কর্ম কী

বৈশেষিক মতে কর্ম কী? 5 প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

বৈশেষিক মতে কর্ম কী? ৫ প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব ও জ্ঞানতত্ত্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরীক্ষোপযোগী বিষয় হলো বৈশেষিক মতে কর্ম (Karma in Vaisheshika Philosophy)। বৈশেষিক দর্শনের মতে, জগতে সমস্ত পরিবর্তন, গতি ও ক্রিয়ার মূল কারণ হলো কর্ম। বৈশেষিক ঋষি মহর্ষি কণাদ তাঁর বৈশেষিক সূত্রে কর্মকে একটি স্বতন্ত্র পদার্থ হিসেবে স্বীকার করেছেন। এটি বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদার্থ।

বৈশেষিক দর্শন এর মতে, কর্ম হলো দ্রব্যের মধ্যে অবস্থিত এমন একটি বিশেষ গুণহীন চেষ্টাজাত ধর্ম, যার দ্বারা গতি বা পরিবর্তন সংঘটিত হয়। অর্থাৎ কোনো দ্রব্যের স্থান পরিবর্তন, সংকোচন, প্রসারণ বা অন্যান্য গতিশীল অবস্থাকে কর্ম বলা হয়। বৈশেষিক মতে, কর্ম নিজে কোনো স্থায়ী বস্তু নয়, বরং এটি দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের পরিবর্তনের কারণ হিসেবে কাজ করে।

এই বিষয়টি XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পাঠ্যক্রম এবং NET, SET, PSC, School Service, College Service সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় প্রায়ই বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থ, কর্মের সংজ্ঞা, কর্মের বৈশিষ্ট্য, কর্মের প্রকারভেদ এবং কর্ম ও গুণের পার্থক্য থেকে প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে কর্ম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা একজন দর্শনের শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বৈশেষিক দর্শনে কর্ম বলতে বোঝায় এমন একটি পদার্থ, যা দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং কোনো ধরনের গতি বা পরিবর্তন সৃষ্টি করে। বৈশেষিক দার্শনিকগণ কর্মকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন। এই পাঁচটি কর্ম হলো—
উৎক্ষেপণ (উপরে যাওয়ার গতি), অবক্ষেপণ (নিচে যাওয়ার গতি), আকুঞ্চন (সংকোচন), প্রসারণ (বিস্তৃতি) এবং গমন (স্থান পরিবর্তন)।
এই পাঁচ প্রকার কর্মের মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন জগতের সমস্ত প্রকার গতি ও পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।

এই প্রবন্ধে বৈশেষিক মতে কর্ম কী, কর্মের সংজ্ঞা, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য এবং বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কর্মের অবস্থান সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও কর্মের পাঁচটি প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন—এর পৃথক পৃথক অর্থ, সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং উদাহরণসহ সহজ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

এই আলোচনায় আরও দেখানো হয়েছে যে, কেন বৈশেষিক দার্শনিকগণ কর্মকে একটি স্বতন্ত্র পদার্থ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং কীভাবে কর্মের সাহায্যে জগতের পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলিকে ব্যাখ্যা করা হয়। এছাড়াও কর্ম ও গুণের মধ্যে পার্থক্য, কর্মের আশ্রয়, কর্মের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশেষিক দর্শনের পরমাণুবাদে কর্মের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়াও এই লেখায় বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বের দার্শনিক গুরুত্ব, ভারতীয় দর্শনে এর অবদান এবং আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর তাৎপর্য আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বৈশেষিক দর্শনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়।

আপনি যদি বৈশেষিক মতে কর্ম কী, Vaisheshika Philosophy Karma, বৈশেষিক দর্শনে কর্মের ৫ প্রকার, উৎক্ষেপণ অবক্ষেপণ আকুঞ্চন প্রসারণ গমন, বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থ, Indian Philosophy, Vaisheshika Darshan অথবা ভারতীয় দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নির্ভুল, সহজ ও পরীক্ষাভিত্তিক নোট খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।

এই আলোচনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন এবং সাজেশন সংযোজিত রয়েছে, যা XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও সফল করে তুলবে।

5 প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে “বৈশেষিক মতে কর্ম কী, কর্মের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং পাঁচ প্রকার কর্ম” সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কর্মের স্থান, কর্মের প্রকৃতি এবং কর্মের প্রকারভেদ নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। অথচ XI শ্রেণির দর্শন, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই বৈশেষিক মতে কর্ম সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বৈশেষিক দর্শনে কর্ম (Karma) হলো সপ্ত পদার্থের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ। মহর্ষি কণাদ তাঁর বৈশেষিক সূত্রে কর্মকে একটি স্বতন্ত্র পদার্থ হিসেবে স্বীকার করেছেন। বৈশেষিক দর্শনের মতে, দ্রব্যের মধ্যে অবস্থিত যে বিশেষ ধর্মের দ্বারা গতি বা পরিবর্তন সংঘটিত হয়, তাকে কর্ম বলা হয়। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর স্থান পরিবর্তন, সংকোচন, প্রসারণ বা অন্যান্য গতিশীল অবস্থাকে কর্ম বলা হয়।

বৈশেষিক মতে কর্ম কোনো গুণ নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র পদার্থ। কর্ম সর্বদা কোনো না কোনো দ্রব্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের পরিবর্তন বা গতির কারণ হিসেবে কাজ করে। যেমন—একটি বলকে উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তার উপরের দিকে যাওয়ার গতি হলো উৎক্ষেপণ কর্ম। আবার কোনো বস্তু নিচে পড়লে তার সেই গতি হলো অবক্ষেপণ কর্ম।

বৈশেষিক দর্শনে কর্মকে পাঁচটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই পাঁচ প্রকার কর্ম হলো— উৎক্ষেপণ (Utkshepana), অবক্ষেপণ (Avakshepana), আকুঞ্চন (Akunchana), প্রসারণ (Prasarana) এবং গমন (Gamana)। এই পাঁচ ধরনের কর্মের মাধ্যমে বৈশেষিক দার্শনিকগণ জগতের বিভিন্ন প্রকার গতি ও পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করেছেন।

কর্ম কী

উৎক্ষেপণ (Utkshepana) হলো কোনো বস্তুর উপরের দিকে গমন বা নিক্ষেপের গতি। অর্থাৎ, যখন কোনো বস্তু নিচ থেকে উপরের দিকে যায়, তখন সেই গতিকে উৎক্ষেপণ কর্ম বলা হয়। যেমন—উপরের দিকে একটি পাথর ছুঁড়ে দিলে তার উপরের দিকে যাওয়ার গতি উৎক্ষেপণ।

অবক্ষেপণ (Avakshepana) হলো কোনো বস্তুর নিচের দিকে যাওয়ার গতি। অর্থাৎ, যখন কোনো বস্তু উপর থেকে নিচের দিকে পতিত হয়, তখন সেই গতিকে অবক্ষেপণ কর্ম বলা হয়। যেমন—গাছ থেকে ফল মাটিতে পড়ার গতি অবক্ষেপণ।

আকুঞ্চন (Akunchana) হলো কোনো বস্তুর সংকোচনের গতি। অর্থাৎ, যখন কোনো বস্তুর আকার ছোট হয়ে আসে বা কোনো অংশ নিজের দিকে সংকুচিত হয়, তখন তাকে আকুঞ্চন কর্ম বলা হয়। যেমন—হাত মুঠো করার সময় আঙুলের সংকোচন।

প্রসারণ (Prasarana) হলো কোনো বস্তুর বিস্তৃতি বা প্রসারিত হওয়ার গতি। অর্থাৎ, যখন কোনো বস্তু নিজের অবস্থান থেকে প্রসারিত হয়, তখন তাকে প্রসারণ কর্ম বলা হয়। যেমন—হাত বা পা প্রসারিত করার সময় যে গতি হয়।

গমন (Gamana) হলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সাধারণ গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর স্থান পরিবর্তনকে গমন কর্ম বলা হয়। যেমন—একজন ব্যক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া বা কোনো যানবাহনের চলাচল।

বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—কর্ম সর্বদা দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে, কর্ম ক্ষণস্থায়ী এবং কর্মের মাধ্যমে দ্রব্যের পরিবর্তন বা গতি প্রকাশ পায়। কর্মের সাহায্যে বৈশেষিক দর্শন জগতের সমস্ত গতিশীল ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। তাই বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্বে কর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।

অতএব বলা যায়, বৈশেষিক মতে কর্ম হলো দ্রব্যের গতির কারণস্বরূপ একটি স্বতন্ত্র পদার্থ, যা পাঁচ প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন। এই পাঁচ ধরনের কর্মের মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন জগতের পরিবর্তনশীলতা ও গতিশীল প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেছে। ভারতীয় দর্শনের ক্ষেত্রে বৈশেষিক কর্মতত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই XI শ্রেণি, B.A. Philosophy (Major/Minor), NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য “বৈশেষিক মতে কর্ম ও ৫ প্রকার কর্ম” বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশেষিক মতে কর্ম কী? 5 প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

“বৈশেষিক সূত্রের” প্রণেতা মহর্ষি কণাদ তাঁর ‘বৈশেষিক সূত্রে’ যে কয়টি পদার্থের উল্লেখ করেছেন তা হলো— দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় (অভাব)। তার মধ্যে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো— (কর্ম)। বৈশেষিক মতে, গুণের ন্যায় কর্মও দ্রব্যাশ্রিত পদার্থ। কর্ম দ্রব্যাশ্রিত হলেও কর্ম যেমন দ্রব্য থেকে ভিন্ন পদার্থ, তেমনই গুণ থেকেও ভিন্ন পদার্থ।

গুণ থেকেও কর্ম ভিন্ন পদার্থ। গুণ ও কর্ম উভয়ই দ্রব্যকে আশ্রয় করে থাকলেও তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। গুণ নিষ্ক্রিয়, কর্ম সক্রিয়; গুণ গতিহীন, কর্ম গতিশীল; গুণ অপেক্ষাকৃত স্থায়ী, কর্ম অস্থায়ী। বৈশেষিক মতে, কর্ম চারক্ষণ থাকে এবং পঞ্চম ক্ষণে বিনষ্ট হয়। কাজেই কর্ম দ্রব্য ও গুণ থেকে একটি স্বতন্ত্র পদার্থ। কণাদ তাঁর বৈশেষিক সূত্রে কর্মের লক্ষণ প্রসঙ্গে বলেছেন— যা দ্রব্যাশ্রিত কিন্তু গুণ নয় এবং যা সংযোগ ও বিভাগের নিরপেক্ষ কারণ, তাই হলো কর্ম।

বৈশেষিক সূত্রে কর্মের অপর একটি লক্ষণ দেওয়া হয়েছে— যা সংযোগ ভিন্ন, কিন্তু সংযোগের অসমবায়ী কারণ, তাই হলো কর্ম। হস্তের সঙ্গে দণ্ডের (লোষ্ট্রের) সংযোগ হলে, সেই সংযোগের সমবায়ী কারণ হয় হস্ত ও দণ্ড। এই সংযোগের উৎপত্তির মূল কারণ হলো হস্তের ক্রিয়া বা কর্ম। অর্থাৎ, হস্ত সঞ্চালন, যা হস্তের সঙ্গে সমবায় সম্বন্ধে থাকে, তা ঐ সংযোগের অসমবায়ী কারণ।

এই পাঁচ প্রকার কর্ম হলো—
১) উৎক্ষেপণ
২) অবক্ষেপণ
৩) আকুঞ্চন
৪) প্রসারণ
৫) গমন

🔷 এই পাঁচ প্রকার কর্মের আলোচনা করা হলো—

1️⃣ উৎক্ষেপণ: কোনো দ্রব্যের ক্রিয়ার জন্য যখন সেই দ্রব্যের সঙ্গে ঊর্ধ্বদেশের সংযোগ স্থাপিত হয়, তখন সেই ক্রিয়াকে বলে ‘উৎক্ষেপণ’। যেমন— কোনো প্রস্তরখণ্ডকে উপরের দিকে ছুঁড়ে দিলে, প্রস্তরখণ্ডটি উৎক্ষেপণ ক্রিয়ার জন্য ঊর্ধ্বদেশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। বৈশেষিক দর্শনের মতে, উৎক্ষেপণ হলো পাঁচ প্রকার কর্মের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের কর্ম। এই কর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— এর দ্বারা কোনো দ্রব্যের গতি নিম্নদেশ থেকে ঊর্ধ্বদেশের দিকে সংঘটিত হয়। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর মধ্যে এমন একটি ক্রিয়া সৃষ্টি হয় যার ফলে বস্তুটি উপরের দিকে অগ্রসর হয়, তাকে উৎক্ষেপণ কর্ম বলা হয়।

উৎক্ষেপণ কর্ম সর্বদা কোনো দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের সঙ্গে সমবায় সম্বন্ধে যুক্ত থাকে। যেমন— ধনুক থেকে ছোঁড়া তীর, উপরের দিকে নিক্ষিপ্ত বল বা আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া পাথরের ঊর্ধ্বমুখী গতি উৎক্ষেপণ কর্মের উদাহরণ। বৈশেষিক দার্শনিকগণ মনে করেন, এই ধরনের গতি কোনো দ্রব্যের নিজস্ব কর্মের ফলেই সম্ভব হয়।

অতএব, উৎক্ষেপণ হলো এমন এক ধরনের কর্ম, যার মাধ্যমে কোনো দ্রব্য ঊর্ধ্বদিকে গমন করে এবং ঊর্ধ্বদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বে উৎক্ষেপণের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এর সাহায্যে বস্তুজগতের ঊর্ধ্বমুখী গতিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

2️⃣ অবক্ষেপণ: কোনো দ্রব্যের ক্রিয়ার জন্য যখন সেই দ্রব্যের সঙ্গে অধোদেশের সংযোগ স্থাপিত হয়, তখন সেই ক্রিয়াকে বলে ‘অবক্ষেপণ’। যেমন— কোনো প্রস্তরখণ্ডকে পাহাড়ের উপর থেকে নিচের দিকে গড়িয়ে দিলে, প্রস্তরখণ্ডটির অবক্ষেপণ ক্রিয়ার জন্য সেটি অধোদেশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। বৈশেষিক দর্শনের মতে, অবক্ষেপণ হলো পাঁচ প্রকার কর্মের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্ম। এই কর্মের বৈশিষ্ট্য হলো— এর দ্বারা কোনো দ্রব্যের গতি ঊর্ধ্বদেশ থেকে অধোদেশের দিকে সংঘটিত হয়। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর মধ্যে এমন এক ধরনের ক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যার ফলে বস্তুটি নিচের দিকে অগ্রসর হয়, তাকে অবক্ষেপণ কর্ম বলা হয়।

অবক্ষেপণ কর্মও কোনো দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের সঙ্গে সমবায় সম্বন্ধে যুক্ত থাকে। যেমন— গাছ থেকে ফলের নিচের দিকে পড়ে যাওয়া, উপর থেকে কোনো বস্তুর ভূমিতে পতিত হওয়া অথবা পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের নিচের দিকে গড়িয়ে আসা অবক্ষেপণ কর্মের উদাহরণ।

বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, অবক্ষেপণ কর্মের মাধ্যমে বস্তুজগতের নিম্নমুখী গতিকে ব্যাখ্যা করা হয়। উৎক্ষেপণ যেমন ঊর্ধ্বমুখী গতিকে প্রকাশ করে, তেমনি অবক্ষেপণ তার বিপরীত অর্থাৎ নিম্নমুখী গতিকে প্রকাশ করে।

অতএব, অবক্ষেপণ হলো এমন এক ধরনের কর্ম, যার দ্বারা কোনো দ্রব্য অধোদেশের দিকে গমন করে এবং অধোদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বে অবক্ষেপণের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এর সাহায্যে বস্তুর নিম্নমুখী গতির কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

3️⃣ আকুঞ্চন: যে ক্রিয়ার দ্বারা অধিকদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অল্পদেশে আনয়ন করা যায়, সেই ক্রিয়াকে বলে ‘আকুঞ্চন’। যেমন— প্রসারিত হাতের পাঁচটি আঙুলকে সংকুচিত করে হাত মুষ্টিবদ্ধ করা। বৈশেষিক দর্শনের মতে, আকুঞ্চন হলো পাঁচ প্রকার কর্মের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের কর্ম। এই কর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— এর দ্বারা কোনো বিস্তৃত বা অধিক স্থান অধিকারকারী বস্তুকে সংকুচিত করে অল্প স্থানের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। অর্থাৎ, কোনো দ্রব্যের অংশগুলি যখন পরস্পরের নিকটবর্তী হয় এবং তার বিস্তার কমে যায়, তখন সেই ক্রিয়াকে আকুঞ্চন কর্ম বলা হয়।

আকুঞ্চন কর্ম কোনো দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের সঙ্গে সমবায় সম্বন্ধে যুক্ত থাকে। যেমন— হাতের আঙুলগুলি প্রসারিত অবস্থা থেকে সংকুচিত করে মুষ্টিবদ্ধ করা, কচ্ছপ বিপদের সময় নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেহের মধ্যে টেনে নেওয়া ইত্যাদি আকুঞ্চন কর্মের উদাহরণ।

বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, আকুঞ্চন হলো প্রসারণের বিপরীত কর্ম। প্রসারণের দ্বারা কোনো বস্তু অল্প স্থান থেকে অধিক স্থানে বিস্তৃত হয়, আর আকুঞ্চনের দ্বারা অধিক স্থান থেকে অল্প স্থানে সংকুচিত হয়। এই দুই কর্মের মাধ্যমে বস্তুর আকার ও অবস্থার পরিবর্তন ব্যাখ্যা করা হয়।

অতএব, আকুঞ্চন হলো এমন এক ধরনের কর্ম, যার দ্বারা কোনো দ্রব্যের বিস্তার হ্রাস পায় এবং দ্রব্যের অংশগুলি একে অপরের নিকটবর্তী হয়। বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বে আকুঞ্চনের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এর সাহায্যে বস্তুর সংকোচনমূলক গতিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

4️⃣ প্রসারণ: যে ক্রিয়ার দ্বারা অল্পদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অধিকদেশে বিস্তৃত করা যায়, সেই ক্রিয়াকে বলে ‘প্রসারণ’। যেমন— মুষ্টিবদ্ধ আঙুলগুলি উন্মুক্ত করে অধিক স্থানে প্রসারিত করা। প্রসারণ ক্রিয়ার দ্বারা কচ্ছপ তার দেহকে প্রসারিত করে। প্রসারণ হলো আকুঞ্চনের বিপরীত প্রক্রিয়া। বৈশেষিক দর্শনের মতে, প্রসারণ হলো পাঁচ প্রকার কর্মের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্ম। এই কর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— এর দ্বারা কোনো সংকুচিত বা অল্প স্থান অধিকারকারী বস্তুর বিস্তার বৃদ্ধি পায় এবং বস্তুটি অধিক স্থানে অবস্থান করে। অর্থাৎ, কোনো দ্রব্যের অংশগুলি যখন পরস্পর থেকে দূরে সরে যায় এবং তার বিস্তার বৃদ্ধি পায়, তখন সেই ক্রিয়াকে প্রসারণ কর্ম বলা হয়।

প্রসারণ কর্ম কোনো দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের সঙ্গে সমবায় সম্বন্ধে যুক্ত থাকে। যেমন— মুষ্টিবদ্ধ হাতের আঙুলগুলি খুলে দেওয়া, কচ্ছপের নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রসারিত করা, কোনো প্রাণীর দেহের অঙ্গ বিস্তৃত করা ইত্যাদি প্রসারণ কর্মের উদাহরণ।

বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, প্রসারণ হলো আকুঞ্চনের সম্পূর্ণ বিপরীত কর্ম। আকুঞ্চনের দ্বারা অধিকদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অল্পদেশে আনা হয়, আর প্রসারণের দ্বারা অল্পদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অধিকদেশে বিস্তৃত করা হয়। এই দুই কর্মের মাধ্যমে বৈশেষিক দর্শন বস্তুর আকার ও অবস্থার পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করেছে।

অতএব, প্রসারণ হলো এমন এক ধরনের কর্ম, যার দ্বারা কোনো দ্রব্যের বিস্তার বৃদ্ধি পায় এবং তার অংশগুলি পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বে প্রসারণের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এর সাহায্যে বস্তুর বিস্তৃতিমূলক গতিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

5️⃣ গমন: গমন বলতে বোঝায় বস্তুর স্থান-পরিবর্তনমূলক কর্ম। অর্থাৎ, যে ক্রিয়ার দ্বারা বস্তুর স্থানান্তর সম্ভব হয়, সেই ক্রিয়াকে বলে ‘গমন’। যেমন— ভ্রমণ, রেচন, স্যন্দন ইত্যাদি। বৈশেষিক দর্শনের মতে, গমন হলো পাঁচ প্রকার কর্মের মধ্যে সর্বাধিক সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্ম। কারণ, যে কোনো বস্তুর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া বা অবস্থানের পরিবর্তন গমন কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অর্থাৎ, কোনো দ্রব্য যখন নিজের পূর্ববর্তী স্থান ত্যাগ করে অন্য কোনো স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে, তখন সেই স্থানান্তরকে গমন কর্ম বলা হয়।

গমন কর্ম কোনো নির্দিষ্ট দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ঊর্ধ্বগতি, নিম্নগতি, সম্মুখগতি, পশ্চাৎগতি বা পার্শ্বগতি— বিভিন্ন ধরনের স্থান পরিবর্তনকে বোঝাতে পারে। যেমন— মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া, নদীর জলের প্রবাহ, চলমান যানবাহনের গতি ইত্যাদি গমন কর্মের উদাহরণ।

কর্ম কী

বৈশেষিক দার্শনিকদের মতে, গমন কর্ম দ্রব্যের মধ্যে অবস্থান করে এবং দ্রব্যের সঙ্গে সমবায় সম্বন্ধে যুক্ত থাকে। এই কর্মের মাধ্যমে জগতের বিভিন্ন গতিশীল ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়। উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন ও প্রসারণের তুলনায় গমন হলো ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত একটি কর্ম, কারণ সমস্ত স্থান পরিবর্তনমূলক ক্রিয়াই গমনের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, গমন হলো এমন এক ধরনের কর্ম, যার দ্বারা কোনো দ্রব্যের স্থান পরিবর্তন ঘটে। বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্বে গমনের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এর সাহায্যে জগতের বিভিন্ন প্রকার গতিশীল অবস্থার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

উপরের আলোচনা থেকে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ & SAQ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করার জন্য এগুলি বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

MCQ প্রশ্নাবলি :বৈশেষিক মতে কর্ম কী? 5 প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

১. “বৈশেষিক সূত্রের” প্রণেতা কে?
(ক) মহর্ষি পতঞ্জলি
(খ) মহর্ষি কণাদ
(গ) মহর্ষি গৌতম
(ঘ) কপিল মুনি

উত্তর: (খ) মহর্ষি কণাদ ✅

২. বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কোনটি কর্ম?
(ক) দ্রব্য
(খ) গুণ
(গ) কর্ম
(ঘ) সমবায়

উত্তর: (গ) কর্ম ✅

৩. বৈশেষিক মতে কর্ম কোনটির আশ্রিত পদার্থ?
(ক) গুণ
(খ) দ্রব্য
(গ) সামান্য
(ঘ) বিশেষ

উত্তর: (খ) দ্রব্য ✅

৪. বৈশেষিক মতে কর্ম ও গুণের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
(ক) গুণ সক্রিয়, কর্ম নিষ্ক্রিয়
(খ) গুণ নিষ্ক্রিয়, কর্ম সক্রিয়
(গ) উভয়ই গতিহীন
(ঘ) উভয়ই স্থায়ী

উত্তর: (খ) গুণ নিষ্ক্রিয়, কর্ম সক্রিয় ✅

৫. বৈশেষিক মতে কর্ম কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
(ক) একক্ষণ
(খ) দুইক্ষণ
(গ) চারক্ষণ
(ঘ) পাঁচক্ষণ

উত্তর: (গ) চারক্ষণ ✅

৬. বৈশেষিক মতে কর্মের পঞ্চম ক্ষণে কী ঘটে?
(ক) উৎপন্ন হয়
(খ) বৃদ্ধি পায়
(গ) বিনষ্ট হয়
(ঘ) পরিবর্তিত হয়

উত্তর: (গ) বিনষ্ট হয় ✅

৭. বৈশেষিক মতে কর্মের লক্ষণ কী?
(ক) যা দ্রব্যাশ্রিত কিন্তু গুণ নয়
(খ) যা শুধু গুণাশ্রিত
(গ) যা দ্রব্য থেকে পৃথক নয়
(ঘ) যা স্থায়ী পদার্থ

উত্তর: (ক) যা দ্রব্যাশ্রিত কিন্তু গুণ নয় ✅

৮. বৈশেষিক মতে কর্মের সংখ্যা কত?
(ক) তিনটি
(খ) চারটি
(গ) পাঁচটি
(ঘ) সাতটি

উত্তর: (গ) পাঁচটি ✅

৯. ঊর্ধ্বদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী কর্মকে কী বলা হয়?
(ক) অবক্ষেপণ
(খ) উৎক্ষেপণ
(গ) গমন
(ঘ) প্রসারণ

উত্তর: (খ) উৎক্ষেপণ ✅

১০. অধোদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী কর্ম হলো—
(ক) উৎক্ষেপণ
(খ) অবক্ষেপণ
(গ) আকুঞ্চন
(ঘ) প্রসারণ

উত্তর: (খ) অবক্ষেপণ ✅

১১. উপরের দিকে পাথর ছুঁড়ে দেওয়া কোন কর্মের উদাহরণ?
(ক) গমন
(খ) উৎক্ষেপণ
(গ) অবক্ষেপণ
(ঘ) আকুঞ্চন

উত্তর: (খ) উৎক্ষেপণ ✅

১২. পাহাড় থেকে পাথর নিচে পড়া কোন কর্মের উদাহরণ?
(ক) প্রসারণ
(খ) অবক্ষেপণ
(গ) গমন
(ঘ) আকুঞ্চন

উত্তর: (খ) অবক্ষেপণ ✅

১৩. অধিকদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অল্পদেশে আনার কর্মকে কী বলে?
(ক) প্রসারণ
(খ) আকুঞ্চন
(গ) গমন
(ঘ) উৎক্ষেপণ

উত্তর: (খ) আকুঞ্চন ✅

১৪. আকুঞ্চনের বিপরীত কর্ম কোনটি?
(ক) অবক্ষেপণ
(খ) প্রসারণ
(গ) উৎক্ষেপণ
(ঘ) গমন

উত্তর: (খ) প্রসারণ ✅

১৫. মুষ্টিবদ্ধ আঙুল উন্মুক্ত করা কোন কর্মের উদাহরণ?
(ক) আকুঞ্চন
(খ) প্রসারণ
(গ) অবক্ষেপণ
(ঘ) উৎক্ষেপণ

উত্তর: (খ) প্রসারণ ✅

১৬. কচ্ছপ নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেহের মধ্যে টেনে নেওয়া কোন কর্ম?
(ক) গমন
(খ) প্রসারণ
(গ) আকুঞ্চন
(ঘ) অবক্ষেপণ

উত্তর: (গ) আকুঞ্চন ✅

১৭. বস্তুর স্থান-পরিবর্তনমূলক কর্মকে কী বলা হয়?
(ক) গমন
(খ) উৎক্ষেপণ
(গ) প্রসারণ
(ঘ) আকুঞ্চন

উত্তর: (ক) গমন ✅

১৮. ভ্রমণ, রেচন ও স্যন্দন কোন কর্মের উদাহরণ?
(ক) অবক্ষেপণ
(খ) গমন
(গ) প্রসারণ
(ঘ) আকুঞ্চন

উত্তর: (খ) গমন ✅

১৯. হস্তের কর্ম কোনটির অসমবায়ী কারণ?
(ক) গুণের
(খ) সংযোগের
(গ) দ্রব্যের
(ঘ) সামান্যের

উত্তর: (খ) সংযোগের ✅

২০. বৈশেষিক কর্মতত্ত্বের মূল বিষয় কী?
(ক) আত্মার মুক্তি
(খ) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
(গ) বস্তুর গতি ও পরিবর্তন
(ঘ) জ্ঞানের উৎপত্তি

উত্তর: (গ) বস্তুর গতি ও পরিবর্তন ✅

SAQ প্রশ্নাবলি :বৈশেষিক মতে কর্ম কী? 5 প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা

১. বৈশেষিক সূত্রের প্রণেতা কে?
উত্তর: বৈশেষিক সূত্রের প্রণেতা হলেন মহর্ষি কণাদ।

২. বৈশেষিক দর্শনে কয়টি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছে?
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনে সাতটি পদার্থ স্বীকার করা হয়েছে— দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব।

৩. বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কর্মের স্থান কোথায়?
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কর্ম তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

৪. বৈশেষিক মতে কর্মের সংজ্ঞা কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে, যা দ্রব্যাশ্রিত কিন্তু গুণ নয় এবং যা সংযোগ ও বিভাগের নিরপেক্ষ কারণ, তাকে কর্ম বলে।

৫. কর্ম কেন একটি স্বতন্ত্র পদার্থ?
উত্তর: কর্ম দ্রব্যাশ্রিত হলেও দ্রব্য ও গুণ থেকে ভিন্ন হওয়ায় এটি একটি স্বতন্ত্র পদার্থ।

৬. কর্ম ও গুণের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখ।
উত্তর: গুণ নিষ্ক্রিয় ও গতিহীন, কিন্তু কর্ম সক্রিয় ও গতিশীল।

৭. বৈশেষিক মতে কর্ম কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
উত্তর: বৈশেষিক মতে কর্ম চারক্ষণ স্থায়ী হয় এবং পঞ্চম ক্ষণে বিনষ্ট হয়।

৮. বৈশেষিক মতে কর্মের অপর লক্ষণ কী?
উত্তর: যা সংযোগ ভিন্ন কিন্তু সংযোগের অসমবায়ী কারণ, তাই হলো কর্ম।

৯. বৈশেষিক মতে কর্ম কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: বৈশেষিক মতে কর্ম পাঁচ প্রকার— উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন।

১০. উৎক্ষেপণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো দ্রব্যের ক্রিয়ার ফলে যখন সেই দ্রব্যের সঙ্গে ঊর্ধ্বদেশের সংযোগ স্থাপিত হয়, তখন তাকে উৎক্ষেপণ বলে।

১১. উৎক্ষেপণের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: উপরের দিকে পাথর ছুঁড়ে দিলে তার ঊর্ধ্বমুখী গতি উৎক্ষেপণের উদাহরণ।

১২. অবক্ষেপণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো দ্রব্যের ক্রিয়ার ফলে যখন সেই দ্রব্যের সঙ্গে অধোদেশের সংযোগ স্থাপিত হয়, তখন তাকে অবক্ষেপণ বলে।

১৩. উৎক্ষেপণ ও অবক্ষেপণের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: উৎক্ষেপণে বস্তু ঊর্ধ্বদিকে গমন করে, আর অবক্ষেপণে বস্তু নিম্নদিকে গমন করে।

১৪. আকুঞ্চন কী?
উত্তর: যে ক্রিয়ার দ্বারা অধিকদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অল্পদেশে আনয়ন করা হয়, তাকে আকুঞ্চন বলে।

১৫. আকুঞ্চনের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: প্রসারিত হাতের আঙুল সংকুচিত করে মুষ্টিবদ্ধ করা আকুঞ্চনের উদাহরণ।

১৬. প্রসারণ কী?
উত্তর: যে ক্রিয়ার দ্বারা অল্পদেশ-বিস্তৃত বস্তুকে অধিকদেশে বিস্তৃত করা হয়, তাকে প্রসারণ বলে।

১৭. প্রসারণ ও আকুঞ্চনের সম্পর্ক কী?
উত্তর: প্রসারণ হলো আকুঞ্চনের বিপরীত প্রক্রিয়া। আকুঞ্চনে বস্তুর সংকোচন ঘটে এবং প্রসারণে বস্তুর বিস্তার ঘটে।

১৮. গমন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে ক্রিয়ার দ্বারা কোনো বস্তুর স্থান পরিবর্তন সম্ভব হয়, তাকে গমন বলে।

১৯. গমন কর্মের কয়েকটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ভ্রমণ, রেচন ও স্যন্দন গমন কর্মের উদাহরণ।

২০. বৈশেষিক দর্শনে কর্মের গুরুত্ব কী?
উত্তর: বৈশেষিক দর্শনে কর্মের মাধ্যমে বস্তুর গতি, পরিবর্তন ও বিভিন্ন প্রকার ক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই কর্ম বৈশেষিক পদার্থতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সহযোগী কিছু পাঠ্য বই

১. ভারতীয় দর্শন-প্রদ্যোত কুমার মন্ডল – প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স , কলকাতা

২. ভারতীয় দর্শন – সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য-বুক সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা

ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচ্য বিষয়। বৈশেষিক দর্শনের পদার্থতত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে হলে “বৈশেষিক মতে কর্ম” সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী কর্মের সংজ্ঞা, বৈশেষিক দর্শনের সপ্ত পদার্থের মধ্যে কর্মের স্থান, কর্ম ও গুণের পার্থক্য এবং কর্মের পাঁচটি প্রকার—উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন সম্পর্কে বুঝতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়। সেই কারণে ISP Gurukul-এর Website (www.ispgurukul.com)-এ “বৈশেষিক মতে কর্ম কী? | ৫ প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা” বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত, সুসংগঠিত এবং পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানে বৈশেষিক দর্শনের কর্মের ধারণা, কর্মের সংজ্ঞা, কর্মের বৈশিষ্ট্য, দ্রব্য ও গুণের সঙ্গে কর্মের সম্পর্ক এবং বৈশেষিক মতে কর্ম কেন একটি স্বতন্ত্র পদার্থ—এই বিষয়গুলি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন—এই পাঁচ প্রকার কর্মের অর্থ, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য এবং উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

তবে শুধুমাত্র লিখিত আলোচনা পড়ে অনেক সময় বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্ব সম্পূর্ণভাবে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত যারা সহজ, সাবলীল এবং উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে কর্মের পাঁচটি প্রকার আয়ত্ত করতে চায়, তাদের জন্য প্রশ্নোত্তরভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতি অধিক কার্যকর। এই বিষয়টি মাথায় রেখে “SAQ প্রশ্নাবলি : বৈশেষিক মতে কর্ম কী? | ৫ প্রকার কর্ম সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই SAQ প্রশ্নাবলিতে বৈশেষিক মতে কর্মের সংজ্ঞা, কর্মের লক্ষণ, কর্ম ও গুণের পার্থক্য, কর্মের প্রকারভেদ এবং পাঁচ প্রকার কর্মের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও উৎক্ষেপণ, অবক্ষেপণ, আকুঞ্চন, প্রসারণ ও গমন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর সংযোজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

যারা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে দর্শন বিষয় অধ্যয়ন করছে কিংবা NET, SET, PSC, School Service, College Service এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য এই SAQ প্রশ্নাবলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে শুধু কর্মের সংজ্ঞা নয়, বরং পরীক্ষায় বারবার আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির সহজ ও নির্ভুল উত্তর প্রদান করা হয়েছে।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার পাশাপাশি এই SAQ প্রশ্নাবলিগুলি মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করলে বৈশেষিক দর্শনের কর্মতত্ত্ব, সপ্ত পদার্থের মধ্যে কর্মের স্থান, কর্মের পাঁচ প্রকার এবং ভারতীয় দর্শনে বৈশেষিক কর্মবাদের গুরুত্ব সম্পর্কে যথার্থ, নির্ভুল ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে। আশা করা যায়, এই SAQ প্রশ্নাবলি আপনাদের দর্শন অধ্যয়নকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ করে তুলবে।

সহযোগী Video

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *