৃতিতেই সব বিভাগের অবসান বা নিষ্পত্তি।
সাংখ্য মতে, সৃষ্টি ও প্রলয়ের মূল কেন্দ্র হলো প্রকৃতি। সৃষ্টি অবস্থায় প্রকৃতি থেকে জগত প্রকাশিত হয় এবং প্রলয়ের সময় সমস্ত প্রকাশিত বস্তু আবার প্রকৃতির মধ্যেই লীন হয়ে যায়।

সাংখ্য মতে প্রকৃতির স্বরূপ
সাংখ্য মতে প্রকৃতির কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—
১. প্রকৃতি অনাদি ও নিত্য :
প্রকৃতির কোনো সৃষ্টি নেই এবং কোনো বিনাশও নেই। এটি চিরন্তন।
২. প্রকৃতি অব্যক্ত :
সৃষ্টির পূর্বে প্রকৃতি প্রকাশিত অবস্থায় থাকে না, বরং সম্ভাবনার আকারে থাকে।
৩. প্রকৃতি ত্রিগুণাত্মক :
প্রকৃতি সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের সমন্বয়ে গঠিত।
৪. প্রকৃতি জগতের উপাদান কারণ :
সমস্ত জাগতিক বস্তু প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন হয়।
৫. প্রকৃতি জড়স্বরূপ :
প্রকৃতির নিজস্ব চেতনা নেই। পুরুষের সংস্পর্শে প্রকৃতি সক্রিয় হয়।
প্রকৃতি ও পুরুষের সম্পর্ক : সাংখ্য দর্শনের মতে, পুরুষ ও প্রকৃতি উভয়ই অনাদি ও নিত্য। কিন্তু তাদের স্বভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ এবং প্রকৃতি হলো জড়স্বরূপ।
পুরুষ নিজে কোনো কাজ করে না, কিন্তু পুরুষের উপস্থিতির কারণে প্রকৃতির বিকাশ ঘটে। পুরুষের অভিজ্ঞতা লাভ এবং মুক্তির উদ্দেশ্যেই প্রকৃতি বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি হলো সমগ্র বিশ্বজগতের মূল কারণ। প্রকৃতি অনাদি, নিত্য, অব্যক্ত এবং ত্রিগুণাত্মক। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃতির বিকাশ ঘটে এবং বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়।
সাংখ্য দর্শনের পুরুষ-প্রকৃতি তত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং মুক্তিতত্ত্ব বোঝার জন্য প্রকৃতির ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতি ছাড়া সাংখ্য দর্শনের বিশ্বব্যাখ্যা সম্পূর্ণ হয় না। তাই ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে প্রকৃতিতত্ত্ব একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি | সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও ব্যাখ্যা
১. সাংখ্য দর্শনে প্রধান দুটি তত্ত্ব কী?
ক) আত্মা ও ঈশ্বর
খ) পুরুষ ও প্রকৃতি
গ) ব্রহ্ম ও মায়া
ঘ) জীব ও জগৎ
উত্তর: খ) পুরুষ ও প্রকৃতি
২. সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতিকে কী বলা হয়?
ক) চৈতন্যস্বরূপ
খ) জ্ঞানের উৎস
গ) জগতের মূল কারণ
ঘ) নৈতিক শক্তি
উত্তর: গ) জগতের মূল কারণ
৩. ঈশ্বরকৃষ্ণ কোন গ্রন্থ রচনা করেন?
ক) ন্যায়সূত্র
খ) সাংখ্যকারিকা
গ) ব্রহ্মসূত্র
ঘ) যোগসূত্র
উত্তর: খ) সাংখ্যকারিকা
৪. সাংখ্যকারিকার রচয়িতা কে?
ক) কপিল
খ) পতঞ্জলি
গ) ঈশ্বরকৃষ্ণ
ঘ) গৌতম
উত্তর: গ) ঈশ্বরকৃষ্ণ
৫. সাংখ্য মতে প্রকৃতির মধ্যে কয়টি গুণ বিদ্যমান?
ক) দুইটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) পাঁচটি
উত্তর: খ) তিনটি
৬. সাংখ্য মতে প্রকৃতির তিনটি গুণ হলো—
ক) জ্ঞান, কর্ম, ভক্তি
খ) সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ
গ) সুখ, দুঃখ, মোহ
ঘ) ইচ্ছা, জ্ঞান, ক্রিয়া
উত্তর: খ) সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ
৭. সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের সাম্যাবস্থাকে কী বলা হয়?
ক) পুরুষ
খ) প্রকৃতি
গ) মহৎ
ঘ) অহংকার
উত্তর: খ) প্রকৃতি
৮. প্রকৃতি কেমন স্বরূপের?
ক) চৈতন্যস্বরূপ
খ) জড়স্বরূপ
গ) নৈতিকস্বরূপ
ঘ) আধ্যাত্মিকস্বরূপ
উত্তর: খ) জড়স্বরূপ
৯. প্রকৃতির সাম্যাবস্থা নষ্ট হলে কী শুরু হয়?
ক) মুক্তি লাভ
খ) জ্ঞান উৎপত্তি
গ) প্রকৃতির বিকাশ বা পরিণাম
ঘ) পুরুষের সৃষ্টি
উত্তর: গ) প্রকৃতির বিকাশ বা পরিণাম
১০. সাংখ্য মতে প্রকৃতি কোন ধরনের কারণ?
ক) নিমিত্ত কারণ
খ) উপাদান কারণ
গ) কার্য কারণ
ঘ) আকস্মিক কারণ
উত্তর: খ) উপাদান কারণ
১১. সাংখ্য মতে প্রকৃতি কেমন?
ক) সৃষ্ট ও নশ্বর
খ) অনাদি ও নিত্য
গ) ক্ষণস্থায়ী
ঘ) পরিবর্তনহীন চৈতন্য
উত্তর: খ) অনাদি ও নিত্য
১২. সাংখ্য মতে কার্য তার কারণে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান—এই মতকে কী বলা হয়?
ক) অসৎকার্যবাদ
খ) সৎকার্যবাদ
গ) বিবর্তনবাদ
ঘ) অদ্বৈতবাদ
উত্তর: খ) সৎকার্যবাদ
১৩. সাংখ্য মতে জগতের সৃষ্টি হয় কোন কারণে?
ক) পুরুষের পরিবর্তনের ফলে
খ) ঈশ্বরের ইচ্ছায়
গ) প্রকৃতির গুণত্রয়ের পরিবর্তনের ফলে
ঘ) আত্মার কারণে
উত্তর: গ) প্রকৃতির গুণত্রয়ের পরিবর্তনের ফলে
১৪. ‘ভেদানাং পরিমাণাৎ’ যুক্তিটি কার সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) পুরুষের অস্তিত্ব
খ) প্রকৃতির অস্তিত্ব
গ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
ঘ) আত্মার অস্তিত্ব
উত্তর: খ) প্রকৃতির অস্তিত্ব
১৫. সাংখ্য মতে প্রকৃতি থেকে প্রথমে কী উৎপন্ন হয়?
ক) মন
খ) অহংকার
গ) মহৎ বা বুদ্ধি
ঘ) পঞ্চমহাভূত
উত্তর: গ) মহৎ বা বুদ্ধি
১৬. প্রকৃতি ও পুরুষের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
ক) উভয়ই চৈতন্যস্বরূপ
খ) প্রকৃতি চৈতন্যস্বরূপ, পুরুষ জড়
গ) পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ, প্রকৃতি জড়
ঘ) উভয়ই জড়
উত্তর: গ) পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ, প্রকৃতি জড়
১৭. সাংখ্য মতে পুরুষের উপস্থিতিতে কী সক্রিয় হয়?
ক) আত্মা
খ) প্রকৃতি
গ) বুদ্ধি
ঘ) ইন্দ্রিয়
উত্তর: খ) প্রকৃতি
১৮. ‘সমন্বয়াৎ’ যুক্তির মাধ্যমে কী প্রমাণ করা হয়?
ক) পুরুষের অস্তিত্ব
খ) প্রকৃতির অস্তিত্ব
গ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
ঘ) আত্মার অমরত্ব
উত্তর: খ) প্রকৃতির অস্তিত্ব
১৯. প্রলয়কালে সমস্ত জগত কোথায় লীন হয়?
ক) পুরুষে
খ) আত্মায়
গ) প্রকৃতিতে
ঘ) মহতে
উত্তর: গ) প্রকৃতিতে
২০. সাংখ্য দর্শনের মতে মুক্তির জন্য কী জ্ঞান প্রয়োজন?
ক) ঈশ্বরের জ্ঞান
খ) পুরুষ ও প্রকৃতির ভেদজ্ঞান
গ) কর্মের জ্ঞান
ঘ) ইন্দ্রিয়ের জ্ঞান
উত্তর: খ) পুরুষ ও প্রকৃতির ভেদজ্ঞান
SAQ প্রশ্নাবলি : সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি | সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও ব্যাখ্যা
১. সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতি বলতে জগতের মূল কারণ বা সমস্ত জাগতিক বস্তুর উৎপত্তির উৎসকে বোঝায়। এটি অনাদি, অব্যক্ত ও জড়স্বরূপ একটি মূল তত্ত্ব।
২. সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: সাংখ্য দর্শনে পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ এবং প্রকৃতি হলো জড়স্বরূপ। পুরুষ নিষ্ক্রিয় দ্রষ্টা, আর প্রকৃতি হলো জগতের সৃষ্টির মূল কারণ।
৩. প্রকৃতিকে কেন অব্যক্ত বলা হয়?
উত্তর: সৃষ্টির পূর্বে প্রকৃতি প্রকাশিত অবস্থায় থাকে না, বরং সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের সাম্যাবস্থায় সম্ভাবনারূপে অবস্থান করে। তাই প্রকৃতিকে অব্যক্ত বলা হয়।
৪. সাংখ্য মতে প্রকৃতির স্বরূপ কী?
উত্তর: সাংখ্য মতে প্রকৃতি অনাদি, নিত্য, অব্যক্ত, জড় এবং ত্রিগুণাত্মক। এটি সমগ্র বিশ্বজগতের উপাদান কারণ।
৫. প্রকৃতির মধ্যে গুণত্রয়ের ভূমিকা কী?
উত্তর: প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণ সাম্যাবস্থায় থাকে। এই সাম্য নষ্ট হলে গুণগুলির পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতির বিকাশ শুরু হয় এবং জগতের সৃষ্টি হয়।
৬. ঈশ্বরকৃষ্ণ প্রকৃতির লক্ষণ সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: ঈশ্বরকৃষ্ণ তাঁর সাংখ্যকারিকা গ্রন্থে বলেছেন যে প্রকৃতি অব্যক্ত এবং ত্রিগুণাত্মক। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃতি বিভিন্ন কার্যে পরিণত হয়।
৭. সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতির অস্তিত্বের প্রথম যুক্তি কী?
উত্তর: প্রকৃতির অস্তিত্বের প্রথম যুক্তি হলো ‘ভেদানাং পরিমাণাৎ’। এই যুক্তি অনুসারে, প্রকাশিত কার্যবস্তুর জন্য একটি সূক্ষ্ম ও মূল কারণ থাকা প্রয়োজন, আর সেই কারণ হলো প্রকৃতি।
৮. ‘সমন্বয়াৎ’ যুক্তি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘সমন্বয়াৎ’ যুক্তির অর্থ হলো জগতের বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা সমন্বয় দেখা যায়, তার মূল কারণ হিসেবে প্রকৃতিকে স্বীকার করতে হয়।
৯. ‘শক্তিতঃ প্রবৃত্তেশ্চ’ যুক্তির মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: এই যুক্তির মাধ্যমে বলা হয় যে উৎপন্ন বস্তু তার উপাদান কারণে অব্যক্ত অবস্থায় থাকে। তাই এই বৈচিত্র্যময় জগতের পূর্বে একটি অব্যক্ত কারণ থাকা আবশ্যক, সেটিই প্রকৃতি।
১০. সাংখ্য দর্শনের সৎকার্যবাদ কী?
উত্তর: সৎকার্যবাদ হলো সেই মতবাদ যেখানে বলা হয় যে কার্য তার কারণে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকে। সাংখ্য মতে জগত সৃষ্টির পূর্বে প্রকৃতির মধ্যে অব্যক্ত অবস্থায় ছিল।
১১. প্রকৃতিকে উপাদান কারণ বলা হয় কেন?
উত্তর: প্রকৃতি থেকে সমস্ত জাগতিক বস্তু উৎপন্ন হয় এবং সৃষ্টি শেষে সেই বস্তুগুলি প্রকৃতির মধ্যেই লীন হয়। তাই প্রকৃতিকে জগতের উপাদান কারণ বলা হয়।
১২. কারণ ও কার্যের মধ্যে সাংখ্যের মত কী?
উত্তর: সাংখ্য মতে কারণ ও কার্যের মধ্যে ভেদ ও অভেদ উভয়ই রয়েছে। কার্য কারণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা নয়, আবার সম্পূর্ণ অভিন্নও নয়।
১৩. সাংখ্য মতে প্রকৃতি কীভাবে জগত সৃষ্টি করে?
উত্তর: প্রকৃতির মধ্যে থাকা সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের সাম্যাবস্থা নষ্ট হলে প্রকৃতির পরিণাম শুরু হয়। এর ফলে মহৎ, অহংকার, মন, ইন্দ্রিয় ও পঞ্চমহাভূতের সৃষ্টি হয়।
১৪. প্রকৃতির ত্রিগুণাত্মক স্বভাব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি মৌলিক গুণ বিদ্যমান। এই তিন গুণের সমন্বয়েই প্রকৃতির স্বরূপ গঠিত হয়েছে।
১৫. সাংখ্য মতে প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়কে অনাদি বলা হয় কেন?
উত্তর: সাংখ্য মতে প্রকৃতি ও পুরুষ কারও সৃষ্টি নেই। তারা চিরকাল থেকেই বিদ্যমান, তাই উভয়কেই অনাদি বলা হয়।
১৬. প্রকৃতির জড়স্বরূপ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রকৃতির নিজস্ব কোনো চেতনা বা জ্ঞান নেই। এটি অচেতন হওয়ার কারণে একে জড়স্বরূপ বলা হয়।
১৭. সাংখ্য মতে পুরুষের জন্য প্রকৃতির বিকাশ ঘটে—এর অর্থ কী?
উত্তর: পুরুষ চৈতন্যস্বরূপ হলেও নিজে কোনো পরিবর্তন করে না। পুরুষের অভিজ্ঞতা ও মুক্তির উদ্দেশ্যেই প্রকৃতি বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়।
১৮. প্রলয়ের সময় প্রকৃতির ভূমিকা কী?
উত্তর: প্রলয়ের সময় সমস্ত প্রকাশিত জগত আবার প্রকৃতির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। তাই প্রকৃতি সৃষ্টি ও প্রলয়ের মূল আধার।
১৯. প্রকৃতি ও গুণত্রয়ের সম্পর্ক আলোচনা কর।
উত্তর: প্রকৃতি সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের সমন্বয়ে গঠিত। গুণত্রয়ের সাম্য অবস্থাই প্রকৃতি এবং তাদের বৈষম্যের ফলেই প্রকৃতির বিকাশ ঘটে।
২০. সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতিতত্ত্বের গুরুত্ব কী?
উত্তর: সাংখ্য দর্শনের সৃষ্টিতত্ত্ব, পুরুষ-প্রকৃতি সম্পর্ক এবং জগতের উৎপত্তি বোঝার জন্য প্রকৃতিতত্ত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতি ছাড়া সাংখ্য দর্শনের বিশ্বব্যাখ্যা সম্পূর্ণ হয় না।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে সাংখ্য দর্শন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীন দর্শন। সাংখ্য দর্শনের মূল আলোচ্য বিষয় হলো পুরুষ ও প্রকৃতি তত্ত্ব। সাংখ্য দর্শনের তত্ত্বজ্ঞান সঠিকভাবে বুঝতে হলে “পুরুষ” ও “প্রকৃতি”-এর স্বরূপ, পারস্পরিক সম্পর্ক, বৈশিষ্ট্য এবং জগতের সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী সাংখ্য দর্শনের প্রকৃতির সংজ্ঞা, প্রকৃতির অস্তিত্বের প্রমাণ, গুণত্রয় তত্ত্ব, পুরুষ ও প্রকৃতির পার্থক্য এবং সাংখ্যের সৃষ্টিতত্ত্ব বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। অথচ XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই সাংখ্য দর্শনে পুরুষ ও প্রকৃতি সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংখ্য দর্শনের মতে, সমগ্র বিশ্বজগতের ব্যাখ্যার জন্য দুটি মূল তত্ত্ব স্বীকার করা হয়েছে—পুরুষ ও প্রকৃতি। এর মধ্যে পুরুষ হলো চৈতন্যস্বরূপ, অপরিবর্তনীয় ও নিষ্ক্রিয় তত্ত্ব এবং প্রকৃতি হলো জড়স্বরূপ, পরিবর্তনশীল ও জগতের মূল উপাদান কারণ। সাংখ্য দর্শনের সমগ্র সৃষ্টিতত্ত্ব এই পুরুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের উপর প্রতিষ্ঠিত।
প্রকৃতি (Prakriti) সাংখ্য দর্শনের অন্যতম প্রধান তত্ত্ব। সাংখ্য মতে, প্রকৃতি হলো জগতের আদি কারণ, সমস্ত জাগতিক বস্তুর উৎপত্তির উৎস এবং সকল বিকারের মূল ভিত্তি। প্রকৃতি অনাদি, নিত্য, অব্যক্ত এবং ত্রিগুণাত্মক। প্রকৃতির মধ্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিনটি গুণ সাম্যাবস্থায় অবস্থান করে। যখন এই তিন গুণের সাম্যাবস্থা বিনষ্ট হয়, তখন প্রকৃতির পরিণাম বা বিকাশ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে মহৎ, অহংকার, মন, ইন্দ্রিয়, তন্মাত্র ও পঞ্চমহাভূতের সৃষ্টি হয়।
সাংখ্য দর্শনের আচার্য ঈশ্বরকৃষ্ণ তাঁর ‘সাংখ্যকারিকা’ গ্রন্থে প্রকৃতির স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃতি অব্যক্ত এবং ত্রিগুণাত্মক। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রকৃতি বিভিন্ন কার্যরূপে প্রকাশিত হয়।
এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত YouTube Video প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সাংখ্য দর্শনের পুরুষ ও প্রকৃতি তত্ত্ব, প্রকৃতির সংজ্ঞা, প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতির অস্তিত্বের প্রমাণ, গুণত্রয় তত্ত্ব এবং সাংখ্যের সৃষ্টিতত্ত্ব অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে সাংখ্য মতে পুরুষের স্বরূপ, প্রকৃতির জড়তা, পুরুষ ও প্রকৃতির পার্থক্য, প্রকৃতির অনাদি ও অব্যক্ত স্বভাব, ত্রিগুণের ভূমিকা এবং কীভাবে প্রকৃতি থেকে সমগ্র বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়—এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থী খুব সহজেই সাংখ্য দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়টি বুঝতে পারবে।
সাংখ্য দর্শনে প্রকৃতির অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য ঈশ্বরকৃষ্ণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তির উল্লেখ করেছেন। যেমন—ভেদানাং পরিমাণাৎ, সমন্বয়াৎ, শক্তিতঃ প্রবৃত্তেশ্চ, কারণকার্যবিভাগাৎ এবং অবিভাগাদ্বৈশ্বরূপস্য। এই যুক্তিগুলির মাধ্যমে সাংখ্য দার্শনিকগণ দেখিয়েছেন যে দৃশ্যমান জগতের পিছনে একটি অব্যক্ত ও মূল কারণ থাকা আবশ্যক, আর সেই মূল কারণ হলো প্রকৃতি।
এছাড়াও এই আলোচনায় সাংখ্য মতে প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতি অনাদি ও নিত্য, কারণ এর কোনো সৃষ্টি বা বিনাশ নেই। প্রকৃতি অব্যক্ত, কারণ সৃষ্টির পূর্বে এটি প্রকাশিত অবস্থায় থাকে না। প্রকৃতি ত্রিগুণাত্মক, কারণ সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের সমন্বয়ে এর স্বরূপ গঠিত। প্রকৃতি জগতের উপাদান কারণ, কারণ সমস্ত জাগতিক বস্তু প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন হয়।
যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই Video বিশেষভাবে সহায়ক হবে। কারণ এখানে শুধু প্রকৃতির সংজ্ঞা নয়, বরং সাংখ্য দর্শনের পুরুষ-প্রকৃতি তত্ত্ব, প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য, অস্তিত্বের যুক্তি এবং দার্শনিক গুরুত্ব উদাহরণসহ আলোচনা করা হয়েছে।
তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি নিচে দেওয়া Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে সাংখ্য দর্শনের পুরুষ ও প্রকৃতি, সাংখ্য মতে প্রকৃতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও ব্যাখ্যা, গুণত্রয় তত্ত্ব এবং সাংখ্যের সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে যথার্থ, নির্ভুল ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই Video শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।
