ব্রহ্মের স্বরূপ

শংকরাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ 🔥 | অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন | 20 টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সহজ নোট

ব্রহ্মের স্বরূপ

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বেদান্ত দর্শন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর দার্শনিক আলোচনা। বেদান্ত দর্শনের মূল বিষয় হল পরমসত্তা ব্রহ্মের স্বরূপ, তার প্রকৃতি, গুণ, জগতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জীবনের চরম লক্ষ্য বা মোক্ষের ধারণা। উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র ও ভগবদ্গীতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বেদান্ত দর্শনে ব্রহ্মতত্ত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ব্রহ্মের স্বরূপ বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দর্শনের শিক্ষার্থীদের কাছে ব্রহ্মের স্বরূপ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনেক শিক্ষার্থী ব্রহ্মের সংজ্ঞা, ব্রহ্মের গুণ, নির্গুণ ও সগুণ ব্রহ্মের ধারণা, ব্রহ্ম ও ঈশ্বরের সম্পর্ক, ব্রহ্ম ও জগতের সম্পর্ক এবং মোক্ষের সঙ্গে ব্রহ্মজ্ঞানের সম্পর্ক বুঝতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাই বিষয়টি সহজ, সুস্পষ্ট এবং পরীক্ষাভিত্তিকভাবে জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com) **-এ “ব্রহ্মের স্বরূপ 🔥 | বেদান্ত দর্শন | গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সহজ নোট” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষার উপযোগী আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

বেদান্ত দর্শনের মতে, ব্রহ্ম হলেন একমাত্র পরমসত্তা, যিনি সকল অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। তিনি নিত্য, অনন্ত, চিরন্তন এবং সকল পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে। জগতের সমস্ত কিছু ব্রহ্মের ওপর নির্ভরশীল এবং ব্রহ্মই হলেন সমস্ত সৃষ্টির চূড়ান্ত কারণ।

অদ্বৈত বেদান্তের প্রবর্তক শঙ্করাচার্যের মতে, ব্রহ্ম হলেন একমাত্র পারমার্থিক সত্য। তাঁর মতে, ব্রহ্ম নির্গুণ, নিরাকার এবং নির্বিশেষ। ব্রহ্মের মধ্যে কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা বা পরিবর্তন নেই। জ্ঞান লাভের মাধ্যমে মানুষ যখন ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করে, তখন সে মোক্ষ লাভ করে।

অন্যদিকে বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্তের প্রবক্তা রামানুজের মতে, ব্রহ্ম নির্গুণ নন; বরং তিনি সগুণ ও অসংখ্য কল্যাণগুণে বিশিষ্ট। তাঁর মতে, ব্রহ্ম হলেন ঈশ্বর বা নারায়ণ, যিনি জীব ও জগতের অন্তর্যামী। যদিও বিভিন্ন বেদান্ত মতবাদে ব্রহ্মের স্বরূপ সম্পর্কে পার্থক্য রয়েছে, তবুও সকল মতবাদেই ব্রহ্মকে সর্বোচ্চ পরমসত্তা হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে।

এই আলোচনায় ব্রহ্মের সংজ্ঞা, ব্রহ্মের বৈশিষ্ট্য, নির্গুণ ব্রহ্ম, সগুণ ব্রহ্ম, অদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্মের স্বরূপ, বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্মের ধারণা, ব্রহ্ম ও জগতের সম্পর্ক এবং ব্রহ্মজ্ঞানের গুরুত্ব সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এছাড়াও এই লেখায় আলোচনা করা হয়েছে কেন বেদান্ত দর্শনে ব্রহ্মকে সর্বোচ্চ সত্য বলা হয় এবং কীভাবে ব্রহ্মের জ্ঞান মানুষের জীবনের চরম লক্ষ্য মোক্ষ লাভে সহায়তা করে। পরীক্ষায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বারবার আসে, সেই সমস্ত বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ব্রহ্মের স্বরূপ বিষয়টি শুধু তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভারতীয় দর্শনের মূল ভিত্তি। ব্রহ্মকে বুঝতে পারলে বেদান্ত দর্শনের জীব, জগৎ, ঈশ্বর, মায়া এবং মুক্তি সম্পর্কিত অন্যান্য ধারণাগুলিও সহজে বোঝা যায়।

যারা XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য ব্রহ্মের স্বরূপ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষায় নিয়মিত ব্রহ্মের প্রকৃতি, নির্গুণ ও সগুণ ব্রহ্ম, শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মতত্ত্ব, রামানুজের ব্রহ্ম ধারণা এবং ব্রহ্ম-জীব-জগতের সম্পর্ক থেকে প্রশ্ন আসে।

তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে বেদান্ত দর্শনের ব্রহ্মতত্ত্ব, বিভিন্ন দার্শনিকের মতামত এবং পরীক্ষার উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব হবে।

এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।

শংকরাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বেদান্ত দর্শন এক গভীর ও মৌলিক দার্শনিক চিন্তাধারা। বেদান্ত দর্শনের মধ্যে আচার্য শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ব্রহ্মকে সর্বোচ্চ ও একমাত্র পরমসত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শঙ্করাচার্যের মতে, এই সমগ্র জগতের মূল ভিত্তি হল ব্রহ্ম এবং ব্রহ্মের প্রকৃত জ্ঞান লাভের মাধ্যমেই মানুষের চরম লক্ষ্য মোক্ষ বা মুক্তি অর্জন সম্ভব। তাই শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেদান্ত দর্শনের মূল আলোচ্য বিষয় হল ব্রহ্মের প্রকৃতি ও তার সঙ্গে জীব ও জগতের সম্পর্ক। শঙ্করাচার্য এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অদ্বৈতবাদের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, ব্রহ্ম হলেন একমাত্র পারমার্থিক সত্য এবং ব্রহ্ম ছাড়া অন্য কোনো স্বাধীন চরম সত্তা নেই। মানুষের অজ্ঞান বা অবিদ্যার কারণেই ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ আচ্ছন্ন থাকে এবং জীব নিজেকে ব্রহ্ম থেকে পৃথক বলে মনে করে।

শঙ্করাচার্যের মতে, ব্রহ্ম হলেন নির্গুণ, নিরাকার, নির্বিশেষ এবং অনন্ত। ব্রহ্মের মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা, পরিবর্তন বা পার্থক্য নেই। তিনি ব্রহ্মকে “সৎ-চিৎ-আনন্দ স্বরূপ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ ব্রহ্ম হলেন চিরন্তন অস্তিত্ব, বিশুদ্ধ চেতনা এবং পরম আনন্দের আধার।

এই আলোচনায় শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মতত্ত্বের বিভিন্ন দিক যেমন— নির্গুণ ব্রহ্মের ধারণা, সগুণ ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের ধারণা, ব্রহ্ম ও জগতের সম্পর্ক, মায়াতত্ত্ব, ব্রহ্ম ও আত্মার অভেদ, তত্ত্বমসি মহাবাক্যের ব্যাখ্যা এবং ব্রহ্মজ্ঞানের মাধ্যমে মোক্ষ লাভের ধারণা সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

শঙ্করাচার্যের মতে, ব্রহ্ম ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো বস্তু নয় এবং সাধারণ জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁকে উপলব্ধি করা যায় না। একমাত্র আত্মজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান লাভের মাধ্যমেই মানুষ ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে। এই কারণেই অদ্বৈত বেদান্তকে জ্ঞানপ্রধান দর্শন বলা হয়।

শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল তাঁর মায়াবাদ। তাঁর মতে, ব্রহ্ম একমাত্র পরম সত্য হলেও জগতকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলা যায় না। জগত ব্যবহারিক স্তরে সত্য হলেও পারমার্থিক স্তরে এর স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। অবিদ্যার কারণে জীব জগতের বহুত্ব উপলব্ধি করে, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান লাভ হলে বোঝা যায় যে সবকিছুর মূলেই একমাত্র ব্রহ্ম বিদ্যমান।

ব্রহ্মের স্বরূপ

এই আলোচনায় আরও দেখানো হয়েছে যে, শঙ্করাচার্যের মতে আত্মা ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো প্রকৃত ভেদ নেই। উপনিষদের “তত্ত্বমসি” এবং “অহং ব্রহ্মাস্মি” প্রভৃতি মহাবাক্যের মাধ্যমে তিনি জীব ও ব্রহ্মের অভিন্নতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর মতে, জীবের প্রকৃত স্বরূপ হল ব্রহ্মস্বরূপ, কিন্তু অবিদ্যার কারণে সে নিজেকে সীমাবদ্ধ জীব হিসেবে মনে করে।

শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মতত্ত্ব শুধু একটি দার্শনিক মতবাদ নয়, এটি ভারতীয় আধ্যাত্মিক চিন্তার অন্যতম ভিত্তি। তাঁর দর্শনে ব্রহ্ম, আত্মা, মায়া এবং মোক্ষের ধারণা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। তাই অদ্বৈত বেদান্ত বুঝতে হলে প্রথমেই শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মের স্বরূপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

যারা XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য শংকরাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ পরীক্ষায় নিয়মিত নির্গুণ ব্রহ্ম, সৎ-চিৎ-আনন্দ স্বরূপ ব্রহ্ম, ব্রহ্ম-আত্মা অভেদ, মায়াবাদ এবং মোক্ষতত্ত্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।

তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত, ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ এবং ভারতীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলি সহজেই আয়ত্ত করা সম্ভব হবে।

এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।

বেদান্ত শব্দের অর্থ কী? শঙ্করাচার্যকে অনুসরণ করে ব্রহ্মের স্বরূপ আলোচনা কর।

উত্তর : ব্যুৎপত্তিগত অর্থে বেদান্ত বলতে বেদের অন্ত বা শেষ বাক্যকে বোঝায়। এই অর্থে উপনিষদ হল বেদান্ত। কিন্তু সঠিক অর্থে বেদান্ত বলতে উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে বোঝানো হয়।

বেদান্ত ভারতীয় দর্শনের একটি অন্যতম প্রধান শাখা। ‘বেদান্ত’ শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত— ‘বেদ’ এবং ‘অন্ত’। অর্থাৎ বেদের শেষ অংশ বা বেদের চূড়ান্ত জ্ঞানই হল বেদান্ত। উপনিষদে ব্রহ্ম, আত্মা, জগৎ এবং মোক্ষ সম্পর্কে যে গভীর আলোচনা করা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই বেদান্ত দর্শনের বিকাশ ঘটেছে। তাই বেদান্তকে উপনিষদভিত্তিক দর্শনও বলা হয়।

বেদান্ত দর্শনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হল পরমসত্তা ব্রহ্মের স্বরূপ নির্ণয় করা। বেদান্তের বিভিন্ন আচার্য বিভিন্নভাবে ব্রহ্মকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে শঙ্করাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

⭐ ব্রহ্ম শব্দটি ‘বৃহ্’ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। ‘বৃহ্’ শব্দটির অর্থ হলো বড় বা ব্যাপক। সুতরাং বৃহৎ বা অতিশয় ব্যাপক যা, তাই ব্রহ্ম।

শঙ্করাচার্যের মতে, ব্রহ্ম হলেন একমাত্র পরম সত্য সত্তা। তিনি নিত্য, অনন্ত, অপরিবর্তনীয় এবং সর্বব্যাপী। ব্রহ্মের বাইরে কোনো স্বাধীন চরম সত্যের অস্তিত্ব নেই। তাই শঙ্করাচার্য বলেছেন— “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা, জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন।”

অদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্মকে পারমার্থিক সত্য বলা হয়েছে। আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে জগতের জ্ঞান লাভ হয়, তা পরিবর্তনশীল হওয়ার কারণে চূড়ান্ত সত্য নয়। কিন্তু ব্রহ্ম চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয় হওয়ায় তিনিই একমাত্র পরম সত্য।

অদ্বৈত বেদান্ত শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম সত্য, জগত মিথ্যা এবং ব্রহ্ম ও জীব অভিন্ন। শঙ্করের এইরূপ মতবাদকে কেবল অদ্বৈতবাদ বলা হয়।

শঙ্করাচার্যের মতে, জীব নিজের প্রকৃত স্বরূপ না জানার কারণে নিজেকে ব্রহ্ম থেকে পৃথক মনে করে। এই ভুল ধারণার কারণ হল অবিদ্যা বা অজ্ঞান। যখন জীব ব্রহ্মের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করে, তখন তার সমস্ত ভেদবুদ্ধি দূর হয় এবং সে মোক্ষ লাভ করে।

ব্রহ্মের স্বরূপ প্রসঙ্গে আচার্য শঙ্কর ব্রহ্মের কতগুলি বিশেষণ দিয়েছেন যথা— ব্রহ্ম অসীম, ব্রহ্ম অনন্ত ও ব্রহ্ম বিশুদ্ধ। এগুলি ছাড়াও তিনি ব্রহ্মের আরও কতগুলি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো—

⭐ ব্রহ্ম সর্বপ্রকার ভেদ বর্জিত : আচার্য শঙ্করের মতে, ব্রহ্মের মধ্যে স্বজাতীয়, বিজাতীয় ও স্বগত ভেদ কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

দুটি সমজাতীয় ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে যে ভেদ বা পার্থক্য দেখা যায় তাকে স্বজাতীয় ভেদ বলে। যেমন— একজন মানুষের সঙ্গে অন্য একজন মানুষের যে পার্থক্য দেখা যায়, তা স্বজাতীয় ভেদ।

যখন দুটি ভিন্ন জাতীয় ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে যে ভেদ বা পার্থক্য দেখা যায় তাকে বিজাতীয় ভেদ বলে। যেমন— একটি পশুর সঙ্গে একটি মানুষের যে পার্থক্য, তা বিজাতীয় ভেদ।

অন্যদিকে, একই বস্তু বা বিষয়ের অন্তর্গত বিভিন্ন অংশের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে স্বগত ভেদ বলে। যেমন— মানুষের হাত ও পায়ের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়, তা স্বগত ভেদ।

আচার্য শঙ্করের মতে, যেহেতু ব্রহ্ম এক এবং অভিন্ন, সেহেতু ব্রহ্মের মধ্যে স্বজাতীয় ও বিজাতীয় ভেদ সম্ভব নয়। আবার ব্রহ্ম শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ হওয়ার কারণে ব্রহ্মের মধ্যে কোনো স্বগত ভেদও সম্ভব নয়। কেননা যা শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ তার কোনো অংশ থাকতে পারে না। সুতরাং ব্রহ্ম সর্বপ্রকার ভেদ বর্জিত।

শঙ্করাচার্যের মতে, যদি ব্রহ্মের মধ্যে কোনো ভেদ স্বীকার করা হয়, তাহলে ব্রহ্ম আর পরম ও অদ্বিতীয় থাকবেন না। কারণ ভেদ থাকলে দুটি বা তার বেশি সত্তার অস্তিত্ব স্বীকার করতে হয়। কিন্তু ব্রহ্ম হলেন একমাত্র অদ্বিতীয় পরমসত্তা।

⭐ ব্রহ্ম নির্গুণ : শঙ্করাচার্য ব্রহ্মকে নির্গুণ বলেছেন। যদি ব্রহ্মের মধ্যে কোনো গুণ আরোপ করা হয়, তাহলে ব্রহ্ম সসীম ও সীমিত হয়ে পড়বেন অর্থাৎ তাঁকে ছোট করা হবে।

যেমন— যখন আমরা বলি, “ফুলটি লাল”, তখন বোঝা যায় ফুলটির একটি নির্দিষ্ট গুণ আছে এবং সেই গুণের দ্বারা তাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিন্তু ব্রহ্ম কোনো সীমাবদ্ধ বৈশিষ্ট্যের দ্বারা আবদ্ধ নন।

যেহেতু সবকিছুই ব্রহ্ম, সেহেতু তাঁর মধ্যে কোনো বিশেষ গুণ আরোপ করা যায় না। তাই শঙ্করাচার্যের মতে, ব্রহ্ম হলেন নির্গুণ।

তবে এখানে নির্গুণ বলতে গুণহীন বা শূন্য বোঝানো হয় না। এর অর্থ হল ব্রহ্ম কোনো জাগতিক সীমাবদ্ধ গুণের অধীন নন। তিনি সকল গুণের ঊর্ধ্বে।

⭐ ব্রহ্ম নিষ্ক্রিয় : নিষ্ক্রিয় কথাটির অর্থ হল যার কোনো ক্রিয়া নেই বা যে ক্রিয়া করে না। সাধারণত আমরা আমাদের কোনো অভাব পূরণের জন্যই কর্ম করে থাকি। কিন্তু শঙ্করাচার্য বলেন, যেহেতু ব্রহ্ম একটি পূর্ণতম সত্তা, সেহেতু ব্রহ্মের কোনো অভাব নেই। তাই ব্রহ্মের কোনো প্রকার ক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই ব্রহ্ম হলেন নিষ্ক্রিয়।

শঙ্করাচার্যের মতে, কর্মের সঙ্গে পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ব্রহ্ম অপরিবর্তনীয় ও চিরন্তন। তাই ব্রহ্ম কোনো কর্মের দ্বারা পরিবর্তিত হন না।

⭐ ব্রহ্ম সচ্চিদানন্দ : আচার্য শঙ্কর ব্রহ্মকে ‘সচ্চিদানন্দ’ এই বিশেষণ দ্বারাও বিশেষিত করেছেন। ‘সচ্চিদানন্দ’ কথাটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়— সৎ + চিৎ + আনন্দ।

‘সৎ’ কথার অর্থ হল ‘অস্তিত্বশীল’, ‘চিৎ’ কথার অর্থ হল ‘চৈতন্যময়’ অর্থাৎ যা জড় নয় এবং ‘আনন্দ’ কথার অর্থ হল যা দুঃখস্বরূপ নয়।

ব্রহ্ম যেহেতু অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ— এই তিন কালেই অবাধিত, সেহেতু ব্রহ্মকে সৎ বলা হয়। ব্রহ্ম যেহেতু জড়স্বরূপ নয়, সেহেতু ব্রহ্মকে চিৎ বলা হয়।

সৎ, চিৎ ও আনন্দ— এই তিনটি ধর্ম কেবল ব্রহ্মের মধ্যেই আছে। তাই শঙ্করাচার্য ব্রহ্মকে সচ্চিদানন্দ বলেছেন। সচ্চিদানন্দের দ্বারা ব্রহ্মের স্বরূপ লক্ষণকে বোঝানো হয়েছে।

ব্রহ্মের স্বরূপ

⭐ ব্রহ্ম অখিলাধার : ‘অখিলাধার’ শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়— অখিল + আধার। ‘অখিল’ শব্দের অর্থ হল সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এবং ‘আধার’ শব্দের অর্থ হল আশ্রয়।

সুতরাং যা সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কারণ বা আশ্রয়, তাই হল অখিলাধার। যেহেতু ব্রহ্ম সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মূল কারণ, সেহেতু আচার্য শঙ্কর ব্রহ্মকে অখিলাধার বলেছেন।

ব্রহ্মকে অখিলাধার বলার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, সমস্ত সৃষ্টি ব্রহ্মের ওপর নির্ভরশীল। ব্রহ্ম ছাড়া জগতের কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব নেই।

উপসংহার : সুতরাং বলা যায়, শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম হলেন একমাত্র পরম, নিত্য, অনন্ত, নির্গুণ, নিরাকার এবং সচ্চিদানন্দ স্বরূপ সত্তা। ব্রহ্মের প্রকৃত জ্ঞান লাভের মাধ্যমেই জীব নিজের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করে এবং মোক্ষ লাভ করে। অদ্বৈত বেদান্তে ব্রহ্মতত্ত্বই হল সমগ্র দর্শনের মূল ভিত্তি। শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মের এই ব্যাখ্যা ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে এক অনন্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

MCQ প্রশ্নাবলি : শংকরাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ 🔥 | অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন | গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সহজ নোট

১. ‘বেদান্ত’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
ক) বেদের শুরু
খ) বেদের অন্ত বা শেষ
গ) বেদের মধ্যভাগ
ঘ) বেদের ভাষ্য

🔵 উত্তর: খ) ‘বেদান্ত’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো বেদের অন্ত বা শেষ।

২. সঠিক অর্থে বেদান্ত বলতে কোন তিনটি গ্রন্থকে বোঝানো হয়?
ক) বেদ, পুরাণ ও স্মৃতি
খ) উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
গ) রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ
ঘ) বেদ, উপনিষদ ও পুরাণ

🔵 উত্তর: খ) সঠিক অর্থে বেদান্ত বলতে উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে বোঝানো হয়।

৩. ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি কোন ধাতু থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে?
ক) ভূ ধাতু
খ) গম্ ধাতু
গ) বৃহ্ ধাতু
ঘ) কৃ ধাতু

🔵 উত্তর: গ) ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি বৃহ্ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে।

৪. ‘বৃহ্’ শব্দের অর্থ কী?
ক) জ্ঞান
খ) আনন্দ
গ) বড় বা ব্যাপক
ঘ) সৃষ্টি

🔵 উত্তর: গ) ‘বৃহ্’ শব্দের অর্থ হলো বড় বা ব্যাপক।

৫. শঙ্করাচার্যের দর্শন কোন নামে পরিচিত?
ক) দ্বৈতবাদ
খ) বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ
গ) অদ্বৈতবাদ
ঘ) শুদ্ধাদ্বৈতবাদ

🔵 উত্তর: গ) শঙ্করাচার্যের দর্শন অদ্বৈতবাদ নামে পরিচিত।

৬. শঙ্করাচার্যের মতে একমাত্র পরম সত্য কী?
ক) জগৎ
খ) জীব
গ) ব্রহ্ম
ঘ) প্রকৃতি

🔵 উত্তর: গ) শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মই একমাত্র পরম সত্য।

৭. “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা”— এই মতবাদ কার?
ক) রামানুজ
খ) মাধ্বাচার্য
গ) শঙ্করাচার্য
ঘ) কপিল

🔵 উত্তর: গ) “ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা”— এই মতবাদ শঙ্করাচার্যের।

৮. শঙ্করাচার্যের মতে জীব ও ব্রহ্মের সম্পর্ক কেমন?
ক) সম্পূর্ণ পৃথক
খ) অভিন্ন
গ) আংশিক পৃথক
ঘ) বিরোধপূর্ণ

🔵 উত্তর: খ) শঙ্করাচার্যের মতে জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন।

৯. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মের মধ্যে কোন ভেদ নেই?
ক) স্বজাতীয় ভেদ
খ) বিজাতীয় ভেদ
গ) স্বগত ভেদ
ঘ) সবকটি

🔵 উত্তর: ঘ) শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মের মধ্যে স্বজাতীয়, বিজাতীয় ও স্বগত— কোনো ভেদই নেই।

১০. দুটি সমজাতীয় বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যে যে ভেদ তাকে কী বলে?
ক) বিজাতীয় ভেদ
খ) স্বগত ভেদ
গ) স্বজাতীয় ভেদ
ঘ) অভেদ

🔵 উত্তর: গ) দুটি সমজাতীয় বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যে যে ভেদ তাকে স্বজাতীয় ভেদ বলে।

১১. মানুষ ও পশুর মধ্যে যে ভেদ দেখা যায় তা কোন ধরনের ভেদ?
ক) স্বজাতীয় ভেদ
খ) বিজাতীয় ভেদ
গ) স্বগত ভেদ
ঘ) অভেদ

🔵 উত্তর: খ) মানুষ ও পশুর মধ্যে যে ভেদ দেখা যায় তা বিজাতীয় ভেদ।

১২. মানুষের হাত ও পায়ের মধ্যে পার্থক্য কোন ভেদের উদাহরণ?
ক) স্বজাতীয় ভেদ
খ) বিজাতীয় ভেদ
গ) স্বগত ভেদ
ঘ) কোনো ভেদ নয়

🔵 উত্তর: গ) মানুষের হাত ও পায়ের মধ্যে পার্থক্য স্বগত ভেদের উদাহরণ।

১৩. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মের প্রকৃতি কেমন?
ক) জড়স্বরূপ
খ) শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ
গ) পরিবর্তনশীল
ঘ) সীমাবদ্ধ

🔵 উত্তর: খ) শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ।

১৪. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম নির্গুণ বলতে কী বোঝায়?
ক) ব্রহ্মের কোনো অস্তিত্ব নেই
খ) ব্রহ্ম সকল সীমাবদ্ধ গুণের ঊর্ধ্বে
গ) ব্রহ্ম অজ্ঞানী
ঘ) ব্রহ্ম পরিবর্তনশীল

🔵 উত্তর: খ) শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম সকল সীমাবদ্ধ গুণের ঊর্ধ্বে, তাই ব্রহ্ম নির্গুণ।

১৫. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম নিষ্ক্রিয় কেন?
ক) ব্রহ্ম দুর্বল
খ) ব্রহ্ম অজ্ঞানী
গ) ব্রহ্ম পূর্ণতম সত্তা
ঘ) ব্রহ্ম সীমিত

🔵 উত্তর: গ) শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম পূর্ণতম সত্তা হওয়ায় তিনি নিষ্ক্রিয়।

১৬. ‘সচ্চিদানন্দ’ শব্দটি কোন তিনটি শব্দের সমন্বয়?
ক) সৎ+চিৎ+আনন্দ
খ) সত্য+জ্ঞান+মুক্তি
গ) সৃষ্টি+স্থিতি+প্রলয়
ঘ) জ্ঞান+কর্ম+ভক্তি

🔵 উত্তর: ক) ‘সচ্চিদানন্দ’ শব্দটি সৎ, চিৎ ও আনন্দ— এই তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

১৭. ‘সৎ’ শব্দের অর্থ কী?
ক) চৈতন্য
খ) অস্তিত্বশীল
গ) আনন্দ
ঘ) জ্ঞান

🔵 উত্তর: খ) ‘সৎ’ শব্দের অর্থ হলো অস্তিত্বশীল।

১৮. ‘চিৎ’ শব্দের অর্থ কী?
ক) জড়
খ) চৈতন্যময়
গ) দুঃখময়
ঘ) মায়াময়

🔵 উত্তর: খ) ‘চিৎ’ শব্দের অর্থ হলো চৈতন্যময়।

১৯. ‘অখিলাধার’ বলতে কী বোঝায়?
ক) জীবের কারণ
খ) বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আশ্রয়
গ) মায়ার সৃষ্টি
ঘ) কর্মের ফল

🔵 উত্তর: খ) ‘অখিলাধার’ বলতে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আশ্রয়কে বোঝায়।

২০. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ লক্ষণ কোনটি?
ক) মায়া
খ) কর্ম
গ) সচ্চিদানন্দ
ঘ) জগৎ

🔵 উত্তর: গ) শঙ্করাচার্যের মতে সচ্চিদানন্দ হলো ব্রহ্মের স্বরূপ লক্ষণ।

SAQ প্রশ্নাবলি : শংকরাচার্যের মতে ব্রহ্মের স্বরূপ 🔥 | অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন | গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সহজ নোট

১. বেদান্ত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ব্যুৎপত্তিগত অর্থে বেদান্ত বলতে বেদের অন্ত বা শেষ অংশকে বোঝায়। সঠিক অর্থে উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে বেদান্ত বলা হয়।

২. বেদান্ত দর্শনের প্রধান আলোচ্য বিষয় কী?
উত্তর: বেদান্ত দর্শনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হল ব্রহ্ম, জীব, জগৎ এবং মোক্ষের স্বরূপ নির্ণয় করা।

৩. শঙ্করাচার্যের দর্শনকে অদ্বৈতবাদ বলা হয় কেন?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম একমাত্র পরম সত্য এবং ব্রহ্মের সঙ্গে জীবের কোনো প্রকৃত ভেদ নেই। তাই তাঁর দর্শনকে অদ্বৈতবাদ বলা হয়।

৪. ‘ব্রহ্ম’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
উত্তর: ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি ‘বৃহ্’ ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ‘বৃহ্’ শব্দের অর্থ হল বড় বা ব্যাপক। তাই যা অতিশয় ব্যাপক তাই ব্রহ্ম।

৫. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম অসীম, অনন্ত, বিশুদ্ধ, নির্গুণ এবং সচ্চিদানন্দ স্বরূপ।

৬. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম সর্বপ্রকার ভেদ বর্জিত কেন?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয় হওয়ায় তাঁর মধ্যে স্বজাতীয় ও বিজাতীয় ভেদ সম্ভব নয়। আবার ব্রহ্ম শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ হওয়ায় স্বগত ভেদও সম্ভব নয়।

৭. স্বজাতীয় ভেদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: একই জাতীয় দুটি বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে স্বজাতীয় ভেদ বলে। যেমন— একজন মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের পার্থক্য।

৮. বিজাতীয় ভেদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দুটি ভিন্ন জাতীয় বস্তু বা ব্যক্তির মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে বিজাতীয় ভেদ বলে। যেমন— মানুষ ও পশুর মধ্যে পার্থক্য।

৯. স্বগত ভেদ কী?
উত্তর: একই বস্তু বা সত্তার অন্তর্গত বিভিন্ন অংশের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে স্বগত ভেদ বলে। যেমন— মানুষের হাত ও পায়ের পার্থক্য।

১০. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম নির্গুণ কেন?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম সকল সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে। কোনো নির্দিষ্ট গুণ দ্বারা ব্রহ্মকে সীমাবদ্ধ করা যায় না, তাই ব্রহ্ম নির্গুণ।

১১. নির্গুণ বলতে কি ব্রহ্ম গুণহীন বোঝায়?
উত্তর: না, নির্গুণ বলতে ব্রহ্ম সম্পূর্ণ গুণহীন বোঝায় না। এর অর্থ হল ব্রহ্ম জাগতিক সীমাবদ্ধ গুণের ঊর্ধ্বে।

১২. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম নিষ্ক্রিয় কেন?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম পূর্ণতম সত্তা। তাঁর কোনো অভাব নেই, তাই কোনো কর্মের প্রয়োজনও নেই। এই কারণে ব্রহ্ম নিষ্ক্রিয়।

১৩. সচ্চিদানন্দ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সচ্চিদানন্দ হল সৎ, চিৎ ও আনন্দের সমন্বয়। সৎ অর্থ অস্তিত্বশীল, চিৎ অর্থ চৈতন্যময় এবং আনন্দ অর্থ দুঃখের অভাব।

১৪. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মকে সৎ বলা হয় কেন?
উত্তর: ব্রহ্ম অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ— তিন কালেই অবাধিত ও চিরন্তন অস্তিত্বশীল। তাই ব্রহ্মকে সৎ বলা হয়।

১৫. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মকে চিৎ বলা হয় কেন?
উত্তর: ব্রহ্ম জড়স্বরূপ নয়, তিনি শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ। তাই ব্রহ্মকে চিৎ বলা হয়।

১৬. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মকে আনন্দ বলা হয় কেন?
উত্তর: ব্রহ্ম দুঃখ ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে। তাই ব্রহ্মকে আনন্দস্বরূপ বলা হয়।

১৭. অখিলাধার বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘অখিলাধার’ শব্দের অর্থ হল সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আশ্রয়। যেহেতু ব্রহ্ম সমগ্র জগতের মূল কারণ, তাই তাঁকে অখিলাধার বলা হয়।

১৮. শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্ম ও জগতের সম্পর্ক কী?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মই একমাত্র পারমার্থিক সত্য। জগত ব্রহ্মের ওপর নির্ভরশীল এবং অবিদ্যার কারণে জগতের পৃথক অস্তিত্ব মনে হয়।

১৯. শঙ্করাচার্যের মতে জীব কীভাবে ব্রহ্মের স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের মতে ব্রহ্মজ্ঞান লাভের মাধ্যমে জীব নিজের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে এবং মোক্ষ লাভ করে।

২০. শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মতত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মতত্ত্বের মূল বক্তব্য হল— ব্রহ্ম এক, অদ্বিতীয়, অনন্ত, নির্গুণ, সচ্চিদানন্দ স্বরূপ এবং জীবের সঙ্গে অভিন্ন।

সহযোগী কিছু পাঠ্য বই

১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা

২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *