বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ কী? | পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টি তত্ত্ব | 5 মিনিটে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ (Vaisheshika Atomism) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষোপযোগী বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের জগৎ সৃষ্টি, ধ্বংস এবং পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে “পরমাণুবাদ” সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী বৈশেষিক মতে পরমাণুর সংজ্ঞা, পরমাণুর স্বরূপ, পরমাণুর বৈশিষ্ট্য, চার প্রকার পরমাণু, পরমাণুর নিত্যতা, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুকের ধারণা এবং জগতের উৎপত্তি ও প্রলয় তত্ত্ব বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়। সেই কারণে **ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)**-এ “বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ কী? | পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টি তত্ত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
এখানে বৈশেষিক দর্শন এর পরমাণুবাদের ধারণা, পরমাণুর সংজ্ঞা, পরমাণু কেন জগতের মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়, পরমাণুর নিত্যতা ও অবিভাজ্যতা এবং পরমাণুর অস্তিত্বের প্রমাণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও বৈশেষিক মতে ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (জল), তেজ (আগুন) ও মরুৎ (বায়ু)—এই চার প্রকার পরমাণুর স্বরূপ, গুণ এবং পারস্পরিক পার্থক্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এই বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম এবং NET, SET, PSC, School Service, College Service সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই বৈশেষিক পরমাণুবাদের সংজ্ঞা, পরমাণুর বৈশিষ্ট্য, চার প্রকার পরমাণু, জগৎ সৃষ্টিতে পরমাণুর ভূমিকা, ঈশ্বরের ভূমিকা এবং পরমাণুবাদের সমালোচনা থেকে প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা একজন দর্শনের শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বৈশেষিক মতে, জগতের সমস্ত জড় পদার্থ চার প্রকার নিত্য ও অবিভাজ্য পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। এই পরমাণুগুলি হলো—ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ। পরমাণু হলো জড়বস্তুর ক্ষুদ্রতম অংশ, যাকে আর বিভাজন করা যায় না। বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, পরমাণুর সৃষ্টি বা ধ্বংস সম্ভব নয়, তাই পরমাণু নিত্য। এই পরমাণুগুলির সংযোগ ও বিচ্ছেদের মাধ্যমে জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংস সংঘটিত হয়।
এই প্রবন্ধে বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে পরমাণুর স্বরূপ, পরমাণুর বৈশিষ্ট্য, পরমাণুর প্রকারভেদ, পরমাণুর অস্তিত্বের প্রমাণ এবং জগৎ সৃষ্টিতে পরমাণুর ভূমিকা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও কীভাবে দুটি পরমাণুর সংযোগে দ্ব্যণুক এবং তিনটি দ্ব্যণুকের সংযোগে ত্র্যণুকের সৃষ্টি হয় এবং ক্রমান্বয়ে স্থূল জাগতিক বস্তুর উৎপত্তি ঘটে—সেই বিষয়টিও সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই আলোচনায় আরও দেখানো হয়েছে যে, বৈশেষিক দর্শনে ঈশ্বরের ইচ্ছা ও অদৃষ্ট বা কর্মবাদের মাধ্যমে কীভাবে পরমাণুগুলি সক্রিয় হয়ে জগতের সৃষ্টি করে। প্রলয়কালে কীভাবে পরমাণুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্ব্যণুক, ত্র্যণুক এবং স্থূল জগতের ধ্বংস ঘটে, সেই বিষয়গুলিও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও এই লেখায় বৈশেষিক পরমাণুবাদের বিভিন্ন সমালোচনা, যেমন—পরমাণু নিরবয়ব হওয়া সত্ত্বেও অবয়বযুক্ত জগতের সৃষ্টি কীভাবে সম্ভব, অতি সূক্ষ্ম পরমাণুর সংযোগ দ্বারা স্থূল বস্তুর উৎপত্তির সমস্যা এবং বেদান্ত দর্শনের আপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বৈশেষিক দর্শনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়।
আপনি যদি বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ, Vaisheshika Atomism, বৈশেষিক দর্শনে পরমাণু তত্ত্ব, পরমাণুর স্বরূপ, পরমাণুর বৈশিষ্ট্য, চার প্রকার পরমাণু, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুক, জগৎ সৃষ্টি তত্ত্ব, প্রলয় তত্ত্ব অথবা ভারতীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নির্ভুল, সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।
পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টি তত্ত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের জগৎ সৃষ্টি ও ধ্বংসের তত্ত্ব এবং পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে “পরমাণুবাদ” সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী বৈশেষিক মতে পরমাণুর সংজ্ঞা, পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, চার প্রকার পরমাণু, পরমাণুর নিত্যতা, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুকের ধারণা এবং জগতের উৎপত্তি ও প্রলয় তত্ত্ব নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। অথচ XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বৈশেষিক দর্শনে পরমাণুবাদ হলো এমন একটি মতবাদ, যেখানে জগতের সমস্ত জড় পদার্থকে ক্ষুদ্রতম ও অবিভাজ্য পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত বলে মনে করা হয়। বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, পরমাণু হলো জড়বস্তুর মূল উপাদান এবং এটি নিত্য, অবিনাশী ও অবিভাজ্য। এই পরমাণুর সংযোগ ও বিচ্ছেদের মাধ্যমেই জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংস সংঘটিত হয়। এই মতবাদকে বৈশেষিক পরমাণুবাদ বলা হয়।
বৈশেষিক মতে, পরমাণু হলো এমন একটি ক্ষুদ্রতম পদার্থ, যাকে আর কোনো অংশে বিভক্ত করা যায় না। জড়বস্তুকে ক্রমাগত বিভাজন করলে যে সর্বশেষ অবিভাজ্য অংশ পাওয়া যায়, তাকেই পরমাণু বলা হয়। পরমাণু অতীন্দ্রিয় হওয়ায় প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করা যায় না, কিন্তু অনুমান প্রমাণের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব জানা যায়। যেমন—কোনো স্থূল বস্তুকে ক্রমাগত বিভাজন করলে অবশেষে এমন একটি অবস্থায় পৌঁছাতে হবে, যার আর বিভাজন সম্ভব নয়; সেই অবিভাজ্য অংশই হলো পরমাণু।
বৈশেষিক দর্শনে পরমাণু, তার বৈশিষ্ট্য এবং জগতের উৎপত্তির ধারণা একটি সুসংবদ্ধ তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বৈশেষিক মতে পরমাণু চার প্রকার—ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (জল), তেজ (আগুন) এবং মরুৎ (বায়ু)। এই চার প্রকার পরমাণুর সাহায্যেই সমগ্র জড় জগতের সৃষ্টি হয়। পরিমাণের দিক থেকে এই পরমাণুগুলির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ প্রত্যেকটি পরমাণুই অত্যন্ত ক্ষুদ্র। কিন্তু গুণের দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ক্ষিতি পরমাণুর বিশেষ গুণ হলো গন্ধ, অপ পরমাণুর বিশেষ গুণ হলো রস, তেজ পরমাণুর বিশেষ গুণ হলো রূপ এবং মরুৎ পরমাণুর বিশেষ গুণ হলো স্পর্শ। এই গুণগত পার্থক্যের কারণেই বিভিন্ন ধরনের জাগতিক বস্তুর উৎপত্তি ঘটে।
বৈশেষিক মতে পরমাণু নিষ্ক্রিয় ও গতিহীন অবস্থায় থাকে। তাই প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে এই নিষ্ক্রিয় পরমাণু থেকে সক্রিয় জগতের সৃষ্টি হয়? এর উত্তরে বৈশেষিক দার্শনিকরা বলেন, ঈশ্বরের ইচ্ছার দ্বারা পরমাণুগুলি গতিশীল হয় এবং তাদের সংযোগের মাধ্যমে জগতের সৃষ্টি হয়। জীবের কর্মফল ভোগের উদ্দেশ্যেই ঈশ্বর জগতের সৃষ্টি করেন। এই ক্ষেত্রে অদৃষ্ট বা কর্মবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৈশেষিক মতে জগতের সৃষ্টি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। প্রথমে দুটি পরমাণুর সংযোগে দ্ব্যণুকের সৃষ্টি হয়। এরপর তিনটি দ্ব্যণুকের সংযোগে ত্র্যণুক বা ত্রসরেণুর সৃষ্টি হয়। এই ত্র্যণুক থেকেই ক্রমশ স্থূল পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। অর্থাৎ পরমাণু → দ্ব্যণুক → ত্র্যণুক → স্থূল জাগতিক বস্তু—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জগতের সৃষ্টি হয়।
আবার প্রলয়কালে ঈশ্বরের ইচ্ছায় পরমাণুগুলির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। প্রথমে স্থূল বস্তুর বিনাশ ঘটে, তারপর ত্র্যণুকের বিনাশ, দ্ব্যণুকের বিনাশ এবং শেষে পরমাণু পৃথক অবস্থায় অবস্থান করে। এইভাবে জগতের ধ্বংস বা প্রলয় সংঘটিত হয়।
বৈশেষিক পরমাণুবাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি জগতের বস্তুগত কারণ হিসেবে পরমাণুকে স্বীকার করে। এই মতবাদ ভারতীয় দর্শনে বস্তুজগতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। পরমাণুর নিত্যতা, অবিভাজ্যতা এবং সংযোগ-বিচ্ছেদের মাধ্যমে সৃষ্টি ও ধ্বংসের ব্যাখ্যা বৈশেষিক দর্শনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান।
অতএব বলা যায়, বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ হলো ভারতীয় দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জগৎ সৃষ্টিতত্ত্ব। পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ এবং পরমাণু থেকে জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংসের ব্যাখ্যার মাধ্যমে বৈশেষিক দার্শনিকরা একটি সুসংবদ্ধ দার্শনিক মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ আলোচনা কর।
উত্তর:- জগৎ সৃষ্টি বা ধ্বংস কীভাবে হয়, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বৈশেষিকগণ জগতের যাবতীয় অবয়বের মূল উপাদান হিসেবে ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চার প্রকার পরমাণুর সাহায্য নিয়েছেন। এই কারণে বৈশেষিকদের এই মতবাদকে পরমাণুবাদ বলা হয়। পরমাণু হলো জড়বস্তুর ক্ষুদ্রতম ও অবিভাজ্য অংশ। পরমাণুগুলি হলো জগতের মূল উপাদান এবং পরমাণু নিত্য। কারণ—পরমাণুর উৎপত্তি ও বিনাশ সম্ভব নয়। পরমাণুগুলি অতীন্দ্রিয় হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে, পরমাণুর অস্তিত্বের প্রমাণ কী? এর উত্তরে বৈশেষিক দার্শনিকগণ বলেন, অনুমান প্রমাণের দ্বারা পরমাণুর অস্তিত্ব জানা যায়। জড়বস্তুকে যদি ক্রমাগতভাবে বিভাজিত করা হয়, তখন এমন একটি অবস্থায় উপনীত হবে, যাকে আর বিভাজন করা যাবে না। জড়বস্তুর এই ক্ষুদ্রতম ও অবিভাজ্য অংশই হলো পরমাণু।
বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বে পরমাণুবাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ। বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, এই দৃশ্যমান জগৎ আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়নি, বরং এর পিছনে রয়েছে কিছু মৌলিক ও নিত্য উপাদান। সেই মৌলিক উপাদান হলো পরমাণু। বৈশেষিক দর্শনের আচার্যগণ মনে করেন, জগতের সমস্ত স্থূল বস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই বৈশেষিক পরমাণুবাদ মূলত একটি বস্তুবাদী জগৎ সৃষ্টিতত্ত্ব।
পরমাণু শব্দের অর্থ হলো—যাকে আর কোনো অংশে বিভক্ত করা যায় না। বৈশেষিকদের মতে, পরমাণু হলো জড় জগতের চরম সীমার ক্ষুদ্রতম একক। এটি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায় না, কারণ এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। কিন্তু অনুমানের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়। যেমন, আমরা দেখি স্থূল বস্তু বিভাজনযোগ্য। কিন্তু বিভাজন যদি অনন্তকাল চলতে থাকে, তাহলে একটি চরম ক্ষুদ্র অবিভাজ্য অংশ অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। সেই অবিভাজ্য অংশই হলো পরমাণু।
বৈশেষিক মতে, পরমাণু চার প্রকার যথা—ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন) ও মরুৎ (বায়ু)। এই পরমাণুগুলির মধ্যে কোনো পরিমাণগত পার্থক্য নেই, কারণ পরিমাণের দিক থেকে এই চারটি পরমাণুই অত্যন্ত ক্ষুদ্র। কিন্তু গুণগত দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। যেমন—ক্ষিতির গুণ হলো গন্ধ, অপের গুণ হলো রস, তেজের গুণ হলো রূপ এবং মরুৎ-এর গুণ হলো স্পর্শ। এই চারটি পরমাণুর সাহায্যে বৈশেষিকরা জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংসের ব্যাখ্যা করেছেন। পরমাণুগুলি নিষ্ক্রিয় ও গতিহীন হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে এরূপ পরমাণুর সাহায্যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে?
বৈশেষিকদের মতে, চার প্রকার পরমাণুর মধ্যে প্রত্যেকটির নিজস্ব স্বতন্ত্র গুণ রয়েছে। পৃথিবী বা ক্ষিতি পরমাণুর মধ্যে গন্ধ প্রধান গুণ হিসেবে থাকে, জল বা অপ পরমাণুর মধ্যে রস, তেজ পরমাণুর মধ্যে রূপ এবং বায়ু বা মরুৎ পরমাণুর মধ্যে স্পর্শ প্রধান গুণ হিসেবে অবস্থান করে। এই গুণগত পার্থক্যের কারণেই বিভিন্ন ধরনের বস্তু ও পদার্থের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
পরমাণু নিত্য হলেও তাদের দ্বারা গঠিত স্থূল বস্তু নিত্য নয়। অর্থাৎ পরমাণু ধ্বংস হয় না, কিন্তু পরমাণুর সংযোগে তৈরি বস্তু ধ্বংস হতে পারে। যেমন—মাটি পরমাণু নিত্য, কিন্তু মাটি দিয়ে তৈরি ঘট বা অন্য কোনো বস্তু অনিত্য। এইভাবে বৈশেষিকরা নিত্য কারণ এবং অনিত্য কার্যের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
এর উত্তরে বৈশেষিক দার্শনিকগণ বলেন, পরমাণুগুলিকে সক্রিয় ও গতিশীল করেছেন ঈশ্বর। কাজেই জগতের সৃষ্টির মূলে আছে ঈশ্বরের ইচ্ছা। এখানে আপত্তি হতে পারে, ঈশ্বর যদি পূর্ণতম সত্তা হন, তাহলে ঈশ্বরের সৃষ্টির প্রয়োজন হয় কীভাবে? এর উত্তরে বৈশেষিকরা বলেন, অদৃষ্ট বা কর্মবাদ অনুসারে জীবকে কর্মের ফল ভোগ করতে হয়। কর্মবাদ অনুসারে জীবকে ভালো কাজের জন্য সুখ এবং মন্দ কাজের জন্য দুঃখ ভোগ করতে হয়। যেহেতু কর্মের ফল জীবকে ভোগ করতে হয়, সেহেতু কর্মফল ভোগের জন্যই জীবের জন্ম হয়। এরূপ কর্মফল প্রদানের জন্যই ঈশ্বরের জগৎ ও জাগতিক বস্তুসমূহ সৃষ্টির ইচ্ছা হয়।
বৈশেষিক দর্শনে ঈশ্বরকে জগতের নিমিত্ত কারণ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। অর্থাৎ ঈশ্বর নিজে জগতের উপাদান নন, কিন্তু তাঁর ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরমাণুগুলি সক্রিয় হয়ে জগতের সৃষ্টি করে। পরমাণু হলো জগতের উপাদান কারণ এবং ঈশ্বর হলেন জগতের নিমিত্ত কারণ।
বৈশেষিক মতে, জীবের পূর্বকৃত কর্ম বা অদৃষ্টের ফল ভোগের জন্যই জগতের সৃষ্টি প্রয়োজন হয়। ঈশ্বর সেই কর্মফল অনুযায়ী জীবের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তাই বৈশেষিক পরমাণুবাদ কেবল বস্তুগত ব্যাখ্যা নয়, এর সঙ্গে নৈতিক কর্মবাদ ও ঈশ্বরবাদের সম্পর্কও যুক্ত রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হয়, কীভাবে জগৎ ও জাগতিক বস্তুর সৃষ্টি হয়? এর উত্তরে বৈশেষিকরা বলেন, ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে দ্ব্যণুকের সৃষ্টি হয় এবং তিনটি দ্ব্যণুকের অর্থাৎ ছয়টি পরমাণু যুক্ত হয়ে ত্র্যণুক বা ত্রসরেণুর সৃষ্টি হয়। এইভাবে পরমাণু থেকে দ্ব্যণুক, দ্ব্যণুক থেকে ত্র্যণুক এবং ত্র্যণুক থেকে ক্রমান্বয়ে স্থূল ক্ষিতি, স্থূল অপ্, স্থূল তেজ ও স্থূল মরুৎ-এর সৃষ্টি হয়।
বৈশেষিকদের মতে, সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে দুটি সমজাতীয় পরমাণুর মধ্যে সংযোগ ঘটে। এই সংযোগের ফলে দ্ব্যণুকের সৃষ্টি হয়। এরপর তিনটি দ্ব্যণুকের মিলনে ত্র্যণুক সৃষ্টি হয়। ত্র্যণুক হলো এমন একটি সূক্ষ্ম পদার্থ, যা থেকে পরবর্তীকালে দৃশ্যমান স্থূল বস্তুর উৎপত্তি হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমগ্র জাগতিক জগতের সৃষ্টি হয়।

এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈশেষিকরা দেখাতে চেয়েছেন যে, জগতের সমস্ত বৈচিত্র্যের পিছনে রয়েছে একই মৌলিক উপাদান—পরমাণু। বিভিন্ন পরমাণুর সংযোগের ধরন ও গুণের পার্থক্যের জন্যই বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি হয়।
আবার প্রলয়কালে ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী পরমাণুদ্বয়ের সংযোগ বিনাশে দ্ব্যণুকের বিনাশ হয়, দ্ব্যণুকের বিনাশে ত্র্যণুকের বিনাশ হয়। এইভাবে ক্রমান্বয়ে ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ বিনাশ হয়ে জগৎ ও জাগতিক বস্তুগুলির ধ্বংস হয়।
বৈশেষিক মতে, সৃষ্টি যেমন একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সংঘটিত হয়, তেমনি ধ্বংস বা প্রলয়ও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। প্রলয়কালে স্থূল বস্তু প্রথমে ধ্বংস হয়, তারপর ত্র্যণুক ও দ্ব্যণুকের বিনাশ ঘটে। কিন্তু পরমাণুর বিনাশ হয় না, কারণ পরমাণু নিত্য। প্রলয়ের পর আবার ঈশ্বরের ইচ্ছায় পরমাণুর সংযোগের মাধ্যমে নতুন সৃষ্টির সূচনা হয়।
সমালোচনা:
১) প্রথমত:
অদ্বৈত বেদান্তের শংকরাচার্য ন্যায়-বৈশেষিকদের পরমাণুবাদের সমালোচনা করে বলেছেন, পরমাণুর সাহায্যে জগতের সৃষ্টি হতে পারে না, কারণ পরমাণুবাদ হলো একপ্রকার বেদবিরোধী মতবাদ।
শংকরাচার্যের মতে, জগতের প্রকৃত কারণ হলো ব্রহ্ম। পরমাণুকে জগতের মূল কারণ হিসেবে গ্রহণ করা বেদান্ত দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তিনি বৈশেষিক পরমাণুবাদের বিরোধিতা করেছেন।
২) দ্বিতীয়ত:
পরমাণুর দ্বারা যদি জগতের সৃষ্টি হয়, তাহলে পরমাণুর অংশ স্বীকার করতে হবে। কিন্তু বৈশেষিক মতে, পরমাণুর কোনো অংশ নেই, কারণ পরমাণু ‘নিরবয়ব’। পরমাণু নিরবয়ব হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে, নিরবয়ব পরমাণু থেকে অবয়বযুক্ত জগতের সৃষ্টি হয় কীভাবে? এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর ন্যায়-বৈশেষিক দার্শনিকরা দিতে পারেননি।
সমালোচকদের মতে, যে জিনিসের কোনো অংশ নেই, তার সংযোগের মাধ্যমে কীভাবে অংশযুক্ত বৃহৎ বস্তু সৃষ্টি হতে পারে—এই প্রশ্নের যথাযথ ব্যাখ্যা বৈশেষিকরা দিতে পারেননি।
৩) তৃতীয়ত:
আবার কোনো কোনো ভারতীয় দার্শনিক বৈশেষিকদের পরমাণুবাদের বিরোধিতা করে বলেন, অতি সূক্ষ্ম পরমাণুর সংযোগ দ্বারা স্থূল বস্তুর উৎপত্তির ব্যাখ্যা করা যায় না।
সমালোচকদের মতে, অতিসূক্ষ্ম ও অদৃশ্য পরমাণুর সাহায্যে দৃশ্যমান ও বিশাল জগতের সৃষ্টি ব্যাখ্যা করা কঠিন। তাই বৈশেষিক পরমাণুবাদের মধ্যে কিছু দার্শনিক সমস্যা রয়েছে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ ভারতীয় দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অবদান। যদিও এই মতবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনা রয়েছে, তবুও জগৎ সৃষ্টি ও পদার্থের গঠন সম্পর্কে বৈশেষিক দার্শনিকদের এই ব্যাখ্যা অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরিচায়ক। পরমাণুর নিত্যতা, চার প্রকার পরমাণুর ধারণা, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুকের সৃষ্টি এবং ঈশ্বরের ভূমিকার মাধ্যমে বৈশেষিকরা একটি সুসংবদ্ধ জগৎ সৃষ্টিতত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক পরমাণুবাদের গুরুত্ব অপরিসীম।
উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
MCQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ কী? | পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টি তত্ত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
1. বৈশেষিকদের পরমাণুবাদ কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গড়ে উঠেছে?
ক) আত্মার স্বরূপ
খ) জগৎ সৃষ্টি ও ধ্বংস
গ) জ্ঞানের উৎপত্তি
ঘ) নৈতিকতার ব্যাখ্যা
উত্তর: ➤ খ) জগৎ সৃষ্টি ও ধ্বংস
2. বৈশেষিক মতে পরমাণু হলো—
ক) জড়বস্তুর ক্ষুদ্রতম ও অবিভাজ্য অংশ
খ) চেতনার অংশ
গ) আত্মার অংশ
ঘ) ঈশ্বরের অংশ
উত্তর: ➤ ক) জড়বস্তুর ক্ষুদ্রতম ও অবিভাজ্য অংশ
3. বৈশেষিক মতে পরমাণু কেমন?
ক) অনিত্য
খ) নিত্য
গ) পরিবর্তনশীল
ঘ) উৎপন্ন
উত্তর: ➤ খ) নিত্য
4. বৈশেষিক মতে পরমাণুর অস্তিত্ব কোন প্রমাণের দ্বারা জানা যায়?
ক) প্রত্যক্ষ প্রমাণ
খ) শব্দ প্রমাণ
গ) অনুমান প্রমাণ
ঘ) উপমান প্রমাণ
উত্তর: ➤ গ) অনুমান প্রমাণ
5. বৈশেষিক মতে পরমাণু কত প্রকার?
ক) দুই প্রকার
খ) তিন প্রকার
গ) চার প্রকার
ঘ) পাঁচ প্রকার
উত্তর: ➤ গ) চার প্রকার
6. বৈশেষিক মতে কোনগুলি পরমাণু?
ক) আকাশ, কাল, দিক, আত্মা
খ) ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ
গ) মন, আত্মা, কাল, দিক
ঘ) গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ
উত্তর: ➤ খ) ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ
7. ক্ষিতি পরমাণুর প্রধান গুণ হলো—
ক) রূপ
খ) স্পর্শ
গ) গন্ধ
ঘ) রস
উত্তর: ➤ গ) গন্ধ
8. অপ পরমাণুর প্রধান গুণ হলো—
ক) রস
খ) গন্ধ
গ) স্পর্শ
ঘ) শব্দ
উত্তর: ➤ ক) রস
9. তেজ পরমাণুর প্রধান গুণ হলো—
ক) গন্ধ
খ) রূপ
গ) রস
ঘ) স্পর্শ
উত্তর: ➤ খ) রূপ
10. মরুৎ পরমাণুর প্রধান গুণ হলো—
ক) শব্দ
খ) রস
গ) স্পর্শ
ঘ) গন্ধ
উত্তর: ➤ গ) স্পর্শ
11. বৈশেষিক মতে জগতের উপাদান কারণ হলো—
ক) ঈশ্বর
খ) আত্মা
গ) পরমাণু
ঘ) মন
উত্তর: ➤ গ) পরমাণু
12. বৈশেষিক মতে জগতের নিমিত্ত কারণ কে?
ক) আত্মা
খ) ঈশ্বর
গ) পরমাণু
ঘ) কাল
উত্তর: ➤ খ) ঈশ্বর
13. দুটি পরমাণুর সংযোগে সৃষ্টি হয়—
ক) ত্র্যণুক
খ) দ্ব্যণুক
গ) স্থূল বস্তু
ঘ) গুণ
উত্তর: ➤ খ) দ্ব্যণুক
14. তিনটি দ্ব্যণুকের সংযোগে সৃষ্টি হয়—
ক) পরমাণু
খ) ত্র্যণুক
গ) মহাভূত
ঘ) গুণ
উত্তর: ➤ খ) ত্র্যণুক
15. বৈশেষিক মতে পরমাণুগুলিকে সক্রিয় ও গতিশীল করেন—
ক) আত্মা
খ) ঈশ্বর
গ) মন
ঘ) কাল
উত্তর: ➤ খ) ঈশ্বর
16. বৈশেষিক মতে জীবের কর্মফল সম্পর্কিত মতবাদ হলো—
ক) বিবর্তনবাদ
খ) অদৃষ্ট বা কর্মবাদ
গ) শূন্যবাদ
ঘ) অনাত্মবাদ
উত্তর: ➤ খ) অদৃষ্ট বা কর্মবাদ
17. বৈশেষিক মতে পরমাণুর একটি বৈশিষ্ট্য হলো—
ক) এটি বিভাজ্য
খ) এটি নিত্য ও নিরবয়ব
গ) এটি দৃশ্যমান
ঘ) এটি পরিবর্তনশীল
উত্তর: ➤ খ) এটি নিত্য ও নিরবয়ব
18. বৈশেষিক পরমাণুবাদের সমালোচনা করেন—
ক) রামানুজ
খ) শংকরাচার্য
গ) পতঞ্জলি
ঘ) কপিল
উত্তর: ➤ খ) শংকরাচার্য
19. শংকরাচার্যের মতে জগতের প্রকৃত কারণ হলো—
ক) পরমাণু
খ) ঈশ্বর
গ) ব্রহ্ম
ঘ) প্রকৃতি
উত্তর: ➤ গ) ব্রহ্ম
20. বৈশেষিক পরমাণুবাদের একটি প্রধান সমালোচনা হলো—
ক) পরমাণু খুব বড়
খ) পরমাণু দৃশ্যমান নয়
গ) নিরবয়ব পরমাণু থেকে অবয়বযুক্ত জগতের সৃষ্টি ব্যাখ্যা কঠিন
ঘ) পরমাণু নিত্য নয়
উত্তর: ➤ গ) নিরবয়ব পরমাণু থেকে অবয়বযুক্ত জগতের সৃষ্টি ব্যাখ্যা কঠিন
SAQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ কী? | পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টি তত্ত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা
1. বৈশেষিক পরমাণুবাদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনে জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংসের মূল উপাদান হিসেবে ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চার প্রকার পরমাণুকে স্বীকার করা হয়েছে। এই পরমাণুর সাহায্যে জগতের ব্যাখ্যা দেওয়ার মতবাদকে বৈশেষিক পরমাণুবাদ বলা হয়।
2. বৈশেষিক মতে পরমাণুর সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: বৈশেষিক মতে, পরমাণু হলো জড়বস্তুর ক্ষুদ্রতম ও অবিভাজ্য অংশ, যাকে আর কোনো অংশে বিভক্ত করা যায় না। এটি জগতের মূল উপাদান এবং নিত্য।
3. বৈশেষিক মতে পরমাণুর অস্তিত্ব কীভাবে প্রমাণ করা যায়?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, পরমাণু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, তাই প্রত্যক্ষভাবে এর জ্ঞান লাভ করা যায় না। অনুমান প্রমাণের মাধ্যমে পরমাণুর অস্তিত্ব জানা যায়।
4. বৈশেষিক মতে পরমাণু নিত্য কেন?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, পরমাণুর উৎপত্তি ও বিনাশ সম্ভব নয়। তাই পরমাণু চিরন্তন বা নিত্য। পরমাণুর সংযোগে তৈরি বস্তু ধ্বংস হলেও পরমাণু ধ্বংস হয় না।
5. বৈশেষিক মতে কত প্রকার পরমাণু স্বীকার করা হয়েছে?
উত্তর: বৈশেষিক মতে চার প্রকার পরমাণু স্বীকার করা হয়েছে। এগুলি হলো—ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন) এবং মরুৎ (বায়ু)।
6. বৈশেষিক মতে পরমাণুর মধ্যে গুণগত পার্থক্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বৈশেষিক মতে পরমাণুগুলির আকার ও পরিমাণে কোনো পার্থক্য নেই, কিন্তু গুণের দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন—ক্ষিতি পরমাণুর গুণ গন্ধ, অপের গুণ রস, তেজের গুণ রূপ এবং মরুৎ-এর গুণ স্পর্শ।
7. বৈশেষিক মতে পরমাণু ও স্থূল বস্তুর মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর: পরমাণু নিত্য, অবিভাজ্য ও ধ্বংসাতীত। কিন্তু পরমাণুর সংযোগে তৈরি স্থূল বস্তু অনিত্য এবং ধ্বংসযোগ্য। যেমন—মাটি পরমাণু নিত্য, কিন্তু মাটির তৈরি ঘট অনিত্য।
8. বৈশেষিক মতে ঈশ্বরের ভূমিকা কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, ঈশ্বর জগতের নিমিত্ত কারণ। ঈশ্বরের ইচ্ছায় নিষ্ক্রিয় ও গতিহীন পরমাণুগুলি সক্রিয় হয়ে জগতের সৃষ্টি করে।
9. বৈশেষিক মতে অদৃষ্ট বা কর্মবাদ কী?
উত্তর: অদৃষ্ট বা কর্মবাদ বলতে জীবের পূর্বকৃত কর্মের অদৃশ্য শক্তিকে বোঝায়। এই কর্মের ফল অনুসারে জীব সুখ ও দুঃখ ভোগ করে।
10. বৈশেষিক মতে জগতের উপাদান কারণ কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, পরমাণু হলো জগতের উপাদান কারণ। কারণ জগতের সমস্ত স্থূল বস্তু পরমাণুর সংযোগের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।
11. বৈশেষিক মতে জগতের নিমিত্ত কারণ কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, ঈশ্বর হলেন জগতের নিমিত্ত কারণ। তাঁর ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণে পরমাণুর সংযোগ ঘটে এবং জগতের সৃষ্টি হয়।
12. দ্ব্যণুক কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, দুটি সমজাতীয় পরমাণুর সংযোগে যে ক্ষুদ্র পদার্থের সৃষ্টি হয় তাকে দ্ব্যণুক বলা হয়।
13. ত্র্যণুক বা ত্রসরেণু কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, তিনটি দ্ব্যণুকের সংযোগে যে সূক্ষ্ম পদার্থের সৃষ্টি হয় তাকে ত্র্যণুক বা ত্রসরেণু বলা হয়।
14. বৈশেষিক মতে জগতের সৃষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বৈশেষিক মতে, ঈশ্বরের ইচ্ছায় দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে দ্ব্যণুক সৃষ্টি করে। এরপর তিনটি দ্ব্যণুকের সংযোগে ত্র্যণুক সৃষ্টি হয় এবং ক্রমে স্থূল জগতের উৎপত্তি হয়।
15. বৈশেষিক মতে জগতের প্রলয় কীভাবে ঘটে?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, প্রলয়ের সময় প্রথমে স্থূল বস্তুর বিনাশ হয়। এরপর ত্র্যণুক ও দ্ব্যণুকের বিনাশ ঘটে। তবে পরমাণুর বিনাশ হয় না, কারণ পরমাণু নিত্য।
16. বৈশেষিক পরমাণুবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তর: বৈশেষিক পরমাণুবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—পরমাণু নিত্য, অবিভাজ্য, অতীন্দ্রিয় এবং জগতের মূল উপাদান। পরমাণুর সংযোগের মাধ্যমে জগতের সৃষ্টি হয়।
17. শংকরাচার্য কেন বৈশেষিক পরমাণুবাদের সমালোচনা করেছেন?
উত্তর: শংকরাচার্যের মতে, পরমাণুকে জগতের মূল কারণ হিসেবে গ্রহণ করা বেদবিরোধী। তাঁর মতে, জগতের প্রকৃত কারণ হলো ব্রহ্ম।
18. নিরবয়ব পরমাণু থেকে অবয়বযুক্ত জগতের সৃষ্টি সম্পর্কে আপত্তিটি কী?
উত্তর: সমালোচকদের মতে, পরমাণু যদি নিরবয়ব বা অংশহীন হয়, তাহলে সেই অংশহীন পরমাণুর সংযোগে কীভাবে অংশযুক্ত স্থূল জগতের সৃষ্টি হতে পারে—এটি একটি বড় সমস্যা।
19. বৈশেষিক পরমাণুবাদের বিরুদ্ধে আরেকটি সমালোচনা লেখ।
উত্তর: কোনো কোনো ভারতীয় দার্শনিক বলেছেন, অতিসূক্ষ্ম ও অদৃশ্য পরমাণুর সংযোগ দ্বারা দৃশ্যমান স্থূল জগতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা কঠিন।
20. ভারতীয় দর্শনে বৈশেষিক পরমাণুবাদের গুরুত্ব কী?
উত্তর: বৈশেষিক পরমাণুবাদ ভারতীয় দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জগৎ সৃষ্টিতত্ত্ব। এর মাধ্যমে বৈশেষিকরা পদার্থের গঠন, সৃষ্টি ও ধ্বংস সম্পর্কে একটি সুসংবদ্ধ দার্শনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
সহযোগী কিছু পাঠ্য বই
১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা
২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা
বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ কী? | পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টি তত্ত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা – ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের জগৎ সৃষ্টি ও পদার্থের গঠন সম্পর্কিত অন্যতম প্রধান মতবাদ হলো পরমাণুবাদ (Atomism)। বৈশেষিক দার্শনিকগণ মনে করেন, এই দৃশ্যমান জগতের সমস্ত স্থূল বস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য ও নিত্য পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই বৈশেষিক দর্শনের পরমাণুবাদ ভারতীয় দর্শনের জগৎ সৃষ্টিতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এই বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম এবং NET, SET, PSC, School Service, College Service সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই বৈশেষিক মতে পরমাণুর সংজ্ঞা, পরমাণুর স্বরূপ, চার প্রকার পরমাণু, পরমাণুর নিত্যতা, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুকের সৃষ্টি, ঈশ্বরের ভূমিকা এবং বৈশেষিক পরমাণুবাদের সমালোচনা থেকে প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দর্শনের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বৈশেষিক মতে, জগৎ সৃষ্টি বা ধ্বংস কীভাবে হয় তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বৈশেষিক দার্শনিকগণ ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ—এই চার প্রকার পরমাণুকে জগতের মূল উপাদান হিসেবে গ্রহণ করেছেন। জগতের যাবতীয় স্থূল বস্তু এই চার ধরনের পরমাণুর সংযোগের ফল। এই কারণে বৈশেষিকদের এই মতবাদকে পরমাণুবাদ বলা হয়। বৈশেষিক মতে, পরমাণু হলো জড়বস্তুর ক্ষুদ্রতম, অবিভাজ্য এবং নিত্য অংশ, যা আর কোনো অংশে বিভক্ত করা যায় না।
এই আলোচনায় বৈশেষিক মতে পরমাণুর স্বরূপ, পরমাণুর বৈশিষ্ট্য, চার প্রকার পরমাণুর গুণ, পরমাণুর অস্তিত্বের প্রমাণ, ঈশ্বরের ভূমিকা, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুকের মাধ্যমে জগৎ সৃষ্টি এবং প্রলয়কালে জগতের ধ্বংস প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও বৈশেষিক পরমাণুবাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন সমালোচনাও পরীক্ষার উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে।
বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, পরমাণু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, অর্থাৎ সাধারণ চোখে পরমাণুকে দেখা যায় না। কিন্তু অনুমান প্রমাণের সাহায্যে এর অস্তিত্ব জানা যায়। কারণ, কোনো স্থূল বস্তুকে যদি ক্রমাগত বিভাজন করা হয়, তাহলে এমন একটি অবস্থায় পৌঁছাতে হবে যেখানে আর বিভাজন সম্ভব নয়। সেই অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশই হলো পরমাণু। এইভাবে বৈশেষিকরা অনুমানের মাধ্যমে পরমাণুর অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
বৈশেষিক মতে, পরমাণু চার প্রকার—ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন) এবং মরুৎ (বায়ু)। এই চার প্রকার পরমাণুর মধ্যে পরিমাণগত কোনো পার্থক্য নেই, কারণ প্রত্যেক পরমাণুই অত্যন্ত ক্ষুদ্র। কিন্তু গুণগত দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ক্ষিতি পরমাণুর প্রধান গুণ হলো গন্ধ, অপ পরমাণুর প্রধান গুণ হলো রস, তেজ পরমাণুর প্রধান গুণ হলো রূপ এবং মরুৎ পরমাণুর প্রধান গুণ হলো স্পর্শ। এই গুণগত পার্থক্যের কারণেই জগতের বিভিন্ন ধরনের বস্তুর সৃষ্টি হয়।
বৈশেষিক দর্শনে পরমাণুকে নিত্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ পরমাণুর কোনো উৎপত্তি নেই এবং বিনাশও নেই। তবে পরমাণুর দ্বারা গঠিত স্থূল বস্তু অনিত্য। যেমন—মাটির পরমাণু নিত্য হলেও মাটি দিয়ে তৈরি ঘট বা অন্যান্য বস্তু নশ্বর। এইভাবে বৈশেষিকরা কারণ ও কার্যের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে নিত্য পরমাণু থেকে অনিত্য জাগতিক বস্তুর সৃষ্টি হয়।
বৈশেষিক মতে, পরমাণু স্বভাবত নিষ্ক্রিয় ও গতিহীন। তাই প্রশ্ন ওঠে, যদি পরমাণুর নিজস্ব কোনো গতি না থাকে, তাহলে কীভাবে জগতের সৃষ্টি হয়? এর উত্তরে বৈশেষিক দার্শনিকগণ ঈশ্বরের ভূমিকার কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, ঈশ্বরের ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরমাণুগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের সংযোগের ফলে জগতের সৃষ্টি হয়।
বৈশেষিক দর্শনে ঈশ্বরকে জগতের নিমিত্ত কারণ এবং পরমাণুকে উপাদান কারণ বলা হয়েছে। অর্থাৎ পরমাণু জগতের বস্তুগত উপাদান সরবরাহ করে এবং ঈশ্বর সেই পরমাণুগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে সৃষ্টির কার্য সম্পন্ন করেন। জীবের পূর্বকৃত কর্ম বা অদৃষ্টের ফল ভোগের জন্যই ঈশ্বর জগতের সৃষ্টি করেন বলে বৈশেষিকরা মনে করেন।
বৈশেষিক মতে, জগতের সৃষ্টি সরাসরি পরমাণু থেকে হয় না। প্রথমে দুটি সমজাতীয় পরমাণু যুক্ত হয়ে দ্ব্যণুকের সৃষ্টি করে। এরপর তিনটি দ্ব্যণুকের সংযোগে ত্র্যণুক বা ত্রসরেণুর সৃষ্টি হয়। এই ত্র্যণুক থেকেই ধীরে ধীরে বৃহৎ ও স্থূল বস্তু সৃষ্টি হয়। এইভাবে পরমাণু → দ্ব্যণুক → ত্র্যণুক → স্থূল পদার্থ—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় জগতের সৃষ্টি হয়।
আবার প্রলয়কালে এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিপরীত ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরের ইচ্ছায় প্রথমে স্থূল বস্তুর ধ্বংস হয়, তারপর ত্র্যণুক ও দ্ব্যণুকের বিনাশ ঘটে। কিন্তু পরমাণুর বিনাশ হয় না, কারণ পরমাণু নিত্য। পরবর্তীকালে আবার ঈশ্বরের ইচ্ছায় পরমাণুর সংযোগের মাধ্যমে নতুন সৃষ্টির সূচনা হয়।
এই লেখায় বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদের পাশাপাশি পরমাণুর স্বরূপ, বৈশিষ্ট্য, চার প্রকার পরমাণু, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুক তত্ত্ব, সৃষ্টি ও প্রলয় তত্ত্ব এবং বৈশেষিক পরমাণুবাদের সমালোচনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় সহজ ভাষায় এবং উদাহরণসহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
বৈশেষিক পরমাণুবাদের বিরুদ্ধে অদ্বৈত বেদান্তের শংকরাচার্যসহ বিভিন্ন দার্শনিক আপত্তি করেছেন। তাঁদের মতে, নিরবয়ব পরমাণুর সংযোগ দ্বারা অবয়বযুক্ত বৃহৎ জগতের সৃষ্টি কীভাবে সম্ভব, তা বৈশেষিকরা সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এছাড়াও অতি সূক্ষ্ম পরমাণুর সাহায্যে স্থূল জগতের উৎপত্তির ব্যাখ্যা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে।
আপনি যদি বৈশেষিক মতে পরমাণুবাদ, Vaisheshika Atomism, বৈশেষিক দর্শনের সৃষ্টি তত্ত্ব, পরমাণুর স্বরূপ, দ্ব্যণুক ও ত্র্যণুক, Indian Philosophy, Vaisheshika Philosophy অথবা ভারতীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নির্ভুল, সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই আলোচনা আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।
