বৈশেষিক দর্শনে বিভিন্ন প্রকার পদার্থ | বৈশেষিক দর্শনের 7 পদার্থ | Vaisheshika Philosophy
বৈশেষিক মতে পদার্থ কী ?
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের মূল আলোচনার অন্যতম বিষয় হলো ‘পদার্থ’। জগতের সমস্ত বস্তু, গুণ, ক্রিয়া, সাধারণত্ব, বিশেষত্ব, সম্পর্ক এবং অভাবকে দার্শনিকভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য বৈশেষিক দার্শনিকরা ‘পদার্থ’ ধারণার অবতারণা করেছেন। তাই বৈশেষিক দর্শনের অধিবিদ্যা ও বাস্তবতত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে প্রথমেই বৈশেষিক মতে পদার্থ কী—এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন।
বৈশেষিক দর্শনে ‘পদার্থ’ বলতে সাধারণ কোনো বস্তু বোঝায় না; এর একটি বিশেষ দার্শনিক অর্থ রয়েছে। ‘পদার্থ’ শব্দটি ‘পদ’ এবং ‘অর্থ’—এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। বৈশেষিক মতে, যা কোনো পদের অর্থ বা বাচ্য এবং যা যথার্থ জ্ঞানের বিষয় হতে পারে, তাকে পদার্থ বলা হয়। অর্থাৎ যে বিষয়কে কোনো শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় এবং যা সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান লাভ করা সম্ভব, সেটিই পদার্থের অন্তর্ভুক্ত।
বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বের মাধ্যমে জগতের বিভিন্ন বাস্তব বিষয়কে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভক্ত করে তাদের স্বরূপ ও পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রাচীন বৈশেষিক দর্শনে ছয়টি পদার্থ স্বীকার করা হলেও পরবর্তীকালে অভাবকে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ফলে পরিণত বৈশেষিক দর্শনে মোট সাতটি পদার্থ স্বীকৃত হয়েছে। এগুলি হলো—দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় এবং অভাব।
এই সাতটি পদার্থের প্রত্যেকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও দার্শনিক গুরুত্ব রয়েছে। দ্রব্য হলো গুণ ও কর্মের আশ্রয়; গুণ দ্রব্যের বিশেষ ধর্ম; কর্ম হলো দ্রব্যের মধ্যে সংঘটিত গতি বা ক্রিয়া; সামান্য বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ ধর্ম; বিশেষ নিত্য পদার্থগুলির পারস্পরিক স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করে; সমবায় হলো অবিচ্ছেদ্য পদার্থগুলির মধ্যে নিত্য সম্পর্ক; এবং অভাব হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা সময়ে কোনো বস্তুর অনুপস্থিতি। এই পদার্থগুলির সাহায্যে বৈশেষিক দর্শন সমগ্র জগতের বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করার একটি সুসংবদ্ধ দার্শনিক কাঠামো নির্মাণ করেছে।

বৈশেষিক মতে পদার্থের ধারণা শুধুমাত্র অধিবিদ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জ্ঞানতত্ত্ব, যুক্তিবিদ্যা এবং ভারতীয় দর্শনের বাস্তবতত্ত্বের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। কোন বিষয়কে বাস্তব বলে গ্রহণ করা হবে, তার প্রকৃতি কী, তার সঙ্গে অন্য পদার্থের সম্পর্ক কেমন এবং তাকে কীভাবে জ্ঞানের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা যায়—এসব বিষয় পদার্থতত্ত্বের আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।
বৈশেষিক মতে পদার্থ কী—এই বিষয়টি একাদশ শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), Burdwan University-এর দর্শন পাঠ্যক্রমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি NET, SET, PSC, School Service, College Service প্রভৃতি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় পদার্থের সংজ্ঞা, পদার্থের বৈশিষ্ট্য, পদার্থের প্রকারভেদ এবং সাতটি পদার্থের স্বরূপ ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে।
এই আলোচনায় বৈশেষিক মতে পদার্থের সংজ্ঞা, অর্থ, স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন প্রকার পদার্থ সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশেষিক দর্শনে সাতটি পদার্থের গুরুত্ব এবং জগতের বিভিন্ন বস্তু ও ঘটনার ব্যাখ্যায় তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে বিষয়টি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।
সুতরাং, বৈশেষিক দর্শনের অধিবিদ্যা বুঝতে হলে পদার্থের ধারণা ও পদার্থের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। বৈশেষিক দর্শনের এই গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ভারতীয় দর্শনের বাস্তবতাবাদী চিন্তাধারাকে বুঝতে যেমন সাহায্য করে, তেমনই দর্শনের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শন জগতের বাস্তবতা, বিভিন্ন বস্তু, তাদের গুণ, ক্রিয়া, সাধারণত্ব, বিশেষত্ব, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অনুপস্থিতিকে সুসংবদ্ধভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য ‘পদার্থ’ ধারণার ব্যবহার করেছে। বৈশেষিক দর্শনের পরিণত মত অনুযায়ী জগতের সমস্ত বাস্তবতাকে প্রধানত সাতটি পদার্থের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। এই সাতটি পদার্থ হলো—দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় এবং অভাব।
বৈশেষিক দর্শনে ‘পদার্থ’ বলতে এমন বিষয়কে বোঝানো হয়, যা কোনো পদের অর্থ বা বাচ্য এবং যা যথার্থ জ্ঞানের বিষয় হতে পারে। বৈশেষিক দার্শনিকরা জগতের বিভিন্ন বাস্তব বিষয়কে বিশ্লেষণ করে তাদের নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। প্রাচীন বৈশেষিক দর্শনে ছয়টি পদার্থ স্বীকার করা হলেও পরবর্তীকালে অভাবকে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ফলে পরিণত ন্যায়-বৈশেষিক দর্শনে সাতটি পদার্থের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
বৈশেষিক দর্শনের প্রথম পদার্থ হলো দ্রব্য। দ্রব্যকে গুণ ও কর্মের আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈশেষিক মতে দ্রব্য নয় প্রকার—পৃথিবী, জল, তেজ, বায়ু, আকাশ, কাল, দিক, আত্মা এবং মন। দ্বিতীয় পদার্থ হলো গুণ। গুণ কোনো দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং নিজে কোনো ক্রিয়ার কারণ হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করে না। বৈশেষিক দর্শনে গুণের বিভিন্ন প্রকার স্বীকার করা হয়েছে, যেমন—রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, সংখ্যা, পরিমাণ, পৃথকত্ব, সংযোগ, বিভাগ, বুদ্ধি, সুখ, দুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ, প্রয়ত্ন প্রভৃতি।
তৃতীয় পদার্থ হলো কর্ম। দ্রব্যের মধ্যে যে গতি বা ক্রিয়া সংঘটিত হয় তাকে কর্ম বলা হয়। বৈশেষিক মতে কর্ম পাঁচ প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ এবং গমন। চতুর্থ পদার্থ হলো সামান্য। বহু ব্যক্তির মধ্যে যে সাধারণ ধর্ম বিদ্যমান থাকে তাকে সামান্য বলা হয়। যেমন, বিভিন্ন গরুর মধ্যে যে ‘গোত্ব’ বিদ্যমান, তা সামান্যের উদাহরণ।
পঞ্চম পদার্থ হলো বিশেষ। বিশেষের মাধ্যমে নিত্য পদার্থগুলির পারস্পরিক স্বাতন্ত্র্য বা ভিন্নতা ব্যাখ্যা করা হয়। ষষ্ঠ পদার্থ হলো সমবায়। এটি এমন একটি নিত্য ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, যার মাধ্যমে দুটি পদার্থ পরস্পরের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত থাকে যে তাদের আলাদা করে অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। যেমন—দ্রব্য ও গুণের মধ্যে সমবায় সম্পর্ক বিদ্যমান। সপ্তম পদার্থ হলো অভাব। কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ে কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিকে অভাব বলা হয়। পরবর্তী বৈশেষিক দার্শনিকরা অভাবকে একটি স্বতন্ত্র পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং এর বিভিন্ন প্রকারও নির্ধারণ করেন।
বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ ভারতীয় দর্শনের অধিবিদ্যা বোঝার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই সাতটি পদার্থের মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন জগতের বস্তুগত ও অবস্তুগত বিভিন্ন বাস্তবতাকে শ্রেণিবদ্ধ ও বিশ্লেষণ করেছে। দ্রব্য, গুণ ও কর্মের মাধ্যমে দৃশ্যমান জগতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হয়, আর সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাবের মাধ্যমে বস্তুগুলির সাধারণত্ব, স্বাতন্ত্র্য, অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক এবং অনুপস্থিতির মতো দার্শনিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই বিষয়টি একাদশ শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), Burdwan University সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও NET, SET, PSC, School Service, College Service প্রভৃতি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসতে পারে। পরীক্ষায় সাতটি পদার্থের নাম, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন দেখা যায়।
এই আলোচনায় বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থের নাম, সংজ্ঞা, স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ এবং দার্শনিক গুরুত্ব সহজ ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি পদার্থকে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি হয়।
বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থ ভারতীয় দর্শনের বাস্তবতাবাদী চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব—এই সাতটি পদার্থের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে জানা দর্শনের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ঠিক আছে। আপনার চাওয়া অনুযায়ী প্রতিটি পয়েন্টের নামের পর থেকেই সরাসরি ব্যাখ্যা শুরু হবে, আলাদা করে “মনে রাখুন” বা অপ্রয়োজনীয় অংশ থাকবে না। ভাষা সহজ থাকবে এবং ১০ নম্বরের জন্য উত্তরটি যথেষ্ট বড় হবে।
বৈশেষিক দর্শনে বিভিন্ন প্রকার পদার্থ আলোচনা কর ।
ভূমিকা : বৈশেষিক দর্শন ভারতীয় দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্তিক দর্শন। এই দর্শনের প্রবর্তক হলেন মহর্ষি কণাদ। বৈশেষিক দর্শনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জগতের বিভিন্ন বস্তু, তাদের গুণ, কাজ, মিল, পার্থক্য ও সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করা। এই সমস্ত বিষয়কে বোঝানোর জন্য বৈশেষিক দর্শনে ‘পদার্থ’ ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে। সহজভাবে বলা যায়, যা জানা যায় এবং যার সম্পর্কে বলা যায়, তাকে পদার্থ বলা হয়। প্রথমদিকে বৈশেষিক দর্শনে ছয়টি পদার্থ স্বীকার করা হলেও পরে অভাবকে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তাই পরিণত বৈশেষিক দর্শনে মোট সাতটি পদার্থ স্বীকৃত।
১. দ্রব্য : যার মধ্যে গুণ ও কর্ম অবস্থান করে, তাকে দ্রব্য বলে। দ্রব্য হলো গুণ ও কর্মের আশ্রয়। যেমন—একটি ফুল একটি দ্রব্য; কারণ ফুলের মধ্যে রং ও গন্ধের মতো গুণ থাকে এবং ফুলকে নড়ানো হলে তার মধ্যে কর্ম দেখা যায়। বৈশেষিক মতে দ্রব্য নয় প্রকার—পৃথিবী, জল, তেজ, বায়ু, আকাশ, কাল, দিক, আত্মা ও মন।
২. গুণ : কোনো দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য বা ধর্মকে গুণ বলা হয়। গুণ নিজে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না; এটি সবসময় কোনো দ্রব্যের মধ্যে থাকে। যেমন—ফুলের লাল রং, ফুলের গন্ধ এবং আমের মিষ্টি স্বাদ হলো গুণ। বৈশেষিক দর্শনে মোট ২৪টি গুণ স্বীকার করা হয়েছে।
৩. কর্ম : কোনো দ্রব্যের গতি বা নড়াচড়াকে কর্ম বলা হয়। কোনো বস্তু যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়, উপরে ওঠে, নিচে নামে, সংকুচিত হয় বা প্রসারিত হয়, তখন সেই গতিকে কর্ম বলা হয়। বৈশেষিক মতে কর্ম পাঁচ প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন।
৪. সামান্য : অনেকগুলি আলাদা বস্তুর মধ্যে যে সাধারণ ধর্ম বা মিল থাকে, তাকে সামান্য বলে। যেমন—অনেকগুলি গরু দেখতে আলাদা হলেও তাদের প্রত্যেকের মধ্যে ‘গোত্ব’ বা গরু হওয়ার সাধারণ ধর্ম রয়েছে। এই সাধারণ ধর্মই সামান্য। তাই সামান্য বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে থাকা একই ধরনের বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়।
৫. বিশেষ : নিত্য পদার্থগুলির মধ্যে যে স্বাতন্ত্র্য বা পার্থক্য থাকে, তাকে বিশেষ বলে। বিশেষের কারণে একটি নিত্য পদার্থ অন্য নিত্য পদার্থ থেকে আলাদা বলে বোঝা যায়। সহজভাবে বলা যায়, সামান্য যেখানে মিল বোঝায়, বিশেষ সেখানে পার্থক্য বোঝায়। তাই সামান্য ও বিশেষকে মনে রাখার সহজ উপায় হলো—সামান্য = মিল এবং বিশেষ = অমিল।
৬. সমবায় : দুটি বিষয়ের মধ্যে যে নিত্য ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক থাকে, তাকে সমবায় বলে। এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে একে অপরের থেকে আলাদা করে স্বাধীনভাবে রাখা যায় না। যেমন—দ্রব্য ও গুণ, অংশ ও সমগ্র এবং ব্যক্তি ও জাতির মধ্যে সমবায় সম্পর্ক রয়েছে। একটি ফুল থেকে তার রংকে আলাদা করে স্বাধীনভাবে রাখা যায় না—এটি সমবায় সম্পর্ক বোঝার সহজ উদাহরণ।
৭. অভাব : কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ে কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিকে অভাব বলা হয়। যেমন—টেবিলের উপর বই নেই; এখানে টেবিলের উপর বইয়ের অভাব রয়েছে। বৈশেষিক দর্শনে অভাবকে পরবর্তীকালে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অভাব চার প্রকার—প্রাগভাব, ধ্বংসাভাব, অত্যন্তাভাব ও অন্যোন্যাভাব। কোনো বস্তু তৈরি হওয়ার আগে তার না থাকা প্রাগভাব, নষ্ট হওয়ার পরে না থাকা ধ্বংসাভাব, কোনো বস্তু কোনোভাবেই না থাকা অত্যন্তাভাব এবং একটি বস্তু অন্য বস্তু নয়—এই পার্থক্যকে অন্যোন্যাভাব বলা হয়।

উপসংহার : বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থ হলো—দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব। এই সাতটি পদার্থের মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন জগতের বিভিন্ন বস্তু, তাদের বৈশিষ্ট্য, গতি, সাধারণ ধর্ম, পার্থক্য, সম্পর্ক এবং অনুপস্থিতিকে ব্যাখ্যা করেছে। তাই বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষায় এই বিষয়টি লেখার সময় সাতটি পদার্থের নাম, সংজ্ঞা ও সহজ উদাহরণ উল্লেখ করলে উত্তরটি সম্পূর্ণ ও সুন্দর হয়।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক দর্শনে বিভিন্ন প্রকার পদার্থ | বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ | Vaisheshika Philosophy
১. বৈশেষিক দর্শনের প্রবর্তক কে?
ক) কণাদ
খ) গৌতম
গ) পতঞ্জলি
ঘ) জৈমিনি
উত্তর: ক) কণাদ
২. বৈশেষিক দর্শনে ‘পদার্থ’ বলতে কী বোঝায়?
ক) যা কেবল দেখা যায়
খ) যা পদের অর্থ এবং জ্ঞানের বিষয়
গ) যা কেবল স্পর্শ করা যায়
ঘ) যা কেবল অনুভব করা যায়
উত্তর: খ) যা পদের অর্থ এবং জ্ঞানের বিষয়
৩. বৈশেষিক দর্শনে মোট কয়টি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছে?
ক) ৫টি
খ) ৬টি
গ) ৭টি
ঘ) ৮টি
উত্তর: গ) ৭টি
৪. প্রাচীন বৈশেষিক দর্শনে কয়টি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছিল?
ক) ৪টি
খ) ৫টি
গ) ৬টি
ঘ) ৭টি
উত্তর: গ) ৬টি
৫. বৈশেষিক দর্শনে সপ্তম পদার্থ কোনটি?
ক) কর্ম
খ) বিশেষ
গ) সমবায়
ঘ) অভাব
উত্তর: ঘ) অভাব
৬. বৈশেষিক মতে গুণ ও কর্মের আশ্রয় কোনটি?
ক) গুণ
খ) দ্রব্য
গ) সামান্য
ঘ) বিশেষ
উত্তর: খ) দ্রব্য
৭. বৈশেষিক মতে দ্রব্য কয় প্রকার?
ক) ৭ প্রকার
খ) ৮ প্রকার
গ) ৯ প্রকার
ঘ) ১০ প্রকার
উত্তর: গ) ৯ প্রকার
৮. নিচের কোনটি বৈশেষিক দর্শনের দ্রব্য নয়?
ক) পৃথিবী
খ) জল
গ) রূপ
ঘ) আত্মা
উত্তর: গ) রূপ
৯. বৈশেষিক মতে গুণ কয় প্রকার?
ক) ১৬ প্রকার
খ) ১৮ প্রকার
গ) ২১ প্রকার
ঘ) ২৪ প্রকার
উত্তর: ঘ) ২৪ প্রকার
১০. নিচের কোনটি গুণের উদাহরণ?
ক) রং
খ) হাঁটা
গ) দৌড়ানো
ঘ) ওঠা
উত্তর: ক) রং
১১. বৈশেষিক মতে কর্ম কয় প্রকার?
ক) ৩ প্রকার
খ) ৪ প্রকার
গ) ৫ প্রকার
ঘ) ৬ প্রকার
উত্তর: গ) ৫ প্রকার
১২. নিচের কোনটি কর্মের একটি প্রকার?
ক) রূপ
খ) গন্ধ
গ) উৎক্ষেপণ
ঘ) সংখ্যা
উত্তর: গ) উৎক্ষেপণ
১৩. বহু ব্যক্তির মধ্যে যে সাধারণ ধর্ম থাকে তাকে কী বলা হয়?
ক) বিশেষ
খ) সামান্য
গ) কর্ম
ঘ) অভাব
উত্তর: খ) সামান্য
১৪. ‘গোত্ব’ কোন পদার্থের উদাহরণ?
ক) দ্রব্য
খ) গুণ
গ) সামান্য
ঘ) বিশেষ
উত্তর: গ) সামান্য
১৫. নিত্য পদার্থের পারস্পরিক স্বাতন্ত্র্য বোঝায় কোনটি?
ক) সামান্য
খ) বিশেষ
গ) গুণ
ঘ) কর্ম
উত্তর: খ) বিশেষ
১৬. নিত্য ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে কী বলা হয়?
ক) সংযোগ
খ) সামান্য
গ) সমবায়
ঘ) অভাব
উত্তর: গ) সমবায়
১৭. দ্রব্য ও গুণের মধ্যে কোন সম্পর্ক রয়েছে?
ক) সংযোগ
খ) সমবায়
গ) বিরোধ
ঘ) কোনো সম্পর্ক নেই
উত্তর: খ) সমবায়
১৮. কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিকে কী বলা হয়?
ক) সামান্য
খ) বিশেষ
গ) অভাব
ঘ) কর্ম
উত্তর: গ) অভাব
১৯. অভাব কয় প্রকার?
ক) ২ প্রকার
খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার
ঘ) ৫ প্রকার
উত্তর: গ) ৪ প্রকার
২০. নিচের কোনটি বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থের অন্তর্ভুক্ত?
ক) প্রত্যক্ষ
খ) অনুমান
গ) সমবায়
ঘ) উপমান
উত্তর: গ) সমবায়
SAQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক দর্শনে বিভিন্ন প্রকার পদার্থ | বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ | Vaisheshika Philosophy
১. বৈশেষিক দর্শনের প্রবর্তক কে?
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনের প্রবর্তক হলেন মহর্ষি কণাদ।
২. বৈশেষিক মতে পদার্থ কী?
উত্তর: যা পদের অর্থ এবং যথার্থ জ্ঞানের বিষয়, তাকে পদার্থ বলে।
৩. বৈশেষিক দর্শনে কয়টি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছে?
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনে মোট সাতটি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছে।
৪. বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থের নাম লেখো।
উত্তর: সাতটি পদার্থ হলো—দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব।
৫. বৈশেষিক দর্শনে প্রথমে কয়টি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছিল?
উত্তর: প্রথমে ছয়টি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছিল। পরে অভাবকে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
৬. দ্রব্য কাকে বলে?
উত্তর: যার মধ্যে গুণ ও কর্ম থাকে, তাকে দ্রব্য বলে।
৭. বৈশেষিক মতে দ্রব্য কয় প্রকার?
উত্তর: বৈশেষিক মতে দ্রব্য নয় প্রকার—পৃথিবী, জল, তেজ, বায়ু, আকাশ, কাল, দিক, আত্মা ও মন।
৮. গুণ কাকে বলে?
উত্তর: কোনো দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য বা ধর্মকে গুণ বলে। যেমন—রং, গন্ধ, স্বাদ ইত্যাদি।
৯. বৈশেষিক মতে গুণ কয় প্রকার?
উত্তর: বৈশেষিক মতে গুণ ২৪ প্রকার।
১০. কর্ম কাকে বলে?
উত্তর: কোনো দ্রব্যের গতি বা নড়াচড়াকে কর্ম বলে।
১১. বৈশেষিক মতে কর্ম কয় প্রকার?
উত্তর: বৈশেষিক মতে কর্ম পাঁচ প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন।
১২. সামান্য কাকে বলে?
উত্তর: বহু ব্যক্তির মধ্যে যে সাধারণ ধর্ম বা মিল থাকে, তাকে সামান্য বলে। যেমন—গরুর মধ্যে ‘গোত্ব’।
১৩. বিশেষ কাকে বলে?
উত্তর: নিত্য পদার্থগুলির মধ্যে যে স্বাতন্ত্র্য বা পার্থক্য থাকে, তাকে বিশেষ বলে।
১৪. সামান্য ও বিশেষের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: সামান্য মিল বোঝায়, আর বিশেষ পার্থক্য বোঝায়।
১৫. সমবায় কাকে বলে?
উত্তর: দুটি বিষয়ের মধ্যে যে নিত্য ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক থাকে, তাকে সমবায় বলে।
১৬. সমবায়ের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: দ্রব্য ও গুণের মধ্যে সমবায় সম্পর্ক থাকে। যেমন—ফুল ও তার রঙের মধ্যে সমবায় সম্পর্ক রয়েছে।
১৭. অভাব কাকে বলে?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ে কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিকে অভাব বলে। যেমন—টেবিলের উপর বই নেই।
১৮. অভাব কয় প্রকার?
উত্তর: অভাব চার প্রকার—প্রাগভাব, ধ্বংসাভাব, অত্যন্তাভাব ও অন্যোন্যাভাব।
১৯. প্রাগভাব ও ধ্বংসাভাব কী?
উত্তর: কোনো বস্তু তৈরি হওয়ার আগে তার না থাকাকে প্রাগভাব এবং কোনো বস্তু নষ্ট হওয়ার পরে তার না থাকাকে ধ্বংসাভাব বলে।
২০. বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বের গুরুত্ব কী?
উত্তর: পদার্থতত্ত্বের মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন জগতের বিভিন্ন বস্তু, গুণ, গতি, সাধারণ ধর্ম, পার্থক্য, সম্পর্ক ও অনুপস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছে। তাই বৈশেষিক দর্শনের মূল তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রে পদার্থতত্ত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের বিভিন্ন প্রকার পদার্থ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের অধিবিদ্যা ও পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে ‘পদার্থ’ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। বৈশেষিক দর্শনের মতে জগতের বিভিন্ন বস্তু, তাদের গুণ, কর্ম, সাধারণ ধর্ম, স্বাতন্ত্র্য, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অনুপস্থিতিকে ব্যাখ্যা করার জন্য পদার্থতত্ত্বের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এই কারণে বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ ভারতীয় দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এখানে বৈশেষিক দর্শনে পদার্থের ধারণা, পদার্থের সংজ্ঞা, পদার্থের স্বরূপ, বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থ এবং প্রতিটি পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। পরিণত বৈশেষিক দর্শনে স্বীকৃত সাতটি পদার্থ হলো—দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব। এই সাতটি পদার্থের মাধ্যমে বৈশেষিক দার্শনিকরা জগতের বিভিন্ন বাস্তব বিষয়কে শ্রেণিবদ্ধ করে তাদের প্রকৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন।
বৈশেষিক দর্শনের প্রথম পদার্থ হলো দ্রব্য। যে পদার্থের মধ্যে গুণ ও কর্ম অবস্থান করে, তাকে দ্রব্য বলা হয়। বৈশেষিক মতে দ্রব্য নয় প্রকার—পৃথিবী, জল, তেজ, বায়ু, আকাশ, কাল, দিক, আত্মা ও মন। দ্বিতীয় পদার্থ হলো গুণ। কোনো দ্রব্যের বৈশিষ্ট্য বা ধর্মকে গুণ বলা হয়। বৈশেষিক দর্শনে মোট ২৪টি গুণ স্বীকার করা হয়েছে। তৃতীয় পদার্থ হলো কর্ম। কোনো দ্রব্যের গতি বা নড়াচড়াকে কর্ম বলা হয় এবং কর্ম পাঁচ প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন।
চতুর্থ পদার্থ হলো সামান্য। বহু ব্যক্তির মধ্যে যে সাধারণ ধর্ম বা মিল থাকে, তাকে সামান্য বলা হয়। যেমন, বিভিন্ন গরুর মধ্যে ‘গোত্ব’ একটি সাধারণ ধর্ম। পঞ্চম পদার্থ হলো বিশেষ। নিত্য পদার্থগুলির মধ্যে যে স্বাতন্ত্র্য বা পার্থক্য থাকে, তাকে বিশেষ বলা হয়। সহজভাবে বলা যায়, সামান্য যেখানে মিল বোঝায়, বিশেষ সেখানে পার্থক্য বোঝায়।
ষষ্ঠ পদার্থ হলো সমবায়। দুটি পদার্থের মধ্যে যে নিত্য ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক থাকে, তাকে সমবায় বলা হয়। যেমন—দ্রব্য ও গুণ, অংশ ও সমগ্র এবং ব্যক্তি ও জাতির মধ্যে সমবায় সম্পর্ক রয়েছে। সপ্তম পদার্থ হলো অভাব। কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ে কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিকে অভাব বলা হয়। বৈশেষিক দর্শনে অভাবকে পরবর্তীকালে সপ্তম পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অভাব চার প্রকার—প্রাগভাব, ধ্বংসাভাব, অত্যন্তাভাব ও অন্যোন্যাভাব।
তবে শুধুমাত্র সাতটি পদার্থের নাম জানা থাকলেই বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সম্পূর্ণভাবে বোঝা সম্ভব নয়। প্রতিটি পদার্থের সংজ্ঞা, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ এবং উদাহরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে দ্রব্য ও গুণের সম্পর্ক, কর্মের বিভিন্ন প্রকার, সামান্য ও বিশেষের পার্থক্য, সমবায়ের নিত্যতা এবং অভাবের বিভিন্ন প্রকার ভালোভাবে জানা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিষয়টি মাথায় রেখে “বৈশেষিক দর্শনে বিভিন্ন প্রকার পদার্থ | বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ | Vaisheshika Philosophy” শীর্ষক একটি বিস্তারিত YouTube Video প্রস্তুত করা হয়েছে। ভিডিওটিতে বৈশেষিক মতে পদার্থের অর্থ ও সংজ্ঞা থেকে শুরু করে সাতটি পদার্থের পরিচয়, তাদের বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ এবং সহজ উদাহরণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বের মূল বিষয়গুলি বুঝতে পারবে এবং পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি মনে রাখতে পারবে।
যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই Video বিশেষভাবে সহায়ক হবে। বিশেষ করে একাদশ শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), Burdwan University এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রমে বৈশেষিক দর্শনের সাতটি পদার্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষায় পদার্থের সংজ্ঞা, সাতটি পদার্থের নাম, দ্রব্যের প্রকারভেদ, গুণের প্রকারভেদ, কর্মের প্রকারভেদ, সামান্য ও বিশেষ, সমবায় এবং অভাব সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে।
তাই উপরিউক্ত লিখিত আলোচনার পাশাপাশি নিচে দেওয়া Video-টি মনোযোগ সহকারে দেখলে বৈশেষিক দর্শনের ৭ পদার্থ, বৈশেষিক দর্শনে পদার্থের সংজ্ঞা, দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব, বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব এবং Vaisheshika Philosophy সম্পর্কে যথার্থ, সহজ ও পরিপূর্ণ ধারণা অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই Video শিক্ষার্থীদের বৈশেষিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বুঝতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আরও সহজ, আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে সাহায্য করবে।
