ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ
| | |

ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ | বৈশিষ্ট্য, প্রকৃতি ও মূল বক্তব্য | Indian Philosophy (5 Big Notes )

Table of Contents

ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ

“ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ” ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভিত্তিমূলক অধ্যায়। ভারতীয় দর্শনের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, উদ্দেশ্য, জীবন ও জগত সম্পর্কে ভারতীয় দার্শনিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতীয় দর্শনের মূল চিন্তাধারা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের জন্য এই অধ্যায়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের বড়, ছোট ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন দেখা যায়।
এই অধ্যায়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজ, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষামুখী করে তুলতে **ISP Gurukul (www.ispgurukul.com)**-এ এক জায়গায় সাজানো হয়েছে “ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ” অধ্যায়ের সম্পূর্ণ Study Materials
এই অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা পাবে—
বড় প্রশ্ন — মান ১০ ও ৫: গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির বিস্তারিত উত্তর, যাতে পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
ছোট প্রশ্ন — মান ২: পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং সহজ ভাষায় উপযুক্ত উত্তর, যা দ্রুত Revision-এর জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।
M.C.Q — Multiple Choice Questions: অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, যা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও শিক্ষামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
S.A.Q — Short Answer Questions: অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলি যাচাই করার জন্য নির্বাচিত Short Answer Questions, যা বিষয়ের ধারণাগত জ্ঞান আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
বিষয়ভিত্তিক সহযোগী Video: শুধু বই পড়ে নয়, সহজ ও সাবলীল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি বুঝতে এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত সহযোগী YouTube Video দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ার পাশাপাশি ভিডিও দেখে বিষয়টি আরও সহজে বুঝতে পারবে।

কারা উপকৃত হবে ?

এই অধ্যায়ের Study Materials বিশেষভাবে উপকারী হবে উচ্চ মাধ্যমিক (HS) শিক্ষার্থী, B.A শিক্ষার্থী, M.A শিক্ষার্থী, B.Ed শিক্ষার্থী এবং SSC পরীক্ষার্থীদের জন্য। এছাড়াও যারা ভারতীয় দর্শনের মৌলিক ধারণা তৈরি করতে চান, দর্শন বিষয়ের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অথবা দ্রুত Revision করতে চান, তারাও এই অধ্যায়ের উপকরণ থেকে উপকৃত হতে পারবেন।
ISP Gurukul-এর লক্ষ্য হলো জটিল বিষয়গুলিকে সহজ ভাষায়, পরীক্ষার উপযোগীভাবে এবং একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সমস্ত প্রয়োজনীয় Study Materials এক জায়গায় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাই “ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ” অধ্যায়ের বড় প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, MCQ, SAQ এবং বিষয়ভিত্তিক সহযোগী Video—সবকিছু একসঙ্গে পেতে এই অধ্যায়টি সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করুন।
পড়ুন → বুঝুন → অনুশীলন করুন → Video দেখুন → পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করুন।
ISP Gurukul — একদিনে হবে না, একদিন হবেই।

ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ বড় প্রশ্ন ও উত্তর (মান – 10 & 5)

1. ভারতীয় দর্শন বলতে কী বোঝো ? ভারতীয় দর্শনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য গুলি আলোচনা করো? মান-১০

উত্তর: ভারতীয় দর্শন বলতে প্রাচীন-নবীন, হিন্দু-অহিন্দু, আস্তিক-নাস্তিক প্রভৃতি সমস্ত প্রকার দর্শনকে বোঝায়। কেউ কেউ মনে করেন ভারতীয় দর্শন বলতে কেবলমাত্র হিন্দু দর্শনকেই বোঝানো হয়েছে কিন্তু একথা সত্য নয়, এখানে হিন্দু পদটি কোন ধর্মকে না বুঝিয়ে ভৌগোলিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে । তৎকালীন হিন্দু বলতে সিন্ধু নদের নিকটবর্তী বাসিন্দাদের বোঝানো হতো। তাই ভারতীয় দর্শন বলতে কেবলমাত্র হিন্দু দর্শনকে না বুঝিয়ে সমস্ত প্রকার ভারতীয় চিন্তনশীল বর্গের দর্শনকে বোঝানো হয়েছে।

ভারতীয় দর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্প্রদায়গুলি হল- চার্বাক,বৌদ্ধ,জৈন,সাংখ্য , যোগ বৈশেষিক, ন্যায়, মীমাংসা, এবং বেদান্ত। এদের মধ্যে প্রথম তিনটি সম্প্রদায়কে নাস্তিক দর্শন বলে এবং শেষ ছয়টি সম্প্রদায় কে আস্তিক দর্শন বলা হয়। এদের মধ্যে নাস্তিক সম্প্রদায় বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করে না এবং আস্তিক সম্প্রদায় বেদের প্রামাণ্য‌ স্বীকার করে। আস্তিক সম্প্রদায়কে আবার ষড়দর্শনও বলা হয়।

উত্তর:  ‘ঋণ’ বলতে বোঝায় অপরের কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করাকে। ‘ঋণ’ হল এক প্রকার কর্তব্য। ভারতীয় দর্শনে বলা হয়েছে মানুষ তার জীবনে বিভিন্ন প্রকার কর্তব্য পালন করে থাকে। একেই ভারতীয় দর্শনে এক কথায় একে ‘ঋণ’ বলা হয়েছে। অন্যভাবে বলা যায় ভারতীয় বৈদিক দর্শনে ঋণ বলতে বোঝায় অন্যের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপকার, দায়িত্ব বা কর্তব্য, যা পরিশোধ করা মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। মানুষ জন্মগতভাবেই কিছু ঋণের অধীন বলে মনে করা হয়। বৈদিক ধারণা অনুসারে, যে ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করে তাকে অধমর্ণ এবং যার কাছ থেকে গ্রহণ করা হয় তাকে উত্তমর্ণ বলা হয়। অধমর্ণের কর্তব্য হলো উত্তমর্ণের কাছে প্রাপ্ত উপকার বা দানের যথাযথ প্রতিদান দেওয়া।

বিভিন্ন প্রকার ঋণগুলি 

দেবঋণ:  প্রত্যেক মানুষই প্রকৃতির উপর.নির্ভরশীলসূর্য, বায়ু, অগ্নি, বৃষ্টি প্রভৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে অর্থাৎ  এগুলি নানা দেব-দেবতা দ্বারা অধিষ্ঠিত। ওইসব দেবতাদের উদ্দেশ্যে যাগ যজ্ঞের মাধ্যমে যে ঋণ পরিশোধ করা হয় তাকে দেবঋণ বলে। হিন্দু দর্শনে মানুষের উপর প্রধানত তিন প্রকার ঋণের কথা বলা হয়েছে—দেবঋণ, ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ। এর মধ্যে দেবঋণ হল দেবতাদের প্রতি মানুষের কর্তব্য। মানুষ যাগ-যজ্ঞ, পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমেই দেবঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা হয়। প্রাচীনকালে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের আহ্বান করা হত এবং তাদের উদ্দেশ্যে আহুতি প্রদান করা হত। বিশ্বাস করা হত যে এর ফলে দেবতারা সন্তুষ্ট হন এবং মানুষের কল্যাণ সাধন করেন। বর্তমান যুগে দেবঋণের ধারণা কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতির সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, জল ও বায়ু দূষণ প্রতিরোধের মাধ্যমেও দেবঋণ পরিশোধ করা যায়। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানেই প্রকৃতির মধ্যে বিরাজমান দেবশক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তাই দেবঋণ মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হতে শিক্ষা দেয়।

পিতৃঋণ: গৃহস্থ জীবনে সন্তান.সন্ততি উৎপাদনের দ্বারা বংশ ধারাকে অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে মানুষ যে ঋণ পরিশোধ করে থাকে তাকে পিতৃঋণ বলে। পিতৃঋণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পিতা-মাতার সেবা ও সম্মান করা। জীবদ্দশায় তাদের যত্ন নেওয়া, তাদের ইচ্ছার মর্যাদা দেওয়া এবং মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধ ও তর্পণের মতো ধর্মীয় আচার সম্পাদন করাও পিতৃঋণ পালনের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়। এসব কর্মের মাধ্যমে মানুষ পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বর্তমান সমাজে পিতৃঋণের অর্থ আরও বিস্তৃত হয়েছে। শুধু সন্তান জন্মদান নয়, বরং তাদের সৎ, শিক্ষিত ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও পিতৃঋণ পরিশোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই বলা যায়, পিতৃঋণ মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। পূর্বপুরুষদের আদর্শকে ধারণ করে এবং বংশধারাকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই মানুষ প্রকৃত অর্থে পিতৃঋণ পরিশোধ করে।

ঋষিঋণ:   বেদ অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে মানুষ যে ঋণ পরিশোধ করে তাকে ঋষিঋণ বলে।  ঋষিঋণ পরিশোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগ করা। সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা, মানবপ্রেম এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা ঋষিদের শিক্ষারই অংশ। তাই শুধু শাস্ত্র পাঠ করাই যথেষ্ট নয়; সেই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে অনুসরণ করাও প্রয়োজন। সুতরাং, ঋষিদের জ্ঞান ও আদর্শকে সম্মান করা, বেদ ও শাস্ত্র অধ্যয়ন করা এবং সেই জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রচার করার মধ্য দিয়েই মানুষ ঋষিঋণ পরিশোধ করে থাকে। ঋষিঋণ মানবজীবনের জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক কর্তব্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

নৃঋণ:যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই তাদের বাসস্থান দান করা, ক্ষুধার্তকে অন্নদান করা, বস্ত্রহীনদের বস্ত্রদান করা প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে ঋণ পরিশোধ করা হয় তাকে নৃ-ঋণ বলে। যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই, তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া, ক্ষুধার্ত মানুষকে অন্নদান করা, বস্ত্রহীনদের বস্ত্রদান করা, অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৃ-ঋণ পরিশোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এসব কাজের মাধ্যমে মানুষ মানবপ্রেম, সহানুভূতি ও দয়ার পরিচয় দেয়। সমাজের দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেও এই ধরনের সেবামূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 ভূ-ঋণ: উদ্ভিদ ও প্রাণীর সেবা কিংবা তাদের সংরক্ষণের মাধ্যমে মানুষ যে ঋণ পরিশোধ করে তাকে বলে ভূ-ঋণ। উদ্ভিদ ও প্রাণীর সেবা, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের মাধ্যমে মানুষ ভূ-ঋণ পরিশোধ করে। গাছপালা আমাদের অক্সিজেন, খাদ্য, ঔষধ ও আশ্রয় প্রদান করে। একইভাবে প্রাণিজগৎ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ, পশুপাখির যত্ন নেওয়া এবং জীবজগতের প্রতি সদয় আচরণ করা ভূতঋণ পালনের অন্যতম উপায়।

ভারতীয় দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো “ঋত” । এ ধারণার আলোচনার পূর্বে আমাদের বেদ কি তা সাধারণ জ্ঞান থাকা দরকার সংস্কৃত ‘বিদ্’ ধাতুর ঘঞ্ প্রত্যয় করে ‘বেদ’ পদটি নিষ্পন্ন। ‘বিদ্’ ধাতুর অর্থ জানা। তাই ‘বেদ’ শব্দের অর্থ হল জ্ঞান বা বিদ্যা। এই জ্ঞান হল পরমজ্ঞান এবং এই বিদ্যা হল পরাবিদ্যা। প্রত্যক্ষাদি প্রমাণের দ্বারা যে জ্ঞান পাওয়া যায় না তা আমরা বেদে পাই। যার দ্বারা ধর্ম ও অধর্ম সব বিষয়ই জানা যায় তাই বেদ। অপর এক অর্থে বেদ বলতে বোঝায় সেই সকল বাক্যসমষ্টি যাতে এই পরমজ্ঞান বিদ্যুত হয়ে আছে। ঋগ্বেদের বিভিন্ন স্থানে ঋতকে সত্য ও ধর্ম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ঋত, সত্য ও ধর্ম এই ধারণাগুলি পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে কিভাবে সংবদ্ধ। ঋগ্বেদে সত্যকে বৃহৎ এবং ঋতকে উগ্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার ঋতকে অনৃতের বিপরীত বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। অনৃত হল অসত্য বা মিথ্যা। এইদিক থেকে ‘সত্য’ এবং ‘ঋত’ হল পর্যায়শব্দ। সত্য অসত্যের বিপরীত, ঋত অনৃতের বিপরীত। ‘অনৃত’ ও ‘অসত্য’ যদি পর্যায়শব্দ হয় তা হলে স্বাভাবিকভাবেই ‘ঋত’ ও ‘সত্য’কেও পর্যায় শব্দ বলা যায়। আবার ঋগ্বেদে বলা হয়েছে সত্য, ঋত, অনৃত এসবকিছুকে নিয়েই ধর্ম (সত্যানৃত মিথুনীকৃত)। সত্য, ঋত, দীক্ষা, তপঃ, অনৃত সবকিছুই ধর্মে অন্তর্ভুক্ত।

ভারতীয় দর্শনে ঋতের ধারণা  

উত্তর → ঋগ্বেদের বিভিন্ন স্থানে ঋতকে সত্য ও ধর্ম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ঋত, সত্য ও ধর্ম এই ধারণাগুলি পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে কিভাবে সংবদ্ধ। ঋগ্বেদে সত্যকে বৃহৎ এবং ঋতকে উগ্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার ঋতকে অনৃতের বিপরীত বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। অনৃত হল অসত্য বা মিথ্যা। এইদিক থেকে ‘সত্য’ এবং ‘ঋত’ হল পর্যায়শব্দ। সত্য অসত্যের বিপরীত, ঋত অনৃতের বিপরীত। ‘অনৃত’ ও ‘অসত্য’ যদি পর্যায়শব্দ হয় তা হলে স্বাভাবিকভাবেই ‘ঋত’ ও ‘সত্য’কেও পর্যায় শব্দ বলা যায়। আবার ঋগ্বেদে বলা হয়েছে সত্য, ঋত, অনৃত এসবকিছুকে নিয়েই ধর্ম (সত্যানৃত মিথুনীকৃত)। সত্য, ঋত, দীক্ষা, তপঃ, অনৃত সবকিছুই ধর্মে অন্তর্ভুক্ত। বৈদিক সাহিত্যে ” ঋত” ধারণার মধ্যে দিয়ে জীব জগতের সর্বোৎকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। ‘ঋত’ হল এক আধিক সমন্বয়ের নীতি। অন্যভাবে বলা যায় আশা আকাঙ্খা ও আচরণের একটি নৈতিক বিধি বা নৈতিক কর্মের মানদণ্ড হল ‘ঋত’। ‘ঋত’ অনুযায়ী যে কাজ করা হয় তা ন্যায় বা যথোচিত এবং এর বিরোধী কাজ হলো অন্যায়।ঋত, সত্য ও ধর্মকে ‘ঋকবেদ’ -এ বিভিন্ন স্থানে এক করে দেখা হয়েছে। নৈতিক দিক থেকে ‘ঋত’ হল এক অলঙ্ঘনীয় নিয়ম নীতি।

দর্শনের স্বরূপ - ঋতের ধারণা
‘ঋত’ শব্দের তাৎপর্য এর  প্রধানত 4 টি দিক
  •      •বেদে ‘ঋত’ শব্দের তাৎপর্যকে প্রধানত 4 টি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছেসেগুলি হল — আদি ভৌতিক, আদি দৈবিক, আদি যাজ্ঞিক এবং আধ্যাত্মিকআদি ভৌতিক, দিক থেকে ‘ঋত’ হল একটি সার্বিক বিশ্বতাত্ত্বিক নিয়মএই নিয়ম একধারে দেবতা, মানুষ, প্রকৃতি, জীব ও জোড়ের সাধারণ নিয়মএই নিয়ম একই সঙ্গে জোড় ও জগতের স্থিতি ও ধ্বংসের নিয়ম।   বেদে ‘ঋত’ শব্দের তাৎপর্যকে প্রধানত চারটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে— আদিভৌতিক, আদিদৈবিক, আদিযাজ্ঞিক এবং আধ্যাত্মিক। আদিভৌতিক দিক থেকে ‘ঋত’ হল একটি সার্বজনীন বিশ্বতাত্ত্বিক নিয়ম বা শৃঙ্খলা, যা সমগ্র বিশ্বজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিয়মের অধীনেই সূর্য প্রতিদিন উদিত ও অস্ত যায়, ঋতুচক্র নির্দিষ্ট ধারায় আবর্তিত হয় এবং প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনা সুশৃঙ্খলভাবে সংঘটিত হয়। দেবতা, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং জড় পদার্থ—সকলেই এই নিয়মের আওতাভুক্ত। তাই ঋতকে বিশ্বজগতের সামঞ্জস্য ও ভারসাম্যের মূল ভিত্তি বলা হয়। ঋত কেবল সৃষ্টির স্থিতি রক্ষা করে না, বরং পরিবর্তন ও ধ্বংসের প্রক্রিয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করে। জন্ম, বৃদ্ধি, ক্ষয় এবং বিনাশ—প্রকৃতির প্রতিটি স্তরেই ঋতের কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়। বৈদিক ঋষিরা মনে করতেন যে, ঋত অনুসরণ করাই প্রকৃত ধর্মাচরণ এবং বিশ্বকল্যাণের পথ। মানুষের নৈতিক জীবন, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ঋতের গুরুত্ব অপরিসীম। এই কারণে বৈদিক দর্শনে ঋতকে বিশ্বব্যবস্থার চিরন্তন ও অপরিহার্য নিয়ামক শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
  •      •আদি দৈবিক, দিক থেকে বলা যায় দেবতাদের সর্বপ্রকার শক্তির উৎস হল ‘ঋত’। আদি যাজ্ঞিক, দিক থেকে ‘ঋত’ হল যজ্ঞের ধারক ও নিয়ামক। এবং সর্বশেষ আধ্যাত্মিক, দিক থেকে ‘ঋত’ হল আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আচরণের একটি কঠোর নৈতিক বিধি।  আদিদৈবিক দিক থেকে বলা যায় যে, দেবতাদের সকল শক্তি, ক্ষমতা ও কার্যকলাপের মূল ভিত্তি হল ‘ঋত’। বৈদিক ঋষিদের মতে, দেবতারা নিজেরাও ঋতের নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হন এবং ঋতের বিরোধিতা করতে পারেন না। সূর্য, বায়ু, অগ্নি, বরুণ প্রভৃতি দেবতা বিশ্বজগতের যে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করেন, তা ঋতের বিধান অনুসারেই সম্পন্ন হয়। তাই ঋতকে দেবশক্তির উৎস ও নিয়ামক হিসেবে গণ্য করা হয়। আদিযাজ্ঞিক দিক থেকে ‘ঋত’ হল যজ্ঞের ধারক, রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নীতি। বৈদিক যুগে যজ্ঞ ছিল ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু এবং যজ্ঞের সকল বিধি-বিধান ঋতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। সঠিক নিয়মে যজ্ঞ সম্পাদনের মাধ্যমে মানুষ ঋতের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারত বলে বিশ্বাস করা হতো।অবশেষে, আধ্যাত্মিক দিক থেকে ‘ঋত’ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চিন্তাভাবনা ও আচরণের এক কঠোর নৈতিক আদর্শ। সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, সংযম ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে ঋতকে অনুসরণ করা যায়। এই অর্থে ঋত কেবল বাহ্যিক বিশ্বব্যবস্থার নিয়ম নয়, বরং মানুষের অন্তর্জীবনকে শুদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করার এক মহান নৈতিক ও আধ্যাত্মিক আদর্শ। এর অনুসরণ মানুষকে সত্য, কল্যাণ ও আত্মোন্নতির পথে পরিচালিত করে।
দর্শনের স্বরূপ - ঋতের ধারণা
ভারতীয় দর্শনের ঋত
  •      •উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, বৈদিক ধ্যান- ধারণায় ‘ঋত’ হল বিশ্বের মূল সূত্র। সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের এই একটি ঐক্য বিধি জগৎ, প্রকৃতি ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সমস্ত ঘটনা প্রবাহই ‘ঋতের’-এর ধারণা থেকে প্রতিফলিত হয়।  উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, বৈদিক ধ্যান-ধারণায় ‘ঋত’ হল সমগ্র বিশ্বজগতের মৌলিক নীতি ও নিয়ামক শক্তি। এটি এমন একটি সর্বজনীন বিধান, যার মাধ্যমে জগৎ, প্রকৃতি, দেবতা এবং মানুষের জীবন পরস্পরের সঙ্গে সুসমন্বিতভাবে যুক্ত থাকে। বৈদিক ঋষিরা মনে করতেন যে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি ঘটনা কোনো না কোনো নিয়মের অধীন এবং সেই নিয়মের নামই ঋত। সূর্যের উদয়-অস্ত, ঋতুচক্রের আবর্তন, নদীর প্রবাহ, জীবনের সৃষ্টি ও বিকাশ—সবকিছুই ঋতের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। শুধু প্রকৃতির ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও নৈতিক জীবনেও ঋতের প্রভাব সুস্পষ্ট। সত্য, ন্যায়, কর্তব্য, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মতো মূল্যবোধ ঋতেরই প্রকাশ। মানুষ যখন ঋতের পথ অনুসরণ করে, তখন ব্যক্তি ও সমাজ উভয়েরই কল্যাণ সাধিত হয়। অন্যদিকে ঋতের লঙ্ঘন বিশৃঙ্খলা ও অকল্যাণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বৈদিক দর্শনে ঋতকে বিশ্বব্যবস্থার ঐক্য, সামঞ্জস্য ও স্থিতিশীলতার চিরন্তন ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমগ্র জগৎ, প্রকৃতি ও সমাজের সকল ঘটনাপ্রবাহ মূলত ঋতের ধারণারই বহিঃপ্রকাশ।

4. যজ্ঞের প্রকারভেদ আলোচনা | যজ্ঞের বিভিন্ন প্রকার সহজ ভাষায় আলোচনা ।

ভূমিকা : বৈদিক দর্শন ও ভারতীয় ধর্মদর্শনের আলোচনায় ‘যজ্ঞ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে যজ্ঞ কেবল ধর্মীয় আচার বা অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার একটি পদ্ধতি ছিল না; এর সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় কর্তব্য, সামাজিক দায়িত্ব, দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিশ্বজগতের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত ছিল। বৈদিক যুগে বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন ধরনের যজ্ঞের প্রচলন ছিল।

‘যজ্ঞ’ শব্দের সাধারণ অর্থ হলো দেবতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে আহুতি প্রদান, উপাসনা এবং পবিত্র কর্ম সম্পাদন। বৈদিক সাহিত্যে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের সন্তুষ্ট করা, কল্যাণ কামনা করা, বৃষ্টি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করা এবং ধর্মীয় কর্তব্য পালন করার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীকালে যজ্ঞের ধারণা আরও বিস্তৃত হয়ে নিঃস্বার্থ কর্ম ও কর্তব্য পালনের সঙ্গেও যুক্ত হয়।

যজ্ঞের প্রধান প্রকারভেদ : বৈদিক ও স্মৃতিশাস্ত্রের আলোচনায় যজ্ঞকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়েছে। বিশেষভাবে গৃহস্থের নিত্য কর্তব্য হিসেবে পাঁচটি মহাযজ্ঞের কথা উল্লেখ করা হয়। এগুলি হলো—

১. ব্রহ্মযজ্ঞ : ব্রহ্মযজ্ঞ বলতে বেদ অধ্যয়ন, বেদপাঠ এবং ধর্মীয় জ্ঞানচর্চাকে বোঝায়। মানুষের জ্ঞান ও সংস্কৃতির ধারাকে সংরক্ষণ করা এবং ঋষিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করাই এই যজ্ঞের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রাচীন ভারতীয় চিন্তায় মনে করা হতো যে মানুষ পূর্বপুরুষ ও ঋষিদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেছে। তাই বেদ অধ্যয়ন, অধ্যাপনা এবং জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে ঋষিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এই কারণে ব্রহ্মযজ্ঞকে ঋষিযজ্ঞের সঙ্গেও সম্পর্কিত করা হয়।

২. দেবযজ্ঞ : দেবযজ্ঞ হলো দেবতাদের উদ্দেশ্যে পূজা, প্রার্থনা এবং অগ্নিতে আহুতি প্রদান। প্রাচীন বৈদিক সমাজে অগ্নির মাধ্যমে বিভিন্ন দেবতার উদ্দেশ্যে ঘৃত, শস্য প্রভৃতি আহুতি দেওয়ার প্রচলন ছিল।

দেবযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁদের কাছ থেকে কল্যাণ, বৃষ্টি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করা। বৈদিক মানুষের কাছে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে দেবতা হিসেবে কল্পনা করা হতো এবং যজ্ঞের মাধ্যমে সেই শক্তির সঙ্গে একটি ধর্মীয় সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।

৩. পিতৃযজ্ঞ : পিতৃযজ্ঞ হলো পিতা, পিতামহ এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।

পিতৃযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষ তার পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। শ্রাদ্ধ, তর্পণ প্রভৃতি আচার পিতৃযজ্ঞের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মূল ভাব হলো—মানুষ তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জীবন ও ঐতিহ্য লাভ করেছে, তাই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

৪. ভূতযজ্ঞ : ভূতযজ্ঞ বলতে জীবজন্তু ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়া, সহানুভূতি এবং সেবা করাকে বোঝায়। এখানে ‘ভূত’ বলতে জীবিত প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে।

মানুষ একা পৃথিবীতে বসবাস করে না; অসংখ্য প্রাণী ও জীবের সঙ্গে তার সহাবস্থান রয়েছে। তাই প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো, তাদের খাদ্য দেওয়া এবং তাদের প্রতি অকারণে নিষ্ঠুর না হওয়াকে ভূতযজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই যজ্ঞ মানুষের মধ্যে জীবপ্রেম, দয়া ও সহমর্মিতার বিকাশ ঘটায়। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, নৈতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।

৫. নরযজ্ঞ বা অতিথিযজ্ঞ : নরযজ্ঞ বা অতিথিযজ্ঞ হলো মানুষের প্রতি সেবা, আতিথেয়তা ও সাহায্যের মনোভাব প্রকাশ করা। বিশেষ করে অতিথিকে সম্মান করা এবং তার প্রয়োজন পূরণ করাকে এই যজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।

প্রাচীন ভারতীয় সমাজে অতিথিকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হতো। ‘অতিথি দেবো ভব’—এই আদর্শের মাধ্যমে অতিথির প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার গুরুত্ব প্রকাশ পায়। দরিদ্র, অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার মধ্যেও নরযজ্ঞের ভাব প্রকাশিত হয়।

যজ্ঞের দার্শনিক গুরুত্ব : যজ্ঞের ধারণার মধ্যে কেবল বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান নয়, মানুষের কর্তব্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষাও নিহিত রয়েছে। যজ্ঞ মানুষকে নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যের কল্যাণের কথা ভাবতে শেখায়।

ব্রহ্মযজ্ঞের মাধ্যমে জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। দেবযজ্ঞের মাধ্যমে প্রকৃতি ও দেবশক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পিতৃযজ্ঞ মানুষকে পূর্বপুরুষদের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ভূতযজ্ঞ জীবজগতের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা শেখায়। আর নরযজ্ঞ মানুষকে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সেবা ও আতিথেয়তার শিক্ষা দেয়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাঁচটি মহাযজ্ঞ মানুষের পাঁচ ধরনের দায়িত্বকে প্রকাশ করে—জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্ব, দেবতা বা প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব, পূর্বপুরুষদের প্রতি দায়িত্ব, জীবজগতের প্রতি দায়িত্ব এবং সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ব।

গীতায় যজ্ঞের ধারণা : ভগবদ্গীতায় যজ্ঞের ধারণাকে আরও বিস্তৃত অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে যজ্ঞ কেবল অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্যকর্ম সম্পাদন করাকেও যজ্ঞের ভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

গীতার কর্মযোগে বলা হয়েছে যে, মানুষ ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত না হয়ে নিজের কর্তব্য পালন করবে। এইভাবে নিজের কর্মকে বৃহত্তর কল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার মধ্যে যজ্ঞের প্রকৃত তাৎপর্য প্রকাশ পায়।

যজ্ঞের প্রকারভেদ

যজ্ঞের মূল শিক্ষা : যজ্ঞের ধারণা আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা দেয়। প্রথমত, মানুষকে কেবল নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে অন্যের কল্যাণের কথাও ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। তৃতীয়ত, পূর্বপুরুষ, শিক্ষক, সমাজ এবং সংস্কৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানুষের কর্তব্য। চতুর্থত, নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্য পালন মানুষের নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করে।

উপসংহার : অতএব বলা যায়, যজ্ঞ প্রাচীন ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যজ্ঞের বিভিন্ন প্রকার মানুষের জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্যকে নির্দেশ করে। ব্রহ্মযজ্ঞ জ্ঞান ও ঋষিদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেবযজ্ঞ দেবতা ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা, পিতৃযজ্ঞ পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভূতযজ্ঞ জীবজগতের প্রতি দয়া এবং নরযজ্ঞ মানুষের প্রতি সেবা ও আতিথেয়তার আদর্শ প্রকাশ করে।

তাই যজ্ঞকে শুধু অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত দার্শনিক গুরুত্ব সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায় না। যজ্ঞের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো—কর্তব্য পালন, কৃতজ্ঞতা, আত্মসংযম, পরোপকার এবং বৃহত্তর কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। এই কারণেই ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে যজ্ঞের ধারণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষোপযোগী বিষয়।

5.যজ্ঞের প্রকারভেদ আলোচনা | যজ্ঞের বিভিন্ন প্রকার সহজ ভাষায় আলোচনা ।

ভূমিকা : বৈদিক দর্শন ও ভারতীয় ধর্মদর্শনের আলোচনায় ‘যজ্ঞ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে যজ্ঞ কেবল ধর্মীয় আচার বা অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার একটি পদ্ধতি ছিল না; এর সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় কর্তব্য, সামাজিক দায়িত্ব, দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিশ্বজগতের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত ছিল। বৈদিক যুগে বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন ধরনের যজ্ঞের প্রচলন ছিল।

‘যজ্ঞ’ শব্দের সাধারণ অর্থ হলো দেবতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে আহুতি প্রদান, উপাসনা এবং পবিত্র কর্ম সম্পাদন। বৈদিক সাহিত্যে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের সন্তুষ্ট করা, কল্যাণ কামনা করা, বৃষ্টি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করা এবং ধর্মীয় কর্তব্য পালন করার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীকালে যজ্ঞের ধারণা আরও বিস্তৃত হয়ে নিঃস্বার্থ কর্ম ও কর্তব্য পালনের সঙ্গেও যুক্ত হয়।

যজ্ঞের প্রধান প্রকারভেদ : বৈদিক ও স্মৃতিশাস্ত্রের আলোচনায় যজ্ঞকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়েছে। বিশেষভাবে গৃহস্থের নিত্য কর্তব্য হিসেবে পাঁচটি মহাযজ্ঞের কথা উল্লেখ করা হয়। এগুলি হলো—

১. ব্রহ্মযজ্ঞ : ব্রহ্মযজ্ঞ বলতে বেদ অধ্যয়ন, বেদপাঠ এবং ধর্মীয় জ্ঞানচর্চাকে বোঝায়। মানুষের জ্ঞান ও সংস্কৃতির ধারাকে সংরক্ষণ করা এবং ঋষিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করাই এই যজ্ঞের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রাচীন ভারতীয় চিন্তায় মনে করা হতো যে মানুষ পূর্বপুরুষ ও ঋষিদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেছে। তাই বেদ অধ্যয়ন, অধ্যাপনা এবং জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে ঋষিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এই কারণে ব্রহ্মযজ্ঞকে ঋষিযজ্ঞের সঙ্গেও সম্পর্কিত করা হয়।

২. দেবযজ্ঞ : দেবযজ্ঞ হলো দেবতাদের উদ্দেশ্যে পূজা, প্রার্থনা এবং অগ্নিতে আহুতি প্রদান। প্রাচীন বৈদিক সমাজে অগ্নির মাধ্যমে বিভিন্ন দেবতার উদ্দেশ্যে ঘৃত, শস্য প্রভৃতি আহুতি দেওয়ার প্রচলন ছিল।

দেবযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁদের কাছ থেকে কল্যাণ, বৃষ্টি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করা। বৈদিক মানুষের কাছে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে দেবতা হিসেবে কল্পনা করা হতো এবং যজ্ঞের মাধ্যমে সেই শক্তির সঙ্গে একটি ধর্মীয় সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।

৩. পিতৃযজ্ঞ : পিতৃযজ্ঞ হলো পিতা, পিতামহ এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে।

পিতৃযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষ তার পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। শ্রাদ্ধ, তর্পণ প্রভৃতি আচার পিতৃযজ্ঞের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মূল ভাব হলো—মানুষ তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জীবন ও ঐতিহ্য লাভ করেছে, তাই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

৪. ভূতযজ্ঞ : ভূতযজ্ঞ বলতে জীবজন্তু ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়া, সহানুভূতি এবং সেবা করাকে বোঝায়। এখানে ‘ভূত’ বলতে জীবিত প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে।

মানুষ একা পৃথিবীতে বসবাস করে না; অসংখ্য প্রাণী ও জীবের সঙ্গে তার সহাবস্থান রয়েছে। তাই প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো, তাদের খাদ্য দেওয়া এবং তাদের প্রতি অকারণে নিষ্ঠুর না হওয়াকে ভূতযজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই যজ্ঞ মানুষের মধ্যে জীবপ্রেম, দয়া ও সহমর্মিতার বিকাশ ঘটায়। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, নৈতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।

৫. নরযজ্ঞ বা অতিথিযজ্ঞ : নরযজ্ঞ বা অতিথিযজ্ঞ হলো মানুষের প্রতি সেবা, আতিথেয়তা ও সাহায্যের মনোভাব প্রকাশ করা। বিশেষ করে অতিথিকে সম্মান করা এবং তার প্রয়োজন পূরণ করাকে এই যজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।

প্রাচীন ভারতীয় সমাজে অতিথিকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হতো। ‘অতিথি দেবো ভব’—এই আদর্শের মাধ্যমে অতিথির প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার গুরুত্ব প্রকাশ পায়। দরিদ্র, অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার মধ্যেও নরযজ্ঞের ভাব প্রকাশিত হয়।

যজ্ঞের দার্শনিক গুরুত্ব : যজ্ঞের ধারণার মধ্যে কেবল বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান নয়, মানুষের কর্তব্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষাও নিহিত রয়েছে। যজ্ঞ মানুষকে নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যের কল্যাণের কথা ভাবতে শেখায়।

ব্রহ্মযজ্ঞের মাধ্যমে জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। দেবযজ্ঞের মাধ্যমে প্রকৃতি ও দেবশক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পিতৃযজ্ঞ মানুষকে পূর্বপুরুষদের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ভূতযজ্ঞ জীবজগতের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা শেখায়। আর নরযজ্ঞ মানুষকে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সেবা ও আতিথেয়তার শিক্ষা দেয়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাঁচটি মহাযজ্ঞ মানুষের পাঁচ ধরনের দায়িত্বকে প্রকাশ করে—জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্ব, দেবতা বা প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব, পূর্বপুরুষদের প্রতি দায়িত্ব, জীবজগতের প্রতি দায়িত্ব এবং সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ব।

গীতায় যজ্ঞের ধারণা : ভগবদ্গীতায় যজ্ঞের ধারণাকে আরও বিস্তৃত অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে যজ্ঞ কেবল অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্যকর্ম সম্পাদন করাকেও যজ্ঞের ভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

গীতার কর্মযোগে বলা হয়েছে যে, মানুষ ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত না হয়ে নিজের কর্তব্য পালন করবে। এইভাবে নিজের কর্মকে বৃহত্তর কল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার মধ্যে যজ্ঞের প্রকৃত তাৎপর্য প্রকাশ পায়।

যজ্ঞের মূল শিক্ষা : যজ্ঞের ধারণা আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা দেয়। প্রথমত, মানুষকে কেবল নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে অন্যের কল্যাণের কথাও ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। তৃতীয়ত, পূর্বপুরুষ, শিক্ষক, সমাজ এবং সংস্কৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানুষের কর্তব্য। চতুর্থত, নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্য পালন মানুষের নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করে।

যজ্ঞের প্রকারভেদ

উপসংহার : অতএব বলা যায়, যজ্ঞ প্রাচীন ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যজ্ঞের বিভিন্ন প্রকার মানুষের জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্যকে নির্দেশ করে। ব্রহ্মযজ্ঞ জ্ঞান ও ঋষিদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেবযজ্ঞ দেবতা ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা, পিতৃযজ্ঞ পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভূতযজ্ঞ জীবজগতের প্রতি দয়া এবং নরযজ্ঞ মানুষের প্রতি সেবা ও আতিথেয়তার আদর্শ প্রকাশ করে।

তাই যজ্ঞকে শুধু অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত দার্শনিক গুরুত্ব সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায় না। যজ্ঞের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো—কর্তব্য পালন, কৃতজ্ঞতা, আত্মসংযম, পরোপকার এবং বৃহত্তর কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। এই কারণেই ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে যজ্ঞের ধারণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষোপযোগী বিষয়।

6. আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা 🔥 | ভারতীয় দর্শন সহজ ভাষায় মান – ১০

ভূমিকা : ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের শ্রেণীবিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতীয় দার্শনিক সম্প্রদায়গুলিকে তাদের মতবাদ ও বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার বা অস্বীকারের ভিত্তিতে সাধারণত আস্তিক ও নাস্তিক—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—আস্তিক ও নাস্তিক শব্দের অর্থ সরাসরি ঈশ্বরকে স্বীকার বা অস্বীকার করা নয়; ভারতীয় দর্শনের প্রচলিত অর্থে বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করাই আস্তিকতার প্রধান লক্ষণ।

আস্তিক দর্শন কাকে বলে ? : যে সকল ভারতীয় দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে, তাদের আস্তিক দর্শন বলা হয়। আস্তিক দর্শনের প্রধান ছয়টি সম্প্রদায় হলো—ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, পূর্বমীমাংসা এবং বেদান্ত। এই ছয়টি দর্শনকে একত্রে ভারতীয় দর্শনের ষড়দর্শন বলা হয়।

নাস্তিক দর্শন কাকে বলে ? : যে সকল দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে না, তাদের নাস্তিক দর্শন বলা হয়। ভারতীয় দর্শনে প্রধান নাস্তিক দর্শন হলো—চার্বাক, বৌদ্ধ এবং জৈন দর্শন। তবে এই তিনটি দর্শনের মতবাদও এক নয়; তাদের জ্ঞানতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব, কর্মবাদ ও মুক্তি সম্পর্কে পৃথক পৃথক মত রয়েছে।

আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের মধ্যে পার্থক্য

১. বেদের প্রামাণ্যতার দিক থেকে: আস্তিক দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে। অন্যদিকে নাস্তিক দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে না। এটিই আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের শ্রেণীবিভাগের প্রধান ভিত্তি।

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক এবং পরীক্ষোপযোগী বিষয় হলো আস্তিক ও নাস্তিক দর্শন। ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়, তাদের মতবাদ, প্রমাণতত্ত্ব, ঈশ্বর, বেদ এবং আত্মা সম্পর্কে ধারণা সঠিকভাবে বোঝার জন্য আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের প্রকৃতি ও পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। ভারতীয় দর্শনের বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায় নিজস্ব যুক্তি ও মতবাদের মাধ্যমে জগৎ, জীব, আত্মা, ঈশ্বর, কর্ম, মুক্তি এবং জ্ঞানের প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করেছে।

২. দর্শনের শ্রেণীবিভাগের দিক থেকে: আস্তিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো—ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, পূর্বমীমাংসা ও বেদান্ত। নাস্তিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো—চার্বাক, বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন।

৩. ঈশ্বরের ধারণার দিক থেকে: আস্তিক দর্শনের সব সম্প্রদায় একইভাবে ঈশ্বরকে স্বীকার করে না। যেমন—যোগ দর্শনে ঈশ্বরের স্বীকৃতি রয়েছে, কিন্তু সাংখ্য দর্শনের প্রাচীন রূপে ঈশ্বরকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয় না। নাস্তিক দর্শনগুলির মধ্যেও ঈশ্বর সম্পর্কে ভিন্ন মত রয়েছে; চার্বাক ঈশ্বরকে অস্বীকার করে, আর বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনে মুক্তির জন্য সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের প্রয়োজন স্বীকার করা হয় না।

৪. আত্মার ধারণার দিক থেকে: অধিকাংশ আস্তিক দর্শন কোনো না কোনোভাবে আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করে। কিন্তু বৌদ্ধ দর্শন অনাত্মবাদ গ্রহণ করে এবং কোনো নিত্য, অপরিবর্তনীয় আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করে না। চার্বাক দর্শনও দেহের বাইরে পৃথক নিত্য আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

৫. কর্ম ও পুনর্জন্মের দিক থেকে: আস্তিক দর্শনের অধিকাংশ শাখা কর্মফল ও পুনর্জন্মের তত্ত্ব স্বীকার করে। বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনও কর্ম ও পুনর্জন্মের ধারণাকে স্বীকার করে, যদিও তাদের ব্যাখ্যা আলাদা। কিন্তু চার্বাক দর্শন কর্মফল ও পুনর্জন্মের ধারণাকে গ্রহণ করে না।

৬. মুক্তির ধারণার দিক থেকে: আস্তিক দর্শনগুলিতে সাধারণত দুঃখের বন্ধন থেকে মুক্তিকে জীবনের চরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। নাস্তিক দর্শনগুলির মধ্যেও বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনে মুক্তির ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে চার্বাক দর্শন পরলোক বা মোক্ষের পরিবর্তে ইহজাগতিক সুখকে অধিক গুরুত্ব দেয়।

৭. জ্ঞানের উৎসের দিক থেকে: আস্তিক দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায় প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান, শব্দ প্রভৃতি বিভিন্ন প্রমাণ স্বীকার করে। নাস্তিক দর্শনগুলির মধ্যেও প্রমাণ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। যেমন, চার্বাক প্রধানত প্রত্যক্ষকেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে; আবার বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন একাধিক প্রমাণ স্বীকার করে।

৮. দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে: আস্তিক দর্শনগুলির অধিকাংশই বৈদিক ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত। নাস্তিক দর্শনগুলি বৈদিক প্রামাণ্যতার বাইরে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র দার্শনিক মতবাদ গড়ে তুলেছে।

৯. আত্মশুদ্ধি ও সাধনার দিক থেকে: আস্তিক দর্শনে জ্ঞান, কর্ম, যোগ, ভক্তি, তপস্যা ইত্যাদির মাধ্যমে আত্মোন্নতি ও মুক্তির পথ আলোচনা করা হয়েছে। নাস্তিক দর্শনের মধ্যেও বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনে নৈতিকতা, সংযম, ধ্যান ও সাধনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১০. মূল ভিত্তির দিক থেকে: আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক পার্থক্য হলো বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করা বা না করা। তাই কোনো দর্শন ঈশ্বরকে স্বীকার করলেই তাকে আস্তিক এবং ঈশ্বরকে অস্বীকার করলেই তাকে নাস্তিক বলা যাবে না। ভারতীয় দর্শনের প্রচলিত শ্রেণীবিভাগে বেদের প্রামাণ্যতাই এখানে প্রধান মানদণ্ড।

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক এবং পরীক্ষোপযোগী বিষয় হলো আস্তিক ও নাস্তিক দর্শন। ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়, তাদের মতবাদ, প্রমাণতত্ত্ব, ঈশ্বর, বেদ এবং আত্মা সম্পর্কে ধারণা সঠিকভাবে বোঝার জন্য আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের প্রকৃতি ও পার্থক্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। ভারতীয় দর্শনের বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায় নিজস্ব যুক্তি ও মতবাদের মাধ্যমে জগৎ, জীব, আত্মা, ঈশ্বর, কর্ম, মুক্তি এবং জ্ঞানের প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করেছে।

উপসংহার : সুতরাং বলা যায়, ভারতীয় দর্শনে আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের পার্থক্য মূলত বেদের প্রামাণ্যতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, পূর্বমীমাংসা ও বেদান্ত হলো প্রধান আস্তিক দর্শন; আর চার্বাক, বৌদ্ধ ও জৈন হলো প্রধান নাস্তিক দর্শন। যদিও এই দুই শ্রেণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, তবুও উভয় ধারার দর্শনের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবন, জগৎ, জ্ঞান, দুঃখ এবং মুক্তির প্রকৃতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা। তাই ভারতীয় দর্শনের

ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ — মান–২ প্রশ্ন ও উত্তর

1. “দর্শন” শব্দের অর্থ কি?
উত্তর:- ইংরেজি ‘philosophy’ শব্দটি দর্শন শব্দের প্রতিশব্দ। এটি দুটি গ্রিকশব্দ থেকে উদ্ভূত। ‘Philos’ মানে ‘অনুরাগ’ এবং ‘Sophia’ মানে ‘জ্ঞান’। সুতরাং ‘philosophy’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো- জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ বা সত্যের প্রতি অনুরাগ। পাশ্চাত্য দেশে যাকে ‘philosophy’ বলা হয় আমরা ভারতীয়রা তাকে দর্শন নামে অভিহিত করি। ‘দৃশ’ ধাতুর উত্তর অনট্ প্রত্যয় করে ‘দর্শন’ শব্দটি পাওয়া যায়। ‘দর্শন’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ দেখা। কিন্তু এই দর্শন মানে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণ নয়। তত্ত্ব দর্শন বা জগৎ ও জীবনের স্বরূপ উপলব্ধি। ‘দর্শন’ কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- সত্যের প্রত্যক্ষ বা তত্ত্বসাক্ষাৎ করাই দর্শন।

2. ‘ভারতীয় দর্শন’ কয়টি ভাগে বিভক্ত ও কি কি?
উত্তর:- ভারতীয় দর্শন দুই ভাগে বিভক্ত- ১. আস্তিক দর্শন ও ২. নাস্তিক দর্শন ।
অন্যভাবে বলা যায় আস্তিক মানে বেদনির্ভর দর্শন এবং নাস্তিক মানে অ-বৈদিক দর্শন।

3. ‘আস্তিক’ দর্শন কি?
উত্তর:- যে দর্শন প্রত্যক্ষভাবে বেদনির্ভর এবং বেদের সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী তাহল আস্তিক দর্শন। ইহা বৈদিক দর্শন।

4. ‘নাস্তিক’ দর্শন কি?
উত্তর:- যে দর্শন বেদবিরোধী এবং বেদের সিদ্ধান্তে অবিশ্বাসী তা হলো নাস্তিক দর্শন। ইহা অ-বৈদিক দর্শন।

5. ‘আস্তিক দর্শন’ কয় ভাগে বিভক্ত ও কি কি?
উত্তর:- আস্তিক দর্শন দুই ভাগে বিভক্ত- ১. সম্পূর্ণ বেদনির্ভর আস্তিক দর্শন। ২. স্বতন্ত্র পন্থা অবলম্বনকারী আস্তিক দর্শন।

6. সম্পূর্ণ বেদনির্ভর আস্তিক দর্শন কি?
উত্তর:- যে দর্শন কেবলমাত্র বেদের সিদ্ধান্তগুলিকে যুক্তি তর্কের দ্বারা ব্যাখ্যা করে তা হল সম্পূর্ণ বেদনির্ভর আস্তিক দর্শন।

7. একটি চরমপন্থী ও একটি নরমপন্থী নাস্তিক দর্শনের উদাহরণ দাও।
উত্তর:- একটি চরমপন্থী নাস্তিক দর্শন হলো চার্বাক দর্শন।
নরমপন্থী নাস্তিক আমরা বৌদ্ধ দর্শনকে বলতে পারি। কারণ, বুদ্ধদেব যদিও নাস্তিক বলে পরিচিত তবুও কিন্তু তিনি বিষ্ণুর দশাবতারের অন্যতম অবতার। তাই বৌদ্ধ দর্শনকে অদ্ধ্যাত্মবাদী নাস্তিক দর্শন বলা উচিত। অর্থাৎ সিদ্ধান্তে আসা যায়- বৌদ্ধ দর্শন হলো নরমপন্থী নাস্তিক দর্শন। জৈনরাও এক অর্থে নাস্তিক।

8. অর্থকে কেন পুরুষার্থ রূপে স্বীকার করা হয়েছে?
উত্তর:- প্রথম পুরুষার্থ ‘কাম’ চরিতির্থ করতে অর্থ প্রয়োজন। অন্নবস্ত্রাদির জন্যও অর্থ প্রয়োজন‌। তাই অর্থ হল ভারতীয় দর্শনে পুরুষার্থ। যে অর্থ পরম পুরুষার্থ লাভের সহায়ক সেই অর্থ পুরুষার্থ।

9. কামকে কেন পুরুষার্থ রূপে ভারতীয় দর্শনে স্বীকার করা হয়েছে?
উত্তর:- যৌন সুখসম্ভোগের নিমিত্ত শাস্ত্রে বিবাহের বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষণস্থায়ী যৌনসুখের অবসানে মানুষ চিরস্থায়ী মোক্ষলাভরূপ সুখ লাভ করতে চায়। কাম হল মোক্ষ ষলাভের সহায়ক। তাই কাম হল পুরুষার্থ।

10. ধর্মকে পুরুষার্থ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর:- সৎ কর্মই হলো ধর্ম। ধর্ম চিত্তের মালিন্য দূর করে, মোক্ষলাভের পথ প্রশস্ত করে। তাই ধর্ম মোক্ষলাভের সহায়ক বলে ধর্ম হল ভারতীয় দর্শনে পুরুষার্থ। ‌

11. মোক্ষ কেন পরম পুরুষার্থ ?
উত্তর:- মোক্ষ প্রাপ্তিতে সমস্ত প্রকার দুঃখের অবসান ঘটে, পুনর্জন্ম নিবারিত হয়। এতে কামনা-বাসনা বিদূরিত হয়। তাই মোক্ষ হলো পরম পুরুষার্থ।

12. ‌‌ মোক্ষ লাভের উপায় কি?
উত্তর:- আত্মজ্ঞানমেব মোক্ষলাভস্য উপায়ঃ । অর্থাৎ আত্মজ্ঞানই হল মোক্ষ লাভের একমাত্র উপায়।

13. ‘মোক্ষ’ কি?
উত্তর:- ভারতীয় দর্শনে মোক্ষ সম্পর্কিত আলোচনা কেন্দ্রীয় স্থান অধিকার করে আছে। এই দর্শনে মোক্ষ হচ্ছে আত্যন্তিক দুঃখ-মুক্তি। অর্থাৎ, দুঃখহীন এক অবস্থা। চার্বাক দর্শন বাদ দিয়ে সব দর্শনে মোক্ষ স্বীকার করা হয়। ভারতীয় দর্শনে ধর্ম, কাম, অর্থ ও মোক্ষ নামে চারটি পুরুষার্থ স্বীকার করা হয়।

14. ‘কর্মবাদ’ কি?
উত্তর:- চার্বাক দর্শন ছাড়া অন্যান্য সমস্ত ভারতীয় দর্শনেই কর্মবাদ স্বীকার করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যেক কর্মের ফল আছে। যে যেমন কর্ম করে সে তেমনি ফল ভোগ করে। আমাদের কর্মের ফলেই আমরা সুখ-দুঃখ ভোগ করি। সৎকর্ম করলে সুখ ভোগ হয়, আর অসৎকর্ম করলে দুঃখ ভোগ হয়। অর্থাৎ কৃতকর্মের ফল আমাদের পেতেই হবে।

15. কোন্ নাস্তিক দর্শনকে নাস্তিক শিরোমণি বলা হয়?
উত্তর:- চার্বাক দর্শনকে নাস্তিক শিরোমণি বলা হয়। ভারতের আধ্যাত্মিকতার নির্মল আকাশে চার্বাকরা ধ্বংসকারী ধূমকেতুর মতো নাস্তিকরূপে আবির্ভূত হয়। চার্বাকরা অনুমান, প্রমাণকে স্বীকার করেন না। তারা মনে করেন প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ। দেহাতিরিক্ত আত্মার অস্তিত্ব নেই, জড়ই একমাত্র সত্য, নারীসঙ্গ বা কামই একমাত্র পুরুষার্থ, রাজাই ঈশ্বর- এই কারণেই চার্বাকরা নাস্তিক শিরোমণি।

16. ‘ধর্ম’ কি?
উত্তর:- ভারতীয় দর্শনে যে চারটি পুরুষার্থ স্বীকৃত, তার মধ্যে প্রথম পুরুষার্থ হল- ধর্ম, ‘ধৃ’ ধাতুর ‘মন’ প্রত্যয় যোগে ধর্ম শব্দটির উৎপত্তি। অর্থাৎ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থে ‘ধর্ম’ বলতে কোন কিছুকে ধারণ করা বোঝায়।

17. ‘অর্থ’ কি?
উত্তর:- অর্থ পুরুষার্থ জানার আগে জানতে হবে অর্থ কি? অর্থ হলো বিনিময়ের মাধ্যম। অর্থ জীবিকা অর্জনের উপায়। মহাভারতে বলা হয়েছে- ‘অর্থেভ্যো হি বিবৃদ্ধেভ্যঃ’ অর্থাৎ, অর্থ সমৃদ্ধি আনে। চাণক্য বলেছেন- ‘ধর্মস্য মূলম্ অর্থঃ’ ।

18. ‘কাম’ কি?
উত্তর:- জীবন মানে ক্ষুদা ও যৌনতা ছাড়া অনিবার্য কিছু পরম্পরা…… মানুষ ‘কাম’ নামক শিল্পটির কাছে বড়ো বেশি অসহায়। জীব সৃষ্টির প্রথম পর্যায় থেকেই সুখ, দুঃখ, ক্ষুদা, তৃষ্ণা যতটা টেনেছে তার চেয়ে বেশি টেনেছে কাম।

19. মোক্ষ কাকে বলে?
উত্তর:- ভারতীয় নীতিতত্ত্বে যে চারটি পুরুষার্থের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মোক্ষ। ‘মোক্ষ’ – কে ভারতীয় নীতিতত্ত্বে পরম পুরুষার্থ বা পরম কাম্যবস্তু বলা হয়। মোক্ষ মানে জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। মোক্ষ মানে অবিদ্যা থেকে মুক্তি, মোক্ষ মানে আত্মার বন্ধন থেকে মুক্তি। মোক্ষকে ভারতীয় নীতিতত্ত্বে মুক্তি, অপবর্গ, কৈবলৎ, নির্মাণ এবং নিঃশ্রেয়স ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। ভারতীয় দার্শনিকগণ মনে করেন মোক্ষলাভই জীবনের একমাত্র কাম্যবস্তু।

20. ‘প্রমা’ কাকে বলে?
উত্তর:- ভারতীয় দর্শনের প্রত্যেকটি সম্প্রদায়ের ভাবনায় প্রমার ধারণাকে উপস্থাপিত করা হয়েছে। ‘প্রমা’ শব্দের অর্থ হল যথার্থ জ্ঞান বা সঠিক জ্ঞান। ‘প্রমা’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল- প্র (প্রকৃত) + মা (জ্ঞান) । অর্থাৎ প্রকৃত বা যথার্থ জ্ঞানকেই বলা হয় প্রমা। সঙ্গতভাবেই যেকোনোরকম জ্ঞানকেই প্রমারূপে অভিহিত করা যায় না। প্রমা হল যথার্থ জ্ঞান। ‘তদ্ধতি তৎপ্রকারক’ – অর্থাৎ যে পদার্থ যা, তাকে সেইরূপে জানাই হল প্রমা।

21. ‘অপ্রমা’ কাকে বলে?
উত্তর:- অনুভব হলো ইন্দ্রিয়াদির মাধ্যমে প্রাপ্ত বস্তুর জ্ঞান। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা এবং ত্বক নামক যে পাঁচটি ইন্দ্রিয় আমাদের আছে সেই ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে পার্থিব বস্তুর যথাযথ জ্ঞানকেই বলা হয় যথার্থ অনুভব। যথার্থ অনুভব হল বিষয়ের অনুপস্থিতি বিষয়ের জ্ঞান, যথা স্মৃতি। পূর্ব পরিচিত হয়ে আবার দশ বছর পরে সেই একই দেবদত্তকে দেখে যদি বলা হয় এই সেই দেবদত্ত- তাহলে তা হবে প্রত্যভিঞ্জা। স্মৃতি, প্রত্যভিঞ্জা থাকলে অনুভব যথার্থ হবে না
অনুভব + স্মৃতি ও প্রত্যভিঞ্জা = অপ্রমা
অথবা,
জ্ঞান + সংশয় = অপ্রমা

22. ‘প্রমাণ’ কি?
উত্তর:- ভারতীয় দর্শনের পরিভাষায় বলা হয়- “প্রমা করণং প্রমাণম্” – অর্থাৎ, প্রমা জ্ঞানের কারনকেই প্রমাণ বলে। প্রশ্ন হল, ‘কারণ’ কাকে বলে? কোন কোন মতে প্রমা জ্ঞানের ব্যাপার বিশিষ্ট অসাধারণ কারণই হলো কারণ। আবার কোন কোন মতে প্রমার অব্যবহিত পূর্বক্ষণে উপস্থিত ব্যাপারটিই প্রমাণ। ইন্দ্রিয়-বিষয়-সন্নিকর্ষ – প্রত্যক্ষের চরম কারণ = প্রত্যক্ষের করণ বা প্রমাণ। এক কথায় যথার্থ জ্ঞানকে প্রমাণ বলে।

23. ‘প্রমাতা’ কি?
উত্তর:- প্রমার কর্তা বা ঞ্জাতা হল প্রমাতা। প্রমাতা হল আত্মা। আত্মা দ্বিবিধ – জীবাত্মা ও পরমাত্মা। জীবাত্মা হল দেহাস্রিত আত্মা। আর পরমাত্মা হল মুক্ত। এক ও সর্বজ্ঞ। সাধারণভাবে আত্মা বলতে জীবাত্মাকেই বোঝানো হয়ে থাকে। জীব যেহেতু অনেক তাই জীবাত্মাও অনেক। প্রতিটি জীবের শরীরেই একটি করে আত্মা বিদ্যমান। প্রমাতা কি প্রকার বাহ্য বা অন্তর বিষয়ে জ্ঞানলাভ করতে পারে ? বাহ্য বিষয় জ্ঞান লাভ করতে হলে আত্মাকে মনের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। মন যেহেতু চৈতন্যরহিত তাই মন আত্মার ইচ্ছা অনুসারে বিশেষ ইন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ইন্দ্রিয় বিষয়ের সন্দেহযুক্ত হয় ‌।

24. ‘পুরুষার্থ’ কি? এটি কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর:- “পুরুষস্য অর্থ পুরুষার্থ”। ভারতীয় দর্শন তথা নীতি তত্ত্বে পুরুষার্থ একটি বিরাট স্থান দখল করে আছে। ‘পুরুষার্থ’ অর্থাৎ পুরুষ যা কামনা করে। তবে ‘পুরুষ’ মানে সামান্য সংখ্যক নয় সমগ্র জীবজগত। আর ‘অর্থ’ মানে কাম্যবস্তু। অর্থাৎ পুরুষ যা কামনা করে তাই পুরুষার্থ ।
চিরাচরিত ধারণাকে সামনে রেখে আমরা বলতে পারি পুরুষার্থ চার প্রকার- ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ।

১. ভারতীয় দর্শনের স্বরূপ SAQ

১. ভারতীয় দর্শন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ভারতীয় দর্শন বলতে ভারতের প্রাচীন ও আধুনিক, আস্তিক ও নাস্তিক, হিন্দু ও অহিন্দু—সমস্ত দার্শনিক সম্প্রদায়ের চিন্তাধারাকে বোঝায়।

২. ভারতীয় দর্শনের প্রধান সম্প্রদায়গুলি কী কী?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনের প্রধান সম্প্রদায়গুলি হলো—চার্বাক, বৌদ্ধ, জৈন, সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিক, পূর্বমীমাংসা এবং বেদান্ত।

৩. ভারতীয় দর্শনকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—আস্তিক দর্শন ও নাস্তিক দর্শন।

৪. ভারতীয় দর্শনকে ব্যবহারিক বলা হয় কেন?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনের লক্ষ্য শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন নয়; বরং যথার্থ জ্ঞান লাভ করে উন্নত জীবনযাপন ও দুঃখমুক্তি লাভ করা। তাই ভারতীয় দর্শন ব্যবহারিক।

৫. “জীবনের জন্য জ্ঞান, জ্ঞানের জন্য জীবন নয়”—এর অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো জ্ঞান শুধু তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য নয়; বরং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জীবনের উন্নতি ও কল্যাণ সাধন করতে হবে।

৬. ভারতীয় দর্শনকে বিচারবাদী বলা হয় কেন?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনে যুক্তি, চিন্তা, বিচার ও বিশ্লেষণের গুরুত্ব রয়েছে। দার্শনিকরা যুক্তির মাধ্যমে নিজেদের মত প্রতিষ্ঠা ও অন্যের মত খণ্ডন করেছেন।

৭. ভারতীয় দর্শন কি নির্বিচারবাদী?
উত্তর: না, ভারতীয় দর্শন নির্বিচারবাদী নয়; এটি বিচারবাদী। কারণ ভারতীয় দার্শনিকরা যুক্তি ও চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

৮. ভারতীয় দর্শনকে আশাবাদী বলা হয় কেন?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনে জগৎ ও জীবনকে দুঃখময় বলা হলেও দুঃখ থেকে মুক্তির পথও দেখানো হয়েছে। তাই ভারতীয় দর্শন পরিণামে আশাবাদী।

৯. ভারতীয় দর্শনকে দুঃখবাদী না বলে আশাবাদী বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ ভারতীয় দর্শনে দুঃখকে জীবনের শেষ কথা বলা হয়নি। দুঃখের নিবৃত্তি এবং মোক্ষলাভের পথও নির্দেশ করা হয়েছে।

১০. ভারতীয় দর্শনের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ভারতীয় দর্শনের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—
১. এটি ব্যবহারিক ও জীবনমুখী।
২. এটি যুক্তি ও বিচারনির্ভর।

১১. ভারতীয় দর্শনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বের নাম লেখো।
উত্তর: কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ ভারতীয় দর্শনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব।

১২. ভারতীয় দর্শনে দুঃখের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনে দুঃখকে মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দুঃখের নিবৃত্তির পথও দেখানো হয়েছে।

১৩. ভারতীয় দর্শনকে জীবনমুখী বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ ভারতীয় দর্শন শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেনি; বরং জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগ করে দুঃখমুক্তি, নৈতিক উন্নতি ও কল্যাণ লাভের পথ দেখিয়েছে।

১৪. ভারতীয় দর্শনে যুক্তির গুরুত্ব কী?
উত্তর: ভারতীয় দার্শনিকরা বিভিন্ন মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তি, বিচার ও বিশ্লেষণ ব্যবহার করেছেন। তাই ভারতীয় দর্শনে যুক্তির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

১৫. ভারতীয় দর্শনের চরম লক্ষ্য কী?
উত্তর: চার্বাক ব্যতীত অধিকাংশ ভারতীয় দর্শনের মতে জীবনের চরম লক্ষ্য হলো মোক্ষ বা মুক্তি লাভ।

১৬. কর্মবাদ কী?
উত্তর: কর্মবাদ হলো এমন একটি মতবাদ যার মতে মানুষের কর্মের ফল অবশ্যই তাকে ভোগ করতে হয়। কর্মের ফল ইহজন্মে অথবা পরজন্মে ভোগ হতে পারে।

১৭. কর্মবাদের মূল কথা কী?
উত্তর: কর্মবাদের মূল কথা হলো—যে যেমন কর্ম করবে, তাকে তেমনই ফল ভোগ করতে হবে। কর্মের ফল কখনও বিনষ্ট হয় না।

১৮. কর্মবাদ থেকে কী সৃষ্টি হয়?
উত্তর: কর্মবাদ থেকে অনিবার্যভাবে জন্মান্তরবাদের সৃষ্টি হয়। কর্মের ফল ভোগ করার জন্য জীবকে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয়।

১৯. জন্মান্তরবাদ কী?
উত্তর: মৃত্যুর পর আত্মার নতুন দেহ ধারণ করাকে জন্মান্তরবাদ বলা হয়।

২০. ভারতীয় দর্শনে মোক্ষ কী?
উত্তর: জন্ম-মৃত্যু ও দুঃখের বন্ধন থেকে চূড়ান্ত মুক্তিলাভকে মোক্ষ বা মুক্তি বলা হয়।

২১. ভারতীয় দর্শনে মোক্ষের গুরুত্ব কী?
উত্তর: চার্বাক ছাড়া অধিকাংশ ভারতীয় দর্শনে মোক্ষকে জীবনের পরম পুরুষার্থ বা চরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

২২. ঋণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: অপরের কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করার ফলে যে কর্তব্য বা দায়িত্ব সৃষ্টি হয় তাকে ঋণ বলা হয়। ভারতীয় দর্শনে মানুষ জন্মগতভাবে বিভিন্ন ঋণের অধীন বলে মনে করা হয়।

২৩. ভারতীয় দর্শনে প্রধানত কয় প্রকার ঋণের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রধানত তিন প্রকার ঋণের কথা বলা হয়েছে—দেবঋণ, ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ।

২৪. দেবঋণ কী?
উত্তর: সূর্য, বায়ু, অগ্নি, বৃষ্টি প্রভৃতি দেবশক্তির প্রতি মানুষের যে কর্তব্য ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে তাকে দেবঋণ বলে।

২৫. দেবঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হয়?
উত্তর: যাগযজ্ঞ, পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবঋণ পরিশোধ করা হয়।

২৬. পিতৃঋণ কী?
উত্তর: পিতা-মাতা ও পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জীবন, ঐতিহ্য ও উপকারের প্রতিদান দেওয়ার কর্তব্যকে পিতৃঋণ বলা হয়।

২৭. পিতৃঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হয়?
উত্তর: পিতা-মাতার সেবা, বংশধারা রক্ষা, সন্তানদের সৎভাবে গড়ে তোলা এবং শ্রাদ্ধ ও তর্পণের মাধ্যমে পিতৃঋণ পরিশোধ করা হয়।

২৮. ঋষিঋণ কী?
উত্তর: ঋষিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতিদান দেওয়ার কর্তব্যকে ঋষিঋণ বলে।

২৯. ঋষিঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হয়?
উত্তর: বেদ ও শাস্ত্র অধ্যয়ন, জ্ঞানচর্চা, অধ্যাপনা এবং ঋষিদের শিক্ষাকে জীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমে ঋষিঋণ পরিশোধ করা হয়।

৩০. নৃঋণ কী?
উত্তর: মানুষের প্রতি সেবা, সহানুভূতি ও সাহায্যের মাধ্যমে যে ঋণ পরিশোধ করা হয় তাকে নৃঋণ বলে।

৩১. নৃঋণ কীভাবে পরিশোধ করা যায়?
উত্তর: ক্ষুধার্তকে অন্নদান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান, অসহায়কে সাহায্য এবং গৃহহীনকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে নৃঋণ পরিশোধ করা যায়।

৩২. ভূঋণ কী?
উত্তর: উদ্ভিদ, প্রাণী ও জীবজগতের সংরক্ষণ ও সেবার মাধ্যমে যে কর্তব্য পালন করা হয় তাকে ভূঋণ বলা হয়।

৩৩. ভূঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হয়?
উত্তর: বৃক্ষরোপণ, বন সংরক্ষণ, পশুপাখির যত্ন এবং জীবজগতের সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূঋণ পরিশোধ করা হয়।

৩৪. ঋত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বৈদিক দর্শনে ঋত বলতে বিশ্বজগতের চিরন্তন নিয়ম, শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্যের নীতিকে বোঝায়।

৩৫. ঋত কী?
উত্তর: ঋত হলো বৈদিক দর্শনে বিশ্বজগতের সর্বজনীন নিয়ম, শৃঙ্খলা ও নৈতিক বিধান, যার অধীনে প্রকৃতি, দেবতা ও মানুষের জীবন পরিচালিত হয়।

৩৬. ঋত ও সত্যের সম্পর্ক কী?
উত্তর: ঋগ্বেদে ঋত ও সত্যকে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত করা হয়েছে। উভয়ই অসত্য বা অনৃতের বিপরীত এবং বিশ্ব ও নৈতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত।

৩৭. অনৃত কী?
উত্তর: অনৃত হলো সত্যের বিপরীত অর্থাৎ অসত্য বা মিথ্যা। বৈদিক সাহিত্যে ঋতকে অনৃতের বিপরীত বলা হয়েছে।

৩৮. ঋত ও ধর্মের সম্পর্ক কী?
উত্তর: বৈদিক চিন্তায় ঋত ও ধর্ম পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ঋত বিশ্বজগতের নিয়ম এবং মানুষের নৈতিক আচরণেরও মানদণ্ড।

৩৯. ঋতকে নৈতিক বিধি বলা হয় কেন?
উত্তর: মানুষের চিন্তা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আচরণকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য ঋত একটি নৈতিক আদর্শ হিসেবে কাজ করে।

৪০. ঋতের তাৎপর্য প্রধানত কয়টি দিক থেকে আলোচনা করা হয়?
উত্তর: ঋতের তাৎপর্য প্রধানত চারটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়—আদিভৌতিক, আদিদৈবিক, আদিযাজ্ঞিক ও আধ্যাত্মিক।

৪১. আদিভৌতিক দিক থেকে ঋত কী?
উত্তর: আদিভৌতিক দিক থেকে ঋত হলো সমগ্র বিশ্বজগতের সার্বজনীন নিয়ম বা শৃঙ্খলা। প্রকৃতির সমস্ত ঘটনা এই নিয়মের অধীন।

৪২. আদিদৈবিক দিক থেকে ঋত কী?
উত্তর: আদিদৈবিক দিক থেকে ঋত হলো দেবতাদের শক্তি ও কার্যকলাপের নিয়ামক নীতি। দেবতারাও ঋতের নিয়মের অধীন।

৪৩. আদিযাজ্ঞিক দিক থেকে ঋত কী?
উত্তর: আদিযাজ্ঞিক দিক থেকে ঋত হলো যজ্ঞের ধারক ও নিয়ামক নীতি। যজ্ঞের বিভিন্ন বিধি-বিধান ঋতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

৪৪. আধ্যাত্মিক দিক থেকে ঋত কী?
উত্তর: আধ্যাত্মিক দিক থেকে ঋত হলো মানুষের চিন্তা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আচরণের নৈতিক বিধান।

৪৫. ঋতকে বিশ্বজগতের মূল সূত্র বলা হয় কেন?
উত্তর: প্রকৃতি, দেবতা, জীবজগৎ ও মানুষের কার্যকলাপ একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলার অধীন। এই সর্বজনীন নিয়মই ঋত।

৪৬. ঋতের বিরোধী কাজ কী?
উত্তর: ঋতের বিরোধী কাজ হলো অন্যায়, অসত্য ও অনৈতিক কাজ। ঋত অনুযায়ী কাজ ন্যায়সংগত বলে বিবেচিত হয়।

৪৭. ঋত ও অনৃতের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: ঋত হলো অনৃতের বিপরীত। ঋত সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক, আর অনৃত অসত্য বা মিথ্যার প্রতীক।

৪৮. ঋতকে অলঙ্ঘনীয় নিয়ম বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ বৈদিক চিন্তায় বিশ্বজগতের সমস্ত ঘটনা একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন এবং এই নিয়মকে কেউ ইচ্ছামতো লঙ্ঘন করতে পারে না।

৪৯. যজ্ঞ কী?
উত্তর: যজ্ঞ হলো দেবতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে আহুতি প্রদান, উপাসনা ও পবিত্র কর্ম সম্পাদনের বৈদিক পদ্ধতি।

৫০. যজ্ঞের সাধারণ অর্থ কী?
উত্তর: যজ্ঞের সাধারণ অর্থ হলো দেবতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে আহুতি প্রদান ও পবিত্র কর্ম সম্পাদন।

৫১. পাঁচটি মহাযজ্ঞ কী কী?
উত্তর: পাঁচটি মহাযজ্ঞ হলো—ব্রহ্মযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, পিতৃযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ এবং নরযজ্ঞ বা অতিথিযজ্ঞ।

৫২. ব্রহ্মযজ্ঞ কী?
উত্তর: বেদ অধ্যয়ন, বেদপাঠ ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে ঋষিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে ব্রহ্মযজ্ঞ বলে।

৫৩. ব্রহ্মযজ্ঞের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: জ্ঞান ও সংস্কৃতির ধারাকে সংরক্ষণ করা এবং ঋষিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই ব্রহ্মযজ্ঞের উদ্দেশ্য।

৫৪. দেবযজ্ঞ কী?
উত্তর: দেবতাদের উদ্দেশ্যে পূজা, প্রার্থনা এবং অগ্নিতে আহুতি প্রদানকে দেবযজ্ঞ বলে।

৫৫. দেবযজ্ঞের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: দেবতাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং কল্যাণ, বৃষ্টি, খাদ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা দেবযজ্ঞের উদ্দেশ্য।

৫৬. পিতৃযজ্ঞ কী?
উত্তর: পিতা-মাতা, পিতামহ এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে পিতৃযজ্ঞ বলে।

৫৭. পিতৃযজ্ঞের সঙ্গে কোন কোন আচার যুক্ত?
উত্তর: শ্রাদ্ধ ও তর্পণ প্রভৃতি আচার পিতৃযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত।

৫৮. ভূতযজ্ঞ কী?
উত্তর: জীবজন্তু ও অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দয়া, সহানুভূতি, সেবা ও খাদ্যদানের মাধ্যমে যে কর্তব্য পালন করা হয় তাকে ভূতযজ্ঞ বলে।

৫৯. ভূতযজ্ঞের নৈতিক শিক্ষা কী?
উত্তর: ভূতযজ্ঞ মানুষকে জীবজগতের প্রতি দয়া, সহানুভূতি, জীবপ্রেম ও সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

৬০. নরযজ্ঞ কী?
উত্তর: মানুষের প্রতি সেবা, সাহায্য, আতিথেয়তা ও সম্মান প্রদর্শনকে নরযজ্ঞ বলা হয়।

৬১. অতিথিযজ্ঞ কী?
উত্তর: অতিথিকে সম্মান, সেবা ও আতিথেয়তা প্রদানের কর্তব্যকে অতিথিযজ্ঞ বলা হয়।

৬২. “অতিথি দেবো ভব”—এর অর্থ কী?
উত্তর: “অতিথি দেবো ভব” কথাটির অর্থ হলো অতিথিকে দেবতার মতো সম্মান ও সেবা করা উচিত।

৬৩. যজ্ঞের দার্শনিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: যজ্ঞ মানুষকে কর্তব্যবোধ, কৃতজ্ঞতা, পরোপকার, আত্মসংযম ও নিঃস্বার্থ কর্মের শিক্ষা দেয়।

৬৪. গীতায় যজ্ঞের ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
উত্তর: গীতায় যজ্ঞকে শুধু অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। ফলের আসক্তি ত্যাগ করে নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্যকর্ম করাকেও যজ্ঞের ভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

৬৫. যজ্ঞের মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: যজ্ঞের মূল শিক্ষা হলো—নিঃস্বার্থভাবে কর্তব্য পালন, অন্যের কল্যাণ সাধন, প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

৬৬. পাঁচটি মহাযজ্ঞ মানুষের কোন কোন দায়িত্ব প্রকাশ করে?
উত্তর: ব্রহ্মযজ্ঞ জ্ঞান ও ঋষিদের প্রতি, দেবযজ্ঞ দেবতা ও প্রকৃতির প্রতি, পিতৃযজ্ঞ পূর্বপুরুষদের প্রতি, ভূতযজ্ঞ জীবজগতের প্রতি এবং নরযজ্ঞ মানুষের প্রতি দায়িত্ব প্রকাশ করে।

৬৭. আস্তিক দর্শন কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল ভারতীয় দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে, তাদের আস্তিক দর্শন বলা হয়।

৬৮. নাস্তিক দর্শন কাকে বলে?
উত্তর: যে সকল ভারতীয় দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে না, তাদের নাস্তিক দর্শন বলা হয়।

৬৯. আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের শ্রেণীবিভাগের প্রধান ভিত্তি কী?
উত্তর: আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের শ্রেণীবিভাগের প্রধান ভিত্তি হলো বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করা।

৭০. আস্তিক দর্শনের ছয়টি সম্প্রদায়ের নাম লেখো।
উত্তর: ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, পূর্বমীমাংসা ও বেদান্ত।

৭১. নাস্তিক দর্শনের তিনটি সম্প্রদায়ের নাম লেখো।
উত্তর: চার্বাক, বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন।

৭২. আস্তিক শব্দের অর্থ কি ঈশ্বরবিশ্বাসী?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনের প্রচলিত অর্থে আস্তিক শব্দের অর্থ সরাসরি ঈশ্বরবিশ্বাসী নয়। বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করাই আস্তিকতার প্রধান লক্ষণ।

৭৩. নাস্তিক শব্দের অর্থ কি ঈশ্বরকে অস্বীকারকারী?
উত্তর: ভারতীয় দর্শনের প্রচলিত অর্থে নাস্তিক শব্দের অর্থ শুধু ঈশ্বরকে অস্বীকারকারী নয়। যে দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে না, তাকে নাস্তিক বলা হয়।

৭৪. আস্তিক দর্শন কি সকলেই ঈশ্বরবাদী?
উত্তর: না। সব আস্তিক দর্শন ঈশ্বরকে একইভাবে স্বীকার করে না। যেমন, যোগ ঈশ্বরকে স্বীকার করলেও প্রাচীন সাংখ্য সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরকে স্বীকার করে না।

৭৫. সাংখ্য দর্শন আস্তিক হওয়া সত্ত্বেও ঈশ্বরকে স্বীকার করে কি?
উত্তর: প্রাচীন সাংখ্য দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করায় আস্তিক, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের প্রয়োজন স্বীকার করে না।

৭৬. যোগ দর্শন কি ঈশ্বরকে স্বীকার করে?
উত্তর: হ্যাঁ, যোগ দর্শনে ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে এবং ঈশ্বরকে বিশেষ পুরুষ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

৭৭. চার্বাক দর্শন ঈশ্বরকে স্বীকার করে কি?
উত্তর: না, চার্বাক দর্শন ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করে না।

৭৮. বৌদ্ধ দর্শন আত্মা সম্পর্কে কী মত পোষণ করে?
উত্তর: বৌদ্ধ দর্শন অনাত্মবাদ স্বীকার করে। অর্থাৎ কোনো নিত্য ও অপরিবর্তনীয় আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।

৭৯. চার্বাক দর্শন আত্মা সম্পর্কে কী মত পোষণ করে?
উত্তর: চার্বাক দর্শন দেহের বাইরে পৃথক ও নিত্য আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করে না।

৮০. চার্বাক দর্শন কর্মবাদ স্বীকার করে কি?
উত্তর: না, চার্বাক দর্শন কর্মফল ও পুনর্জন্মের তত্ত্ব স্বীকার করে না।

৮১. বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন কর্মবাদ স্বীকার করে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন উভয়েই কর্মবাদ ও পুনর্জন্ম স্বীকার করে। তবে তাদের ব্যাখ্যা পৃথক।

৮২. চার্বাক দর্শনের প্রধান প্রমাণ কী?
উত্তর: চার্বাক দর্শন প্রত্যক্ষকেই প্রধান ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।

৮৩. আস্তিক দর্শনে কোন কোন প্রমাণ স্বীকৃত?
উত্তর: বিভিন্ন আস্তিক দর্শনে প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান, শব্দ প্রভৃতি বিভিন্ন প্রমাণ স্বীকার করা হয়েছে।

৮৪. আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: আস্তিক দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে, কিন্তু নাস্তিক দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে না। এটিই তাদের প্রধান পার্থক্য।

৮৫. নাস্তিক দর্শন কি সকলেই আত্মা অস্বীকার করে?
উত্তর: না। বৌদ্ধ দর্শন নিত্য আত্মাকে অস্বীকার করলেও জৈন দর্শন আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করে।

৮৬. নাস্তিক দর্শন কি সকলেই কর্মবাদ অস্বীকার করে?
উত্তর: না। চার্বাক কর্মবাদ অস্বীকার করলেও বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন কর্মবাদ ও পুনর্জন্ম স্বীকার করে।

৮৭. চার্বাক দর্শনের বিশেষত্ব কী?
উত্তর: চার্বাক বস্তুবাদী দর্শন। এটি বেদের প্রামাণ্যতা, কর্মফল, পুনর্জন্ম, পরলোক ও মোক্ষ স্বীকার করে না এবং প্রত্যক্ষ জ্ঞানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

৮৮. বৌদ্ধ দর্শনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: বৌদ্ধ দর্শনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অনাত্মবাদ। এটি নিত্য আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং দুঃখের নিবৃত্তি বা নির্বাণকে মুক্তির আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে।

৮৯. জৈন দর্শনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: জৈন দর্শন আত্মার অস্তিত্ব, কর্মবাদ ও পুনর্জন্ম স্বীকার করে এবং কর্মবন্ধন থেকে আত্মার মুক্তিলাভকে মোক্ষ বলে মনে করে।

৯০. ভারতীয় দর্শনে মুক্তি লাভের প্রয়োজন কেন?
উত্তর: জন্ম-মৃত্যু, দুঃখ ও কর্মবন্ধন থেকে চূড়ান্ত মুক্তির জন্য মোক্ষলাভের প্রয়োজন। তাই অধিকাংশ ভারতীয় দর্শনে এটি জীবনের পরম লক্ষ্য।

পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মান–২ প্রশ্ন

১. ভারতীয় দর্শন বলতে কী বোঝো?
২. আস্তিক দর্শন কাকে বলে?
৩. নাস্তিক দর্শন কাকে বলে?
৪. ষড়দর্শন বলতে কী বোঝো?
৫. ভারতীয় দর্শনের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
৬. ভারতীয় দর্শনকে বিচারবাদী বলা হয় কেন?
৭. ভারতীয় দর্শনকে আশাবাদী বলা হয় কেন?
৮. কর্মবাদ কী?
৯. জন্মান্তরবাদ কী?
১০. মোক্ষ কী?
১১. ঋণ বলতে কী বোঝো?
১২. দেবঋণ কী?
১৩. পিতৃঋণ কী?
১৪. ঋষিঋণ কী?
১৫. নৃঋণ কী?
১৬. ভূঋণ কী?
১৭. ঋত কী?
১৮. ঋত ও সত্যের সম্পর্ক কী?
১৯. ঋতের চারটি দিক কী কী?
২০. আদিভৌতিক দিক থেকে ঋত কী?
২১. আদিদৈবিক দিক থেকে ঋত কী?
২২. আদিযাজ্ঞিক দিক থেকে ঋত কী?
২৩. আধ্যাত্মিক দিক থেকে ঋত কী?
২৪. যজ্ঞ কী?
২৫. পাঁচটি মহাযজ্ঞের নাম লেখো।
২৬. ব্রহ্মযজ্ঞ কী?
২৭. দেবযজ্ঞ কী?
২৮. পিতৃযজ্ঞ কী?
২৯. ভূতযজ্ঞ কী?
৩০. নরযজ্ঞ কী?
৩১. অতিথিযজ্ঞ কী?
৩২. “অতিথি দেবো ভব”—এর অর্থ কী?
৩৩. যজ্ঞের দার্শনিক গুরুত্ব কী?
৩৪. গীতায় যজ্ঞের ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে?
৩৫. আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের শ্রেণীবিভাগের ভিত্তি কী?
৩৬. আস্তিক দর্শনের ছয়টি সম্প্রদায়ের নাম লেখো।
৩৭. নাস্তিক দর্শনের তিনটি সম্প্রদায়ের নাম লেখো।
৩৮. আস্তিক দর্শন কি সকলেই ঈশ্বরবাদী?
৩৯. নাস্তিক দর্শন কি সকলেই ঈশ্বরকে অস্বীকার করে?
৪০. বৌদ্ধ দর্শনের অনাত্মবাদ কী?
৪১. চার্বাক কর্মবাদ স্বীকার করে কি?
৪২. বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন কর্মবাদ স্বীকার করে কি?
৪৩. চার্বাকের প্রধান প্রমাণ কী?
৪৪. আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের প্রধান পার্থক্য কী?
৪৫. ভারতীয় দর্শনে মোক্ষের গুরুত্ব কী

১. ভারতীয় দর্শন বলতে কী বোঝায়?
ক) কেবল হিন্দু দর্শন
খ) কেবল আস্তিক দর্শন
গ) সমস্ত ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়
ঘ) কেবল বেদান্ত দর্শন
উত্তর: গ) সমস্ত ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়

২. ‘হিন্দু’ শব্দটি প্রাচীনকালে কোন অর্থে ব্যবহৃত হতো?
ক) ধর্মীয় অর্থে
খ) রাজনৈতিক অর্থে
গ) ভৌগোলিক অর্থে
ঘ) সাংস্কৃতিক অর্থে
উত্তর: গ) ভৌগোলিক অর্থে

৩. নিম্নলিখিত কোনটি নাস্তিক দর্শন?
ক) ন্যায়
খ) যোগ
গ) চার্বাক
ঘ) বেদান্ত
উত্তর: গ) চার্বাক

৪. নিম্নলিখিত কোনটি আস্তিক দর্শন?
ক) জৈন
খ) বৌদ্ধ
গ) চার্বাক
ঘ) মীমাংসা
উত্তর: ঘ) মীমাংসা

৫. নাস্তিক দর্শন বেদের কী অস্বীকার করে?
ক) অস্তিত্ব
খ) প্রামাণ্য
গ) শিক্ষা
ঘ) ভাষা
উত্তর: খ) প্রামাণ্য

৬. আস্তিক দর্শন বেদের কী স্বীকার করে?
ক) ভাষা
খ) প্রামাণ্য
গ) ইতিহাস
ঘ) সাহিত্য
উত্তর: খ) প্রামাণ্য

৭. ভারতীয় দর্শনের প্রধান লক্ষ্য কী?
ক) ধনসম্পদ অর্জন
খ) যথার্থ জ্ঞান লাভ ও সৎ জীবনযাপন
গ) রাজনৈতিক ক্ষমতা
ঘ) বিজ্ঞানচর্চা
উত্তর: খ) যথার্থ জ্ঞান লাভ ও সৎ জীবনযাপন

৮. “জীবনের জন্য জ্ঞান, জ্ঞানের জন্য জীবন নয়”—এই মতটি কোন দর্শনের?
ক) বৌদ্ধ
খ) জৈন
গ) ন্যায়
ঘ) যোগ
উত্তর: খ) জৈন

৯. ভারতীয় দর্শনের ব্যবহারিক দিককে কী বলা হয়?
ক) সীমিত
খ) অপ্রয়োজনীয়
গ) অপরিসীম
ঘ) দুর্বল
উত্তর: গ) অপরিসীম

১০. ভারতীয় দর্শন কেমন প্রকৃতির?
ক) নির্বিচারবাদী
খ) বিচারবাদী
গ) জড়বাদী
ঘ) সংশয়বাদী
উত্তর: খ) বিচারবাদী

১১. ভারতীয় দর্শনে কোনটির স্থান রয়েছে?
ক) অন্ধবিশ্বাস
খ) স্বাধীন যুক্তি ও চিন্তা
গ) কুসংস্কার
ঘ) অলৌকিকতা
উত্তর: খ) স্বাধীন যুক্তি ও চিন্তা

১২. ভারতীয় দর্শনে মত প্রতিষ্ঠার প্রধান উপায় কী?
ক) বলপ্রয়োগ
খ) কল্পনা
গ) যুক্তি ও বিশ্লেষণ
ঘ) অনুকরণ
উত্তর: গ) যুক্তি ও বিশ্লেষণ

১৩. ভারতীয় দর্শনকে শেষ পর্যন্ত কী বলা হয়?
ক) দুঃখবাদী
খ) নাস্তিকবাদী
গ) আশাবাদী
ঘ) ভোগবাদী
উত্তর: গ) আশাবাদী

১৪. ভারতীয় দর্শন আশাবাদী কেন?
ক) সুখের কথা বলে
খ) দুঃখের কারণ বলে
গ) দুঃখনিবৃত্তির পথ দেখায়
ঘ) ভোগের কথা বলে
উত্তর: গ) দুঃখনিবৃত্তির পথ দেখায়

১৫. অধিকাংশ ভারতীয় দর্শন কোন মতবাদে বিশ্বাসী?
ক) ভোগবাদ
খ) কর্মবাদ
গ) সংশয়বাদ
ঘ) নৈরাশ্যবাদ
উত্তর: খ) কর্মবাদ

১৬. কর্মবাদের মূল কথা কী?
ক) কর্মের ফল নষ্ট হয়
খ) কর্মের ফল অন্যে ভোগ করে
গ) কর্মের ফল অবশ্যই ভোগ করতে হয়
ঘ) কর্মের ফল নেই
উত্তর: গ) কর্মের ফল অবশ্যই ভোগ করতে হয়

১৭. ঋকবেদে কর্মের নিয়মকে কী বলা হয়েছে?
ক) ধর্ম
খ) ঋত
গ) মোক্ষ
ঘ) যোগ
উত্তর: খ) ঋত

১৮. জন্মান্তরবাদ কী?
ক) নতুন ধর্ম গ্রহণ
খ) আত্মার নতুন দেহ ধারণ
গ) স্বর্গে যাওয়া
ঘ) মুক্তি লাভ
উত্তর: খ) আত্মার নতুন দেহ ধারণ

১৯. চার্বাক ছাড়া অধিকাংশ সম্প্রদায় কী বিশ্বাস করে?
ক) জন্মান্তরবাদ
খ) ভোগবাদ
গ) নাস্তিক্যবাদ
ঘ) সংশয়বাদ
উত্তর: ক) জন্মান্তরবাদ

২০. জীবনের পরম পুরুষার্থ হিসেবে কীকে গণ্য করা হয়?
ক) অর্থ
খ) কাম
গ) মোক্ষ
ঘ) যজ্ঞ
উত্তর: গ) মোক্ষ

১. ‘ঋণ’ বলতে কী বোঝায়?

(A) দান
(B) ত্যাগ
(C) অপরের কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ
(D) যজ্ঞ
উত্তর: (C) অপরের কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ

২. ভারতীয় দর্শনে ঋণকে কী বলা হয়েছে?

(A) অধিকার
(B) কর্তব্য
(C) সম্পদ
(D) ধর্ম
উত্তর: (B) কর্তব্য

৩. ভারতীয় দর্শনে ঋণ কত প্রকার?

(A) ৩
(B) ৪
(C) ৫
(D) ৬
উত্তর: (C) ৫

৪. নিম্নের কোনটি পাঁচ প্রকার ঋণের অন্তর্ভুক্ত নয়?

(A) দেবঋণ
(B) পিতৃঋণ
(C) ঋষিঋণ
(D) অর্থঋণ
উত্তর: (D) অর্থঋণ

৫. সূর্য, বায়ু, অগ্নি ও বৃষ্টির সঙ্গে কোন ঋণ সম্পর্কিত?

(A) পিতৃঋণ
(B) নৃ-ঋণ
(C) দেবঋণ
(D) ভূতঋণ
উত্তর: (C) দেবঋণ

৬. দেবঋণ পরিশোধ করা হয় কীসের মাধ্যমে?

(A) বেদ অধ্যয়ন
(B) যাগ-যজ্ঞ
(C) অন্নদান
(D) বৃক্ষরোপণ
উত্তর: (B) যাগ-যজ্ঞ

৭. বংশধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে কোন ঋণ পরিশোধ হয়?

(A) পিতৃঋণ
(B) ঋষিঋণ
(C) নৃ-ঋণ
(D) ভূতঋণ
উত্তর: (A) পিতৃঋণ

৮. সন্তান-সন্ততি উৎপাদনের সঙ্গে কোন ঋণ সম্পর্কিত?

(A) দেবঋণ
(B) পিতৃঋণ
(C) ঋষিঋণ
(D) ভূতঋণ
উত্তর: (B) পিতৃঋণ

৯. বেদ অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার মাধ্যমে কোন ঋণ পরিশোধ করা হয়?

(A) নৃ-ঋণ
(B) ভূতঋণ
(C) ঋষিঋণ
(D) দেবঋণ
উত্তর: (C) ঋষিঋণ

১০. জ্ঞানচর্চার সঙ্গে কোন ঋণ যুক্ত?

(A) পিতৃঋণ
(B) ঋষিঋণ
(C) নৃ-ঋণ
(D) ভূতঋণ
উত্তর: (B) ঋষিঋণ

১১. গৃহহীনদের বাসস্থান দান করা কোন ঋণের অন্তর্ভুক্ত?

(A) নৃ-ঋণ
(B) পিতৃঋণ
(C) দেবঋণ
(D) ঋষিঋণ
উত্তর: (A) নৃ-ঋণ

১২. ক্ষুধার্তকে অন্নদান করা কোন ঋণের উদাহরণ?

(A) ভূতঋণ
(B) নৃ-ঋণ
(C) দেবঋণ
(D) পিতৃঋণ
উত্তর: (B) নৃ-ঋণ

১৩. বস্ত্রহীনদের বস্ত্রদান কোন ঋণের অন্তর্ভুক্ত?

(A) দেবঋণ
(B) ভূতঋণ
(C) নৃ-ঋণ
(D) ঋষিঋণ
উত্তর: (C) নৃ-ঋণ

১৪. উদ্ভিদ ও প্রাণীর সেবার মাধ্যমে কোন ঋণ পরিশোধ হয়?

(A) ভূতঋণ
(B) দেবঋণ
(C) পিতৃঋণ
(D) নৃ-ঋণ
উত্তর: (A) ভূতঋণ

১৫. প্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে কোন ঋণ সম্পর্কিত?

(A) ঋষিঋণ
(B) নৃ-ঋণ
(C) ভূতঋণ
(D) দেবঋণ
উত্তর: (C) ভূতঋণ

১৬. সূর্য ও বায়ুকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে?

(A) ঋষি
(B) দেবতা
(C) পূর্বপুরুষ
(D) মানুষ
উত্তর: (B) দেবতা

১৭. ঋষিঋণ পরিশোধের প্রধান উপায় কী?

(A) যজ্ঞ
(B) দান
(C) বেদ অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা
(D) বৃক্ষরোপণ
উত্তর: (C) বেদ অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা

১৮. পাঁচ প্রকার ঋণের মধ্যে সমাজসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত ঋণ কোনটি?

(A) দেবঋণ
(B) নৃ-ঋণ
(C) পিতৃঋণ
(D) ঋষিঋণ
উত্তর:(B) নৃ-ঋণ

১৯. প্রকৃতি ও জীবজগতের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে কোন ঋণ?

(A) দেবঋণ
(B) ঋষিঋণ
(C) ভূতঋণ
(D) পিতৃঋণ
উত্তর: (C) ভূতঋণ

২০. ভারতীয় দর্শনে মানুষের বিভিন্ন কর্তব্যকে এক কথায় কী বলা হয়?

(A) ধর্ম
(B) কর্ম
(C) ঋণ
(D) মোক্ষ
উত্তর: (C) ঋণ

১. ঋগ্বেদের বিভিন্ন স্থানে ঋতকে কী বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
(A) কর্ম (B) মোক্ষ (C) সত্য ও ধর্ম (D) যজ্ঞ
উত্তর: (C) সত্য ও ধর্ম

২. ঋগ্বেদে ঋতকে কিসের বিপরীত বলা হয়েছে?
(A) ধর্ম (B) সত্য (C) অনৃত (D) যজ্ঞ
উত্তর: (C) অনৃত

৩. ‘অনৃত’ বলতে কী বোঝায়?
(A) সত্য (B) মিথ্যা বা অসত্য (C) ধর্ম (D) যজ্ঞ
উত্তর: (B) মিথ্যা বা অসত্য

৪. ঋগ্বেদে সত্যকে কী বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
(A) উগ্র (B) বৃহৎ (C) অনন্ত (D) দিব্য
উত্তর: (B) বৃহৎ

৫. ঋগ্বেদে ঋতকে কী বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
(A) উগ্র (B) বৃহৎ (C) ধর্মময় (D) অনন্ত
উত্তর: (A) উগ্র

৬. সত্য, ঋত ও অনৃত সবকিছুকে নিয়ে কী গঠিত হয়?
(A) কর্ম (B) মোক্ষ (C) ধর্ম (D) যজ্ঞ
উত্তর: (C) ধর্ম

৭. ঋত মূলত কী ধরনের নীতি?
(A) রাজনৈতিক (B) অর্থনৈতিক (C) নৈতিক সমন্বয়ের নীতি (D) সামাজিক নীতি
উত্তর: (C) নৈতিক সমন্বয়ের নীতি

৮. ঋত অনুযায়ী যে কাজ করা হয় তাকে কী বলা হয়?
(A) অন্যায় (B) পাপ (C) ন্যায় বা যথোচিত (D) অনৃত
উত্তর: (C) ন্যায় বা যথোচিত

৯. ঋতের তাৎপর্য প্রধানত কয়টি দিক থেকে আলোচনা করা হয়েছে?
(A) ২টি (B) ৩টি (C) ৪টি (D) ৫টি
উত্তর: (C) ৪টি

১০. নিম্নলিখিত কোনটি ঋতের চারটি দিকের অন্তর্ভুক্ত নয়?
(A) আদিভৌতিক (B) আদিদৈবিক (C) আদিযাজ্ঞিক (D) আধিদৈহিক
উত্তর: (D) আধিদৈহিক

১১. আদিভৌতিক দিক থেকে ঋত কী?
(A) দেবশক্তি (B) যজ্ঞনীতি (C) বিশ্বতাত্ত্বিক নিয়ম (D) নৈতিক বিধান
উত্তর: (C) বিশ্বতাত্ত্বিক নিয়ম

১২. সূর্যের উদয়-অস্ত এবং ঋতুচক্রের আবর্তন কিসের অধীন?
(A) ধর্ম (B) ঋত (C) যজ্ঞ (D) কর্ম
উত্তর: (B) ঋত

১৩. আদিদৈবিক দিক থেকে ঋত কী?
(A) দেবতাদের শক্তির উৎস (B) মানুষের নীতি (C) যজ্ঞের ফল (D) মোক্ষের পথ
উত্তর: (A) দেবতাদের শক্তির উৎস

১৪. বৈদিক মতে দেবতারা কিসের নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হন?
(A) কর্ম (B) ধর্ম (C) ঋত (D) যজ্ঞ
উত্তর: (C) ঋত

১৫. আদিযাজ্ঞিক দিক থেকে ঋত কী?
(A) যজ্ঞের ধারক ও নিয়ামক (B) দেবতার শক্তি (C) নৈতিক আদর্শ (D) প্রকৃতির নিয়ম
উত্তর: (A) যজ্ঞের ধারক ও নিয়ামক

১৬. বৈদিক যুগে ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু কী ছিল?
(A) তপস্যা (B) যজ্ঞ (C) ধ্যান (D) শিক্ষা
উত্তর: (B) যজ্ঞ

১৭. আধ্যাত্মিক দিক থেকে ঋত কী?
(A) বিশ্বতাত্ত্বিক নিয়ম (B) যজ্ঞের বিধান (C) নৈতিক আদর্শ (D) দেবশক্তি
উত্তর: (C) নৈতিক আদর্শ

১৮. নিম্নের কোন গুণটি ঋত অনুসরণের সঙ্গে সম্পর্কিত?
(A) সত্যবাদিতা (B) ন্যায়পরায়ণতা (C) সংযম (D) উপরের সবকটি
উত্তর: (D) উপরের সবকটি

১৯. বৈদিক ধ্যান-ধারণায় ঋতকে কী বলা হয়েছে?
(A) বিশ্বের মূল সূত্র (B) যজ্ঞের ফল (C) দেবতাদের আবাস (D) মোক্ষের পথ
উত্তর: (A) বিশ্বের মূল সূত্র

২০. বৈদিক দর্শনে ঋতকে কী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?
(A) সামাজিক প্রথা (B) রাজনৈতিক আদর্শ (C) বিশ্বব্যবস্থার ঐক্য ও স্থিতিশীলতার চিরন্তন ভিত্তি (D) ব্যক্তিগত বিশ্বাস
উত্তর: (C) বিশ্বব্যবস্থার ঐক্য ও স্থিতিশীলতার চিরন্তন ভিত্তি।

১. ‘যজ্ঞ’ শব্দের সাধারণ অর্থ কী?
ক) তপস্যা করা
খ) দেবতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে আহুতি ও পবিত্র কর্ম সম্পাদন
গ) ধ্যান করা
ঘ) জ্ঞান অর্জন করা
উত্তর: খ) দেবতার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে আহুতি ও পবিত্র কর্ম সম্পাদন

২. গৃহস্থের নিত্য কর্তব্য হিসেবে প্রধানত কয়টি মহাযজ্ঞের কথা বলা হয়?
ক) তিনটি
খ) চারটি
গ) পাঁচটি
ঘ) ছয়টি
উত্তর: গ) পাঁচটি

৩. নিচের কোনটি পাঁচ মহাযজ্ঞের অন্তর্ভুক্ত?
ক) ব্রহ্মযজ্ঞ
খ) রাজযজ্ঞ
গ) যুদ্ধযজ্ঞ
ঘ) ধনযজ্ঞ
উত্তর: ক) ব্রহ্মযজ্ঞ

৪. ব্রহ্মযজ্ঞের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
ক) যুদ্ধ করা
খ) বেদ অধ্যয়ন ও জ্ঞানচর্চা
গ) সম্পদ অর্জন
ঘ) রাজ্য বিস্তার
উত্তর: খ) বেদ অধ্যয়ন ও জ্ঞানচর্চা

৫. ব্রহ্মযজ্ঞ মূলত কার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) পূর্বপুরুষ
খ) দেবতা
গ) ঋষি ও জ্ঞানপরম্পরা
ঘ) প্রাণী
উত্তর: গ) ঋষি ও জ্ঞানপরম্পরা

৬. দেবযজ্ঞ কাদের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়?
ক) পূর্বপুরুষদের
খ) দেবতাদের
গ) অতিথিদের
ঘ) শিক্ষকদের
উত্তর: খ) দেবতাদের

৭. দেবযজ্ঞের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কী?
ক) অগ্নিতে আহুতি প্রদান
খ) যুদ্ধ করা
গ) উপবাস করা
ঘ) তীর্থভ্রমণ করা
উত্তর: ক) অগ্নিতে আহুতি প্রদান

৮. পিতৃযজ্ঞ কাদের উদ্দেশ্যে করা হয়?
ক) দেবতাদের
খ) ঋষিদের
গ) পূর্বপুরুষদের
ঘ) অতিথিদের
উত্তর: গ) পূর্বপুরুষদের

৯. পিতৃযজ্ঞের সঙ্গে কোনটি বিশেষভাবে সম্পর্কিত?
ক) শ্রাদ্ধ ও তর্পণ
খ) বেদপাঠ
গ) অগ্নিহোত্র
ঘ) ধ্যান
উত্তর: ক) শ্রাদ্ধ ও তর্পণ

১০. ভূতযজ্ঞে ‘ভূত’ বলতে কী বোঝায়?
ক) অশরীরী আত্মা
খ) জীবিত প্রাণী
গ) দেবতা
ঘ) পূর্বপুরুষ
উত্তর: খ) জীবিত প্রাণী

১১. ভূতযজ্ঞের মূল শিক্ষা কী?
ক) সম্পদ অর্জন
খ) জীবজগতের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি
গ) কঠোর তপস্যা
ঘ) রাজনীতি
উত্তর: খ) জীবজগতের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি

১২. নরযজ্ঞের অপর নাম কী?
ক) অতিথিযজ্ঞ
খ) পিতৃযজ্ঞ
গ) দেবযজ্ঞ
ঘ) ব্রহ্মযজ্ঞ
উত্তর: ক) অতিথিযজ্ঞ

১৩. নরযজ্ঞের প্রধান বিষয় কী?
ক) প্রাণীর সেবা
খ) মানুষের সেবা ও আতিথেয়তা
গ) দেবতার পূজা
ঘ) বেদ অধ্যয়ন
উত্তর: খ) মানুষের সেবা ও আতিথেয়তা

১৪. ‘অতিথি দেবো ভব’—এই আদর্শটি কোন যজ্ঞের সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) ব্রহ্মযজ্ঞ
খ) দেবযজ্ঞ
গ) নরযজ্ঞ
ঘ) ভূতযজ্ঞ
উত্তর: গ) নরযজ্ঞ

১৫. পাঁচ মহাযজ্ঞের মধ্যে জ্ঞান ও শিক্ষার সঙ্গে কোন যজ্ঞটি সম্পর্কিত?
ক) ব্রহ্মযজ্ঞ
খ) পিতৃযজ্ঞ
গ) ভূতযজ্ঞ
ঘ) নরযজ্ঞ
উত্তর: ক) ব্রহ্মযজ্ঞ

১৬. পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যজ্ঞ কোনটি?
ক) দেবযজ্ঞ
খ) পিতৃযজ্ঞ
গ) ভূতযজ্ঞ
ঘ) নরযজ্ঞ
উত্তর: খ) পিতৃযজ্ঞ

১৭. প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি ও সেবার আদর্শ কোন যজ্ঞে প্রকাশিত হয়?
ক) ব্রহ্মযজ্ঞ
খ) দেবযজ্ঞ
গ) ভূতযজ্ঞ
ঘ) পিতৃযজ্ঞ
উত্তর: গ) ভূতযজ্ঞ

১৮. মানুষের প্রতি সেবা, সাহায্য ও আতিথেয়তার আদর্শ কোন যজ্ঞে পাওয়া যায়?
ক) নরযজ্ঞ
খ) পিতৃযজ্ঞ
গ) ব্রহ্মযজ্ঞ
ঘ) দেবযজ্ঞ
উত্তর: ক) নরযজ্ঞ

১৯. ভগবদ্গীতায় যজ্ঞের ধারণা কোনটির সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত?
ক) নিঃস্বার্থ কর্তব্যকর্ম
খ) কেবল অগ্নিপূজা
গ) যুদ্ধবিরতি
ঘ) সম্পদ সঞ্চয়
উত্তর: ক) নিঃস্বার্থ কর্তব্যকর্ম

২০. যজ্ঞের অন্তর্নিহিত প্রধান শিক্ষা কী?
ক) ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি
খ) কর্তব্য, কৃতজ্ঞতা, পরোপকার ও বৃহত্তর কল্যাণ
গ) সম্পদ বৃদ্ধি
ঘ) সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
উত্তর: খ) কর্তব্য, কৃতজ্ঞতা, পরোপকার ও বৃহত্তর কল্যাণ

১. ভারতীয় দর্শনে আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের প্রধান ভিত্তি কী?
ক) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
খ) আত্মার অস্তিত্ব
গ) বেদের প্রামাণ্যতা
ঘ) কর্মফল
উত্তর: গ) বেদের প্রামাণ্যতা

২. যে দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে তাকে কী বলা হয়?
ক) নাস্তিক দর্শন
খ) আস্তিক দর্শন
গ) বস্তুবাদী দর্শন
ঘ) সংশয়বাদী দর্শন
উত্তর: খ) আস্তিক দর্শন

৩. নিচের কোনটি আস্তিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত?
ক) চার্বাক
খ) বৌদ্ধ
গ) জৈন
ঘ) ন্যায়
উত্তর: ঘ) ন্যায়

৪. নিচের কোনটি নাস্তিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত?
ক) বেদান্ত
খ) যোগ
গ) বৌদ্ধ
ঘ) বৈশেষিক
উত্তর: গ) বৌদ্ধ

৫. ভারতীয় দর্শনের আস্তিক সম্প্রদায় কয়টি?
ক) ৩টি
খ) ৪টি
গ) ৬টি
ঘ) ৯টি
উত্তর: গ) ৬টি

৬. নিচের কোনটি ষড়দর্শনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
ক) সাংখ্য
খ) যোগ
গ) বৌদ্ধ
ঘ) মীমাংসা
উত্তর: গ) বৌদ্ধ

৭. নিচের কোন তিনটি দর্শনকে সাধারণত নাস্তিক দর্শন বলা হয়?
ক) ন্যায়, যোগ, বেদান্ত
খ) চার্বাক, বৌদ্ধ, জৈন
গ) সাংখ্য, যোগ, মীমাংসা
ঘ) বৈশেষিক, ন্যায়, সাংখ্য
উত্তর: খ) চার্বাক, বৌদ্ধ, জৈন

৮. আস্তিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
ক) পূর্বমীমাংসা
খ) বেদান্ত
গ) চার্বাক
ঘ) বৈশেষিক
উত্তর: গ) চার্বাক

৯. নাস্তিক দর্শনের মধ্যে কোন দর্শন বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকার করে না?
ক) বেদান্ত
খ) ন্যায়
গ) বৌদ্ধ
ঘ) যোগ
উত্তর: গ) বৌদ্ধ

১০. বৌদ্ধ দর্শনের মূল আত্মতাত্ত্বিক মতবাদ কোনটি?
ক) আত্মবাদ
খ) অনাত্মবাদ
গ) দেহাত্মবাদ
ঘ) ব্রহ্মবাদ
উত্তর: খ) অনাত্মবাদ

১১. চার্বাক দর্শন কোন ধারণাকে অস্বীকার করে?
ক) ইহজগৎ
খ) প্রত্যক্ষ
গ) পরলোক ও পুনর্জন্ম
ঘ) দেহ
উত্তর: গ) পরলোক ও পুনর্জন্ম

১২. চার্বাক দর্শন প্রধানত কোন প্রমাণকে গ্রহণ করে?
ক) অনুমান
খ) শব্দ
গ) উপমান
ঘ) প্রত্যক্ষ
উত্তর: ঘ) প্রত্যক্ষ

১৩. আস্তিক দর্শনের অন্তর্ভুক্ত দর্শনগুলির সংখ্যা কত?
ক) ২
খ) ৩
গ) ৫
ঘ) ৬
উত্তর: ঘ) ৬

১৪. নিচের কোন দর্শনে ঈশ্বরের স্বীকৃতি রয়েছে?
ক) যোগ
খ) চার্বাক
গ) বৌদ্ধ
ঘ) জৈন
উত্তর: ক) যোগ

১৫. আস্তিক ও নাস্তিক শব্দের অর্থ নির্ধারণে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
ক) ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস
খ) বেদের প্রতি বিশ্বাস
গ) আত্মার প্রতি বিশ্বাস
ঘ) পুনর্জন্মের প্রতি বিশ্বাস
উত্তর: খ) বেদের প্রতি বিশ্বাস

১৬. নিচের কোন দর্শনকে দেহাত্মবাদী বলা হয়?
ক) বেদান্ত
খ) চার্বাক
গ) যোগ
ঘ) ন্যায়
উত্তর: খ) চার্বাক

১৭. বৌদ্ধ ও জৈন দর্শন কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?
ক) আস্তিক
খ) নাস্তিক
গ) বৈদিক
ঘ) ঈশ্বরবাদী
উত্তর: খ) নাস্তিক

১৮. ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, মীমাংসা ও বেদান্তকে একত্রে কী বলা হয়?
ক) ত্রিরত্ন
খ) ত্রিপিটক
গ) ষড়দর্শন
ঘ) চতুর্বেদ
উত্তর: গ) ষড়দর্শন

১৯. আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের পার্থক্য সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
ক) আস্তিক মানেই ঈশ্বরবাদী
খ) নাস্তিক মানেই বস্তুবাদী
গ) আস্তিক-নাস্তিকের প্রধান ভিত্তি বেদের প্রামাণ্যতা
ঘ) উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই
উত্তর: গ) আস্তিক-নাস্তিকের প্রধান ভিত্তি বেদের প্রামাণ্যতা

২০. নিচের কোনটি আস্তিক ও নাস্তিক দর্শনের পার্থক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়?
ক) বেদের প্রামাণ্যতা
খ) আত্মার ধারণা
গ) কর্ম ও পুনর্জন্ম
ঘ) ভাষার বর্ণমালা
উত্তর: ঘ) ভাষার বর্ণমালা

MCQ প্রশ্নাবলি : চার্বাক কীভাবে উপমান প্রমাণ খণ্ডন করেছেন? | উপমান প্রমাণের খণ্ডন | B.A. Philosophy 2026

১. চার্বাক দর্শন কোন প্রমাণকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে স্বীকার করে?
ক) অনুমান
খ) উপমান
গ) প্রত্যক্ষ
ঘ) শব্দ
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষ

২. ‘উপমান’ শব্দের সাধারণ অর্থ কী?
ক) অনুমান
খ) সাদৃশ্যের মাধ্যমে জ্ঞান
গ) শব্দের মাধ্যমে জ্ঞান
ঘ) স্মৃতির মাধ্যমে জ্ঞান
উত্তর: খ) সাদৃশ্যের মাধ্যমে জ্ঞান

৩. ন্যায় দর্শন উপমানকে কী হিসেবে স্বীকার করে?
ক) অপ্রমাণ
খ) স্বতন্ত্র প্রমাণ
গ) স্মৃতি
ঘ) প্রত্যক্ষ
উত্তর: খ) স্বতন্ত্র প্রমাণ

৪. চার্বাকরা উপমানকে কেন অস্বীকার করেন?
ক) এটি অসম্ভব
খ) এটি কেবল শব্দের উপর নির্ভরশীল
গ) উপমানজাত জ্ঞান প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়
ঘ) এটি কেবল অনুমানের উপর নির্ভরশীল
উত্তর: গ) উপমানজাত জ্ঞান প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়

৫. গবয়কে কোন প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করা হয়?
ক) ঘোড়া
খ) হাতি
গ) গোরু
ঘ) মহিষ
উত্তর: গ) গোরু

৬. “গবয় গোরুর মতো দেখতে”—এই জ্ঞানটি প্রথমে কীভাবে লাভ হয়?
ক) প্রত্যক্ষের মাধ্যমে
খ) পূর্বশ্রুত বাক্যের মাধ্যমে
গ) অনুমানের মাধ্যমে
ঘ) উপমিতির মাধ্যমে
উত্তর: খ) পূর্বশ্রুত বাক্যের মাধ্যমে

৭. গবয়কে বনে দেখার সময় তার সাদৃশ্য কীভাবে জানা যায়?
ক) প্রত্যক্ষের মাধ্যমে
খ) অনুমানের মাধ্যমে
গ) শব্দের মাধ্যমে
ঘ) অর্থাপত্তির মাধ্যমে
উত্তর: ক) প্রত্যক্ষের মাধ্যমে

৮. চার্বাকদের মতে উপমানজাত জ্ঞানে কোন দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?
ক) অনুমান ও শব্দ
খ) প্রত্যক্ষ ও স্মৃতি
গ) শব্দ ও অর্থাপত্তি
ঘ) প্রত্যক্ষ ও অনুমান
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষ ও স্মৃতি

৯. ‘গবয়’ উদাহরণটি কোন প্রমাণের আলোচনায় বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) অনুমান
গ) উপমান
ঘ) শব্দ
উত্তর: গ) উপমান

১০. চার্বাকদের মতে সাদৃশ্য কীভাবে উপলব্ধি করা যায়?
ক) অনুমানের মাধ্যমে
খ) প্রত্যক্ষের মাধ্যমে
গ) শব্দের মাধ্যমে
ঘ) উপমানের মাধ্যমে
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষের মাধ্যমে

১১. ‘উপমিতি’ বলতে কী বোঝায়?
ক) অনুমানজাত জ্ঞান
খ) শব্দজাত জ্ঞান
গ) উপমানের মাধ্যমে উৎপন্ন জ্ঞান
ঘ) প্রত্যক্ষজাত জ্ঞান
উত্তর: গ) উপমানের মাধ্যমে উৎপন্ন জ্ঞান

১২. চার্বাকদের মতে উপমানের স্বতন্ত্র প্রামাণ্যতা—
ক) স্বীকৃত
খ) আংশিক স্বীকৃত
গ) অস্বীকৃত
ঘ) সর্বোচ্চ
উত্তর: গ) অস্বীকৃত

১৩. চার্বাক দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক) অনুমানবাদ
খ) প্রত্যক্ষবাদ
গ) শব্দবাদ
ঘ) উপমানবাদ
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষবাদ

১৪. গবয়কে দেখার সময় পূর্বে শোনা “গবয় গোরুর মতো” কথাটি কী হিসেবে কাজ করে?
ক) অনুমান
খ) স্মৃতি
গ) প্রত্যক্ষ
ঘ) উপমান
উত্তর: খ) স্মৃতি

১৫. চার্বাকদের মতে উপমানকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা কেন অপ্রয়োজনীয়?
ক) উপমান খুব কঠিন
খ) উপমানের কোনো উদাহরণ নেই
গ) প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির সাহায্যে উপমানজাত জ্ঞান ব্যাখ্যা করা যায়
ঘ) উপমান কেবল ন্যায় দর্শনে ব্যবহৃত হয়
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষ ও স্মৃতির সাহায্যে উপমানজাত জ্ঞান ব্যাখ্যা করা যায়

১৬. ন্যায় দর্শনের মতে উপমানের ভিত্তি কী?
ক) বিরোধ
খ) সাদৃশ্য
গ) বৈপরীত্য
ঘ) সন্দেহ
উত্তর: খ) সাদৃশ্য

১৭. চার্বাকরা কোন বিষয়টির স্বতন্ত্র প্রামাণ্যতা অস্বীকার করেন?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) উপমান
গ) ইন্দ্রিয়জ্ঞান
ঘ) প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা
উত্তর: খ) উপমান

১৮. “এটি গবয়”—এই জ্ঞানটি চার্বাকদের মতে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
ক) শুধুমাত্র অনুমানের মাধ্যমে
খ) শুধুমাত্র শব্দের মাধ্যমে
গ) প্রত্যক্ষ ও পূর্বশ্রুত জ্ঞানের স্মৃতির মাধ্যমে
ঘ) কেবল উপমানের মাধ্যমে
উত্তর: গ) প্রত্যক্ষ ও পূর্বশ্রুত জ্ঞানের স্মৃতির মাধ্যমে

১৯. চার্বাক দর্শনে উপমান প্রমাণ খণ্ডনের মূল ভিত্তি কোনটি?
ক) ঈশ্বরবাদ
খ) প্রত্যক্ষবাদ
গ) কর্মবাদ
ঘ) আত্মবাদ
উত্তর: খ) প্রত্যক্ষবাদ

২০. চার্বাকদের মতে উপমান সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য কোনটি?
ক) উপমান সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ
খ) উপমান অনুমানের একটি অংশ
গ) উপমান স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়
ঘ) উপমান প্রত্যক্ষের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য
উত্তর: গ) উপমান স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *